কিংবদন্তি রুনা লায়লা

কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার নাম শোনেননি বাংলাদেশে এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। যারা গান নিয়মিত গান শোনেন তাঁরা তো জানেই এমনকি যারা গান শোনেন না তাঁরা সকলেই রুনা লায়লা নামটির সাথে পরিচিত। সবাই জানে রুনা লায়লা নামে আমাদের একজন অসাধারন শিল্পী আছেন যার গানের ভক্ত আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই।

বাংলা চলচ্চিত্রের গানের বিশাল ভাণ্ডারে যখন আপনি প্রবেশ করবেন তখন রুনা লায়লার অসংখ্য গান আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়া আধুনিক গানেও রুনা লায়লার গান আপনাকে মুগ্ধ করবে।

রুনা লায়লা এমন একজন শিল্পী যিনি চলচ্চিত্র, আধুনিক, ফোক , গজল , ক্লাসিক্যাল যে ধরনের গানই গান করেন না কেন সব গানেই সমান পারদর্শী, সব গানেই রুনার কণ্ঠটি অদ্ভুত সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায়। এমনকি চলচ্চিত্রে শিশু শিল্পীর ঠোট মেলানো গানও রুনার আছে অর্থাৎ তাঁর কণ্ঠের ধার এত শক্তিশালী যা আজো একইরকম রয়ে গেছে।

রুনা লায়লার পৈত্রিক বাড়ী রাজশাহীতে কিন্তু জন্মগ্রহন করেন সিলেটে ১৯৫২ সালের ১৭ই নভেম্বর। রুনার বাবা মোঃ ইমাদ আলী তখন চাকরীসুত্রে সিলেটে বাস করছিলেন ।মায়ের নাম অনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা। রুনার মা সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সুবীর সেন ছিলেন রুনা লায়লার মামা।

রুনার বড় বোন দিনা লায়লা’র কাছ থেকে গান শেখার অনুপ্রেরনা পান। কারন দিনা লায়লা গান শিখতেন তাই বড় বোনের দেখাদেখি রুনারও ইচ্ছে হলো গান শেখার।

রুনার বড় বোন দিনা একদিন অসুস্থ থাকায় বোনের পরিবর্তে রুনা মঞ্চে তানপুরা নিয়ে ‘খেয়াল’ পরিবেশনা করে সবার নজর কাড়েন। তাই মাত্র ১২ বছর বয়সে উর্দু ছবি ‘জগনু’ তে ‘গুরিয়াসি মুনি্ন মেরি’ গানটি গেয়ে প্রথম প্লেব্যাক করেন।

১৯৬৮ সালে ‘কমান্ডার’ চলচ্চিত্রের জন্য গান গেয়ে তিনি ‘নিগার ফিল্ম ক্রিটিক পুরস্কার’ পেয়েছিলেন। তত্কালীন পাকিস্তান টেলিভিশনেও তিনি নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন।

কিশোরী বয়সে রুনা যখন পশ্চিম পাকিস্তানে সিনেমার প্লে ব্যাক নিয়ে ব্যস্ত তখন সঙ্গীত পরিচালক সুবল দাস ও চিত্র পরিচালক নজরুল ইসলাম রুনাকে ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে গান করার অনুরোধ করেন।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লিখা ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে’ এই গানটি দিয়েই বাংলা চলচ্চিত্রের গানে প্রথম কণ্ঠ দেন রুনা যা তাঁর চলচ্চিত্রের প্রথম বাংলা গান।

১৯৭৫ সালে সাবিনা ইয়াসমিন এর সাথে ‘প্রতিনিধি’ ছবিতে ‘তুমি বড় ভাগ্যবতী’ গানটির মাধ্যমে প্রথম সাবিনার সাথে দ্বৈত গান করেন। কিন্তু এরপর সাবিনা ও রুনা বহুদিন একসাথে গান করেননি ।

স্বাধীনতার পর রুনা যখন ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে এসে সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন। তখন গান গাইতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সৈয়দ আব্দুল হাদী তো তাঁর সাথে অনেকদিন গানই করেননি। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে যান বাংলা চলচ্চিত্রের গানের এক অপরিহার্য শিল্পী।

এরপর একে একে রুনার কণ্ঠ থেকে আমরা পাই ‘আমার মন বলে তুমি আসবে ‘,‘আমি নদীর মতো কতো পথ ঘুরে’, ‘কার তরে নিশি জাগো রাই’ ‘যখন থামবে কোলাহল’ , ‘আয়রে মেঘ আয়রে ‘, ;বাড়ীর মানুষ কয় আমার ভুতে ধরেছে’ , ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম ‘ , ‘ মাগো তোর কান্না আমি সইতে পারিনা’, ‘ একা একা কেন ভালো লাগে না ‘ ‘ এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না ‘ গানগুলোর মতো জনপ্রিয় গান।

বাংলা ছবিতে রুনার অনেক অনেক জনপ্রিয় গান আছে যা চিরকাল শ্রোতাদের মনে থাকবে এবং যা বাংলা চলচ্চিত্রের ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ।

পাকিস্তানের সুরকার নিজাম বাসমীর সুরে একদিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেন যা ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড বুক’ কর্তৃপক্ষ লিপিবদ্ধ করেন।

১৯৮৩ সালে ১৯৮৩ সালে রিলিজ হওয়া অ্যালবাম “সুপার রুনা” প্রথম দিনেই ১ লাখ কপি বিক্রি হয়, ফলে এইচএমভি কর্তৃক উপহার পান গোল্ড ডিস্ক।

প্রথম স্বামী জাভেদ কায়সারের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর চিত্রনায়ক আলমগীরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

জাভেদ –রুনার সংসারে জন্ম নেয়া তানি লায়লা রুনার একমাত্র সন্তান।

রুনা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ৫বার – দি রেইন (১৯৭৬), যাদুর বাঁশী (১৯৭৭), অ্যাকসিডেন্ট (১৯৮৯), অন্তরে অন্তরে (১৯৯৪), তুমি আসবে বলে (২০১২) এবং স্বাধীনতা পদক (১৯৭৭) সহ বাচসাস পুরস্কার, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি পুরস্কার, নিগার অ্যাওয়ার্ড (পাকিস্তান) সহ আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলা চলচ্চিত্র থেকে রুনা লায়লার কিছু গানের লিংক পাঠকদের শোনার জন্য দিলাম

আমরা দুজন চিরসাথী – https://app.box.com/s/uyup6dokx2lymky48q19
যেন হাজার বছর তুমি – https://app.box.com/s/ezbkifdypsv93f52ml8c
তুমি আমার জীবন প্রিয় – https://app.box.com/s/9psj8ii657ikm5gvo1qd
আর যাবো না আমেরিকা – https://app.box.com/s/2v1g6xy2sqqk1iv657z8
ঠিক ঠিক মনে রবে – https://app.box.com/s/9fcbf3090741482df27f
কত ভালোবাসি আমি তোমাকে – https://app.box.com/s/ooccj35n6jgzbgvcgbxp
আয়রে মেঘ আয়রে – https://app.box.com/s/03drpv0e2ocoyn2vin61
আমার একদিকে পৃথিবী – https://app.box.com/s/91rx694dp9f0pz89n2lm
তুমি আমার জীবন – https://app.box.com/s/50b5ea42259a9509e196
বুকে আছে মন – https://app.box.com/s/u9t9qyj5j8v21xu3h904
সুন্দর সন্ধায় – https://app.box.com/s/n35iu7kvu0qnjjb3dg
প্রিয়া আমার প্রিয়া – https://app.box.com/s/iedpd7olgyu25talt646
একা একা কেন ভালো লাগেনা – https://app.box.com/s/ebw38rslc29kxlw2gvaw
বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম – https://app.box.com/s/xifrz8gzkdxlhcx21g1q
ঘর ছেড়েছি দুজনে – https://app.box.com/s/1ghl76a3n540n0kgcogg
মন মানে না – https://app.box.com/s/a00seaoh14hxtm09a24s
তুমি শরতবাবুর নও তো দেবদাস- https://app.box.com/s/2r68ktgz40qyzrkee61g
তোমরা কাউকে বলো না – https://app.box.com/s/ayrro9cogmfkia9ktprf
তোমাদের এই খুশির মেলায় – https://app.box.com/s/2l7aifuxq9ogidem60ok
মন্দ হোক ভালো হোক – https://app.box.com/s/fft2mck9fczt78qc55in
তোমাকে আমি কিছু বলতে চাই – https://app.box.com/s/0evdxb9sb9z01disl7jn

(ফজলে এলাহি, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা আক্রান্ত অমিতাভ

করোনায় আক্রান্ত হলেন ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তিনি নিজেই এ কথা টুইট করে জানিয়েছেন।

নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শাহেনশা-কে।

টুইটারে অমিতাভ লিখেছেন, ‘‘পরীক্ষায় আমার করোনা পজিটিভ এসেছে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে।

পরিবার এবং কর্মীদেরও করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ফলের অপেক্ষায় রয়েছি।

যাঁরা গত ১০ দিনে আমার কাছাকাছি এসেছেন তাঁদের পরীক্ষা করানোর জন্য অনুরোধ করছি।’’

শনিবার রাতে মুম্বইয়ের ভিলে পার্লের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। করোনা আক্রান্ত জানার পরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জুহুতে অমিতাভের বাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছেই এই নানাবতী হাসপাতাল। সেখানেই ভর্তি করা হয়েছে ৭৭ বছরের অভিনেতাকে।

করোনাভাইরাসের লকডাউনের এই গোটা সময় বাড়িতেই রয়েছেন অমিতাভ। ঘরে বসেই একটি ভিডিও শ্যুটে কাজ করেছিলেন। তবে এমনিতে তাঁর শ্যুটিংয়ের কাজ চলছিল অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নিয়ে। এখানে তাঁর সঙ্গে ছবিতে কাজ করছেন রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট। ইতোমধ্যে অমিতাভের কওন বনেগা ক্রোড়পতির অডিশনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে করোনা বিধি অনুযায়ী সরকারী নিয়মে তাঁকে শ্যুটিংয়ে নিষেধ করা হয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবারই পর পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। রুটিং চেকআপের পাশাপাশি মাঝে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যায় ভুগছিলেন বিগ-বি।

(আনন্দ বাজার, ঘাটাইল ডট কম)/-

শুভ জন্মদিন পূর্ণিমা

মাত্র ১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায়। সেখানে নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন সেই সময়ের হার্টথ্রব রিয়াজকে। প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

দিনে দিনে নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঢাকাই ছবির অন্যতম একজন অভিনেত্রী হিসেবে। তিনি মিষ্টি হাসির চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা।

আজ ১১ জুলাই, এই নায়িকার জন্মদিন। দেখতে দেখতে কাটিয়ে দিলেন জীবনের ৩৯ বসন্ত। এবারে তিনি ৪০তম বছরে পা রাখলেন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১৯৮১ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন পূর্ণিমা। সেখানেই কেটেছে শৈশব৷ কৈশোরে চলে আসেন ঢাকায়৷ ঘটনাক্রমে নাম লেখান সিনেমায়।

প্রায় দুই যুগের অভিনয় ক্যারিয়ারে শতাধিক দর্শকনন্দিত ছবি উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি ছোট পর্দা, অর্থাৎ টেলিভিশনেও করেছেন চমৎকার কিছু কাজ। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিলো না’ ছবির জন্য পূর্ণিমা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

রিয়াজের সঙ্গে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখেন। জনপ্রিয়তাও পান এই নায়কের সাথে জুটি বেঁধে। ‘এ জীবন তোমার আমার’, ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘শাস্তি’, ‘খবরদার’, ‘শ্বশুর জামাই’, ‘টক ঝাল মিষ্টি’ ইত্যাদি ছবিগুলো জুটি হিসেবে রিয়াজ-পূর্ণিমাকে অনন্যতা দিয়েছে।

রিয়াজের সঙ্গে জুটি হয়ে তুমুল সফলতা পেলেও আমিন খান, ফেরদৌস, মান্নাসহ অনেক নায়কের সাথে অভিনয় করেও দর্শকপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন এ নায়িকা।

ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর পারিবারিকভাবে আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা। ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল কন্যাসন্তান জন্ম দেন এ অভিনেত্রী। মেয়ের নাম রেখেছেন তিনি আরশিয়া উমাইজা। স্বামী সংসার নিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছে পূর্ণিমার দিন।

বর্তমানে সিনেমায় খুব একটা নিয়মিত নন। সর্বশেষ তার হাতে ‘জ্যাম‘ ও ‘গাঙচিল’ নামের দুইটি সিনেমা রয়েছে। যেগুলো পরিচালনা করছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব এক্টিভ পূর্ণিমা। প্রায় প্রতিদিনই ছবি দেন, যা তার ভক্তদের আন্দোলিত করে। জন্মদিন উপলক্ষে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুবরণ

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন আটবারের চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই বরেন্য শিল্পী। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে গত ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর থেকে রাজশাহীতে বোনোর বাসায় থাকছিলেন। তার দেখভাল করছিলেন বোনজামাই চিকিৎসক ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস। তবে গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে তার। অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়।

সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস এ তথ্য দেন।

এর আগে এন্ড্রু কিশোর মারা গেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার সে রাতেই তার স্ত্রী লিপিকা স্ট্যাটাস দেন।

সেখানে তিনি এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার উল্লেখ করে লিখেছিলেন, ‘এখন কিশোর কোনো কথা বলে না। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। আমি বলি কি ভাব, বলে কিছু না, পুরানো কথা মনে পড়ে আর ঈশ্বরকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, বেশি কষ্ট দিও না। ক্যান্সারের শেষ ধাপে খুব যন্ত্রণাদায়ক। এন্ড্রু কিশোরের জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায় এবং একটু শান্তিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে পারে।’

ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১১ জুন রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী চলে আসেন।

১৯৭৭ সালে এন্ড্রু কিশোর আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙ্গাল’ প্রভৃতি।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারের গ্রামই এখন নাঈমের ধ্যান-জ্ঞান

ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ খানের বংশধর নাঈম। বাবার সঙ্গে যেতেন আহসান মঞ্জিলে। আগেই জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়ে গেছে নবাবের বাড়ি। পুরান ঢাকায় যাতায়াত ছিল তাঁর, ছিল না আবাস। নাঈম বেড়ে উঠেছেন শাহবাগে। ছেলেবেলা কেটেছে মগবাজার এলাকায়। তাঁর মা টাঙ্গাইলের করটিয়া জমিদার বাড়ির মেয়ে। বাবা বাড়ি করেছিলেন দেলদুয়ারের পাতরাইলে। সেখানে টাঙ্গাইলের বিখ্যাত সব শাড়ির কারখানা। নানাবাড়ি আর বাবার বাড়িতে ছেলেবেলায় যেতেন নাঈম। তখন থেকেই গ্রামের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্কের বয়স ৪০ বছরের কম নয়।

’৯৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর আরও বেশি গ্রামমুখী হয়ে ওঠেন নাঈম। সিনেমা ছাড়ার পর গ্রামই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে। তাঁর এখনকার জগৎজুড়ে অনেকটাই পাতরাইল। গ্রামে তাঁর পুকুর আছে। পুকুরে মাছ চাষ করেন। আছে আম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের বাগান। আছে পশুর খামার। কৃষিজমিতে চাষাবাদও করেন। সবকিছুই পুরোপুরি বাণিজ্যিক। আর আছে তাঁতের কারখানা। মাসে সপ্তাহখানেক সেখানেই কাটাতে হয় তাঁকে। জড়িয়ে গেছেন গ্রামের মানুষের সুঃখ-দুঃখের সঙ্গে।

করোনাকালে গ্রামের যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাঈম। রোগীদের কীভাবে ঢাকায় আনা যায় কিংবা ওখানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া যায়, এসব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। গ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা মায়া-মমতায় মিশে অন্য এক রূপ ধারণ করেছে। গ্রামে একটা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে প্রতিবছরের জানুয়ারিতে মাসব্যাপী ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়। সেই আসরে ঢাকা থেকে রিয়াজ-ফেরদৌসরা যান। সেলিব্রিটিদের হাজিরায় অন্য মাত্রা লাভ করে গ্রামীণ ক্রিকেট।

এ রকম আরও সাংস্কৃতিক-সামাজিক কাজে জড়িয়ে আছেন নাঈম। গ্রামের মানুষের সঙ্গে জীবন বাঁধলেও রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা নেই নাঈমের। কখনো ভাবেনওনি রাজনীতি নিয়ে। সবার ডাকেই সাড়া দেন নাঈম। তবে একটা প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করানোর ইচ্ছা ভবিষ্যতে আছে। তাঁর সেবামূলক কাজগুলো যেন ছন্দ না হারায় ভবিষ্যতে, তার জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ার ইচ্ছা হৃদয়ে পুষে রেখেছেন। গ্রামের মানুষ শহরের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেন নাঈম।

নিজে শুধু নন, স্ত্রী শাবনাজ ও দুই মেয়েকেও তিনি গ্রামে নিয়ে যান। বড় মেয়ে নামিরা নাঈম এখন কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। এনভায়রনমেন্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজিতে গ্র্যাজুয়েশন করছেন নামিরা। সেখানে নাঈম ও শাবনাজের অনেক আত্মীয়স্বজন আছেন। পারিবারিক পরিবেশেই প্রবাসজীবন কাটছে তাঁর। ছোট মেয়ে মাহদিয়া নাঈম এ লেভেল সমমানের পরীক্ষা দিয়েছেন আগা খান একাডেমি থেকে। তাঁর গানের সঙ্গে দর্শক-শ্রোতাদের পরিচয় হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। বছর দুয়েক আগে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল তাঁর গান। গানটা মাহদিয়া শখের বশে করেন। গানটাকে সিরিয়াসলিও নিতে পারেন কখনো।

এখন দুই মেয়েরই প্রাধান্য পড়াশোনা। পড়াশোনায় দুজনেই মেধার পরিচয় দিয়েছেন।

নাঈম বলেন, মাহদিয়া গানের জন্য সময় বের করে মাঝেমধ্যে। বেশ কিছু গান করা আছে তার। করোনার জন্য গানগুলো রিলিজ দিচ্ছে না। নামিরার শখ পেইন্টিংয়ের দিকে। পড়াশোনার চাপের জন্য আপাতত ওদিকে বেশি ঝুঁকতে পারছে না। ব্যবসার বাইরে পরিবারকেই সময় দেন নাঈম। কিন্তু তাঁর একসময়ের আরেক পরিবার সিনেমা।

নাঈম জানান, তিনি যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের সঙ্গেই যোগাযোগটা ধরে রাখা গেছে। এঁদের মধ্যে অনেকে না–ফেরার দেশে চলে গেছেন। এহ্‌তেশাম, মুস্তাফিজ, শিবলী সাদিকরা চলে গেছেন। আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। রিয়াজ ফোন করেন। ওমর সানী খোঁজ নেন। অমিত হাসানও খবর রাখেন। কিছুদিন আগে রোজিনা আপার বাসায় বেড়িয়ে এসেছেন নাঈম। নাটকের অনেকের সঙ্গে ওঠাবসা আছে। সবচেয়ে ভালো যোগাযোগ আফসানা মিমির সঙ্গে। ‘দিল’ ছবিতে যাঁরা কাজ করেছেন, কিছুদিন আগে তাঁরা একত্র হন। শবনম, মিমি আর নাঈম-শাবনাজ মিলে পুরোনো দিনের গল্পে–আড্ডায় মেতে ওঠেন।

তবে এফডিসিতে যাওয়া হয় না। করা হয় না শুটিং। সাংগঠনিক কোনো উৎসব থাকলে যাওয়া হয়। তাঁদের পেলে সিনেমার মানুষেরা খুশিতে নেচে ওঠেন। নাঈম-শাবনাজ অল্পসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেছেন। অথচ এ ছবিগুলোর জনপ্রিয়তা বিপুল। তাঁদের ছবির কথা ঘুরেফিরেই আড্ডা-আলোচনায় আসে। অমন ছবি এখন হচ্ছে না বলে আফসোস শোনা যায় লোকের মুখে। কী সেই রহস্য, যার জন্য ছবিগুলোর আজও এত কদর!

মুখ খোলেন নাঈম, ‘আসলে আমি কোয়ান্টিটি থেকে কোয়ালিটিতে বেশি বিশ্বাস করতাম। বছরে ১০–২০টি ছবি করে তো লাভ হচ্ছে না। আমার যখন একটা ছবি হিট হয়ে যায়, তখন একের পর এক ছবির অফার আসে। প্রচুর ছবি রিফিউজ করেছি। আমি চিন্তা করে দেখেছি, বছরে চার–পাঁচটার বেশি ছবি করা ঠিক হবে না। গণহারে ছবি করে শুধু স্ক্রিনে আমি থাকব, এর কোনো মানে হয় না।

আমি যখন আসি, তখন সিনিয়ররা ছিলেন। নতুনেরা তেমন আসেনি। তারা আসে একটু পরে। অত ছবি করিনি আমি। তারপরও যে দর্শকেরা এখনো মন থেকে ভালোবাসার জায়গাটা আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ। ১০০ ছবি করেও অনেকে এই জায়গাটা হয়তো পাননি। এর আনন্দ আলাদা, তৃপ্তি অনেক বেশি। অনেক বড় বড় ছবি, বেশি ছবি করেও অনেকে দর্শকদের হৃদয়ে থাকতে পারেননি।’

এ জন্য তখনকার সময়কে কৃতিত্ব দেন নাঈম। ‘দর্শক নতুনদের দেখতে চাচ্ছিলেন। আমরা একটা রোমান্টিক ছবি করলাম। দর্শকেরা লুফে নিলেন। মানুষ একটা জিনিস দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবর্তনটা ওভাবেই এসেছিল। আমরা যখন ছবি করেছি ডিশ কেব্‌ল ছিল না। এক বিটিভি ছিল। মানুষের বিনোদন ছিল টিভিতে নাটক আর সিনেমা হলের ছবি। বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম ছিল না। পরে বিভিন্ন দেশের সিনেমা ঢুকে গেল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক পিছিয়ে গেল।’

সিনেমা ছেড়েছেন দুই দশক আগে। এখনো নাঈম-শাবনাজ জুটি নিয়ে চর্চা হয়। প্রশ্ন ওঠে এখনকার জুটিদের জনপ্রিয়তা নিয়ে। কীভাবে কালজয়ী জুটি হয়ে উঠেছিলেন নাঈম-শাবনাজ? ‘জুটি মানেই নাঈম-শাবনাজ বললে ভুল হবে। আমাদের আগেও জুটি ছিল। শাবানা–আলমগীর ছিলেন। রাজ্জাক-কবরী ছিলেন। কিংবদন্তি জুটি ছিলেন তাঁরা। তাঁদের পরে বলতে বললে হয়তো আমাদের কথা আসবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে আমাদের জুটির কথা আসতে পারে।

জুটি তৈরির পেছনে কেমিস্ট্রিটা ঠিক আছে কি না, দেখতে হবে। নায়ক ও নায়িকার বোঝাপড়াটা ঠিক আছে কি না, নায়কের ডায়ালগের জবাবটা কী দিচ্ছে নায়িকা, সংলাপ না থাকলে এক্সপ্রেশনটা কী দিচ্ছে, এগুলোকেই কিন্তু কেমিস্ট্রি বলে। সেই কেমিস্ট্রি যদি সুন্দর হয়, দর্শকদের কাছে ভালো লাগে, দর্শকই নায়ক-নায়িকাকে জুটিতে পরিণত করে ফেলেন।’

তখনকার কাজের পরিবেশ নিয়ে নাঈম স্মৃতিকাতর। বলেন, ‘আমরা গল্প নিয়ে বসতাম। চরিত্র নিয়ে বসতাম। গান রেকর্ডিংয়ে যেতাম। কী পোশাক পরব, সেসব নিয়ে বসতাম। ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যানসহ বসা হতো। পুরো একটা পরিবার যেন। একটা ছবির কথা বলি। ‘দিল’ ছবি করার সময় আজিজুর রহমানের স্ত্রী সেটে থাকতেন। ভাবি হয়তো শাবনাজের চুল ঠিক করে দিচ্ছেন। আজিজ ভাই বলতেন, নাঈম, তুই এটা পরিস না। এটা পর। এভাবে তখন কাজ হতো।’

হোমওয়ার্কটা যদি ভালো হয়ে যায়, তবে শুটিংটা ভালো হবে। আগে থেকে যদি লাইট কী নেব, কতটুকু কী নেব, টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো ঠিক করে নেওয়া যায়, তবে ছবি খারাপ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তখন ছবি কম করায় বেশি সময় দিতে পারতাম। তখন কোনো এফডিসির ফ্লোর খালি থাকত না। সর্বত্র শুটিং হচ্ছে। কেউ সিলেটে শুটিং করছে, কেউ কক্সবাজারে আবার কেউ বিদেশে। তখন জমজমাট ছিল সিনেমাটা।

বলা বাহুল্য, খাজা নাঈম মুরাদ তথা চিত্রনায়ক নাঈমের প্রথম ছবি এহ্‌তেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’। এখান থেকে নাঈম-শাবনাজ জুটির যাত্রা শুরু। নাঈম অভিনীত ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চোখে চোখে’, ‘সোনিয়া’, ‘দিল’, ‘টাকার অহংকার’, ‘লাভ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘জিদ’, ‘বিষের বাঁশি’ ইত্যাদি। তাঁর প্রযোজিত একমাত্র ছবি ‘আগুন জ্বলে’। নাঈম অভিনীত শেষ ছবি ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ২০০১ সালে মুক্তি পায়। এটা নাঈম-শাবনাজ জুটিরও শেষ ছবি। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কয়েক বছর পর ‘কাচঘর’ নামে একটা ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন নাঈম। এতে তিনি অভিনয়ও করেন।

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

পর্নোগ্রাফি বন্ধে তৎপরতার মধ্যে ওয়েব সিরিজের নামে নীল ছবি

অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে অশ্লীলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেন্সর না থাকায় ওয়েব সিরিজে উদ্ভট গল্প, অশালীন দৃশ্য, নোংরা সংলাপ ব্যবহার যেন আজ আর নতুন কোনো বিষয় নয়। আর এই স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন

আমাদের নাটকের জনপ্রিয় কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী। গল্পের প্রয়োজনে গালি ব্যবহার করা হলেও টিভি নাটকের সেই অংশের শব্দটুকু সাধারণত মুছে দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য ব্যবহার ও  সেবন করার দৃশ্যে ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ লেখা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজে এ ধরনের সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়নি।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনায় তিনটি ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গ। স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ইউটিউবে মুক্তি পেয়ে রীতিমতো বিতর্ক উসকে দিয়েছে এই ওয়েব সিরিজগুলো। ওয়েব সিরিজ তিনটি হলো- ওয়াহিদ তারিকের ‘বুমেরাং’, সুমন আনোয়ারের ‘সদরঘাটের টাইগার’ ও শিহাব শাহীনের ‘আগস্ট ১৪’।

অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, মৌটুসী বিশ্বাস, শ্যামল মওলা, হিল্লোল, ইমি, অর্ষা, তাসনুভা তিশা, ফারহানা হামিদ, আবু  হুরায়রা তানভীরসহ অনেক জনপ্রিয় তারকা।

গত ২৭ মে অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ শিহাব শাহীন পরিচালিত ক্রাইম থ্রিলার ‘আগস্ট ১৪’। গল্প থেকে বোঝা যায়, ঐশী নামের বখে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের গল্প এটি। ২০১৩ সালে যে মেয়েটি মা-বাবাকে নির্মমভাবে খুন করেছিল। আলোচিত  সেই ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিরিজটি।

এই ধারাবাহিকে তুশি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। সেখানে দেখা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, বাসায় একা নীল ছবি দেখার মুহূর্তসহ নানা দৃশ্য।

থ্রিলারের শুরুতেই বলে নেওয়া হয়, এটি ১৮ বছরের কম বয়সী দর্শকের জন্য নয়। আর এমন দৃশ্যগুলোতে অবলীলায় অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। যেভাবে আগে কখনোই তাকে দেখা যায়নি।

এই সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, মনিরা মিঠু, শাওন, তানভীর প্রমুখ।

তাসনুভা তিশা বলেন, ‘ওখানে গল্পের বাইরে কিছু ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব ডিসেন্টলি কাজ করতে, তার চেয়েও কম এক্সপোজড করতে। দৃশ্যগুলো যেন দর্শকের ভালো লাগার মনে না হয়। অসংলগ্নতা হয়তো কিছুটা ছিল। ভাষার ব্যবহার বা অন্য যাই বলি, সেগুলো চরিত্রের জন্য করতে হয়েছে, যা আমি নরমালি নাটকের জন্য কখনো করি না। এখন কেউ যদি নেগেটিভ কিছু বলেন, তাতে কিছু যায় আসে না। এমনিতেও বলবেন। কিছু না হলেও বলবেন। অনেকেই তো খুব প্রশংসা করেছেন।

শ্যামল মওলা-মৌটুসী, আদনান ফারুক হিল্লোল-নাজিয়া হক অর্ষা, ইমি-আবু হুরায়রা তানভীর অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘বুমেরাং’ মুক্তি পেয়েছে ঈদে। এটি নির্মাণ করেন সিনিয়র নির্মাতা ওয়াহিদ তারেক। সিরিজের শুরুটাই চমকে দেবে দর্শককে।

পর্দায় বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীদের এত নিবিড় বিছানার দৃশ্য এর আগে কখনো  দেখানো হয়েছে কিনা, তা নিয়েও ভাবাবে। ‘বুমেরাং’ এই সিরিজের অন্য একটি পার্টে অভিনয় করেছেন মৌটুসী বিশ্বাস, শ্যামল মওলা, ইমিসহ আরও অনেকেই।

এই গল্পটি সাজানো হয়েছে এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার নিয়ে। এতে বেশ কয়েকটি চুমো ও যৌন দৃশ্য রয়েছে। সেই দৃশ্যগুলোর স্ক্রিনশট এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই ওয়েব সিরিজ দুটি আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস বলেন, ‘অনেকে বলছেন, আমাদের নাটক ধ্বংস হয়ে যাবে! তাদের আমি বলছি, এটি নাটক নয়, একটি ওয়েব সিরিজ। শুধু তা-ই নয়, এটি ইউটিউবের মতো ওপেন প্লাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার কথাও ছিল না। একটি নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে সাবস্ক্রাইবেশন ফি দিয়ে  দেখতে হবে এটা বলা হয়েছিল। তার মানে এটি একটি ১৮+ গল্প।

সুতরাং যে দেখবে সে প্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্তবয়স্করা এ ধরনের কাজ নিয়মিতই দেখছে। আমরা যে কাজটি করেছি তার গল্প যেদিকে  গেছে, সেভাবে শুধু অভিনয়টুকু করেছি। কতটা শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজটা করেছি, তা শুটিং স্পটে থাকলে আপনারা বুঝতেন।’

‘সদরঘাটের টাইগার’ সুমন আনোয়ার পরিচালিত ওয়েব সিরিজ। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ছোট পর্দার অভিনেতা শ্যামল মওলা। তার বিপরীতে লাইলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহানা হামিদ।

গল্পে দেখা যায়, সদরঘাটের শ্রমিক টাইগার। সে লাইলীকে ভালোবাসে। লাইলী পতিতা। তাদের মধ্যে প্রেম হয়। এরপর ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে।

এই ওয়েব সিরিজের অধিকাংশ সংলাপে একাধিকবার অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু শব্দগুলো মুছে দেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ প্রসঙ্গে শ্যামল মওলা বলেন, ‘এই ওয়েব সিরিজের রেসপন্স বেশ ভালো! বাংলাদেশে এই বাজেটের এই লেভেলের ওয়েব সিরিজ করা সাহসের ব্যাপার!’ সমালোচনা তো থাকবেই! নতুন কিছু যখন হয় তখন কেউ খুশি হবেন, কেউ অখুশি হবেন- এটাই তো স্বাভাবিক। বিষয়টি পরিচালকের ব্যাপার। আমার ভূমিকা হচ্ছে অভিনয় করা। আশা করছি আপনারাও এপ্রিসিয়েট করবেন। দুনিয়া যেভাবে চলছে আমরাও সেভাবে চলছি!’

২০১৭-১৮ সালে অনলাইনে মুক্তি পাওয়া কিছু নাটকে দেখা যায় কতিপয় তারকার খোলামেলা দৃশ্য। সেই সময় ‘আবাসিক হোটেল’, ‘হেলেন অব ট্রয়’ সিরিজগুলোতে কিছুটা খোলামেলা দৃশ্য থাকায় বেশ সমালোচনার মুখেও পড়েন সেগুলোর নির্মাতা এবং শিল্পীরা। এরপর শ্যামলের ‘আন্ডারশেভ’ও ছিল অশ্লীল দৃশ্যে ভরা।

নির্মাতা ও প্রযোজকরা মনে করেন, দর্শকদের অনলাইন প্লাটফর্মমুখী করতেই বিদেশি ওয়েব সিরিজের অনুকরণে কনটেন্ট নির্মাণ করতে চাইছেন  দেশি নির্মাতারা। সে ক্ষেত্রে তারা এরকম কিছু দৃশ্য জুড়ে দিচ্ছেন, যা ২০০০ সাল পরবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রের কাটপিসের মতো। এসব ওয়েব সিরিজের বাজেট নাটকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সে কারণে অভিনয়শিল্পীদের আগ্রহও থাকে বেশি।

প্রযোজকদের আগাম শর্ত  মেনে চুক্তি করেই কলাকুশলীরা যুক্ত হন এসব সিরিজে। টিভি প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজু মনতাসির বলেন, ‘আমরা শুনেছি, নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের বাইরের কিছু প্রযোজক শিল্প-সংস্কৃতির তোয়াক্কা না করে সুড়সুড়ি জাগানো কাজ করছেন।

এসব ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। আমরা শিল্পী এবং নির্মাতাদের নৈতিকভাবে সৎ থাকতে অনুরোধ করতে পারি।’

চলচ্চিত্রে নোংরা সংলাপ, অশ্লীল পোশাক, নকল গল্পের ওপর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু নাটক বা ওয়েব সিরিজের কোনো সেন্সর নেই। তারই সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ।

সরকার যেখানে পর্নোগ্রাফি বন্ধে তৎপর, সেখানে ওয়েব সিরিজের নামে এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে যারা টেলিভিশনে নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রেখে অভিনয় করছেন, তাদেরই ওয়েব সিরিজে অশালীন দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখে বিস্মিত হচ্ছেন অনেকে।

(আলী আফতাব, ঘাটাইল ডট কম)/-

গেরিলা থেকে সুরেলা আজম খান

একজন পপ গুরু, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যান্ডসম্রাট, ক্রিকেটার, সংগঠক, গায়ক, অভিনেতা, মডেল আজম খান। তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। দীর্ঘদিন দূরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধির সাথে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন রোববার সকাল ১০টা ২০মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার জন্য প্রয়াণ দিবসের বিনম্র ভালবাসা, শ্রদ্ধাযুক্ত স্মরণ।

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান, মা জোবেদা খাতুন।

১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসঙ্গীত প্রচার করেন।

১৯৭১ সালে আজম খানের বাবা আফতাব উদ্দিন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকায় বাবার অনুপ্রেরণায় যুদ্ধে যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যুদ্ধ শুরু হলে, তিনি তার দুই বন্ধু সহ পায়ে হেঁটে আগরতলা চলে যান। এসময় তার লক্ষ্য ছিল সেক্টর ২’এ খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধে যোগদান করা।

আজম খান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ২১ বছর বয়সে। তার গাওয়া গান প্রশিক্ষণ শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরনা যোগাতো। তিনি প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন ভারতের মেলাঘরের শিবিরে। যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি কুমিল্লায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সন্মুখ সমরে অংশ নেয়া শুরু করেন। কুমিল্লার সারদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন, এরপর ফিরে যান আগরতলায়। তারপর তাকে পাঠানো হয় ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিতে।

আজম খান ছিলেন দুইনম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইন-চার্জ, সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল খালেদ মোশাররফ। ঢাকায় তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নেন। মূলত তিনি যাত্রাবাড়ি- গুলশান এলাকার গেরিলা অপারেশনগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল তার নেতৃত্বে সংঘটিত ‘অপারেশান তিতাস’।

তাদের দায়িত্ব ছিল ঢাকার কিছু গ্যাস পাইপ লাইন ধ্বংস করার মাধ্যমে বিশেষ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হোটেল পূর্বাণী ইত্যাদির গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো। তাদের লক্ষ্য ছিল, হোটেলে অবস্থানরত বিদেশীরা যাতে বুঝতে পারে, দেশে যুদ্ধ চলছে।

এই অপারেশনে তিনি বাম কানে আঘাত পান, পরবর্তীতে এই আঘাত আজম খানের শ্রবণ ক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটায়। যুদ্ধে বাঁ কানে আঘাত পান, তারপর থেকে আজীবন ভালো শুনতে পেতেন না। তবু গান থামেনি।

“প্রশিক্ষণ শেষে সন্ধা ৬টার পর সদলবলে সবাই ক্যাম্পে আত্মশক্তি জাগানোর জন্য বাটি, চামচ, ক্যান, কৌটা, ডিব্বা পিটিয়ে বাজিয়ে সবাই মিলে গাইতেন গণসংগীত।”, বাবাকে নিয়ে আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন ইমা খান।

স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়লাভ করে আজম খান তার সঙ্গীদের নিয়ে পুরোপুরি ঢাকায় প্রবেশ করেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। এর আগে তারা মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে সংগঠিত যুদ্ধে পাক সেনাদের পরাজিত করেন।

আজম খানের কর্মজীবনের শুরু হয় ষাটের দশকের শুরুতে। ১৯৭১ সালের পর তার ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ এবং আখন্দ (লাকী আখন্দ ও হ্যাপী আখন্দ) ভাতৃদ্বয় দেশব্যাপী সঙ্গীতের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে তরুণ প্রজন্ম যখন খুব দ্রুতই হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেলো, তখন আজম খানের মনে হলো এই তারুণ্যকে কোনো একটা আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করা না গেলে এরা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসবে।

বন্ধু নিলু আর মনসুরকে গিটারে, সাদেক ড্রামে আর নিজেকে প্রধান ভোকাল করে করলেন অনুষ্ঠান। ১৯৭২ সালে বিটিভিতে ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষীদেবে’ গান দু’টি প্রচার হলে তুমুল প্রশংসা ও জনপ্রিয়তা পান আজম খান, দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যায় তাদের দল।

১৯৭৪’৭৫ সালের দিকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাংলাদেশ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে) শিরোনামের গান গেয়ে হৈ-চৈ ফেলে দেন।

আজম খানের পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তী কালে তার মাধ্যমে পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজের সাথে। একসাথে বেশ কয়েকটা জনপ্রিয় গান করেন তারা।

এরই মধ্যে আরেক বন্ধু ইশতিয়াকের পরামর্শে সৃষ্টি করেন একটি এসিডরক ঘরানার গান ‘জীবনে কিছু পাবোনা এ হে হে!’। আজম খানের দাবী, এটি বাংলা গানের ইতিহাসে প্রথম হার্ডরক।

মুক্তিযুদ্ধকালে যেভাবে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন, যুদ্ধের পরও আবার কণ্ঠে তুলে নিলেন গান। নতুন ধরনের গান। গেয়ে ওঠেন সালেকা মালেকা আর আলাল দুলালদের গান, রেল লাইনের বস্তিতে সন্তানহারা মায়ের কান্না তুলে আনেন গিটারের ছয়তারে, হারিয়ে যাওয়া অভিমানীকে খুঁজে ফেরেন গানে গানে আর পেয়েও হারিয়ে ফেলার আর্তনাদে ভরে তোলেন বাংলা গানের আকাশ…

১৯৮৬ সালে ‘কালাবাউল’ শিরোনামের একটি নাটকে কালা বাউলের চরিত্রে এবং ২০০৩ সালে শাহীন-সুমন পরিচালিত ‘গডফাদার’ চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হন। এরপর ২০০৫’০৮সালে বাংলালিংক এবং ২০১০ সালে কোবরা ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মডেল হন।

খেলাধুলায়ও ব্যাপক আগ্রহ ছিলো আজম খানের। ক্রিকেটার হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন এ পপতারকা। গোপীবাগ ফ্রেন্ডসক্লাবের হয়ে ১৯৯১’২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন। ৯ বছরে অনেকগুলো ক্রিকেট ম্যাচে নিজের খেলোয়ার প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন আজম খান। দেশে-বিদেশে অনেক চিকিৎসাও তাকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। অসাধারণ প্রতিভা ও দৃপ্ত কণ্ঠের একসংগীত জাদুকরের জীবন থেমে যায় ৬১ বছর বয়সে।

দীর্ঘদিন দূরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধির সাথে লড়াই করে ৫জুন ২০১১ রোববার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আজম খান।

আজকের এই দিনে পৃথিবী থেকে চলে গিয়ে আজম খান রেখে গেছেন তার নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সুরেলা সংগ্রাম এবং বাংলা ব্যান্ড নিয়ে আজীবন মগ্ন থাকার উপাখ্যান।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

শুভ জন্মদিন হুমায়ুন ফরীদি

তিনি আজ (২৯ মে) ৬৮ বছর ছুঁতেন; যদি না ৮ বছর আগে হুট করে চলে যেতেন। শুভ জন্মদিন, বহুমাত্রিক অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। ১৯৫২ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন, ঢাকার নারিন্দায়।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র। সমানতালে তিন দশক দাপট ছিল এই অভিনেতার। অভিনয়ের মাধ্যমে আমৃত্যু ছড়িয়েছেন জীবনের বর্ণিল আলো। অথচ তার ব্যক্তিজীবনটা ছিল পুরোটাই সাদামাটা।

১৯৭০ সালে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্থগিত হয়ে যায় পড়াশোনা। স্বাধীনতার পর অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেধার স্বাক্ষর রাখেন প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক সম্মান পরীক্ষা পাস করেন। এমন ফল নিয়ে নিশ্চিন্ত পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন অভিনয়কে, যেখানে অনিশ্চয়তা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবন শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’,‌ ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি।

প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুলজীবনে, নাম ‘ভূত’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীর্ত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত চরিত্র কানকাটা রমজানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই।

হুমায়ুন ফরীদির প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’। যার বেশিরভাগই সুপারহিট। বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন নতুন মাত্রা। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র শুরু হয় তার। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে।

হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত শেষ ছবি ‘এক জবানের জমিদার, হেরে গেলেন এবার’। ছবিটি ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন উত্তম আকাশ।

নিয়মিত টিভি অভিনয়ের পাশাপাশি হুমায়ুন ফরীদি তেমন একটা লিখতেন না। তবে কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন।

দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই ঘরে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নাম দেবযানি। পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি সবার প্রিয় অভিনেতা হিসেবে এখনও আবিষ্ট করে রেখেছেন অগুনতি দর্শক-সমালোচকদের।

যার প্রমাণ মিলেছে চলমান করোনাকালেও। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘অকশন ফর অ্যাকশন’-এর আয়োজনে নিলামে তোলা হয় হুমায়ুন ফরীদির ব্যবহৃত বস ব্র্যান্ডের একটি চশমা। ১ মে নিলামে তোলার পর চশমাটি বিক্রি হলো ৩ লাখ ২৫ হাজার ১২ টাকায়!

২০১২ সালে ফাল্গুনের প্রথম দিনে (১৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথিবীর সব আলো পেছনে ফেলে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান প্রয়াত

ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এর আগে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ছিলেন ইরফান খান।

তিনি নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমস।

মাত্র চার দিন আগে ইরফান খানের মা মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তার মা সাইদা বেগম। গত শনিবার রাতে ভারতের জয়পুরে তিনি মারা যান। মায়ের মৃত্যুর এ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি অভিনেতা ইরফান খান, শেষ দেখাও হয়নি। তবে ভিডিওকলে মায়ের দাফন কার্যক্রম দেখেছেন দূর থেকে।

ইরফানের জন্ম রাজস্থানের জয়পুরে। তার পরিবার এখনও সেখানেই থাকে। সেখান থেকেই দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় পড়তে আসেন। এরপর পাকাপাকিভাবে যোগ দেন বলিউডে।

২০১৮ সালে ইরফানের ‘কারওয়াঁ’ মুক্তি পায়। ‘কারওয়াঁ’র প্রচারেও ছিলেন না ইরফান। লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে খানিক সুস্থ হয়ে তিনি ‘আংরেজি মিডিয়াম’-এ কাজ করেন।

অনুরাগীদের উদ্দেশে কিছুদিন আগে টুইটারে ইরফান লেখেন, “জীবনে জয়ী হওয়ার সাধনায় মাঝে মধ্যে ভালবাসার গুরুত্ব ভুলে যাই আমরা। তবে দুর্বল সময় আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের পরবর্তী ধাপে পা রাখার আগে তাই খানিক ক্ষণ থমকে দাঁড়াতে চাই আমি। অফুরন্ত ভালবাসা দেওয়ার জন্য এবং পাশে থাকার জন্য আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের এই ভালবাসাই আমার যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে। তাই ফের আপনাদের কাছেই ফিরছি। অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সকলকে।” ফিরে এসেছিলেন ইরফান। তাঁর শেষ মুক্তি পাওয়া ছবি ‘আংরেজি মিডিয়াম’ লকডাউনের জেরে থিয়েটার রিলিজ হয়নি।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কখনও মুহূর্তের জন্য দুর্বল হননি তিনি। ইরফান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন , ‘‘নমস্কার ভাই-বোনেরা। আমি ইরফান। আপনাদের সাথে একপ্রকার রয়েছি আবার নেইও! ‘আংরেজি মিডিয়াম’ ছবিটি আমার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করুন, যেভাবে ভালবেসে ছবিটা তৈরি করেছি, ঠিক সেভাবেই এর প্রচার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার শরীরে কিছু অযাচিত অতিথি এসে বাসা বেঁধেছে, তাদের সঙ্গেই আপাতত কথাবার্তা চলছে। দেখি কী হয়! যাই হোক না কেন, আপনাদের জানাব।’’

এর পরেই সেই ভিডিয়োতে ইরফান খানকে বেশ মজা করে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘প্রবাদ রয়েছে যে, ‘জীবন যখন আপনার হাতে লেবু ধরিয়ে দেবে ওটা দিয়ে লেমোনেড (শরবত) বানিয়ে খাওয়া উচিত।’ এমন বলা কিন্তু খুবই সহজ, কিন্তু বাস্তবে যখন সত্যি আপনার হাতে জীবন একটা লেবু ধরিয়ে দেবে ওটা দিয়ে ‘শিকাঞ্জি’ বানানোটা বড়ই কঠিন। বাস্তবটা খুবই মুশকিল। যদিও পজিটিভ ভাবনাচিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকাই জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আশা করছি, এই ছবি থেকে আপনারা অনেক কিছু শিখতে পারবেন। আপনাদের যেমন হাসাবে, তেমন কাঁদাবেও। ট্রেলারের আনন্দ নিন এবং ছবিটা দেখুন। আর হ্যাঁ আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।’’

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন নায়ক হেলাল খানের বাবা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ‘হাছন রাজা’ খ্যাত নায়ক হেলাল খানের বাবা মাওলানা আব্দুন নুর খান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। হেলাল খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ড গুড সামারিটান হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নেয়াকালীন গত ২৫ এপ্রিল দিবাগর রাত ১টা ১৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন হেলাল খানের বাবা।

এর আগে নায়ক ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল খান তার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মৌলানা আব্দুন নুর খান করোনায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটা হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।’

বাবার জন্য দোয়া চেয়ে হেলাল খান সেই পোস্টে আরও জানান, তার ছোট ভাই মাহবুব খান ও তার স্ত্রী নাসরিন মুন্নিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তারা দুজন অনেকটা সুস্থতার পথে।

এদিকে হেলাল খানের পিতৃবিয়োগের খবরে শোক প্রকাশ করেছেন সিনেমাপাড়ার মানুষেরা। সবাই বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

(জাগো নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-