কালিহাতীতে বন্যার পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যার পানিতে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

দুই শিশু হলেন- উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের মো. লাভলু মিয়ার মেয়ে খুশি (৫) ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিকের ছেলে আবির (৬)। সম্পর্কে তারা মামাতো ভাই-বোন।

পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান- বাড়ির চারপাশে বন্যার পানি। খুশি ও তার মামাতো ভাই আবির বাড়ির পাশে খেলতে ছিল। পরিবারের লোকজনের আড়ালে বন্যার পানিতে পড়ে ডুবে যায়।

পরে পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয়রা ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা পূর্ব পাড়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া জেএমবির ওই সদস্যের নাম জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমি। আটককৃত জেএমবি সদস্য কালিহাতী উপজেলা বল্লা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে।

কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা একাধিক বোমা ও বিস্ফোরক মামলায় ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলে ১৫ বছর পর গত ২৭ জুলাই জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে গ্রেপ্তারকৃত জেএমবি সদস্য জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমি তার নিজ গ্রাম কালিহাতী উপজেলা বল্লা এলাকায় অবস্থান করছেন। ফতুল্লা থানায় বিস্ফোরণ মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তিনি।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এই সময় জেএমবির সক্রিয় সদস্য জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমিকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন চলছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শাজাহান সিরাজের মাগফেরাত কামনায় কালিহাতিতে দোয়া মাহফিল

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী মরহুম শাজাহান সিরাজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় শাজাহান সিরাজ স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

স্মৃতি পরিষদের আহŸায়ক রাশিদুল ইসলাম রতনের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ বকুল মিয়ার সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাছির আহমেদ খান, সুলতান উদ্দিন তালুকদার,আব্দুল জুব্বার, সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ তৌহিদ, মোশারফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন মোল্লা, কালিহাতি পৌরসভার কাউন্সিলর এনামুল হক, সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দিন, কালিহাতি শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যাপক ছোহরাব আলী, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

দোয়া পরিচালনা করেন কালিহাতি আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল ও কালিহাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ও কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে শুক্রবার(২৪ জুলাই) দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চরখিদির উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আবুল হোসেনের স্ত্রী ছেলে শান্তকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে সড়কে পাটের আঁশ ছাড়াতে যান।

এ সময় ছেলে শান্ত সড়কের পাশে পানিতে কলাগাছের ভেলায় খেলছিল। হঠাৎ তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পানি থেকে শান্তর(৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের কুমুরিয়াবাড়ী (বেড়বাড়ী) গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে ইয়ামিন (১২) বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে।

নাগবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান মিল্টন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতির ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে মন্দাভাব

‘‘আমার নৌকা ভাসাইয়া জলে, চেয়ে থাকি বসি তীরে/ ছোট ছোট ঢেউ উঠে আর পড়ে, রবির কিরণে ঝিকিমিকি করে…” কবিগুরুর এই ছন্দের মিল খুঁজে পাওয়া যায় আবহমান চিরায়ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পালতোলা নৌকার বৈচিত্রতায়। এখন হয়তো কবির ছন্দের মতো পালতোলা নৌকা খুব একটা দেখা মেলে না। কিন্তু বর্ষা এলেই নৌকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় গ্রাম্য এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরে। ফলে বিনোদনের জন্য না হলেও প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ নৌকাকে আকড়ে আছে সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই।

টাঙ্গাইলে অসংখ্য নদী, খাল, বীল, জলাভূমি রয়েছে। বর্ষাকালের দুই মাস আষাঢ়-শ্রাবণ ছাড়াও বছরের অধিকাংশ সময় নিম্নাঞ্চল এলাকায় পানি থাকে। ফলে এখানে নৌকার প্রয়োজনীয়তা বেশি। এখানে মূলত; যাতায়াতের কাজ ছাড়াও মাছ ধরা, খেয়া পারাপার, পণ্য পরিবহন, বিনোদন ও কৃষি কাজের জন্য নৌকার অপরিহার্যতা বেশি।

টাঙ্গাইলে যে কয়টি নৌকা তৈরি ও বিক্রির হাট-বাজার রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে কালিহাতি উপজেলার রামপুর পুরাতন বাজারের এতিহ্যবাহী নৌকার হাট। প্রতি বছর এই মওসুমে স্থানীয় ও বিভিন্ন এলাকার নৌকার কারিগর তাদের তৈরি বাহারি নৌকা নিয়ে আসে এই হাটে।

একই সাথে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারা আসেন তাদের পছন্দমতো নৌকা কিনতে। কেনা-বেচা শেষে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। এভাবেই চলতে থাকে পুরো বর্ষা মওসুম।

অপরদিকে এখানকার নৌকার গুনগত মান ও বাহারি ডিজাইনের হওয়ায় নৌকার চাহিদাও থাকে বেশি। কারিগররাও চাহিদা পূরণে দিন-রাত ব্যস্ত থাকে। যেন দম ফেলার সময় নেই।

গত শুক্রবার সরেজমিন ওই নৌকার হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের ঘাটে থরে থরে সাজানো নৌকার পসরা থাকলেও নৌকা কিনতে ক্রেতার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো নয়। সবাই নিজ পছন্দমতো প্রয়োজনীয় নৌকাটি কিনছেন অনায়াসে। দেরি হলে যুৎসই নৌকাটি হাতছাড়া হয়ে যাবার শংকা বা প্রতিযোগিতা নেই। সেখানে কথা হয় নৌকার ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে।

মহিষজোড়া এলাকা থেকে নৌকা বিক্রি করতে আসা রতন, রিপন সূত্রধর ও অতুল সরকারসহ আরও কয়েকজন জানান, তারা ১৯টি নৌকা বিক্রি করতে এনেছিলো। তাদের সবগুলো নৌকা অনেক বেশি সময় পর বিক্রি হয়েছে। তবে, মোটামুটি আশানুরুপ দাম পেয়েছেন বলেও জানান তারা।

বাসাইল উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, মাছ ধরার জন্য প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে একটি কোষা নৌকা কিনলাম। দাম নিয়ে তার কোন অভিযোগ নেই। নৌকাটি তার পছন্দমতো হয়েছে বলে বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করলেন।

হাটের ইজারাদার আবুল হোসেন বলেন, আজ ৩০টি নৌকা বিক্রি হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে নৌকার ক্রয়-বিক্রয় জমে উঠে। সপ্তাহের দুদিন (মঙ্গল ও শুক্রবার) এখানে হাট বসলেও শুধুমাত্র শুক্রবারের হাটে নৌকা বেচাকেনা চলে।

তিনি বলেন, এখানে ময়থা, ফুলকি, ঝনঝনিয়া, বাসাইল, তিরঞ্জ, মিরিকপুর, কাউলজানি, মান্দারজানি, গান্ধিনা, রতনগঞ্জ, বল্লা, পোষনা, পৌজান, সোমজানি, খরশিলা এলাকা থেকে বেশি ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। আগে কালিহাতি ছাড়াও বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর ও ঘাটাইল উপজেলার মানুষ নৌকা ক্রয়-বিক্রয় করতে আসতো। বিভিন্ন এলাকায় কারখানা গড়ে উঠায় এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাও কমে গেছে। এবার করোনার কারনে ক্রেতা-বিক্রেতা আরও কম।

নৌকার কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কোকডহরা, বলধি, সাভার, বাড্ডা, মহিষজোড়া, রামপুর, পাইকড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারিগররা তাদের তৈরি নৌকা নিয়ে হাটে আসেন।

একসময় সাম্পান, গয়না, ছিপ, বজরা, ময়ূরপঙ্খী, পিঙ্গিস, পানসি নৌকা গুলো ছিলো রাজা-বাদশা আর সৌখিন মানুষের বিনোদনের উৎস। কালের বিবর্তনে এগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। প্রয়োজন ভেদে এখন শুধু ডিঙ্গি আর কোষা নৌকার চাহিদাই বেশি।

রামপুর বাজারে নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত কারিগর উজ্জল, পথিক, ভাষাণ সূত্রধরের সাথে কথা বলে জানা যায়, মান ভেদে ১৪-১৫ হাত আকারের একটি নৌকা ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মাঝারি আকারের ১২-১৩ হাত নৌকা আট থেকে নয় হাজার টাকা ও ছোট আকারের ৯-১১ হাত মাপের নৌকা ছয় থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। পাহাড়ি এলাকার গজারি কাঠের নৌকার দাম ও চাহিদা বেশি। তবে আম গাছ, কাঠাঁল গাছ ও শিমুল গাছের কাঁঠ দিয়ে তৈরি নৌকার চাহিদাও উল্লেখযোগ্য।

রহিজ উদ্দিন, সুবল, সজীবসহ কয়েকজন বলেন, লোহা, কাঠসহ অন্যান্য উপকরণের খরচ বাদে মজুরী পেলেই নৌকা বিক্রি করে থাকি।
সুমন, নেপাল, সন্তোষ বলেন, অন্য বছর বিপুল পরিমাণ ক্রেতা নৌকা কিনতে আসলেও এবার করোনার কারনে খুব একটা ক্রেতা আসছে না। এভাবে ক্রেতা কমতে থাকলে হয়তো আমাদেরকে পেশা বদল করতে হবে।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল শহরে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হচ্ছে। গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) রাতে বৃষ্টির কারণে বন্যার পানি টাঙ্গাইল শহরে ঢুকে পড়েছে। ইতোমধ্যে শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম আকার ধারণ করেছে।

বৃষ্টির সাথে বন্যার পানি একাকার হয়ে টাঙ্গাইল শহরের বাসটার্মিনাল থেকে কেডি মসজিদ হয়ে মেডিকেল কলেজের পিছনের রাস্তা, মক্কা আই সেন্টার থেকে কোদালিয়া হয়ে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা, দেওলা প্রধান সড়কের পাশের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ সড়ক, খাদ্য গুদাম থেকে মীরের বেতকা, বৈল্যা ব্রিজের পর থেকে এনায়েতপুর সড়ক এবং পৌরসভার চরজানা ও মীরের বেতকা এলাকা পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ব্যতিত অভ্যন্তরীণ প্রায় সড়কেই বন্যার পানি হানা দিয়েছে।

এদিকে, গত কয়েকদিনে যমুনায় পানি কমে বিপৎসীমার ৮৩ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদী সহ জেলার অভ্যন্তরীন নদ-নদীতে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে।

ফলে জেলার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, ছোট ছোট ব্রিজ-কার্লভাট ও ব্রিজে ওঠার মাটি ধসে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।

বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, মাছের পুকুর ও পোল্ট্রী খামারে পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ হাট-বাজারে পানি উঠে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বাহিত রোগ-ব্যাধি সহ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও উচু রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়া বন্যার্তরা শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের চরম সঙ্কটে ভুগছেন।

টাঙ্গাইলে দ্বিতীয় দফার বন্যায় জেলার স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজসহ একের পর এক ব্রিজ ধসে পড়ছে। এতে জনপদ বিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

জেলার অভ্যন্তরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর, দেলদুয়ার ও নাগরপুর এ ছয়টি উপজেলার ৯০ শতাংশ এবং অপর ধনবাড়ী, মধুপুর, ঘাটাইল, বাসাইল, সখীপুর ও মির্জাপুর এ ছয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এরইমধ্যে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বানভাসী এসব মানুষ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে।

টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বানভাসী মানুষের জন্য ৪০০মে.টন জিআর চাল ও নগদ ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্যের জন্য দুই লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে বিতরণ করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার(২০ জুলাই) যমুনায় বিপৎসীমার ৮৩ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

রোববারের বৃষ্টিতে অভ্যন্তরীণ নদীর পানি বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি ২-১দিনের মধ্যে কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শ্রদ্ধা আর চোখের জলে শাজাহান সিরাজকে বিদায় জানালেন টাঙ্গাইলের মানুষ

শ্রদ্ধা আর চোখের জলে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজকে শেষবারের মতো বিদায় জানালেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর মানুষ।

প্রিয় নেতাকে একবার দেখার জন্য দলমতনির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এম্বুলেন্সযোগে শাজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তার দীর্ঘদিনের শত শত রাজনৈতিক সহকর্মী, ভক্ত অনুসারী অপেক্ষায় থাকেন কখন পাবেন দেখা?

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা ও দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে কালিহাতী সদরের শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নিপার উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এই বীর সন্তানকে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ  করেন।

করোনাভাইরাসের কারণে সামজিক দূরত্ব মেনে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মাঠে লোক সংকুলান হয়নি। পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকে জানাজার নামাজ আদায় করেন।

উভয় স্থানেই প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে সবার উদ্দেশ্যে কথা বলেন শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।

জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার,  কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য লুৎফর রহমান মতিন,  টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর জব্বার, এলেঙ্গা পৌর মেয়র নূরে আলম সিদ্দিকীসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি, আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের  নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, শাহজাহান সিরাজ গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ ১৯৪৩ সালের ১লা মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল গণি মিয়া এবং মাতার নাম রাহিমা খাতুন। বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার  বেতডোবাতে।

শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী রাজনীতির ‘চার খলিফা’র একজন।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা  তৈরির পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

৩রা মার্চ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ।

শাজাহান সিরাজ টাঙ্গাইলের করটিয়ার সরকারি সা’দত কলেজের ছাত্রসংসদের ২ বার ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দক্ষ, জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ জাসদ ও বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে ১৯৭৯, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৫ বার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বিএনপি সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

স্বাধীনতার পর শাজাহান সিরাজ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জাসদ  থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করে ভাইস  চেয়ারম্যান হন।

শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি কালিহাতী উপজেলা সদরে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

মৃত্যুকালে স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ, এক ছেলে রাজিব সিরাজ শুভ এবং এক মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পরে শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ বলেন, মরদেহ ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

পরবর্তীতে বুধবার (১৫ জুলাই) গুলশান সোসাইটি মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে রাত পৌনে ১০টায় ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলা সচলে আবেদন দুদকের

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের করা মামলার ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল বেঞ্চে দুদকের আবেদন কার্যতালিকায় রয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই মামলার ওপর হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে। যেটি বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীর আবেদনের শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী ছিলেন জেয়াদ আল মালুম। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, এ মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় তারা অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে। আদালত ছয় মাসের জন্য মামলাটি স্থগিত করেছেন। এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল বিভাগে আবেদন করে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ সরকারের সময় ২ একর ৩৮ শতাংশের জমিটি সুরুজ মল আগরওয়ালা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হুকুম দখল করা হয়েছিল।

বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। এর জন্য বছরে লিজ মানি ধার্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

জাহানারা রশিদ প্রথম বছরের লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়। তিনি তাঁর পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

লতিফ সিদ্দিকীর একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা দামের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয় বলে এজাহারে বলা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করলে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আদমদিঘী থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে সরকারি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত করেন বাদী আমিনুল ইসলাম নিজেই।

(বিশেষ প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাহজাহান সিরাজের জানাযা অনুষ্ঠিত

মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের নামাজে জানাযা বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২ টায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গায় সরকারি শামসুল হক কলেজ ও পরে কালিহাতি শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী জানাযা নামাজে অংশ গ্রহণ করেন।

এর আগে মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পৌঁছলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় উপস্থিত জনতা মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

পরে তার মরদেহ কালিহাতী কলেজ মাঠে নেওয়া হলে সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্থানীয় এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এসময় শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিষ্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন এবং তার পিতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

পরে তার লাশ বনানী কবরস্থানে দাফনের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শাজাহান সিরাজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর এভার কেয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল গণি মিয়া এবং মাতার নাম রাহিমা খাতুন। বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার বেতডোবা এলাকায়।

তাদের পৈত্রিক বাড়ি সখীপুর উপজেলার গোহাইলবাড়ি গ্রামে।

শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী রাজনীতির ‘চার খলিফা’র একজন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরির পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ।

তিনি একাধারে একজন তুখোঁড় ছাত্রনেতা হিসেবে ষাটের দশকে বঙ্গের আলীগড় খ্যাত টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের ছাত্র সংসদের দুইবার ভিপি নির্বাচিত হন।

স্বাধীনতার পর শাজাহান সিরাজ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জাসদ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ শাজাহান সিরাজ জাসদ ও বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে ১৯৭৯, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৫ বার টাঙ্গাইল- ৪ (কালিহাতী) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বিএনপি সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি কালিহাতি উপজেলা সদরে কালিহাতি শাহজাহান সিরাজ কলেজসহ একাধিক স্কুল, মাদরাসা গড়ে তুলেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ, এক ছেলে রাজিব সিরাজ শুভ এবং এক মেয়ে ব্যারিষ্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বাড়ছে নদীর পানি, শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

টাঙ্গাইলে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ধলেশ্বরী নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তীব্র স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পানিবন্দি এসব এলাকার লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির আউশ ধান, পাট, তিল আর সবজি। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানিয়েছে, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং ভূঞাপুর পৌরসভার একাংশ ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলার ১৩৭টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব গ্রামের ২১ হাজার ১৭৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যাকবলিত গ্রামগুলোর বেশির ভাগই যমুনার চরাঞ্চলে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-