ভুঞাপুর হাসপাতালে নেই সাপে কাটার ভ্যাকসিন, চরম দুর্ভোগ

কয়েক সপ্তাহ ধরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করছে। পানি কমলেও এ উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, বন্যার দুর্ভোগও কমেনি বন্যার্তদের। নানা রোগে আক্রান্তের আতঙ্কে রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষসহ এ উপজেলার পানিবন্দি হাজারো মানুষ। এতে করে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন নিম্নাঞ্চল ও যমুনা চরাঞ্চলের বন্যার্তরা পানিতে বসবাস করায় হাত ও পায়ে ঘা, ঠান্ডা জ্বর, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডসহ পানিবাহিত নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার কোন কোন সাপে কাটার ঘটনাও ঘটেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে না বন্যার্তরা। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের নার্স থেকে শুরু করে কর্মচারীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে সেবা প্রত্যাশীদের মাঝেও করোনার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে বলছে- বন্যার্ত যারা রয়েছে তাদের জন্য মেডিকেল টিম, পর্যাপ্ত ঔষধ ও খাবার স্যালাইন রয়েছে। কিন্তু বন্যার্ত এসব অনেক এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আবার কোন কোন স্বাস্থ্যন্দ্রে বন্যার পানি উঠায় সেখানে স্বাস্থ্য সেবা পায়নি বন্যার্তরা। দুর্গম চরাঞ্চলে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রাথমিক চিকিৎসার কোন ঔষধ সরবরাহ নেই। নেই কোন সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন।

এই তো গেল সপ্তাহের বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার খানুরবাড়ী গ্রামের রবিন হাওলাদারের মেয়ে অনিমা (১০) নামে এক কিশোরীকে সাপে কাটে। উপজেলা সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা ভ্যাকসিন না পেয়ে স্থানীয় কবিরাজের (ওঝার) স্বরণাপন্ন হয়। পরে ওঝার ঝারফুকে ভালো হয় বলে জানান অনিমার পরিবার।

গাবসারা চরাঞ্চলের রুলিপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল লতিফ জানান- ‘প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জন পানিবাহিত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারিভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট সরবরাহ করা হলে বন্যার্তদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। কেবল বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।’

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মরিুজ্জামান মনির বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঔষধ সামগ্রী বিতরণ হয়নি। বন্যার সময় এলাকায় কোন স্বাস্থ্যসেবী দেখা যায়নি। ইউনিয়নটি চরাঞ্চল হওয়ায় এমনিতেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষজন।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন জানান, ‘বন্যা কবলিত এলাকার জন্য উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জন্য ৬টি এবং জরুরি অবস্থার জন্য ২টি রির্জাভ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পানিবাহিত রোগ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।’

বন্যার্তদের এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন বিডি২৪লাইভকে মুঠোফোনে বলেন- উপজেলা সরকারি হাসপাতালের টিএসও’কে বলা হয়েছে পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে যেন বন্যার্তদের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ সকল প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ যেন বিতরণ অব্যাহত রাখেন।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস কাল

আগামিকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত করার ঐতিহাসিক ‘জাহাজমারা’ দিবস।

করোনা ও বন্যার কারণে দিবসটি উপলক্ষে এবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হয়নি। তবে ভূঞাপুরের মাটিকাটায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাহাজমারা কমান্ডার হাবিবের ছেলে আতিকুর রহমান।

১৯৭১ সালের এই দিনে যমুনা নদীতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা নামক স্থানে কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক মারণাস্ত্র ও রসদ বোঝাই পাক বাহিনীর জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ ও এসটি রাজন ধংস করার মাধ্যমে হানাদারদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়।

এ ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল। জাহাহমারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন, কাদেরিয়া বাহিনীর দুর্ধর্ষ সাহসী কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম।

ঐতিহাসিক সূত্রে প্রকাশ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মরণাস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানী ও রসদ বোঝাই ৭টি যুদ্ধ জাহাজ নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের এ সময় যমুনা-ধলেশ্বরী নদী পথে মাটিকাটা নামক স্থানে করা নজরদারী করছিলেন, কাদেরিয়া বাহিনীর চৌকশ কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান।

তার দূরদর্শী নেতৃত্বে অল্প সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুটি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ এবং এসটি রাজন ধংস করা হয়।

জাহাজ দুটিতে আক্রমণ ও দখল করে ১,২০,০০০ বাক্সে ২১ কোটি টাকা মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক যুদ্ধে অন্য কোথাও মুক্তিবাহিনীর হাতে এত বড় ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়নি।

পরবর্তীতে যুদ্ধ জাহাজ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পাকিস্তানি কমান্ডেন্ট লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি ও ব্রিগেডিয়ার কাদের খানের নেতৃত্বে ৪৭ ব্রিগেড, ৫১ কমান্ডো ব্রিগেড ও পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর দুটি এফ-৮৬ স্যাবর জেট বিমান দ্বারা মুক্তিবাহিনীর উপর চতুর্দিক থেকে আক্রমণ করে।

কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও রণ কৌশলের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই যুদ্ধকে পট পরিবর্তনকারী(টার্নিং পয়েণ্ট) অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।

কমান্ডার হাবিবুর রহমানের অসম সাহসীকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরবিক্রম’ ও ‘জাহাজমারা হাবিব’ খেতাবে ভূষিত করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

যমুনায় পিকনিকের নৌকা ডুবে ৫ যুবক নিখোঁজ

যমুনা নদীতে পিকনিকের নৌকা ডুবে টাঙ্গাইলের ৫ যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জের চায়না ঘাটের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল পূর্বপাড়া গ্রামের সাত্তার মন্ডলের ছেলে মারুফ হাসান (২৬), আব্দুর রশিদের ছেলে হাসিনুর রহমান (৩০), আবুল হোসেনের ছেলে মিজান (২৮), সোহরাব হোসেনের ছেলে শরিফ (১৭) ও কিতাব আলীর ছেলে শাহাদত (১৭)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে পিকনিকের আয়োজন করেন ওই গ্রামের ২৭ জন যুবক। বুধবার সকালে ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই ঘাট থেকে ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পিকনিকের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে যান তারা। সেখানে দুপুরের খাবার শেষে গোপালপুরে ফেরার পথে বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জের চায়না ঘাটের অদূরে প্রবল স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে বাকিরা সাঁতরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছালেও ওই পাঁচজন নিখোঁজ হন।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বশেষ সিরাজগঞ্জ থানা সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানতে পেরেছেন উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন। এখনও কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মরুভূমির উট ভুঞাপুরে, দেখতে ভিড় মানুষের

সৌদি আরবের মরুভূমির উট এবার টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে। এই উট একনজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। শুধু এ গ্রামের মানুষ নয়। আশে-পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে দেখতে ছুটে আসছেন।

মরুভূমির এই উট স্ব-চোখে দেখে পেরে আনন্দিত উৎসুক জনতা। উটকে যারা দেখতে আসছেন তাদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ঈদের দিন কোরবানি হবে এ উট।

আলোচিত এই উটটি কোরবানি দেয়ার জন্য কিনছেন জেলার ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিলচাপড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরকারের ছেলে আব্দুল রশিদ সরকার (তুলা)। সে পেশায় একজন ঠিকাদার এবং কা’বার পথে ট্যুরস ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ধর্মানুরাগী সমাজসেবক। গরীবের বন্ধু নামেও সকলের কাছে পরিচিত তিনি।

রশিদ সরকার বলেন- আমার বাবার স্বপ্ন ছিল উট কোরবানি করার। যেতে চেয়ে ছিলেন মদিনায় হজ পালনে। কিন্তু যেতে পারেনি। এদিকে, প্রতিবারের ন্যায় এ বছর আমিও হজ করতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই সেই অর্থদিয়ে অনেক কষ্টে উটটি কিনেছি।

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ইচ্ছে ছিল সৌদি থেকেই আনার। কিন্তু করোনার কারণে আনা যায়নি। এরপর দেশের সব বড় বড় হাট খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে ঢাকার গাবতলি পশুর হাট থেকে এক ব্যবসায়ী থেকে ১১ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে কেনা হয়।

গোপালপুর থেকে উট দেখতে আসা মো. রুবেল মিয়া বলেন- ফেসবুক, টিভি ও পাঠ্য বইয়ে অনেক দেখেছি, পড়েছি উটের গল্প। কিন্তু বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। গত বুধবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে ভূঞাপুরের বিলচাপড়া গ্রামে ছুটে এসেছি উটকে এক নজর দেখার জন্য। আসলে মরুভূমির এই উট বাস্তবে দেখতে পাব কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি। সত্যিই অনেক ভাল লাগছে।

কালিহাতির উপজেলার মো. মিজানুর রহমান বলেন- উট বাস্তবে দেখলাম আজ। ঈদের আনন্দ আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেল। এছাড়াও সৌদির মরভূমির উট দেখেও মনে বড় প্রশান্তি অনুভব করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম ও লিটন মিয়া বলেন- আমাদের এলাকায় এবারই এই প্রথম উট কোরবানি হচ্ছে। এরআগে কেউ উট কোরবানি দিতে পারেনি। কোরবানি এই উট দেখতে আসছে শতশত মানুষ। আমাদেরও খুব ভাল লাগছে উট দেখতে পেরে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা গেছে- মরুভূমি উটকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। সব বয়সি মানুষ উটের সাথে সেলফি ও ছবি উঠছে। কেউ ভিডিও নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফেসবুক লাইভও করছে। মানুষ যেন কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা না করতে পারে সেজন্যও করেছেন কড়া ব্যবস্থা।

রশিদ সরকারের সাথে কথা বলে আরও জানা গেছে- তিনি মনে করেন, তার এ উট কোরবানি গোস্ত সমাজসহ স্থানীয় প্রতিবেশীদের মাঝে বন্টন করবেন।

উট দেখাশোনা ও খাবার ব্যবস্থার বিষযে তিনি বলেন- উটটিকে যে ব্যবসায়ী থেকে কেনা হয়েছে সে পাকিস্তান থেকে গত ২ বছর আগে ৩ টি উট কিনে আনেন। পরে ২ টি উট বিক্রি করেন। রয়ে যায় আরও একটি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে এ বছর ওই ১টি উট বিক্রি করতে না পেরে ক্রেতা সংকটে পরে দিশেহাঁড়া ছিলেন। আর আমিও উট কেনার জন্য অধির ছিলাম। গত কয়েকদিন আগে কেনা হয়। এই উটটিকে মূলত প্রায় ৩ বছর লালন-পালন করেন তারা। গরুকে যে খাবার খাওয়ানো হয় সেগুলোই স্বাভাবিকভাবে উটকে খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কোনবানির আগ পর্যন্ত লালন-পালন করার জন্যও ওই ব্যবসায়ীর এক লোক নিয়মিত তার যত্ন করছেন।

তিনি আরও বলেন- উট কোরবানির পাশাপাশি  গরুও কোরবানি করা হবে। এ উটকে আমি প্রথমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), আমার বাবা-মা, আমি ও স্ত্রী সন্তানদের নামে কোরবানি করব। চেস্টা করব প্রতি বছর একটি করে উট কোরবানি করার জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ও বন্যার প্রভাবে টাঙ্গাইলে সোয়া লাখ তাঁতি পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই!

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতি এলাকার এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন তাঁত মালিকের পরিবারে এবার ঈদুল আযহার আনন্দ নেই। করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো আর খোলা সম্ভব না হওয়ায় তাঁতি এলাকায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁত বোর্ডের স্থানীয় দু’টি বেসিক সেণ্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ১২৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে। প্রতি তাঁতে তিনজন শ্রমিকের হিসেবে ৬৫ লাখ ৯১৯জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩৭ হাজার ২৮৭জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোট ৩৪ হাজার ৪০২ তাঁতের এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের পরিবার করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলা বাড়ী, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, তেজপুর, কাজীবাড়ী; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী, সদর উপজেলার চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশিরভাগ তাঁত ফ্যাক্টরিতে পানি ঢুকেছে। তাঁতের তানা (কাপড় বুননের ভিম) উঁচুতে তুলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা কোন রকমে একবেলা-আধপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এরমধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁত শিল্পে মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। অধিকাংশ তাঁত শ্রমিকের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এখন তারা কৃচ্ছতা সাধন করে কোন রকমে খেয়ে- না খেয়ে বেঁচে আছেন। কষ্টের এ সময়ে তারা ঈদ নিয়ে ভাবছেন না, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিকরা আরো জানায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের লোকদেরকেই সরকারি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অধিকাংশই পাচ্ছেন না।

তাঁতিরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা সরকারি সহায়তায় পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনা ও বন্যার কারণে গত মার্চ মাস সকল তাঁত বন্ধ। তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিক সবাই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চললে তাঁতিদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। করোনার কারণে তাঁত শ্রমিকদের যৎসামান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, তাঁত শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার জন্য হাহাকার করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।

তাঁত বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, দুটি বেসিক সেণ্টার থেকে তাঁতিদের মাঝে বিতরণকৃত ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া তাঁত বোর্ডের চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ৬৪জন তাঁতিকে দেওয়া হয়েছে।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, উপজেলা থেকে কোটা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সহায়তা ইউনিয়ন পরিষদে আসে। সেখান থেকেও তিনি কিছু তাঁত শ্রমিকের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁত শ্রমিকদের মাঝেও সরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বছরে দুটি ঈদ ও দুর্গাপুজায়ই তাঁত শাড়ির মূল ব্যবসা হয়ে থাকে।

করোনার সাথে ভয়াবহ বন্যা যোগ হয়ে তাঁতিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাঁত মালিকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে এসেছে। কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে পানি ঢুকে পড়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন পাহাড়া দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই।

তাঁত বোর্ড থেকে পাওয়া দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি তাঁত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ঈদুল আযহার আনন্দ তাদের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাব টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের জন্য অশনিসঙ্কেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁতিদের জন্য আলাদা ভাবে কোন সরকারি ত্রাণ সহায়তা আসেনি।

দেলদুয়ার ও সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁত শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁত শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন।

সরকারি প্রণোদনা তথা ঋণ সুবিধা না পেলে তাঁতিরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।

গত জুন মাসে তাঁতিদেরকে স্বাস্থ বিধি মেনে তাঁত চালু রাখতে বলা হয়েছে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হওয়ায় তাঁতিরা সহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর সদস্যরা। বুধবার ভোরে ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে সিরাজকান্দি দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত জাল আলী শেখের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৫০), হবিগঞ্জের মাদবপুর উপজেলার মো. রুস্তম আলীর ছেলে মো. কাওছার মিয়া (২৮) ও টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভল্লববাড়ী গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. মুক্তার হোসেন (২৮)।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মো. রওশন আলী জানান, তার নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিরাজকান্দি বাজারে জনৈক ইসমাইল খাঁন এর বন্ধ থাকা বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়ের সামনে তিন মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা, ০৪টি মোবাইল ফোন এবং ০৭টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সাক্ষীদের সামনে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গাঁজা অবৈধভাবে সংগ্রহ পূর্বক তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানাধীন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাঁজা বিক্রয় করার কথা স্বীকার করে। পরে র‌্যাব বাদি হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করে আসামীদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের এ ধরনের অবৈধ মাদক বিরোধী আভিযানিক কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুর ও ভূঞাপুরে এমপি ছোট মনির বিতরণ করছেন নৌকা

চতুর্দিকে থই থই বানের পানি। ডুবে একাকার নদীনালা, রাস্তাঘাট, খালবিল। ঘরের ভিতরে একহাঁটু, উঠোনে কোমর অবধি জল। কেউ ১০ দিন, কেউবা ২০ দিন ধরে পানিবন্দী। যারা দিন আনে দিন খায় বন্যায় তাদের প্রথম চাহিদা ত্রাণসামগ্রী। কিন্তু যারা ত্রাণ চায়না, তারা চায় পানির বন্দীদশা থেকে মুক্তি। কেননা তাদের ঘরে নেই কাঁচা বাজার। নেই অসুখের ওষুধ। ফুরিয়ে গেছে নিত্যপণ্য সামগ্রী। বানভাসী পানিবন্দী এসব মানুষের জন্য এখন একটি অপরিহার্য বিষয় নৌকা। একমাত্র নৌকাই পারে তাদের অচল জীবনকে সচল করতে। সেই নৌকাই এখন ত্রাণসামগ্রী হিসাবে মিলছে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায়।

যমুনা বিধৌত এ দুই উপজেলার মানুষ বহুদিন পর এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যা প্রত্যক্ষ করছেন। পানি বাড়ছে তো বাড়ছেই। খালবিল, নদীনালা পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোন সম্ভাবনা নেই। পানিতে ভাসছে কোন কোন ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো গ্রাম। দাঁড়ানোর মত এক চিলতে শুকনো ভূখন্ডও অবশিষ্ট নেই কোথাও। বন্যার পানিতে সয়লাব হাটবাজার দোকানপাট। আর এসবের মধ্যেই বিতরণ চলছে সরকারের দেয়া অপ্রতুল ত্রাণ। ত্রাণের চালডাল তেলনুনের পাশাপাশি মানুষ এখন পরিত্রাণ চাচ্ছে পানির বন্দীদশা থেকে।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের এমপি ছোট মনির বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দী মানুষের মধ্যে তাই এখন বিতরণ করে যাচ্ছেন নৌকা। এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় তিনি প্রায় দুই শতাধিক নৌকা বিতরণ করেছেন। আরো তিন শতাধিক নৌকা বানানো হচ্ছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রত্যেক গ্রামে নৌকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

এমপি ছোট মনির জানান, করোনাকাল তিনি তার নির্বাচনী এলাকা গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। চলতি বন্যাকালেও তিনি বসে নেই। প্রতিদিনই খোঁজখবর নিচ্ছেন পানিবন্দী মানুষের। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সাধ্যমত বিতরণ করছেন ত্রাণসামগ্রী।

ত্রাণ বিতরণকালে তিনি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা শুধু খাবারদাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মানুষের বাজারসদাই, ওষুধপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী কেনা বা সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই পানিবন্দী মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখার জন্য তিনি দুর্গম গ্রামাঞ্চলে নৌকা বিতরণ করছেন।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক জানান, করোনাকালে এমপি ছোট মনির ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বন্যার সময়ও তিনি মাঠ ময়দানে রয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ এবার তিনি নতুন একটি বিষয় বাছাই করেছেন। আর তা হলো নৌকা। নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের প্রতীক। নৌকা শেখ হাসিনার প্রতীক। এ আসনে নৌকা ছয়বার বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনের সময় দলের স্লোগান ছিলো “নৌকা যাবে ভাসিয়া, ভোট দিবেন হাসিয়া”। বন্যায় মানুষের মুখ হাঁসি ফোঁটানোর জন্য তিনি নৌকা উপহার দিচ্ছেন। মানুষ তাতে আনন্দে ভেসে বেড়াচ্ছে।

আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কৃষকলীগ নেতা অধ্যাপক আব্দুল মোমন জানান, তার ইউনিয়নে বহু মানুষ পানিবন্দী। বাড়ি থেকে বের হবার কোন উপায় নেই। খাওয়াপড়া ছাড়াও মানুষের অনেক প্রয়োজন থাকে যা ছাড়া জীবন অচল। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার মাধ্যম না থাকায় তারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অনেকের বাজারঘাট, ছোটখাটো কেনাকাটা ও চিকিৎসা গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এসব গ্রামে এমপি ত্রাণ হিসাবে নৌকা দেয়ায় মানুষের যোগাযোগের সমস্যা দূর হয়েছে।

বয়ড়া গ্রামের আব্দুর রশীদ জানান, টানা দশ দিন পানিবন্দী থাকার পর গত রবিবার গ্রামবাসি একখানে এমপির দেয়া নৌকা পেয়েছেন। সেই নৌকায় চড়ে আজ সোমবার হাটে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছেন। কেউ অসুস্থ হলে নৌকা করে হাসপাতালে যাচ্ছেন। নৌকা পেয়ে গ্রামবাসিরা এখন বেজায় খুশি।

(কে এম মিঠু, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে মোটসাইকেল চোর আটক

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছেন টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।

এসময় তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মোটরসাইকেটিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মোটরসাইকেল তিনজন হলো, মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামের মৃত আবু তালিবের ছেলে রাজীব (৩৫), সদর উপজেলার সাবালিয়া চরজানা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (৩০), একই এলাকার মজিদ ভুইয়ার ছেলে মুগ্ধ (২২)। মুগ্ধ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার কাগমারী পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৬ জুলাই নিজ বাসার সামনে থেকে আব্দুল কদ্দুস নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এসপি স্যারের নির্দেশনায় পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি।

ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চোর শনাক্ত করে ঐ এলাকারই বাসিন্দা রবিন ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মধুপুরের আউশনারা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই। পরে তার নিকট হতে চুরিকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় তিনি আরো আরো, তারা আন্তঃজেলা মোটসাইকেল চোর দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

 

ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়ক দখল করে অবৈধ ইটের ব্যবসা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ইটের ব্যবসা করছে এনামুল নামের এক ইট ব্যবসায়ী। এতে সড়কের পাশে ওই ইট পড়ে তিন পরিবারের বসত ঘর ভেঙে গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, সড়কের ওপর ইট রেখে ব্যবসা করায় ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ইট পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কাজলী, রহিম ও মিঠুন বলেন- ‘নিজেদের থাকার মতো ভিটে-মাটি নেই। সড়কের ঢালে টিনের ঘর তুলে থাকছি। এরপাশে সড়ক দখল রাস্তার ওপর অবৈধভাবে ইটের ব্যববা করে আসছে এনামুল। প্রায়ই ইটগুলো বাড়িতে পড়ে গিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, ইট রাখার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’

তারা আরও জানান, গত মঙ্গলবার ইটের স্তুব পড়ে ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভূঞাপুর থানায় একটি সাধারণ জিডিও করা হয়েছে।

ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ রাশিদুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

বন্যার পানিতে ডুবে ভুঞাপুরে অটোভ্যান চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর বন্যার পানিতে ডুবে মো. জুব্বার আলী মন্ডল (৬০) নামে এক বৃদ্ধ অটোভ্যান চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের স্থলকাঁশি গ্রামের মৃত নবাব আলী মন্ডলের ছেলে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ৩ টার দিকে উপজেলার ওই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় জুব্বার মন্ডরের বড় ভাই মো. রুস্তম আলী বলেন, বাড়ি থেকে বন্যার পানি ভেঙে গোবিন্দাসী বাজারে যাচ্ছিল। ধারণা করছি পা পিছলে পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। পরে আমার চাচাসহ স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়।

নিহতের চাচা মো. শাজাহান মন্ডল বলেন, আমি পানি ভেঙে বাড়ি থেকে বাজারে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে পায়ের সাথে ধাক্কা লাগলে ভয়ে ডাক-চিৎকার করলে অন্যান্যদের সহযোগিতায় উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-