জাতীয় দলের ফুটবল ক্যাম্পে টাঙ্গাইলের ৬ তরুণ

এক সময় জাতীয় দলে প্রাধান্য ছিল নারায়নগঞ্জের ফুটবলারদের। এরপরই চট্টগ্রাম ও খুলনার ফুটবলার বেশি থাকতেন। আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আর মোনেম মুন্নাদের জেলা নারায়নগঞ্জের সেই দাপাট আর নেই। এখন ফুটবলে উঠে আসছে টাঙ্গাইলের তরুণরা।

একদিন আগে কোচ জেমি ডে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের বাকি চার ম্যাচের জন্য ৩৬ জনের যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন সেখানে সর্বাধিক ৬ ফুটবলার আছেন টাঙ্গাইলের।

আগে থেকেই ছিলেন রায়হান হাসান, বিশ্বনাথ ঘোষ, রবিউল হাসান, মনজুরুর রহমান মানিক। এখন যোগ হয়েছেন দুই নতুন মুখ নাজমুল ইসলাম রাসেল ও সুমন রেজা।

ফুটবলের জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ৬ জন জায়গা করে নিয়ে পুরোপুরি ‘ছক্কা’ মেরে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ছেলেরা।

এক সময় রাজত্ব করা নারায়নগঞ্জের তপু বর্মন আর তরুন ইয়াসিন আরাফাত জেলার নাম টিকিয়ে রেখেছেন তালিকায়।

টাঙ্গাইলের ফুটবল ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। কলকাতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব পর্যন্ত এক সময় খেলে গেছে এই জেলায় এসে। এই জেলার ফুটবলার শহিদুল ইসলাম রঞ্জন, পিযুষ নন্দী, জাহিদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম উত্তম, মামুন মিয়া ও গোবিন্দরা ভিন্ন ভিন্ন সময় জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

কখনো এক জেলার এত সংখ্যক ফুটবলার একসঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি।

দেশের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকারের জেলা টাঙ্গাইল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতি রোমান্থন করে তিনি বললেন, ‘আগে কখনো এক সঙ্গে টাঙ্গাইলের এত ফুটবলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাননি। ৩৬ জনের মধ্যে ৬জন এই জেলার। এটা অবশ্যই ভালো একটা দিক।’

অন্যদিকে হতাশার সুর সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর কণ্ঠে। কারণ, এক সময় তার জেলা নারায়নগঞ্জের ফুটবলাররাই ডমিনেট করতো ঢাকা লিগ ও জাতীয় দলে।

‘স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের জেলার ফুটবলারদেরই প্রাধান্য ছিল।

মোনেম মুন্না, জাকির, গাউস, স্বপনরা তো এক সাথে আবাহনী ও জাতীয় দলে খেলেছেন। পরবর্তীতে সুজন-ওয়ালি ফয়সালরাও খেলেছেন। কিন্তু অর্ধযুগ আগে থেকে ফুটবলে আমাদের জেলার প্রাধান্য হারাতে শুরু করেছে। বর্তমান ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন মাত্র দুইজন’- বলছিলেন চুন্নু।

রায়হান হাসানের জাতীয় দলে অভিষেক ৯ বছর আগে। মাঝে কিছুদিন ছাড়া বলতে গেলে নিয়মিতই খেলেছেন টাঙ্গাইলের এ যুবক। টাঙ্গাইল শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রায়হান আর বিশ্বনাথের বাসা।

‘আমি আর বিশ্বনাথ তো জাতীয় দলের ক্যম্পে আছি। মোহামেডানে খেলে অনিক ঘোষ ও রহমতগঞ্জে লিমন। তাদের বাসাও আমাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। একই ওয়ার্ডের চারজন এবং টাঙ্গাইলের মোট ১৬ জন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছি’- বলছিলেন রায়হান হাসান।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ ফুটবলার সিলেটের। তারা হলেন- মাসুক মিয়া জনি, মতিন মিয়া, সাদ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদ। কক্সবাজারের চারজন- আনিসুর রহমান জিকু, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সুশান্ত ত্রিপুরা। শহিদুল আলম সোহেল, মামুনুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান ফাহাদ চট্টগ্রামের। তপু বর্মন ও ইয়াসিন আরাফাত নারায়নগঞ্জের।

বরিশালের আছেন ইয়াসিন খান ও রাকিব হোসেন। ঢাকার সোহেল রানা ও পাপ্পু হোসেন, সিরাগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও মো. আবদুল্লাহ, মানিকগঞ্জের আশরাফুল ইসলাম রানা, বগুড়ার নাবিব নেওয়াজ জীবন, জয়পুরহাটের টুটুল হোসেন বাদশা, মাগুরার রহমত মিয়া, কুমিল্লার আরিফুর রহমান, চাঁদপুরের রিয়াদুল হাসান রাফি, রাজশাহীর মানিক মোল্লা ও দিনাজপুরের ম্যাথিউজ বাবলু।

ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়ার জেলা ময়মনসিংহ ও ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক রায়হান কাজীর নওগাঁ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা আক্রান্ত সাকিবের বাবা-মা

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বাবা মাশরুর রেজার পর এবার তার মা শিরিন রেজা (৫০) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তার শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, শিরিন রেজা বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সুস্থ আছেন।

মাগুরা সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা জানান, গত ১৯ জুলাই সাকিবের বাবা করোনা আক্রান্ত হলে গত ২০ জুলাই তার মা শিরিন রেজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজ সেই ফলাফলে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

সাকিব আল হাসান বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভাইসহ মাশরাফি করোনামুক্ত, স্ত্রী এখনো পজিটিভ

মাত্র ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে তামিম ইকবালের বড় ভাই সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল এবং বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর সঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাশরাফি।

নিজের সংসদীয় এলাকা নড়াইল-২ এ করোনাভাইরাসকালীন জনদুর্ভোগে ব্যাপক কাজ করে আক্রান্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

গত ২০ জুন মাশরাফির নমুনা পরীক্ষায় কভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনদিন পর ছোট ভাই মোরসালিন মোর্তজা এবং ৫ দিন পর মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হকের দেহে কভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্য কভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ায় এই পরিবারকে ঘিরে ছিল উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতির মুখে সন্তানদের নড়াইলে পাঠিয়ে দিয়ে ঘরে আইসোলেশনে ছিলেন মাশরাফি।

তবে মাসহ নাফিস ইকবাল, এবং বাবা-মাসহ নাজমুল ইসলাম অপু দ্বিতীয় পরীক্ষায় কভিড-১৯ নেগেটিভ আসলেও মাশরাফি পরিবারকে ঘিরে ছিল উৎকণ্ঠা।

মিরপুরে নিজের বাসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা মাশরাফি ১০ দিন পর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায়ও কভিড-১৯ পজিটিভ আসলে স্ত্রী এবং ভাই-এর সঙ্গে পরবর্তী পরীক্ষা ১৪ দিন পর করেছেন। গত রোববারের সেই পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে মঙ্গলবার। তৃতীয়বারের পরীক্ষায় মাশরাফি কভিড-১৯ নেগেটিভ হয়েছেন।

ভাই মোরসালিন মোর্তজার রিপোর্টেও কভিড-১৯ এসেছে।

তবে স্ত্রী সুমনা হক সুমির রিপোর্টে সুসংবাদ আসেনি। এবারও তার রিপোর্টের ফল এসেছে পজিটিভ।

মাশরাফি নিজেই তার ফেসবুক পেজে দিয়েছেন এ খবর। স্ত্রীর জন্য চেয়েছেন দোয়া।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলে:

‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের সবার দোয়ায় আমার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফল এসেছে নেগেটিভ। আজকে রাতেই ফল জানতে পেরেছি।

এই পুরো সময়টায় যারা পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন ও নানা ভাবে খোঁজ নিয়েছেন বা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

শনাক্ত হওয়ার পর দুই সপ্তাহের বেশি পেরিয়ে গেলেও আমার স্ত্রীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল এখনও পজিটিভ। তবে সবার দোয়ায় সে ভালো আছে। তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।

বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েই আমি সেরে উঠেছি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, সবাই সাহস রাখবেন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবেন। নিয়ম মেনে চলবেন। সবাই নিরাপদে থাকবেন, ভালো থাকবেন।

একসঙ্গে থেকে করোনাভাইরাসের সঙ্গে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ সবার সহায় হোন।’

(দ্য রিপোর্ট, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাগবি নিয়ে টাঙ্গাইলের এমপি টিটুর কন্যা আলিশার স্বপ্ন

বাবা টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য। মা থাইল্যান্ডের মানুষ। এই দম্পতির কন্যা আলিশা ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে এখন বাংলাদেশ নারী রাগবি দলের অধিনায়ক।

নব্বইয়ের দশকের মাঝপথে থাইল্যান্ডে পড়তে যান বাংলাদেশের এক তরুণ। সেখানে অ্যাজাম্পসন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ার সময় পরিচয় থাই তরুণী আইরা সোয়াইংসআরাসামের সঙ্গে। অতঃপর প্রণয় ও বিয়ে।

বিদেশে পড়তে গিয়ে কাউকে ভালো লাগা, বিয়ে—এমন তো কতই হয়। তা খেলার সঙ্গে এই গল্পের সম্পর্ক কী?

সম্পর্ক হলো, এই আসহানুল ইসলাম-আরিয়া ইসলাম দম্পতির তিন সন্তানের একজন আজ বাংলাদেশের জাতীয় নারী রাগবি দলের অধিনায়ক।

খেলাটা বাংলাদেশে নতুন হতে পারে, তবে একটি খেলার জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়াটা বড় অর্জন তো বটেই। আলিশা ইসলাম তাই নিজেকে গর্বিত ভাবেন।

আলিশার জন্ম ১৯৯৮ সালে, ব্যাংককে। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় বোনের পর আলিশা, এরপর ছোট ভাই।

আলিশা শুধু বাংলাদেশ নারী রাগবি দলেরই অধিনায়ক নন, লেবেল ওয়ান কোচিং কোর্স করে বাংলাদেশ রাগবির ডেভেলপমেন্ট অফিসারও।

বাবা আহসানুল ইসলাম বর্তমানে টাঙ্গাইল-৬ আসনের এমপি। দাদা সাবেক এমপি হাজি মকবুল হোসেন। গত রোজার ঈদের দিন করোনায় দাদাকে হারিয়ে আলিশা এখনো বেদনাহত। তিনি বলেন, ‘দাদা খুব ভালোবাসতেন আমাকে। তিনি এভাবে চলে যাবেন, ভাবিনি।’

বাংলাদেশের প্রথম নারী রাগবি দলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন, আলিশার ভাবনার বাইরে ছিল সেটিও।

রাগবির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটি ফিলাডেলফিয়ায় বিবিএ পড়ার সময়। রাগবির দেশে গিয়ে রাগবির প্রেমে পড়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় দলে নিয়মিত খেলেন। ২০১২-১৪ ব্যাংকক পাতানা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ার সময় ফুটবল, বাস্কেটবল ও টেনিস খেলতেন। কারাতে আর কিক বক্সিংও করেন।

জন্ম থাইল্যান্ডে হলেও আলিশার প্রাথমিক পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশেই। বিদেশে অনেক বছর কাটিয়েও তাই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা গভীরই আছে।

তবে একটা সময় পর্যন্ত আলিশা জানতেনই না যে বাংলাদেশেও রাগবি খেলা হয়।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করি ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরেও জানতাম না বাংলাদেশে রাগবি খেলা হয়। একদিন পত্রিকার দেখলাম রাগবির একটি টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এটায় খেলা হয়নি। তবে পয়লা বৈশাখের একটা টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলা হয়েছে।’

দেশে এখন পর্যন্ত দুটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলেছেন আলিশা। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নারী রাগবিতে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। তবে ফাইনালে আলিশার দল টাঙ্গাইল ঠাকুরগাঁয়ের কাছে ৫-১০ পয়েন্টে হেরে যায়।

টুর্নামেন্টে ১৬টি দলের অংশগ্রহণ দেখে উচ্ছ্বসিত আলিশা বলছিলেন, ‘মেয়েরা ওই টুর্নামেন্টে ২০০ ভাগ দিয়েছে মাঠে। আমার উৎসাহ অনেক বেড়েছে। জানতাম না বাংলাদেশে এত বড় রাগবি পরিবার আছে। টাকা নেই, তবে সবাই খেলাটা খুব ভালোবাসে।’

সেই ভালোবাসার কল্যাণেই আলিশা আসার পর গত বছর বাংলাদেশ জাতীয় নারী রাগবি দল গঠিত হয়। রংপুরের ক্যাম্পে অংশ নেন আলিশাও। গত আগস্টে দলটি ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেয় (এশিয়ান কোয়ালিফাইং রাউন্ড, সেভেন ‘এ’ সাইড )। চীনা তাইপের সঙ্গে ম্যাচে ১০-১০ পয়েন্টে ড্র আর বাকি তিনটিতে হার।

তবে ফল নয়, খেলাটাই সেখানে বড় ছিল বাংলাদেশের রাগবি–কন্যাদের জন্য।

রাগবি ১৫-‘এ’ সাইড জাতীয় দল এখনো হয়নি বাংলাদেশে। সেভেন ‘এ’ সাইড অনেকটা ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির মতো। ৭ মিনিট করে দুই অর্ধ। ১৫-‘এ’ সাইড ৮০ মিনিটের খেলা। আলিশার বেশি ভালো লাগে সেভেন ‘এ’ সাইড।

কিন্তু তিনি তো চাইলে থাইল্যান্ডের হয়েও খেলার চেষ্টা করতে পারতেন! সেটি করেননি কেন?

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে রাগবির প্রসার আছে, ভবিষ্যৎ অনেক ভালো।

২২ বছর বয়সী তরুণী আলিশা কিছুটা অনভ্যস্ত বাংলায় বলছিলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলে বাবা বলেন, ঢাকায় রাগবি ফেডারেশন আছে। চাইলে এখানে খেলতে পারো। এভাবেই যোগাযোগ হলো।’

যুক্তরাষ্ট্রে রাগবি খেলাটা দৈনিক তিন বেলা খাবারের মতো। ওখানে খেলেই রাগবির ভিতটা শক্ত হয়েছে আলিশার। দেশে এসে তাই অন্য খেলোয়াড়দের ভিড়ে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছেন ব্যতিক্রম হিসেবে।

রাগবি বাদে তাঁর প্রিয় খেলা ফুটবল ও টেনিস। এর বাইরে গিটার বাজান, ছবি তোলেন। পড়তে বেশি ভালো লাগে মনোবিজ্ঞানের বই।

বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী বলছিলেন, ‘ওকে দেখে অনেক মেয়ে আসছে রাগবিতে। একজন সংসদ সদস্যের মেয়ে রাগবি খেলছে, এটা বিরাট ব্যাপার।’

সব এক পাশে রেখে আলিশার এখন একটাই প্রার্থনা, করোনার দুঃস্বপ্ন দ্রুত শেষ হোক। তাহলেই আবার ফিরতে পারবেন মাঠে। সে কথা ভেবে এখনই রোমাঞ্চিত আলিশার কণ্ঠ, ‘ইনশা আল্লাহ আগামী বছর আবার আমরা বিদেশে রাগবি খেলতে যাব।’

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা পজিটিভ মাশরাফি

বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে দেয়া তার টেস্টের রিপোর্টে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তার আত্মীয়স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানিয়েছেন , শুক্রবার থেকেই মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার জ্বর ছিল।

তবে তার ভাই মুরসালিন বিন মোর্ত্তজা জানিয়েছেন, জ্বর ছাড়া তার আর কোন উপসর্গ নেই। মাশরাফি এখন ঢাকায় নিজ বাসাতেই আইসোলেশনে আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়।

তার আত্মীয়স্বজনরা জানিয়েছেন, এর আগে মাশরাফির শাশুড়ী এবং শালীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল।

সম্প্রতি তিনি দু’বার তার নিজ শহর নড়াইলে গিয়েছিলেন বলেও জানানো হয়।

নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা দেশে করোনা বিপর্যয়ের শুরু থেকেই নড়াইল ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য কাজ করছেন। শুরুর দিকে দুইবার নিজ সংসদীয় এলাকায় গিয়েছেন। অসহায় মানুষেদের জন্য নিশ্চিত করেছেন ত্রাণ।

দ্বিতীয়বার নড়াইল থেকে এসে কোয়ারেন্টিনেও ছিলেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকদিন ধরে বাসাতেই আছে। তবে গত তিন-চার দিন সামান্য সর্দি-জ্বরে ভুগছিলেন বলে জানান মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার ছোট ভাই মোরসালিন মোর্ত্তজা।

এর আগে গত কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হক সুমির মা ও বড় বোন। তাদের নড়াইল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা আক্রান্ত পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি

পাকিস্তানের সাবেক ক্যাপ্টেন শহীদ আফ্রিদি বলছেন, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

টুইটারে এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার থেকে আমার শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। শরীরে ব্যথা শুরু হয়েছে। আমার টেস্ট হয়েছে। এবং দু:খজনক হলো আমি পরীক্ষায় আমার করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। আমার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করবেন, ইনশা আল্লাহ।”

পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মধ্যে শহীদ আফ্রিদি দ্বিতীয় যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এর আগে তৌফিক উমরও করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে কিছুদিন আগে তিনি জানিয়েছেন তিনি সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেছেন।

এর মধ্যে পাকিস্তানে লেগ স্পিনার রিয়াজ শেখসহ অন্তত দু’জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ক্রিকেটের পিচে শহীদ আফ্রিদির পদচারণ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। তিনি এ পর্যন্ত ২৭টি টেস্ট, ৩৯৮ ওডিআই এবং ৯৯টি টি-২০ খেলেছেন। তিনি ২০১১ সালে ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপে পাকিস্তান দলে নেতৃত্ব দেন।

কিছু দিন আগে শহীদ আফ্রিদি ২০ হাজার ডলার দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের একটি ব্যাট কিনে নেন। দরিদ্রদের জন্য তহবিল তৈরির লক্ষ্যে তার একটি ঐতিহাসিক ব্যাট নিলামে তুলেছিলেন মুশফিক।

করোনাভাইরাসে কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে যাওয়া মানুষের সহায়তায় তহবিল তৈরির চেষ্টা করছিলেন তিনি।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

বলে থুতু মাখানো নিষিদ্ধ করলো আইসিসি

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই মাঠে গড়াবে বল। এজন্য মানতে হচ্ছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিধি নিষেধ। আইসিসির পক্ষ থেকে আপদকালীন খেলায় পরিবর্তন আনা হয়েছে কিছু নিয়মে। ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হবে। অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে ক্রিকেটে এই নিয়মগুলি পরিবর্তিত হচ্ছে।

বলের পালিশ ধরে রাখতে লালার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা:

বলের পালিশ ধরে রাখতে লালা বা থুতুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধে হবে তাই বলে কেউ থুতু বা লালা ব্যবহার করলে আম্পায়াররা ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে সতর্ক করা হবে সংশ্লিষ্ট দলকে। ইনিংস প্রতি দুবার সতর্ক করার পরেও একই জিনিস করলে ব্যাটিং দল পাঁচ রান পেনাল্টি পাবে।

কোভিড-১৯ হলে খেলোয়াড় পরিবর্তন:

কনকাশন সাবস্টিটিউট-এর মতোই টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটারের কোভিড-১৯ উপসর্গ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার সমকক্ষ কোনও ক্রিকেটারকে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামাতে পারবে ওই দল। টেস্টে এই পরিবর্ত ব্যবহার করা গেলেও টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ান ক্রিকেটে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

নিরপেক্ষ আম্পায়ার নয়:

বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিচার করে নিরপেক্ষ ম্যাচ অফিসিয়াল কয়েকদিনের জন্য আপাতত বন্ধ রাখতে চলেছে। পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশের আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের সঙ্গে অন্যান্য ম্যাচ অফিসিয়ালসরা থাকবেন।

অতিরিক্ত ডিআরএস ব্যবহার :

স্থানীয় ম্যাচ অফিসিয়ালস দিয়ে যেহেতু ম্যাচ পরিচালনা করা হবে তাই ডিশিয়ন রিভিউ সিস্টেমের পরিমান বাড়ানো হচ্ছে। আগে যেখানে টেস্টে ইনিংস প্রতি দুটো করে ডিআরএস ব্যবহার করতে পারত এখন তা ইনিংস প্রতি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে তিন। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে ডিআরএস দুটো করেই থাকছে।

অতিরিক্ত লোগোর ব্যবহার:

আগামী এক বছরের জন্য আইসিসি-র চিফ এক্সিকিউটিভ কমিটি লোগো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে জমজমাট ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব

“আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি, তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগণ জুড়ি।” নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃত বেগম সুফিয়া কামালের এই কবিতায় সেকাল এবং একালের শিশুদের তফাতের কথা উঠে এসেছে। কবিতায় বলা ওই তফাৎ যেন হারিয়ে গেছে।

সেকালের শিশুদের আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর খেলায়, একালের শিশুরাও মেতে উঠেছে। শিশুদের সঙ্গে বিভিন্ন বয়সীরাও সামিল হয়েছেন এ খেলায়। করোনাকালের একঘেয়েমি বন্দি সময় কাটাতে আর অন্য রকম ঈদ পালনে খেলাটি উপভোগ্য করে তুলতে তাই আয়োজন  করা হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব।

সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মধুপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড পুণ্ডুরা গ্রামে রঙিন ঘুড়ি ওড়ানোর জমজমাট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পুণ্ডুরা গ্রামের অধিবাসী বজলুর রশীদ খানের একক চেষ্টায় জাঁকজমক আয়োজনে মধুপুরের বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক নানা বয়সী মানুষ ঘুড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

গোপালপুর স্মৃতি ভিএম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, মধুপুর আদর্শ ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক শামসুল আলম, ভাইঘাট আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আসলাম হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক, সাবেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হেকমত আলী, মধুপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম প্রতিযোগিতায় বিচারের দায়িত্বে ছিলেন।

ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় মধুপুরের শামীম, শাকিল ও মোটেরবাজারের লোকমান যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ এ আয়োজনকে আগামীতে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তারা উল্লেখ করেন, অনুমান করা হয় প্রায় ২ হাজার৮০০ বছর পূর্বে চীন দেশে সর্বপ্রথম ঘুড়ির উৎপত্তি। পরবর্তীকালে এটি এশিযার অন্যান্য দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জাপান এবং কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়াও, ইউরোপে ঘুড়ি খেলাটির প্রচলন ঘটে প্রায় ষোলশ বছর পূর্বে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পুরনো ঢাকায পৌষ মাসের শেষ দিন, অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব পালিত হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মা পূজার দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা রয়েছে বলে জানানো হয়।

তারা বলেন, সুফিয়া কামালের কবিতার মতো আজকের শহুরে শিশুরা কলের জাহাজ চালায় না ঠিকই তবে আগের মতো ঘুড়িও খুব একটা উড়ায় যে তাও না। এক সময় এদেশের ছেলেপুলেরা প্রচুর ঘুড়ি উড়াতো । শরৎ, হেমন্তে বিকেলের আকাশ ছেয়ে যেত ঘুড়িতে। আকাশ জুড়ে উড়ে বেড়াত নানা রঙের ঘুড়ি। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনী এ রকম কত রঙের ঘুড়িতে আকাশ ছেয়ে যেত!

দেখে মনে হতো, নানান রঙের মেলা বসেছে আকাশ জুড়ে। কোনো ঘুড়ি কাটা গেলে মনে হতো রঙের মেলা থেকে যেন একটি রঙ খসে পড়ল। খসে পড়া রঙটি ভেসে ভেসে দূর থেকে বহু দূরে চলে যেত। তারই খণ্ডচিত্র আজ দেখা গেল। গ্রাম কি শহর কোথাও এখন ঘুড়ি ওড়ানো খেলা খুব একটা দেখা যায় না। শিশুরা এখন খাঁচায় বন্দী ।

ঘরে বসে শহুরে শিশুরা শুধু কম্পিউটারে কিংবা ভিডিও গেইম খেলে। যারা মাঠে যায় তারা ফুটবল বা ক্রিকেট খেলে। গ্রামীণ শিশুদের মধ্যেও ক্রিকেট খেলায় ঝোঁক বেশি । ঘুড়ি ওড়ানো খেলা একেবারে হারিয় গেছে বলা যাবে না। ঘুড়ি উড়ানো খেলা কম হলেও এখনো টিকে আছে। মধুপুরে ঈদের দিনে এমন আয়োজন সে কথাই জানান দিচ্ছে।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নিলামে ১৭ লাখ টাকায় মুশফিকের ব্যাট কিনলেন আফ্রিদি

অবশেষে বিক্রি হলো মুশফিকুর রহিমের নিলামে তোলা ব্যাটটি। ক্রেতা কোনো সাধারণ ব্যক্তি কিংবা ভক্ত নন। ব্যাটটি কিনেছেন কিংবদন্তী পাকিস্তানি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির ফাউন্ডেশন।

নিলামে ২০ হাজার ইউএস ডলারে (প্রায় ১৭ লাখ টাকায়) ব্যাটটি কিনে নেয় তারা। প্রাপ্ত পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে করোনা যুদ্ধে।

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের ব্যাটটি নিলামে তোলে নিবকো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস ফর লাইভ। তারা ই-কমার্সভিত্তিক সাইট পিকাবো ডটকমের সঙ্গে চুক্তি করে। যেখানে গত ৯ মে রাতে ব্যাটটি নিলামে তোলা হয়।

গত বুধবার নিবকো এবং পিকাবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাটটির নিলাম প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৩টি বিড হয়েছে যেখানে ব্যাটটির মূল্য সর্বোচ্চ ৪১ লাখ পর্যন্ত উঠেছে। 

নিবকোর এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এই দাম অস্বাভাবিক। আমরা দেখেছি, কিছু বিডার কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে নিলামকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আমরা প্রতিবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে বলে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ কেউ একবারেই ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম তুলেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এটা প্রকৃত বিডারদের নিরুৎসাহিত করবে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত আগ্রহী পাওয়া গেল। প্রায় ১৭ লাখ টাকা আসছে ব্যাটটি বিক্রি থেকে। যার পুরোটাই খবর করা হবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য।

পিকাবোর প্রধান নির্বাহী মনির তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সঠিক বায়ার পেয়ে গেছেন। আর এটি হলো- শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন।

(সময়, ঘাটাইল ডট কম)/-

৪ মাস বেতন না দেয়ায় সাকিবের ফার্মে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

চার মাস ধরে বেতন পান না ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন ফার্মের শ্রমিকরা। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে খাবার না থাকায় বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।

সাকিবের মালিকানাধীন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামে কাঁকড়া হ্যাচারির শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরায় কাঁকড়া হ্যাচারির সামনে রাস্তার উপর দুই শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন।

তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে বিক্ষোভ করায় র‌্যাবের একটি টহল টিম ও শ্যামনগর থানা ওসি শ্রমিকদের হটিয়ে দেন।

সাকিব আল হাসানের হ্যাচারির শ্রমিক মহিদুল ইসলাম জানান, গত চার মাস যাবত তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয় না। করোনা প্রাদুর্ভাবে কঠিন অবস্থায় তারা দিন কাটাচ্ছেন। বাড়িতে তাদের খাবার নেই।

নারী শ্রমিক মনোয়ারা জানান, অসহায় হয়েই সাকিবের কাঁকড়া ফার্মে কাজ করি। কিন্তু গত ৪ মাস বেতন পাই না। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে খাবার নেই। না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা।

শ্রমিক রহিমা বেগম জানান, অভাবের তাড়নায় তার হ্যাচারিতে কাজ করি। অথচ তাদের ঠিকমতো বেতন না দেওয়ায় খুবই কষ্টে আছি।

স্থানীয় বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ফার্ম কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কাঁকড়া ফার্ম প্রজেক্টের তত্বাবধায়ক সগীর হোসেন পাভেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি।

শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা জানান, বিক্ষোভের খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করা হয় করা হয়।

(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-