ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে মত বিনিময় সভা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক মত বিনিময় সভা আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এ সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু।

করোনা জনিত কারনে শিক্ষার্থীদেও শিখন ঘাটতি পূরণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার।

সভায় সকল সহকারি শিক্ষা অফিসার ও উপজেলার ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণ উপস্থিত ছিলেন।

এতে করোনা কালীন ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমরান হোসেন , প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর, শাহনাজ পাভীন, অর্চনা পাল, মনিরুজ্জামান, নজরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের প্রমূখ।

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের হুইল চেয়ার, ডিভাইস ও চশমা প্রদান করা হয়।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর অর্ধগলিত লাশ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অজ্ঞাত এক তরুণীর (২২) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়ার ধলেশ্বরী নদীর মোহনা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন নৌকায় নদীতে মাছ ধরতে গেলে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ নদীতে বাশেঁর সাথে আটকা থাকা অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

পুলিশ আরও জানায়, আগদিঘুলিয়ার ঠাকুর দাস মন্ডলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ধলেশ্বরী নদীতে অজ্ঞাত মহিলার লাশটি ভাসছিল। তার দেহ পঁচা ফোলা ও দূর্গন্ধযুক্ত, চামড়া নেই, মাথার চুল উঠে খুলি বেড়িয়ে গেছে, নিচের পাটির দাঁত নেই। নিহতের পরনে ছিল কালো রংয়ের জিন্স প্যান্ট ও গোলগলা হাফহাতা গেঞ্জি।

নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লাশটি অন্য এলাকা থেকে নদীতে ভেসে এসেছে। নিহতের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিতে কাজ চলছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই তবুও টাঙ্গাইলে শ্যামলার নামে বিল সোয়া লাখ টাকা!

সানো হয়নি কোনও বৈদ্যুতিক খুঁটি। তারও টানানো হয়নি আবেনদকারী গ্রাহকের সেচ প্রকল্প পর্যন্ত। দেওয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। অথচ বিল এসেছে প্রায় সোয়া লাখ টাকা। সেই ভুতুড়ে বিল কখনও পাঠানো হয়নি গ্রাহকের কাছে। কিন্তু বিল খেলাপির দায়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ কর্তৃপক্ষ শ্যামলা বেগম নামে এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর হাকিমপুর গ্রামের মৃত আবদুর সবুর মিয়ার স্ত্রী শ্যামলা বেগম সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়ার জন্য ২০১৪ সালের শেষের দিকে বাসাইল পৌর এলাকার মশিউর রহমান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ লাইনের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর অধীনে আবেদন করেন। ওই সময় দাপনাজোর হাকিমপুর, দেউলী ও মুড়াকৈ এলাকার ১২ জনের কাছ থেকে সেচ মেশিনে বিদ্যুতের লাইন পাইয়ে দিতে মশিউর রহমান ১১ লাখ টাকা নেন। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে তিনি ৯ জনের সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন।

এছাড়া নিজ দায়িত্বে বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও তার কিনে আরও দুইজন তাদের সেচ মেশিনে সংযোগ নেয়। ওই সময় রহস্যজনক কারণে শ্যামলা বেগমের লাইন না দিয়ে সংশ্লিষ্টরা তার লাইন বাতিলের কথা বলে কাজ শেষ করে চলে যায়।

আবেদনের প্রায় পাঁচ বছর পর সম্প্রতি শ্যামলা বেগমের নামে এক লাখ ১৪ হাজার ৬২৭ টাকা বিদ্যুৎ বিল দেখিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী দফতরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ (বিউবো) এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমুম শিবলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বিদ্যুৎ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ফলে নিরীহ শ্যামলা বেগম চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ মামলায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বিবাদী বৃদ্ধা শ্যামলা বেগমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কার্যক্রমে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা শ্যামলা বেগম বলেন, ‘আমরা ১২ জন সেচ মেশিনে বিদ্যুতের লাইনের জন্য আবেদন করলে লাইন পাইয়ে দিতে স্থানীয় শফিকুলের মাধ্যমে বাসাইলের মশিউর রহমান সেচপ্রতি ৮০ হাজার করে টাকা নেন। ওই সময় ১১ জন বিদ্যুৎ লাইন পেলেও আমাকে লাইন দেওয়া হয়নি। খুঁটি বসানো হয়নি, টানানো হয়নিও তারও। আমার ৮০ হাজার টাকাও ফেরত দেয়নি। উল্টো আমার নামে এক লাখ ১৪ হাজার ৬২৭ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এছাড়া আমার নামে তারা মামলাও করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসের এমন মিথ্যা মামলায় এই বৃদ্ধা বয়সে আমাকে আদালতে দাঁড়াতে হবে। এমনকি বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিল খেলাপির অপবাদে জেলেও যেতে হতে পারে। এ ব্যাপারে আমি কী করবো বুঝতে পারছি না। এখন খুবই চিন্তায় আছি।’

শ্যামলা বেগমের ছেলে সুরুজ্জামান বলেন, ‘২০১৪ সালে আমরা একটি সেচ মেশিন করার পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ লাইন আনার জন্য আবেদন করি। তখন নানা অজুহাতে আমাদের লাইনটি বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যায়। প্রায় পাঁচ বছর পর আমার মায়ের নামে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভাগের মামলার নোটিশ আসে। তারা মামলার কপির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে দেন। অথচ সেচ মেশিন বা বিদ্যুৎ লাইনের কোনও অস্তিত্বই নাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মহসিনুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের জন্য শ্যামলা বেগম আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুঁটি স্থাপন বা কোনও তারও টানায়নি, সংযোগও দেয়নি। তারপরও শ্যামলা বেগমের নামে বিদ্যুৎ বিল খেলাপি মামলা হয়েছে। এই মামলা থেকে বৃদ্ধা শ্যামলা বেগমকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

বিদ্যুৎ লাইন পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে টাকা লেনদেনকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ সালের শেষের দিকে আমার নিজের একটিসহ ১২টি সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ লাইনের জন্য আবেদন করে ইস্টিমেট করি। তখন আমার হাত দিয়েই ১২টি সেচের জন্য বাসাইলের মশিউর রহমানকে ১১ লাখ টাকা দেই। সেই সময় ১১টি সেচে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্যামলা বেগমের সেচ পয়েন্ট পর্যন্ত কোনও প্রকার খুঁটি স্থাপন বা তার টানানোই হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। তারা বলে এ লাইন বাতিল হয়ে গেছে। শ্যামলা বেগমের লাইন আর হবে না। এ পাঁচ বছর শ্যামলা বেগমের নামে কোনও বিদ্যুৎ বিলও আসেনি। হঠাৎ করেই শ্যামলা বেগমের নামে বিল বকেয়া সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের মামলার সমন এসেছে। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ লাইন পাইয়ে দিতে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা গ্রহণকারী মশিউর রহমান বলেন, ‘ওই এলাকায় ৯টি সেচে বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টির বিষয়ে আমার জানা নেই। পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাকি ৩টির ব্যাপারে অফিসকে অবহিত করা হয়। এরমধ্যে দুটিতে নিজ দায়িত্বে খুঁটি এবং তার কিনে সংযোগ নেন। কিন্তু শ্যামলা বেগমের লাইনটি বাতিল হলে অফিসকে অবহিত করা হয়েছিল। যেখানে অফিসকে অবহিত করা হয়েছে সেখানে শ্যামলা বেগমের নামে বিদ্যুৎ বিল আসার কথা না। তার নামে কেন বিদ্যুৎ বিল আসলো এটা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারাই ভালো জানেন।’

মামলার বাদী টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী দফতরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ (বিউবো) এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমুম শিবলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোবাইলে কথা বলা যাবে না। অফিসে আসেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ রকম হাজার হাজার মামলা হচ্ছে।’ পরে তিনি ফোন কেটে দেন।

টাঙ্গাইলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিউবো)-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদত আলীর কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি উল্টো ধমক দিয়ে বলেন, ‘মামলা হয়েছে কিনা আমি কীভাবে বলবো? এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। আমি ফোনে কিছু বলবো না, রাখেন!’ এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় গণপরিবহণ

১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় ফিরছে গণপরিবহণ। তবে এক্ষেত্রে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা এবং যাত্রী, চালক ও সুপারভাইজারসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা জোনের বিআরটিএ এবং বিআরটিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান। বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে তিনি মতবিনিময়ে যুক্ত হন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহন আগের ভাড়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে কয়েকটি বিষয় সংশ্লিষ্টদের প্রতিপালন করতে হবে।

গণপরিবহনের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, চালকের সহকারী, টিকিট বিক্রয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাসস্ট্যান্ডে হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান, পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আসন সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। অর্থাৎ যত শত যাত্রী পরিবহন নীতি কার্যকর হবে। দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাতে হবে। ক্লিপের শুরু এবং শেষে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’

নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানোর পাশাপাশি আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি হাইওয়ে পুলিশ জেলা প্রশাসন জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি কঠোরভাবে প্রতি পালনের অনুরোধ করেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে চুরি, নির্বিকার প্রশাসন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। করোনাকালীন বন্ধে হোস্টেল ফাঁকা থাকার সুযোগে চুরি হয়েছে কয়েক লাখ টাকার মালামাল।

কলেজ অধ্যক্ষের আবাসিক ভবনের ২০-২৫ গজের মধ্যে এমন চুরি সংঘটিত হলেও কেউই টের পায়নি বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চুরির ঘটনা জানতে পারার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি তারা। চুরির ঘটনা জানার পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হোস্টেলে ছাত্রীরা আসেন।

ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি থাকার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ছুটি বহাল রয়েছে।

২৮ মার্চ কলেজ খোলার কথা থাকায় হোস্টেলের ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব কিছুই রেখে যায়। কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেল হওয়ায় সেখানে ছাত্রীদের জিনিসপত্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও থাকে কলেজ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারপরও চুরির ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

শুক্রবার দুপুরে কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে গিয়ে দেখা যায়, হোস্টেলের চারপাশে পুরো এলাকায় জঙ্গল হয়ে রয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে কলেজের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও ডরমেটরি, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল অবস্থিত হলেও, প্রতিষ্ঠানটিতে নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র দুই জন। ছাত্রীদের থাকার জন্য সাতটি কক্ষ ও ডাইনিং রুমে জিনিসপত্রের তছনছ হয়ে আছে। সবগুলো ঘরেই ছাত্রীদের কাপড়, বইপত্র, প্রয়োজনীয় জিনিস পড়ে আছে। হোস্টেলের ওয়াশরুমের কল, বালতিও নিয়ে গেছে চোরচক্র। বাদ যায়নি ছাত্রীদের কাপড় চোপড়, নগদ টাকা, দুটি ল্যাপটপ, একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, প্রায় ৩০টির মতো টেবিল ফ্যান, চার্জার ফ্যান, রুমের লাইট, থালাবাসন, বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক স্টোভ, গ্যাসের চুলা।

শুধু তাই নয়, লাগেজ থেকে একাডেমিক সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাজপত্রও নিয়ে গেছে চোরেরা। হোস্টেলের ছাদ থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিছানার চাদর দিয়ে বানানো রশি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

কলেজের অ্যাপারেল ডিপার্টমেন্টের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হোস্টেলে আবাসিকে থাকা ছাত্রী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘গত ১৬ মার্চ কলেজ বন্ধ ও হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ আসার পর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কয়েকটি কাপড় নিয়ে আমরা সবাই বাড়ি গিয়েছিলাম। ১০ দিন পরই কলেজ খোলা থাকায় আমরা ল্যাপটপ-কম্পিউটার, নগদ টাকাসহ কোনও কিছুই নিয়ে যাইনি। বৃহস্পতিবার বিকালে হোস্টেল সুপার ফোন করে চুরির ঘটনা জানান।

পরে আজ (শুক্রবার) সকালে আমরা হোস্টেলে এসে সবকিছু তছনছ দেখতে পাই। এর আগেও এখানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে এখানে থাকলেও আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুব নাজুক। আগের চুরির বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

হোস্টেলের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী দিপা সমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের হোস্টেলে ছাত্রীদের খাওয়া খরচ নিজেদের বহন করতে হয়। আমরা মেসের মতো মিল সিস্টেমে খেয়ে থাকি। হোস্টেলের কোনও লাইট বা অন্য কিছু নষ্ট হলে ছাত্রীদের নিজ খরচে মেরামত করতে হয়। এজন্য আমরা সবাই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখি। রুমে একটি বাক্সে ছাত্রীদের খাবার ও অন্যান্য কেনাকাটার জন্য নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিটি ছাত্রীরই কম-বেশি ব্যক্তিগত টাকাও ছিল। বন্ধ হওয়ার কদিন পরই কলেজ খোলা থাকার কথা থাকায় কেউ সেই টাকা নেয়নি। অনেকের স্বর্ণের গহনাও ছিল। সেগুলোও চুরি হয়েছে।’

ফেব্রিক ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আম্বিয়া আক্তার আখি বলেন, ‘দ্বিতল বিশিষ্ট এই হোস্টেলে ৭টি রুমে ২৭ জন ছাত্রী থাকতাম। হোস্টেলে প্রচুর গরম থাকায় প্রত্যেক ছাত্রীরই আলাদা টেবিল ফ্যান-চার্জার ফ্যান ছিল। সেগুলো সবই চুরি হয়েছে। আমাদের সার্টিফিকেটও চুরি হয়েছে। এর আগেও এখানে চুরি হয়েছে। তখন আমাদের কলেজ প্রশাসনকে জানানোর পর তারা আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।’

হোস্টেলের নাইটগার্ডের দায়িত্বে থাকা জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে কলেজের নিজস্ব সাবস্টেশন নষ্ট থাকায় প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। যেহেতু ছাত্রী হোস্টেল আর ছাত্রীরাও নেই, তাই আমরা শুধুমাত্র বাইরে থেকে টর্চ দিয়েই দেখাশোনা করতাম। আর এই হোস্টেলটিও মূল ক্যাম্পাসের বাইরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোডের পাশে। এতে নিরাপত্তাকর্মী কম থাকায় নজরদারি করাও সম্ভব হয় না।

বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয়রা হোস্টেলের পেছনের সীমানা দেয়াল টপকে এক যুবককে কিছু মালামাল নিতে দেখে। পরে আমি হোস্টেল সুপারকে সেটি জানাই। তিনি এসে দেখেন হোস্টেলের মূল ফটকের সামনের তালা ভাঙা। এরপর ভেতরে গিয়ে প্রতিটি রুমের তালা ভাঙাসহ সবকিছু তছনছ দেখা যায়।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপে হোস্টেল বন্ধ থাকার সুযোগে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ও একাডেমিক সার্টিফিকেটসহ জরুরি কাগজপত্র চুরি করে নিয়েছে চোরচক্র। কলেজের অধ্যক্ষের আবাসিক ভবনের ২০-২৫ গজের মধ্যে এমন চুরি সংঘঠিত হলেও এ বিষয়ে টের পায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে চুরির বিষয়টি জানার পরেও কোনও আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চুরির খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে হোস্টেলে আসেন ছাত্রীরা।ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সে সময় ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বহাল রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মার্চ ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। ২৮ তারিখে কলেজ খোলার কথা থাকায় ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই হোস্টেলে রেখে যান। কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেল অবস্থিত হওয়ায় ছাত্রীদের জিনিসপত্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও থাকে কলেজ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারপরও এমন চুরির ঘটনায় নির্বিকার কলেজ কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে এমন বড় চুরির ঘটনা ঘটলেও সেখানে আসেননি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। আসেননি কোনও শিক্ষক বা কর্মকর্তা।

শুক্রবার দুপুরে কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে গিয়ে দেখা যায়, হোস্টেলের চারপাশে পুরো এলাকায় জঙ্গল হয়ে রয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে কলেজের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও ডরমেটরি, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল অবস্থিত হলেও, প্রতিষ্ঠানটিতে নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র দুই জন। ছাত্রীদের থাকার জন্য সাতটি কক্ষ ও ডাইনিং রুমে জিনিসপত্রের তছনছ হয়ে আছে। সবগুলো ঘরেই ছাত্রীদের কাপড়, বইপত্র, প্রয়োজনীয় জিনিস পড়ে আছে। হোস্টেলের ওয়াশরুমের কল, বালতিও নিয়ে গেছে চোরচক্র। বাদ যায়নি ছাত্রীদের কাপড় চোপড়, নগদ টাকা, দুটি ল্যাপটপ, একটি ডেক্সটপ কম্পিউটার, প্রায় ৩০টির মতো টেবিল ফ্যান, চার্জার ফ্যান, রুমের লাইট, থালাবাসন, বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক স্টোভ, গ্যাসের চুলা। শুধু তাই নয়, লাগেজ থেকে একাডেমিক সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাজপত্রও নিয়ে গেছে চোরেরা। হোস্টেলের ছাদ থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিছানার চাদর দিয়ে বানানো রশি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

কলেজের অ্যাপারেল ডিপার্টমেন্টের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হোস্টেলে আবাসিকে থাকা ছাত্রী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘গত ১৬ মার্চ কলেজ বন্ধ ও হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ আসার পর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কয়েকটি কাপড় নিয়ে আমরা সবাই বাড়ি গিয়েছিলাম। ১০ দিন পরই কলেজ খোলা থাকায় আমরা ল্যাপটপ-কম্পিউটার, নগদ টাকাসহ কোনও কিছুই নিয়ে যাইনি। বৃহস্পতিবার বিকালে হোস্টেল সুপার ফোন করে চুরির ঘটনা জানান। পরে আজ (শুক্রবার) সকালে আমরা হোস্টেলে এসে সবকিছু তছনছ দেখতে পাই। এর আগেও এখানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে এখানে থাকলেও আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুব নাজুক। আগের চুরির বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’হোস্টেলের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী দিপা সমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের হোস্টেলে ছাত্রীদের খাওয়া খরচ নিজেদের বহন করতে হয়। আমরা মেসের মতো মিল সিস্টেমে খেয়ে থাকি। হোস্টেলের কোনও লাইট বা অন্য কিছু নষ্ট হলে ছাত্রীদের নিজ খরচে মেরামত করতে হয়। এজন্য আমরা সবাই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখি। রুমে একটি বাক্সে ছাত্রীদের খাবার ও অন্যান্য কেনাকাটার জন্য নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিটি ছাত্রীরই কম-বেশি ব্যক্তিগত টাকাও ছিল। বন্ধ হওয়ার কদিন পরই কলেজ খোলা থাকার কথা থাকায় কেউ সেই টাকা নেয়নি। অনেকের স্বর্ণের গহনাও ছিল। সেগুলোও চুরি হয়েছে।’

ফেব্রিক ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আম্বিয়া আক্তার আখি বলেন, ‘দ্বিতল বিশিষ্ট এই হোস্টেলে ৭টি রুমে ২৭ জন ছাত্রী থাকতাম। হোস্টেলে প্রচুর গরম থাকায় প্রত্যেক ছাত্রীরই আলাদা টেবিল ফ্যান-চার্জার ফ্যান ছিল। সেগুলো সবই চুরি হয়েছে। আমাদের সার্টিফিকেটও চুরি হয়েছে। এর আগেও এখানে চুরি হয়েছে। তখন আমাদের কলেজ প্রশাসনকে জানানোর পর তারা আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।’

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমি বলেন, ‘এখানে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে। এইসব ছাত্রীর একাডেমিক সব কাগজপত্রই চুরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকেরই কমবেশি অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

হোস্টেলের নাইটগার্ডের দায়িত্বে থাকা জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে কলেজের নিজস্ব সাবস্টেশন নষ্ট থাকায় প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। যেহেতু ছাত্রী হোস্টেল আর ছাত্রীরাও নেই, তাই আমরা শুধুমাত্র বাইরে থেকে টর্চ দিয়েই দেখাশোনা করতাম। আর এই হোস্টেলটিও মূল ক্যাম্পাসের বাইরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোডের পাশে। এতে নিরাপত্তাকর্মী কম থাকায় নজরদারি করাও সম্ভব হয় না। বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয়রা হোস্টেলের পেছনের সীমানা দেয়াল টপকে এক যুবককে কিছু মালামাল নিতে দেখে। পরে আমি হোস্টেল সুপারকে সেটি জানাই। তিনি এসে দেখেন হোস্টেলের মূল ফটকের সামনের তালা ভাঙা। এরপর ভেতরে গিয়ে প্রতিটি রুমের তালা ভাঙাসহ সবকিছু তছনছ দেখা যায়।’

হোস্টেল সুপার তোহফা আক্তার বলেন, ‘আমি মূলত কলেজের ফোরম্যানের দায়িত্বে রয়েছি। পাশাপাশি ছাত্রী হোস্টেলের সুপারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছি। চুরির বিষয়টি জানার পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে। অধ্যক্ষ কলেজের বাইরে থাকায় কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. বকতিয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অসুস্থতা জানিয়ে কথা বলতে চাননি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি না আসা পর্যন্ত হোস্টেলে প্রবেশ করা যাবে না। পরে একপর্যায়ে তিনি ভেতরে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের অনুমতি দেন। এ সময় তার কাছে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম খোলা থাকা এবং এমন ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট থানায় এই বিষয়ে কথা হয়েছে। শনিবার আমি কলেজে যাওয়ার পর ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কী কী ক্ষতি হয়েছে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত সাত দিন আগেও হোস্টেল সুপার হোস্টেলের ভেতরে প্রবেশ করে সবকিছু ঠিকঠাক দেখেছেন। এই সাত দিনের মধ্যেই সম্ভবত কোনও এক সময় এমন চুরি ঘটনা ঘটেছে।’

কলেজের ভেতরে ছাত্র হোস্টেল আর বাইরে ছাত্রী হোস্টেল কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র কয়েকমাস আগে এখানে যোগ দিয়েছি। আসার পরই করোনা শুরু হয়েছে। তাই এই বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে আমি যোগ দেওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি। যেহেতু আমাদের নিরাপত্তকর্মীও মাত্র দুইজন। তাই অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়।’

প্রতিষ্ঠানে তার অবর্তমানে কে দায়িত্ব পালন করেন এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি না থাকলে হোস্টেল সুপার তোহফা আক্তার বিষয়টি দেখেন। আমি না থাকলে তিনিই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।’ একজন ফোরম্যান কীভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন, জানতে চাইলে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে জানানোর পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি। তারা অভিযোগ দিলে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কলেজ ক্যাম্পাসে এমন বড় চুরির ঘটনা ঘটলেও সেখানে আসেননি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। আসেননি কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তা।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সখীপুরে মামলা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক তরুণসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলাটি করেন।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে সখীপুরের সিলিমপুর গ্রামের মনির হোসেনের (২৫) সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। মাস ছয়েক পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। দুই মাস আগে মনির সাবেক স্ত্রীর মুঠোফোনের নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করেন। পুনরায় বিয়ে করার জন্য ফোনে তাঁকে প্রস্তাব দেন তিনি।

একপর্যায়ে ওই নারী মনিরের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। গত সোমবার রাতে ওই নারীকে বিয়ে করার কথা বলে সখীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে আসেন মনির। রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মনির ও তাঁর তিন বন্ধু ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

গতকাল বুধবার রাতে ওই নারী সখীপুর থানায় এসে মামলা করেন।

ওই নারীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করায় প্রতিশোধ নিতে মনির ওই নারীর সঙ্গে অভিনয় করেন। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ এইচ এম লুৎফুল কবির আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এটা একটা পরিকল্পিত গণধর্ষণ। সাবেক স্ত্রীর ওপর প্রতিশোধ নিতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মূল আসামি মনিরসহ দুজন পুলিশের নজরবন্দীতে আছেন। শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে ঘুষে মিলে কৃষি ঋণ

নাম পরশ আলী। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের চামটা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বপ্ন ছেলেকে বিদেশ পাঠাবেন। কিন্তু তার হাতে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর টাকা নেই। তাই তিনি বিভিন্ন লোকজনের পরামর্শে কৃষি ব্যাংক নাগরপুর শাখায় যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে যানতে পারেন কৃষি খাত ছাড়া কোন ঋণ দেয়া হয় না। তাই বাধ্য বাড়ি ফিরে আসেন পরশ আলী।

পরদিন আবার যান কৃষি ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে। সেখানে গিয়ে মাঠ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও ব্যবস্থাপক মুহম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে পরামর্শ করেন। ওই সময় মাঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপক তাকে গাভী পালনের জন্য দুই লাখ টাকা ঋণ ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। বিনিময়ে ঋণ বাবদ (সরকারি খরচ বাদ দিয়ে) তাদের দিতে হবে ১১ হাজার টাকা।

এতেই রাজি হয়ে যান পরশ আলী। পরবর্তীতে পরশ আলী সকল কাগজপত্র তৈরি করে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৫ মাস আগে ছেলেকে সৌদি আরব পাঠান।

একই গ্রামের ওয়াজেদ মিয়া। তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পাওয়ানাদাররা তার কাছে ধার দেয়া টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা না থাকায় পাওয়ানাদারদের বার বার ফিরিয়ে দিয়েছেন ওয়াজেদ।

পরে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে কৃষি ব্যাংক নাগরপুর শাখায় যোগাযোগ করেন ঋণ নেয়ার জন্য। পরে ব্যাংকের মাঠ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন তাকে জানায়, ঋণ নিয়ে আপনি যা ইচ্ছে তাই করেন। কিন্তু আপনাকে গাভি পালনের উপর দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে হবে। একথা শুনেই ওয়াজেদ রাজি হয়ে যান।

পরবর্তীতে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে ঋণ গ্রহণের সময় ওয়াজেদকে দুই লাখ টাকার স্থলে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেয়া হয়।

এ সময় ওয়াজেদ ১৪ হাজার টাকা কম দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে বেলায়েত হোসেন তাকে জানান, দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে হলে সরকারি খরচ বাদ দিয়ে অতিরিক্ত ১৪ হাজার টাকা স্যারকে (ব্যবস্থাপক) দিতে হবে।

এ সময় তার টাকার দরকার থাকায় আর কথা বাড়াননি। পরে তিনি সেই ঋণ নেয়া টাকা দিয়ে পাওনাদারদের ধার-দেনা শোধ করেন।

সরেজমিন নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের চামটা গ্রামে গেলে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন।

ওই এলাকার মান্নান মিয়া জানান, তিনি ঋণগ্রস্থ হওয়ায় কৃষি ব্যাংক নাগরপুর শাখায় যান এক লাখ টাকা কৃষি ঋণ নেয়ার জন্য। পরে ব্যাংকের মাঠ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন তাকে জানায়, ঋণ নিতে হলে লাখে সরকারি ফি ছাড়াও আট হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে। তা না হলে ম্যানেজার ঋণ পাশ করবে না। পরে তিনি বাধ্য হয়ে আট হাজার টাকা দিয়ে এক লাখ টাকা ঋণ নেন।

একই গ্রামের সেলিম মিয়া জানান, তিনিও বাধ্য হয়ে সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তবে তিনি ছাড়াও পরশ আলী ও হযরত আলী ঋণ নেয়ার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহম্মদ মিজানুর রহমান ও মাঠ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতি দমন কমিশনসহ (দু’দক) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

একই এলাকার শাহজাহানের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়ার জন্য ১৪ হাজার টাকা, লুৎফর রহমানকে ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা, শাহাদৎ হোসেনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকার, বুদ্দু মিয়ার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, সোনা মিয়ার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, হযরত আলীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মিলন মিয়ার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ছানোয়ারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, আফজাল মিয়ার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, লালন মিয়ার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং মান্নান মিয়ার কাছ থেকে আট হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে এক লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়।

ব্যাংকের মাঠ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, তিনি কারো কাছ থেকে ঋণ দেয়ার কথা বলে সরকারি ফি’র বাইরে কোন অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়নি। যারা সব মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৬৪৩ জনকে নয় কোটি ১১ লাখ এক হাজার টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এ পর্যন্ত ৬০ জনকে ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। তবে এসব ঋণ দেয়ার সময় কারো কাছ থেকে সরকারি ফি ছাড়া কোন প্রকার অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়নি বলেও তিনি জানান। এছাড়া ব্যাংকের কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের টাঙ্গাইল (দক্ষিন) ব্যবস্থাপক কে এম হাবিব-উন-নবী জানান, ঘুষের বিনিময়ে ঋণ দেয়ার বিষয়টি তিনি এখন পর্যন্ত জানেন না। কেউ যদি কোন অভিযোগ করেন তাহলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে না

কেন্দ্রীয়ভাবে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা এ বছর অনুষ্ঠিত হবে না। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিল। ওই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছালে মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান,আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে অনলাইন বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয় সেক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের বিষয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় অনলাইন বৈঠকে।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইতবেদায়ি শিক্ষা মসাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। বার্ষিক মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়ার হবে বলে জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার করেছে সরকার।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ১২৬ ধারার ১ নং উপধারার ক্ষমতাবলে সরকার ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টেরিয়াল ক্যাবল (আইটিসি), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্র্যান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনিটিটিএন) সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট জটিলতার অবসান ঘটল। ভ্যাটের চাপে ৩ কোটি গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবা না পাওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তারও অবসান ঘটল।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম, মির্জাপুরের বিলে যুবকের অর্ধগলিত লাশ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিল থেকে সোলাইমান হোসেন (২১) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।

উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া বিল থেকে গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধার পরে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ৪ দিন আগে সোলাইমান নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সোলাইমানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার হাবলা গ্রামের এক দুবাই প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশও হয়।

৪ দিন আগে সোলাইমান নিখোঁজ হন। বুধবার বিকেলে ভাতকুড়া বিলে অর্ধগলিত মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। সন্ধ্যার পর পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। মৃতদেহটি পচে গেছে।

কয়েকদিন আগেই তাকে হত্যা করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজীম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরকীয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-