মধুপুরে দোখলা-ধরাটি সড়ক কাঁচা, ১০ গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের ভোগান্তি

এক পাশে গজারি বনে ঢাকা নয়নাভিরাম দোখলা পিকনিক স্পট। আরেক পাশে ধরাটি গ্রাম ঘিরে প্রমত্তা বংশাই নদী। মাঝে বিশাল চাঁদপুর রাবার বাগান। এ বাগান ভেদ করে চলে গেছে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দোখলা-ধরাটি কাঁচা রাস্তা। এ রাস্তা পাকা না হওয়ায় টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি ১০ গ্রামের গারোরা শিক্ষাদীক্ষা হাঁটাচলা ও জীবনজীবিকায় নিদারুণ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ধরাটি গ্রামের স্কুলশিক্ষক রিমন্ড চিশিম জানান, ৮৫ সালে তদানীন্তন সরকার অনেক গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করে পীরগাছা-চাঁদপুর ৬ হাজার একরে রাবার বাগান উদ্বোধন করেন। তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দেন গারোদের চলাচলের সুাবিধার্থে এ রাস্তাটি পাকাকরণ হবে। তারপর কেটে গেছে ৩৬ বছর। কেউ কথা রাখেনি।

মমিনপুর, মালাইদ, ধরাটি উত্তর ও পূর্ব পাড়া, চাঁনপুর, কোনাবাড়ী, নয়নপুর, জালিচিরা, তালতলা, থানারবাইদ গ্রামে গারোদের বসবাস। আনারস, কলা, আদা, হলুদ ও সবজি আবাদে জীবিকা অর্জন তাদের। আশপাশের পাঁচ/ছয় কিলোতে হাটবাজার নেই। দোখলা ও কাউচি বাজারে ফল ও কৃষিপণ্য বেচতে হয়। দোখলা-ধরাটি ভায়া রাবার বাগান রাস্তাই যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র উপায়।

দোখলার ব্যবসায়ী ফরমান আলী জানান, সাবেক অরনখোলা ইউনিয়নের এসব গ্রাম তিন বছর আগে কুড়াগাছা ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে বিভক্ত হওয়ার পর রাস্তায় এক কোদাল মাটিও পড়েনি। শুষ্ক মৌসুমে গরু, ঘোড়া, মহিষ ও ভটভটি চলাচল করলেও বর্ষায় রাস্তা থাকে জলকাদাময়। পশুচালিত শকট তো দূরের কথা, পায়ে চলাই দায়।

মধুপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এসব গ্রামে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার একরে ফল ও মশলার বাণিজ্যিক আবাদ হয়। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার জন্য পচনশীল ফল বাজারজাত করতে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।

নয়নপুর গ্রামের অসীম নকরেক জানান, এখন আনারস পাকার মৌসুম। কিন্তু রাস্তার অধিকাংশ স্থানে এক হাঁটু কাদা। পশুচালিত শকট, ইজিবাইক বা রিকশাভ্যান চলে না। বন্যায় ফলের বাজারদর এমনিতেই কম। এখন খেত থেকে বাইসাইকেলে বাজারে ফল আনতে দ্বিগুণ খরচ পড়ে। তাই ফল বেচায় লাভ হচ্ছে না।

কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য অর্চনা নকরেক জানান, সড়কের আশপাশে চারটি মিশনারি প্রাইমারি স্কুল। পীরগাছা মিশন হাইস্কুল পাঁচ কিলো দূরে। রাস্তার দুরবস্থার দরুন বর্ষাকালে দুই তিন মাস শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ থাকে।

এনজিওকর্মী প্রনেল দালবত্ জানান, গারো জনপদ সরকারের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।

১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল হোসেন জানান, ১০ গ্রামের মানুষের প্রধান চাওয়া এ রাস্তা পাকাকরণ। কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, এ রাস্তা ১০ গ্রামের ১০ হাজার কৃষিজীবী মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মধুপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুত্ কুমার দাস দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাস্তাটি পাকার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

(জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ নিহত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী সাজেদুল ইসলাম (২৬) নামে এক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ নিহত হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চাড়ালজানী বন গবেষণা কেন্দ্রের অদূরে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাজেদুল ওষুধ কোম্পানি এসকেএফ’র মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। তিনি রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার রমজানপাড়া গ্রামের জনৈক গুলবাহার আলীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেছেন একই কোম্পানির অপর সহকর্মী শহীদুল ইসলাম।

শহীদুল ইসলামসহ অপরাপর কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা জানান, সাজেদুল মোটরসাইকেল যোগে কোম্পানির কাজে জলছত্র যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির এক সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুর বনে অজ্ঞাত যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

টাঙ্গাইলের মধুপুর বন থেকে অজ্ঞাত যুবকের (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বনাঞ্চলের রসুলপুর বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের পশ্চিমে বনের চিলমারী নামক স্থান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

মধুপুর থানা অফিসার ইনচার্জ তারিক কামাল জানান, বন বিভাগের টহল দল বনের গাছে দুর্গন্ধযুক্ত একটি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রশিতে ঝুলন্ত একটি লাশ উদ্ধার করে। তবে এখনও লাশটির পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

তার গায়ে ফুলহাতা শার্ট ও পরনে কাছা দেয়া লুঙ্গি ছিল।

মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে মারা যাওয়া যুবকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে। লাশটির পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে বংশাই নদী ও গুজা খাল দখল করে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ বাড়ি মৌজায় কাকরাইদ ব্রীজের পূর্ব পাশে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন বংশাই নদীর কিছু অংশ এবং গুজা খাল দখল করে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাকরাইদ গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী ফকিরের ছেলে আবু হানিফার বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি উঠেছে।

সরকারি বংশাই নদী ও গুজা খাল দখল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মধুপুর প্রেসক্লাব বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় রামকৃষ্ণ বাড়ি গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জহুর আলী।

এতে এলাকাবাসী ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায় যে, “এলাকার মানুষ গুজা খালের জবর দখলকৃত জায়গায় জাল পেতে মাছ ধরতেন। কৃষকরা গরু চড়াতেন। শিশুরা গুজা খাল পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতেন। কিন্তু জায়গাটি জবর দখল করে বাড়ি ঘর নিমার্ণ করায় স্থানীয়দের মাছ ধরা, শিশুদের স্কুলে যাওয়া ও কৃষকের গরু চড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে।”

এমতাবস্থায় তাদের দাবি, “সরকারী নদী খাল জবর দখল মুক্ত করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার।”

আর এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবু হানিফা জানান, “দীর্ঘ দিন ধরে এখানে বসবাস করছি। আমার নামে এ জায়গার কাগজ রয়েছে। (যার খতিয়ান নং ৩৪৩। ডিপি ২৬। জেএল নং ১৩২ মৌজা রামকৃষ্ণ বাড়ি। জমির পরিমাণ ২৫ শতাংশ)।” কিন্তু কোন সূত্রে রেকর্ড পেয়েছেন তার কোন উত্তর দিতে পারেন নি তিনি।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জানান, “এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলা হয়েছে।”

মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল করিম বলেন, “এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উচ্ছেদ নোটিশ প্রস্তুত হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুর বিএডিসির জমি প্লাবিত, আমন চাষ-বীজ উৎপাদনে শঙ্কা

টাঙ্গাইলের মধুপুর বিএডিসির আবাদযোগ্য ২৫০ একর জমি চলমান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আমন ধানের চারা প্রস্তুত থাকলেও তা রোপণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চারার বয়স বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে বীজ উৎপাদনেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাকরাইদস্থ বিএডিসির খামার দেশের অন্যতম বীজ উৎপাদন খামার। প্রতি বছর এ খামারের ৩৪৫ একর আবাদী জমির উৎপাদিত ধানসহ নানা ফসল বিশেষ করে আলু, ভুট্টা ইত্যাদি বীজ বিএডিসির মাধ্যমে সারাদেশে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ হয়ে থাকে।

বিএডিসির মধুপুর খামারের ওই ৩৪৫ একরের মধ্যে ২৫০ একর জমি চলমান বন্যার পানিতে ডুবে আছে। ৮ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

খামারটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুজা খাল ও পাশের বংশাই নদীর পানি উপচে পড়ার কারণে এর আবাদী জমির প্রায় পুরোটাই পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জমিতে বর্তমানে কোমর সমান পানি।

প্রায় প্রতি বছর নদী ও খালের পানিতে জমি প্লাবিত হলেও চাষ করার আগেই নেমে যায়। জমির উপরিভাগে পলি পড়ে ফসলও ভালো হয়। কিন্তু এবারের বন্যায় খামারের চলতি আউশ মৌসুমের ৪৫ একর জমির মধ্যে ব্রি-৪৮ জাতের ধান ৫ একর জমির বীজ ফসল নিমজ্জিত হয়ে আছে।

এতে কাইচ থোড় অবস্থা থাকায় ওই আউশ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিএডিসির চাষবাসের প্রস্তুতি থাকার পরও বন্যার পানিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মধুপুর বিএডিসির উপ পরিচালক (খামার) সঞ্জয় রায় এমন তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে এক প্রেসনোটে জানান, বিএডিসির নানামূখী প্রচেষ্টার কারণে আমন ২০২০-২১ মৌসুমের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও আমন মৌসুমের রোপণকৃত ব্রি ধান ৮৭ জাতের ১০ একর এবং বিনা ধান ১৭ জাতের ১২ একরসহ ২২ একর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছে।

চলতি আমন ২০২০-২১ মৌসুমের ২৪২ একর জমিতে প্রায় ৩৮৫ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কেবল ৬০ একর জমি রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। অতিদ্রুত বিশেষ করে মধ্য আগস্টের মধ্যে জমি থেকে এ পানি না নামলে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে।

চারার বয়স বৃদ্ধি পেয়ে রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়লে বীজ উৎপাদন নিয়েও তৈরি হবে সংকট। তবে এ সময়ের মধ্যে পানি নেমে গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিএডিসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলেও উপ পরিচালক সঞ্জয় রায় নিশ্চিত করেছেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মারা গেছেন মধুপুরের প্রতিভা সাংমা

না ফেরার দেশে চলে গেলেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের গারো নারীদের বাতিঘর প্রতিভা সাংমা। গারো জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এবং গারো নারী জাগরণে অনন্য অবদান রেখে মধুপুর উপজেলার গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে “দিদি” হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে ৮৭ বছর বয়সে মধুপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী ইদিলপুরের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গারো সমাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বেশ কয়েকবার সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রতিভা সাংমা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর হাত থেকে তিনিসহ সাত মহিয়সী নারী ‘আনসাং ওমেন ন্যাশন বিল্ডার্স- ২০১৮’ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এবারও পেয়েছিলেন দেশের অন্যতম পুরস্কার। করোনা সংকটে তার সম্মননা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

এর আগে ১৯৯৬ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস এবং ২০০২ সালে জয়েনশাহী আদিবাসি উন্নয়ন পরিষদ সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

তাকে নিয়ে গণমাধ্যমে বহুবার বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

অরণ্যানী সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা গারো সমাজে দু’একজন সাহসী নারীর অন্যতম দিদি খ্যাত এ প্রতিভা সাংমা।

শত প্রতিকূলতা ঠেলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথপ্রদর্শক সংগ্রামী সাহসী নারী ছিলেন তিনি।

মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামের বাবা সনাতন মৃ ও মা বংগবালা চাম্বুগংয়ের কোল জুড়ে ১৯৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর তার জন্ম। ।

বছর কয়েক আগে প্রতিভা সাংমা জানিয়েছিলেন, মায়ের প্রেরণা আর উৎসাহে ১৯৩৮ সালে ময়মনসিংহ শহরের বিদ্যাময়ী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে লেখাপাড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক হাতে খড়ি তার। হোস্টেলে থেকেই লেখাপড়ার প্রাথমিক ধাপ শুরু।

পরে ১৯৪৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিকুলেশন শেষ করেন। ’৫১ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও মায়ের নির্দেশে ১৯৫২ সালে প্রথমে ময়মনসিংহ শহরের হলিফ্যামিলি এবং পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন।

শিক্ষকতা চলে বেশ কয়েক বছর। এর মধ্যেই নিজ এলাকার কথা তার চিন্তায় আসে।

মধুপুর বনাঞ্চলের গারো সমাজ সে সময় শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে ছিল। নিজ সম্প্রদায়ের কথা ভেবে ১৯৬৫ সালে হালুয়াঘাটের সেন্টমেরি মিশনারি হাইস্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। মিশনারিদের সৌজন্যে গড়ে ওঠা ভুটিয়া প্রাইমারি স্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন।

একইসঙ্গে ছিলেন আশপাশের দু’টি মিশন স্কুলের অতিথি শিক্ষক।

ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও যাতে স্কুলে আসে, সেজন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে গারো নারীদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেন।

তার ভাষায়, ‘আমি অনেক গারো বাড়িতে গিয়েছি। মা-বোনদের বলেছি, তোমরা জেগে ওঠো, সন্তানদের স্কুলে পাঠাও। শিক্ষিত না হলে তোমাদের অভাব যাবে না, নিজেরা টিকে থাকতে পারবে না। ’

তিনি গারো পল্লীতে মিশনারি স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হেডম্যান ও পাদ্রিদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। তার স্বপ্ন পরে সফল হয়। মধুপুর বনাঞ্চলে মিশনারির শতাধিক প্রাথমিক ও তিনটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

এছাড়া ২০টি সরকারি ও রেজিস্ট্রিপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এখন শত শত গারো শিশু পড়ালেখা করে।

সত্তরের দশকে তার হাতে গড়া গারো অনেক নারী উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, নারী ও আদিবাসী আন্দোলনে নিরন্তর ভূমিকা রাখছেন। স্বীকৃতি হিসেবে তারাও পুরস্কৃত হচ্ছেন।

জলছত্র কর্পোস খিস্ট্রি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মারিয়া চিরান তাদের অন্যতম। তিনিও সম্প্রতি ভ্যাটিকানসিটির পোপের কাছ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

পীরগাছা মিশন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নীলিমা থিগিদি এবং গারো নারী সংগঠন আচিকমিচিক সোসাইটির প্রধান সুলেখা ম্রংসহ অনেকে প্রতিভা সাংমার অনুসারী ও শিক্ষার্থী।

বহু প্রতিভার অধিকারী প্রতিভা সাংমার সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহ দেখে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার আদিবাসী কোটায় গার্লস গাইডের নেত্রী হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের পেশোয়ারে পাঠিয়েছিল তাকে। সেই অভিজ্ঞতা পরে তিনি কাজে লাগিয়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে।

মুক্তিযুদ্ধে মধুপুর বনাঞ্চলের গারোরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দেশে পুরোমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিভা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন। জলছত্রের ফাদার ইউজিন হোমরিক সিএসসি (সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমেরিকার মিশিগানে মারা গেছেন) গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন। দেশের ওই দুর্দিনে প্রতিভা গার্লস গাইডের প্রশিক্ষণ কাজে লাগান।

জলছত্র ধর্মপল্লীতে নার্স হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিতেন।

স্বাধীনতার পর আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান। ১৯৭২ সালে মধুপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে এখান থেকেই ১৯৯১ সালে অবসর নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে করেননি প্রতিভা সাংমা। গ্রামের সব শিশুকে তিনি সন্তান মনে করতেন। তিনি ইদিলপুরের বাড়িতে তার পালকপুত্র জেনেট মৃ, পুত্র বধূ এবং পাঁচ নাতিনাতনিকে নিয়ে থাকতেন।

তার মৃত্যুতে গড়াঞ্চলের পুরো এলাকার গারো সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাকে এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন হাজারো গারো নারী-পুরুষসহ অনেকে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বাড়ির পাশেই সমাধিস্থ করা হয় তাকে।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে মোটসাইকেল চোর আটক

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছেন টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।

এসময় তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মোটরসাইকেটিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মোটরসাইকেল তিনজন হলো, মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামের মৃত আবু তালিবের ছেলে রাজীব (৩৫), সদর উপজেলার সাবালিয়া চরজানা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (৩০), একই এলাকার মজিদ ভুইয়ার ছেলে মুগ্ধ (২২)। মুগ্ধ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার কাগমারী পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৬ জুলাই নিজ বাসার সামনে থেকে আব্দুল কদ্দুস নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এসপি স্যারের নির্দেশনায় পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি।

ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চোর শনাক্ত করে ঐ এলাকারই বাসিন্দা রবিন ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মধুপুরের আউশনারা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই। পরে তার নিকট হতে চুরিকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় তিনি আরো আরো, তারা আন্তঃজেলা মোটসাইকেল চোর দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

 

মধুপুরে গারোদের বন্ধু ফাদার হোমরিক যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা গেছেন

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের গারো জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা ফাদার ইউজিন হোমরিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরলোকগমন করেছেন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সকাল আটটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে কাটান।

ফাদার হোমরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মধুপুরের জলছত্র ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার ডনেল স্টিফেন ক্রুশ।

ফাদার হোমরিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মধুপুরের গারোদের মাঝে।

ক্যাথলিক ধর্মযাজক ফাদার হোমরিক ১৯২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন মিশিগানের নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেরিনল কলেজে।

ফাদার হোমরিক ১৯৬০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মধুপুর গড়ে থেকে ধর্ম প্রচার করেন। পাশাপাশি এই এলাকার বনবাসী গারোদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জলছত্র ধর্মপল্লীতে তিনি মুক্তিকামী অনেক মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবাসহ নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এজন্য তাকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয় বাংলাদেশ সরকার।

৫৬ বছর মধুপুরে কাটানোর পর ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। সেখানে তিনি মিশিগানে অবস্থান করছিলেন।

মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, ‘মধুপুরের আদিবাসীদের উন্নয়নে ফাদার হোমরিক অনেক অবদান রেখেছেন। তাঁকে এ অঞ্চলের আদিবাসীরা চিরদিন মনে রাখবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন অনেকেই। নকরেক পেট্রোস লিখেছেন, ‘ওপারে ভালো থাকবেন ফাদার।’ ফিডেল ডি সাংমা লিখেছেন ‘যেখানেই থাক সুখে থাক তুমি। সৃষ্টিকর্তা তোমাকে চিরশান্তি দান করুক।’

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দখল-চাঁদাবাজি-বৈষম্য ও উন্নয়নবঞ্চিত ঘাটাইলের গারোবাজার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এই তিনটি উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত গারো বাজার বা গারোর হাট। ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এ হাটের অবস্থান।

একসময় গারোর হাটটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও হাটকে কেন্দ্র করে চারমুখী পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় হাটের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও হাটের এক অংশে কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বাকি অংশ রয়ে গেছে অবহেলিত।

এলাকাবাসী অভিযোগ, গারোর হাটটি বৃটিশ শাসনামলে স্থাপিত হলেও এটির উন্নয়নের প্রধান বাধা ভৌগোলিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভূমিদস্যুদের আগ্রাসী মনোভাব এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।

ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার তিনটি উপজেলার সংযোগস্থলে এ হাটের অবস্থান। হাটটি মধুপুর ও ঘাটাইল দুই অংশে বিভক্ত।

মূল হাটের অবস্থান মধুপুর উপজেলার অংশে হলেও হাটটি ধীরে ধীরে ঘাটাইল অংশে প্রসার ঘটেছে।

ঘাটাইল উপজেলার অংশে সরকার প্রায় অর্ধকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। অথচ বারবার সরকারের নিকট গ্রোথসেন্টারের জন্য আবেদন করেও মধুপুর অংশে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।

স্থানীয় ইজারাদাররা মধুপুর অংশে পানীয় জলের জন্য টিউবয়েল ও একটি টয়লেট স্থাপন করলেও বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে মূল হাটটি দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা।

স্কুলশিক্ষক সাজ্জাদ রহমান জানান, বৃটিশ আমলে স্বর্ণ কবিরাজ নামে এক গারো সম্প্রদায়ের আঙিনায় প্রতিষ্ঠিত হয় গারো হাট। মূলত এ জমির মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বন বিভাগ। ৩৮৩২ নং দাগের ২ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সাত একর জমি সরকার গারোর হাটের নামে পেরিপেরি ভুক্ত করেছে।

বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতারা হাটের জায়গা জবরদখলমুক্ত করে গ্রোথসেন্টার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছে নতি স্বীকার করে বার বার পিছু হটেছেন বলে তিনি জানান।

গারোর হাটের পেরিপেরিভুক্ত জমির দখলদার রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়কে হাট বসে। সড়কে হাট বসায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দুই মিনিটের সড়ক পার হতে কোনো কোনো সময় যান চালকদের এক ঘণ্টারও বেশি বসে থাকতে হয়।

হাটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ চেয়ে এলাকাবাসীল পক্ষে শহিদুল ইসলাম সোহেল মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।

গারোর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি কলেজ, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদরাসা, দুটি এবতেদায়ি মাদরাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি কিন্ডারগার্টেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা, গ্রামীণ ব্যংকসহ এক ডজনের বেশি এনজিও রয়েছে।

বাজারের প্রধান পণ্য আনারস, কাঁঠাল, কলা, হলুদ, আদা, কচুসহ নানা প্রকার কৃষিপণ্য ও সবজি। এছাড়া গরু-ছাগলের হাটও বসে। প্রতিহাটবার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু প্রশাসনিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা সব সময় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

প্রায় ৫ বছর পূর্বে পুলিশ ফাড়ি নির্মাণের জন্য চাঁদা তুলে ভবন প্রস্তুত করা হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার কাজ আর এগোয়নি বলে জানায় এলাকাবাসী।

মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ করিম বলেন, গারোর হাটের জবরদখল নিয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা কলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে সুলতানী আমলের নির্মিত প্রাচীন আইলাজোলার মসজিদ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় রয়েছে সুলতানী আমলের নির্মিত প্রাচীন একটি মসজিদ। নাম আইলাজোলার মসজিদ। যদিও মসজিদটির নামকরণের তেমন কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত বাহমান বাড়ি গ্রামে রয়েছে মসজিদটি।

বর্গাকারে নির্মিত এ মসজিদের প্রত্যেক বাহু ৭ মিটার দীর্ঘ। প্রত্যেকটি দেয়ালের প্রশস্ত ১.৭ মিটার। মসজিদে রয়েছে একটি মাত্র গম্বুজ। উল্টানো পেয়ালার মতো গম্বুজটি এখনো বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে।

সাদাসিধাভাবে নির্মিত এই মসজিদের বিশেষ কোনো টেরাকোটার কাজ নেই। প্রত্যেকটি দেয়ালের উপরের অংশে ফুলের কিছু নকশা রয়েছে।

মসজিদটির কাছে সুলতান নাসির-উদ-দীন নুসরত শাহ আমলের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল বলে কবি মুফাখখারুল ইসলাম ও প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার লেখা ‘বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মসজিদের গঠন অনুসারে এই মসজিদটিকে সুলতানী আমলের মসজিদ বলে উল্লেখ করেছেন।

মসজিদটি বহুকাল ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এর বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। গত শতাব্দীর শেষের দিকে মসজিদটি আবার চালু হয়েছে।

(জোবায়ের অপু, ঘাটাইল ডট কম)/-