টাঙ্গাইলে ৯ উপজেলায় বন্যা, পানিবন্দি দেড়লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলে যমুনা, ঝিনাই, বংশাই নদীর পানি সামান্য কমলেও বংশাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ৪ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে।

তবে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।

নতুন নতুন রাস্তা ঘাট ও ব্রিজ পানিতে ভেঙে যাচ্ছে। জেলার নিচু অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক গ্রামের ঘড়-বাড়ি, ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না অনেকেই।

বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাধ। জেলায় দেড়লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

আর দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৬ হাজার ১৬৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সে.মি. কমে বিপদসীমার ১৪৬ সে.মি., যমুনা নদীর পানি ৩ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৬৪ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৬ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৭৩ সে.মি. উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া বংশাই নদীর পানি ১৫ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার পর্যন্ত) টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল এবং মির্জাপুর উপজেলায় নিমাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এ ৯ উপজেলার ৪৭ টি ইউনিয়নের অন্তত ৪১৩ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে ৪টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে কালিহাতী এবং নাগরপুরে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বন্যায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৪৭৮টি। আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯১২ জন।

অপরদিকে ৭৩৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ১১ হাজার ৫১২ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও নাগরপুরে ১টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৫৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া নদীভাঙনে ১ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ৩১ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ৯ উপজেলার ৪৪৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ কি.মি. সম্পূর্ণ কাচা রাস্তা এবং আংশিক ৩১৪ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ৭১ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৫টি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৩টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে টিউওবেল ১৪১ টি এবং ২.৫ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪০০ মে.ট্রন জির চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য ২ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ৬ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে ৩ হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২৭ হাজার ২৩৩ জন। আর দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার) ৬ হাজার ১৬৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, তিল রয়েছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, কিছু কিছু নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কিছু নদীর পানি কমছে।

তবে বর্তমানের বৃষ্টির কারণে নদীগুলোতে আবারো পানি বৃদ্ধি পাবে। পানি সরে গেলে নদীভাঙন তীব্র হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় দেলদুয়ারে শিক্ষার্থীকে মারধর

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আলসা উত্তরপাড়া গ্রামে মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় ওই গ্রামের মো. রোস্তম আলীর ছেলে সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী মো. সোহাগকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেছে বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে আহত সোহাগের মা মোছা. বিউটি বেগম বাদি হয়ে সোমবার(৬ জুলাই) দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ, দেলদুয়ার উপজেলার নলুয়া গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের ছেলে মো. জাকির হোসেন(৪৮), ধুলটিয়া গ্রামের কালু শীলের ছেলে আশিষ শীল (১৮) ও একই গ্রামের মো. জাকিরের ছেলে মো. রাজন (১৯) একই উপজেলার আলসা উত্তরপাড়া গ্রামে মো. রোস্তম আলীর বাড়ির আশেপাশে অবস্থান করে মাদক সেবন ও বিক্রি করে থাকে।

ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনে বাঁধা দেয়ায় মো. রোস্তম আলীর ছেলে মো. সোহাগের সাথে বিক্রেতাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ৫ জুলাই বিকালে উল্লেখিত ব্যক্তিরা আলসা উত্তরপাড়া কাঁচা রাস্তার পাশে বসে মাদক সেবন করাকালে মো. সোহাগ বাঁধা দেয়।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উল্লেখিতরা মো. সোহাগকে (১৭) জোর করে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে মো. জাকির হোসেনের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করে।

খবর পেয়ে মোছা. বিউটি বেগম স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে সোহাগকে উদ্ধার করে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো যাবে।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে স্কুুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গাছে আটকে যাওয়া চং (ঘুড়ি) পারতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সজীব (১৪) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের হিংগানগর বড়বাড়ী গ্রামের সোহেল রানার ছেলে এবং সজীব স্থানীয় এম এ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনীতে শিক্ষার্থী ছিল।

আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, রোববার কিশোর সজীব স্থানীয় মাঠে চং (ঘুড়ি) উড়াচ্ছিল। তার চংটি একটি গাছে আটকে যায়। সে চংটি পাড়তে গাছে উঠলে গাছের পাশ দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের তারের সংর্স্পশে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গ্রামবাসী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে অফিস থেকে সঞ্চলন লাইন বন্ধ করলে স্থানীয়রা গাছ থেকে সজীবকে মৃত অবস্থায় নামিয়ে আনে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্যসহ ৫ জনকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য ও এক বৃদ্ধাসহ একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২৮ জুন) রাতে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামে।

আহতদের মধ্যে চারজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, তিনবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা বেগম (৪০), তার মাতা সুফিয়া বেগম (৭০), ফুপু কহিনুর (৬৫), বোন শান্তা আক্তার রনি (২৮) ও আত্মীয় লিটন (৪০)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শান্তা আক্তার রনি জানান, আমার দাদা মীর মোতাহের আলী ১৯৫১ সালে ৪০ শতাংশ জমি আমার পিতা মীর এছাক আলী ও চাচা মীর মোকাদ্দেস আলীকে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমির ১০ শতাংশ আমাদের দখলে থাকলেও বাকি ১০ শতাংশ জায়গা জোড়পূর্বক দখল করে রেখেছেন চাচা মোকাদ্দেসের পরিবার।

তিনি বলেন, জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে দীর্ঘদিন ধরে তারা দেই-দিচ্ছি বলে তালবাহানা করতে থাকে। রোববার জমিটির দখল নিতে গেলে প্রতিপক্ষের নান্নু, রকি, হাদিউল, সিদ্দিক, অলিদ, বাধন ও দিপু রাতের বেলা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা করে। এতে আমি ও আমার বৃদ্ধা মা এবং আমার বোন, ফুপু ও আমাদের এক আত্মীয় ধারালো দা’য়ের কোপে গুরুতর আহত হয়।

পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী পরিবারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল হক ভূইয়া জানান, ঘটনাটি শোনার পর আমি নিজে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করি। এখন পর্যন্ত তারা কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত মাজেদা বেগম জানান, পরিবারের সবাই আহত হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ঘটনাটি গতকাল রাতের (রোববার) হওয়ায় আজ (সোমবার) পর্যন্ত মামলা করতে পারিনি। তবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সময় মতো থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারের গ্রামই এখন নাঈমের ধ্যান-জ্ঞান

ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ খানের বংশধর নাঈম। বাবার সঙ্গে যেতেন আহসান মঞ্জিলে। আগেই জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে নবাবের বাড়ি। পুরান ঢাকায় যাতায়াত ছিল তাঁর, ছিল না আবাস। নাঈম বেড়ে উঠেছেন শাহবাগে। ছেলেবেলা কেটেছে মগবাজার এলাকায়। তাঁর মা টাঙ্গাইলের করটিয়া জমিদার বাড়ির মেয়ে। বাবা বাড়ি করেছিলেন দেলদুয়ারের পাতরাইলে। সেখানে টাঙ্গাইলের বিখ্যাত সব শাড়ির কারখানা। নানাবাড়ি আর বাবার বাড়িতে ছেলেবেলায় যেতেন নাঈম। তখন থেকেই গ্রামের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্কের বয়স ৪০ বছরের কম নয়।

’৯৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর আরও বেশি গ্রামমুখী হয়ে ওঠেন নাঈম। সিনেমা ছাড়ার পর গ্রামই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে। তাঁর এখনকার জগৎজুড়ে অনেকটাই পাতরাইল। গ্রামে তাঁর পুকুর আছে। পুকুরে মাছ চাষ করেন। আছে আম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের বাগান। আছে পশুর খামার। কৃষিজমিতে চাষাবাদও করেন। সবকিছুই পুরোপুরি বাণিজ্যিক। আর আছে তাঁতের কারখানা। মাসে সপ্তাহখানেক সেখানেই কাটাতে হয় তাঁকে। জড়িয়ে গেছেন গ্রামের মানুষের সুঃখ-দুঃখের সঙ্গে।

করোনাকালে গ্রামের যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাঈম। রোগীদের কীভাবে ঢাকায় আনা যায় কিংবা ওখানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া যায়, এসব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। গ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা মায়া-মমতায় মিশে অন্য এক রূপ ধারণ করেছে। গ্রামে একটা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে প্রতিবছরের জানুয়ারিতে মাসব্যাপী ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়। সেই আসরে ঢাকা থেকে রিয়াজ-ফেরদৌসরা যান। সেলিব্রিটিদের হাজিরায় অন্য মাত্রা লাভ করে গ্রামীণ ক্রিকেট।

এ রকম আরও সাংস্কৃতিক-সামাজিক কাজে জড়িয়ে আছেন নাঈম। গ্রামের মানুষের সঙ্গে জীবন বাঁধলেও রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা নেই নাঈমের। কখনো ভাবেনওনি রাজনীতি নিয়ে। সবার ডাকেই সাড়া দেন নাঈম। তবে একটা প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করানোর ইচ্ছা ভবিষ্যতে আছে। তাঁর সেবামূলক কাজগুলো যেন ছন্দ না হারায় ভবিষ্যতে, তার জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছা হৃদয়ে পুষে রেখেছেন। গ্রামের মানুষ শহরের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেন নাঈম।

নিজে শুধু নন, স্ত্রী শাবনাজ ও দুই মেয়েকেও তিনি গ্রামে নিয়ে যান। বড় মেয়ে নামিরা নাঈম এখন কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। এনভায়রনমেন্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজিতে গ্র্যাজুয়েশন করছেন নামিরা। সেখানে নাঈম ও শাবনাজের অনেক আত্মীয়স্বজন আছেন। পারিবারিক পরিবেশেই প্রবাসজীবন কাটছে তাঁর। ছোট মেয়ে মাহদিয়া নাঈম এ লেভেল সমমানের পরীক্ষা দিয়েছেন আগা খান একাডেমি থেকে। তাঁর গানের সঙ্গে দর্শক-শ্রোতাদের পরিচয় হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। বছর দুয়েক আগে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল তাঁর গান। গানটা মাহদিয়া শখের বশে করেন। গানটাকে সিরিয়াসলিও নিতে পারেন কখনো।

এখন দুই মেয়েরই প্রাধান্য পড়াশোনা। পড়াশোনায় দুজনেই মেধার পরিচয় দিয়েছেন।

নাঈম বলেন, মাহদিয়া গানের জন্য সময় বের করে মাঝেমধ্যে। বেশ কিছু গান করা আছে তার। করোনার জন্য গানগুলো রিলিজ দিচ্ছে না। নামিরার শখ পেইন্টিংয়ের দিকে। পড়াশোনার চাপের জন্য আপাতত ওদিকে বেশি ঝুঁকতে পারছে না। ব্যবসার বাইরে পরিবারকেই সময় দেন নাঈম। কিন্তু তাঁর একসময়ের আরেক পরিবার সিনেমা।

নাঈম জানান, তিনি যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের সঙ্গেই যোগাযোগটা ধরে রাখা গেছে। এঁদের মধ্যে অনেকে না–ফেরার দেশে চলে গেছেন। এহ্‌তেশাম, মুস্তাফিজ, শিবলী সাদিকরা চলে গেছেন। আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। রিয়াজ ফোন করেন। ওমর সানী খোঁজ নেন। অমিত হাসানও খবর রাখেন। কিছুদিন আগে রোজিনা আপার বাসায় বেড়িয়ে এসেছেন নাঈম। নাটকের অনেকের সঙ্গে ওঠাবসা আছে। সবচেয়ে ভালো যোগাযোগ আফসানা মিমির সঙ্গে। ‘দিল’ ছবিতে যাঁরা কাজ করেছেন, কিছুদিন আগে তাঁরা একত্র হন। শবনম, মিমি আর নাঈম-শাবনাজ মিলে পুরোনো দিনের গল্পে–আড্ডায় মেতে ওঠেন।

তবে এফডিসিতে যাওয়া হয় না। করা হয় না শুটিং। সাংগঠনিক কোনো উৎসব থাকলে যাওয়া হয়। তাঁদের পেলে সিনেমার মানুষেরা খুশিতে নেচে ওঠেন। নাঈম-শাবনাজ অল্পসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেছেন। অথচ এ ছবিগুলোর জনপ্রিয়তা বিপুল। তাঁদের ছবির কথা ঘুরেফিরেই আড্ডা-আলোচনায় আসে। অমন ছবি এখন হচ্ছে না বলে আফসোস শোনা যায় লোকের মুখে। কী সেই রহস্য, যার জন্য ছবিগুলোর আজও এত কদর!

মুখ খোলেন নাঈম, ‘আসলে আমি কোয়ান্টিটি থেকে কোয়ালিটিতে বেশি বিশ্বাস করতাম। বছরে ১০–২০টি ছবি করে তো লাভ হচ্ছে না। আমার যখন একটা ছবি হিট হয়ে যায়, তখন একের পর এক ছবির অফার আসে। প্রচুর ছবি রিফিউজ করেছি। আমি চিন্তা করে দেখেছি, বছরে চার–পাঁচটার বেশি ছবি করা ঠিক হবে না। গণহারে ছবি করে শুধু স্ক্রিনে আমি থাকব, এর কোনো মানে হয় না।

আমি যখন আসি, তখন সিনিয়ররা ছিলেন। নতুনেরা তেমন আসেনি। তারা আসে একটু পরে। অত ছবি করিনি আমি। তারপরও যে দর্শকেরা এখনো মন থেকে ভালোবাসার জায়গাটা আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ। ১০০ ছবি করেও অনেকে এই জায়গাটা হয়তো পাননি। এর আনন্দ আলাদা, তৃপ্তি অনেক বেশি। অনেক বড় বড় ছবি, বেশি ছবি করেও অনেকে দর্শকদের হৃদয়ে থাকতে পারেননি।’

এ জন্য তখনকার সময়কে কৃতিত্ব দেন নাঈম। ‘দর্শক নতুনদের দেখতে চাচ্ছিলেন। আমরা একটা রোমান্টিক ছবি করলাম। দর্শকেরা লুফে নিলেন। মানুষ একটা জিনিস দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবর্তনটা ওভাবেই এসেছিল। আমরা যখন ছবি করেছি ডিশ কেব্‌ল ছিল না। এক বিটিভি ছিল। মানুষের বিনোদন ছিল টিভিতে নাটক আর সিনেমা হলের ছবি। বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম ছিল না। পরে বিভিন্ন দেশের সিনেমা ঢুকে গেল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক পিছিয়ে গেল।’

সিনেমা ছেড়েছেন দুই দশক আগে। এখনো নাঈম-শাবনাজ জুটি নিয়ে চর্চা হয়। প্রশ্ন ওঠে এখনকার জুটিদের জনপ্রিয়তা নিয়ে। কীভাবে কালজয়ী জুটি হয়ে উঠেছিলেন নাঈম-শাবনাজ? ‘জুটি মানেই নাঈম-শাবনাজ বললে ভুল হবে। আমাদের আগেও জুটি ছিল। শাবানা–আলমগীর ছিলেন। রাজ্জাক-কবরী ছিলেন। কিংবদন্তি জুটি ছিলেন তাঁরা। তাঁদের পরে বলতে বললে হয়তো আমাদের কথা আসবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে আমাদের জুটির কথা আসতে পারে।

জুটি তৈরির পেছনে কেমিস্ট্রিটা ঠিক আছে কি না, দেখতে হবে। নায়ক ও নায়িকার বোঝাপড়াটা ঠিক আছে কি না, নায়কের ডায়ালগের জবাবটা কী দিচ্ছে নায়িকা, সংলাপ না থাকলে এক্সপ্রেশনটা কী দিচ্ছে, এগুলোকেই কিন্তু কেমিস্ট্রি বলে। সেই কেমিস্ট্রি যদি সুন্দর হয়, দর্শকদের কাছে ভালো লাগে, দর্শকই নায়ক-নায়িকাকে জুটিতে পরিণত করে ফেলেন।’

তখনকার কাজের পরিবেশ নিয়ে নাঈম স্মৃতিকাতর। বলেন, ‘আমরা গল্প নিয়ে বসতাম। চরিত্র নিয়ে বসতাম। গান রেকর্ডিংয়ে যেতাম। কী পোশাক পরব, সেসব নিয়ে বসতাম। ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যানসহ বসা হতো। পুরো একটা পরিবার যেন। একটা ছবির কথা বলি। ‘দিল’ ছবি করার সময় আজিজুর রহমানের স্ত্রী সেটে থাকতেন। ভাবি হয়তো শাবনাজের চুল ঠিক করে দিচ্ছেন। আজিজ ভাই বলতেন, নাঈম, তুই এটা পরিস না। এটা পর। এভাবে তখন কাজ হতো।’

হোমওয়ার্কটা যদি ভালো হয়ে যায়, তবে শুটিংটা ভালো হবে। আগে থেকে যদি লাইট কী নেব, কতটুকু কী নেব, টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো ঠিক করে নেওয়া যায়, তবে ছবি খারাপ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তখন ছবি কম করায় বেশি সময় দিতে পারতাম। তখন কোনো এফডিসির ফ্লোর খালি থাকত না। সর্বত্র শুটিং হচ্ছে। কেউ সিলেটে শুটিং করছে, কেউ কক্সবাজারে আবার কেউ বিদেশে। তখন জমজমাট ছিল সিনেমাটা।

বলা বাহুল্য, খাজা নাঈম মুরাদ তথা চিত্রনায়ক নাঈমের প্রথম ছবি এহ্‌তেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’। এখান থেকে নাঈম-শাবনাজ জুটির যাত্রা শুরু। নাঈম অভিনীত ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চোখে চোখে’, ‘সোনিয়া’, ‘দিল’, ‘টাকার অহংকার’, ‘লাভ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘জিদ’, ‘বিষের বাঁশি’ ইত্যাদি। তাঁর প্রযোজিত একমাত্র ছবি ‘আগুন জ্বলে’। নাঈম অভিনীত শেষ ছবি ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ২০০১ সালে মুক্তি পায়। এটা নাঈম-শাবনাজ জুটিরও শেষ ছবি। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কয়েক বছর পর ‘কাচঘর’ নামে একটা ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন নাঈম। এতে তিনি অভিনয়ও করেন।

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় মারা গেলেন কালিহাতীর চেতনচন্দ্র, লাশ ফেলে গেলেন রাস্তায়

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। মরদেহটি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার আমজানী গ্রামের চেতনচন্দ্র দাসের। ঘাটাইল ডট কমে রোববার (১৪ জুন) এ বিষয়ে ‘টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে পলিথিন, কাঁথা এবং চাদর মোড়ানো লাশ’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঢাকা এয়ারপোর্ট এলাকায় চেতনচন্দ্র রিকশা চালাতেন। ৬-৭ দিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। রোববার (১৪ জুন) রাতে তিনি মারা যান। লাশ এলাকায় সৎকার করতে বাধাপ্রাপ্ত হবেন ভেবে বাবা নকুলচন্দ্র দাস ও বড় ভাই অতুলচন্দ্র দাস রাতের কোনো এক সময় পলিথিনে মুড়িয়ে লাশ ফেলে যান দেলদুয়ার উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডুবাইলে।

খবর পেয়ে রোববার সকালেই পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে টাঙ্গাইল সিআইডি ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে।

দেলদুয়ার থানার ওসি একে সাইদুল হক ভূঁইয়া জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চেতনচন্দ্র দাস মারা যান। বাবা ও বড় ভাই লাশ এলাকায় না নিয়ে ডুবাইল এলাকায় ফেলে যান।

ময়নাতদন্ত শেষে চাচা পুণ্যচন্দ্রের কাছে লাশ হস্তান্তর এবং দাহ করতে খরচ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে পলিথিন, কাঁথা এবং চাদর মোড়ানো লাশ

টাঙ্গাইলে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সকালে দেলদুয়ার উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশটি পলিথিন, কাঁথা এবং চাদর মোড়ানো অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানায়।

এ ব্যাপারে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের সার্ভিস লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। লাশটি পলিথিন, কাঁথা এবং চাদর মোড়ানো অবস্থায় ছিল। ওই যুবকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, করোনা সন্দেহে কিংবা হত্যা করে ওই ব্যক্তির লাশ এখানে ফেলে যেতে পারে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩o থেকে ৩৫ বছর হবে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। থানা পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ২৬৬, আরও একজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে নতুন করে একজনের মৃত্যুসহ আরো ১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬৬ জনে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুরে তিনজন, সদর উপজেলায় তিনজন, গোপালপুরে চারজন, দেলদুয়ারে দুইজন, মধুপুর ও কালিহাতিতে ১জন করে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান।

তিনি জানান, গত ৭ মে পাঠানো ১৩৮টি নমুনাসহ পূর্বের ৪৮৬ টি জমে থাকা নমুনা থেকে গত ৩ মে’র ২জন এবং ৭ মে’র ১২জন শনাক্তের ফলাফল আসে। এতে নতুন করে ১৪ জন আক্রান্ত হয়।

এছাড়াও দেলদুয়ারে নতুন একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জন। মৃত ব্যাক্তির বাড়ি উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায়।

এখন পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ জন এবং হোম কোয়ারিন্টিনে ২১০৭ জন। মোট কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০২১০ জন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মেয়ের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তানিয়া আক্তার (৩৫) নামের এক মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া কাতুলী গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে এবং আটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন গ্রামের শহীদুল মিয়ার স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার দিন তানিয়া শশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন । ওই সময় বাড়িতে ধান উড়ানো কাজে বাবাকে দেখে সে এগিয়ে আসেন । একপর্যায়ে বাবা ধান উড়ানো ফ্যানের ত্রুটিপূর্ণ তারের সাথে জড়িয়ে বৈদুতিক সংস্পর্শে আসায় মেয়ে বাবাকে বাঁচাতে ফ্যান সড়াতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়।

এঘটনায় বাবা জাহাঙ্গীর বেঁচে গেলেও তানিয়া নামের ওই মেয়েটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জাহাঙ্গীর ধান উড়ানোর জন্য ফ্যানের সংযোগ দেওয়ার সময় বৈদুতিক সংযোগের সংস্পর্শে জড়িয়ে আটকে পড়ে । এ বিষয়টি দেখে তানিয়া ফ্যানটি সড়িয়ে নিতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারের আকাশে উড়ছে ৪৬ ফিট ঘুড়ি

কোভিড-১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাস আক্রমণে সারা বিশ্ব আজ স্তব্ধ। করোনার ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর চিত্র। করোনার থাবায় আমাদের দেশও স্থবির। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো আজ গৃহবন্দী। সংক্রমণরোধে বন্ধ রয়েছে সবধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একইসাথে আউটডোর খেলাধুলায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে অলস সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। বিরক্তিকর ঘরবন্দী থেকে একটু স্বস্তি পেতে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি নিয়ে মেতে আছেন এসব শিক্ষার্থীরা। ফাঁকা জায়গায় ও বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায় শিক্ষার্থীসহ অনেককেই।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহম্মেদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে শাহ আসিফ কামাল (তৌসিফ) তৈরি করেছেন ৪৬ ফিট লম্বা এক ঘুড়ি (চং)। চংটির দেহের দৈর্ঘ্য ১৬ ফিট, প্রস্থ ১২ ফিট। চংয়ের নিচে কাপড় লাগানো হয়েছে ৩০ ফিট। যা নিয়ে চং ঘুড়িটি দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ ফিট।

তৌসিফের বিশাল এই চংটি নজর কেড়েছে ঘুড়ি প্রেমিকদের । অবাকও করেছে সাধারণ মানুষকে। ঘুড়ি উড়ানোর শখ ও আগ্রহ বেড়েছে অনেকের। তৌসিফের বাড়ি উপজেলার সদরে এবং সে একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

গত এক সপ্তাহ ধরে তৌসিফের সাথে আরও তিনজন শ্রমিক টানা কাজ করে ঘুড়িটি নির্মান শেষ করেন। এতে নির্মান খরচ হয়েছে প্রায় দশ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে স্থানীয়রা ধারণা করেছিলেন, এতো বিশাল আকৃতির ঘুড়ি হয়তো আকাশে উড়বে না। তবে দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেলদুয়ারের আকাশে উড়ল সেই বিশাল আকৃতির ঘুড়িটি।

তৌসিফ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লম্ভা সময় ঘরবন্ধী হয়ে অনেকটাই বিরক্ত হচ্ছিলেন তিনি। তার বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে বিভিন্ন জায়গায় জীবানু নাশক ছেটানো এবং কর্মহীনদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেও সময় কাটছিল না। ব্যক্তিগত জীবনটা অনেকটাই বিরক্তে কাটছিল। এমন সময় চারিদেকে ঘুড়ি উড়ানো দেখে দেলদুয়ারের আকাশে সবচেয়ে বড় ঘুড়ি উড়ানোর শখ জাগে তার। যা দেখে সাধারণ মানুষ লকডাউনের মধ্যেও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এরপর থেকেই তৌসিফ শুরু করেন ঘুড়ি তৈরির কাজ।

তৌসিফের বাবা দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, করোনাকালে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তৌসিফ তার সাথে বিভিন্ন সময় সড়কে জীবানুনাশক ছেঁটানোসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অংশ নিয়েছে। লম্ভা সময় বাড়িতে থেকে যখন বিরক্ত হচ্ছিল তখন তৌসিফ এই ঘুড়িটি তৈরি করে। ঘরে থেকে মানষিক বিপর্যয়ে পড়তে পারে ভেবে তার এই ধরণের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন বলেও জানান তৌসিফের বাবা।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-