বাসাইলে বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগে একের পর এক প্রাণহানি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একের পর এক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারীই নেই।

এবছর ৭ আগষ্ট পৌর এলাকায় ‘টাঙ্গাইল পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বাসাইল জোনাল অফিস’ থেকে মাত্র আধা কি.মি. দূরে গোবিন্দ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিদ্যুতের তারে জরিয়ে এক দিনমুজুর, ৩১জুলাই উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের গিলাবাড়িতে বিদ্যুতস্পৃষ্টে নৌকা ডুবে মা-ছেলেসহ পাঁচজন, ২৩ জুলাই ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকী বিলে বিদ্যুতের তারে জরিয়ে ষষ্ঠশ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

মাত্র দুই সপ্তাহে সাত জনের মৃত্যুতে বাসাইলের সর্বস্তরের লোকজনের মধ্যে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নানা গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ এবং নানা আলোচনা সমালোচনা চললেও স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

বাসাইল পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় বোরো ধানচাষে আনুমানিক ১২ শতাধিক বিদ্যুৎ চালিত সেচপাম্পের সংযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিল অথবা চকের উপর দিয়ে বিদ্যুতের মেইন লাইনের সংযোগ টাঙ্গানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিবছরই বর্ষার পনিতে এসব বিল এবং চকের উপর দিয়ে টাঙ্গানো বিদ্যুতের অধিকাংশ তারগুলি পানি ছুঁইছুঁই করে। বর্ষা মৌসুমে সেচপাম্পের সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন অথবা মেইন লাইনের তার হতে ঝুকিপূর্ন সংযোগগুলি বন্ধ করার জন্য প্রতিবছরই স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিলেও এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

তারা বলেন বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের লোকেরাই বিল অথবা চকের নিচু তারগুলি টেনে উপরে তুলে দেবে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ তারগুলির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। গ্রাহক হিসেবে আমরা তাদের কাছে এটা প্রাপ্য।

কাউলজানী ইউপি’র ৭নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মো. রুবেল মিয়া বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুর্ঘটনার পর সম্প্রতি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তারগুলি টেনে উঁচু করেছে। এই কাজগুলি প্রতিবছর পানি আসার আগেই তারা যদি করতো তবে এতো প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতো না।

ফুলকী ঝনঝনিয়া ডিগ্রী মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান বলেন, খুঁটি থেকে তারগুরি ঝুলে থাকার কারনে নৌকা চলাচলের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দূর্ঘটনা ঘটছে। তারগুলি টেনে সোজা করলে এসব দূর্ঘটনা ঘটতো না, যেটা বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি। তাদের উচিত প্রতি বছর বর্ষা মোৗসুমে তারগুলি টেনে সোজা করা।

পৌরমেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, পল্লীবিদ্যুতের স্থানীয় কর্মচারীদের গাফিলতিতে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যে কারনে ইতিপূর্বে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং গতকালও এক দিনমুজুরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। পল্লীবিদ্যুতের স্থানীয় কর্মচারীদের উদাসীনতায়ই এসব লোকজনগুলি খুন হচ্ছে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শামছুননাহার স্বপ্না বলেন, ঝুকিপূর্ন এলাকাগুলিতে নৌকা চলাচলের সময় বিশেষ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ রাখছি। গতকাল স্কুল সংলগ্ন দূর্ঘটনায় দিনমুজুর বিদ্যুৎস্পৃষ্টের বিষয়টি তদন্ত করছি। শুকনো মৌসুমে তারগুলি টেনে অথবা আরো উঁচুতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

পল্লীবিদ্যুতের বাসাইল জোনাল অফিসের ডিজিএম কাজী মো. শওকতুল আলম বলেন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগগুলি আমরা বন্ধ করে দিয়েছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগে লাল নিশান ,সাইনবোর্ড টেনে দিয়েছি। জনসচেতনতায় মাইকিং চলছে প্রতিদিন। পানি নেমে গেলে আরো উঁচু করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেব। আশা করছি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

(মোঃ শরীফুজ্জামান, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিপন সরকার (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাসাইল পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন আলাল এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

শিপন বাসাইল পূর্বপাড়ার মৃত পূন্য সরকারের ছেলে। তিনি মাটি কাটার শ্রমিকের কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শিপন মাটির কাজ শেষে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ঘাটে রাখার জন্য যাচ্ছিলেন। এসময় নৌকা নিয়ে গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারের সঙ্গে শিপনের স্পর্শ লাগে। এ ঘটনায় তিনি নৌকা থেকে পড়ে যান।

এসময় নৌকায় থাকা লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে নৌকাডুবিতে পাঁচজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নৌকা ডুবে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গিলাবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের সিকিম উদ্দিনের ছেলে নৌকার মাঝি তাইজ উদ্দিন (৫০), মিঞ্জু মিয়ার স্ত্রী জমেলা বেগম (৬০), তার ছেলে হামিদুর রহমান রনো (৩৫), আতা মিয়ার ছেলে জোয়াহেরের স্ত্রী রুমা বেগম (৩২), সখীপুর উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে শাহ আলম (২৫)।

লাশগুলো উদ্ধার করে গিলাবাড়ি গ্রামে মিঞ্জু মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়েছে।

রুবেল মিয়া বলেন, ‘নৌকাটি দাঁড়িয়াপুর থেকে গিলাবাড়ীতে আসতেছিল। নৌকাটি গিলাবাড়ী বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিলের মধ্যে থাকা বিদ্যুতের তারের সঙ্গে নৌকার মাঝির স্পর্শ লাগে। এসময় নৌকাটি ডুবে যায়।

এঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়জন নিখোঁজ রয়েছে সেটি বলা যাচ্ছে না।’

বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ডুবুরি পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন্নাহার স্বপ্না বলেন, পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে আরো কোনো লাশ আছে কি না ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তা তল্লাশি করছেন।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

 

করোনা ও বন্যার প্রভাবে টাঙ্গাইলে সোয়া লাখ তাঁতি পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই!

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতি এলাকার এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন তাঁত মালিকের পরিবারে এবার ঈদুল আযহার আনন্দ নেই। করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো আর খোলা সম্ভব না হওয়ায় তাঁতি এলাকায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁত বোর্ডের স্থানীয় দু’টি বেসিক সেণ্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ১২৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে। প্রতি তাঁতে তিনজন শ্রমিকের হিসেবে ৬৫ লাখ ৯১৯জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩৭ হাজার ২৮৭জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোট ৩৪ হাজার ৪০২ তাঁতের এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের পরিবার করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলা বাড়ী, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, তেজপুর, কাজীবাড়ী; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী, সদর উপজেলার চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশিরভাগ তাঁত ফ্যাক্টরিতে পানি ঢুকেছে। তাঁতের তানা (কাপড় বুননের ভিম) উঁচুতে তুলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা কোন রকমে একবেলা-আধপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এরমধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁত শিল্পে মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। অধিকাংশ তাঁত শ্রমিকের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এখন তারা কৃচ্ছতা সাধন করে কোন রকমে খেয়ে- না খেয়ে বেঁচে আছেন। কষ্টের এ সময়ে তারা ঈদ নিয়ে ভাবছেন না, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিকরা আরো জানায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের লোকদেরকেই সরকারি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অধিকাংশই পাচ্ছেন না।

তাঁতিরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা সরকারি সহায়তায় পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনা ও বন্যার কারণে গত মার্চ মাস সকল তাঁত বন্ধ। তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিক সবাই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চললে তাঁতিদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। করোনার কারণে তাঁত শ্রমিকদের যৎসামান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, তাঁত শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার জন্য হাহাকার করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।

তাঁত বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, দুটি বেসিক সেণ্টার থেকে তাঁতিদের মাঝে বিতরণকৃত ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া তাঁত বোর্ডের চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ৬৪জন তাঁতিকে দেওয়া হয়েছে।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, উপজেলা থেকে কোটা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সহায়তা ইউনিয়ন পরিষদে আসে। সেখান থেকেও তিনি কিছু তাঁত শ্রমিকের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁত শ্রমিকদের মাঝেও সরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বছরে দুটি ঈদ ও দুর্গাপুজায়ই তাঁত শাড়ির মূল ব্যবসা হয়ে থাকে।

করোনার সাথে ভয়াবহ বন্যা যোগ হয়ে তাঁতিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাঁত মালিকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে এসেছে। কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে পানি ঢুকে পড়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন পাহাড়া দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই।

তাঁত বোর্ড থেকে পাওয়া দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি তাঁত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ঈদুল আযহার আনন্দ তাদের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাব টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের জন্য অশনিসঙ্কেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁতিদের জন্য আলাদা ভাবে কোন সরকারি ত্রাণ সহায়তা আসেনি।

দেলদুয়ার ও সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁত শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁত শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন।

সরকারি প্রণোদনা তথা ঋণ সুবিধা না পেলে তাঁতিরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।

গত জুন মাসে তাঁতিদেরকে স্বাস্থ বিধি মেনে তাঁত চালু রাখতে বলা হয়েছে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হওয়ায় তাঁতিরা সহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় টাঙ্গাইলে বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ব্রীজ

টাঙ্গাইলে বন্যা পূর্ববর্তী সময়ে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বিভিন্ন এলাকার নদীতে ব্রিজ সংলগ্ন জায়গায় বালু উত্তোলনের ফলে এবারের বন্যায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ব্রিজ। এভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোগান্তিতে পরছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সম্পদ।

গত কয়েকদিনে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকার ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত ১২০ মিটার ব্রীজের মাঝখানের ৩০ মিটার স্ল্যাব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। টাঙ্গাইলের বাসাইল-কাঞ্চনপুর সড়কের ছনকাপাড়া এলাকায়ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নের কামুটিয়া এলাকায় পানির উর্ধ্বগতি ও প্রচন্ত চাপে নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চারটি ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ।

এছাড়াও কয়েকটি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি ব্রিজ। সর্বশেষ সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া ব্রীজের এপ্রোসটি মারাত্মকভাবে ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পরে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া লৌহজং নদীর প্রবল স্রোতে ধ্বসে পরে ব্রিজটির পূর্ব দিকের অ্যাপ্রোচটি। এতে সদর উপজেলার বড় বাসালিয়ার এই ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসে পরায় কুইজবাড়ী, গালাসহ কালিহাতীর এলেঙ্গা যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এ সড়কে চলাচলরত অসংখ্য মানুষ।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের বড় বাসালিয়ার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত হয় ব্রিজটি। এটি সদর উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। এটি উপজেলা সদরের মগড়া আর গালা ইউনিয়নের অন্যতম সংযোগ স্থাপনের ব্রিজ। এছাড়াও এ ব্রিজের উপর দদিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হয় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারন পানি বৃদ্ধি বা স্রোতে কারণেই যদি মাত্র দুই তিন বছর আগে নির্মিত এমন জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসে যায় এমন কাজের প্রয়োজন কি? অফিস ম্যানেজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামমাত্র ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ নির্মাণের ফলে এ ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলেে ভোগান্ততিতে পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ।

মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজহার মিয়া বলেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী হেদায়েত উল্লাহ বলেন, প্রবল পানি স্রোতের ফলে আর লিগেজ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ ধসে পরেছে। পরিদর্শন শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, বন্যা পূর্ববর্তী সময়ে অবৈধভাবে ড্রেজিং ও ভেকু বসিয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটছে। এভাবেই একের পর এক ভেঙে পড়ছে ব্রিজ। ব্রিজগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

সরকারি কাজে বাঁধা, বাসাইলে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবি নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাবিবুর রহমান চৌধুরী উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- ‘টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করায় জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল বর্ণিত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন- যেহেতু টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব, মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে; সেহেতু টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জন স্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৪ (১) অনুযায়ী উল্লিখিত ইউপি চেয়ারম্যানকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারী করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহী জেলা প্রশাসক বরাবর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে ঘুড়ি উদ্ধারে নদীতে নেমে ডুবে ভ্যান চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে মজিবর রহমান (৪০) নামের এক ভ্যান-রিকশা চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঝিনাই নদীর তীরবর্তী উপজেলার আদাজান ব্রিজ এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মজিবর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রামপুর গ্রামের শামছুদ্দিন ফকিরের ছেলে। মজিবর জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে ভ্যান-রিকশা চালাতেন।

ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, গত ১৯ জুলাই মজিবর কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় নদীর পাড়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিলেন। এসময় ঘুড়িটি নদীতে পড়ে যায়। পরে তিনি ঘুড়ি উদ্ধারের জন্য নদীতে নেমে ডুবে যায়।

এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হন। পরে মরদেহটি নদীর পানিতে ভেসে উপজেলার আদাজান এলাকায় এসে আটকে যায়।

পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিহাদ খান (১৪) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ফুলকী পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ ওই এলাকার আজহার আলীর ছেলে। সে ফুলকী-ঝনঝনিয়া ফাজিল মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, জিহাদ নৌকাযোগে বিলের মাঝ দিয়ে বাজারে যাচ্ছিল। এসময় বিদ্যুতের তারের সঙ্গে জিহাদের হাতে থাকা বাঁশের স্পর্শ লাগে। এ ঘটনায় জিহাদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জিহাদের পরিবার তার লাশটি উদ্ধার করে।

ফুলকী-ঝনঝনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান এ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, সড়কে পানি ওঠায় জিহাদ নৌকা নিয়ে বাজারে যাচ্ছিল। এসময় বিদ্যুতের তারের সঙ্গে জিহাদের হাতে থাকা বাঁশের স্পর্শ লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ আটক ৩

টাঙ্গাইলে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

আটককৃত হলেন- জেলার বাসাইল উপজেলার কাশিল বটতলা গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে আকাশ মাহমুদ হারেজ (৩০), কাশিল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আজমত খানের ছেলে আয়নাল খান (৩৫) ও নাকাছিম গ্রামের বানিজ মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়া (২০)।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (উত্তর) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার করটিয়া পূর্বপাড়ায় অভিযান চালায়। সেখানে জনৈক সোনা মিয়ার বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ভাড়াটিয়া তিনজনকে আটক করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, ইস্ত্রি, পেপার কাটারসহ টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরে বুধবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদশক নুরুজ্জামান বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (উত্তর) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘কোরবানীর পশুর হাটে চালানোর জন্য তারা জাল টাকার নোট তৈরি করেছিল বলে আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।’

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে নদীর স্রোতে ভেঙে গেল ব্রিজ

ভেঙে পড়লো টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর ব্রিজ। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নদীর স্রোতে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার দেউলি, আইসোড়া, ফুলকিসহ ১৫-২০টি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮-৯৯ সালে ব্রিজটি নির্মিত হয়। এরপর ২০১৯ সালে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়েন তারা। এরপরও স্থানীয় গ্রামগুলোর মানুষ ঝুঁকি নিয়েই হেঁটে সেতু পারাপার হতো।

এছাড়া দেইলি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে যেতে হতো কামুটিয়া আর বাথুলি হয়ে। এতে তাদের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যেত।

কাশিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক বলেন, ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্রিজটির মাঝের অংশ দেবে যাওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এতে স্থানীয়দের কিছুদিন সমস্যা হলেও চলতি বছরই ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া ভেঙে পড়া সেতুর কারণে আশপাশের মানুষের যাতায়াত সমস্যা লাঘবে তিনি নিজ খরচে একটি যান্ত্রিক নৌকার ব্যবস্থা করেছেন। আগামীকাল থেকেই ওই গ্রামগুলোর মানুষ বিনা পয়সায় ওই নৌকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, ওই স্থানে ২৮২ মিটার সেতু নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজটি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-