টাঙ্গাইলে করোনায় প্রাণ গেল সিনিয়র নার্স মোর্শেদার

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদার (৫৩) মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমান।

ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১০ দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন টাঙ্গাইল হাসপাতালের নার্স মোর্শেদা। এরপর তার দেখা দেয় হৃদরোগের সমস্যা। এ কারণে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (০১ আগস্ট) সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী ও টাঙ্গাইল পৌর শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের দিনে বিদায় নিলেন ঘাটাইলের একজন আদর্শ শিক্ষক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সকলের প্রিয় আদর্শ শিক্ষক এ কে এম শামসুজ্জামান স্যার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহার দিন দুপুরে তিনি ঢাকার বাসভবনে বাধ্যর্কজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ দুই যুগে বিদ্যালয়টিকে একটি সত্যিকারের গুরুসদন হিসাবে গড়ে তোলার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তিন পুত্র ও তিন কন্যা সহ অসংখ্য ছাত্র ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার প্রথম জানাযা নামাজ শনিবার বিকালে ঢাকায়, দ্বিতীয় জানাযা নামাজ বাদ এশা তার প্রিয় বিদ্যালয় সংলগ্ন ঘাটাইল সদর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

তার তৃতীয় জানাযা নামাজ ২ আগষ্ট রোববার সকাল ১০ টায় টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

পরে তাকে টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, ঘাটাইল প্রেসক্লাব, বংশাই সাহিত্য সংসদ. মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কম তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে পুকুরে ডুবে নববধুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুকুরে ডুবে নববধুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রোববার (২ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল তার লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সফিকুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পেচারআটা সাত্তার বাইদ গ্রামে দুপুরে পুকুরে গোসল করতে নামে ইদ্রিস আলীর নববধু রিপা আক্তার (১৯)।

পরে সে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়।

এ সংবাদ পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল পুকুরে নেমে পানির নীচ থেকে মৃতদেহ রিপা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিপার তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছিল বলে জানা যায়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে শতাধিক পরিবারের ঈদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যার কারণে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের ঈদ কাটল বংশাই নদীতে নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানিতে নিমজ্জিত বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর দুর্ভোগ কমেনি। খেয়ে না-খেয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগরপাড়া) বন্যার পানিতে অধিকাংশ বাড়িঘর নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতে ওই পাড়ার অন্তত শতাধিক পরিবার বংশাই নদীর ওপর নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নিয়েছে।

আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ ওখানে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছে। কখনো রোদে পুড়ছে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।

সরেজমিন ওই এলাকার মানুষগুলোর দুর্ভোগের কথা জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশাই নদীর পাশে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। যাদের অধিকাংশেরই পেশা ছাতা, গ্যাসলাইটার মেরামত, ফেরি করে কাচের জিনিস, ক্ষুদ্র কসমেটিক্স বিক্রি ও মুদি দোকান করা।

অনেকেই আবার অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা মূলত বেদে সম্প্রদায়ের বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

ওই এলাকার বাবলী জানান, বন্যার পানিতে ঘর ডুবে যাওয়ার পর তিনি স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে প্রায় ১২ দিন আগে আশ্রয় নেন একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর।

বাবলীর স্বামী আসাদ গ্যাসলাইটার ও ছাতা মেরামত করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য কয়েক মাস ধরে তেমন কাজ নেই। তার ওপর বন্যা। বাড়ি ছেড়ে সেতুর ওপর ঠাঁই নেওয়ার পর কোনোরকমে সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না–খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মাহাবুব মিয়া (৩২) জানান, তিনি ফেরি করে গ্যাসলাইটের কাজ করেন। বন্যার কারণে কোথাও যেতে পারেননি।

শাহানা আক্তার (৫৫) জানান, তিনি ব্রিজের কাছে ছোট একটি দোকান করেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

দুই পা হারা পাভুজ আলী (৭০) জানান, তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই ভিক্ষা করেন। বন্যার কারণে কোথাও যেতে পারেন না।

রোকসানা (৪৫) জানান। তিনি একজন গৃহিণী হলেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। করোনার জন্য কেউ কাজে নিচ্ছে না। তার মধ্যে আবার বন্যা। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে বলে জানান।

পা হারা জিহাদ মিয়া (১৪) জানায়, সে চকির ওপর বসে পেয়ারা বিক্রি করছেন। এতে সে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা উপার্জন করছে বলে জানায়।

তারা জানান, ঘর ছেড়ে আসার পর দিনে দুবেলা খান তারা। ঈদের দিনও তিন বেলা খেতে পারেননি। অনেকেই আলুভর্তা ভাত খেয়েছেন।

এছাড়া সেতুতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো শিশু সন্তানদের নিয়ে ‍দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

সেতুটির ওপরে দুই পাশে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় শতাধিক ছোট ছোট পৃথক ছাউনি রয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়স্থলে ছোট ছোট শিশুরা খেলা করছে। অনেক শিশু চৌকিতে ঘুমাচ্ছে। বড়দের অনেকে ক্লান্ত শরীরে গবাদিপশুর সঙ্গে একই ছাউনিতে ঘুমাচ্ছেন।

বৃদ্ধ সোনাভানু বলেন, ১২ দিন ধইরা এনে আইছি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটাইতাছি। একবার একজনে আয়্যা কয়ডা চ্যাল দিল। তারপর আর কেউ খবর নিল না। কাম নাই। ভালো খাওন নাই। খালি ঘুম আর ঘুম। খালি প্যাটে তো ঘুমও আহে না। গরু-ছাগল নিয়ে সেতুটিতে আশ্রয় নিয়েছেন ছমন মিয়া। তিনি সেই গবাদিপশুর সঙ্গে একই পলিথিনের ছাউনিতে ঘুমাচ্ছিলেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, সেতুর ওপর আশ্রয় নেওয়া লোকদের সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মওলানা ভাসানী ও তাঁর ঈদ

নামাজ হইতে আসিয়া হুজুর কোরবাণীর হুকুম দিলেন। ময়মনসিংহের সৈয়দ শরফুদ্দীন হাবীব একটি গরু পাঠাইয়াছিলেন। মুরিদদের কেউ কেউ খাসী দিয়াছিলেন। সব জবেহ হইল।

হুজুর কাহাকেও গোশত দেন না। পাক করাইয়া একসাথে সবাইকে খাওয়াইয়া দেন।

পাকের মশলার অভাবে অনেক গরীব গোশত বিক্রয় করিয়া দেয়। অথবা কোন রকম সিদ্ধ করিয়া খায়। তাই হুজুর খিচুড়ী ও গোশত খাওয়ান।

হুজুরের বাড়িতে একটা কুকুর থাকিত। এক টুকরা ভাল গোশত কুকুরটাকে নিজেই খাইতে দিলেন। বলিলেন, নাড়ি-ভুড়ি তো খাবেই। কিন্তু কোরবানীর গোশতের হিস্যা হিসাবে এইটা।

দুপুরে হাজার হাজার লোকের জমায়েত হইল। সবার হাতে কলাপাতা।

দশের হাতে শীগগীর পাকও হইয়া গেল। গরু খাসী যাহা পাক হইল সবই খাওয়ানো হইল।

আমরাও কিছু খাইতে পাইলাম বটে। রাত্রে অবিশ্বাস্য হইলে সত্য- হুজুর ও আমরা ডাল ভর্তায় ভাত খাইলাম।

খাইতে বসিয়া হুজুর বলিলেন, একটা ভুল হইয়া গেল রে। বাবুর মার (স্ত্রী) লাগি আমাদের কোরবানীর তরকারি তো রাখা হইল না।

তারপর নিজেই বলিলেন, ঠিক আছে, কাল নানান জায়গা তনে (থেকে) তো তরকারি আসবই।

হক কথা/২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬

কোরবানির চামড়ার দামে বিপর্যয়

দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ার পর কোরবানির পশুর চামড়ার দামের বিপর্যয় ঠেকানো গেল না। ঢাকায় গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়ার দাম ২-১০ টাকা।

ঢাকার জিগাতলা ট্যানারি মোড় ও পোস্তার আড়তে আজ শনিবার দুপুর থেকে বিকেলে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেল।

সব জায়গাতেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। অথচ গতবারের চেয়েও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবার ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে।

আড়তদার ও ট্যানারির মালিকেরা বলছেন, চলতি বছর গতবারের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ কম চামড়া আসবে। তাই চামড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে। তারপরও চামড়ার দাম কম হওয়ার পেছনে পুরোনো যুক্তিই দেখাচ্ছেন তাঁরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আবার দরপতন ঠেকাতে ২৯ জুলাই কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিকেলে পুরান ঢাকার পোস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পিকআপ ও ট্রাকে করে কোরবানির পশুর চামড়া আড়তে আসছে। দরদাম করে কিনছেন আড়তদারেরা। সেই চামড়া আড়তের ভেতরে নিয়ে লবণ দিয়ে সংরক্ষণে ব্যস্ত শ্রমিকেরা।

আজিমপুর থেকে পোস্তায় ঢোকার মুখে সড়কের পাশে বসে শফিকুর রহমান চামড়া কিনছিলেন। বললেন, বড় গরুর চামড়া ৫০০-৬০০ ও মাঝারি গরুর চামড়া ৩০০-৩৫০ টাকায় কিনেছেন। আর ৪ পিছ ছাগলের চামড়া কিনেছেন ১০ টাকায়।

দামের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি কমই।’

বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০০-৫০০ টাকায় গরুর চামড়া কিনে পিকআপে করে পোস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন হাজি শের মোহাম্মদ। বললেন, বড় গরুর চামড়া ৪০০-৬০০ টাকায় এবং ছোট ও মাঝারি গরুর চামড়া ১৫০-২৫০ টাকায় কিনেছেন।

গতবার চামড়া কিনে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়েছেন। তাই এবার তেমন ব্যবসায়ীরা মাঠে ছিলেন তুলনামূলক কম।

মোহাম্মদপুর থেকে ১২-১৫টি গরুর চামড়া কিনে ভ্যানে নিয়ে পোস্তায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. শহীদ। বললেন, আকারভেদে ৪০০-৬০০ টাকায় গরুর চামড়া কিনেছেন।

তবে কলাবাগান ও জিগাতলায় ব্যবসায়ীরা কেনা দামের কাছাকাছি বলায় বিক্রি করেননি। পোস্তায়ও বেশি দাম পাওয়ার আশা কম। শেষ পর্যন্ত তিনি মুনাফা করতে পেরেছেন কি না, জানা যায়নি।

পোস্তার আবদুল মাজেদ আড়তে কমিশন এজেন্ট মো. নয়ন ও তাজউদ্দীনের সঙ্গে কথা হলো।

তাঁরা জানালেন, করোনার কারণে কোরবানির পরিমাণ অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে চামড়ার যে পরিমাণ আমদানি তাতে মনে হচ্ছে, ঢাকায় গতবারের চেয়ে বড়জোর ৫ শতাংশ কম কোরবানি হয়েছে।

বড় আকারের গরুর চামড়া গড়ে ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া গড়ে ২৫-৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া গড়ে ১৬-২০ বর্গফুটের হয়। তাতে সরকারের নির্ধারিত দাম হিসাব করলে বড় চামড়া কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা, মাঝারি চামড়া হাজার টাকা ও ছোট চামড়ার দাম হয় কমপক্ষে ৬০০ টাকা। তার থেকে প্রক্রিয়াজাত, শ্রমিকের মজুরি ও আড়তদারের মুনাফা বাদ দিলেও যা দাঁড়ায় তার কাছাকাছি দামেও চামড়া বিক্রি হয়নি।

চামড়ার কম দামের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান প্রথম আলোকে বলেন, কাঁচা চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা ঠিকই আছে। কারণ প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৮ টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া আড়তদারেরা নগদ অর্থের সংকটে আছেন। বেশির ভাগ ট্যানারির মালিক আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধ করেননি।

দাম কম হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ছোট চামড়াই বেশি আসছে এবার। চামড়া প্রক্রিয়াজাতে লবণের খরচ আছে। কাটিংয়েও বাদ যাবে কিছু চামড়া। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত কী দাম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী।

আড়তদারদের বকেয়ার বিষয়ে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের পর থেকেই ট্যানারির মালিকেরা আর্থিক সংকটে আছেন। সে জন্য আড়তদারদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকে।

গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার অস্থায়ী বাজারে ছোট গরুর একেকটি চামড়া ৩০০-৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫০০-৬০০ এবং বড় চামড়া হাজার টাকায় বিক্রি হয়। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২৫০-৩০০ টাকার বেশি কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি। পরদিন পোস্তায় ১৫০-২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতেও কষ্ট হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঢাকার বাইরে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চামড়া সড়কে ফেলে দেওয়া ও পুঁতে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ার পর কোরবানির পশুর চামড়ার দামের বিপর্যয় ঠেকানো গেল না। রাজধানীতে গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়ার দাম ২-১০ টাকা।

এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনাবেচা করতে হবে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে, যা গত বার ছিল প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমানো হয়েছে ২৯ শতাংশ। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম কমানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে ২৭ শতাংশ কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আর বকরির চামড়া গত বছরের ১৩ থেকে ১৫ টাকা বর্গফুটের দর থেকে কমিয়ে এবার ১০ থেকে ১২ টাকা করা হয়েছে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের আগের রাতে পুলিশের গুলিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটে এ ঘটনা।

নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান (৩৬)।

জানা গেছে, নিহত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান যশোরের ১৩ বীর হেমায়েত সড়কের সেনানিবাস এলাকার মৃত এরশাদ খানের ছেলে।

এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলীকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে।

এমনকি পুলিশ যদিওবা দাবি করেছে, দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর সদস্য পাহাড় থেকে নেমে আসার খবর পেয়েই বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকতের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মেরিন ড্রাইভে অবস্থান নিয়েছিল।

লোকজনের দেওয়া খবর অনুযায়ী টেকনাফ থেকে কক্সবাজারমুখী একটি প্রাইভেটকারের আরোহীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত গুলি চালান।

পুলিশের দাবি, ওই সেনা কর্মকর্তা নিজের পিস্তল বের করে পুলিশের দিকে তাক করেছিলেন। ঘটনার পর পরই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা গুলিবিদ্ধ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার বিকালে মেরিন ড্রাইভ রোডের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি তদন্ত দল ঘটনা তদন্তে যায়।

এসময় এলাকার লোকজন সেনাবাহিনীর তদন্ত দলটিকে দেখে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের কাছে তদন্ত দলের কর্মকর্তারা শুক্রবার রাতের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ব্ক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে।

তদন্তের সময় উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি হেফজখানার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও দুজন হাফেজ সেনা কর্মকর্তাদের কাছে বলেছেন, শনিবার রাতে প্রাইভেট কার থেকে যে ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে সেটা ছিল একটি নির্মম ঘটনা।

তারা জানান, প্রাইভেট কারের ওই আরোহী (মেজর সিনহা) ফাঁড়ির পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নির্দেশমতে ওপরে দুই হাত তুলে বলেন, ‘বাবা আপনারা অহেতুক আমাকে নিয়ে উত্তেজিত হবেন না। আপনারা আমাকে নিয়ে একটু খোঁজ নিন।’

সাক্ষীরা বলেন, মেজর সিনহা এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ‘কুত্তার বাচ্চা’ বলেই তাঁর (মেজর সিনহা) বুকে গুলি চালাযন পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত হোসেন। তৎক্ষণাৎ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয় শামলাপুর বাজারের আবদুল হামিদ নামের একজন ফেরিওয়ালা সেনা দলের কর্মকর্তাদের বলেছেন, এটা সাংঘাতিক অন্যায় কাজ হয়েছে। আমাকে যেখানেই নিয়ে যান আমি সত্য কথা বলব। পুলিশ ক্রস ফায়ারের মতো করে একজন জ্যান্ত মানুষকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, গাড়ি থেকে নামার পর পরই পুলিশ ইন্সপেক্টর গাড়ির আরোহীকে (মেজর সিনহা) বুকে গুলি চালিয়ে দেয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন শনিবার সকালে কালের কণ্ঠকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ঈদের সময় দেশে জঙ্গি হামলা হতে পারে মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্ক বার্তা রয়েছে। এ নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এক প্রকার রেড এলার্টে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এমনই সময়ে শুক্রবার রাতে শাপলাপুরের একটি পাহাড় থেকে নেমে আসা বোরকা সদৃশ বস্তু পরিহিত লোকজনের খবর শুনে পুলিশ হয়তোবা ডাকাত নতুবা জঙ্গি সন্দেহ করে ওই গাড়িটিকে টার্গেট করে আসছিল।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, নিহত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি কক্সবাজারের হিমছড়ি মেরিন ড্রাইভের একটি হোটেলের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

তারা একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম করছিলেন বলে জানতে পারেন পুলিশ সুপার। তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা মিলেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

আহত অবস্থায় তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলীকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধি সহকারে এ কমিটি গঠন করা হয়।

(কালের কণ্ঠ, ঘাটাইল ডট কম)/-

কোরবানির গরুর লাথিতে সখীপুরে একজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোরবানি করার সময় গরুর লাথির আঘাতে আজাহার আলী নামের এক ব্যক্তির (৬২) মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ভুগলিচালা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফেরদৌস এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আজাহার আলী ওই গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন বেলা ১১টার দিকে গরু কোরবানির সময় গরুটি আজাহার আলীকে পা দিয়ে লাথি মারে। এসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকের আহমেদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের আগের রাতে গোপালপুরে আ’লীগ নেতা খুন

কলেজে শিক্ষক এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নিক্সনকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে খুন করা হয়েছে।

জানা যায়, রাত সোয়া ১১টায় দুর্বৃত্তেরা এলোপাথাড়ি চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে খুন করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আলাউদ্দিন তালুকদার তারা মিয়ার পুত্র। তিনি টাঙ্গাইলের লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। সপরিবারে ধনবাড়ী উপজেলা শহরে বাস করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমিনুল শুক্রবার বিকালে ধনবাড়ী থেকে আজগড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। দলের সাংগঠনিক কাজ শেষে আজগড়া মোড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আরেক দফা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে পৌনে ১১টার দিকে মোটর সাইকেলে রওনা হন তিনি।

এ সময় আজগড়া খালের ব্রিজ পার হওয়া মাত্র সেখানে ওৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ছুরি চাকু নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে শরীরের আরো কয়েক স্থানে আঘাত করা হয়।

পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে মধুপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সোয়া ১১টায় মধুপুর হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি খুনিদের নাম বলে গেছেন।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রুবিনা ইসলাম জানান, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।

গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীর খসরু খুনের ঘটনা নিশ্চিত করেন। গোপালপুর থানার ওসি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। বহুবার রিং করলেও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ করেননি।

মধুপুর থানার ওসি তারেক কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত নিক্সনের লাশ মধুপুর হাসপাতালে রয়েছে। ঈদের আগের রাতে এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে নৌকাডুবিতে পাঁচজনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নৌকা ডুবে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গিলাবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের সিকিম উদ্দিনের ছেলে নৌকার মাঝি তাইজ উদ্দিন (৫০), মিঞ্জু মিয়ার স্ত্রী জমেলা বেগম (৬০), তার ছেলে হামিদুর রহমান রনো (৩৫), আতা মিয়ার ছেলে জোয়াহেরের স্ত্রী রুমা বেগম (৩২), সখীপুর উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে শাহ আলম (২৫)।

লাশগুলো উদ্ধার করে গিলাবাড়ি গ্রামে মিঞ্জু মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়েছে।

রুবেল মিয়া বলেন, ‘নৌকাটি দাঁড়িয়াপুর থেকে গিলাবাড়ীতে আসতেছিল। নৌকাটি গিলাবাড়ী বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিলের মধ্যে থাকা বিদ্যুতের তারের সঙ্গে নৌকার মাঝির স্পর্শ লাগে। এসময় নৌকাটি ডুবে যায়।

এঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়জন নিখোঁজ রয়েছে সেটি বলা যাচ্ছে না।’

বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ডুবুরি পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন্নাহার স্বপ্না বলেন, পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে আরো কোনো লাশ আছে কি না ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তা তল্লাশি করছেন।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-