মধুপুর পৌরয় ১০৫ ধরণের সেবা সমৃদ্ধ করেছেন মেয়র মাসুদ পারভেজ

সুন্দর মানসিকতা ও সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন টাঙ্গাইলের মধুপুর মডেল পৌরসভার রুপকার মোঃ মাসুদ পারভেজ তার সময়ে চলমান ৫ বছরে পৌরবাসীর সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা করার মানসে আজ ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মধুপুর শহীদ স্মৃতি কলেজ মাঠে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা থেকে দলে দলে পুরুষ-মহিলা ও বিভিন্ন পেশা শ্রেনী মানুষের আগমনে মাঠ প্রাঙ্গন কানায় কানায় ভরে যায়।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রবেশদ্বারে সবাইকে সার্জিক্যাল নতুন মাস্ক পরিয়ে দেয়া হয়। সুধী সমাবেশ রুপ নেয় জনসভায়। চলমান ৫ বছর সময়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডের বরাদ্ধ ব্যয় তথ্য সম্বলিত বৃহৎ বোড ও উন্নয়ন কাজের সুন্দর চিত্র প্রদর্শনী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মেয়র মোঃ মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে “উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মধুপুর পৌরসভার অতীত বর্তমান ভবিষ্যত ভাবনা” নামে একটি পুস্তিকা বিতরন করা হয়।

পুস্তিকাটিতে চলমান ৫ বছরের সকল কার্যক্রমের চিত্র ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন যা কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সুস্পষ্ট নিদর্শন বহন করে। ইহা সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

পুস্তিকা ও পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের বক্তবে জানা যায় বিগত ১৫ বছরের তুলনায় গত ৫বছরে সেবা সহায়তা জীবনমান উন্নয়ন সার্বিকভাবে কয়েকগুন বেশী কাজ সুচারুরুপে সম্পন্ন করেছেন।

সেবা উন্নয়ন ও মধুপুর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীতকরার দৃঢ় প্রত্যয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে নাগরিক সেবায় নুতন অনেক বিষয় যুক্ত করে পৌরসভার ১০৫ ধরণের সেবার তালিকা সমৃদ্ধ করেছেন।

  • নতুন প্রায় ৭৪ কিঃ মিঃ পাকা ও১৫ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তা নির্মান, ব্রীজ, কালভার্ট, সড়ক বাতি, পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেন, ডাষ্টবিন, প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, বিশেষভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, দরিদ্র মেধাবীদের সহায়তা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গত ২ দশক ধরে নাগরিক সেবা বঞ্চিত থাকার কষ্ট লাঘব করেছেন।
  • করোনাকালীন ১১ হাজার অধিক দরিদ্র সহায়তা, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা- ৫০ এর স্থলে ১৪০০, ৫৩ স্থলে ৩৫৩ ও ৭৭জনের স্থলে ৫৭৭ জনকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছেন।
  • এ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদান করেছেন।
  • দায়িত্বগ্রহনকালীন ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের ২১কোটি ৩২লাখ ২৮হাজার ৯শত ২০টাকার বাজেটকে ৫ বছর পর ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১০৬কোটি ৭৬লাখ ৩৯হাজার ৫শত ১৬ টাকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন।
  • একই সময়ে ৩২৭ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে উত্থাপন করে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়ন করেছেন।
  • ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সোলার বাতির এবং ১০০ কোটি টাকার ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।
  • এছাড়া IUIDP অর্থায়নে পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৪ কোটি, নবীদেপ’র ১০০ কোটি টাকা, টাঙ্গাইল জেলার ১০ পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকা অনুমোদনের পথে।
  • রেকর্ড এসব কাজের ফলশ্রুতিতে ২য় শ্রেনী হতে মধুপুর পৌরসভাকে ১ম শ্রেনীতে উন্নীত করেছে।

পরিশেষে মধুপুর পৌর সভাকে সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা ও আধুনিক মডেল পৌর সভায় উন্নীত করার প্রয়াসে আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দেখা যায় –

  • মধুপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হতে চাড়ালজানি পর্যন্ত ৫ কিঃ মিঃ বংশাই নদের দুইপাড় নদী শাসন করে পার্ক ও ওয়ার্ক ওয়ে এবং নদের উপর ঝুলন্ত ব্রীজ নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন।
  • পৌর কবরস্থান, পৌর পার্ক ও পৌর পাঠাগার নির্মাণ।
  • ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে পৌর সুপার মার্কেট নির্মান।
  • বাস টার্মিনাল নির্মান।
  • পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে নো ষ্মোকিং জোন নির্মান করে উন্মুক্ত স্থানে ধুমপান নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন।
  • পৌর শহরে সু-পেয় পানি সরবরাহ
  • মধুপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে বাসস্ট্যান্ডের উন্নয়ন ও পৌর শহরের ব্যস্ততম মোড়ে ওভারব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন।
  • পৌর এলাকার যুব সমাজের নীতি-নৈতিকতা উন্নয়নে ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রতি ওয়ার্ডে স্পোটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠাকরন।
  • C N G স্ট্যান্ড, অটো স্ট্যান্ড, রেন্ট এ কার পার্ক নির্মান।
  • বজ্র অপসরনের জন্য ড্রাম্পিং প্রকল্প বাস্তবায়ন, পৌর ভবন ৩ তলায় উন্নীতকরন, পৌর স্টেডিয়াম ও পৌর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মান।

মধুপুর পৌরসভার আধুনিকায়নে, আরো নাগরিক সুবিধা বাড়াতে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চলমান ও আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিচার বিবেচনা সাপেক্ষে মেয়র মাসুদ পারভেজ তার দল আওয়ামী লীগ ও জনগনের সমর্থন সহযোগিতা চেয়েছেন।

সমাবেশে মেয়র মাসুদ পারভেজ, পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, সুধিজন সাবেক অধ্যাপক গোলাম ছামদানী ও পৌরসভার সালিশী বোর্ডের সভাপতি কাউন্সিলর মোঃ আমজাদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

(এম এ রউফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে মেয়র প্রার্থী সিরাজুল হকের মতবিনিময় সভা

টাঙ্গাইল পৌর নির্বাচন উপলক্ষে মেয়র প্রার্থী টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীরের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের গোডাউন বাজারের সামনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এই নির্বাচনী মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর।

মতবিনিময় সভায় ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম মাষ্টার, শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শহিদুর রহমান বাবুল সিদ্দিকী, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সি তারেক পটন, তরুন সমাজ সেবক আনিসুজ্জামান সাগর, ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এখলাছ মিয়া, ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিতুল, ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, আলাউদ্দিন প্রমুখ।

এসময় নেতাকর্মীরা সিরাজুল হক আলমগীরের প্রতি সমর্থন দিয়ে টাঙ্গাইল পৌর নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহব্বান জানান।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

আজ বিশ্ব পুরুষ দিবস

আজ ১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারো দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ‌্যে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

গতকাল বুধবার বেসরকারি সংগঠন এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ব পুরুষ দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

এছাড়া ডিআরইউয়ের নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘পুরুষের অধিকার রক্ষায় আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভা করবে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন।

বিশ্ব নারী দিবস কবে সেটা অনেকেই জানে। অনেকটা আয়োজন করেই দিবসটি আসে। এটি পালনও করা হয় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কিন্তু পুরুষ দিবস কবে, তা হয়তো অনেকেই জানে না। কারণ নারী দিবসের মতো নানা আয়োজন নিয়ে না, খানিকটা নীরবেই আসে দিবসটি। ১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস। বিশ্বব্যাপী লিঙ্গভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

১৯২২ সাল। এর কয়েক বছর আগেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। সেই যুদ্ধে নিহত সেনাদের শ্রদ্ধা জানাতে এবং পুরুষ জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ‘রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে’ পালন করা হতো। সমাজে পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়েই মূলত দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

দিবসটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়। বালক, কিশোর ও পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা, নারী-পুরুষ সমতার প্রচার, পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা, পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা, পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদযাপন করা। সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষদের অবদানকে তুলে ধরাও এই দিবসের আরেকটি লক্ষ্য।

বিশ্বজুড়ে নানাভাবে পুরুষ দিবস পালনের রেওয়াজ রয়েছে। প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কিউবা, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন ইত্যাদি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীর সড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

টাঙ্গাইলে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে একজন।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি মোটরসাইকেল উপজেলার চরভাবলা এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুইজন গুরুত্বর আহত হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, আহত দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করার ঘটনার প্রতিবাদে মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেছেন ১২ চেয়ারম্যান।বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত হয়ে একপর্যায়ে সভা বর্জন করে তারা একযোগে বেড়িয়ে যান।

এদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুইজন ও ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন। পরে তারা এনিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী, দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দিগলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, ধলাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু ভূইয়া, আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান, দেওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন তারু, জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামিম, ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী প্রমুখ।

উল্লেখ্য: গত ৯ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা সভায় যোগ দিতে এসে ইউএনও অফিসের নীচ তলায় আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান লাঞ্চিত হন। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে ইউএনও‘র কাছে ১২ চেয়ারম্যান যৌথ সাক্ষর দিয়ে গত মঙ্গলবার স্মারকলিপি পেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে মাসিক সমন্বয় সভা বর্জনের ঘটনা ঘটলো।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ৮ তলা থেকে পড়ে টাঙ্গাইলের যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরে হোটেলের আটতলা থেকে পড়ে বাবু শেখ (২০) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের কলাতলীর “সি ক্লাসিক রিসোর্টে” এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবু শেখ টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের খান ছুরের ছেলে। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি রঙ মিস্ত্রি বাবার সাথে কাজ করতেন।

নিহত বাবু শেখের বড় ভাই আবদুল্লাহ আল আসিফ জানান, মঙ্গলবার টাঙ্গাইল থেকে তারা ৫২ জনের একটি দল কক্সবাজারে ভ্রমণে গিয়ে শহরের সি ক্লাসিক রিসোর্ট হোটেলে ওঠেন। সবাই যে যার মত করে হোটেলে অবস্থান করছিলো। বাবু শেখ হোটেলের ৮০২ নম্বর কক্ষে ছিলেন।

হঠাৎ তিনি আটতলা থেকে নিচে পড়ে যায় বলে খবর আসে। সবাই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নিকটাত্মীয় ও লাশ নিয়ে হাসপাতালে আসা প্রান্ত জানান, তারা গত ১৫ নভেম্বর ৫২ জনের একটি দল বাস ভাড়া করে টাঙ্গাইল থেকে সমুদ্র শহর কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। তারা সকলেই শহরের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টের আবাসিক হোটেল ‘ক্ল্যাসিক সী রিসোর্ট’ এ উঠেন। আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

তিনি জানান, যেহেতু তারা আজ রাতেই চলে যাবেন তাই দুপুরেই হোটেলের রুম ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। শুধু একটি রুমে তাদের ব্যাগ ব্যাগেজ ছিল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ বাবু শেখ (২০) হোটেলের ৮তলায় ছাদের র‌্যালিং থেকে লাফ দেয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালে আসার আগে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, লাশ দেখে মনে হয়েছে, ৮তলা থেকে একজন মানুষের শরীরে যে পরিমাণ আঘাত থাকার কথা তার কিছুই ছিল লাশের শরীরে। ধারণা করা হচ্ছে, লাফ দিয়ে আত্মহত্যা নয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করাও হয়ে থাকতে পারে।

নিহত বাবু শেখের নিকটাত্মীয় প্রান্ত জানান, কক্সবাজার বেড়াতে এসে কারো সাথে তার কোন ধরণের ঝগড়া হয়নি। মনোমালিন্যও ছিল না। সে ছিল শান্ত স্বভাবের ছেলে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সেলিম জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কী কারণে এবং কীভাবে মৃত্যু হয়েছে এখনো তা জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

তারেক রহমানের নিকট জাতির প্রত্যাশা

সময়কাল ২০০৪। অফিসের কাজ শেষে আগামীকালের এসাইনমেন্ট নিতে গিয়ে দেখি, সকাল ছয়টায় বনানীস্থ বিএনপি’র কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের সংবাদ চিত্র সংগ্রহ চট্টগ্রাম যাত্রা- রির্পোটার কাদের গনি চৌধুরী ও আলোকচিত্রী বাবুল তালুকদার।

শীত এখনো আসেনি, আসবে আসবে করছে এমনই আবহাওয়ার বার্তা, খুব সকালে নিজেকে গুছিয়ে চলে এলাম বনানীস্থ বিএনপি’র কার্যালয়ে। একে একে অনান্য মিডিয়া কর্মীরাও এসে পৌছুলো নিজেদের অফিসের গাড়ি নিয়ে।

এদের মধ্যে ছিল তৎকালীন বিটিভির সিনিয়র রিপোর্টার পবন ভাই, বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন এটিএন বাংলার রিপোর্টার মোহাম্মদ ফারুক, চ্যানেল আই এর সিনিয়র রিপোর্টার সালে বিপ্লব ভাই, বাংলা ভিশনের জাহাঙ্গির, চ্যানেল ওয়ান এর ইলিয়াছ, দিগন্ত টেলিভিশনের রেমান, এনটিভির (ঠিক মনে পড়ছে না)।

এছাড়া প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যে ছিল মানবজমিনের জামাল ভাই, ইনকিলাবের হাই সিদ্দিকি ভাই, প্রথম আলো’র আরিফুর রহমান দোলন ভাই, ইত্তেফাকের আনোয়ার আলদ্বীন ভাই, যুগান্তরের লোটন একরাম ভাই, জনকণ্ঠের বাবলুসহ আরো অনেকে।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব তারেক রহমান ভবনের দোতলা থেকে নিচে নেমে, আমাদের সকল মিডিয়া কর্মীকে কাছে ডাকলেন। আমরা বৃত্তাকার করে বসলাম।

কুশল বিনিয়ম শেষে তিনি বললেন, আজ আমরা চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাওনা দিচ্ছি। পাড়ি দিতে হবে দির্ঘ পথ। আগামীকাল আমাদের সম্মেলন, আজ রাতে আপনারা চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটু অবকাশ যাপন করবেন।

এ সময় তিনি বললেন, এবার আপনাদের বহনকারী গাড়ি চালকদের একটু ডাকুন। সকল মিডিয়ার নিজ গাড়ি থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে একটি রাখা হয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সকল গাড়ি চালক হাজির হল।

তারেক রহমান তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছেন আপনারা? রাতে ঘুমিয়েছেন ঠিক মত? সবাই হ্যাঁ সুচক মাথা নাড়লো। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, নাস্তা করেছেন? সবাই বলল জি। তিনি বললেন, ‘এবার শুনুন আপনারা খুব ভালোভাবে গাড়ি চালাবেন, কেউ কাউকে ওবারটেক করবেন না। ইনশাআল্লাহ্ আমরা কুমিল্লায় যাত্রা বিরতি করব’ এ বলে সবাইকে বিদায় দিলেন। আমরাও সকলে রাওনা দিলাম।

ঢাকার যানযট পেরিয়ে আমরা দাউদকান্দি ব্রিজের কাছাকাছি এসে পৌছলাম। হটাৎ আমাদের গাড়ি থেমে গেল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর কৌতূহলবশত আমিও গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালাম। এসময় দেখতে পেলাম তারেক রহমানকে ঘিরে রেখেছে কিছু মানুষ। আমি দৌড়ে গেলাম কী হয়েছে জানার জন্য।

দেখলাম পাঁচ জন বয়োবৃদ্ধ জরাজীর্ণ মানুষ তারেক রহমানের মাথায় ও শরীরে হাত বুলিয়ে দোয়া করছে। তাদের মুখে হাসি, চোখে ছিল অশ্রুজল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারেক রহমান আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যাও গাড়িতে উঠ’।

আমি চলে এলাম গাড়িতে। পরে গাড়িতেই জানতে পারলাম তিনি ঐ বৃদ্ধদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তখন গাড়ির সব সাংবাদিকরা আমাকে ভৎসনা করে বলল, এ ঘটনার একটা ছবি তুললাম না কেন। আমি বললাম, আমিতো ক্যামেরা গাড়িতে রেখে গিয়েছি। ছবিটি না তুলতে পারায় মনের মাঝে একটি আক্ষেপ থেকে যায়।

যাই হোক, আমাদের বহনকারী গাড়িটি ব্রিজের উঠতেই আবারও থেমে গেল। তাকিয়ে দেখি পুরো ব্রিজ জুড়ে শ’শ’ গাড়ি দাড়িয়ে আছে। যার বেশির ভাগই ছিল বনভোজনের যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাস। রাস্তার অন্য পাসটি ছিল একে বারেই ফাঁকা, আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর তারেক রহমানও গাড়ি থেকে নেমে এলেন। তখন এক পুলিশ কর্মকর্তা ছুটে এসে তারেক রহমান তার কাছে জানতে চান কি হয়েছে?

কর্মকর্তাটি জানালেন, স্যার গতকাল রাত বারোটায় ব্রিজের উপর দুটো ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আপনি আসবেন তাই সকালে অনেক চেষ্টা করে একটি গাড়ি যাওয়ার রাস্তা বের করেছি। আপনি এপাশ (রং সাইড) দিয়ে চলে যান।

তখন তারেক রহমান বললেন, আপনি এটা কি বলছেন! রাস্তার রঙ সাইড দিয়ে আমি যাবো? তাছাড়া, রাত বারোটায় এক্সিডেন্ট করেছে, এখন দিন বারোটা বাজতে চলল, দুটো ট্রাক ব্রিজ থেকে সরাতে পারলেন না! আর আপনি এটা লক্ষ্য করেছেন? এ সারি বদ্ধ পিকনিক বাসগুলোর যাত্রীদের কথা? কখন তারা গন্তব্যে পৌঁছাবে, কখন রান্না-বান্না করবে?

এ সময় তারেক রহমান বললেন, আমি যাবো না, আগে রাস্তা ক্লিয়ার করুন, তারপর আমি যাবো। তখন পুলিশ কর্মকর্তা দুরে গিয়ে তার ওয়াকিটকিতে কথা বলছিলেন। আমরা সবাই অপেক্ষা করতে লাগলাম। এরই মধ্যে পিকনিক বাসের যাত্রীরাও রাস্তায় নেমে পড়েছিল।

আশ্চর্য ব্যাপার তিরিশ মিনিটের মধ্যে একটি র‌্যাকার গাড়ি চলে এলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাক দুটোকে সরিয়ে নেওয়া হল। তখন পিকনিক যাত্রীরা সবাই উল্লাসিত হয়ে চিৎকার দিতে দিতে তারেক রহমানের গাড়ি ঘিরে তাকে অভিনন্দন জানাতে লাগল। আর সবাই একবাক্যে বলতে লাগলো ‘আপনি না আসলে হয়তো আমাদের এখানেই পিকনিক করতে হতো’।

তারেক রহমান তাদেরকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, আপনারা গাড়িতে উঠুন, আপনাদের অনেক তাড়া আছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় কেউ গাড়িতে উঠল না, সবাই দাড়িয়ে রইলো।

তারা বলতে লাগলেন, আগে আপনি যান তারপর আমরা যাবো। তখন তারেক রহমান বললেন আগে আপনারা যান, তারপর আমি যাবো। কারন আপনারা আপনাদের মা-বোনদের নিয়ে এসেছেন। তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো সবচেয়ে জরুরী।

এরপর আমরা সেই পিকনিক গাড়িগুলোর পেছনে পেছনে কুমিল্লা পর্যন্ত পৌঁছলাম। সেখানে একটি হোটেলে সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খেয়ে রাওনা হলাম। চট্টগ্রামে পৌঁছে জানতে পারলাম এখানে সবচেয়ে ভালো হোটেলে সাংবাদিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হোটেল লবিতে তারেক রহমান আমাদের সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন রুমে গিয়ে রেস্ট নিন। আগামিকাল সকালে তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় আপনাদের সাথে দেখা হবে। আমরা সবাই সে রাতে অনেক মজা করেছি। রাতে গিয়েছিলাম সাগর পাড়ে। পরদিন সকালে আমরা তৃণমূল সভার দিকে চললাম। রাস্তার দু’পাসে রং বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও নানান কারুকাজ দিয়ে তৈরি নানান জিনিস। এ যেন এক উৎসবের নগরী।

গলায় পরিচয়পত্র, কপালে দলীয় পতাকা, পরনে সাদা গেঞ্জি, হাতে উনিশ দফা ঘোষনাপত্র ও কিছু বই নিয়ে সারি বদ্ধভাবে দলীয় তৃণমূল প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগদান করতে সমাবেশস্থলের প্রবেশ করছে। আমরাও ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি সারিবদ্ধভাবে তৃণমূল নেতারা বসে আছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কর্ণেল অলি আহম্মেদ এম.পি. বীর বিক্রম। সভায় তারেক রহমান পৌঁছেই অথিতিদের নিয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন। এ সময় সমস্ত নেতা কর্মীরা দাড়িয়ে অভিবাদন জানায়। মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত সভা প্রাঙ্গন।

এ সময় তারেক রহমান স্টেজে না উঠে সরাসরি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে চলে যান এবং ঘুরে ঘুরে সকলের সাথে কর্মদন করতে থাকেন। কর্মদন পর্ব শেষ করে যখন তিনি স্টেজে উঠলেন তখন দেখতে পেলাম তার হাত দু’টো লাল হয়ে গেছে। সেখানে উপস্থিত প্রায় ২০০০ নেতাকর্মীর সাথে একটানা কর্মদন করতে করতে তার হাতের এ অবস্থা রূপ নিয়েছে।

এ সময় প্রধান অতিথি কর্নেল অলি আহম্মেদ সবাইকে নিয়ে স্টেজে উঠলেন। কিন্তু থমকে গেলেন তারেক রহমান।

তিনি বললেন আমি এ স্টেজে উঠব না, কারন আমার জন্য নির্ধারিত চেয়ারটি দেয়া হয়েছে সেটি আগে নামাতে হবে, তারপরই আমি উঠব। আমরা স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম তার জন্য রাজকীয় একটি চেয়ার বসানো হয়েছে। তখন স্টেজে সবাই দাড়িয়ে ছিল।

কর্নেল অলি আহম্মেদ আবারো আমন্ত্রন জানালে, তারেক রহমান বললেন, অনুষ্ঠানের আপনি প্রধান অতিথি, ঐ চেয়ারে বসলে আপনি বসবেন। তারপর চেয়ারটি সরিয়ে নিলে তিনি স্টেজে উঠেন।

এ সময় তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, এ অনুষ্ঠান শুধু আপনাদের জন্য। আপনারাই তৃণমূল মানুষদের অভাব অভিযোগ ভালো জানেন। আমরা আপনাদেও কাছ থেকে মতামত নিব এবং সমস্যা সমাধানে দলীয় প্রধান ও সরকারের কাছে উপস্থাপন করবো এবং তা বাস্তবায়নের চেস্টা করবো।

এরপরই বক্তব্যের পালা শুরু হল। প্রথমে তৃণমূল নেতারা বক্তব্য দিতে এসে স্টেজের সকল অতিথিদের নাম ও পদবী সম্বোধন করতে লাগলেন। তখন তারেক রহমান বললেন, এই যে নেতা, আপনি প্রথমে আপনার পরিচয় দিন, এরপর আপনি এক বাক্যে অতিথিদেরকে সম্বোধন করে বলবেন, কেন আপনি বিএনপি করেন এবং পাশাপাশি আপনার এলাকার অভাব অভিযোগের কথা বলবেন।

তারপর শুরু হল একে একে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেযার পালা। তারেক রহমানের হাতের সামনে রাখা ল্যাপটপে ডেটাবেইজ দেখে প্রতিটি তৃণমূল নেতার নাম পরিচয় উল্লেখ করে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ জানান। একটানা বক্তব্য চলে ২টা পর্যন্ত। তারপর দুপুরের খাবারের বিরতি। তারেক রহমান স্থানীয় ও ঢাকা থেকে সফর সঙ্গী সাংবাদিকদের নিয়ে খাবারের জন্য এক সাথে বসলেন ।

একর্পযায়ে বহরের সকল গাড়ীর চালকদের ডাকলে, সবাই এসে উপস্থিত হল। এসময় তারেক রহমান বললেন আপনার ঠিক মতো খেয়ে নিবেন, তারপর হোটেলে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে ঘুমাবেন, কারণ রাতে গাড়ী চালিয়ে আপনাদের ঢাকায় যেতে হবে। আরেকটি কথা দয়া করে আপনাদের রুমের টেলিভিশনটা চালাবেন না।

চালকদের উদ্দেশ্য করে আবারো বললেন, কি বুঝতে পারছেন আপনারা? তখন চালকরা মাথা নেড়ে হ্যা সূচক উত্তর দিল। এ সময় তিনি বললেন, ঠিক আছে এবার তাহলে যান।

এরপর দ্বিতীয় অধিবেশন চলল বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। উপস্থিত অতিথিরা ধৈর্য সহকারে সকলের কথা শুনলেন। পরিশেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অলি আহমেদের বক্তব্য শেষে তারেক রহমান সমাপনি বক্তব্য রাখলেন। পিন পতন নীরবতার মধ্য দিয়ে সমাপনী বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে আমরা আমাদের অফিসের কাজ শেষ করে হোটেলে চলে গেলাম। রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিলাম। এসময় হোটেল লবিতে তারেক রহমান এসে হাজির হলেন। আমরা খবর পেয়ে সবাই তার কাছে ছুটে গেলাম বিদায় নিতে।

তারেক রহমান তখন আমাদের সকলের সাথে কথা বললেন এবং জানতে চাইলেন কোন সমস্যা হয়েছে কিনা? আমরা সবাই এক বাক্যে বললাম কোন সমস্যা হয়নি।

তিনি বললেন ঠিক আছে তাহলে, ভাল থাকবেন। এ সময় তিনি আবারও বললেন আপনাদের গাড়ী চালকদেরকে একটু ডাকুন আমি কথা বলি।

যথারীতি সবাই চলে এলো, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি আপনারা কি সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন? সবাই হ্যা বলল। এসময় আমাদেও প্রিন্ট মিডিয়ার গাড়ী চালক আনোয়ারের উদ্দেশ্য বললেন, কি আনোয়ার সাহেব আপনি তো ঘুমাননি। নিশ্চয় টিভি দেখেছেন।

আনোয়ার জবাব দিল, না, স্যার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তারেক রহমান বললেন, নাহ, আপনি বললেই হবে, আমি বলছি আপনি ঘুমাননি। এসময় আমাকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বললেন, এই বাবুল তুমি গাড়ীর সামনের সিটে বসবা আর ওর দিকে খেয়াল রাখবা, আমি মাথা নেড়ে বললাম জি ভাইয়া।

আমরা বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। আমাদের গাড়ীতে মানবজমিনের সাংবাদিক বাছির জামল ভাই বললো, বাবুল ভাই আমি সামনে বুঝতে চাই। আমি তাকে সম্মান করে ভিতরে চলে গেলাম, এসময় গাড়ীতে ছিল বড় ভাই, ইনকিলাবের হাই সিদ্দিকি, জনকন্ঠের বাবলু, দিনকালের কাদেও গণি চৌধুরী, ইত্তেফাকের আনোয়ার আলদীন, যুগান্তরের লোটন একরাম, প্রথম আলোর আরিফুর রহমান দোলনসহ ১২ জন সাংবাদিক।

ফটো সাংবাদিকদের মধ্যে আমি একাই ছিলাম, এরি মধ্যে ফৌজদারহাটের কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা। আমি পেছন থেকেই গাড়ী চালকের দিকে লক্ষ্য করছিলাম, আমার মনে হচ্ছিল ও যেন কিভাবে গাড়ী চালাচ্ছে, যদিও আমি বাছির ভাইকে কয়েকবার কানে কানে বলছিলাম, চালক মনে হয় ঘুমাচ্ছে, মাঝে মধ্যে ওর সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু বাছির ভাই নিজেই ঘুমাচ্ছিলেন।

এসময় হঠাৎই গাড়ীটি হার্ডব্যাক করে থেমে গেল। সারাদিন ধকলের পর গাড়ির মধ্যেই প্রায় সকল সাংবাদিকরা ঘুমাচ্ছিল, সবাই ঘুম থেকে একপ্রকার লাভ দিয়ে উঠে আমাকে জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছে বাবুল ভাই? তখন আমি বললাম ভাই, ড্রাইভার ঘুমাচ্ছে।

এমন সময় আমরা ট্রেইনের হর্ণ শুনতে পেলাম। আর দেখতে পেলাম আমাদের গাড়ীটি রেললাইনের উপর দাড়িয়ে আছে। সাথে সাথে ড্রাইভারকে গাড়িটি সরিয়ে রাখতে বললাম। ড্রাইভার গাড়ি সড়িয়ে একটি চা এর দোকানের সামনে রাখল।

সবাই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমরা গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে বললাম, আপনি গাড়িতেই একটু ঘুমান। আমরা ঘন্টাখানিক অপেক্ষা করে তারপর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিব।

এর পর আমি সবাইকে নিয়ে চায়ের দোকানে গেলাম, চা-বিস্কুট-কলা সবাই খেয়ে নিলাম। আমি বিল দেয়ার জন্য পকেটে হাত দিতে গিয়ে দেখি মানি ব্যাগটি আমার ক্যামেরার ব্যাগে রেখে এসেছি। আমি দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে গ্লাসে নক করতে লাগলাম, তখন দেখি ড্রাইবার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অনেক ডাকাডাকি করেও ড্রাইভার সাহেব কে জাগাতে পারিনি। এত অল্প সময়ে মানুষ ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে পাওে সেটা আমার জানা ছিল না। যদিও সে দিনের বিলটি আমি দিতে পারিনি। বাছির ভাই তার পকেট থেকে বিলটি পরিষদ করেছিলেন।

তারপর থেকে আজ অবধি বাছির ভায়ের সাথে অনেক বার ঢাকার বাহিরে গিয়েছি, কিন্তু কোনদিন তাকে গাড়ীতে ঘুমাতে দেখিনি। এই সফরের অনেকগুলো স্মৃতিকথা আজও ভুলতে পারিনি।

আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কাছ থেকে দেখেনি। কিন্তু তার জীবন সর্ম্পকে শুনেছি, তারই মতো একজনকে পেয়েছি, যে জাতির প্রয়োজনে সাংগঠনিক, সাহসী এবং জাতীয় সামগ্রিক উন্নয়নের গতিধারায় অদ্বিতীয় নেতার দায়িত্ব পালনে সাফল্যও স্পষ্ট ছাপ রেখে চলেছেন।

তারেক রহমান রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা পরিশুদ্ধ, তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকমীদেরকে সংগঠিত করেছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশের উন্নয় ও জনগনের সবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেছেন। তিনি আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতির কঠিনতম পথে হাঠতে শূরু করেছিলেন।

তার গৃহিত কার্যক্রম নিয়ে আমাদের আগামীর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সহযাত্রী ছিলাম, আছি এবং থাকব। এটা কোন গতানুগতিক অঙ্গীকার নয়। এটা আমার আগামীর প্রত্যাশিত কর্মসূচি। অগণতান্ত্রিক, বৈরিতা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির রোষানলে পড়ে নির্যাতিত তারেক রহমান এখন প্রবাসে দিন কাটাচ্ছেন।

দেশের কোটি কোটি জনতা তার আগমনের অপেক্ষায়।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্বে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রহর গুনছে, তিনি আসবেন, এবং নেতৃত্ব দিবেন নিশ্চয়ই জননেতা হিসেবে। দেশ দরদী নেতার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ।

(বাবুল তালুকদার, ঘাটাইল ডট কম)/-

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধান বোঝাই ট্রলি উল্টে নিহত ৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধান বোঝোই ট্রলি উল্টে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো আটজন। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) ভোরের দিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকার বারিকবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা সবাই ধানকাটা শ্রমিক বলে প্রাথমিকভাক জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নামপরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই শ্রমিকরা নওগাঁ থেকে ধান কেটে সোনামসজিদের দিকে যাচ্ছিল। এসময় রাস্তার গর্তে পড়ে ধান বোঝাই ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ওই ট্রলিতে কমপক্ষে ১‌৫ জন শ্রমিক ছিল।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। কয়েকজনকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ হোসেন। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিবগঞ্জের ইউএনও শাকিব আল রাব্বি জানান, ফায়ার সার্ভিস লাশগুলো উদ্ধার করেছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করেছে। প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানান, ট্রলিটিতে ৭৫ বস্তা ধান ছিল। ওভার লোডেড ছিল যানটি। রাস্তাটাও ছিল ঢালু। নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে ট্রলিটি উল্টে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। সেখানে পানি ছিল।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-