জাতীয় দলের ফুটবল ক্যাম্পে টাঙ্গাইলের ৬ তরুণ

এক সময় জাতীয় দলে প্রাধান্য ছিল নারায়নগঞ্জের ফুটবলারদের। এরপরই চট্টগ্রাম ও খুলনার ফুটবলার বেশি থাকতেন। আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আর মোনেম মুন্নাদের জেলা নারায়নগঞ্জের সেই দাপাট আর নেই। এখন ফুটবলে উঠে আসছে টাঙ্গাইলের তরুণরা।

একদিন আগে কোচ জেমি ডে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের বাকি চার ম্যাচের জন্য ৩৬ জনের যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন সেখানে সর্বাধিক ৬ ফুটবলার আছেন টাঙ্গাইলের।

আগে থেকেই ছিলেন রায়হান হাসান, বিশ্বনাথ ঘোষ, রবিউল হাসান, মনজুরুর রহমান মানিক। এখন যোগ হয়েছেন দুই নতুন মুখ নাজমুল ইসলাম রাসেল ও সুমন রেজা।

ফুটবলের জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ৬ জন জায়গা করে নিয়ে পুরোপুরি ‘ছক্কা’ মেরে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ছেলেরা।

এক সময় রাজত্ব করা নারায়নগঞ্জের তপু বর্মন আর তরুন ইয়াসিন আরাফাত জেলার নাম টিকিয়ে রেখেছেন তালিকায়।

টাঙ্গাইলের ফুটবল ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব পর্যন্ত এক সময় খেলে গেছে এই জেলায় এসে। এই জেলার ফুটবলার শহিদুল ইসলাম রঞ্জন, পিযুষ নন্দী, জাহিদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম উত্তম, মামুন মিয়া ও গোবিন্দরা ভিন্ন ভিন্ন সময় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

কখনো এক জেলার এত সংখ্যক ফুটবলার একসঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি।

দেশের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকারের জেলা টাঙ্গাইল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতি রোমান্থন করে তিনি বললেন, ‘আগে কখনো এক সঙ্গে টাঙ্গাইলের এত ফুটবলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি। ৩৬ জনের মধ্যে ৬জন এই জেলার। এটা অবশ্যই ভালো একটা দিক।’

অন্যদিকে হতাশার সুর সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর কণ্ঠে। কারণ, এক সময় তার জেলা নারায়নগঞ্জের ফুটবলাররাই ডমিনেট করতো ঢাকা লিগ ও জাতীয় দলে।

‘স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের জেলার ফুটবলারদেরই প্রাধান্য ছিল।

মোনেম মুন্না, জাকির, গাউস, স্বপনরা তো এক সাথে আবাহনী ও জাতীয় দলে খেলেছেন। পরবর্তীতে সুজন-ওয়ালি ফয়সালরাও খেলেছেন। কিন্তু অর্ধযুগ আগে থেকে ফুটবলে আমাদের জেলার প্রাধান্য হারাতে শুরু করেছে। বর্তমান ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন মাত্র দুইজন’- বলছিলেন চুন্নু।

রায়হান হাসানের জাতীয় দলে অভিষেক ৯ বছর আগে। মাঝে কিছুদিন ছাড়া বলতে গেলে নিয়মিতই খেলেছেন টাঙ্গাইলের এ যুবক। টাঙ্গাইল শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রায়হান আর বিশ্বনাথের বাসা।

‘আমি আর বিশ্বনাথ তো জাতীয় দলের ক্যম্পে আছি। মোহামেডানে খেলে অনিক ঘোষ ও রহমতগঞ্জে লিমন। তাদের বাসাও আমাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। একই ওয়ার্ডের চারজন এবং টাঙ্গাইলের মোট ১৬ জন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছি’- বলছিলেন রায়হান হাসান।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটবলার সিলেটের। তারা হলেন- মাসুক মিয়া জনি, মতিন মিয়া, সাদ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদ। কক্সবাজারের চারজন- আনিসুর রহমান জিকু, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সুশান্ত ত্রিপুরা। শহিদুল আলম সোহেল, মামুনুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান ফাহাদ চট্টগ্রামের। তপু বর্মন ও ইয়াসিন আরাফাত নারায়নগঞ্জের।

বরিশালের আছেন ইয়াসিন খান ও রাকিব হোসেন। ঢাকার সোহেল রানা ও পাপ্পু হোসেন, সিরাগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মো. আবদুল্লাহ, মানিকগঞ্জের আশরাফুল ইসলাম রানা, বগুড়ার নাবিব নেওয়াজ জীবন, জয়পুরহাটের টুটুল হোসেন বাদশা, মাগুরার রহমত মিয়া, কুমিল্লার আরিফুর রহমান, চাঁদপুরের রিয়াদুল হাসান রাফি, রাজশাহীর মানিক মোল্লা ও দিনাজপুরের ম্যাথিউজ বাবলু।

ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়ার জেলা ময়মনসিংহ ও ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজীর নওগাঁ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা: ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ স্থগিত

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অনেক জায়গায় ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ স্থগিত করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। একদিন পর বাছাইয়ের ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করলো বাংলাদেশও।

আগামী ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার কথা আফগানিস্তানের। ভারত-কাতারের ম্যাচটি স্থগিত হওয়ায় ইঙ্গিত মিলেছিল এই ম্যাচটিও স্থগিত হয়ে যাবে।

ফিফা-এএফসির নির্দেশনা আসার পর আজ সোমবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শুধু বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ-ই নয়, আগামী মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় সব ম্যাচই স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। ৩১ মার্চ কাতারে হওয়ার কথা অ্যাওয়ে ম্যাচ। বাতিল হতে পারে সেটিও।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে এএফসি থেকে নির্দেশনা এসেছে। তারা ম্যাচগুলো জুন পর্যন্ত স্থগিত করতে বলেছে। আমরা তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি। কাতারের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচও স্থগিত হতে পারে। ম্যাচগুলো কবে হবে, তা পরে জানিয়ে দেবে এএফসি।

(বাসস, ঘাটাইলডটকম)/-

কীভাবে যেন হারিয়ে গেল আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ

আবাহনী-মোহামেডানের লড়াই কীভাবে যেন হারিয়ে গেল এ দেশের মানুষের মানসপট থেকে! বাংলাদেশের ফুটবল নস্টালজিয়ায় ডুবে আছে বহু বছর ধরে। আহা, একসময় কী এক দ্বৈরথ ছিল দুই প্রধানের! আবাহনী-মোহামেডান লড়াই নিয়ে আজও চলে নিরন্তর নস্টালজিয়া। ফুটবলার, সংগঠকসহ এই অঙ্গনের সবাই অতীত স্মৃতি তুলে আনেন। একটা সময় দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেত গোটা দেশ। বিকেল ৫টায় খেলা হলে বেলা ১১টাতেই ভরে যেত স্টেডিয়াম। দুই দলের পতাকায় ছেয়ে যেত গোটা শহর, দুই দলের সমর্থন নিয়ে মারামারি ছিল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আজ তা কোথায় হারিয়ে গেল!

এর উত্তর সবারই জানা। লোকে বলে, এখন বিনোদনের এত উপকরণ হাতের কাছে। তাই আর আবাহনী-মোহামেডান টানে না। বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীরা ইউরোপের ফুটবল দেখেন নিয়মিত। কিন্তু কেন দেখেন? একটা উত্তর তৈরিই থাকে, ‘আরে ভাই, স্যাটেলাইটের যুগে যেখানে রিমোট টিপেই ইউরোপের শীর্ষ সব লিগের খেলা দেখা যায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসিরা যেখানে বাসার ড্রয়িংরুমের স্থায়ী বাসিন্দা, সেখানে কার এত দায় পড়েছে যানজট, জলজট আর গণপরিবহনের অপ্রতুলতার এই শহরে মাঠে গিয়ে আবাহনী-মোহামেডানের খেলা দেখবেন!

আগে স্যাটেলাইট টিভি ছিল না, ফুটবলপ্রেমীরা আধুনিক, উন্নত ফুটবল দেখার সুযোগ পেতেন কালেভদ্রে। নির্দিষ্ট করে বললে চার বছর পরপর বিশ্বকাপের সময়। তাই ভিড় জমাতেন আবাহনী-মোহামেডানের লড়াইয়ে, একটু রক্ত গরম করা বিনোদনের আশায়। একটু রোমাঞ্চিত হওয়ার আশায়। এখন রোমাঞ্চের তো অভাব নেই।’

কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন আসে, তাহলে কলকাতায় ফুটবল আজও এত দর্শকপ্রিয় কেন? কলকাতার ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান দ্বৈরথ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের কথা তো এখনো পত্রিকার পাতাজুড়ে আসে। স্যাটেলাইট টিভি কি কলকাতায় নেই? আছে, কিন্তু ওখানে ফুটবল সংস্কৃতিটা আজ অটুট। যেটি বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রায়ই বিশাল কলকাতা নগর মিশে যায় এক কেন্দ্রে। বলিউডের কোনো ছবি নিয়ে নয়, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো রাজনৈতিক মহাসমাবেশ নয়। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগানের ঐতিহ্যের লড়াই উদ্বেলিত করে কলকাতার নাগরিকদের। তাঁরা রোমাঞ্চিত হন, আত্মার আকর্ষণ বোধ করেন এই ম্যাচ ঘিরে।

সত্তর-আশি-নব্বইয়ের দশকে আবাহনী-মোহামেডান ‘ঢাকা ডার্বি’ আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত। এ দুই ক্লাবের লড়াই দুই ভাগ করে দিত গোটা দেশকে। মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় সারা দিন চলত উত্তেজনা। বাড়ির কর্তা বিকেলে আবাহনী-মোহামেডানের লড়াইয়ে ‘গন্ডগোল’ বাধতে পারে বলে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসতেন। ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শকের গগনবিদারী চিৎকার রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিত পুরো দেশে। ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া বাধত, বন্ধুতে বন্ধুতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যেত। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ছিল খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে একসময়। কিন্তু মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে সেই উত্তেজনা এখন শুধুই অতীতের গল্প।

যে দেশের মানুষ ফুটবল ভালোবাসে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, রিয়াল-বার্সা নিয়ে ভাগ হয়ে যায়, সেই দেশে আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ কেন উদ্বেলিত করে না? এর দায় ক্লাব দুটিকেও নিতে হবে। কারণ, দুটি ক্লাবই এখন উদাসীন। ঐতিহ্যের লড়াই তাদেরও আর নাড়া দেয় না। তাই গত দুই দশকে এ লড়াই কীভাবে আবেদন হারিয়েছে, সেই গবেষণার দুই প্রধানের উদাসীনতার বিষয়টিও আসবে। এ দুটি ক্লাবের কর্তাদেরই আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে ঐতিহ্য বা নস্টালজিয়া নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। দু–চারজন বাদে বাকিরা ম্যাচটা দেখতেও আসেন না। এমনকি কোনো কোনো কর্মকর্তা ম্যাচের খবর রাখেন বলেও মনে করা কঠিন। সমর্থকদের মাঠে আসার ডাক নেই ক্লাবের পক্ষ থেকে। চারপাশ কেমন যেন নীরব। আর দশটা দিনের মতো এই ম্যাচটাও নীরবে খেলে ক্লাবে ফিরতে চায় দুই ক্লাব।

সত্তর-আশি বা নব্বইয়ের দশকে যারা আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে উত্তেজিত হতেন, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে দলে টানার কোনো পরিকল্পনা কি আবাহনী-মোহামেডান নিয়েছে? নেয়নি, নিলে আজ এই খাঁ খাঁ অবস্থা হতো না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই ক্লাব কী নিজেদের বাজারজাত করেছে? করেনি।

বর্তমান সময়ে ক্লাব সংস্কৃতির মূল বিষয়ই হচ্ছে ক্লাবের জার্সি, মাফলার, চাবির রিংসহ নানা ধরনের পণ্যের বিপণন। ইউরোপের ক্লাবগুলোর এত দর্শকপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এই পণ্য বিপণন। কিন্তু বাংলাদেশে এর কোনো বালাই নেই। আবাহনী-মোহামেডান কখনোভাবেইনি এগুলো করা উচিত। প্রতিবছর একটা দল বানিয়ে খেলতে হবে বলেই যেন খেলা। এর বাইরে আর কিছু নেই। নিজেদের সাজিয়ে-গুছিয়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার কোনো ইচ্ছাই নেই দুই প্রধানেরই।

কর্মকর্তারা নতুন প্রজন্মকে আবাহনী-মোহামেডান চেনাননি। ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য যে উদ্যোগ নিতে হয়, সেটি তাঁদের মগজেই নেই। তাঁরা নিজেদের সমর্থকদের ওপর কোনো জরিপ চালিয়ে দেখেনি যে কেন আজ এত ভাটার টান। সামাজিক যোগাযোগের যুগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টুইটারে আবাহনী-মোহামেডানের কোনো কর্মকাণ্ড আপনার চোখে পড়ে? নিশ্চিত বলা যায়, ‘না’। নিদেনপক্ষে দুই প্রধানের অতীত লড়াইয়ের একটা ভিডিও কি আপনি পাবেন? এবারও উত্তর, ‘না’।

আজ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে আবাহনী-মোহামেডানের আরও একটি লড়াই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা সাড়ে ছটায়। আসুন না, আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ে আকর্ষণ বাঁচিয়ে রাখতে আমরা মাঠমুখী হই।

(প্রথমআলো, ঘাটাইলডটকম)/-

ময়মনসিংহকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল চ্যাম্পিয়ন

ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল দলকে (৪-০) গোলে হারিয়ে টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের প্লেট পর্বের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দল খেলার শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে। এর আগে ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অ্যায়ে প্রথম ম্যাচে ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল দলের কাছে ৩-২ গোলে টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল দল পরাজিত হয়েছিল। এ ম্যাচে টাঙ্গাইল জেলা দলের বড় ব্যবধানে জয়টা ছিল প্রত্যাশিত। খেলার ৪১ মিনিটের মাথায় টাঙ্গাইল দলটি কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায়। টাঙ্গাইল জেলা দলের স্টাইকার সৌরভ সংঘবদ্ধ আক্রমন থেকে বল পেয়ে দুরপাল্লার শটে ময়মনসিংহের জালে বল পাঠিয়ে দেয় । প্রথর্মাধে কোন পক্ষ আর গোল দিতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্র্ধের শুরু থেকে টাঙ্গাইল জেলা দল গোলের ব্যবধান বাড়ানোর জন্য আক্রমন করে খেলতে থাকে। খেলার ৫৪ ও ৮০ মিনিটের সময় মিশু শেখ ২টি গোল করে (৩-০) ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়।

এরপর খেলার শেষ দিকে ৮৭ মিনিটের মাথায় সৌরভ আবারো গোল করে (৪-০) গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।

খেলা শেষে টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম দেলোয়ার হোসেন মুকুল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ভ্রমন চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

খেলা পরিচালনায় প্রধান রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন শেখ ফরিদ, সহকারী রেফারী মামুন কাজী, হুমায়ন কবীর,আনিসুর রহমান।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

টাঙ্গাইল প্রথম বিভাগ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গল

ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের সহযোগিতায় ও টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ ২০১৯-২০ আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। এবারের এই লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব।

আজ লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পুলিশ একাদশ ও ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব। ম্যাচে পুলিশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলতে থাকে দু’দল। কিন্তু প্রথমার্থের ৪ মিনিটের মাথায় পুলিশ একাদশের জালে বল জড়ান ইস্ট বেঙ্গলের জাহিদ। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ছন্দ হারায় পুলিশ একাদশ। এলোমেলো ফুটবল খেলে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে যায় পুলিশ একাদশ। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গলের গোলরক্ষক রেজাউল করিম ভাগ্যের দক্ষতায় গোল পরিশোধে ব্যর্থ হয় তারা। ফলে গেল আসরের সুখস্মৃতি নিয়ে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গোলরক্ষক রেজাইল করিম ভাগ্য। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ইস্ট বেঙ্গলের স্বপন। তিনি ৫ গোল করেন।

চ্যাম্পিয়ন দল ইস্ট বেঙ্গল ট্রফি, মেডেল ও ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পায়। আর রানার্স-আপ পুলিশ একাদশ ট্রফি, মেডেল ও ২৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি পায়।

ম্যাচ শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. শাহ জাহান আনছারী, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুজ্জামান জামিল ও ওয়ালটন গ্রুপের ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মেহবার হোসেন আসিফসহ অন্যান্যরা।

টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে গেল বছরের ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। যেখানে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানের দলগুলো অংশ নেয়।

এই প্রতিযোগিতার অনলাইন পার্টনার ছিল দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি.কম।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ঢাকায় আসছেন ম্যারাডোনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আসছেন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি কবে নাগাদ এখানে আসবেন তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

বাফুফে সভাপতি জানিয়েছেন, মূলত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন ম্যারাডোনা। প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দিতে পারবেন, সেদিনই বাংলাদেশে আসবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মগ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। এর আগে ১০ জানুয়ারি থেকে মুজিববর্ষ উদযাপন কার্যক্রম শুরু হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু

টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের জেলা পর্যায়ের খেলা উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী খেলায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে কালিহাতী উপজেলা দল বিজয়ী হয়।

বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে কালিহাতী উপজেলা দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দল বিজয়ী হয়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

নাগরপুরে বিজয় দিবস ফুটবলে রাথুরা জনকল্যাণ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চুড়ান্ত ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার পাকুটিয়া বি সি আর জি ডিগ্রী কলেজ মাঠে মাঝুটিয়া নবজাগরণ স্পোর্টিং ক্লাব এ চুড়ান্ত ফুটবল খেলার আযোজন করে। খেলায় রাথুরা জনকল্যাণ ক্লাব ৩-২ গোলে পাছতাড়াইল উদয়ন ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এতে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন।

পাকুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাঝুটিয়া নবজাগরণ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো.হুমায়ুন কবীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম, ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল হোসেন মোল্লা, মোকনা ইউপি চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোকা, দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী, ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, পাকুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো.শামীম খান প্রমূখ।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

মেসিদের ঢাকা সফর অনিশ্চিত!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী নভেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসার কথা আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের। এ খবর জানার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে খুশির জোয়ার বইছিল। কিন্তু স্পন্সরদের অনীহা এবং ভেন্যু জটিলতার কারণে নভেম্বরের আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ের ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ, এমনটি জানিয়েছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফে।

তাছাড়া আর্জেন্টিনা তাদের সূচি থেকে ঢাকার ম্যাচ সরিয়ে পরের দিন ১৯ নভেম্বর ইসরাইলের তৃতীয় বৃহত্তর শহর হাইফাতে ম্যাচ খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে। ইতোমধ্যে এ ম্যাচটি তাদের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মেসিদের নভেম্বরের সিডিউলে।

আগের সূচি অনুযায়ী ঢাকায় আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৮ নভেম্বর। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও আর্জেন্টিনাকে ঢাকায় আনার আশা ছাড়ছে না বাফুফে।

সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, আমরা এখনো এই ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। খেলা যে ঢাকায় হবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলতে পারছি না। আরো কিছুদিন পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু জানাতে পারব।

এর আগে ২০১১ সালেও আর্জেন্টিনা দল এসেছিল ঢাকায়। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটা ম্যাচও খেলেছে তারা। ম্যাচটি আয়োজন করতে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল আয়োজকদের। এবার খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে সূত্র জানায়। খরচ আনুমানিক ৪০ কোটির ওপরে হতে পারে। তাই মেসিকে ছাড়া কোনোভাবে এই ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে না ঢাকায়।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

সখীপুর প্রেসক্লাব অনুর্ধ্ব-১৩ ফুটবল টুর্নামেন্টে সখীপুর স্পোর্টস একাডেমি চ্যাম্পিয়ন

টাঙ্গাইলের সখীপুর প্রেসক্লাব অনুর্ধ্ব-১৩ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় সখীপুর স্পোর্টস একাডেমি, দা‌ড়িয়াপুর ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনাল খেলায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শাকিল আনোয়ারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. জোয়াহেরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। খেলাটি পৌরমেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ উদ্বোধন করেন।

এসময় এলজিইডির সহকারী সচিব আমিন শরিফ সুপন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহম্মেদ, ইউএনও মো. আমিনুর রহমান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতেলর সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহনাজ বেগম, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম, ওসি আমির হোসেন, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শওকত সিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

“সুস্থ দেহ সুস্থ মন গড়ে তোল ক্রীড়া আন্দোলন” এ স্লোগান নিয়ে গত ৮ অক্টোবর টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়। উপজেলার আটটি ফুটবল দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-