নাগরপুরে ক্লিনিক মালিকের বস্তাবন্দী লাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক ক্লিনিক মালিককে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে পুলিশ দেলদুয়ারের লাউহাটি ইউনিয়নের হেরেন্দ্রাড়া ধলেশ্বরী নদীর সংযাগ খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহতের নাম আনিসুর রহমান আনিস (৪৬)। সে লাউহাটি ইউনিয়নের হেরেন্দ্রাড়া গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে।

নিহতের স্ত্রী মোরছানা আক্তার বলেন. আনিস দীর্ঘদিন বিদেশে ছিল। কয়েক বছর আগে দেশে এসে লাউহাটি বাজারে জনসেবা ক্লিনিক নামে একটি ক্লিনিক দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এর সাথে তিনি জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসাও করতেন।

গত সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে ক্লিনিকে আসার কথা বলে বের হন। সে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। রাতে হয়ত কোন কাজ আছে বলে সে বাড়িতে ফিরেনি এমনটাই মনে করে আমরা তাকে আর খোঁজাখুঁজি করেনি। বার বার তার মোবাইলে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার টাঙ্গাইল আদালতে দুজনের নামেই একটি মামলা থাকায় আমি আদালতে হাজিরা দিতে যাই। বিকেলে শুনি বাড়ির পাশের খালে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান নিহতের স্ত্রী।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেুল ইসলাম জানান, হেরেন্দ্রাড়া ধলেশ্বরী নদীর সংযাগ খালে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে।

কেন কি কারণে হত্যাকান্ড ঘটেছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

(অন্তু দাস হৃদয়, ঘাটাইল ডট কম)/-

মাফিয়া রাজ্যের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ, মুক্তি গণতন্ত্রে: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আজ আমরা মুজিব শত বার্ষিকী পালন করছি। মুজিব শত বার্ষিকী পালন অসর্ম্পূন ও অসমাপ্ত হবে যদি আমরা মওলানা ভাসানীকে স্মরণ না করি। এই দেশের একমাত্র ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নেতা যার কোন লোভ ছিল না, যিনি নিজের কোন স্বার্থ দেখেনি। সব সময় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। তিনি আমাদেরকে মুক্তি-আন্দোলন শিখিয়েছেন, স্বাধীনতার অর্থ বুঝিয়েছেন।

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আপনি আমাদের সাহস দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য, গণতন্ত্রের উদ্ধারের জন্য আমরা আপনার পথ অনুস্বরণ করে রাস্তায় থাকবো।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আমরা সবাই জানি সরকার সকলের কণ্ঠ রোধ করে রেখেছে। গণতন্ত্র মাটিতে শায়িত। এখন তা মাটি দেওয়ার অপেক্ষায়। যদি আমরা গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চাই তাহলে সকলের সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করা ছাড়া আর কোন পথ নাই। আজ সারা দেশের যে অরাজগতা, বাংলাদেশ আজ যেভাবে মাফিয়া রাজ্যের দিকে যাচ্ছে। তাই আমাদের সকলকেই চোখ খুলে বুঝে চলতে হবে। সবার মুক্তি এখন গণতন্ত্রে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র এখন কবরে শায়িত আছে। এখন কেউ হরি বল বলে আগুন দিবেন না মাটি দিবেন। এটারই অপেক্ষায় আছে। আমরা এখন এই গণতন্ত্রের জীবন্ত এবং জবাবদিহিতা দেখতে চাই। মানুষের কথা বলার অধিকার চাই। এটা কোন স্বাধীন দেশের, স্বাধীন মানুষের দেশ না।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সকাল ১১ টার টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে এসে উপস্থিত হন। এসময় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও দোয়া করেন। পরে তিনি ঢাকার দিকে রওনা দেন।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শ্রদ্ধা ও দোয়ায় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে স্মরণ

টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ভোর সকাল থেকেই সন্তোষে মানুষের ঢল নামে। তার অসংখ্য মুরিদান ও ভক্তদের কণ্ঠে ‘যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে মজলুম জননেতার সমাধিস্থল টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাজার প্রাঙ্গণ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

এরপর থেকেই মাজারে ভাসানীর পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শুরু হচ্ছে। এতে ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে ভাসানীর মাজার ও মাজার প্রাঙ্গণ।

জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, মাওলানা ভাসানীর পরিবার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, ভাসানী ফাউন্ডেশন, মাওলানা ভাসানী ডিগ্রী কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেশী বিদেশী অসংখ্য ভক্ত মুরিদান ও সর্বস্তরের জনতা মরহুমের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্বা নিবেদন করেন।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও দোয়া করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, জেলা সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম রফিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কাঙালিভোজ, আলোচনা সভা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এদিনে (১৭ নভেম্বর) ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। সন্তোষের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ নভেম্বর বুধবার। তার মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালে।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জীবনভর করে গেছেন অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষার সংগ্রাম। অংশ নিয়েছেন বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন এমনকি প্রবীণ বয়সে ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লংমার্চসহ আরো অনেক আন্দোলনে শরীক হয়েছেন।

১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।

দিনটি স্মরণে ঢাকা ও টাঙ্গাইলসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনাসভা এবং দোয়া মাহফিল।

স্থানীয় প্রশাসন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৮৮০ সালের ১২ই ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও তাঁর জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে।

১৯৭৬ সালের এইদিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন

ভাসানীর আওয়ামী লীগ বা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সম্পূর্ণ আধুনিক ও সেক্যুলার সংগঠন ছিলো। স্বরাজ পার্টি, খিলাফত, কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রভৃতি রাজনৈতিক সংগঠনে অবস্থান করেও ভাসানী মোটের ওপর একজন দলনিরপেক্ষ ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী নেতা ছিলেন।

চিরকাল তিনি প্রবলের বিরুদ্ধে এবং অবহেলিত-নিপীড়িত-বঞ্চিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো দলের অনুপ্রেরণায় নয়, দলীয় কর্মী বা নেতা হিসেবে নয়, জীবনের প্রথমেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদে নির্যাতিতের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শোষক-নিপীড়ক প্রবলের বিরুদ্ধে। মাঝে বড়ো বড়ো দলের নেতৃত্ব দিলেও শেষ দিনগুলোতেও কোনো দলের নেতা রূপে নয়, ব্যক্তি হিসেবেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন ভাসানী।

তাই তাঁর সম্পর্কে ভারতের দৈনিক ‘স্টেটসম্যান’ যথার্থই লিখেছিলো-Forever the Fighter চিরকালের যোদ্ধা।

ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবনে মজলুমের পক্ষ অবলম্বন করে তাঁর যে যুদ্ধ বা সংগ্রাম তা কোনোদিন থামেনি-আরাম ছিলো তাঁর জীবনে হারাম। বস্তুত, তাঁর জীবনে বিশ্রাম ও শান্তি আসে তাঁর মৃত্যুর দিন।

-কেমন ছিলো মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শনসৈয়দ আবুল মকসুদ

কৃষকের মতই খেয়ে-না-খেয়ে, প্রজা-পরিবারের সুখ-দুঃখের সাথে জীবন একাকার করে শোষিতের বঞ্চিতের হাহাকার মর্মে মর্মে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।

১৯১৯ হতে কংগ্রেস আন্দোলনে, খিলাফত আন্দোলনে, অসহযোগ আন্দোলনে, বেঙ্গল প্যাক্ট আন্দোলনে যোগদান করে, একাধিকবার কারাবরণ করে, মওলানা মোহাম্মদ আলী ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ঘনিষ্ট সান্নিধ্য লাভ করে মোঃ আবদুল হামিদ খান যে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় নিবেদিত ও প্রতিষ্ঠিত থাকার কথা, ১৯২৪ সন হতে দেখা গেল সেই ধারাবাহিকতার পাশাপাশি তিনি নিজস্ব একটি ধারা সৃষ্টি করেছেন; আর তা হল –কৃষক আন্দোলন।

বিংশ শতাব্দীর শুরু হতেই তিনি পূর্ব বাংলা ও আসামের গ্রামে-গঞ্জে বলতে গেলে অলিতে গলিতে চষে বেড়িয়েছেন। বিশেষ করে তিনি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধলেশ্বরী, তিস্তা, গদাধর, গঙ্গাধর, দুধকুমার, মহানন্দা, করতোয়া এমনি শতাধিক নদী বিধৌত এলাকায় আত্মার আত্মীয় খুঁজে বেড়িয়েছেন, নদী-সিকন্তি মানুষগুলোকে ভালোবেসেছেন। তাদের সংগঠিত শক্তিতে জমিদার ও মধ্যস্বত্বভোগী পরগাছাদেরকে উৎখাত করা যাবে –এ বীজমন্ত্র অসহায়দের অন্তরে বদ্ধমূল করেছেন।

শিল্পাচার্যের রঙ তুলিতে মজলুম

এই ছবির জন্ম কাহিনী বর্ণনা করে জনাব জহিরুল হক বলেন, পয়গাম কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন, মওলানা ভাসানীর ঊননব্বইতম জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশেষ সংখ্যা বের করার। এই বিশেষ সংখ্যার ছাপার জন্য বার্তা সম্পাদক সৈয়দ আসাদুজ্জামান ও আমি শিল্পাচার্যের কাছে যাই মওলানার একটি ছবির জন্য।

সময়টা ১৯৭০-এর ডিসেম্বরের শেষদিকে।…আমাদের ড্রইংরুমে বসিয়ে বললেন, তোমাদের কথা দিয়েছি মওলানার ছবি এঁকে দিব কিন্তু কী আঁকবো, কীভাবে আঁকবো?

আমার মনের মতো করে তাঁকে আমি কিছুতেই ক্যানভাসে আনতে পারছি না। আমি যতবার তাঁর ছবি আঁকতে চেষ্টা করেছি ততবারই আমার সামনে ভেসে উঠেছে ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণ, গর্কি, জলোচ্ছ্বাস, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, বিক্ষোভ, সংগ্রাম আর হাহাকার।

জহিরুল হক বলেন, শিল্পাচার্যকে খুব অস্থির মনে হয়েছিল আমার। তাঁকে মনে হচ্ছিল তিনি যেন একজন মা। একজন মা তার শিশুকে জন্ম দেয়ার জন্য যেভাবে প্রখর যন্ত্রণায় কাৎরায়, ভিতরে জীবন আছে, সে জীবনকে তিনি উপহার দিতে চাচ্ছেন, ভিতরে প্রাণের স্পন্দন তিনি অনুভবও করেছেন, সেজন্য দুর্লঙ্ঘ পথ অতিক্রমের তীব্র আকাঙ্ক্ষাও আছে, কিন্তু কোথায় যেন আটকে যাচ্ছে সব উদ্যোগ………

কথাবার্তার এক ফাঁকে আমি বলেছিলাম, আপনার এই যে ভাবনা তার প্রেক্ষাপটেই আঁকুন না মওলানার ছবি।…

আমার এই কথা সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিয়েছিলেন তিনি।…বললেন ২/৪ দিন পর এসো।

গেলাম অবশেষে ১১ জানুয়ারি, ১৯৭১-এ। আমাদের হাতে তুলে দিলেন তাঁর ‘মওলানা ভাসানী’।

ছবির দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ও উত্তেজনায় কাঁপছিলাম আমি। মনে আছে ছবিটিকে গোল করে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন শিল্পাচার্য।

দেয়ার সময় বলেছিলেন ‘ছবিটি তোমাদের দিচ্ছি বটে তবে এঁকে তৃপ্তি পেলাম না। পরিপূর্ণভাবে মওলানা ভাসানীকে আমি ফোটাতে পারলাম না’।

এই ছবির জন্য শিল্পাচার্য কোন পারিশ্রমিক নেননি। বর্তমানে ছবিটির মূল কপি আছে সন্তোষে সৈয়দ ইরফানুল বারীর কাছে। অবশ্য ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ছবিটি ছিল দীর্ঘদিন মাটির নিচে। ফলে একটা অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের জাতীয় জাদুঘরে এর একটা রিপ্রডাকশন আছে।

নানান মাত্রায় মওলানা ভাসানী বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনসৈয়দ ইরফানুল বারী

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে যমুনার চরে ড্রেজিং নিয়ে বিভ্রান্তি!

যতদূর চোখ যায় শুধু কাঁচা আর আধা পাকা ধানিজমি। দূরে, অনেক দূরে দৃষ্টি গিয়ে থামে সবুজ গাছপালার আড়ালে বাড়িঘর, স্কুল, মাদ্রাসা আর মসজিদের টিনের চালায়। ধানিজমির মধ্যে চিনাবাদাম, খেসারি, মসুর, মটরশুটি আর মৌসুুমি সবজিতে ঠাঁসা। বছর ছয়েক আগে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ জেগে উঠা চর যেন যমুনার বুকে বড়সড় দ্বীপ। ফসল ফলন ও জনবসতিকে ঘিরে এখন গ্রামীণ কর্মযজ্ঞ গড়ে ওঠেছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চর সোনামুইয়ের ওপাড়ে সুবর্ণখালি থেকে দক্ষিণে জগতপুরা, জোমের বয়ড়া, চর ভরুয়া, তালতলা, রাজাপুর, রামপুর, গোপিনাথপুর, জঙ্গীপুর, রুলিপাড়া, বেলটিয়াপাড়া ও ডিগ্রীর চর জেগে ওঠে ছয় বছর আগে।

গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব জানান, ছয় বছর আগে জেগে ওঠা চর এখন শস্য ভান্ডার। গত অক্টোবরে পাউবোর টাস্কফোর্সের টিম সরেজমিন জরিপকালে যমুনার বুকে এ বিশাল চর দেখে যায়। তখন বলা হয়েছিল, যমুনা নদীর জামালপুর অংশের খননের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণে টাঙ্গাইল অংশের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সমান্তরালভাবে ১০ কিলোমিটার খনন করা হবে।

জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এরই মধ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটার খনন করে টাঙ্গাইলের গোপালপুর প্রান্তে এসেছেন। কিন্তু টাঙ্গাইল পাউবো এখন কথা রাখছে না। তারা নদীর জামালপুর অংশ থেকে দক্ষিণে সরল রেখায় প্রবাহিত মূল ধারা ডানে রেখে বামের বিশাল চর বরাবর খননের বন্দোবস্ত করছেন।

ভূঞাপুর উপজেলার জগত্পুরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান জানান, আমরা নদী ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে নই। নদী খনন হোক নদীর মূল ধারায় সরল রৈখিকে। কিন্তু টাঙ্গাইল পাউবো সেটি না করে জামালপুর অংশের পর ডানে বক্রাকারে সরিয়ে বিশাল ফসলি চরকে টার্গেট করে ড্রেজিংয়ের আয়োজন করছে। ধানিজমিতে পোঁতা হয়েছে লাল নিশান।

তিনি জানান, চরের বুকে ড্রেজিং হলে ৫ হাজার জমির ফসলহানি হবে। কয়েকহাজার বাড়িঘর নদীতে বিলিন হবে। বহু পরিবার বাস্তুচ্যূত হবে। মূলত বালু ব্যবসায় শত কোটি টাকার লাভকে ঘিরে প্রভাবশালী মহল কায়েমী চরকে ড্রেজিংয়ের বলি বানাচ্ছেন।

অর্জুনা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, মূল ধারা দিয়ে সোজাসুজি নদী খনন করার কথা বলেছিল পাউবো। কিন্তু এখন টাঙ্গাইল অংশে ডানে কয়েক কিলোমিটার বাঁকিয়ে খনন করার আয়োজন হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য শত কোটি টাকার বালু বাণিজ্য।

তিনি বলেন, চরের বুক চিরে খনন হলে তারাকান্দি-ভূঞাপুর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে। নদী বন্দর বিলীন হয়ে যাবে।

জোমের বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সোহেল জানায়, এ চরে ছয় বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে তাদের স্কুল ঘর। স্কুল থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে যমুনার মূল শাখা। সেখান দিয়ে নদী খনন না করে তাদের স্কুলের পাশেই লাল নিশান টানিয়ে খননের আয়োজন চলছে। চরের মাঝ বরাবর খনন হলে তাদের স্কুল যাবে। গ্রাম যাবে। তার মতো অনেক শিশুর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে।

অর্জুনা গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের প্রধান আব্দুস সাত্তার খান জানান, নদীর মূল ধারায় সরলে রৈখিকে ড্রেজিং না হলে বহু পরিবার বাস্তুচ্যূত হবে। অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব মোল্লা জানান, মালিকানায় রেকর্ড করা এসব চর জমির ওপর দিয়ে ড্রেজিং করার আগে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং হচ্ছে নদী শাসন ও নদী খনন প্রকল্পের মাধ্যমে। গত অক্টোবরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাস্কফোর্স টিম সার্ভে করে যেভাবে এলাইনমেন্ট করেছেন সেভাবেই নদী খনন করা হবে। সেখানে তারা ফসল বা বাড়িঘর দেখেননি। আর নদীর কোনো চর রক্ষা করা বা ধ্বংস করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। নদীর গতিপথের স্বাভাবিক ধারা প্রবাহমান রাখার জন্য যেভাবে খনন প্রয়োজন সেভাবেই করা হবে।

(জয়নাল আবেদীন, ঘাটাইল ডট কম)/-