সখীপুরে অটোভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানের ধাক্কায় সোলায়মান (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-সাগরদিঘী সড়কের উপজেলার বড়চওনা মুটেরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোলায়মান ভালুকা উপজেলার মেদুয়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বড়চওনা মুটেরপাড় এলাকায় সড়কের পাশে সোলায়মান দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি অটোভ্যান এসে তাকে ধাক্কা দিলে রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন এ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে পাহাড় কাটার ভেকু নষ্ট করে দিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার ভেকু নষ্ট করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বহেড়াতৈল গ্রামের ডাবাইল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা এ আদালত পরিচালনা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাবাইল গ্রামে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির অপরাধে একটি ভেকু বিনষ্ট করা হয়। এসময় ভেকুর কাজে সহযােগিতা করায় ওই এলাকার কামাল মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা জানান, বালু মহল ও ব্যবস্থাপনা আইনে এ দন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকে।

(সাজ্জাত লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

মওলানা ভাসানী ও মজলুমের ঐতিহ্য

জালিম ও মজলুম শব্দ দুইটাকে ভাসানী ব্যবহার করেছেন মার্ক্সবাদে বহুল ব্যবহৃত অপ্রেসর ও অপ্রেসড শব্দ দুইটার প্রতিশব্দ হিসাবে। কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো শুরুই হয়েছে মানব সভ্যতার ইতিহাসকে অপ্রেসর ও অপ্রেসডের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস হিসাবে।

মার্ক্সিস্টডটঅর্গে মেনিফেস্টোর বাংলা অনুবাদে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাচারী ও অত্যাচারিত শব্দ দুইটা। এই মুহূর্তে হাতের কাছে আর কোন বাংলা কপি নাই। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে আমাদের ক্লাসিকাল রুশপন্থী বামেদের মধ্যে শোষক ও শোষিত শব্দ দুইটা কোন কারনে জনপ্রিয় হয়েছে।

যদিও আমার মনে হয় যে এই দুই শব্দে মেনিফেস্টোর মূল অর্থ ধরা যায় না। জালিম ও মজলুম সেই তুলনায় অনেক ভাল প্রতিশব্দ। আমিও তাই এই শব্দ দুইটা ব্যবহার করি।

কিন্তু ভাসানী এই শব্দ দুইটাকে কেবলি মার্ক্সবাদী পরিভাষা হিসাবেই ব্যবহার করেছেন, তা মনে হয় না। আবার আরবী দুইটা শব্দ ব্যবহার করেছেন তিনি কেবলি তার বামপন্থায় একটা মুসলমানি আমেজ দেয়ার উদ্দেশ্যে, তাও মনে হয় না।

আজকাল অনেকে আরবী ফারসি শব্দ ব্যবহার করেন এইরকম বাহ্যিক অলঙ্কার হিসাবে, বা নিজেদেরকে ইসলামঘনিষ্ঠ হিসাবে দেখাইতে। ভাসানীর ক্ষেত্রে তা বলা যায় না।

প্রথমত, কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো মানব সভ্যতার ইতিহাসে যে অবিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্বের দৃশ্য হাজির করেছে, ইসলামের ইতিহাসতো তার থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। বরং ইসলামের গোড়ার ইতিহাস মানব সভ্যতার এই ইতিহাস বোঝার জন্যে এক অমূল্য সম্পদ।

জালিম-মজলুমের যেই ডিকোটমি ইসলামের ইতিহাসের একেবারে গোড়ার বিষয়, মার্ক্স পরবর্তি দুনিয়ায় (অন্তত বাংলাদেশে) ভাসানী তা আবারো জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক করেছেন। ভাসানীর আল্লাহ একান্তই মজলুমের আল্লাহ্‌। কোরান-হাদিসে এমন আল্লাহর ধারণা পাওয়া যায়।

কোরানে যেমন আছে যে আল্লাহ্‌ কখনো জুলুম করেন না, বরং মানুষই মানুষের উপরে জুলুম করে। হাদিসে যেমন আছে যে আল্লাহ্‌ এমনকি নিজের জন্যেও জুলুম নিষিদ্ধ করেছেন। এই আল্লাহর ধারণা জীবন্ত ছিল অন্ততপক্ষে আব্বাসি বিপ্লবের সময় পর্যন্ত, এবং তারপরেও।

এই কারনেই, আল্লাহ জুলুম করতে পারেন, এমন ধারণা ইসলামের শুরুর দিকের ধর্মতাত্ত্বিকরা (যেমন কাদারি ও মুতাজিলারা) সম্পূর্ণ রূপে অস্বীকার করতো।

উমাইয়া খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান যখন নিজের জুলুমকে আল্লাহর ইচ্ছা বলে প্রচার করেছিলেন, তখন দরবেশ হাসান আল বসরী ঘোষণা দিয়েছিলেন – আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলছে।

যে আল্লাহ্‌ কোনভাবেই অবিচার করেন না, যিনি নিজের জন্যে জুলুম নিষিদ্ধ করেছেন, যেই আল্লাহর ধারণা অবশ্য পরবর্তিতে প্রান্তিক হয়ে গেছে। সুন্নিদের মধ্যে পরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আশারি ধর্মতত্ত্ব এবং এমনকি ধর্মতত্ত্বেরই বিরোধিতা, যে ধরণের ঐতিহ্যে এমন আল্লাহর ধারণাকে সীমাবদ্ধ মনে করা হতো।

মানব জাতির একটা ট্রাজেডি হলো যে প্রাচীনকালের সব বৈপ্লবিক ধর্মীয় ঐতিহ্যই রাজ্য বা সাম্রাজ্য বিস্তার ও টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হয়ে ওঠার পর তার মধ্যকার বিপ্লবী শক্তিকেও নিঃশেষ করে ফেলা হয়েছে, জন্ম দেয়া হয়েছে এমন বিভিন্ন ধরণের ধর্মতত্ত্ব যা জালিম শাসকদের বৈধতা দিতে পারে।

আর এসবের পাহারাদার হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে পুরোহিত শ্রেণী।

একটা বিপ্লবী ঐতিহ্যকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলার জন্যে শাসক শ্রেণী ও পুরোহিতরা সাধারণত নানানরকম পবিত্রতা-অপবিত্রতার ধারণাকে ঐ ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় ও প্রধান বিষয় করে তোলে। পবিত্রতা আরোপ করার পর নিজেদের দাবি করে সেই পবিত্রতার খাদেম ও রক্ষক হিসাবে। যার ফলে জনসাধারণের পক্ষে আর স্বাধীনভাবে ঐ ঐতিহ্যে প্রবেশ ও তার ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

এরফলে প্রচন্ড বিপ্লবী ঐতিহ্যও পরিণত হয়ে যেতে পারে অর্থহীন কিছু আচার অনুষ্ঠানে। ইসলামের ইতিহাসেও একি ঘটনা ঘটেছে। ফলে জালিম-বনাম মজলুমের ডিকোটমি ইসলামের কেন্দ্র থেকে চলে গিয়েছিল প্রান্তে, হারিয়ে ফেলেছিল এর বৈপ্লবিক সম্ভাবনা।

পবিত্রতার নেকাবে ঢাকা, পুরোহিতদের পাহারায় থাকা বিপ্লবী পরিভাষা অর্থহীন।

মওলানা ভাসানী জালিম-মজলুমের ডিকোটমিকে এই অর্থহীনতা থেকে রক্ষা করেছেন। আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেইসাথে তিনি এই ডিকোটমি ব্যবহারের মাধ্যমে কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর ইতিহাস চেতনাকেও মুক্ত করেছেন সোভিয়েতপন্থী পুরোহিতদের হাত থেকে, তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণের হাতে।

তিনি যথার্থই হাসান আল বসরি, আমর ইবনে ওবায়েদ ও ওয়াসিল ইবনে আতার উত্তরসূরী।

জর্জো আগামবেনের পরিভাষা যদি ব্যবহার করি, তবে ভাসানীর এই কাজ একধরণের প্রফেনেশন। আগামবেন এই ধারণাটি গড়ে তুলেছেন ওয়াল্টার বেনিয়ামিনের কাজ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে।

ভাসানীর মতোই বেনিয়ামিনের লেখালেখির মধ্যেও মার্ক্সবাদ ও ইব্রাহিমি ঐতিহ্যের মিশেল উল্লেখ করার মতো। অনেকেই এই কারনে বেনিয়ামিনকে আধ্যাত্ম্যবাদী মার্ক্সিস্ট বলে মনে করেন। কিন্তু আগামবেন আমাদের বলছেন যে বেনিয়ামিন যা করেছেন তাহলো প্রফেনেশন।

কী জিনিস এই প্রফেনেশন? যা একসময় স্যাক্রেড ছিল, যা একসময় ছিল শাসক শ্রেণী ও পুরোহিতদের দখলে, তাকে মুক্ত করে জনগণের অধিকারে ফেরত আনাই প্রফেনেশন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাসানী নিঃসন্দেহে একজন সফল প্রফেশনেশনকারী চরিত্র, তার ব্যবহার করা জালিম-মজলুমের ডিকোটমির বর্তমান জনপ্রিয়তাই তার প্রমাণ।

কিন্তু ভাসানীর কাছ থেকে আমাদের নেয়ার আছে আরো অনেক কিছুই। ভাসানীতো তিনি, যিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন প্রবল সম্ভাবনাময় রুবুবিয়াতের রাজনৈতিক দর্শন, আজকের দুনিয়ায় যার গুরুত্ব বেড়েছে, কমে নাই।

শাসনবাদের বিপরীতে পালনবাদের চর্চার যে ঐতিহ্য তিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, এখন সময় এসেছে তা জনপ্রিয় করে তোলার। শাসনবাদতো আইন আর শাসনের ভেদ করেনা, আইনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় শুদ্ধ শাসন বা জুলুম।

পালনবাদ অন্যদিকে শুধু মানুষ না, বরং সকল জীব এবং জরবস্তুর পরিচর্যার, এবং সকল সত্তার জন্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মতবাদ। সাত শতকের মজলুম জননেতা ইমাম আলী একদা বলেছিলেন যে তিনি হাশরের ময়দানে আল্লাহ্‌ ও তার নবীর সামনে একজন জালেম হিসাবে হাজির হতে চান না, এবং তাকে যদি পুরা দুনিয়ার শাসনভারও তুলে দেয়া হয় তাহলেও এমনকি একটা পিপড়ার অধিকারে থাকা শষ্য দানাও তিনি কেড়ে নেবেন না।

আমাদের মজলুম জননেতা ভাসানী পালনবাদ ও জুলুম বিরোধিতার সেই ঐতিহ্যই আমাদের জন্যে জীবন্ত করে দিয়ে গেছেন।

ভাসানী কেন সত্তরের নির্বাচনে অংশ নেন নাই, নিলে কী হইত, তা নিয়ে অনেক তর্ক আছে। আমি ঐ তর্কে ঢুকবোনা। তবে শুধু বলতে চাই যে, সবাই যখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, তিনি তখন এই বাঙলায় দেখেছিলেন, তার ভাষায় – এক মহাপ্রলয়।

পল ক্লির আঁকা ছবি এঞ্জেলাস নোভাস, বেনিয়ামিন যার নাম দিয়েছিলেন ইতিহাসের ফেরেশতা, যিনি মানব জাতির ইতিহাসকে এক অবিচ্ছিন্ন মহাপ্রলয় হিসাবে দেখেন, সেই ফেরেশতার দৃষ্টিভঙ্গীতেই যেনবা ভাসানী তাকিয়েছিলেন বাঙলার জনগণের ইতিহাস ও অস্তিত্বের দিকে।

শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় পার্শচরিত্রে পরিণত হয়ে গিয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন করতে দ্বিধা করেন নাই, কারন তা ছিল জালিম বনাম মজলুমের লড়াই।

আজকে আমাদের জন্যে সৌভাগ্য যে তিনি ক্ষমতা পান নাই, তাই শেখ মুজিবের মতো নেতাতে পরিণত হওয়ার ভাগ্যও বরণ করেন নাই। আলীর মতো থেকে গেছেন মজলুম জননেতা, আজ অবধি।

আমরা মুক্তিযুদ্ধে জিতেছি, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু মহাপ্রলয়তো শেষ হয় নাই। ভাসানীও তাই আমাদের জন্যে জীবন্ত হয়ে উঠলেন।

(পারভেজ আলম: লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারি পরিষদের সম্মেলন

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারি পরিষদের টাঙ্গাইল সখীপুর উপজেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (২২ নভেম্বর) সখীপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হল রুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে এমএ হাশেমের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সর্বসম্মতিক্রমে সখীপুর পিএম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী এমএ হাশেমকে সভাপতি এবং বংকী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর আঃ ছবুর মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও সম্মেলনে বক্তারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারিদের ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদবি ও বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নিতকরণসহ ১০ দফা দাবি জানান।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতা মফিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ এম এ রউফ, প্রেসক্লাব’র সভাপতি শাকিল আনোয়ার, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, বিআরডিবি ভাইস চেয়ারম্যান এম সাইফুল ইসলাম শাফলু, সখীপুর পিএম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাইউম হোসেন, গজারিয়া শান্তিকুঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান ভূইয়া, জেলা তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি কামাল খান, যুগ্ম সম্পাদক রিমল তালুকদারসহ সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

(সজল আহমেদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে জমি বিক্রি না করায় বৃদ্ধকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ!

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামে জমি কিনতে না পাড়ার ক্ষোভে প্রতিপক্ষের শুকুর মামুদ নামে এক বৃদ্ধকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শুকুর মামুদকে (৬৫) গুরুত্বর আহতাবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কুইজবাড়ী গ্রামের আ. রশিদ ও মোন্তাজ পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ৯ শতাংশ আবাদি জমি প্রতিবেশি শুকুর মামুদের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। ওই জমিটি তাদের চাচাত ভাই মো. হাসমত আলী কিনতে না পেরে ক্ষুব্ধ হন। ওই ক্ষোভের জের ধরে গত ১৮ নভেম্বর জমি দেখতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মো. হাসমত আলী তার ছেলে সম্রাটকে নিয়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল দিয়ে বৃদ্ধ শুকুর মামুদকে ধাক্কা দেয়।

এতে শুকুর মামুদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে শুকুর মামুদের ছেলে মো. আলাল মিয়া বাদি হয়ে মো. হাসমত আলী ও তার ছেলে সম্রাটকে অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

সরেজমিনে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য ফরহাদ আলী, শিক্ষক মিজানুর রহমান সহ অনেকেই জানান, মো. হাসমত আলী এলাকায় একজন ‘সুদখোর’ হিসেবে পরিচিত। চাচাত ভাইয়ের জমি কিনতে না পাড়ার ক্ষোভে মো. হাসমত আলী বয়োবৃদ্ধ শুকুর মামুদকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত করে। পরে তারা বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।

মামলার বাদি মো. আলাল মিয়া জানান, হাসমত বা তার ছেলে সম্রাটের মোটরসাইকেল চালানোর কোন লাইসেন্স নাই। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসমত তার ছেলে সম্রাটকে নিয়ে মোটরসাইকেল চাপায় তার বাবা শুকুর মামুদকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তিনি এ ঘটনায় জড়িত বাপ-বেটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অভিযুক্ত মো. হাসমত আলী জানান, বয়োবৃদ্ধ শুকুর মামুদ কানে কম শোনেন ও চোখে কম দেখেন- এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। জমি কেনায় ক্ষোভ আছে তবে তাকে হত্যা করার কোন উদ্দেশ্য তার নেই। এটা নিছক দুর্ঘটনা।

মগড়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী মিয়া জানান, মো. হাসমত আলী সুদের কারবারী এটা ঠিক। চাচাত ভাইয়ের জমি কিনতে না পাড়ায় ক্ষুব্ধ এটাও ঠিক। তবে কি কারণে ও কিভাবে ওই ঘটনা ঘটেছে তা তিনি জানেন না।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আদালতে দায়েরকৃত মামলা তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

(ইমরুল হাসান বাবু, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে ইউনিয়ন আ’লীগের বর্ধিত সভা উত্তেজনায় স্থগিত, সংঘর্ষে আহত ৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে উত্তেজনায় বর্ধিত সভাটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সভা শেষে পৌজান বাজারের একটি দোকানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী চা খেতে বসলে তাদের উপর অতর্কিত হামলায় আহত হয় ৬ জন।

আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্স ওয়াজেদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহবায়ক নাসির উদ্দিন গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে বাড়িতে আছেন।

গতকাল শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌজান বাজারে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে।

ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহত প্রিন্স ওয়াজেদ বলেন, বিনা উস্কানিতে উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোখলেছুর রহমান খান ফরিদের নেত্বত্বে পাইকড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সেলিম, ইউনিয়ন আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক কাদের মল্লিক, এশিয়া পরান, জুরান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহব্বায়ক হারুন, রাসেলসহ ১০-১৫জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় আমি, নাসির, উজ্জল, শামীম, শেখ শাহিন, জাহাঙ্গীর আহত হই বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোখলেছুর রহমান খান ফরিদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্স ওয়াজেদ, শেখ শাহিনসহ লোকজন বাজারে বসে এমপিকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে পাইকড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হায়দার মাস্টার ও পাইকড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সেলিম এগিয়ে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এমএ মালেক ভূঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ওয়ার্ড কমিটি গঠন জটিলতা উত্তেজনায় বর্ধিত সভাটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। হামলার ঘটনাটি নিন্দনীয়। কে বা কারা হামলা করেছে আমরা বের করে বিষয়টি দ্রুত মিমাংসার চেষ্টা করছি।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে আমন ধানের বাম্পার ফলন

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলের মাঠে মাঠে সোনালি পাকা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে সুখের হাসি। নবান্নের শুরুতে ঘরে ঘরে চলছে পিঠা-পায়েস তৈরির প্রস্তুতি। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনে চাষিদের মনে বইছে আনন্দের বন্যা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সন্ধানপুর, রসুলপুর, সাগরদিঘী, লক্ষিন্দর, ধলাপাড়াসহ ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে এ বছর আমনের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমি। যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৬৫০ হেক্টর বেশি। রোপা আমন ধান অর্জিত ২৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর। আমন মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬১ হাজার ৭২৮ মেট্রিক টন চাল। এ বছর ফলন হয়েছে ৯২ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন ধান যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুন বেশি।

রামদেবপুর গ্রামের কৃষক মনসুর আলী বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। এক বিঘা বন্যায় নষ্ট হলেও দুই বিঘার জমির ধান ভাল হয়েছে।

সিংগেরচালা গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় রোগ বালাইও কম হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় ফলন ভাল হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা যায়, গত বছর জেলায় ৮৬ হাজার ৯০৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৮৮ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছিল। চলতি বছর ৮৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ৮৯ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬০১ হেক্টর বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কারণ আমনে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না, সার কম খরচ হয়। বাজারে ধানের দাম ভাল। এভাবে ধানের দাম থাকলে ঘাটাইলের কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে ধর্ম অবমাননা করে শিক্ষকের বই প্রকাশ ও বিতরণ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নয়ান খান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশালীন মন্তব্য করে Theories and Thoughts নামে একটি বই প্রকাশ করে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষ।

মনির হোসেন তার লেখা Theories and Thoughts বইটিতে ৪৩ পৃষ্ঠায় ৫১৮ নং বাক্যে উল্লেখ করেন- `There is no God and no saitan but man and both of them are available in man. অর্থ- স্রষ্টা নাই, শয়তানও নাই, কিন্তু মানুষ আছে। আর মানুষেই ও দুটো আছে।

তিনি ৪৬ পৃষ্ঠায় ৫৩৬ নং বাক্য আরো উল্লেখ করেন- ’Creator is an opportunist, liquid substance.’ অর্থ- স্রষ্টা হচ্ছে একটি সুবিধাবাদী তরল পদার্থ।

এছাড়াও বইটিতে বিভিন্ন পৃষ্ঠায় নানাভাবে তিনি অশ্লীল বাক্য তৈরি করে, স্রষ্টা ও তার সৃষ্টিকে নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, মনির হোসেনের প্রকাশিত Theories and Thoughts বইটি দি নাগরপুর প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা মুসলমান হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই বই বাজেয়াপ্ত করা হোক ও অভিযুক্ত শিক্ষককের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন- ‘Theories and Thoughts বইটিতে ধর্মবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। অভিযোগ পেলে বইটির লেখকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভাসানীর দৌহিত্র সানু

তফসীল ঘোষণা না হলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থীরা ব্যাপক জনসংযোগ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দিন-রাত সমান তালে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করলেও এখনো জোড়ালোভাবে প্রচারণায় মাঠে নামেনি বিএনপির কোন প্রার্থী। তবে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নে আশা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন এটিই দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসী।

তবে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে, তাহলে সেই নির্বাচনে গতবারের মতো এবারও বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাবেন মাহমুদুল হক সানু। এমনটি দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক সানু আবারও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তিনি বিগত ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। মাহমুদুল হক সানু বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং শহর বিএনপির সদস্য।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তার পিতার নাম মৃত শামছুল হক। শামছুল হক বিগত সময়ে পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

ছানু মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র। তার বর্তমান ঠিকানা পূর্ব আদালত পাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা সন্তোষ বালুচড়া হাজী বাড়ীতে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি পাশ। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক এন্ড ব্রাদার্স, সন্তোষ বালুচড়া অলোয়া মৎস খামার এবং ইউসিবি এজেন্ট ব্যাংক সন্তোষ শাখার স্বত্বাধিকারী।

পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক সানু বলেন, যানজট হলো টাঙ্গাইল পৌরসভার মধ্যে সর্বপ্রথম জনগণের একটি সমস্যা। এটি সব থেকে বিড়ম্বনা। ময়লা নিঃষ্কাশনের একটি বড় সমস্যা রয়েছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার রাস্তা যেগুলো যেমন হওয়ার কথা ছিল তা না হয়ে মার্কেটে রূপান্তির করা। বজ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দূরবস্থা। তাছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ টাঙ্গাইল পৌরসভায় দ্বারপ্রান্তে আসতে পারেনি।

পৌরসভা সেভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে চলে গেছে, সাধারণ জনগণের জন্য টাঙ্গাইল পৌরসভা উন্মুক্ত না। পরিস্থিতিগত কারণে পৌরসভায় মানুষ আসতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে না।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে বিএনপিতে আর কোন প্রার্থী নেই। আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে আমি দলের পক্ষেই কাজ করবো। জেলা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আমাকে বলা হয়েছে নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।

মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক সানু আরও বলেন, দলীয় দুর্বলতা এবং জনগণ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার কারণে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হতে পারছে না। এছাড়া দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপি দল ক্ষমতায় থাকা সত্বেও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি। বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সুযোগে নেই। সঠিকভাবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি শতভাগ বিজয়ী হবো।

তিনি আরো বলেন, মেয়র হতে পারলে আমার প্রথম কাজ হবে সাধারণ মানুষের জন্য পৌরসভা উন্মুক্ত থাকবে। আমি কোন গোষ্ঠী এবং চক্র ধারা নিয়ন্ত্রিত হবো না। টাঙ্গাইল পৌরসভা নিয়ে আমার একটি মাস্টার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার পিতা এর আগে দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার কিছু পরিকল্পনা ছিলো। সেই পরিকল্পনাটি আমি সংযুক্ত করে একটি সুন্দর শহর নাগরিকদের উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো। টাঙ্গাইল শহরের অনেকগুলো খাল রয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্যও কাজ করবো।

পৌরবাসীর সাধারণ জনগণের জন্য আমার দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত থাকবে। সাধারণ জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করবো। বর্তমান মেয়র জামিলুর রহমান মিরন আগের থেকে এখন অনেক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আগে যে তার জনপ্রিয়তা ছিল, সেখান থেকে এখন অনেক দূরে সরে গেছেন।

তিনি বলেন, আমার পিতা বিগত সময়ে পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় থেকে জনগণের সাথে আমার ভালো সর্ম্পক রয়েছে। আমি খুবই সাধারণভাবে চলাফেরা করি। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দাঁড় করতে পারবে না। আমি সাধারণ মানুষের সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি। এসব কারণে আমি নিজেকে অন্য প্রার্থীর তুলনায় সেরা মনে করি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষে আমি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। করোনার সময় ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা করেছি।

বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক সানু বিগত সময়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক কমিটির সদস্য, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, সদর ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, কাগমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাসানী ক্লাব, মওলানা ভাসানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি। মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব। টাঙ্গাইল ক্লাব, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার, টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য। তিনি আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব অব টাঙ্গাইলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

(এম কবির/ নোমান আব্দুল্লাহ, ঘাটাইল ডট কম)/-

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের যুবক নিহত

টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী বিজয় পাল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। রোববার (২২ নভেম্বর) কোগরাহ ম্যাকডোনাল্ড সংলগ্ল ক্রসিংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।

জানা যায়, ‘ফুড উবার’ চালক বিজয় পালের গাড়ির ওই ক্রসিংয়ে একটি ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ দুর্ঘটনার পর তাকে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি অল্প সময় পরেই বিজয় পাল মৃত্যুবরণ করেন।

বিজয়  পাল বাংলাদেশের আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষে দেশে আই টি সেক্টরে অনেকদিন কাজ করে  গত বছর ২০১৯ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারী তে সিডনি এসে পৌঁছান সিডনির  UTS ইউনিভার্সিটি তে মাস্টার্স ইন ইনফরমেশন টেকনোলজি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ।

উল্লেখ্য, বিজয় পাল সিডনির প্রখ্যাত ইউটিএসএ মাস্টার্সে পড়তেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের কাছে প্রিয় ছিলেন। বিজয় পালের এক বোনও শিক্ষার্থী হিসেবে সিডনিতে রয়েছেন। বিজয় পাল বাবা-মার একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলেন।

বিজয় পালের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌর শহরের প্যারাডাইস পাড়া এলাকার বাসিন্দা আয়কর কর্মকর্তা চন্ডি পালের ছেলে বিজয় পাল।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-