বসনিয়ার পাহাড়ে খুপরিতে ছয় শতাধিক বাংলাদেশি

কতইবা বয়স হবে ছেলেটার? আঠারো কি বিশ বছর। তাঁর নিরীহ চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ক্যামেরার ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই আড়চোখে তাঁকে দেখছিলাম। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বলছেন না। বসনিয়ায় তিন দিনের সফরের শেষ দিন। গাড়িতে কিছু হালকা খাবার অবশিষ্ট ছিল। একটা চকলেট তাঁর হাতে দিয়ে জানতে চাইলাম, ‘গেম মারছ (সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা)?’

‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দিলেন তিনি। তবে জানালেন, ক্রোয়েশিয়া ঢুকতে পারেননি। উল্টো প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে ফিরতে হয়েছে। পথে তেমন কিছু খাওয়াও হয়নি। জঙ্গলের শিবিরে ফিরে খাবার খুঁজবেন।

তাঁর নাম মনে নেই, তবে ছবি তুলেছিলাম কয়েকটা, সেগুলো রয়ে গেছে। তিন দিনে তাঁর মতো অসংখ্য বাংলাদেশিকে দেখেছি বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসায়। ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে থাকেন তাঁরা। এক পাহাড়ের ঢালে প্লাস্টিকের খুপরিতে কোনোরকমে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে নিয়েছেন ছয় শতাধিক বাংলাদেশি। প্রায় সবার বাড়ি সিলেটে।

তাদের দেখলে নেহাত দরিদ্র পরিবারের সন্তান মনে হয় না। বরং পোশাকে, চলনে মধ্যবিত্তের ছাপ স্পষ্ট। গড়পড়তায় পনেরো থেকে আঠারো লাখ টাকা খরচ করে বাংলাদেশ থেকে বসনিয়া অবধি এসে আটকে গেছেন তাঁরা। এই পথ পেরোতে কারও লেগেছে কয়েক মাস, কারও কয়েক বছর।

বন থেকে ভেলিকা ক্লাদুসা

তাঁদের দুর্দশার কথা জানতে, জানাতে জার্মানি থেকে বসনিয়ায় গিয়েছিলাম গত ১৭ অক্টোবর। ফিরেছি ২০ অক্টোবর। করোনাকালে সেই যাত্রাও এক ইতিহাস। জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনাবিষয়ক বিধিনিষেধ বেশ কড়াভাবে মানা হয়।

সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেও ব্যতিক্রম নয়। তবে শরণার্থী বিষয়টি জার্মানির আন্তর্জাতিক এই সম্প্রচারকেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনুমতি মিলতে বেগ পেতে হয়নি। সমস্যা হয়েছে অন্যত্র।

বিদেশিদের বসনিয়া প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। সেই পরীক্ষা করাতে হবে দেশটিতে প্রবেশের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। এর ব্যত্যয় হলে প্রবেশ করা যাবে না।

ওদিকে জার্মানিতে সাধারণত করোনা পরীক্ষার ফলাফল তিন দিনের আগে পাওয়া যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। সেই ব্যতিক্রমী পথে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে ফল হাতে পাওয়ার পর বসনিয়া পৌঁছাতে সময় অবশিষ্ট ছিল ৩৬ ঘণ্টার মতো।

জার্মানির বন থেকে বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। সহকর্মী অনুপম দেব কানুনজ্ঞসহ অফিসের গাড়ি নিয়েই যাত্রা করলাম। জার্মানি থেকে অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া অতিক্রম করে পৌঁছাতে হবে বসনিয়ায়। সমস্যায় পড়লাম ক্রোয়েশিয়া-বসনিয়া সীমান্তে এসে।

ঘণ্টাখানেক আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো—কেন যেতে চাই, কোথায় যেতে চাই, সঙ্গে কী আছে, যা আছে সব নিয়েই আবার ফিরব কি না—এসব নানা কথা জানতে চেয়েছে সীমান্ত পুলিশ। শেষমেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরার শর্তে রাজি করিয়ে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।

শরণার্থীদের সন্ধানে

বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসা ছোট্ট শহর, বাসিন্দা হাজার চল্লিশেক। শহরে প্রবেশ করতেই দেখলাম, আমাদের দেশের মতোই রাস্তায় অসংখ্য নেড়ি কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। শহরটাতে আভিজাত্যের কোনো ছাপ নেই। তবে ঠান্ডা ছিল বেশ। রাতের খাবারটা হোটেল নিচেই এক রেস্তোরাঁয় সারলাম।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বসনিয়ায় ভোরে ঘুম ভাঙল আজানের ধ্বনিতে। সকাল সকাল শরণার্থীদের খোঁজে যাত্রা করলাম। শহরের এক পাশে দক্ষিণ এশীয় আশ্রয়প্রার্থী, আরও সহজ করে বললে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি এবং আফগানদের দেখা মিলতে বেশি সময় লাগল না। পশ্চিম বসনিয়ার পাহাড়ি শহরটির প্রধান সড়কের এক পাশ ধরে মাথা নিচু করে হাঁটতে দেখলাম কয়েকজনকে, হাতে হলুদ রঙের বাজারের ব্যাগ।

তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতেই জানালেন, আরও খানিকটা গেলে একটি শরণার্থীশিবির চোখে পড়বে। তবে সেই শিবিরের ভেতরের চেয়ে বাইরে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি। শিবিরের পাশের এক পাহাড়ের ঢালে রয়েছেন অনেক বাংলাদেশি।

ঘরছাড়াদের দুঃখগাথা

পাহাড়ের সেই অস্থায়ী বাসিন্দাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। তাঁদের প্লাস্টিকের খুপরিতে সোজা হয়ে বসারও উপায় নেই, দাঁড়ানোর তো প্রশ্নই আসে না। সেখানে নেই বিদ্যুৎ, পানি কিংবা শৌচাগারব্যবস্থা।

রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা। জঙ্গলের একাংশ ব্যবহার করেন প্রাকৃতিক কর্ম সারতে। পাহাড়ের নিচের একটা নালায় কাপড় ধোয়া, গোসল করা হয়৷

খাবারদাবারের আয়োজন নিজেদেরই করতে হয়। এ জন্য দেশ থেকে নানাভাবে টাকা আনেন কেউ কেউ। এক শ ইউরো আনালে হাতে পান আশি ইউরো। বাকিটা হুন্ডি চক্র নিয়ে নেয়।

সেই টাকায় সুপারমার্কেট থেকে চাল, ডাল কিনে জঙ্গলে খড়ি জ্বালিয়ে রান্না হয়। সবার আবার টাকা আনার সাধ্য নেই। যারা পারেন না, তাঁরা চেয়েচিন্তে খান কিংবা অপেক্ষায় থাকেন কখনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা স্থানীয়দের।

কালেভদ্রে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থা তাঁদের খাবার দেয়। এমনই খাবার, যা খেয়ে অভ্যস্ত নয় দক্ষিণ এশীয়রা।

প্রথম দিন সেই জঙ্গলের খবর প্রকাশের পর অবশ্য জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বেশ সক্রিয় হতে দেখেছি। পরদিন জঙ্গলের ছয় শ বাসিন্দার জন্য স্লিপিং ব্যাগ এবং খাবার নিয়ে কয়েকটি গাড়ি হাজির হয়েছিল।

সবাই পেয়েছিলেন সেই স্লিপিং ব্যাগ। জানতাম এই উদ্যোগ সাময়িক। তবু ভালো লেগেছিল যে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে কিছুদিন অন্তত তাঁরা একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।

সবচেয়ে খারাপ লেগেছে সেদিন বিকেলে। বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যে নির্মমভাবে পেটানো হয়, সে কথা শুনেছিলাম। কিন্তু সেদিন চোখের সামনে দেখলাম সেই নির্মমতার কিছু নমুনা। এক বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা হলো, যাকে কিছুক্ষণ আগেই সীমান্তে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছে। তাঁর কপাল দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ক্ষতের মধ্য দিয়ে হাড় দেখা যাচ্ছিল আর সারা শরীরে ছিল পেটানোর দাগ।

এ রকম আরও কয়েকজন আহতকে তখন অ্যাম্বুলেন্স এবং আইওএমের গাড়ি এসে নিয়ে গিয়েছিল। এভাবে গুরুতর আহতরা দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার সুযোগ পান। সেই সময়টা তাঁরা আইওএম পরিচালিত শিবিরে থাকতে পারেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গোটা বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে, অথচ তাদের সীমান্তেই এভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন আশ্রয়প্রার্থীরা। নিজের চোখে না দেখলে হয়তো আমার পক্ষে বিশ্বাস করাই কঠিন হতো বিষয়টি। আশার কথা হচ্ছে, বিষয়টি ইইউর নজরে আনার পর তারা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে।

জোটটির সীমান্তে কোনো আশ্রয়প্রার্থীকে এভাবে পেটানোর নিয়ম নেই, বরং কেউ আশ্রয় নিতে চাইলে সেটির কারণ জানতে এবং সেই ব্যক্তি আসলেই আশ্রয় পাওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে। আর যাচাইবাছাইয়ের এই সময়টায় সেই ব্যক্তিকে ইইউভুক্ত কোনো এক দেশে আশ্রয় দিতে হবে। মোটা দাগে নিয়ম এটাই।

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে বলেই অভিযোগ আশ্রয়প্রার্থীদের।

উন্নত জীবনের টানে

কেন বাংলাদেশিরা এভাবে বিপৎসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে ইতালি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশ করতে চাচ্ছেন—এই প্রশ্ন করেছি অনেককে। কারও কারও কাছে বিষয়টি পুরোপুরি অর্থনৈতিক। তাঁরা নিজের এবং পরিবারের উন্নতির আশায় এভাবে ইউরোপমুখী হয়েছেন।

ক্ষেত্রবিশেষে মানব পাচারকারীদের মিষ্টি কথায় প্রলুব্ধ হয়েছেন তাঁরা। তবে কেউ কেউ এটাও জানিয়েছেন, রাজনীতি করায় মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে তাঁদের, ফলে দেশে থাকার বা কিছু করার মতো পরিস্থিতি আর নেই।

বসনিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এই মানুষেরা যেকোনো মূল্যে ইউরোপীয় দেশে প্রবেশ করতে চান। এ জন্য সুযোগ পেলেই তাঁরা পুলিশের পিটুনি, কুকুরের কামড়ের ভয় উপেক্ষা করে সীমান্ত পাড়ি দিতে রওনা হন।

তাঁদের ভাষায় এই চেষ্টাকে বলে ‘গেম মারা’। কেউ দু–চারবার গেম মেরেই পৌঁছে যেতে পারেন ইতালি, পর্তুগাল কিংবা ফ্রান্সে। কেউ কেউ বিশ-ত্রিশবার গেম মেরেও ব্যর্থ। তবু আশায় থাকেন, কোনো একদিন হয়তো খুলবে ভাগ্যের চাকা।

কাল সূর্যের দেখা মিলবে, রাতে কমবে তাপমাত্রা

কখনো মেঘ, কখনো হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারপাশ। সূর্যের দেখা নেই। এ কারণে অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে দিনের বেলা তাপমাত্রা হালকা কমেছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার থেকে দিনে সূর্যের দেখা মিলবে। পড়বে রোদ। তাপমাত্রা তখন কিছুটা বাড়লে রাতে শীত পড়বে।

গত কয়েক দিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা জানান, বঙ্গোপসাগর থেকে দখিনা বাতাসের সঙ্গে জলীয় বাষ্প স্থলভাগের দিকে আসছে। এ কারণে গত কয়েক দিন দিনের বেলা হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি থামলেও বাতাসে জলীয় বাষ্প রয়েছে। তাই কোথাও কোথাও কুয়াশা পড়ছে।

শনিবার আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, আজ কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টিও ছিল। এ কারণে দিনের বেলা তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু আগামীকালও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হবে। তবে একই সঙ্গে কাল রোদেরও দেখা মিলতে পারে। দিনের বেলা তাপমাত্রা কাল থেকে বাড়বে। তবে রাতের বেলা শীত পড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ফরিদপুর জেলায়। ঢাকায় এর মাত্রা ছিল ৩ মিলিমিটার। আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় যা ছিল ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন

টাঙ্গাইলে সশস্ত্র বাহিনী দিবস ও সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কল্যান সংস্থার প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সিডিসি ক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সদস্য কল্যান সংস্থার উপদেষ্টা সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ প্রমুখ।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সশস্ত্র বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সদস্য কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সশস্ত্র বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সদস্য কল্যান সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: আশরাফ আলী।

অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সকল সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

(রবিন তালুকদার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে নিজস্ব অর্থায়নে ৮ কিমি রাস্তা সংস্কার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ অর্থায়নে প্রায় ৮ কি: মি: কাঁচা রাস্তা সংষ্কার করেছেন বুড়িচালা গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম রাজু। গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এলাকার বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা মেরামত করে আলোচনায় এসেছেন।

জানা যায়, উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বুড়িচালা, সাপিয়াচালা, দুর্গাপুর, নোয়ালীচালা, মামুদ নগর এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলোতে যানবাহন যাতায়ত করে গেলো বর্ষকালে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। অনেক জায়গায় পানি ও কাদা জমে থাকে। এতে করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিল। রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

বিষয়টি ওই এলাকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম রাজুর নজরে আসে। পরে তিনি সম্পুর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে ওইসব কাঁচা রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়।

ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী রাসেল মিয়া বলেন, সমাজে শহিদুল ইসলামের মত অনেক লোক রয়েছে। কিন্তু তারা মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন না। এই এলাকার স্থানীয় সড়কগুলো অনেক পুরাতন। এবার বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেলেও কেউ খবর নেয়নি। শহিদুল ইসলাম জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনকল্যাণে এগিয়ে এসে সড়কগুলো ঠিক করে চলাচলের উপযোগি করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম রাজু বলেন, রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। জনগণের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়েছে। মানুষের কষ্ট লাগবের জন্য মানবিকতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে প্রায় ৮ কি: মি: কাঁচা রাস্তা মাটি দিয়ে ভরাট করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। আমার একাজ চলমান থাকবে।

(সাজ্জাত লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে নানা কর্মসূচিতে আ’লীগ নেতা বাপ্পী’র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান খান বাপ্পী’র ১৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঘাটাইলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বাসভবন এলাকা থেকে একটি শোক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ঘাটাইল পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার রানার বাসভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল শেষে গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বাপ্পি স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও গণ ভোজের আয়োজন করা হয়।

ঘাটাইলে শনিবার অনুষ্ঠিত কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আরিফ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সহ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে এবং সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বড় ভাই এই আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান খান বাপ্পি ২০০৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় তাঁদের বাসার কাছে নিহত হন। এ সময় বাপ্পির সঙ্গী আবদুল মতিন নামের এক ব্যক্তিও নিহত হন।

বাপ্পি হত্যার দুইদিন পর ২৩ নভেম্বর আমিনুরের বাবা আতাউর রহমান খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দুই ভাই মুরাদ সিদ্দিকী ও আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান, জেলা বিএনপির নেতা আলী ইমাম তপন, পৌর কমিশনার রুমি চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা আবদুর রৌফসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম ২০০৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এই মামলার আসামি রুমি চৌধুরী ও আব্দুর রৌফ ২০০৪ সালের অক্টোবরে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। এই দুজনের হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানা ও তার ভাইদের আসামি করে মামলা করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে সড়কের কাজ শেষ না হতেই ভেঙে পড়েছে প্যালাসাইটিং

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাস্তার কাজ শেষ না হতেই পাশের নির্মিত প্যালাসাইটিং ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের কাজ করায় মাসখানেকের মধ্যে এটি ভেঙে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। সরেজমিনে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়ার মোনায়েম খার বাড়ি থেকে খলিলের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তার প্যালাসাইটিংয়ের এমন বেহাল দশা দেখা গেছে।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের জনসাধারণের জীবন-মান উন্নয়ন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপন্য সহজে বাজারজাতকরণের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইআরআইডিপি-২) অধীন ঝনঝনিয়া মোনায়েম খার বাড়ি থেকে খলিলের বাড়ি পর্যন্ত ৭৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু করা হয়।

মূল সড়কের পাশ দিয়ে খাল থাকায় প্যালাসাইটিং যুক্ত করে এর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৮৭ লাখ ১৩ হাজার ১৯২ টাকা। এটির নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লৌহজং এন্টারপ্রাইজ। এরপর রাস্তাটি লৌহজং এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে সাব ঠিকাদার হিসেবে এর কাজ কিনে নেন ফরহাদ হোসেন। অন্যদিকে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঝনঝনিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন মাষ্টার বলেন, রাস্তার কাজ শুরু করেছে মাত্র। এরআগে রাস্তার একপাশে নির্মিত প্যালাসাইটিং নির্মাণ করা হয়েছে যা খুবই নিম্নমানের। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে খালে পড়ে যাচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডির প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে ঠিকাদার তার ইচ্ছেমতো নয়ছয় করে কাজ করছে।

একই গ্রামের সোহাগ, মজিবর, মোবারক হোসেন বলেন, প্যালাসাইটিং নির্মাণেই অনিয়ম করেছে। নিম্নমানের প্যালাসাইটিং তৈরি করে তাতে বালু ফেলে ভরাট করেছে। পরে বৃষ্টি ও বন্যার পানি এসে বালু ধ্বসে সেটি ভেঙে পড়েছে।

ঠিকাদার ফরহাদ হোসেন জানান, কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লৌহজং এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে কিনে এনে করা হচ্ছে। প্রথমে ওই এলাকার লোকজন রাস্তা করতে মাটি ও জায়গা ছাড়েনি। অনেকেই টাকা দাবি করেছে। কাজের মেয়ামত আবেদন করে বাড়ানো হয়েছে। বন্যার কারণে রাস্তার প্যালাসাইটিং ভেঙে গেছে। সেটির কাজ পুনরায় করে দেয়া হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা এলজিইডির সহকারি প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঝনঝনিয়া এলাকায় রাস্তার প্যালাসাইটিং কাজ করার পরেই ভেঙে গেছে। সেটি পুনরায় সংস্কার কাজ করছে ঠিকাদার। বন্যার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। তবে কাজ চলমান রয়েছে। বন্যার সময়ই রাস্তার প্যালাসাইটিং ভেঙে গেছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে গ্রামবাসীর সহায়তায় তাড়িয়ে দেয়া বাবা-মার ঠাই হল বাড়ীতে

জমি লিখে নেওয়ার পর অসহায় বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন দুই ছেলে। পরে নিরুপায় হয়ে তারা ঠাই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। এমনই ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে গুচ্ছগ্রামের রাস্তার পাশের জমিতে একটি চৌকি বসানো রয়েছে। চৌকির ওপর টানানো রয়েছে মশাড়ী। চৌকির পাশেই রান্না করছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ মেহেরুন বেগম (৬৫)। আর চৌকিতে ঘুমিয়ে রয়েছে তার স্বামী আব্দুল খালেক (৭০)।

আপনারা এখানে কেন? জিজ্ঞাসা করতেই বৃদ্ধা মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন- ‘আড়াই মাস ধরে আমার দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে ঠাই নেই আমার ভাইয়ের বাড়িতে। এরপর সেখান থেকে চলে এসে গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করছি।

রান্না করার মতো কিছুই নেই আমাদের কাছে। কিছু না থাকায় আশপাশের অনেকেই চাল ও দরকারী দিয়ে যাচ্ছে। এই বয়সে রান্না করতে পারি না বাবা। তারপরও কষ্টে রান্না করে আমরা দুই বুড়ো-বুড়ি খাচ্ছি। আমাগো একটা ব্যবস্থা করো বাবা?

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করেছে অনেক আগেই। আর মেয়েরও বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলেই বিদেশ গিয়েছিল। এখন তারা ব্যবসা করছে। প্রায় ৩ বছর আগে আমার দুই ছেলের নামে ৬ শতাংশ করে ১২ শতাংশ বাড়িভিটা লিখে দিই। আর গত ৩ মাস আগে আমার স্বামী আব্দুল খালেক আমার নামে চকের ৩২ শতাংশ জমি লিখে দেন।

এরপর দুই ছেলে বাবলু ও কাদের সেই ৩২ শতাংশ জমি লিখে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এই ৩২ শতাংশ জমি লিখে না দেওয়ার কারণে দুই ছেলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’

মেহেরুন বেগমের স্বামী আব্দুল খালেক বলেন, ‘ছেলেরা আরও জমি লিখে যাচ্ছে। আমারা দিতে রাজি না হওয়ায় ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’

স্থানীয় চম্পা বেগম বলেন, ‘বাড়িভিটা ১২ শতাংশ জমি দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছেন তারা। এরপর মেহেরুন বেগমের নামে ৩২ শতাংশ চকের জমি তাদের দুই ছেলে লিখে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা দিতে রাজি নন। এ কারণে গত আড়াই মাস ধরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলেরা। পরে তারা অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখান থেকে তারা গত চারদিন ধরে এই খোলা আকাশের নিচে চৌকি বসিয়ে বসবাস করে আসছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা খান বাহাদুর বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আজকের মধ্যেই তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দেয়া হবে।’

এদিকে দুপুরে ওই অসহায় বাবা-মায়ের ছেলেদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি তারা কোনও এক আত্মীয় বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছে। এরপর রাত ৮টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই অসহায় বাবা-মাকে তাদের বাড়িতে উঠিয়ে দিতে যায়। এ সময় ছোট ছেলে কাদেরের সঙ্গে হাতাহাতি হয় গ্রামবাসীর।

এক পর্যায়ে তাদের বাড়িতে তুলতে বাধ্য হয় ছেলেরা।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে আধ্যাত্বিক সাধকের মাজারে হামলা ভাংচুর!

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার টেংগুরিয়াপাড়া সুফী সাধক বাবা খোরশেদ মাস্তান এর মাজারে হামলা ও ভাংচুর করেছে স্থানীয় আহলে হাদীস অনুসারীরা।

জানা যায় গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বাদ জুমা স্থানীয় আহলে হাদীস অনুসারী কাওসার মুন্সী, পিতা-মৃত হানিফ মিয়া, মোমিনুর রহমান পিতা মৃত মতিউর রহমান, আনোয়ার হোসেন পিতা-আহাইলা, সুলতানা পিতা মৃত দরবেশ আলী, রাব্বি হাসান পিতা-কাওসার, রাকিব হাসান উৎস, আরিফ হাসান রুদ্র, সাখাওয়াত হোসেন দ্বীপ ও মুছা মিয়া জুমার নামাজ শেষে তাদের বাহামভূক্ত শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে ২০১৭ সনের জানুয়ারির ৪ তারিখে মৃত আধ্যাত্বিক সাধক বাবা খোরশেদ মাস্তানের মাজারে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

হামলা কালে মাজারের সন্নিকটে বসত বাড়ীতেও হামলা চালানো হয় এবং বসতবাড়ীর আসবাবপত্রের ক্ষতি সাধন করা হয় বলে জানিয়েছেন আধ্যাত্বিক সাধকের পুত্র শামীম ও পুত্রবধূ কাকন।

হামলার সময় বাসায় শিশু ও নারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ৯৯৯ এ ফোন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হলে এস.আই রফিকুল ইসলাম ও বেল­াল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিববার সূত্রে জানা গেছে হামলাকারীরা আনুমানিক আট লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন সহ মাজারের খাদেম ও তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে।

মাজারের খাদেম শামীম ও কাকন জানান তারা পুরো পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।

বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম ও হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান মাজারে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে বলে শুনেছি। এলাকাটির কিছু অংশ বাসাইল ও কিছু অংশ দেলদুয়ার থানার অর্ন্তভূক্ত। হামলার বিষয়ে বাসাইল থানায় কোন পক্ষ অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাজারের খাদেম শামীম জানান নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের হীতাকাঙ্খীদের সাথে পরামর্শ করে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতা বাপ্পী’র ১৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত

টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রহমান খান বাপ্পী’র ১৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শহীদ বাপ্পী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন ও পরে সকাল নয় টার দিকে শহীদ বাপ্পির কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া বেলা ১১টার দিকে কলেজ পাড়া (পানি ট্যাংক) স্থলে গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে এবং সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই এই আওয়ামী লীগ নেতা। আমিনুর রহমান খান বাপ্পি ২০০৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় তাঁদের বাসার কাছে নিহত হন। এ সময় বাপ্পির সঙ্গী আবদুল মতিন নামের এক ব্যক্তিও নিহত হন।

বাপ্পি হত্যার দুইদিন পর ২৩ নভেম্বর আমিনুরের বাবা আতাউর রহমান খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দুই ভাই মুরাদ সিদ্দিকী ও আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান, জেলা বিএনপির নেতা আলী ইমাম তপন, পৌর কমিশনার রুমি চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা আবদুর রৌফসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম ২০০৭ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

শহীদ বাপ্পির স্মৃতিস্তম্ভে ও শোক র‌্যালিতে টাঙ্গাইল(ঘাটাইল-৩) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান (রানা) ও পরে গনভোজে অংশ গ্রহণ করেন টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন (এমপি), টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক এম. রৌফ, উপজেলা পরিষদের সাবেক  ভাইস চেয়ারম্যান মো: আব্বাস আলী, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজিবসহ আওয়ামী লীগ  ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাদ মাগরিব টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কক্সবাজারে নিহত বাবুর টাঙ্গাইলের বাড়িতে শোকের মাতম

কক্সবাজারের কলাতলীস্থ সি ক্লাসিক রিসোর্টের ৮তলা থেকে পড়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সোহাগ বাবু শেখের দাফন শুক্রবার (২০ নভেম্বর) জুমআ’র নামাজের পর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে তার মরদেহ শুক্রবার সকালে তার বাড়ি টাঙ্গাইল পৌরসভার আদালত পাড়ায় আনা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সোহাগ বাবু শেখকে শেষবার এক নজর দেখার জন্য স্থানীয় শ’ শ’ নারী-পুরুষ তাদের আদালত পাড়ার বাসায় ভির করে।

নিহত সোহাগ বাবু শেখ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদালত পাড়ার মোনায়েম খানসুরের ছোট ছেলে।

নিহতের বাবা মোনায়েম খান খানসুর কক্সবাজারের ওই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি হত্যাকারীদের শাস্তি দাবিও করেন।

নিহতের ভাই নাছির জানান, ঘটনার আগে সোহাগ বাবু তার বড় ভাইকে ৬০০ টাকা পাঠাতে বলে। বড় ভাই টাকা বিকালে দিতে চাইলে তাকে জরুরিভাবে পাঠাতে বলে। তা না হলে দ্বীপ তাকে মারবে বলে জানায়।

কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেত্রী শাহিন আরা মিষ্টুর ছেলে দ্বীপ বেড়াতে যাওয়া সোহাগ বাবুকে মারধর করে। এটা তারা পরে জানতে পারেন। সে সময় সোহাগ বাবু আরও বলেছিল ওরা কেউ ফোন দিলে ওদের কথা না শুনতে। ওরা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এরপর ওর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে তারা খবর পান বাবু নাকি আত্মহত্যা করেছে। তারা এটা বিশ্বাস করেন না।

তিনি দাবি করেন, দ্বীপ-ই তার ভাই সোহাগ বাবুকে হত্যা করেছে। ৮তলা থেকে কেউ নিচে পড়ে গেলে তার শরীরের অনেক হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কথা, অনেকাংশ থেতলে যাওয়ার কথা। কিন্তু সোহাগ বাবুর শরীরে এমন আলামত নেই।

নিহতের ফুফু রানু সুলতানা বলেন, সোহাগ বাবু খুব ভালো ছেলে ছিল। ওর বাবার সাথে রং এর কাজ করতো। কয়েকদিন আগে এলাকার অনেকের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। বেড়াতে যাওয়ার জন্য আমরাই বাবুকে কিছু টাকা দিয়েছিলাম। ওর সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই।

এ বিষয়ে দ্বীপের মা মিষ্টু জানান, আদালতপাড়া থেকে গত ১৪ নভেম্বর ৫৩ জন ছেলে কক্সবাজারের যান। সাথে তার ছেলে দ্বীপও যান। তার ছেলেকে সোহাগের আত্মীয়রা যেভাবে দায়ি করছেন সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

দ্বীপের কাছ থেকে সোহাগ বাবু ৬০০ টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকার কথাটিই তার পরিবারকে সোহাগ বাবু জানায় যে দ্বীপের কাছে থেকে টাকা নিয়েছি ফেরত দিতে হবে। সেই সূত্র ধরে তারা অভিযোগ করছেন।

কক্সবাজারের হোটেলে সকল সিসি ফুটেজ দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে অভিযোগ করার মতো কোন প্রমাণ পায়নি।

প্রকাশ, গত ১৪ নভেম্বর (শনিবার) টাঙ্গাইল থেকে ১৪নং ওর্য়াড ছাত্রলীগ (আদালত পাড়া বয়েজ) এর আয়োজনে ৫৩জনের একটি দল কক্সবাজারে ভ্রমণে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা কলাতলীস্থ সি ক্লাসিক রিসোর্ট হোটেলে ওঠে। সবাই যে যার মতো করে হোটেলে অবস্থান করেন।

সোহাগ বাবু শেখ হোটেলের ৮০২ নম্বর রুমে ছিল। হঠাৎ সোহাগ বাবু শেখ হোটেলের ৮তলা থেকে নিচে পড়ে যায় বলে খবর আসে। সবাই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-