যেভাবে ভারতবর্ষ থেকে ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে ব্রিটেন

“ব্রিটেন কি ভারতবর্ষ থেকে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে?” এই প্রশ্নটি হয়তো সরলতায় “দুই আর দুইয়ে কি চার হয়?” শ্রেণীর নিতান্ত নিরীহ প্রশ্নকেও হার মানাবে। বিশেষজ্ঞ তো নয়ই, এমনকি ইতিহাসের মনোযোগী ছাত্র হওয়ারও দরকার পড়ে না এজন্য। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপারে ন্যূনতম জ্ঞান রাখে এমন যে কেউই চোখ বুজে বলে দিতে পারবে, ব্রিটিশরা এই সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষ থেকে যথেচ্ছ সম্পদ আত্মসাৎ করে নিয়ে গেছে।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ব্রিটেনে এখনও মানুষকে ভুল ধারণার বশবর্তী করে রাখা হচ্ছে। সেখানে এখনও তথাকথিত মিথের প্রচলন রয়েছে যে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য নাকি তাদের জন্য একেবারেই লাভজনক ছিল না, বরং প্রশাসনিক কাজে প্রচুর পরিমাণে অর্থ তাদেরকে গচ্চা দিতে হয়েছে। তারপরও এটি ব্রিটিশদের বদান্যতা যে তারা দয়া করে ভারতবর্ষে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছে, ভারতবর্ষের ‘প্রজা’দেরকে কৃপা করে শাসন করে গেছে!

নতুন গবেষণায় মিললো যে ফল

কিন্তু আত্মবিস্মৃত ব্রিটিশদের এই ধারণা যে ঠিক কতখানি ভুল, তা ধরিয়ে দিতেই যেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে Dispossession, Deprivation, and Development নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ উৎস পাটনায়েক। সেখানে ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের প্রায় দুই শতকের কর ও বাণিজ্যের খতিয়ান বয়ানের মাধ্যমে তিনি সোজাসাপটা হিসাব তুলে ধরেছেন, ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের সম্পদ পাচার করে নিয়ে গেছে ব্রিটিশরা।

সংখ্যাটি সুবিশাল। এর বিশালত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে একটি ছোট্ট তথ্য আপনাদের সামনে হাজির করা যাক- এই ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আজকের দিনেও যুক্তরাজ্যের জিডিপি (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট)-এর ১৭ গুণ বেশি!

কীভাবে সম্ভব হলো এটি?

সম্পদ পাচারের বিষয়টি প্রধানত সংঘটিত হয়েছে বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে। সাম্রাজ্য স্থাপনের আগপর্যন্ত ব্রিটেন ভারতবর্ষ থেকে টেক্সটাইল ও চালের মতো পণ্য ক্রয় করতো সরাসরি ভারতীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে। আর এসব পণ্যের বিনিময় মূল্য তারা পরিশোধ করতো সাধারণ উপায়ে- প্রধানত রূপার মাধ্যমে, যেমনটি তারা অন্যান্য দেশের বেলায়ও করে থাকতো।

কিন্তু ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কুক্ষিগত করার পর থেকেই এই ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটে। তারা ভারতীয় বাণিজ্যে মনোপলি স্থাপন করে।

এবং এই মনোপলির মূল ভিত্তি ছিল কর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশ থেকে কর সংগ্রহ শুরু করে, এবং চতুরতার সাথে তারা সংগৃহীত আয়ের এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে থাকে ব্রিটিশ প্রয়োজন মেটাতে ভারতবর্ষ থেকে পণ্য ক্রয়ের কাজে।

সহজ কথায় বলতে গেলে, ভারতীয় পণ্য কিনতে নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচের পরিবর্তে, ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা সেগুলো কোনো অর্থ ব্যয় না করেই সংগ্রহ করতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তারা কৃষক ও তাঁতিদের কাছ থেকে পণ্য দাম দিয়েই কিনছে বটে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা বিনিময়ে সেই অর্থই প্রদান করছে, যা তারা কিছুকাল আগে এই কৃষক-তাঁতিদের কাছ থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে!

একে একপ্রকার জালিয়াতিই বলা চলে। কিংবা পুকুর চুরি বলতে আমরা যা বুঝে থাকি আর কী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ভারতীয়ই এই বিষয়গুলো ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। কারণ যে প্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করতে আসতো, ঠিক তারাই তো আবার তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে আসতো না। অশিক্ষিত ভারতীয়দের পক্ষে তখন এটি বোঝা সম্ভবপর হয়নি যে গ্রহীতা ও দাতা আলাদা আলাদা ব্যক্তি হলেও, তাদের মূল উৎস আসলে অভিন্ন, এবং তাদের মাঝে যোগসাজশ বিদ্যমান রয়েছে।

ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া পণ্যের গন্তব্য কী ছিল?

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ভারতবর্ষ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে যে পণ্য ব্রিটিশরা নিয়ে যেত, সেই পণ্য কি কেবল তারা নিজেরাই ভোগ করত? না, ওই পণ্যের কেবল কিয়দাংশই তারা নিজেরা ভোগ করত। বরং আরও লাভের আশায় ঐ পণ্যই পরবর্তীতে তারা আরও চড়া মূল্যে ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানী করত। ভারতবর্ষে উৎপাদিত পণ্যের সুনাম ছিল গোটা ইউরোপ জুড়েই। এবং সেগুলো যেহেতু অন্য আর কোনো দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া যেত না, তাই ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা সেই সকল পণ্যের উপর এমনকি শতভাগ লাভও করতে পারত। ভারতবর্ষ থেকে সংগৃহীত পণ্যের এরূপ পুনঃরপ্তানীর মাধ্যমেই ব্রিটেন সরাসরি কিছুর উৎপাদক না হয়েও ইউরোপের বাজারের অন্যতম বড় খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছিল।

ভারতবর্ষ থেকে আত্মসাৎ করা যেসকল পণ্য ব্রিটিশরা নিজেরাই ভোগ করত, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো লোহা, টার ও টিম্বার; কেননা এগুলো ব্রিটেনের শিল্পায়নের কাজে লাগত। এবং এভাবেই, ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল থেকে ভারতবর্ষ থেকে করা পদ্ধতিগত চৌর্যবৃত্তির উপরই।

কাউন্সিল বিলের আগমন

১৮৪৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের ফলস্বরূপ ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতবর্ষের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এর ফলে ঔপনিবেশিকদের লাভের গুড় খাওয়া কিন্তু এতটুকুও হ্রাস পায় না, বরং কর ও পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থায় আরও নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনোপলিতে ইতি ঘটলে ভারতীয় উৎপাদকরা তাদের পণ্য সরাসরি অন্যান্য দেশে রপ্তানী করার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু ব্রিটেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যেন সব হাত ঘুরে প্রদেয় অর্থ শেষ পর্যন্ত লন্ডনেই থামে।

ভারতবর্ষ থেকে যে দেশই পণ্য ক্রয় করতে চাইত না কেন, তাদেরকে সেই পণ্য কিনতে হতো বিশেষ ধরনের কাউন্সিল বিল ব্যবহারের মাধ্যমে। কাউন্সিল বিল হলো এমন একধরনের কাগজের মুদ্রা, যা কেবল ব্রিটিশ রাজের তরফ থেকেই প্রদান করা হতো। এবং এই কাউন্সিল বিল হাতে পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সরাসরি লন্ডনে গিয়ে সোনা বা রূপার বদলে তা ক্রয় করা।

তাই ব্যবসায়ীরা লন্ডনকে সোনা বা রূপা দিয়ে বিল সংগ্রহ করত, আর তারপর সেই বিল কাজে লাগিয়ে ভারতীয় উৎপাদকদের দাম মেটাত। তারপর ভারতীয় উৎপাদকরা যখন স্থানীয় কলোনিয়াল অফিসে গিয়ে সেই বিল ক্যাশ করত, তারা হাতে পেত সেসব ভারতীয় রুপি, যা ব্রিটিশ রাজ কর সংগ্রহের মাধ্যমে এই ভারতীয়দের কাছ থেকেই পেয়েছে।

সুতরাং আরও একবার, ভারতীয় উৎপাদকরা যেভাবে পণ্য রপ্তানীর মাধ্যমে অর্থ আয় করত, সেখানেও ছিল ব্রিটিশদের বড় ধরনের জালিয়াতি। কেননা যে সোনা ও রূপাগুলো সরাসরি ভারতীয় উৎপাদকদের হাতে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হাতিয়ে নিয়েছে তারা নিজেরাই। আর তার বদলে ভারতীয় উৎপাদকদেরকে তারা দিয়েছে সামান্য কিছু কাগজের মুদ্রা। আর কে না জানে, কাগজের মুদ্রার দাম বাড়ে খুবই ধীরগতিতে, কিন্তু সোনা ও রূপার দাম বাড়তে থাকে হু হু করে।

এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি ব্যবস্থার শিকার হয়ে ভারতবর্ষ বাকি বিশ্বের চেয়ে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তে বড় ধরনের লোকসান করতে থাকে, যার ফলে বাকি বিশ্ব ক্রমশই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, ভারতবর্ষ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই পড়ে থাকে। আর তাদেরকে ঠকিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে থাকে ব্রিটেনের।

ভারতবর্ষের সম্পদে ব্রিটেনের উন্নয়ন

এই সবকিছুর প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে ভারতবর্ষের বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়তে থাকেএই সবকিছুর প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে ভারতবর্ষের বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়তে থাকে, যা পর্যবেক্ষণ করে সাদা চোখে অনেকেরই মনে হতে পারে, ভারতবর্ষ বুঝি ব্রিটেনের কাছে বোঝা হয়ে ছিল। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা ছিল একদমই ভিন্ন। ভারতবর্ষ ছিল ব্রিটেনের কাছে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো। ভারতবর্ষ পিছিয়ে যাচ্ছিল বলেই ব্রিটেন এগিয়ে যেতে পারছিল। কিংবা আরও অকপটে বলতে গেলে, ভারতবর্ষকে ধাক্কা মেরে পেছনে ফেলে দেয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে যাচ্ছিল ব্রিটেন।

ভারতবর্ষ থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থের মাধ্যমেই ব্রিটেন প্রচন্ড রকমের ধনী হয়ে ওঠে, আর নব্যলব্ধ অর্থ তারা নতুন করে বিনিয়োগ করতে থাকে নতুন উপনিবেশ সৃষ্টি ও পুরনো উপনিবেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কাজে। যেমন- ভারতবর্ষ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সাহায্যের ১৮৪০ এর দশকে চীন আক্রমণের সাহস দেখাতে পেরেছিল ব্রিটেন। আবার ১৮৫৭ সালে ভারতে সিপাহী বিপ্লব দমনের হাতিয়ারও ছিল এই অর্থই।

এজন্যই পাটনায়েক বলেন, “ভারতবর্ষের সীমানার বাইরেও নতুন সাম্রাজ্য দখল করতে ব্রিটেন যেসব যুদ্ধে জড়িয়েছে, সবসময়ই তার প্রধান ও পুরো ভাগটা এসেছে ভারত থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমেই।”

এবং এখানেই গল্পের শেষ নয়। ভারতীয় অর্থনীতির আশীর্বাদধন্য হয়েই ব্রিটেন ইউরোপ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় উপনিবেশ, যেমন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়, পুঁজিবাদের বিস্তার ঘটাতে পেরেছিল। তাই বলা যায়, কেবল ব্রিটেনের শিল্পায়নই নয়, গোটা পশ্চিমা বিশ্বের শিল্পায়নেই নেপথ্য ভূমিকা রেখেছে এই ভারতবর্ষই।

মোট কী পরিমাণ সম্পদ পাচার হয়েছে?

পাটনায়েক ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষকে চারটি পৃথক অর্থনৈতিক সময়কালে বিভক্ত করেন, এবং প্রতিটির মধ্য পর্যায় হতে বর্তমান পর্যন্ত ন্যূনতম ৫ শতাংশ মুনাফার হার ধরে হিসাব করে দেখান যে, ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটেনে পাচারকৃত সম্পদের মোট পরিমাণ ৪৪.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু তার মতে এটিও খুবই রক্ষণশীল একটি অংক, যেহেতু এখানে ব্রিটিশ রাজ চলাকালীন ভারতবর্ষের উপর ব্রিটেন কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া ঋণের বোঝাকে হিসাব করা হয়নি।

হিসাবগুলো নিঃসন্দেহে মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটেনে পাচার হওয়া এই বিপুল অর্থের ফলে ভারতবর্ষের ঠিক কতখানি ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে হিসাব করে বের করা সম্ভব নয়। শুধু একটিবার ভেবে দেখুন, ভারতবর্ষের মানুষের প্রদত্ত কর যদি ভারতবর্ষের কল্যাণেই ব্যয় হতো- যেমনটি হয়েছে জাপানের ক্ষেত্রে, এবং রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো যদি সরাসরি এর উৎপাদকরাই পেত; তাহলে আজ ভারতবর্ষ বিশ্বের অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ারগুলোর একটি হতো, শতকের পর শতক ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হতো না।

উপনিবেশ প্রসঙ্গে বর্তমান ব্রিটেনের জনপ্রিয় অভিমত

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আজও ব্রিটেনের অনেকেই ভারতবর্ষে তাদের করা অর্থনৈতিক শোষণের বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না।

রক্ষণশীল ইতিহাসবিদ নায়াল ফার্গুসন যেমন দাবি করেন, ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতবর্ষের উন্নয়নই হয়েছে। এই চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছিল ২০১৪ সালের একটি জরিপেও। ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের ৫০ শতাংশই আজও বিশ্বাস করে, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের ফলে উপনিবেশগুলো লাভবানই হয়েছে।

অবশ্য এর বিপরীত মনোভাবও লক্ষণীয়। যেমন ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই স্বীকার করেছিলেন, ব্রিটিশ শাসন ভারতবর্ষের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি।

শেষ কথা

ভারতবর্ষে প্রায় দু’শো বছরের ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয়ে কোনো উন্নতিই ঘটেনি, বরং উনিশ শতকের শেষার্ধে এসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজের হাতে যাওয়ার সময়কালে মাথাপিছু আয় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে ভারতীয়দের প্রত্যাশিত গড় আয়ু এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

পলিসি-প্ররোচিত দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় অকালে প্রাণ হারিয়েছিল। ১৯০৯-১৪ পর্যন্ত যেখানে এ অঞ্চলের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ছিল ১৯৭.৩ কেজি, ১৯৪৬ সাল নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় ১৩৬.৮ কেজিতে।

তাই এ কথা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলাই যায়, ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্রিটেনের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং পাটনায়েকের গবেষণাপত্র থেকে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ভারতবর্ষের কাঁধে চেপেই আজকের উন্নত ব্রিটেনের জন্ম।

(জান্নাতুল নাঈম পায়েল, ঘাটাইল ডট কম)/-

অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনের ওএসডি নিয়ে প্রবল আলোচনা

শাস্তি দেয়া না হলে বাংলাদেশে কোন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হলে তাকে নিয়ে কোন আলোচনাই হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন যখন বৃহস্পতিবার ফেসবুক পোস্টে জানালেন যে তাকে ওএসডি করা হয়েছে, তারপর থেকেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা।

মি. কবীরকে হঠাৎ করে ওএসডি করার পেছনে ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় যেমন নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, নানা ধরনের ‘তত্ত্ব’ দেয়া হচ্ছে, তেমনি তাকে সরিয়ে দেয়ার ফলে প্রশাসনে সৎ এবং দক্ষ কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়বেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

যেমন, আরিফ আর হোসেন নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, “উনি যে মন্ত্রণালয়েই গিয়েছেন, আগাছা সাফ করে সেই মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।”

“উনার জন্য আমার একটুও মন খারাপ লাগছে না, ট্রাস্ট মি। বরং খারাপ লাগছে সেই সকল তরুণদের জন্য যারা আজকে পলিসি মেকারের চেয়ারে বসতে পারার পরেও, ভালো কাজ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেললো।”

তবে সোশাল মিডিয়ায় মাহবুব কবীর মিলনকে নিয়ে কথাবার্তা কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়নি।

রেল মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় তার নেয়া কিছু পদক্ষেপ জন-বান্ধব বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

টিকিট ক্রয়ে এনআইডির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, অনলাইনে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা এবং রেল বিভাগের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে ফটো বা ভিডিও যুক্ত করে অভিযোগ প্রদানের ব্যবস্থা চালু করার পর যাত্রীদের জীবন অনেক সহজ হয়েছে বলে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।

গত ২৫শে মার্চ মি. কবীরকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

দু’হাজার সতের সাল থেকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাজ করার সময় তিনি খাদ্যে মাত্রারিক্ত বিষাক্ত ফর্মালিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যা সে সময় প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

পাশাপাশি, খাদ্যমান পরীক্ষা নানা ধরনের আজগুবি দাবি করে প্রক্রিয়াজাত খাবারের লেবেলিং এবং বিজ্ঞাপন তৈরির পথ ঐ সংস্থাটি বন্ধ করে দেয়।

শরিফুল হাসান নামে একজন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “দেখেন, একটা মানুষ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে যোগ দিয়ে রীতিমত যুদ্ধ শুরু করলেন। এরপর তাকে সরিয়ে রেলে দেয়া হলো।”

“বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বেশ কয়েকদিন আগে তিনি একটা স্বপ্নের কথা বললেন। ১০ জন অফিসার নিয়ে তিন মাসে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুমতি চাইলেন। এই চাওয়াই কি তবে কাল হলো!”

গত ২৭শে জুলাই মাহবুব কবীর মিলন ফেসবুক লাইভে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটনের জন্য তিনি বিশেষ সেল গঠনের পরামর্শ দেন।

ঐ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ”আমি যদি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতাম তবে বলতাম, স্যার আমাকে ১০ জন অফিসার দিন। এদের আমি চুজ করব, এদের নিয়ে আমি একটা উইং করব। মানুষের চোখের পানি দূর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, সব দফতর, সব অধিদফতরের বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করবো আমরা এই ১০ জন।”

এই কাজে ব্যর্থ হলে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেয়ার কথাও ঐ ভিডিওতে বলেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের ফেসবুকে কর্মক্ষেত্রে বিপ্লব আনার কথা বলা, কিংবা দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে খোলাখুলি-ভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোয় চাকরি বিধির লঙ্ঘন হয় কিনা, বিবিসি বাংলার এই প্রশ্নের জবাবে মাহবুব কবীর মিলন বলেন, দুর্নীতি দমনের প্রসঙ্গে আলোচনার সময় তিনি শুধু তার মতামত জানিয়েছেন।

“আবেগপ্রবণ হয়েই হয়তো কিছু কথা বলে ফেলেছি। হয়তো কথাগুলো ওখানে, ওভাবে বলা ঠিক হয়নি।”

তাকে ওএসডি করার বিষয়ে মি. কবীর কোন মন্তব্য করতে চাননি। শুধু এটুকুই বলেছেন যে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানান।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

টাঙ্গাইলে গতকাল বুধবার (৫ আগষ্ট) সকাল ১০ টায় শর্মা হাউজে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে উদযাপিত হলো টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপদেষ্টা মন্ডলী, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং সদস্যরা পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে কবুতর উড়ানো, কেক কাটা, আলোচনা সভা, মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান, গরিব মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষনায় অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন, টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বিপ্লব দত্ত পল্টন, খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, মোস্তাক হোসেন, মো: ফরহাদ হোসাইন, সাইদুর রহমান সুইট, তানভীর হাসান খান রুবেল।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। সঞ্চালনায় ছিলেন মোতালেব হোসাইন নিরব।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র সহ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম পাপেল, আবু নোমান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসাইন, সিনি: যুগ্ম সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মহিদ, যুগ্ন সম্পাদক রাজন সরকার প্রমুখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে টাংগাইল স্বেচ্ছাস্বেবী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তানবীর হাসান রুবেল বলেন, মানুষের কল্যানে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে আমরা সর্বদা বদ্ধপরিকর।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ও বন্যার প্রভাবে টাঙ্গাইলে সোয়া লাখ তাঁতি পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই!

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতি এলাকার এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন তাঁত মালিকের পরিবারে এবার ঈদুল আযহার আনন্দ নেই। করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো আর খোলা সম্ভব না হওয়ায় তাঁতি এলাকায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁত বোর্ডের স্থানীয় দু’টি বেসিক সেণ্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ১২৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে। প্রতি তাঁতে তিনজন শ্রমিকের হিসেবে ৬৫ লাখ ৯১৯জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩৭ হাজার ২৮৭জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোট ৩৪ হাজার ৪০২ তাঁতের এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের পরিবার করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলা বাড়ী, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, তেজপুর, কাজীবাড়ী; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী, সদর উপজেলার চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশিরভাগ তাঁত ফ্যাক্টরিতে পানি ঢুকেছে। তাঁতের তানা (কাপড় বুননের ভিম) উঁচুতে তুলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা কোন রকমে একবেলা-আধপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এরমধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁত শিল্পে মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। অধিকাংশ তাঁত শ্রমিকের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এখন তারা কৃচ্ছতা সাধন করে কোন রকমে খেয়ে- না খেয়ে বেঁচে আছেন। কষ্টের এ সময়ে তারা ঈদ নিয়ে ভাবছেন না, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিকরা আরো জানায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের লোকদেরকেই সরকারি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অধিকাংশই পাচ্ছেন না।

তাঁতিরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা সরকারি সহায়তায় পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনা ও বন্যার কারণে গত মার্চ মাস সকল তাঁত বন্ধ। তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিক সবাই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চললে তাঁতিদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। করোনার কারণে তাঁত শ্রমিকদের যৎসামান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, তাঁত শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার জন্য হাহাকার করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।

তাঁত বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, দুটি বেসিক সেণ্টার থেকে তাঁতিদের মাঝে বিতরণকৃত ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া তাঁত বোর্ডের চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ৬৪জন তাঁতিকে দেওয়া হয়েছে।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, উপজেলা থেকে কোটা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সহায়তা ইউনিয়ন পরিষদে আসে। সেখান থেকেও তিনি কিছু তাঁত শ্রমিকের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁত শ্রমিকদের মাঝেও সরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বছরে দুটি ঈদ ও দুর্গাপুজায়ই তাঁত শাড়ির মূল ব্যবসা হয়ে থাকে।

করোনার সাথে ভয়াবহ বন্যা যোগ হয়ে তাঁতিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাঁত মালিকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে এসেছে। কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে পানি ঢুকে পড়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন পাহাড়া দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই।

তাঁত বোর্ড থেকে পাওয়া দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি তাঁত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ঈদুল আযহার আনন্দ তাদের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাব টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের জন্য অশনিসঙ্কেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁতিদের জন্য আলাদা ভাবে কোন সরকারি ত্রাণ সহায়তা আসেনি।

দেলদুয়ার ও সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁত শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁত শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন।

সরকারি প্রণোদনা তথা ঋণ সুবিধা না পেলে তাঁতিরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।

গত জুন মাসে তাঁতিদেরকে স্বাস্থ বিধি মেনে তাঁত চালু রাখতে বলা হয়েছে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হওয়ায় তাঁতিরা সহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

‘সেকেন্ড হ্যান্ড রেলইঞ্জিন’ উপহার দিয়েছে ভারত!

ভারত সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে দেয়া ১০টি ব্রডগেজ রেলইঞ্জিন পার্বতীপুরে এসে পৌঁছেছে। এসব রেল ইঞ্জিন ৫ থেকে ৭ বছর ধরে ভারতীয় রেলরুটে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বুধবার জ্বালানি তেলবাহী লরীর সাথে যুক্ত হয়ে এসব ইঞ্জিন পার্বতীপুর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পার্বতীপুরের প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) নুর মোহাম্মদ এগুলো গ্রহণ করেন।

সুত্র জানায়, ১০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ৮টি ২০১৩ সাল, ১টি ২০১৪ সাল ও ১টি ২০১৫ সালের মডেলের। ইঞ্জিনগুলোর ভারতীয় সিরিজ নম্বর ডাব্লিই ডি এম থ্রি ডি টাইপের লোকো নম্বর- ই সি আর ১১৪৩১, ১১৪৩২, ১১৪৩৩, ১১৪৩৪, ১১৪৩৫, ১১৫৮৭, ইকোর ১১৪৩৬, ১১৪৩৭, ইআর ১১৪০৬ ও ১১৫৭১। এসব ইঞ্জিন ভারতে রেলের বিভিন্ন রুটে ৭, ৬ ও ৫ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

কেলোকার প্রধান নির্বাহী নুর মোহাম্মদ জানান, ইঞ্জিনগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড। কেলোকায় প্রতিটি ইঞ্জিনের পৃথকভাবে যন্ত্রাংশ পরীক্ষা শেষে ট্রায়ালে পাঠানো হবে। এর আগে নতুন করে বাংলাদেশ রেলওয়ের আদলে রঙ পরিবর্তন ও সিরিজ লেখা হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রডগেজ সেকশনের বিভিন্ন রুটে এসব ইঞ্জিন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, দুই দেশের রেলমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এসব ইঞ্জিন হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গত সোমবার ভারতের গেঁদে রেল স্টেশন থেকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর চেকপোষ্ট দিয়ে ইঞ্জিনগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

(ভোরের কাগজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ৪৪ সাংবাদিক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান

টাঙ্গাইলে করোনাকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকা সাংবাদিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রদত্ত অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে এক অনুষ্ঠানে ৪৪ জন সাংবাদিকের হাতে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান ও জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলাম আহাদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা।

(জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-

নেপালের বিদ্যুৎ ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রয়ের জন্য নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দিয়েছে নেপালের সরকার।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সে বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কিন্তু সরাসরি নেপাল থেকে নয়, ভারতীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।

কীভাবে এই বিদ্যুৎ আনা হবে?

নেপালের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে চাহিদা পূরণের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে তা বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিক্রি করতে পারবে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম হলে এই দুটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ কিনতেও পারবে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানি এমন একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলছেন, “নেপাল এবং জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা বিশাল। এই জলবিদ্যুৎ নেবার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন। আমি নিজে গত বছর গিয়েছিলাম নেপালে এবং সেখানে আমাদের একটা চুক্তি সই হয়েছে।ৱ

“ইতিমধ্যে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, ভারতের জিএমআর কোম্পানির কাছ থেকে নেপালের বিদ্যুৎ নেয়ার। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরাসরি চুক্তি হচ্ছে জিএমআরের সাথে যে ওনারা বিদ্যুৎটা আনছেন নেপাল থেকে। তারা সঞ্চালন লাইন তৈরি করবে, আমরা সেখান থেকে বিদ্যুৎ নেবো।”

যে কারণে সরাসরি নেপাল থেকে নয়

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এর অর্ধেকের মতো। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে ১৩শ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কিনছে।

নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ আলোচনা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনছে না।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলছেন, “ভারতের একটি ক্লজের কারণে বাংলাদেশ সেটা পারছে না। বিদ্যুতের আমদানি ব্যবসা ভারত তার একটি পলিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে।”

“তাদের ক্লজ অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাতেই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবসা হতে পারবে। সেই কারণে নেপাল থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিতে পারার সুবিধাটা বাংলাদেশ পায়নি।”

বাংলাদেশের সাথে নেপালের সরাসরি সীমান্ত না থাকায় ভারতের ভেতর দিয়ে সঞ্চালন লাইন তৈরি করে এই বিদ্যুৎ আনতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত থেকে ভারতের জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি হয়ে স্থলপথে নেপালের কাকরভিটা যেতে ১ ঘণ্টা মতো সময় লাগে।

ভারতের সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনে ভারত ২০১৬ সালে ট্রানজিট সুবিধা পায়। ২০১০ সাল থেকে কয়েক দফায় কোনও ধরণের ফি ছাড়াই আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ও আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি মালামাল এবং খাদ্যশস্য ট্রানজিট করেছিল ভারত।

মাত্র দুদিন আগেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দেয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির প্রথম ভারতীয় পণ্যের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

ড. শামসুল আলম বলছেন, “এই জায়গাটায় দর কষাকষির সুযোগ ছিল। আমরা যেসব সুবিধা ভারতকে দিয়েছি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে, ট্যাক্স টোলের ব্যাপারে, সেই সব সুবিধার বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশের জন্য এই ক্লজ বাতিল করতে পারতো। যে অসম নিয়ন্ত্রণ পলিসি দ্বারা ভারত বিদ্যুৎ আমদানির উপরে আরোপ করেছে, আমি মনে করি বাংলাদেশের এটা নিয়ে কূটনৈতিক লড়াই করা উচিৎ।”

তিনি বলছেন, বাংলাদেশের এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য খরচ হয় ২৯ পয়সা। তার মতে নেপাল থেকে বাংলাদেশ সরাসরি সঞ্চালন করে বিদ্যুৎ আনলেও এই জল বিদ্যুতের দাম যথেষ্ট কম থাকবে। তার ভাষায় বাংলাদেশ সেই সুবিধা না নিতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

দাম নিয়ে প্রশ্ন

তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ রক্ষার বিষয়ে বামপন্থীদের একটি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রশ্ন তুলেছেন এভাবে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে সেনিয়ে।

তিনি বলছেন, “বিদ্যুৎ একটা পাবলিক গুডস। বাংলাদেশে এর দাম নিয়ন্ত্রিত হয় পাবলিক রেগুলেটরি কমিশন দ্বারা। এর জন্য গণশুনানি হয়।”

“নেপালের ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি পণ্যটি বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানির কাছে। সেই ভারতীয় ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি আবার সেই পণ্যটি বিক্রি করবে আমাদের কাছে। সেখানে নিশ্চয়ই মুনাফার বিষয় থাকবে।”

“খুব স্বভাবতই এখানে দামের লজিকটা কাজ করবে নেপালের কোম্পানি যে দামে ভারতের কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে তারা নিশ্চয়ই আমাদের কাছে আরও বেশি দামে বিক্রি করবে তা না হলে মুনাফা কীভাবে হবে। যেহেতু বাণিজ্যিক লেনদেন হচ্ছে। সেজন্য বিষয়টি মুনাফা ভিত্তিক হয়ে যাবে।”

এর বাইরে দামের সাথে ট্যাক্স ও টোল দিতে হবে। নেপাল ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আনার জন্যে সঞ্চালন ফি সম্ভবত থাকতে পারে। সব মিলিয়ে সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ না আনতে পারার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক থাকবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অধ্যাপক আকাশ।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল সৌরভের

কসাই সাত্তার ও রেজাউল ডাক্তার আমার পোলাডারে মাইরা ফালাইছে। আমার সোনারচান কলিজার টুকরা জলোজ্যান্ত ছেলেডারে ওরা কেমনে কইরা মাইরা ফেলাইলো। আমার বুকের ধন ছাড়া আমি কেমন বাচুম। আমার পোলারে ইঞ্জিনিয়ার বানামু ওর বাপের কত স্বপ্ন ওকে নিয়া। এহন কে আমারে মা কইব।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়া টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দেওবাড়ি গ্রামের সৌরভের মা লুপা বেগম (৪০) ছেলের লাশের পাশে আহাজারি করে বুঁক চাপড়িয়ে এসব কথা বলছিলেন।

তার কান্নায় আশপাশে থাকা প্রতিবেশীরাও হাউমাউ করে কাঁদছিলেন।

সৌরভের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে তারই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সহপাঠিদের মাঝেও।

বাবা শাহাদত হোসেন প্রবাস থেকে কাদতে কাদতে বাকরুদ্ধ। প্রতিবেশীরাও হতবাক সুস্থ্য সবল ছেলেটাকে ভুল চিকিৎসায় অকালে মৃত্যুবরণ করতে হলো।

সৌরভ আহমেদ (১৬)। লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। বাবা শাহাদত হোসেন পরিবারের খরচ যোগাতে পারি জমান প্রবাসে। ৪ জুলাই শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সামান্য জ্বর আর বমির ভাব নিয়ে ভর্তি হন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে। পরদিন ৫ জুলাই দুপুর ১টার দিকে সৌরভের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ছুটি নিয়ে হাসপাতালের বাহিরে বেড় হলেই তারা লাইফ কেয়ার ক্লিনিকের দালাল রিনা আক্তারের খপ্পরে পড়েন।

একরকম টেনে হিচড়ে ভালো চিকিৎসার কথা বলে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করান। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ওই ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক আবদুস সাত্তার ও ডিআই রেজাউল করিম।

এসেই সৌরভের এপেন্টিসাইড হয়েছে বলে জানান তারা। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন না করালে তাকে বাঁচানো যাবেনা। রক্তের গ্রুপ ছাড়া আর কোন টেস্ট না করিয়েই ওই দুই ডাক্তার দুপুর ২টায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান সৌরভকে।

চার ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় অপারেশন শেষ করেন। পরিবারকে জানানো হয় দ্রুত চার ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন। ওর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে রক্ত না দিলে বাঁচানো যাবেনা।

৭ জুলাই পর্যন্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে লাইফ কেয়ার নিজ দায়িত্বে সৌরভকে টাঙ্গাইলের মুক্তা ক্লিনিকে নিয়ে যান।

ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে বুঝেই মুক্তা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সৌরভকে ফেরত পাঠান।

পরে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন ভুল চিকিৎসার কারনে সৌরভের এ অবস্থা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে থাকা লাইফ কেয়ারে কর্মরত ব্রাদার নজরুল ইসলাম প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পালিয়ে যান।

দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২২ জুলাই রাতে মারা যায় সৌরভ।

নিহত সৌরভের মা লুপা বেগম আহাজারির সুরে খুনি ডাক্তার সাত্তার ও রেজাউল করিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, মেধাবী ছাত্র সৌরভে ভুল চিকিৎসা করে যারা মেরে ফেলছেন অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডিআই রেজাউল করিম ও আবদুস সাত্তার একই সুরে বলেন, সৌরভের এপেন্টিসাইডের অপারেশন করার পরই বুঝতে পেরেছি তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। পরে আমাদের নিজ খরচে তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। তবে তারা ভুল চিকিৎসার কারনে সৌরভের মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর আলম বলেন, সৌরভ ৪ জুলাই জ্বর ও বমির ভাব নিয়ে ভর্তি হয়ে ৫ জুলাই নিজেরাই ছুটি নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যান।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানলেও লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(সাইফুল ইসলাম সাফলু, ঘাটাইল ডট কম)/-

‘দরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতের আমুল পরিবর্তন’

স্বাস্থ্যের ডিজিকে সরানো হলো বলে আহ্লাদিত হবার কিছু নেই। ডিজি রোগ ছিলোনা, ছিলো উপস্বর্গ। রোগ যখন সমু্লে বিস্তার করেছে, তখন উপস্বর্গ গেছে বলে তুষ্টির কিছু নেই।

দেশের স্বাস্থ্যের এই হাল একদিনে তো হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে তিলে তিলে ধবংস করা হয়েছে। সেজন্য কে কার চেয়ে বেশী জড়িত সেটা নিয়ে আসুন আলাপ করি।

অধিদপ্তরের ডিজিকে একা শাপশাপান্ত করলে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারন তারা তো সবাই জোট বেঁধে ডিজির মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেয়েছে বছরের পর বছর।

আমাকে ভুল বুঝবেননা। আমি ডিজির পক্ষে সাফাই গাইছিনা। সে তো অবশ্যই দোষি। প্রথম কোপটা তাকেই খেতে হবে, এটা যেমন সত্যিই, তেমনি একজন ডিজি কিন্তু স্বাস্থ্যের মা বাপ মোটেও নেই। তাকে অপসারন করা হয়েছে।

এটা আরো আগেই করা উচিৎ ছিলো। কিন্তু তার কাছেও তো অনেকের হিসাব নিকাস ছিলো। তাকে সরানো হলে অন্যদের যাতে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়, সেসব ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সব আটঘাট বেধে এরপর তাকে সরানো হলো।

শুধু সরানো কেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা সময়সাপেক্ষ হলেও, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাটা অত জটিল কিছু ছিলো না। কিন্তু সে দিকে হাটেনি মন্ত্রনালয়, তার সঙ্গত কারনও কিছু আছে নিশ্চয়ই।

বাকিরা যেমন মন্ত্রি, সচিব সহ অন্যরা যদি না চায়, তবে ডিজির একার পক্ষে যেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তেমনি, অকাম কুকাম সেটাও করা অনেকটা কঠিন। কারন লাইন মিনিস্ট্রির সহযোগিতা বিনা তার পক্ষে কোনো অপকর্মই করা সহজ কাজ নয়।

সুতরাং ডিজিকে বাইফোর্স এক্সিট দিয়ে বাকিদের সেফ এক্সিট দেয়া হলো কি না, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বাংলাদেশের মত তৃতীয় অনুনন্নত দেশে (সরকার হয়ত আমার এ কথায় মাইন্ড করবে, তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমি অন্তত: উন্নয়নশীল দেশের কোনো নমুনা কোথাও খুজে পাইনি, সরকার যতই মুখে এসব গালগপ্প শোনাক আমাদের) যেসব খাতে আন্তর্জাতিকভাবে বেশী সহযোগিতা আসে, বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যখাত।

আর যেখানে যত বেশী মধু,সেখানে তত বেশী মৌমাছি। সেকারনে স্বাস্থ্যখাত কেন্দ্রিক দেশে গড়ে উঠেছে অগুনতি এনজিও, ডাক্তারদের অগুনতি সংগঠন, সেই সাথে আছে বেসরকারি ওষুধ কিম্বা হাসপাতাল কেন্দ্রিক উদ্যোক্তাদের অপরিসিম প্রভাব।

আর সেকারনে এই খাতে কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ করা হলেও সমস্যার সমাধান এখনো সদুরপরাহত।

তাই বলছি, শুধু ডিজিকে গিলোটিনে পুরলে কি সমস্যার সমাধান হবে? হবে না। দরকার এই সেকটরের আমুল পরিবর্তন।

সবচেয়ে বড় দরকার রাজনৈতিক সরকারের ভালো কিছু করার আন্তরিকতা। সেটা কারো আছে বলে তো মনে হয়না।

রিজেন্ট হাসপাতাল নিয়ে গত কিছুদিন ধরে এত কথা হচ্ছে, সেই হাসপাতালটা রাতারাতি কিভাবে গড়ে উঠলো? শুধু তাই নয়, তাদের একাধিক শাখাও গড়ে উঠলো।

ইদানিংকালে হাসপাতালের শাখা গড়ে ওঠার একটা হিড়িক লক্ষ্য করি। হাসপাতাল তো কোনো বিপনিবতান নয় যে তার আউটলেট বাড়াতে হবে।

হাসপাতালের শাখা আবার কি!?

হলে একটি পরিপূর্ন হাসপাতাল হতে হবে। সেসব জায়গায় আবার সরকারী ডাক্তাররা সকাল বিকেল রোগি দেখেন।

আসলে কি দেখেন না কি বড় বড় সার্টিফিকেট, বিদেশী ডিগ্রি দেখিয়ে আমাদের দেশের গরিব জনগনের পকেট কাটেন।

সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার কেন বেসরকারী হাসপাতালে বসবেন, রোগি দেখবেন। এটা দিনের পরদিন চলে আসছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে করোনারোগিদের ট্রিটমেন্টের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চুক্তি করলো। ঘটা করে চুক্তি হলো। যেন ছায়াছবির মহরত অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকলেন, খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আচ্ছা স্বাস্থ্যমন্ত্রী না হয় থাকলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়েরর সচিব হেলাল উদ্দীন সেখানে কোন ক্রাইটেরিয়ায় উপস্থিত থাকেন।

যিনি কিনা এর আগে ইলেকশন কমিশন সচিব ছিলেন। যাকে দেশের মানুষ উনিশ সালের ডিসেম্বরের মিডনাইট ইলেকশনের কারিগর বলে জানেন।

এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই কারো কাছে।

আমি কখনো স্বাস্থ্যবিটের রিপোর্টার ছিলাম না। তবে, সহকর্মী জুনিয়র যারা স্বাস্থ্যবিটে কাজ করেন, তাদের কাছে শুনেছি এই সেক্টরের হালহকিকত।

সরকারের একটা সংগঠন আছে যার গাল ভরা নাম। স্বাধিনতা চিকিৎসক পরিষদ। এদের কাজ কি কেউ বলতে পারেন।

আর এই কোভিট ১৯ যখন বাংলাদেশে হানা দেয়, তারপর একটা সংগঠন রাতারাতি খোলা হলো যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডা. হাসনাৎ মিল্টন। তাদের কাজটা কি?

আমি শুনেছি, স্বাচিপের কথা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কোন কাজ হয়না। এমনকি পোষ্টিং পদায়ন পর্যন্ত।

একটা ছোট্ট উদাহরন দেই, তাহলে বিষয়টা খোলাসা হবে।

আমার এক পরিচিত দম্পতি। দুজনেই চিকিৎসক। একজনের পোষ্টিং নীলফামারি, আরেকজনের ঢাকা সলিমুল্লাহ।

তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক। আমার এক কলিগকে বললাম, স্বামী স্ত্রি এত দুরে। তাদের কোনোক্রমে এক জায়গা পোষ্টিং হলে ভালো হয়। একটু চেষ্টা করবে না কি। আমার কলিগ বললো, দেখি কি করা য়ায়, মন্ত্রিকে বলতে পারি।

তিনি মন্ত্রিকে বললেন, মন্ত্রি অসহায়। তিনি আমাকে বললেন, স্বাচিপেরর সভাপতি কিম্বা এই সংগঠনের সুপারিশ ছাড়া মন্ত্রীও পারেননা কিছু করতে।

আমাকে স্বাচিপের কাছে যেতে বললেন। আমি অসহায়।

সেই দম্পতির আর একসাথে হওয়া হলোনা।

শুধু পোষ্টিং, পদায়ন নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব কেনাকাটায় স্বাচিপেের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, বোধ করি এখনো আছে।

মন্ত্রীর তাহলে কিছু কি করার নেই, অবশ্যই আছে। সব কেনাকাটাও ওপর টেন পার্সেন্ট! এই হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যের অবস্থা।

তাহলে একজন আবুল কালাম আজাদকে সরিয়ে কি কোনো পরিবর্তন আসবে, এখানে। আমি ভরসা পাইনা।

সরকারী হাসপাতালের যেখানে তথৈবচ অবস্থা। তখন রাতারাতি ব্যাংকের ছাতা অথবা তারকা হোটেলগুলোর মত দেশে গড়ে উঠছে বেসরকারী হাসপাতালের রিসিপশনে গেলে ভিমড়ি খেতে হয়!

এটাকি হাসপাতাল না কি তারকা হোটেল। ঠিক এই পর্যন্ত।

তাদের চিকিৎসা সুবিধার কথা বললে, শব্দের অপচয় করা হবে।

সরকার এদের শুধুমাত্র লাইসেন্স দিয়েই খালাস। এসব হাসপাতালের মান কেমন, রোগিদের প্রতি তাদের আচরন কেমন, সঠিক চিকিৎসা সেবা রোগিরা পাচ্ছেন কি না.. সে সব বিষয়ের নেই কোনো তদারকি।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কে করবে তদারকি কার ঘাড়ে কয়টি মাথা।

মোটা টাকার বিল, লাশ হয়ে রোগি ফিরছে। অনেক সময় টাকা না দিলে লাশও বের হতে দিচ্ছেনা। আছে কোনো জবাবদিহিতা। অবশ্য কে করবে জবাবদিহিতা। এরা যে যখন সে সরকার তার ঘনিষ্ট। এত বড় প্রভাবশালীদের ঘাটাতে গিযে নিজের চাকরী কিম্বা জীবন বিপন্ন করতে কে চায়!

আমাদের দেশের সরকারের কোনো মন্ত্রী, এমপি কিম্বা কথিত টাকাওয়ালারা দেশের চিকিৎসার ওপর ভরসা করেনা। এমনকি তাদের হাতে গড়া তারকা হাসপাতালের প্রতিও নয়।

তারা জানেননা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন কতটা সঙ্গিন! কতটা ভেঙ্গে পড়েছে।

আমার বাসা মিরপুর আমি বাসে প্রতিদিন, বাসে অফিসে যাওয়ার পথে সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের সামনে একটি বিলবোর্ড দেখি। সেখানে লেখা আছে, আমাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেবেননা। আমি দেশেই চিকিৎসা নেব।

এই লেখাটি যে কতখানি প্রানে বাজে এ দেশের মানুষের, সেটা ওরা তথন উপলব্দি করে, যখন, ওদের কোনো স্বজন অসুস্থ হলেও সরকারী হাসপাতালে কোনো বেড পায়না..

ওরা তখনি উপলব্দি করে যখন দেখে ওদের রাষ্ট্রপতি কদিন কদিন পর পর বিদেশে চিকিৎসার জন্য উড়াল দেন!

(মুজতবা খন্দকার, ঘাটাইল ডট কম)/-

পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যের ডিজি

তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জনপ্রশাসন সচিবের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তার পদত্যাগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, হ্যাঁ, তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে আমাকে তিনি জানাননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক অবসরে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে আবার দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক নিজে উদ্যোগী হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই নিয়োগ দেন।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-