রেকর্ড, একাদশ সংসদের ১৩ এমপি মারা গেছেন

বর্তমান সংসদের সময় সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (৩০ ডিসেম্বর) পর এ পর্যন্ত ১৩ জন সংসদ সদস্য মারা গেছেন। অথচ গত সংসদের পাঁচ বছরে বিভিন্ন দলের ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। চলতি সংসদে সাবেক এক মন্ত্রীসহ দুজন করোনায় মারা গেছেন। তবে করোনাকাল হওয়ায় পাঁচ সংসদ সদস্যের সংসদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা গেছে, গত বছর মারা গেছেন পাঁচ সংসদ সদস্য। চলতি বছরের আট মাসে মারা গেছেন আরও আটজন। মারা যাওয়া দুজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্র জানায়, নির্বাচনের ঠিক পরই আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১) মারা যান। তিনি সংসদের একটি অধিবেশনেও যোগ দিতে পারেননি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যান তিনি। এমনকি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিতে পারেননি সৈয়দ আশরাফ। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন।

একই বছরের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের রুশেমা বেগম (মহিলা আসন-৩৪), ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ (রংপুর-৩) মারা যান।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তার সহধর্মিণী রওশন এরশাদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ওই বছরের ৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮), ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মো. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩) মারা যান।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মারা যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ১০ জুলাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮) ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জুলাই ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) মারা যান।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর মারা যাওয়া কারোরই রীতি অনুযায়ী সংসদ ভবনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ কোনো স্ট্যান্ডিং সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা হলে পান গার্ড অব অর্নার। জানাজায় সহকর্মীরা ছাড়াও সংসদে কর্মরত ও আশপাশ এলাকায় বসবাসকারীরা অংশ নেন। কিন্তু শেষ পাঁচজন এমপির ভাগ্যে এসব জোটেনি।

দলের একের পর এক সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় জুনে সংসদে অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব দুঃখজনক… আসলে আমার জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে বলতে, এভাবে সবাইকে হারানো খুবই দুঃখজনক।’

প্রাণঘাতী করোনায় আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ (এমপি নন) মারা যাওয়ায় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বার বার চোখ মোছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সংসদে যে ১৫ সংসদ সদস্যের মৃত্যু

বিগত দশম সংসদের পাঁচ বছরে দুজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন বিরোধীদলীয় হুইপসহ ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। তাদের মধ্যে ১২ জন আওয়ামী লীগের এবং তিনজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে এক সংসদ সদস্যকে। এছাড়া ওই একই আসনে মারা গেছেন দুই সংসদ সদস্য।

দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরুর দিন উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের বই এবং সংসদ লাইব্রেরিতে রাখা সংসদের কার্যপ্রবাহ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্রে জানা যায়, দশম সংসদ হারিয়েছে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ও বিশিষ্ট তার্কিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। তিনি এক সময় রেলমন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ মহসিন আলী (মৌলভীবাজার-৩), মোহাম্মদ ছায়েদুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন (ময়মনসিংহ-১)।

প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে হারায় এ সংসদ। মারা যাওয়া আওয়ামী লীগের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-১ আসনের মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ২০১৬ সালের শেষ প্রহরে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হন একই দলের গোলাম মোস্তফা আহমদ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. ইসহাক হোসেন তালুকদার, মাগুরা-১ আসনের মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর, খুলনা-৪ আসনের এস এম মোস্তফা রশদি, বরিশাল-৫ আসনের মো. শওকত হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আসনের শওকত মোমেন শাহজাহান, ময়মনসিংহ-৩ আসনের মজিবুর রহমান ফকির ইন্তেকাল করেন।

জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মো. নাসিম ওসমান মারা যান।

(সিরাজুজ্জামান, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে ২ বছরের জেল

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে চিৎকার, চেঁচামেচি করলে বা ভোটাররা বিরক্ত হন এমন কোনো শব্দ সৃষ্টি করলে খাটতে হবে দুই বছরের জেল। ভোটের প্রয়োজনে নিয়োগ করা যাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরেও ‘অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’। এছাড়া পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও থাকা যাবে স্বীয় পদে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আইন সংশোধন করে এমন বিধান আনছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচটি পৃথক আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সবগুলোকে একটি আইনের ভেতরে আনার জন্য নতুন একটি আইন করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রস্তাবিত ওই আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে- স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আইন-২০২০। যা সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে। এতে আগের মতোই অধিকাংশ বিষয় রাখা হলেও, বেশকিছু নতুন বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এখানে ‘অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ শব্দগুলো নতুন এসেছে।

আগে নির্বাচন কমিশনের আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকেও রাখা হয়েছিল। পরে সেটা সংশোধন করে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়। তবে এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী না বলে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ নিয়ে আসতে চায় ইসি।

স্থানীয় সরকারগুলোর নাম ও পদবি পরিবর্তন

নতুন প্রস্তাবিত আইনে সিটি করপোরেশনকে মহানগর সভা, পৌরসভাকে নগর সভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে সিটি মেয়রের পদকে- মহানগর আধিকারিক; পৌর মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপিতা, কাউন্সিলরকে পরিষদ সদস্য, ওয়ার্ডকে মহল্লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলা পরিষদের প্রধান, উপ-প্রধান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে পল্লী পরিষদ প্রধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিষদের মেয়াদ

কোনো প্রতিষ্ঠান গঠন হওয়ার পর থেকে তার মেয়াদ ধরা হয়েছে প্রথম সভা থেকে পরের পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচিত নতুন প্রতিষ্ঠান প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই।

প্রার্থিতার যোগ্যতা

যে কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই বয়স হতে হবে ২৫ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। থাকতে হবে নির্বাচনী এলাকার ভোটার লিস্টে নাম।

অনৈতিক কার্যকলাপ ও শাস্তি

কোনো প্রার্থী সম্পর্কে অপপ্রচার, প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে মিথ্যা প্রচার, সাম্প্রদায়িক বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে অপ্রপ্রচার ও ভোট প্রদানে বাধা দিলে ন্যূনতম ছয় মাস এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা।

জোরপূর্বক ভোট প্রদান ও শাস্তি

ভোটকেন্দ্র থেকে কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিকে বিতাড়ন এবং তাদের অনুপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে ভোট পরিচালনায় বাধ্য করলে, কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে ভোটের উপকরণ দখল এবং ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করলে, কাউকে ভোটদানে বিরত রেখে কেবল নিজের পছন্দের প্রার্থীর সমর্থকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে ছয় মাস থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড।

অর্থের বিনিময়ে কোনো সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে কাউকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা, কাউকে ভোট দেওয়া বা কাউকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করালে দুই বছরের কারাদণ্ড। কোনো ব্যক্তির নামে ভোট প্রদান, কাল্পনিক নাম ধারণ করে ভোট প্রদান বা মৃত ব্যক্তির ভোট দিলে ছয় বছরের কারাদণ্ড।

অবৈধ প্রভাব বিস্তার

কোনো শক্তি প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, ভীতি প্রদর্শন, আঘাত-ক্ষতি-সম্মানহানী ঘটালে, কোনো সাধু বা পীরের অভিশাপ কামনা করার ভীতি প্রদর্শন করলে, ধর্মীয় দণ্ড প্রদান বা প্রদান করার ভীতি দেখালে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রভাব খাটালে দুই বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে এক বছর, সরকারি পদের অপব্যবহারের কারণে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল

ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৩২ ঘণ্টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংঘঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবে না। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারবেন না। কোনো অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন করা যাবে না। এই বিধান না মানলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে কার্যকলাপ

কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে ভোটের প্রচার চালালে, কারো কাছে ভোট চাইলে, কাউকে ভোট না দিতে দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্র থেকে শোনা যায় এমনভাবে চিৎকার করলে বা এমন কোনো কাজ যা ভোটারদের বিরক্তি সৃষ্টি করে বা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাজে ব্যঘাত ঘটায় এবং ভোটকেন্দ্র থেকে শোনা যায় এমন কোনো মাইক্রোফোন, লাউড স্পিকার বা প্রতিধ্বনি সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহারেও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

রিটার্নিং অফিসারকে বাংলায় রূপান্তর করে ‘নির্বাচন অধিকর্তা’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিকে নির্বাচন অধিকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেবে ইসি।

নির্বাচনের সময়

কোনো প্রতিষ্ঠান (স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান) গঠন হলে তার পরের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। আর পরবর্তী কালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। আর বিলুপ্ত হলে সে সময় থেকে পরের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে দৈবদুর্বিপাক হলে নির্বাচন কমিশন তার সুবিধামতো সময়ে ভোট করবে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের আইনকে আমরা একটি আইনে রূপান্তর করতে চাচ্ছি। এছাড়া এটা বাংলায় করা হচ্ছে। এজন্য কিছু নাম ও পদবির পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। বড় কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই। তবে এই প্রস্তাবের ওপর আমরা রাজনৈতিক দলসহ সবার মতামত নেবো। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস কাল

আগামিকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত করার ঐতিহাসিক ‘জাহাজমারা’ দিবস।

করোনা ও বন্যার কারণে দিবসটি উপলক্ষে এবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হয়নি। তবে ভূঞাপুরের মাটিকাটায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাহাজমারা কমান্ডার হাবিবের ছেলে আতিকুর রহমান।

১৯৭১ সালের এই দিনে যমুনা নদীতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা নামক স্থানে কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক মারণাস্ত্র ও রসদ বোঝাই পাক বাহিনীর জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ ও এসটি রাজন ধংস করার মাধ্যমে হানাদারদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়।

এ ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল। জাহাহমারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন, কাদেরিয়া বাহিনীর দুর্ধর্ষ সাহসী কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম।

ঐতিহাসিক সূত্রে প্রকাশ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মরণাস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানী ও রসদ বোঝাই ৭টি যুদ্ধ জাহাজ নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের এ সময় যমুনা-ধলেশ্বরী নদী পথে মাটিকাটা নামক স্থানে করা নজরদারী করছিলেন, কাদেরিয়া বাহিনীর চৌকশ কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান।

তার দূরদর্শী নেতৃত্বে অল্প সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুটি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ এবং এসটি রাজন ধংস করা হয়।

জাহাজ দুটিতে আক্রমণ ও দখল করে ১,২০,০০০ বাক্সে ২১ কোটি টাকা মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক যুদ্ধে অন্য কোথাও মুক্তিবাহিনীর হাতে এত বড় ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়নি।

পরবর্তীতে যুদ্ধ জাহাজ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পাকিস্তানি কমান্ডেন্ট লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি ও ব্রিগেডিয়ার কাদের খানের নেতৃত্বে ৪৭ ব্রিগেড, ৫১ কমান্ডো ব্রিগেড ও পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর দুটি এফ-৮৬ স্যাবর জেট বিমান দ্বারা মুক্তিবাহিনীর উপর চতুর্দিক থেকে আক্রমণ করে।

কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও রণ কৌশলের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই যুদ্ধকে পট পরিবর্তনকারী(টার্নিং পয়েণ্ট) অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।

কমান্ডার হাবিবুর রহমানের অসম সাহসীকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরবিক্রম’ ও ‘জাহাজমারা হাবিব’ খেতাবে ভূষিত করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নেপালকে রেল ট্রানজিট দিচ্ছে বাংলাদেশ

রেলপথে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা এ বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘অ্যাডেনডাম টু দ্য প্রটোকল টু দ্য ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব নেপাল’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকে নেপালের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট আছে। সেই ট্রানজিট এগ্রিমেন্টের মধ্যে নেপাল একটি রিকোয়েস্ট করেছে আমাদের রোহনপুর আর ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে যে রেলপথ আছে সেখানে আরেকটি ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার জন্য।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকেই এই প্রোটোকলটা আছে, নতুন আরেকটা ওপেনিং হলো। রোহনপুর ও সিঙ্গাবাদ রেলপথের মাধ্যমে তারা মালামাল আনতে ও নিতে পারে সেটা।

এই সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন পেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহানপুর থেকে ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে নেপালের বীরগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা চালু হবে।

‘আরেকটা জিনিস এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, নেপাল আমাদের সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে চায়। এটা আলোচনা চলছে, আজকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওইভাবে আর উপস্থাপন করতে পারেনি। যদি এটায় এগ্রি হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সেই প্রস্তাবও এখানে আসবে, আরেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট আসবে’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দিচ্ছি। সবগুলো জায়গায় আমরা ওপেন করতে পারিনি। সুবিধা আমরাও পাব।’

কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে সৌদির সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য কিংডম অব সৌদি এরাবিয়া অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অন কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন কাস্টমস ম্যাটারস’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সৌদি আরবের অনেক যোগাযোগ আছে। সেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাস্টম একটি বড় ফ্যাক্টর। সেজন্য সৌদি আরবের শুল্ক সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, শুল্ক ফাঁকি রোধে সহযোগিতা করা। কীভাবে বাণিজ্য সহজ করা যায়, যদি আমরা কাস্টমস ডিউটিগুলো ইজি করে ফেলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি করলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে। দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সুসংহত হবে। দুই দেশে অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখবে এটা।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান স্বার্থ রক্ষায় এটা কার্যকর হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে সাহায্য করতে পারবে। আমাদের দেশের কাস্টম বিভাগের দক্ষতা বাড়াতেও সৌদি আরব আমাদের সহায়তা করবে।’

(জাগো নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাজশাহীতে পর্নোগ্রাফি মামলার আসামী ঘাটাইলে আটক

রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলার আসামী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী হলো মো. আমিনুল ইসলাম (২২)। সে ঘাটাইল উপজেলার রূপের বয়ড়া গ্রামের মো. জহির উদ্দিনের ছেলে।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার, সিনি. সহকারী পুলিশ সুপার মো. রওশন আলী বলেন, আমিনুলের বিরুদ্ধে রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন (৮)(১) ও (৩) ধারা, ২৬/০৭/২০২০ তারিখে একটি মামলা হয়।

মামলার পর থেকেই আমিনুল পলাতক ছিল।

রাজশাহীর মহানগরীর এক কলেজছাত্রীর (২২) অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করায় ঘাটাইল উপজেলার রূপের বয়ড়া গ্রাম থেকে আমিনুল ইসলামকে রোববার রাতে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ৯ আগস্ট (রোববার) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তার বাড়ি উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের রূপের বয়ড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার এক ছাত্রীর সাথে গত দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমিনুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সুবাদে আমিনুল টাঙ্গাইল থেকে কয়েকবার রাজশাহী আসেন। এ সময় তাদের দেখা হয়।

কিন্তু গত দুই মাস থেকে আমিনুল তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকেন। ফলে ওই ছাত্রীর ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে এলে ওই ছাত্রী গত ২৬ জুলাই কাশিয়াডাঙ্গা থানায় আমিনুলকে আসামী করে পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করেন।

ওসি জানান, প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে জটিলতা, ইন্টারনেটে ধীরগতি

সিনহা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা, প্রদীপের ভিডিও সাক্ষাৎকারেই সর্বনাশ

সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা টানা কয়েকদিন ইয়াবা বাণিজ্যের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরিকালেও ‌বিপদমুক্ত’ ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমারের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

ক্রসফায়ারের নামে নৃশংসভাবে খুন করা অসংখ্য মানুষের রক্তে রঞ্জিত প্রদীপ কুমারও ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বারবারই কেঁপে উঠেন।

মেজর সিনহা’র তথ্যবহুল প্রশ্নের পর প্রশ্নে চরম অস্বস্তিতে পড়েন ওসি। নানা অজুহাতে ভিডিও সাক্ষাৎকার এড়ানোর সব কৌশল খাটিয়েও ব্যর্থ ওসি প্রদীপ বাধ্য হয়েই প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে থাকেন, ভিডিওচিত্রে মেজরের উদঘাটন করা নানা তথ্যের সামনে সীমাহীন নাস্তানাবুদ হন তিনি।

মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেল চারটার দিকে টেকনাফের বহুল বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ওই ডকুমেন্টারি ভিডিও সাক্ষাৎকারের ফাঁদে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায়, ক্রসফায়ারে অতিমাত্রায় উৎসাহী ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগিরা ইয়াবা বাজারজাত ও পাচারের ক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করতেও বাধ্য হন।

সফল সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেই মেজর সিনহা আর একদণ্ড সময় ক্ষেপণ করেননি। ঝড়ের বেগে থানা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসেন।

তার সঙ্গে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ব্যস্ত থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতও ক্যামেরা, ট্রাইপড, ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠতেই টেকনাফ সদর ছেড়ে গাড়িটি ছুটতে থাকে উত্তর দিকে, বাহারছড়ার পথে।

বাহারছড়া সংলগ্ন মারিসঘোণা এলাকাতেই বসবাস করেন চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপ পরিচালনাকারী ইলিয়াস কোবরা। হঠাত তার টেলিফোনে করা আমন্ত্রণ পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারেননি মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এদিকে থানা থেকে মেজর সিনহা বেরিয়ে যেতেই ওসি প্রদীপ অচিরেই বড় রকমের বিপদের আশঙ্কায় তৎক্ষনাত কক্সবাজারের এসপি মাসুদকে ফোন করে বিস্তারিত জানিয়ে দেন।

সব শুনে এসপি নিজেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটেই এসপির নির্দেশনায় তৈরি হয় ‌মেজর সিনহা’র নৃশংস হত্যার নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা।

আলাপ আলোচনা শেষে এসপি-ওসি এমনভাবেই ত্রিমুখী মার্ডার মিশন সাজিয়েছিল- সেই ফাঁদ থেকে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের প্রাণে বাঁচার কোন সুযোগই ছিল না।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপের পরিচালক ইলিয়াস কোবরাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, আতিথেয়তার নামে নানা কৌশলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেজর সিনহাকে তার নিভৃত পাহাড়ি গ্রামে আটকে রাখার।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরিচিতি থাকলেও ইলিয়াস কোবরা ইদানিং ‌‍’ক্রসফায়ার মিট মিমাংসার দালালি’ কাজেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

ক্রসফায়ারের তালিকায় নাম থাকার গুজব ছড়িয়ে অসংখ্য মানুষকে গোপনে ওসি প্রদীপের সঙ্গে সমঝোতা করিয়ে দিয়ে টেকনাফের শীর্ষ দালাল হিসেবে বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে কোবরার।

তবে ক্রসফায়ারের কবল থেকে জীবন বাঁচানোর সমঝোতায় ওসি প্রদীপ হাতিয়ে নিয়েছেন ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে দালালির কমিশন হিসেবে ইলিয়াস কোবরাকেও মাথাপিছু এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাইয়ে দিয়েছেন প্রদীপ।

ওসিসহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে পরীক্ষিত দালাল ইলিয়াস কোবরা ঠিকই তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

মারিসঘোণায় নিজের বাগানবাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখার নামে ইলিয়াস কোবরা সেদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্জন পাহাড়েই নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন মেজর সিনহাকে।

এ সময়ের মধ্যে মেজরের অবস্থান, কতক্ষণ পর কোন রাস্তায় কোথায় যাবেন সেসব তথ্য জানিয়ে কোবরা ৯টি এসএমএস পাঠান ওসিকে।

এসপির ত্রিমুখী ছকে সিনহার প্রাণে ফেরার উপায় ছিল না

গণপিটুনিতে হত্যার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় গ্রামবাসীকে, ওসি বাহিনী অবস্থান নেয় দক্ষিণের বড়ডিল পয়েন্টে- আর উত্তরদিকের শামলাপুর চেকপোস্টে ওৎ পেতেছিলেন খুনি লিয়াকতের বাহিনী।

পরিকল্পনা মাফিক সন্ধ্যা ৭ টার দিকেই টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস তার পছন্দের দুই এসআই ও দুই কনস্টেবল নিয়ে নিজের সাদা নোহায় এবং আরো ৫/৭ জন পুলিশ সদস্য অপর একটি মাইক্রোবাসে হন্তদন্ত অবস্থায় থানা থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে ধরে উত্তর দিকে ছুটতে থাকে।

ওসি বাহিনী বাহারছড়া-কক্সবাজারের পথে শামলাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাওয়ার পথেই ইলিয়াস কোবরার নতুন খবর আসে।

ওসি প্রদীপকে ফোন করে তিনি জানান, এ মুহূর্তে মেজর সিনহা ও তার ভিডিওম্যান সিফাত মারিসঘোণার পাহাড় চূড়ায় উঠছেন।

পাহাড়ের উপর থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে, টেকনাফ সদর, নাফ নদী-মিয়ানমার সীমান্ত এবং দক্ষিণ দিকে সমুদ্রের বিস্তির্ণ অংশ দেখা যায়। গভীর সমুদ্রের দিক থেকে ছোট বড় ইঞ্জিনবোটগুলো সার্চ লাইটের আলো ফেলে ফেলে সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে, আবার ডজন ডজন ইঞ্জিনবোট সমুদ্র সৈকত ছেড়ে গভীর সমুদ্রের দিকেও যেতে থাকে।

পুরো দৃশ্যপটের ভিডিওচিত্র ধারন করাটাই হচ্ছে তার ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্য।

এ দৃশ্যপটের সঙ্গে নেপথ্য কন্ঠ জুড়ে দিতে চান মেজর সিনহা। তিনি বলতে চান রাত যত গভীর হয়, আধারে নিমজ্জিত হয় সমুদ্রের মাইলের পর মাইল জলরাশি, ঠিক তখনই টেকনাফ সীমান্ত ঘেষা জনপদের কয়েকশ’ মানুষ জেগে উঠেন, তারা মেতে উঠেন অন্যরকম কর্মযজ্ঞে।

শত শত ইঞ্জিনবোট হঠাত করেই যেন সমুদ্রের পানি ফুঁড়ে উঠে আসে উপরে, এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করেই ট্রলারগুলো অজ্ঞাত গন্তব্যে ছুটে যায় ইঞ্জনের কর্কশ শব্দ তুলে, ধোঁয়া ছেড়ে। তখন এসব ট্রলারের প্রতিটাই হয়ে উঠে কোটি কোটি টাকার দামি।

কোনো ট্রলারে থাকে পাচারের শিকার নারী-পুরুষ, কোনোটা আবার ভরাট হয় লাখ লাখ পিস ইয়াবায়।

আবার গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ মাদার ভেসেল থেকে কোনো কোনো ট্রলারে নামিয়ে আনা হয় একে-৪৭ রাইফেল, থাকে আরজিএস গ্রেনেডের ছড়াছড়ি…

ইলিয়াস কোবরা ফোনে ওসিকে জানান, মেজর সাহেব পাহাড় থেকে নেমে কিছু সময়ের জন্য মেরিন ড্রাইভওয়ে ব্যবহার করে টেকনাফের দিকে যেতে পারেন- তারপর সেখান থেকে ফিরে যাবেন হিমছড়ির রিসোর্টে।

এটুকু শুনেই ওসি প্রদীপ তার গাড়ি থামিয়ে দেন বাহারছড়া পৌঁছানোর আগেই।

মারিসঘোণা থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে তিন কিলোমিটার দূরের বড়ডিল নামক স্থানে ওসি ও তার সঙ্গীদের দুটি মাইক্রো থামিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতিতে অপেক্ষশাণ থাকেন সবাই।

এরমধ্যেই ওসি প্রদীপ কুমার মরিসঘোণা এলাকার দুই জন সোর্স ছাড়াও ক্রসফায়ার বাণিজ্যের টাকা সংগ্রহকারী এজেন্ট বলে কথিত আব্দুল গফুর মেম্বার, হাজী ইসলাম, মুফতি কেফায়েতউল্লাহ ও হায়দার আলীকে ফোন করে জানান, মারিসঘোণা পাহাড়ের চূড়ায় বেশ কয়েকজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়েছে।

তারা কেউ পাহাড় থেকে নামার চেষ্টা করলেই যেন এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে দেয়া হয় এবং যাদেরকে হাতেনাতে পাবে তাদেরকেই যেন গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়।

বাকি সবকিছু ওসি দেখবেন এবং এজন্য তিনি মারিসঘোণার দিকে রওনা দিয়েছেন বলেও জানানো হয় তাদের।

ওসির কাছ থেকে পাওয়া এমন খবর ওসির এজেন্টরা পাহাড় সংলগ্ন চারপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ছড়িয়ে দিয়ে লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকেন।

কিন্তু চৌকষ সেনা অফিসার সিনহা পাহাড়ের চুড়ায় থাকাবস্থায়ই চারপাশে সাজ সাজ রব দেখে সতর্ক হয়ে উঠেন এবং এ কারণেই টর্চ লাইট না জ্বালিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই ধীরলয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসেন।

ঠিক তখনই বেশ সংখ্যক গ্রামবাসী ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে দিয়ে তাদের চারপাশ থেকেই ধাওয়া দিতে থাকে। কিন্তু মেজর সিনহা তার সহযেগির হাত চেপে ধরে প্রশিক্ষণের দক্ষতা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা পেরিয়ে পাকা সড়কে পৌঁছে যান এবং দ্রুত নিজের গাড়িতে উঠেই উত্তরদিকে হিমছড়ির দিকে রওনা হন।

বাহারছড়ার মারিসঘোণা থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরেই শামলাপুরের সেই পুলিশ চেকপোস্ট।

ওসির নির্দেশে যেখানে এসআই লিয়াকতসহ একদল পুলিশ আরো আগে থেকেই ওৎ পেতে অপেক্ষায় ছিল-সেখানেই পৌঁছে যায় মেজর সিনহার গাড়িটি।

গাড়িটির খুব কাছে অস্ত্র তাক করে মেজরকে হাত তুলে সামনের দিকে মুখে করে নেে আসার নির্দেশ দেন তিনি। আর গাড়ি থেকে নামতেই অব্যর্থ নিশানায় লিয়াকত পর পর চারটি বুলেট বিদ্ধ করেন মেজর সিনহার দেহে। ফলে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

এদিকে বড়ডিল এলাকায় অপেক্ষমান ওসি বাহিনী মেজরের উত্তরদিকে রওনা দেয়ার খবর শুনেই শামলাপুর ক্যাম্পের দিকে রওনা দেন। যে কারণে লিযাকতের গুলিতে মেজর মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ১৫/১৬ মিনিটের মধ্যেই ওসি বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

কারণ, টেকনাফ থানা থেকে শামলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত যেতে প্রাইভেটকারে ৪০/৪৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু তিনি মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরের বড়ডিল এলাকায় থাকায় ১৫/১৬ মিনিটেই চেকপোস্টে পৌঁছেই মেজর সিনহার লুটিয়ে পড়া দেহখানাকে পা দিয়ে চেপে ধরে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে পর পর দুটি গুলি বর্ষণ করে লাথি মেরে নিথর দেহখানাকে রাস্তার ধারে ফেলে দেন।

ত্রিমুখী হত্যা মিশনের ব্যাখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে মারিসঘোণা গ্রামে ওসি প্রদীপের নিজস্ব এজেন্টদের দ্বারা ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়।

কিন্তু সেখান থেকে জীবন বাঁচিয়ে মেজর সিনহা যদি টেকনাফের দিকে রওনা হতেন তাহলে তিন কিলোমিটার সামনে বড়ডিলে পৌঁছেই তিনি ওসি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে বেঘোরে জীবন হারাতেন।

অন্যদিকে মেজর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে হিমছড়ি রিসোর্টের দিকে রওনা দিলেও শামলাপুরে তার জীবন কেড়ে নিতে এসআই লিয়াকতের টিমকেও পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা হয়। আসলে কোনো বিকল্প উপায় অবলম্বন করেই মেজর সিনহা যাতে প্রাণ নিয়ে ফিরতে না পারেন তা ১০০ ভাগ নিশ্চিত করেই পাকা পরিকল্পনা আঁটেন এসপি মাসুদ।

ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়িত হয়েছে অব্যর্থভাবেই।

(যানবাহনে চলতে চলতেই এটুকু লিখতে পারলাম-কিন্তু শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী উদঘাটনের আবেগ আর চাপা দিয়ে রাখতে পারলাম না। তাই আংশিক রিপোর্টও প্রকাশে দ্বিধা করলাম না। কিছুটা সময় অপেক্ষা করলেই মেজর হত্যাকান্ডের প্রকৃত মিশন, ক’জন পুলিশ ও ক’জন দালাল অংশগ্রহণ করেছিল, দারোগা চারটি গুলি করার পর আরো দুই রাউন্ড গুলি কে করেছিলেন? আরো আরো তথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি অল্প সময় পরেই পাঠ করা যাবে।)

(সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে/ ঘাটাইল ডট কম)/-

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের সময় বাড়াতে আবেদন করবে পরিবার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার ৬ মাসের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াতে সরকারের কাছে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হবে।

বেগম জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘দেশে চিকিৎসার পাশাপাশি আবেদনে ‘‘প্রয়োজনে’ বিদেশে চিকিৎসার কথাও উল্লেখ করতে পারেন চেয়ারপারসনের পরিবার।’

চলতি আগস্ট মাসেই সজার স্থগিতাদেশ বাড়ানোর এ আবেদন করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আবেদনে যা-ই থাক, আপাতত বেগম জিয়ার দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও চিন্তা বা ইচ্ছে নেই বলে জানা গেছে।

তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁর “অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট” প্রয়োজন, সেজন্য “অ্যাডভান্স সেন্টার” লাগবে। যদিও বাংলাদেশের এ ধরনের কোনও “অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট” বা “অ্যাডভান্স সেন্টার” নেই।

তবে বিএনপির অপর একটি সূত্র বলছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়া না-যাওয়া নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্ত ও করোনা পরিস্থিতির ওপর। একইসঙ্গে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে খোদ বেগম জিয়ার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ও আছে।

এদিকে গতকাল শনিবার এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সাজা স্থগিতের সময় বাড়াতে ম্যাডামের পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু তারা এর আগে আবেদন করে, সরকারের সাথে কথা বলে সাজা স্থগিত করিয়েছিলেন। এখনও যেহেতু ম্যাডাম সুস্থ হননি, তিনি একেবারেই একই (আগের) অবস্থাতেই আছেন। সুতরাং সাজা স্থগিতের সময়টা বাড়ানো এখন জরুরি প্রয়োজন। ‘সময় মতোই’ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।’

দলের চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডামের চিকিৎসা যেটা চলছিল সেটাই চলছে। হাসপাতালের ডাক্তারা যে চিকিৎসা দিয়েছিল সেটাকেই ফলোআপ করছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। এখন যতটুকু সম্ভব তাঁর বউ মার (লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান) সঙ্গে যোগাযোগ করে ও পরামর্শ নিয়েই ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে।’

সারা দেশে করোনা ভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজাতে’ রয়েছেন। বেগম জিয়া আর্থারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

খালেদা জিয়ার ৬ মাসের সাজার স্থগিতাদেশ শেষ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট- এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের সাজা স্থগিতাদেশ নিয়ে গত ২৫ মার্চ বিকেলে বিএসএমএমইউ থেকে মুক্তি পান ২ মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

সারা দেশে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ঠিক এমন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করে তাতে দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছিল।

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ছাড়াও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। যার অধিকাংশই ১/১১ সরকারের সময়কালে দায়ের করা হয়েছিল।

(বিশেষ প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

পুলিশের হাতে নিহত সিনহার দুই সঙ্গী সিফাত ও শিপ্রা পুলিশ হেফাজতে!

বাংলাদেশের কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব:) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর জীবননাশের আশঙ্কার করছেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই আশঙ্কা রয়েছে পরিবারের সদস্যদেরও।

গত ৩১ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং শিপ্রা দেবনাথ।

শনিবার এই দুই শিক্ষার্থীর দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এর আগে বুধবারও তারা এ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

অন্যদিকে সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে বরগুনায় একটি মানববন্ধন শনিবার লাঠিচার্জ করে ভণ্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। সেই ঘটনায় স্থানীয় কয়েক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সাথে কক্সবাজারে ডকুমেন্টারি তৈরির সময় তিনজন সাথে ছিলেন। এরা হলেন, বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং তাহসিন রিফাত নূর।

এদের মধ্যে তাহসিন রিফাত নূরকে তাদের অভিভাবকের কাছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বাকি দুইজন – শিপ্রা দেবনাথ এবং সাহেদুল ইসলাম সিফাত এখন কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন।

এর মধ্যে সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

জীবননাশের আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং শিপ্রা দেবনাথের মুক্তির দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সেখানে চারদফা দাবি তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানাউল কবীর সিদ্দিকী।

এর মধ্যে রয়েছে ওই দুই শিক্ষার্থীর মুক্তি, মেজর (অব) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দুই শিক্ষার্থীকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি, দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সামাজিকভাবে নিরাপত্তা প্রদান।

সানাউল কবির সিদ্দিকী বলেন, ”পুলিশের গুলিতে যদি একজন আর্মি মেজর নিহত হতে পারে, সেখানে সিফাত পুলিশের বিপক্ষে একজন রাজসাক্ষী। তাহলে পুলিশের হেফাজতে থেকে সে কীভাবে বিপন্ন নয়? অবশ্যই সে বিপন্ন। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনেও তাকে নিয়ে জীবন সংশয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার বা মাদক উদ্ধারের নাম করে রাতের অন্ধকারে যেকোনো কিছু করে ফেলা হতে পারে, সেটার সমূহ সম্ভাবনা আছে।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যে মামলার কারণে এখন সিফাত এবং শিপ্রা কারাগারে রয়েছেন, যারা সেই অভিযোগ লিখেছেন, সেই মামলাকারীরাই (অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা) একই ঘটনায় এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে।

তাহলে সিফাত এবং শিপ্রার বিরুদ্ধে সেই মামলার গ্রহণযোগ্যতা কিভাবে থাকে?

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তিনি সাহেদুল ইসলাম শিফাত এবং শিপ্রা দেবনাথের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

উদ্বেগে আছেন সিফাতের স্বজনরাও

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সিফাত ও শিপ্রার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরাও।

সাহেদুল ইসলাম সিফাতের খালু মাসুম বিল্লাহ বিবিসিকে বলছেন, ”সিফাতকে নিয়ে আমরা বেশ শঙ্কায় আছি। কারণ এখানে দুইটা পক্ষই শক্তিশালী, এখন সে দুইটা পক্ষের মাঝখানে পড়ে গেছে। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আমরা উদ্বেগে আছি।”

মানবন্ধনের ওপর পুলিশের হামলা

সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বাড়ি যেখানে, সেই বরগুনার বামনায় তার মুক্তির দাবিতে একটি মানববন্ধনে পুলিশ লাঠিপেঠা করলে অন্তত বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মনোতোষ হাওলাদার বিবিসি বাংলাকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রায় দেড়শর মতো মানুষ মানববন্ধনে যোগ দেয়। তারা সিফাতের বন্ধু এবং সাবেক সহপাঠী।

তবে মানববন্ধন শুরু হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ এসে তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়।

মানববন্ধন বন্ধ করে দেয়ার ব্যাখ্যা হিসাবে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস আলী তালুকদার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ”আমাদের কারো অনুমতি না নিয়ে তারা হুট করে মানববন্ধন করেছে, আমাদের কাছে কোন ইনফরমেশন দেয়নি। আমাদের কাউকে এ ব্যাপারে আগে জানায়নি।

এটা সরকারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে, সেটাও তো আমাদের বোঝার ব্যাপার আছে।

কিছু কুচক্রী মহল আছে, যারা বর্তমান সরকারের বিপক্ষে কাজ করছে। তারা কি চোর, ডাকাত, নাকি ছিনতাইকারী, সেটা তো আমরা জানি না।”’

দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে পুলিশ

পুলিশের গুলিতে যখন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহত হন তখন সেখানে ছিলেন সাহেদুল ইসলাম সিফাত।

সিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলা হচ্ছে, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার জন্য তাক করা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের সাথে যোগসাজশে সিফাত এ কাজ করেছে।

তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলা মাদকদ্রব্য আইনে। সে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং গাঁজা যানবাহনে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধ।

অন্যদিকে শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিদেশি মদ, দেশীয় চোলাই মদ ও গাঁজা নিজ হেফাজতে রেখেছেন।

পুলিশের ভাষ্য মতে, আত্মরক্ষার জন্য মেজর রাশেদ খানকে গুলি করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্টে তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এরপর সেটি খুঁজতে পুলিশ রিসোর্টে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সে রিসোর্টে গিয়ে একটি কক্ষে শিপ্রা দেবনাথ এবং আরেকটি কক্ষে তাহসিন রিফাত নূরকে পাওয়া যায়।

এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, শিপ্রা দেবনাথের কক্ষ তল্লাশি করে সেখানে বিদেশি মদ, দেশি চোলাই মদ এবং গাঁজা পাওয়া যায়।

তবে পুলিশের আনা এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সানাউল কবির সিদ্দিকী বলছেন, মদ-গাঁজা খাওয়া তো দূরের কথা, তাদের আমি একটা সিগারেটও খেতে দেখিনি।

মেজর (অব) সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়ারের দায়ের করা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার ওসি এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জসহ (যিনি গুলি করেছেন) তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‍্যাব। এই মামলায় অপর চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এই মামলার তদন্ত করছে র‍্যাব।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিনহাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন টেকনাফ থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। টেকনাফের শামলাপুর চৌকিতে তল্লাশির সময় ওসির নির্দেশেই বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সিনহাকে লক্ষ্য করে চারটি গুলি ছোড়েন। সব গুলিই সিনহার শরীরে লাগে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ওসির সঙ্গে লিয়াকতের ফোনালাপের সূত্র ধরে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ফোনালাপের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’

র‍্যাবের একটি সূত্র জানায়, শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করার ঘটনা ঘটে ৩১ জুলাই রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে। এ সময় পরিদর্শক লিয়াকত ও তাঁর দল ‘ডাকাত ধরা’র প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সিনহা সেখানে পৌঁছালে লিয়াকত পরিচয় জানতে চান। সিনহা গাড়ির ভেতর থেকে নিজের পরিচয় দেন। লিয়াকত তাঁকে হাত ওপরে তুলে বেরিয়ে আসতে বলেন। সিনহা বেরিয়ে আসার পরপরই লিয়াকত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন।

ওসি প্রদীপের ফোনালাপের সূত্র ধরে একজন কর্মকর্তা জানান, রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনকে মোবাইলে ফোন করেন। ফোনে পুলিশ সুপার বিরক্ত হয়ে বলেন, এমন কী হয়েছে বলেন?

জবাবে ওসি বলেন, ‘চেকপোস্টে লিয়াকত একটি গাড়িকে সিগন্যাল দিলে গাড়ি থেকে তাঁকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। তখন আমি বললাম, তুমি তাড়াতাড়ি তাকে গুলি করো। তখন সেও তাকে গুলি করেছে। আমি সেখানে যাচ্ছি।’ পুলিশ সুপার হঠাৎ এ কথা শুনে বলেন, ঠিক আছে যান।

এর এক মিনিট পর রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে পরিদর্শক লিয়াকত ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সুপারকে ফোন করেন। লিয়াকত পুলিশ সুপারকে বলেন, ‘ঢাকা মেট্রো নম্বরে একটি গাড়িতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক ব্যক্তি। তাঁকে চার্জ করলে তিনি মেজর পরিচয় দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অস্ত্র তাক করলে আমি তাঁকে গুলি করি। একজনকে ডাউন করেছি, আর আরেকজনকে ধরে ফেলেছি।’ জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘তোমারে গুলি করছে তোমার গায়ে লাগেনি, তুমি যেটা করছ সেটা তার গায়ে লাগছে।’ লিয়াকত বলেন, ‘জি, স্যার’।

দুই পরিদর্শকের সঙ্গে কথোপকথনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওসি ও লিয়াকতের কাছ থেকে ঘটনা শুনে প্রথমে পুলিশ দপ্তর ও পরে রামু সেনানিবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাই। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলি।’ এই তল্লাশির বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানান।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরিদর্শক লিয়াকত পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াতের সদস্য। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের জন্য সোয়াত বা স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিস নামের এই বিশেষায়িত দলটি ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতায় গঠন করা হয়। এঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সোয়াতের সদস্যরা ‘এআর-১০ স্নাইপার’ ও ‘এম-৪ কারবাইন’সহ দুরবিন লাগানো স্নাইপার রাইফেল দিয়ে এক কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারেন। যে কারণে চোখের পলকে পরপর চারটি গুলি ছোড়েন লিয়াতক। সব গুলিই সিনহার শরীরে লাগে।

মামলার এজাহারে চারটি গুলির কথা বলা হয়। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে সিনহার শরীরে ছয়টি জখমের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রশ্ন ওঠে, চারটি গুলিতে ছয়টি জখম হলো কী করে।

র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটা পরিষ্কার হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ওসি প্রদীপ গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে টেকনাফ ছেড়ে চলে আসেন। বুধবার দুপুরে তিনি বুকের ব্যথা নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ খবর পেয়ে সেখানে আলাদা একটি কক্ষে তাঁকে আটক করে রাখা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, প্রদীপ যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য তিনি হাসপাতালে পুলিশি পাহারা বসান। এর আগে প্রদীপের কাছে থাকা অস্ত্র ও গুলি কেড়ে নেওয়া হয়। সারা রাত পাহারায় থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে পুলিশি পাহারায় কক্সবাজারে পাঠানো হয়।

প্রদীপ ছাড়াও টেকনাফ থানার আরও ছয় পুলিশ সদস্য বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। কারাগারে থাকা এই সাত আসামিসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়। বুধবার সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এই মামলা করেন।

অন্য আসামিরা হলেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। এঁরা এখন কক্সবাজার কারাগারে। গতকাল এই সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সিনহা হত্যার ঘটনায় দুই বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, এ ঘটনায় তাঁরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। পুলিশের ভাষ্য হলো, এ ঘটনা যিনি ঘটিয়েছেন সব দায় তাঁর। এর সঙ্গে বাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

দুই বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও ঘটেছে। বিশেষ করে র‍্যাবে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে অন্য সব ঘটনার চেয়ে এবারের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক বেশি। এতে বাহিনীর ভেতরে কিছু ক্ষোভেরও সঞ্চার হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ কক্সবাজারে বৈঠক করেন। দুই বাহিনীর প্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর দায় বাহিনীর ওপর পড়বে না। এতে দুই বাহিনীর সম্পর্কেও চিড়ও ধরবে না।

এরপর বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, এটাই শেষ ঘটনা।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ও সরকারি দলের সাংসদ নূর মোহাম্মদ বলেন, মাঠপর্যায়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা, ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সবাইকে সংযতভাবে তার সমাধান করে এগিয়ে যেতে হবে। দিন শেষে এটা মনে রাখতে হবে, দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার পক্ষ থেকে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়েছে।

রাওয়া ক্লাবের সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব.) এ এন মোশাররফ হোসেন গতকাল বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে আমরা সব দাবি জানিয়েছি। কিছু দাবি পূরণ হচ্ছে। এটা ভালো দিক। তবে জেলা পুলিশ সুপার এখনো ক্ষমতায় আছেন। তাঁকে প্রত্যাহারও আমাদের দাবির মধ্যে ছিল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমাদের দাবি পূরণ না হলে দরকার হলে আমরা রাস্তায় নামব।’

এ ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

(বিশেষ প্রতিনিধি, ঘাটাইল ডট কম)/-