ঘাটাইলে সড়কে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাসচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। আজ সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গুণগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ঘাটাইল উপজেলা হোটেল শ্রমিক সমিতির সভাপতি মুক্তার আলীর একমাত্র ছেলে খাদেমুল ইসলাম বাবু (১৮) হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এছাড়া এই ঘটনায় আহত ঘাটাইল পৌর এলাকার মুজাফ্ফর আলীর ছেলে ইমন (১৯) এবং ঘাটাইল গুণগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলামের ছেলে সৌরভ (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত ও আহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ সোমবার সন্ধ্যায় তারা তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ঘাটাইল থেকে ব্রাহ্মণশাসন এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় তারা গুণগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে তাদের আরোহণকারী মোটরসাইকেলের সাথে একটি অজ্ঞাত যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয় বলে জানা যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে খাদেমুল ইসলাম বাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এ ঘটনায় অপর দুইজন আহতর একজন ইমন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে তার পরিবার সুত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আহত অপরজন সৌরভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তার পারিবারিক সূত্রে সর্বশেষ জানা গেছে।

ঘাটাইল থানার এসআই মতিউর রহমান জানান, আজ সোমবার সন্ধায় একটি অজ্ঞাত বাসের সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী বাবু মারা গেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সে সময় তিনি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে দুইজনের মরদেহ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পৃথক ঘটনায় নিহত এক তরুণীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহরা হচ্ছে- উপজেলার ধুপটিয়া গ্রামের আদর আলীর মেয়ে আতিয়া আক্তার (২২) ও বাবনাপাড়া গ্রামের মৃত দিনেশ কর্মকারের ছেলে স্বপন কর্মকার (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোখাদ্য (খড়) আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে আতিয়া আক্তার (২২) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোরে নিজ বাড়িতে গোখাদ্য (খড়) আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান আতিয়া আক্তার। ভোরে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া এক সৌখিন মৎস্য শিকারি খড়ের গাদার সামনে তাকে পরে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দেন। খবর পেয়ে তার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান আনিস।

অপরদিকে সকালে একই উপজেলার বাবনাপাড়া গ্রামের নিজ দোকান থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় স্বর্ণ কারিগর স্বপন কর্মকারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নাগরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান আনিস বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে মান্নান মেম্বারের বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ও মানহানিকর দাবি করে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উপজেলার খাগড়াটা নামক একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

সরকারি জমি বেদখল করে ফসল বোনা এবং গাছ গাছালি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ এনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মান্নানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদের প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের খাগড়াটা মোড়ে কয়েকশত নারী পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে আসা স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হালিম, সাবেক মেম্বার আ: গফুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীী (৭০), বাবলুসহ অনেকেই দাবি করেন, বর্তমান জামানায় মান্নান মেম্বারের মতো ভাল মানুষ পাওয়া কঠিন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তিনি গাছকাটা তো দুরের কথা বরং সামাজিক বনায়নের আওয়ায় ওয়ার্ডবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে অধিক পরিমাণে গাছ লাগিয়েছেন।

বক্তারা দাবি করেন, মান্নান মেম্বারের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে তার মানহানি করা হয়েছে। ফলে আমরা ওয়ার্ডবাসী এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সে সময় বক্তারা ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষক আলহাজ্ব আলী আহম্মদ মাস্টারের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকার ছাত্র-যুবক সমাজ ও সাধারণ জনগণ।

আজ সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার স্থানীয় দশানি বকশিয়া বাজারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয় লোকেরপাড়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হায়দার আলী তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনছান আলী, ভুক্তভোগি আলহাজ্ব আলী আহম্মদ, শিক্ষক আব্দুস ছালাম, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগ যুবলীগের সভাপতি লুৎফর রহমান পিন্টু, দশানি বকশিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন আরশেদ আলী তালুকদার প্রমুখসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- ভুক্তভোগি আলী আহম্মদ মাস্টার অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের পেশ ঈমাম। তিনি সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি। তার প্রতিবেশি দীর্ঘদিন যাবৎ জমি নিয়ে বিরোধ করে আসছিল। শুধু তাই নয়, তার পরিবারকেও বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিত।

এছাড়াও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল কোর্টে হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মিথ্যা হত্যা মামলার আসামি করেন। তাদের এমন হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

এএসপি শিপন হত্যাকারীদের বিচার দাবীতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ ব্যাচের প্রাণ রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র এবং ৩১ বিসিএস-এর সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারের সামনে জাহাঙ্গীরনগর পরিবার টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর পরিবার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. এমরান, সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রাসেল মো. সাইম, কোষাধক্ষ মো. সোলাইমান হোসেন প্রমুখ।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

বক্তারা অবিলম্বে পুলিশের এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ঢাকার আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে স্টাফদের নির্যাতনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যু হয়। নিহত পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ৩১তম বিসিএসে পুলিশে যোগ দেন।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

মওলানা ভাসানী স্মরণে

মওলানা ভাসানী তাঁর জীবদ্দশায় কেবল বাংলাদেশ বা এই উপমহাদেশের নয়, দীর্ঘকাল ধরে খ্যাত ছিলেন আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার মজলুম মানুষের সংগ্রামে প্রেরণার দীপশিখা হিশেবে। গণমানুষের সেই কালজয়ী মহান নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে তাঁর ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ স্মরণ করি পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

পশ্চিমী দুনিয়ার গণমাধ্যম তাঁকে ‘ফায়ার ইটার’ অর্থাৎ অগ্নিভূক, ‘রেড মওলানা অব দ্য ইস্ট’ অর্থাৎ প্রাচ্যের লাল মওলানা ইত্যাকার বিশেষণে চিত্রিত করলেও তিনি স্টকহোমে আফ্রো-এশীয় শান্তি-সন্মেলনে সভাপতিত্ব করেছেন।

বিশ্ববিশ্রুত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের সঙ্গে যৌথবিবৃতি দিয়েছেন যুদ্ধবাদিতার বিরুদ্ধে। টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছে; দিয়েছে ‘প্রোফেট অব ভায়োলেন্স’ বা সহিংসতার পথপ্রদর্শক তকমা।

তবে নির্যাতীত মানুষ বরাবরই তাঁকে শ্রদ্ধা করে এসেছে উৎপীড়নবিরোধী সংগ্রামের মহানায়ক হিসেবেই।

আওয়ামী লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ; দু’টি রাজনৈতিক দলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ন্যাপের তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তান শাখা বিলুপ্ত করলে এই দলের নেতা-কর্মীদের নিয়েই জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তান পিপলস পার্টি গঠন করেছিলেন।

মওলানার ইন্তেকালের পর বাংলাদেশে ভাসানী ন্যাপ বিলোপ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মূল রাজনৈতিক স্রোতধারা তৈরি হয়। ভাসানী ন্যাপের ধানের শীষ হয় বিএনপিরও নির্বাচনী প্রতীক।

তরুণ বয়সের শুরুতেই আমাদের এই অঞ্চলের কৃষক-প্রজাদের নিয়ে সামন্ত-জমিদার বিরোধী লড়াই চালিয়ে, আসামে ‘বাঙ্গাল খেদা’ নামের জনগোষ্ঠীগত হিংস্রতা রুখে দিয়ে এবং কুখ্যাত লাইন প্রথাবিরোধী সংগ্রামের পুরোভাগে থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে তিনি উপমহাদেশে সূচিত খেলাফত আন্দোলনের পথ বেয়ে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-বিরোধী স্বাধীনতার সংগ্রামে উঠে আসেন নেতৃত্বের কাতারে।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে কংগ্রেস ও পরে মুসলিম লীগ নেতৃত্বের প্রথম সারিতেই শামিল ছিলেন তিনি।

পাকিস্তান আমলে আমাদের জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের তিনিই ছিলেন প্রথম তূর্যবাদক। বাঙলা ভাষা ও সংষ্কৃতির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকদের বৈরিতার বিরুদ্ধে তিনি সংগ্রাম গড়ে তোলেন।

ভাষা আন্দোলনকে দুর্নিবার করে তোলার পাশাপাশি তিনি বাংলা সাহিত্য-সংষ্কৃতি বিষয়ক সন্মেলন আয়োজন করেন।

একজন জননেতার এমন ভূমিকা এই জনপদের ইতিহাসে অনন্য। মওলানা ভাসানীই প্রথম পাকিস্তানি শাসনের নিগড় ছিন্ন করতে ঐতিহাসিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণ করেন কাগমারীর ইতিহাসখ্যাত সন্মেলনে।

তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাই শুধু নন, বরং এই রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পথপ্রদর্শকও ছিলেন।

আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনাকারী প্রবাসী সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতিও ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পরেও আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন মওলানা ভাসানী।

তদানীন্তন আওয়ামী সরকার এ কারণে তাঁর পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মওলানা ভাসানীর কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখে।

জীবন সায়াহ্নে এসেও ভারতের কাছ থেকে গঙ্গা নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে তিনি ঐতিহসিক ফারাক্কা লংমার্চের ডাক দেন এবং এতে নিজে সশরীরে নেতৃত্ব দেন।

মহানবী (সা.)-র সাম্যবাদী সাহাবী হযরত আবু জর গিফারী (রা.)-র ‘রবুবিয়ত’-এর দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন মওলানা ভাসানী।

তাঁর জীবনের ব্রত ছিল খেলাফতে রাব্বানী অর্থাৎ বিশ্বপ্রভুর প্রতিনিধিত্বমূলক রাষ্ট্রীয় সমাজ প্রতিষ্ঠা। মানুষের সেবা ও নিজের জীবনাদর্শ প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন খোদায়ী খিদমতগার সমিতি।

জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি জনপ্রিয় বিভিন্ন পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছেন।

উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক সাচ্চা মুসলিম গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থাপন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তবে সাম্প্রদায়িকতা ছিল তাঁর দু’চোখের বিষ। ধর্মের নামে বিভেদ, হানাহানি, উগ্রতা, কুসংষ্কার ও গোড়ামীকে প্রশ্রয় দেননি তিনি কখনোই।

ইসলামের সাম্যবাদী ভাবাদর্শ ও সমাজবাদী দর্শনের সংমিশ্রণে একটি শোষণহীন-সাম্য-মৈত্রীর সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল এই লোকায়িত জননায়কের আজন্মলালিত স্বপ্ন।

মওলানা ভাসানী শতাব্দিব্যাপ্তপ্রায় তাঁর জীবনকালে বিশ্বের খ্যাতনামা রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, দার্শনিক, সমাজ সংষ্কারক ও সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনের দিকপালদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।

শোষণ, পীড়ন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর প্রাণপণ লড়াই। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পোশাক পরে, মাটির শানকিতে কৃষকের খাদ্য খেয়ে, গ্রামের পর্ণ কুটিরে বাস করেও তিনি ছিলেন দুর্বিনীত শাসকদের ত্রাস।

তাঁর ডাকে পঙ্গপালের মতো লাখ লাখ মানুষ নেমে আসতো ঘর ও কর্মস্থল ছেড়ে পথে।

কবি শামসুর রাহমান তাঁর বিখ্যাত ‘সফেদ পান্জাবী’ কবিতায় জনসমুদ্রে ভাষণদানরত মওলানার আন্দোলিত হাত “বল্লমের মতো ঝলসে ওঠে বারবার” বলে বয়ান করেছেন। মজলুম এই জননেতার ‘খামোশ’ আওয়াজে কেঁপে উঠেছে জালিমের সিংহাসন।

১৯৭৬ সালে মহাপ্রয়াণের আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে তিনি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেবার ভার দিয়ে জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি তাঁর আদর্শের পতাকা।

ক্ষমতাকে তুচ্ছ করা এই মহান জনগণমন অধিনায়কের পূণ্যস্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই তাঁর ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে। তাঁকে স্মরণ করি হৃদয়মথিত অকৃত্রিম ভালোবাসায়।

বাংলাদেশে শোষণ-বঞ্চনা ও জুলুম-পীড়নমুক্ত, সামাজিক ইনসাফভিত্তিক সাম্য-মৈত্রী-শান্তির একটি সমাজ গড়তে পারলেই কেবল মওলানা ভাসানীর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে।

১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাকে টাংগাইল জেলার সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে সন্তোষ নামক স্থানে পীর শাহজামান দীঘির পাশে সমাধিস্থ করা হয়।

(মারুফ কামাল খান, ঘাটাইল ডট কম)/-

বিশুদ্ধ পানির নামে যা খাচ্ছে টাঙ্গাইলবাসী

টাঙ্গাইলে নামসর্বস্ব ট্রেড লাইসেন্সেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন কারখানার ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের বিশুদ্ধ পানি। এ ধরনের কারখানা নির্মাণে মানা হয়নি কোনো রকমের বিধিমালা। এসব কারখানা নির্মাণে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতার সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদের বিধান থাকলেও এর একটিও নেই। কারখানাগুলোর নিজস্ব ল্যাব বা কেমিস্ট নেই।

এসব বিধিবিধান অমান্য করেই জেলা শহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) এবং মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দুটি কারখানার পানি।

নিউ জমজম পানির জারে পোকা পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টাইম গার্মেন্টসের মালিক সোহাগ। তিনি বলেন, পরবর্তীতে পানি সরবরাহে এমন ত্রুটি থাকবে না শর্তে পানি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধান করেন।

ওই মার্কেটের সামরহিল গার্মেন্টেসের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আগে তিনি কারখানায় নিউ জমজমের পানি রাখতেন। পানিতে পোকা পাওয়ার পর থেকে তিনি আর এই কোম্পানির পানি রাখছেন না।’

ব্যাং গার্মেন্টসের মালিক জিয়া বলেন, ‘তিনি প্রায় তিন বছর অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার নিউ জমজম পানি ব্যবহার করছেন। ওই কারখানার পানি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল বলেও শুনেছেন তিনি।’

কয়েকজন জার পানির ক্রেতা জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খাবার পানির প্রয়োজন হয়। যা বাসা-বাড়ি থেকে এনে ব্যবহার সম্ভব হয় না। এছাড়া বাইরে থেকে টিউবওয়েলের পানি বারবার আনা কষ্টকর। এ কারণে বিশুদ্ধ পানি ভেবে জার পানি রাখছেন তারা। তবে ক্রয়কৃত স্থানীয় ওই পানি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ সেটি তারা জানেন না।

শহরে জার পানি সরবরাহ করছিলেন মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার মার্কেটিং ম্যানেজার নয়ন। তিনি জানান, তাদের কারখানা থেকে মাসে প্রায় দেড় হাজার জার পানি বিক্রি করা হয়। যার বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা। ভোরে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় দিনের বেলায় কারখানা বন্ধ থাকে বলেও তিনি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতার সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ ছাড়াই পানি উৎপাদন আর বিপণন কাজ চালিয়ে আসছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

তবে নিয়মনীতি মেনে চললেও লোকবল সংকটে বন্ধ হয়ে যায় একই সময় চালু হওয়া জেমস, রিয়া, শান্তি প্লাস ও মক্কা নামের চারটি ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরি।

তবে এখনো উৎপাদন ও বিপণন চালিয়ে আসছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে নির্মিত জমজম ড্রিংকিং ওয়াটার (নাম পরিবর্তন করে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার) এবং করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর এলাকার মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দুটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠান দুটি বাজারজাত করছে ২০ লিটারের জার পানি। এরমধ্যে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেস আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের আবেদন বাদে অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আবেদন নেই।

তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন স্যানিটারি কর্মকর্তা ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এগুলো দিয়েই জার পানি সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরব্যাপী কয়েকটি গাড়িতে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে অবৈধভাবে পরিচালিত ড্রিংকিং ওয়াটার কোম্পানি দুটির পানি। ২০ লিটার পানির প্রতিটি জার বোতল ৪০-৫০টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এ দুই পানি কোম্পানির দৈনিক বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাধিক বোতল। তবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো না জেনে বিশ্বাস করে এবং প্রয়োজনের তাগিদে পানিগুলো ব্যবহার হচ্ছে জেলা শহরের বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দফতরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়া একাধিক পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার না থাকায় এ ধরনের জার পানি সর্বোচ্চ তিন দিন ব্যবহার করা সম্ভব। তবে জারের মুখ বেশিদিন খোলা থাকলে পানিতে মশা ডিম পাড়াসহ জন্ম নিতে পারে নানা ধরনের পোকা, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। পানিতে সৃষ্টি হতে পারে দুর্গন্ধও।

সরেজমিন অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) কারখানা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে আটজন শ্রমিক কর্মরত থাকলেও একজন শ্রমিক করছেন বোতল ধোয়া আর পানি ভর্তির কাজ। তবে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের হাতে ছিল না গ্লাভস ও শরীরে অ্যাপ্রোন। পায়ে ছিল স্যান্ডেল। যা পানি ফ্যাক্টরি নীতিমালাবর্হিভূত।

বোতল পরিষ্কার বা ধোয়ার কাজে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে পানি। এছাড়া অটোমেটিক ফিলিং মেশিনে পানি বোতলজাত করার বিধান থাকলেও এখানে সরাসরি মাটির অগভীর থেকে মোটরে তোলা পানি খোলা কলের মাধ্যমে ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি ভর্তি জারে হাতের সাহায্যে প্লাস্টিক মুখ লাগানোসহ স্কচটেপ পেঁচাতে দেখা গেছে।

তবে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর থেকে পরিচালিত মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানাটি দিনের বেলায় বন্ধ থাকায় এর কার্যক্রম সরেজমিন দেখা যায়নি। তবে শহরব্যাপী প্রতিষ্ঠানটির পানি সরবরাহ চলমান রয়েছে।

ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফোনে পানির জারে পোকা আর জরিমানা দেয়ার কথা স্বীকার করেন অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) কারখানার কর্তৃপক্ষ কামাল পাশা। তিনি বলেন, ‘ক্রেতার ব্যবহারজনিত সমস্যায় পানির বোতলে পোকা প্রবেশ করেছিল। শুধু ব্যবসায়িক ভাবনায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া হয়েছিল।’

তিনি দাবি করেন, তাদের পরিচালিত কারখানার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দফতরে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে। দাফতরিক অনুমতি ব্যতীত ব্যবসা পরিচালনা ঠিক কি-না এমন প্রশ্নে কারখানাটির কর্তৃপক্ষ বলেন, মার্কেট ধরতে তারা বাজারে পানি সরবরাহ করছেন।

বিএসটিআইয়ের টাঙ্গাইল ফিল্ড অফিসার সিকান্দার মাহমুদ বলেন, ‘ড্রিংকিং ওয়াটার সরবরাহের জন্য প্রয়োজন বিএসটিআই, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআরবির অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ। সকল সনদপ্রাপ্ত হওয়ার পরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পায় বিএসটিআইয়ের সনদ। এরপরই পানি কোম্পানিগুলো করতে পারে উৎপাদন আর বিপণন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকবে হবে ওয়াটার পিউরিফাইয়ার মেশিন। ফ্যাক্টরিতে কোনো প্রকার হাতের ছোঁয়া ছাড়াই অটোমেটিক ফিলিং মেশিন বা ম্যানুয়াল মেশিন দ্বারা পানি বের করার নিয়ম রয়েছে। রয়েছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিয়ে বোতল পরিষ্কার বা ধোয়ার বিধান। এসব পানি উৎপাদন ও বিপণন দণ্ডনীয় অপরাধ।’

টাঙ্গাইলের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘এ ধরনের পানি বেশিরভাগই অপরিশোধিত ও নিরাপদ নয়। এ পানি ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ যেমন- টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ভাইরাস, ডায়রিয়া, কলেরার ঝুঁকি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পানির মধ্যে প্লেগ ও আরসেনিকের মতো বিষাক্ত ধাতু থাকতে পারে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরনের পানি ব্যবহারে ত্বক, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। রয়েছে ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী এ বিষয়ে বলেন, বিএসটিআইয়ের সনদ ছাড়া পানি উৎপাদন ও বিপণন অবৈধ। অবৈধভাবে পরিচালিত ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

টাঙ্গাইল কল-কারাখানা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, টাঙ্গাইলে পরিচালিত অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দুটি ফ্যাক্টরি তাদের সনদপ্রাপ্ত নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটিতে কয়জন আর কোন কোন বয়সের শ্রমিক কাজ করছেন সেটিও তারা অবগত নন।

পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ ধরনের পানি উৎপাদন ও বিপণনকারী ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ জেলার পানিতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। আয়রনমুক্ত পানি পেতে ন্যূনতম ৪০০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হয়। পানি উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরিগুলো কতটা গভীর থেকে পানি উত্তোলন করছে সে বিষয়টি জরুরি। তবে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরির পানি বুয়েট কর্তৃক নিরীক্ষা রিপোর্টে কলিফরম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। যা মানবদেহের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।’

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইল জেলা কৃষক লীগের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর (শনিবার) উপজেলার পাকুটিয়া মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষক লীগের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে উপজেলা কৃষক লীগের আহব্বায়ক আলমগীর হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম মাষ্টার, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম বজলুর রহিম রিপন।

দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতা এডভোকেট শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, ঘাটাইল উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মতি মোগল প্রমুখ।

এতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর এলাহি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ন আহবায়ক এস এম শোয়েব রানা।

আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের নেতাদের সাথে পরামর্শ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে সম্মেলনে নেতারা জানান।

সম্মেলনে দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সকল কাউন্সিলর ও ডেলিগেটগণ উপস্থিত ছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত শিক্ষকই এখন সভাপতি!

যৌন কেলেংকারিতে জড়িত হয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ হারানোর পর একই স্কুলের পরিচালনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি হয়েছেন তিনি। সভাপতি হয়েই রফিকুল নামের একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ম্যানেজ করে এসব অসম্ভবকে সম্ভব করে চলছেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকার টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ।

জানা যায়, এই স্কুলটি অবৈধভাবে গঠিত একটি ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত হয়। যৌন কেলেংকারিতে চাকরিহারা প্রধান শিক্ষক লতিফই এখন ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং তিনিই এখন একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগদাতা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের এই ডেস্কের শাহীন নামের একজন লতিফকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। লতিফ বরখাস্ত হলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সব পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য যোগাযোগ এখনও লতিফেরই কুক্ষিগত। টাকার বিনিময়ে এতে লতিফকে সহযোগীতা করছে শাহীন।

জানতে চাইলে শাহীন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে, স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা খুব শিগগিরই বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে এসব বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরবেন।

বিধি বহির্ভূতভাবে ভিন্ন ভিন্ন দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে চাকরি করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে লতিফের বিরুদ্ধে। বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি।

এছাড়া ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার পাঠানো প্রতিবেদনে একই সাথে দুইপদে চাকরির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ জারি করেছে ঢাকা বোর্ড।

বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর ভুঞা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে যে অনৈতিক ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

একজন প্রধান শিক্ষক যদি কোন অনৈতিক কাজে জাড়িয়ে যান এবং সেটি যদি ভিডিও হয়-তাহলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আবদুল লতিফের প্রতিষ্ঠান প্রধান থাকা যুক্তিসংগত নয়।

এছাড়া মো. আবদুল লতিফ একই সাথে দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান (স্কুল এবং কলেজ) হিসেবে চাকরি করে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফকে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিকে এ আদেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অপর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, স্কুলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন ছাড়া টাঙ্গাইল রেসিডেনসিয়াল স্কুলের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের বাইরে জামগড়া ক্যান্টনমেন্ট, ধামরাই ও ইউসুফ মার্কেট নামে বিভিন্ন স্কুল/ক্যাম্পাস খুলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ করে আসছে।

এসব বন্ধ করে বোর্ডকে জানাতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে চেয়ারম্যানের ভয়ে রাতে দরজায় তালা দিয়ে ঘুমাতে হয়

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার কথা মতো না চললে এলাকার জনসাধারণকে মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন ওই ইউনিয়নে গেলে চর হুগড়া গ্রামের হিরু চাকলাদার কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, দুই ছেলে সিরাজগঞ্জে চাকরি করে। তিনি ও তার স্ত্রী সাহেরা বেগম বাড়িতেই থাকেন। কৃষিকাজ করে কোনো রকম সংসার চালান তিনি। তবে চেয়ারম্যান তোফার কারণে শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না।

চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের ভয়ে রাতে ঘরের এক দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে অন্য দরজা দিয়ে ভেতরে গিয়ে ঘুমাতে হয় তাদের। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে হিরুর। মোটরসাইকেলের শব্দ শুনতে পেলেই দৌড়ে পালাতে হয় বাড়ি থেকে।

তিনি বলেন, হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খানের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম দুলালের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। কিন্তু তার প্রতিহিংসা হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেন। আমরা সমাজে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

শুধু হিরু চাকলাদার নয়, হিরু চালকদারের মতো হুগড়া ইউনিয়নের অনেকেই তোফার ভয়ে আতঙ্কে রাতদিন পার করছেন। গত ৪ নভেম্বর চর হুগড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী বেগুনটাল বাজারে ধানের বীজ ও কাপড় কিনতে গেলে তোফা ও তার লোকজন তাকে (সাইফুলকে) তুলে নিয়ে বেগুনটাল বাজারের একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যানের টর্চার সেল নামে পরিচিত একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে বেধরক মারধর করে সাইফুলের পা ভেঙে দেয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর তিনি গত ৯ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

চর হুগড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তোফার কথা মতো না চলায় তার সঙ্গে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়। যে কারণে তিনি লোকজন নিয়ে আমাকে প্রায় চার ঘণ্টা ক্লাবে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে আমার ডান পা ভেঙে দেয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করলে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

সাইফুলের মেয়ে মমতা বেগম বলেন, ‘আমার বাবার অবস্থা ভাল নয়। মাঝে মধ্যে সম্পূর্ণ শরীর ফুলে যায়। তোফা চেয়ারম্যান আমার বাবাকে বেধড়ক মারধর করেছে। আমরা তোফা চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান জানান, তিনি কাউকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখাননি। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে এ ধরনের সমালোচনা শুরু করেছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-