ফাঁকা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই গরুবাহী ট্রাকের চাপ। কোরবানি ঈদের গরুর ট্রিপ না পাওয়ায় হতাশ ট্রাকচালক এবং মালিকরা। বন্যা আর করোনাভাইরাসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

টাঙ্গাইল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ট্রাকের সংখ্যা চার হাজার ২০০। কিন্তু এবার বন্যা আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে কোনো ট্রাকের ভাড়া নেই।

বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে টাঙ্গাইল মহাড়কের আশেকপুর বাইপাসে দেখা গেছে এমন চিত্র। বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলাচল করলেও নেই গরুবাহী ট্রাকের চাপ। অন্যান্য বছর এ সময় গরুবাহী ট্রাকের কারণে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হলেও এবার ফাঁকা এই মহাসড়ক। বাস চলাচল করলেও যাত্রীদের তেমন চাপ নেই।

ট্রাকচালক খলিল মিয়া বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের আগে এমন সময় ঢাকায় গরুর দুই ট্রিপ নিয়ে গেছি। গতবার তেমন গরুর ট্রিপ মারিনি। ট্রিপ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপরও দুই ট্রিপে ২২ হাজার টাকা ইনকাম করেছিলাম। এবার কোনো গরুর ট্রিপ পাইনি। গতবার পেয়েও নেইনি এবার চেয়েও পাই না।

ট্রাক মালিক রহমান ও মজিবরসহ কয়েকজন জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে ট্রাক মালিক ও চালকদের একটা আশা-ভরসা থাকে। এবার সবার মাথায় হাত।

টাঙ্গাইল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কোরবান মিয়া বলেন, করোনা আর বন্যার কারণে ট্রাকে গরু নেয়া হয় না। কিছু কিছু ট্রাক ট্রিপ পেলেও অধিকাংশ ট্রাকই পাচ্ছে না গরুর টিপ। করোনার কারণে বছরের শুরু থেকে এবার ব্যবসায় ধস নেমেছে। এরপরও কোরবানির ঈদের গরু পরিবহনের মাধ্যমে কিছুটা উপার্জনের আশায় ছিল ট্রাক মালিক, চালক আর শ্রমিকরা। এবার সেই আশাও মাটি হয়ে গেল।

টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, মহাসড়কে এখনও তেমন গরুবাহী ট্রাক লক্ষ্য করা যায় না। আগামী দিনগুলোতে বাড়তে পারে গরুবাহী ট্রাকের চাপ। বাসের তেমন চাপ নেই। মহাসড়ক ফাঁকা।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

‘সেকেন্ড হ্যান্ড রেলইঞ্জিন’ উপহার দিয়েছে ভারত!

ভারত সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে দেয়া ১০টি ব্রডগেজ রেলইঞ্জিন পার্বতীপুরে এসে পৌঁছেছে। এসব রেল ইঞ্জিন ৫ থেকে ৭ বছর ধরে ভারতীয় রেলরুটে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বুধবার জ্বালানি তেলবাহী লরীর সাথে যুক্ত হয়ে এসব ইঞ্জিন পার্বতীপুর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পার্বতীপুরের প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) নুর মোহাম্মদ এগুলো গ্রহণ করেন।

সুত্র জানায়, ১০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ৮টি ২০১৩ সাল, ১টি ২০১৪ সাল ও ১টি ২০১৫ সালের মডেলের। ইঞ্জিনগুলোর ভারতীয় সিরিজ নম্বর ডাব্লিই ডি এম থ্রি ডি টাইপের লোকো নম্বর- ই সি আর ১১৪৩১, ১১৪৩২, ১১৪৩৩, ১১৪৩৪, ১১৪৩৫, ১১৫৮৭, ইকোর ১১৪৩৬, ১১৪৩৭, ইআর ১১৪০৬ ও ১১৫৭১। এসব ইঞ্জিন ভারতে রেলের বিভিন্ন রুটে ৭, ৬ ও ৫ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

কেলোকার প্রধান নির্বাহী নুর মোহাম্মদ জানান, ইঞ্জিনগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড। কেলোকায় প্রতিটি ইঞ্জিনের পৃথকভাবে যন্ত্রাংশ পরীক্ষা শেষে ট্রায়ালে পাঠানো হবে। এর আগে নতুন করে বাংলাদেশ রেলওয়ের আদলে রঙ পরিবর্তন ও সিরিজ লেখা হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রডগেজ সেকশনের বিভিন্ন রুটে এসব ইঞ্জিন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, দুই দেশের রেলমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এসব ইঞ্জিন হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গত সোমবার ভারতের গেঁদে রেল স্টেশন থেকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর চেকপোষ্ট দিয়ে ইঞ্জিনগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

(ভোরের কাগজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাবু আর নেই

বিএনপির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে (এপোলো হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল।

তারা জানান, শফিউল বারী বাবু বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ। সোমবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শফিউল বারী বাবুর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলেও জানান শায়রুল কবির খান। মৃত্যু কালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন বাবু।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে রাত ১টা ৫২ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আনোয়ার খান মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

প্রচুর শ্বাসকষ্ট থাকায় শফিউল বারী বাবুকে সোমবার বেলা ১১ টায় তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

গত বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার। তিনি বলেন, শফিউল বারী বাবু বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণজনিত রোগে ভুগছিলেন। এর ফলে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি রাজধানীর ইস্কাটনের বাসাতেই ছিলেন। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত তাকে আনোয়ার খান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শফিউল বারী বাবুর চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলেও জানান গোলাম সারোয়ার।

এদিকে শফিউল বারী বাবুর প্রথম জানাজা সকাল ১০ টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মালয়েশিয়ায় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ায় আটক বাংলাদেশী রায়হান কবির

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ার অপরাধে সে দেশের পুলিশ বাংলাদেশী নাগরিক রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে তিনি বলেছিলেন যে অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এবং ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শত শত অভিবাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক চলতি লকডাউনে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ শিরোনামে গত ৩ জুলাই ২৫ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। সেখানে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির।

প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল-জাজিরার এমন প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে।

এরপর রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে রায়হান কবিরের (২৫) ওয়ার্ক পারমিটও (ভিসা) বাতিল করা হয়।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মালয় মেইল সংবাদপত্র খবর দিয়েছে, দু’সপ্তাহ ধরে খোঁজ করার পর পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় মি. কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খাইরুল জাইমি দাউদ জানিয়েছেন যে মি. কবিরকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে তাকে আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেয়া হবে না।

আল জাজিরা গত ৩রা জুলাই ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

প্রায় ২৬ মিনিটের ঐ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

রায়হান কবির ঐ তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন।

ঐ ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দু’হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

ঐ ভিডিওটি প্রচারের পর থেকেই মালয় সোশাল মিডিয়াতে মি. কবিরের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

এর জেরে কর্তৃপক্ষ তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের ঠিক আগে রায়হান কবির নিজের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমার অপরাধটা কী? আমি তো কোনও মিথ্যা বলিনি। প্রবাসীদের ওপর যে বৈষম্য ও নিপীড়ন চলেছে, আমি শুধু সেই কথাগুলো বলেছি।

“আমি চাই প্রবাসে থাকা কোটি বাংলাদেশি ভালো থাকুক। আমি চাই পুরো বাংলাদেশ আমার পাশে থাকুক।”

কী বলছে আল জাজিরা?

আল জাজিরা টেলিভিশন রায়হান কবিরের গ্রেফতার নিয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য না করলেও তারা মি. রায়হানের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগগুলি তুলে নেয়ার ডাক দিয়েছে।

এক রিপোর্টে আল জাজিরা তাদের রিপোর্টের সত্যতা সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রেখেছে।

চ্যানেলটি জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুলিশ তাদের একদল সাংবাদিককে কঠোরভাবে জেরা করেছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশের আইজি তানশ্রি আব্দুল হামদি বাদর জানিয়েছেন, পুলিশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেরেলের দফতর আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটি বিশ্লেষণ করেছে এবং তাতে ‘অনেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার উপকরণ‌’ রয়েছে বলে মনে করছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস নি:শ্চুপ

রায়হান কবিরের গ্রেফতারের ব্যাপারে বিবিসি বাংলার তরফ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি শুধু জানিয়েছেন যে তিনি একটি ‘বিশেষ পরিবেশের’ মধ্যে আছেন। কিন্তু সেটা কি তার কোন ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কনসুলার সেবা মি. কবিরের পাওয়ার কথা, তিনি সেটা পেয়েছেন কিনা, তাও জানা যাচ্ছে না।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

শেখ হাসিনাকে ইমরান খানের ফোন; বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক চায় পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকাল বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে।

বাংলাদেশের বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে ইমরান খান বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির খবর জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, দুপুর একটা নাগাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন এবং জানতে চান যে ঠিক কীভাবে তাঁর সরকার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর পনেরো মিনিট ধরে চলা টেলিফোন আলোচনার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কে ইমরান খানকে বিস্তারিতভাবে জানান।

বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা সে সম্পর্কেও পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন বলে জানান মি. করিম।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান বা এপিপি দুই প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলোচনা সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিতভাবে জানিয়ে একটি খবর প্রকাশ করেছে।

ওই খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার সময় ইমরান খান উল্লেখ করেন যে পারস্পরিক বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক গভীর করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে তাঁর দেশের গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

এপিপি’র খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ সময় নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের স্থাপনের গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বার্তা সংস্থাটি বলছে, সার্কের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুরুত্বারোপ করেছেন যে দুই দেশ (পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) যৌথভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন অর্জনের জন্য কাজ করতে পারে।

ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো এপিপি’র খবরে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণহানীতে ইমরান খান দুঃখ প্রকাশ করেন এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শেখ হাসিনার সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশে প্রাণহানীতে সহানুভূতি প্রকাশ করেন।

এপিপি বলছে, টেলিফোন আলাপের সময় ইমরান খান “ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের গুরুতর অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন” এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী অঞ্চল গড়ে তুলতে জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তান ভ্রমণের জন্যও পুনরায় আমন্ত্রণ জানান ইমরান খান।

কুটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরেই অবনতিশীল রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিচারের বিরোধীতা করায় দুই দেশের সম্পর্ক একবারে তলানীতে পৌঁছায় বলে তারা মনে করেন।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদে ডিএমপির নির্দেশনা

বাংলাদেশের আকাশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী ১ আগস্ট দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ঈদকে ঘিরে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। ফলে কোরবানির পশুর হাট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এর অংশ হিসেবে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু নির্দেশনাও।

ঘাটাইল ডট কম পাঠকদের জন্য ডিএমপির দেয়া নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১। কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। থাকছে সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২। প্রতিটি পশুর হাটে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে, থাকবে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল-রুম।

৩। পশুর হাট কেন্দ্রিক মানি এস্কর্ট ব্যবস্থা, কন্ট্রোলরুম এবং প্রতিটি থানায় মানি এস্কর্ট টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

৪। কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে।

৫। পশুর হাটের চৌহদ্দির বাইরে হাট বসতে দেয়া হবে না এবং বলপূর্বক পশুবাহী ট্রাক/নৌকা আটকিয়ে অন্য হাটে নামানো যাবে না।

৬। নির্ধারিত হারে হাসিল আদায় নিশ্চিত করতে হবে, হাসিলের হার বড় ব্যানার বা ফেস্টুনের মাধ্যমে দৃশ্যমান রাখতে হবে।

৭। জাল টাকার বিস্তার রোধ ও পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ও অন্যান্য অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৮। পশু বিক্রয়ের টাকা ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর থাকবে এবং অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম ও ওয়াচ টাওয়ারে জনসচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হবে।

৯। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা ও জীবাণুনাশক চেম্বার স্থাপন করা।

১০। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে পশু বিক্রির জন্য উৎসাহিত করা।

১১। সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম ও ভেটেরিনারি অফিসার (পশুর ডাক্তার) নিয়োজিত রাখতে হবে।

১২। হাট এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

১৩। পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন রাখতে হবে।

ইজারাদারদের প্রতি কিছু দায়িত্ব

ইজারাদারদের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তার মধ্যে- নির্ধারিত তারিখের পূর্বে হাটে পশু না আনা, চৌহদ্দির বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা, চৌহদ্দির বাইরে হাট না বসানো, পশু বহনকারী ট্রাকের সামনে হাটের নাম ব্যানারে লিখে রাখা, এক হাটের পশু অন্য হাটে না নামানো, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, হাট এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ নিয়োগ করা, টাকা পরিবহনে পুলিশের মানি এস্কর্ট সেবা গ্রহণ করা, হাটের মধ্যে স্থায়ী খাবারের দোকান স্থাপন করা এবং কোরবানির পশু ব্যবসায়ীকে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট দেয়া ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা।

কোরবানির হাটের জন্য স্বাস্থ্য বিধিমালা

১। প্রতিটি হাটের প্রবেশ পথ ও প্রস্থানের পথ পৃথক করতে হবে। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, পানির ট্যাংক ও সাবান এবং পৃথকভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

২। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রসহ লোক রাখতে হবে। কোনক্রমেই ফেস মাস্ক ছাড়া কোন লোককে হাটে ঢুকতে দেয়া যাবে না।

৩। হাটে সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।

৪। করোনার সন্দেহজনক উপসর্গ যেমন- জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যথা ইত্যাদি নিয়ে কোন ব্যক্তি কোনক্রমেই হাটে প্রবেশ করতে পারবে না।

৫। যত কম সময়ে সম্ভব কোরবানির পশু কিনে হাট ত্যাগ করতে হবে, একজন বিক্রেতার নিকট বেশী ক্রেতা অযথা ভিড় করা যাবে না।

৬। অসুস্থ পশু কোনক্রমেই হাটে বেচাকেনার জন্য আনা যাবে না।

৭। শিশু ও ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের হাটে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৮। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং ক্রয়-বিক্রয়কালে ব্যবস্থা

১। নগদ অর্থ বহনকালে যানবাহন সরবরাহ সাপেক্ষে মানি এস্কর্ট প্রদান করা হবে।

২। চামড়া ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাত্রি যাপন করতে হবে।

৩। কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে থাকবে চেকপোস্ট এবং নদী পথে থাকবে নৌ-টহলের ব্যবস্থা।

৪। বাইরে থেকে শুধুমাত্র কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করবে, কোন কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকা থেকে বাইরে যেতে পারবে না।

৫। চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে কেউ যাতে সিন্ডিকেট করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।

৬। আমিন বাজার টার্মিনালের পাশে রাস্তার উপর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না।

৭। হাজারী বাগ এলাকায় রাস্তার উপর রাত ১১টার পর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না।

৮। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

১। চালক, হেলপার ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি টার্মিনাল ছাড়ার আগে যাচাই করতে হবে।

৩। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন রোধ, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ, বাস ও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষেধ।

৪। টিকেট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি রোধ করা হবে।

৫। প্রতিটি বাস টার্মিনালে ওয়াচ টাওয়ার এবং লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

ঈদ পরবর্তী ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা

১। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২। স্বর্ণের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি, ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা সংক্রান্তে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হবে।

৩। বাসা ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

৪। ঈদের ছুটিকালীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে পুলিশের কর্মকাণ্ড (মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, চেকপোস্ট) বৃদ্ধি করা হবে।

(ডিএমপি নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় মারা গেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব নরেন দাস

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব নরেন দাস মারা গেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব নরেন দাস স্ত্রীসহ ৫ জুলাই রাতে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

৭ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় কারা কোভিড পজিটিভ আসেন। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের এই সচিবের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শোকাবার্তায় আইনমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আইন মন্ত্রণালয়ের এই সচিবের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার।

(দ্যা রিপোর্ট, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ ঘাটাইলের ছাইদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মোঃ ছাইদ মালদ্বীপ থেকে ঢাকায় এসে গত ১৮ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন তার পরিবার সদস্যরা।

জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত কাপাশিয়া এলাকার আঃ লতিফের ছেলে মোঃ ছাইদ কর্মসংস্থানের জন্য মালদ্বীপ গমন করেন। পরে গত ১৮ই জুলাই মালদ্বিপ থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছলে বিকেল ৭টার দিকে এয়ারপোর্ট থেকে নিখোঁজ হয়েছেন।

এরপর তিনি বাসায় ফিরে না আসলে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে তার পরিবার সদস্যরা ঘাটাইল ডট কমকে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার জিডি করা হয়েছে। নং- ৬৫৩, তারিখ:-২০/০৭/২০২০।

কোন ব্যক্তি তার সন্ধান জেনে থাকলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা অথবা (০১৭৩৩৭৮১৬০৫, ০১৭৮৬৩৩৩০৯২, ০১৩০৮৩৯৬৭৫০) মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে এসপির বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

থানা হাজতে আটক রেখে ওই পরিচ্ছন্নকর্মীকে তিনদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন ওই পুলিশ সুপার। পুলিশ সদর দফতরে এমন অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে এসপি আব্দুর রহিম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী ওই পরিচ্ছন্নকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় এসপি আব্দুর রহমান স্যারের বাংলোতে কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে কাজ শেষ করে আমি ফিরে যাই। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে এসপি স্যারের অর্ডারে সাহেব আলী আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এসপি স্যারের বাংলোতে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে এসপি স্যারও আমাকে কল করেন এবং বাংলোতে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলোতে পৌঁছালে এসপি স্যার বাংলোর দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে আমাকে বলেন, তুই এই কাজ কতদিন ধরে করিস? আমি অবাক হয়ে বলি, কোন কাজ স্যার? এরপরই স্যার আমাকে মারধর শুরু করেন। তারপর তিনি বলেন, বাসা থেকে এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। এই টাকা তুই নিয়েছিস। আমি বিষয়টি অস্বীকার করলে তিনি আমাকে আরও মারধর করেন।

পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া বলেন, এরপর তিনি থানায় খবর দিলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার মোল্লা আসেন। তিনি ওই বাংলোর ভেতরেই জেরা করতে থাকনে এবং মারধর করেন। পরে এসআই আবুল বাশার মোল্লা এবং আরেকজন পুলিশ সদস্য আমাকে একটি অটোরিকশায় করে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যান।

থানায় নিয়ে আমাকে চোখ এবং হাত পিছনে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন ওই এসআই। মারতে মারতে এসআই বাশার বলছিলেন, ‘তুমি খারাপভাবে ফেঁসে গেছো, তুমি টাকা নাও আর না নাও, এক লাখ টাকা তোমাকেই দিতে হবে। এরপরও আমাকে মারধর চালিয়ে যান ওই এসআই। এক লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার কথাও বলেন তিনি। পরবর্তীতে আমার স্বজনরা খবর পেয়ে থানায় গেলে তাদের নির্যাতনের বিষয়ে জানাই।

পরে তাদের টাকা যোগার করতে বলি। একদিন পরও টাকা যোগার না হলে পরদিনও আমাকে মারধর করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন ওই এসআই।

ফরিদ মিয়া আরও বলেন, এভাবে তিনদিন যাবত থানা হাজতে রাখার পর ১৫ মার্চ বিকাল ৫টায় এসআই বাশার একটি অটোরিকশায় করে আমাকে থানা থেকে পিটিসি টাঙ্গাইলের ট্রেনিং একাডেমিতে এসপি আব্দুর রহিম স্যারের রুমে নিয়ে যান। সেখানে আমার মামা আনোয়ার হোসেন, ভাবী রেখা বেগম, বউ মুক্তা, বাবা ইসমাইল হোসেন উপস্থিত থেকে ৭০ হাজার টাকা এসআই বাশারের উপস্থিতিতে এসপি স্যারের হাতে দেন। তারপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসপির বাংলো থেকে টাকা চুরির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ফরিদ মিয়া বলেন, আমি চুরি করিনি। আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসপি স্যার ক্ষমতার জোরে এসব করেছেন।

আমি পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছি। এরপর থেকে এসপি স্যার ও এসআই বাশারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথাও বলছেন তারা। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল খাদ্য গুদামে কর্মরত খাদ্য পরিদর্শকের করোনায় মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মরত উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক সুখরঞ্জন হালদার (৫৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৫ টায় ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি ঘাটাইল ডট কমকে নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম ঘাটাইল ডট কমকে জানান, খাদ্য পরিদর্শক সুখরঞ্জন হালদার (৫৮) ঘাটাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে গত আত মাস আগে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকার তেজগাঁও সিএসডিতে চাকুরী করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী, সন্তানরা তেজগাঁও সিএসডির সরকারি কলোনিতে বসবাস করেন। গত ১৩ জুলাই করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে দেয়া নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ আসে।

সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৫ টায় মারা যান বলে জানান তিনি।

আরও জানা যায়, তার স্ত্রী দীনা রানী হালদার ঢাকার তেজগাঁও ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তরে কর্মরত। দুই মেয়ের একজন হলিক্রস কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত, অপরজন তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।

সুখরঞ্জন হালদারের গ্রামের বাড়ী বরিশাল জেলায়। তাকে সেখানেই সৎকার করা হবে বলে তার পরিবার সুত্র নিশ্চিত করেছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-