ঘাটাইলে নতুন করোনা পজিটিভ ৬, জুলাই মাসেই আক্রান্ত ৪০

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চলতি মাসে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ জুলাই মাসের শেষ দিনে (৩১ জুলাই) প্রাপ্ত ফলাফলে চিকিৎসক সহ নতুন করে ছয়জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৬৬ জন।

ঘাটাইল ডট কমকে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে শুধু জুলাই মাসেই ঘাটাইলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ঘাটাইলে নতুন করে আরও ছয়জন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঘাটাইল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক সহ স্টাফ রয়েছেন চারজন।

তিনি বলেন, নতুন করে ঘাটাইলে করোনা আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে ঘাটাইল হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসক (২৮) রয়েছেন, যার বাড়ী টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায়। ঘাটাইল হাসপাতালে কর্মরত একজন স্বাস্থ্য সহকারি (৩৬) নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন, যার বাড়ী ঘাটাইল পৌর এলাকায়। ঘাটাইল হাসপাতালে কর্মরত একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্টের স্ত্রী (৩৭) করোনা পজিটিভ হয়েছেন, যার বাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে। এছাড়া ঘাটাইল উপজেলার পেচারআটা গ্রামের একজন পুরুষ (৪৩) করোনা পজিটিভ হয়েছেন, যার স্ত্রী ঘাটাইল হাসপাতালে কর্মরত। এছাড়াও ঘাটাইলে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন বেসরকারি ওষুধ কম্পানিতে চাকুরিরত একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (৩৭) ও ঘাটাইলের পাকুটিয়া এলাকার একজন নারী (২০)।

তিনি আরও বলেন, গত ২৯ জুলাই তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। আজ শুক্রবার ৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। করোনা পজিটিভ হওয়ার হার ৬০ শতাংশ।

এ নিয়ে ঘাটাইলে ৬৬ মানুষের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হল। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই ৪০ জন করোনা পজিটিভ হলেন বলে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল পৌর মেয়রের মাস্ক বিতরণ

মহামারি করোনাভাইরাসের বহুল সংক্রমণ রোধ ও গণ সচেতনতা তৈরির সহায়ক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাস্ক বিতরণ করেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘাটাইলের অন্যতম ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড ও বাজার রোড এলাকায় সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে এই মাস্ক বিতরণ করেন তিনি।

মাস্ক বিতরণকালে তিনি বাজার রোডের সকল ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত মত বিনিময় করেন। সে সময় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ও ঘরের বাইরে বের হওয়া লোকজনকে অবশ্যই মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করা, বৃদ্ধ ও শিশুদেরকে মার্কেটে আসতে নিরুৎসাহিত করা ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন পৌর মেয়র।

পরে ঘাটাইল পৌরসভার তরুণ মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ বাজার রোডের সকল দোকানপাটে ঘুরে ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতা সাধারণদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ সে সময় ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা অন্যতম সমাধান। আসুন আমরা সবাই নিরাপদ মাস্ক ব্যবহার করি। একান্তই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

এ সময় তিনি ঘাটাইল ডট কমের মাধ্যমে ঘাটাইল পৌরবাসী ও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘাটাইলের মহিয়ার মিয়া আর নেই

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিয়ার মিয়া আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে নিজ বাড়ি হামিদপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও বহু সহকর্মী এবং গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৫টায় মরহুম মহিয়ার মিয়ার জানাযা নামাজ উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মরহুম মহিয়ার মিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নাটশালা গ্রামে সামাজিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাযা নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান রানা, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান খান মোহন, দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, দিগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন প্রমুখ।

জানাযা নামাজে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবকসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

(রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের নামাজ মসজিদে আদায়ের নির্দেশনা জারি ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের

আগামী ১ আগস্ট সারা দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। বর্তমান সময়ে চলমান মহামারী করোনাভাইরাসের বহুল সংক্রমণ ঠেকাতে আসন্ন ঈদ-উল-আযহার নামাজ মহল্লার নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার নির্দেশ প্রদান করে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে এই নির্দেশনা জারি করে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘাটাইল পৌর এলাকায় মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব ও সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবং ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটাইল উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগস্ট মাস শোকের মাস। তাই জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলায় কোন স্থাপনা, ইমারত, বাসা বাড়ীতে কোনপ্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না। এছাড়া সাউণ্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈদের নামাজে জামাত শেষে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য এবং কোভিড-১৯ ও বন্যা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষ দোয়া করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য: করোনার প্রভাবে গত ঈদ-উল-ফিতরের নামাজে জামাতও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে আদায় করা হয়।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায় করা, কোলাকুলি না করাসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব নির্দেশনা জারি করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে:

  • করোনাভাইরাসের কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহার নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।
  • ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।
  • নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।
  • মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
  • ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজুর সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
  • মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।
  • জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে।
  • মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
  • নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
  • শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।
  • সর্বসাধারণের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
  • জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না।

নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়। খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয় সে নির্দেশনায়। এ ছাড়া পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে অটিস্টিক শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার নিয়ে কুয়েট ছাত্রলীগ

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার শাহপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রান্ত স্কুল প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।

উপহার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান রানা।

প্রায় শতাধিক অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপহার সামগ্রী বিতরন করা হয়। উপহার সামগ্রীর হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পাঁচ কেজি চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, দুধ, সাবান ঈদ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত বলেন, সমাজের পিছিয়ে পরা শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কুয়েট শাখা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, অটিস্টিক শিশুদের সম্পদে পরিনত করতে হবে। তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত কল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অটিস্টিক শিশুদের পাশে আছে।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কামরুজ্জামান রানা কুয়েট ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কুয়েট শাখার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি ছাত্রলীগের সকল ইউনিটি আমাদের শিশুদের পাশে থাকবে।

এছাড়া সমাজের সকল শ্রেণীর লোকজনকে অটিস্টিক শিশুদের পাশে থাকার আহবান জানান রানা।

উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে গ্রামের সকল শ্রেণীর লোকজন সে সময় উপস্থিত ছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বন্যা দুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী

ঈদুল আযহা উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশনায় আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুল এর উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের তিন শতাধিক দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী ও মাস্ক বিতরন করা হয়।

এসময় আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুল এর কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল হারুন, প্রধান প্রশিক্ষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনোয়রা আক্তার, মেজর মোঃ আল আমিন ভূঞা, মেজর রিদওয়ান হাসানসহ অন্যান্য সেনা সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

(আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ব্যস্ত ঘাটাইলের কামারশিল্পীরা

ঈদকে সামনে রেখে টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কামারশিল্পীরা। দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাড়ছে তাদের কাজের ব্যস্ততা।

তবে বিশ্ব জুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের আতঙ্কে থমকে আছে দেশ। তারপরেও প্রতিবারের তুলনায় এবছর কামারপল্লীতে কাজের চাপ অনেকটা কম দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটাইল উপজেলার পোরাবাড়ি, গারোবাজার, সাগরদিঘী, ধলাপাড়া, জোড়দিঘী বাজারসহ ছোট-বড় সব হাটের কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নতুন চাপাতি, ছুরি তৈরির পাশাপাশি চলছে পুরনো অস্ত্রে শান দেওয়ার কাজ।

জোড়দিঘী বাজারের সেন্টু কামার বলেন, ‘ঈদের আগে কাজে চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে প্রতিবারের চেয়ে এবছর করোনার কারণে কাজের চাপ অনেক কম। এজন্য বর্তমানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছি। আগে খুব সকালে দোকানে আসতাম আর বাড়ি যেতাম গভীর রাতে। এখন তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাসায় চলে যাই। গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি কাজ করে হাজার দেড়েক টাকা আয় হচ্ছে ২-৩ দিন ধরে। আগে এর চেয়ে বেশি আয় হতো।

তিনি আরো বলেন, একটি বড় দা পাঁচ কেজির লোহা দিয়ে তৈরি করে মজুরিসহ ৮০০ টাকা, এক কেজি ওজনের কুড়াল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাপাতি প্রকার ভেদে ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, বিভিন্ন আকারের ছোরা ৩৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা করে নিচ্ছেন তারা।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্য সময়ের চেয়ে এখন চাপাতি, চাকু, ছুরির দাম বেশি রাখা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জোড়দিঘীর কামারপট্টির কামারদের এখন কাজের চাপ কিছুটা বেশি। একের পর এক ক্রেতা এসে দোকানে ভিড় করছেন। আগের চেয়ে বর্তমানে একটু কম চাপ থাকলেও দোকান ছেড়ে যাওয়ারও কোন উপায় নেই। তাই সকাল, দুপুরের খাবার তারা দোকানে বসেই সেরে নিচ্ছেন। পুরনো দুইটি দা, একটি বটি ও একটি ছুরিতে শান দেয়ার জন্য ৩৫০ টাকা নিচ্ছেন। অন্য সময় মজুরি ছিল ১৫০ টাকা। আর নতুন একটি ছোরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বিভিন্ন সাইজের চাকু ৫০ থেকে ১০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

সাগরদিঘী বজারে আবুল কামার বলেন, ‘সারাবছরই আমাদের তৈরি জিনিসের কমবেশি চাহিদা থাকে। তবে ঈদে পশু কুরবানির জন্য নতুন ছুরি, চাপাতি, চাক্কুর কদর প্রতি বছরই বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে চাহিদা কম। তার পরেও কিছু তৈরি করে রাখছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে অন্য হাট-বাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন লৌহজাত জিনিস বানিয়ে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা রোজগার হতো। তবে ঈদের আগে লোহার অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১২শথ টাকা আয় হচ্ছে। ঈদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে এবছর সময় কম লাগছে। এবছর আমি নতুন কাজের অর্ডার নেয়া বন্ধ করিনি। গতবছর এসময় অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এবছর তার উল্টো।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাল্য বিবাহ বন্ধে বিবাহ নিবন্ধন আইন ও কাজীদের ভূমিকা শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ এর কার্যালয়ের প্রশিক্ষন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় অংশগ্রহনকারী কাজীরা বাল্য বিবাহ বন্ধে বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড প্রর্দশন করেন।

ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে কর্মশালায় প্রধান অতিথী ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা মোঃ আব্দুল মালেক।

এতে বিশেষ অতিথী ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কন্ঠের ঘাটাইল প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম।

উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কাজী খন্দকার আব্দুর রহিম, ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ ঘাটাইল শাখার প্রোগ্রাম অফিসার জেমস্ সানি বৈরাগী প্রমূখ।

কর্মশালায় উপজেলার সকল কাজীগণ অংশগ্রহন করেন। এছাড়া এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষকমন্ডলী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে উপস্থিত কাজীসহ সকলে বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং বাল্য বিবাহ না বলেন।

(রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে আরও দুইজন করোনা পজিটিভ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চলতি মাসে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) প্রাপ্ত ফলাফলে নতুন করে দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৫৬ জন। যাদের মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই করোনা আক্রান্ত ৩০ জন। ঘাটাইল ডট কমকে আজ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ঘাটাইলে নতুন করে আরও দুইজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন উপজেলার পাকুটিয়া এলাকার অধিবাসী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখায় কর্মরত কর্মকর্তার স্ত্রী, যিনি ইতোপূর্বে করোনা পজিটিভ হয়েছেন। অপরজন ঘাটাইল পৌরসভার শান্তি মহল এলাকার অধিবাসী ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।

ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ঘাটাইলে নতুন করে করোনা আক্রান্ত দুইজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে যে নারী করোনা পজিটিভ হয়েছে তিনি তার স্বামী থেকে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে তিনি জানান।

এ নিয়ে ঘাটাইলে ৫৬ মানুষের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হল। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই ৩০ জন করোনা পজিটিভ হলেন বলে তিনি ঘাটাইল ডট কমকে জানান।

ডা. মোঃ মমিনুল হাসান হিমেল আরও জানান, নতুন করে করোনা পজিটিভ হওয়া দুইজন ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে নমুনা দিয়েছিলেন। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায় তারা করোনা পজিটিভ।

জানা যায়, নতুন করে ঘাটাইলে করোনা পজিটিভ হয়েছেন উপজেলার দোয়াকান্দি পাকুটিয়া এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী দেলওয়ারা। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখায় কর্মরত ওমর আলীর স্ত্রী। এছাড়া করোনা পজিটিভ হয়েছেন পৌরসভার শান্তি মহল এলাকার অধিবাসী অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকরিয়াজ উদ্দিন (৭০)।

এদিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জানা যাচ্ছে, ঘাটাইলে করোনা সংক্রমিতর সংখ্যা এই মাসে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু জুলাই মাসের ২৭ দিনেই আক্রান্ত ৩০ জন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বনের ভূমি দখল করে ইউপি চেয়ারম্যানের লেবুর বাগান

অবৈধভাবে বনবিভাগের ভূমি দখল করে লেবুর বাগান করার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে।

সরকারি জমি দখল করে বাগান করায় মো.হাবিবুল্লাহ্ নামে এক ব্যাক্তি রোববার (২৬ জুলাই) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, বনবিভাগের সাগরদীঘি বিটের কামালপুর মৌজার জমি অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে দখল করে লেবুর বাগান করেছেন বর্তমান সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান।

দখল করা জমিতে ২০০৭-৮ অর্থ বছরে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়ন করে বনবিভাগ। সেই গাছ চেয়ারম্যান মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে সরকারি অর্থ ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন করেছেন।

সরেজমিনে তদন্ত করলে ভূমি দখলের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমি দখলের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, বনের জমিতে একটি ঘর ওঠাতে গেলে বনবিভাগের লোকদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে আমাদের নামে মামলা দেন তারা। কিন্তু চেয়ারম্যান এতো জমি দখল করে আছে তাকে কেউ কিছুই বলে না।

ওই জমির পাশেই বাড়ি কামালপুর গ্রামের মহি উদ্দিন সিকদারের (৭০)। তিনি জানান, কামালপুর মৌজার ৫০৭ নং দাগের ৩.৩৬ একর জমি মনিবের খাস, মানে বন বিভাগে সম্পত্তি।

একই গ্রামের দুলাল সিকদার বলেন, বনবিভাগের লোকদের হাত করে সরকারি সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে চেয়ারম্যান লেবুর বাগান করেছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার (বর্তমান) ওয়াজেদ আলী বলেন, চেয়ারম্যানের দখল করা ওই জমিতে প্লট আকারে সরকারি বাগান ছিল। অংশিদারের ভিত্তিতে প্লটগুলো ছিল অন্য লোকদের নামে। সেই গাছ কেটে তিনি লেবুর বাগান করেছেন।

অবৈধ দখলের কথা স্বীকার করে চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, শুধু আমি নই, অনেকেই বনের জমি দখল করেছে। আমি মাত্র দেড় একরের উপরে একটি জায়গায় লেবু ও বেগুনের বাগান করেছি। বনবিভাগ চাইলে জমি ফেরত দেব।

এ বিষয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, সাগরদীঘি বিটের অধিনে কামালপুর মৌজার ৫০৭ নং দাগের ওই জমিতে ২০০৭ -৮ সালে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছিল। তারপর আর বাগান করা হয়নি।

চেয়ারম্যান যদি বনের জমি দখল করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করা হবে বলে তিনি ঘাটাইল ্দূ দককমের নিকট উল্লেখ করেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জহিরুল হক ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম/-