রাধাকৃষ্ণের গানে বিভ্রান্ত শাওন

পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে চঞ্চল ও শাওনের গাওয়া ‘যুবতী রাধে’ গান নিয়ে চলমান বিতর্কে চরম বিভ্রান্ত এর শিল্পী শাওন। আজ শনিবার দুপুরে এমন মন্তব্যই করলেন তিনি। জানা গেছে, আয়োজকদের কাছ থেকে গানটি গাওয়ার প্রস্তাব পেয়েই রাজি হন তিনি। কারণ, এ গানের প্রথম লাইন `সর্বত মঙ্গল রাধে বিনোদিনী রাই’–এ কথা ও সুর তাঁর সেই ছোটবেলা থেকে শোনা।

শাওন বললেন, ‘আমি শুক্লা সরকারের স্টুডেন্ট। ছোটবেলায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এই গানে অনেক নেচেছি। কৃষ্ণ সেজে নাচতাম, তাই এই গানের কথা মনে আছে। ভেবেছি, ছোটবেলার সেই গানটা এবার গাইব। ইউটিউবে গানটা খুঁজতে গিয়ে ২৫-৩০টি ভার্সন পেলাম। প্রতিটা ভার্সনের কথা একটু এদিক-ওদিক। কিন্তু সুর একই। প্রতিটা ভার্সনের ক্রেডিট লাইনে লেখা, প্রচলিত গান, সংগৃহীত গান—কোথাও কোনো গীতিকার বা সুরকারের নাম লেখা নেই।

সেখানে আমার তো দৈবক্রমেও জানার উপায় নেই, গানটি কোন ব্যান্ড দল কপিরাইট নিয়েছে। আয়োজকের মধ্যে পার্থ বড়ুয়ার মতো একজন শিল্পী আছেন, তিনিও খুঁজে এমন কিছু পাননি।’

এরপর ‘যুবতী রাধে’ গানটি কণ্ঠে তোলার পালা। রেয়াজ করে কণ্ঠে তুললেন শাওন। গাইলেন। শুটিং করলেন। প্রকাশিত হলো। সবাই প্রশংসাও করতে লাগল চঞ্চল ও শাওনের গাওয়া এ গান।

শাওন বললেন, ‘গানটা প্রকাশের কিছু সময় পর কপিরাইট ক্লেইম করে ইউটিউব থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো!

তখনই প্রথম জানলাম, গানটা সরলপুর নামের একটা ব্যান্ডের। এটা হয়তো আমার দীনতা, কারণ আমি দলটার নাম জানতাম না। তাঁদের দাবি, এই গান তাঁদের। কপিরাইট তাদের করা। তাঁরা দাবি করলেন, গানটা তাঁদের লেখা। ওটা জানার পরও শকড হলাম এটা ভেবে, কেন আগে থেকে জানলাম না।

গান প্রকাশের কিছু সময় পর, সরলপুর ব্যান্ডের পুরোনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি।

সেখানে তাঁরা বলেছেন, গানটা তাঁরা ২০০৮ সালে একজন বাউলসাধক এবং সাধন সঙ্গিনীর কাছ থেকে পেয়েছেন। সেটা শুনেও শকড হলাম। ফেসবুকে বিবৃতিতে দেখলাম, তাঁদের লেখা মৌলিক গান। অথচ ভিডিও ইন্টারভিউতে তাঁরা বললেন, ৩০ ভাগ বাউল সাধকের কাছ থেকে পেয়েছেন, ৭০ ভাগ তাঁদের লেখা! এরপর জানতে পারলাম, সুরও নাকি তাঁদের করা! আমি আরও বিভ্রান্ত।

কোনো অনুযোগ-অভিযোগ করছি না। তাঁরা কী বলতে বা বোঝাতে চাইছেন, বুঝতে পারছি না।’

ইউটিউব ‘যুবতী রাধে’ গানের ক্রেডিট অংশে কপিরাইট বিষয়ে কিছু না লেখার বিষয় সরলপুর ব্যান্ডের সদস্য মারজিয়া তুরিন দুদিন আগে কানাডা থেকে বলেন, ‘দ্যাট ওয়াজ আওয়ার মিসটেক। আমরা কখনো ভাবিনি যে গানটি আমরা রিলিজ করার আগে, অ্যালবাম আকারে বের করার আগে এভাবে কেউ করে ফেলবে। আমরা তো আসলে খুব ইয়াং একটা ব্যান্ড। অনেক কিছু জানতাম না। এখন সেগুলোর মাশুল দিচ্ছি আরকি। অনেক কিছু শিখেছি।’

সরলপুর ব্যান্ড সদস্যের কথা শুনে মেহের আফরোজ শাওনের মনে প্রশ্নও জেগেছে। তাঁর মতে, কোন ৩০ ভাগ বাউল সাধকের অংশ, সেটা তাঁরা আলাদা করে বললেন না কেন? শুধু তাই নয়, ইউটিউবে তাঁরা যখন গানটি আপলোড করেছেন, তখন গানটি কপিরাইট রেসট্রিকটেড লেখেননি কেন?

কপিরাইট করা থাকে মানেই ওই গানের রাজা তিনি বা তাঁরা। লিখলেন না কেন? গীতিকার-সুরকারের নামও তাঁরা লেখেননি।

যেখানে সরলপুর ব্যান্ডই তা লেখেনি, সেখানে তিনি বা অন্যরা কোথা থেকে জানবেন বলেও মনে করছেন তিনি।

শাওন জানালেন, সরলপুর ব্যান্ড যে বাউল সাধকের কাছ থেকে গানটি সংগ্রহ করেছে, কৃতিত্ব কেন দিলেন না? তাঁরা যদি দিতেন, অন্য অনেকে তা জানতে পারত। কারণ, এ গানের প্রকৃত মালিক তো একজন বাউল সাধক। একজনের গানের ৩০ ভাগ নিয়ে যদি ৭০ ভাগ অন্য কেউ লিখে দাবি করে তাঁর, সেটার কপিরাইট কীভাবে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এই অভিনয়শিল্পী ও গায়িকার।

‘যুবতী রাধে’ গানটি নিয়ে সরলপুর ব্যান্ড সদস্যদের ফেসবুকে লাইভে কথা বলা এবং গান চুরির অভিযোগ তোলার বিষয়টিতে মর্মাহত হয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন। তাঁর মতে, সরলপুর ব্যান্ড সদস্যরা ফেসবুকে ওভাবে অভিযোগ না করে ফোন, মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মেসেঞ্জারে জানাতে পারতেন।

কারণ, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করা তো অসম্ভব কিছু নয়। শাওন বললেন, ‘আমরা একই জগতের মানুষ। এই গানের সংগীতায়োজক পার্থ দা, তাঁকে খুঁজে বের করাটা কি খুবই কষ্টকর? চঞ্চল চৌধুরী আর আমি শাওনকে খুঁজে বের করে তো তারা বলতে পারত—আপনারা যে গানটা গেয়েছেন, তা আমাদের সরলপুর ব্যান্ডের। কোনো কিছু না করে গানটা হঠাৎ করে ইউটিউব থেকে নামিয়ে ফেলা হলো। ফেসবুকে প্রতিবাদ করা হলো! এসব বিষয় একটু খারাপই লেগেছে। দুঃখজনক। আর কিছু না।’

‘যুবতী রাধে’ গানটি নিজেদের দলের সদস্যের লেখা ও সুর করা দাবি করে মারজিয়া তুরিন তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গানটি আমরা লেখা শুরু করি ২০০৬ বা ২০০৭ সাল থেকে। তখন আমরা কয়েকজন এক দিন সারা রাত পালাগান দেখি। যেখানে রাধাকৃষ্ণ-সম্পর্কিত বিভিন্ন পালাগান হয়েছিল, যা আমাদের খুবই ভালো লাগে এবং মন কাড়ে। তারপর থেকে রাধাকৃষ্ণের গল্পের ওপর নির্ভর করে আমরা গানটি লেখা শুরু করি।

রাধাকৃষ্ণের গল্প থেকে আমরা বিভিন্ন তথ্য-ভাবধারা, শব্দচয়ন সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু কোনো হুবহু কথা আমরা সংগ্রহ করিনি। আমাদের এ গানের সঙ্গে কোথাও কোনো গানের হুবহু মিল নেই। গানটি আমরা সম্পূর্ণরূপে কীর্তন ও লীলাকীর্তনের ওপর নির্ভর করে সুর করেছি এবং সেই ভাবধারা গানটিতে আনার চেষ্টা করেছি।’

এর আগে মারজিয়া তুরিন জানান, ‘যুবতী রাধে’ গানটি তাঁরা ২০১০ সালে ময়মনসিংহ ও শেরপুরে কনসার্টে পরিবেশন করেন। ২০১২ সালে চ্যানেল নাইনে এ গানসহ সাতটি গান আনরিলিজড ট্র্যাক হিসেবে প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চ্যানেলে একইভাবে আনরিলিজড ট্র্যাকগুলো তাঁরা গেয়েছেন। ২০১০ সালে সরলপুর প্রতিষ্ঠা পায়। এ পর্যন্ত ব্যান্ডটি কোনো অ্যালবাম প্রকাশ করেনি।

কপিরাইট নিবন্ধন কর্মকর্তা জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘সরলপুর ব্যান্ড “যুবতী রাধে” গানটি নিজেদের লেখা, সুর করা ও তৈরি হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ জুন কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন নেয়।

কয়েক মাস পর ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল সুমি মির্জা নামের একজন শিল্পী আপত্তি তুলে বলেন, গানটি “মৈমনসিংহ গীতিকা”র “যুবতী রাধে” গানের নকল।

এরপর কয়েকটি শুনানি হয়। তখন সরলপুর ব্যান্ড ২০১২ সালের একটি রেফারেন্স দেয়, যেখানে দেখা যায়, চ্যানেল নাইনের একটি অনুষ্ঠানে তারা গানটি গাওয়ার সময় বলেছে, এই গানের ৩০ পারসেন্ট তাদের সংগ্রহ আর ৭০ পারসেন্ট তাদের রিমেক করা।’

জাফর রাজা এ-ও বললেন, ‘যেহেতু গানটির কপিরাইট ইস্যুতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আমরা তথ্য-উপাত্ত আবার নতুন করে যাচাই-বাছাই করব। এরপর যদি এটি লোকগান হিসেবেই প্রমাণিত হয়, তাহলে যে কেউ তা গাওয়ার অধিকার রাখবে। আর যদি সরলপুর ব্যান্ডের হয়, অধিকার তাদেরই থাকবে।’

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হাতেম আলীর মৃত্যুবার্ষিকীতে গোপালপুরে দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও টাংগাইল-২ (গোপালপুর- ভূয়াপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত হাতেম আলী তালুকদারের ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধায় গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন, টাংগাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, জেলা পরিষদের সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম তালুকদার আরিফ প্রমুখ।

সে সময় গোপালপুর উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলহাজ্ব হাতেম আলী তালুকদারের জন্ম ১৯২৭ সালের ১১ জানুয়ারি। তার পিতা আফসার আলী তালুকদার ও মাতা জামিরুন্নেছা। গোপালপুর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকার রাশমনো হাসপাতালে তিনি সময়মত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন। গোপালপুর পৌরশহরের নন্দনপুর নিজ বাসভবনের দক্ষিণামলয়ে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

আকবরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আকবর মুখ বন্ধ রেখেছিল সবার। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের কাছে আকবরের শেখানো বুলি আওড়ান। তারা জানিয়েছিলেন, ‘রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়নি।’ কিন্তু ঘটনার দিন বিকালে যখন সিসিটিভি ফুটেজে সত্যতা মিলে তখনই ধরা পড়ে আকবরের কুকীর্তি।

ঊর্ধ্বতনদের চাপের মুখে অবশেষে আকবরের সহযোগী পুলিশ সদস্যরা নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতন চালানো হয়েছিলো।

কিন্তু এসআই আকবর বলেছিলো- গণপিটুনির পর রায়হানকে কাস্টঘর থেকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার এই বক্তব্য যখন মিথ্যা প্রমাণিত হয় তখনই গ্রেপ্তার এড়াতে পালায় আকবর।’

তিনি জানান, ‘যখন আকবরসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় তখনই আকবর পালিয়ে যায়। তাকে বলা হয়েছিলো পুলিশ লাইনে থাকতে। কিন্তু সে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ মানেনি।’

বন্দরবাজার ফাঁড়ির অঘোষিত সম্রাট ছিল এস আই আকবর। তার কথাই ছিল শেষ কথা। এ কারণে সব পুলিশ সদস্যই আকবরের কথা মতো চলতেন। আকবর নিজেও সবাইকে মনিটরিং করতো। নানাবিধ দাপট দেখিয়ে ফাঁড়ি শাসন করে সে। এ কারণে তার মতের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ‘টুঁ শব্দ’ করতেন না।

বন্দরবাজার ফাঁড়িতে থাকাকালে আকবর সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজকে টক্কর দিয়েছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর হকার উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডকে কৌশলে বিরোধিতা করেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযান কর্মকাণ্ডকে সে তোয়াক্কা করতো না। বন্দর এলাকাকে তার নিজের মতো করে পরিচালনা করতো।

সিলেটের বন্দরবাজারের ব্যবসায়ীরা নানা সময় হকার উচ্ছেদ সহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হতেন। তারা প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামতেন। আকবর কৌশলে ব্যবসায়ীদের টক্কর দিতেন।

নগরীর লালবাজারের আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রয়েছে ইয়াবা বিকিকিনির অভিযোগও। এসব হোটেল ও মাদক বিক্রেতারা ছিল আকবরের টাকার অন্যতম উৎস।

লালবাজারের এই অসামাজিক কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সুরমা পয়েন্ট সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ বিক্রি নিয়ে তারা পুলিশকে দোষারূপ করেছিলেন। এ কারণে লালবাজারের ব্যবসায়ীদের নিবৃত্ত করতে আকবর নানা নাটকের অবতারণা করেন।

কয়েক মাস আগে চার ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাঁড়িতে। পরে আকবর তাদের ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে এক দোকান কর্মচারীকে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে।

নগরীর সুরমা মার্কেটে দু’টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ দু’টি হোটেলের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ গোয়েন্দা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে ওই দু’টি হোটেলে বেশ কয়েক বার অভিযান চালান। অভিযানকালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারী-পুরুষকে আটকও করেন। কিন্তু অভিযান শেষ হলেই ফের দু’টি হোটেলে তাদের কার্যকলাপ শুরু হয়।

এসআই আকবরের কাছে এ দু’টি হোটেল টাকা আয়ের অন্যতম উৎস। ফলে পুলিশের ডিসি অভিযান চালালেও আকবর গোপনে শেল্টার দিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাতো।

কোতোয়ালি থানার ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আকবরের সম্পর্ক ভালো ছিল। থানার তদারকি না থাকার কারণেই আকবর ফাঁড়িতে তার রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন।

রায়হানের পরিবারসহ বৃহত্তর আখালিয়াবাসী ইতিমধ্যে রায়হান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন- ঊর্ধ্বতনদের সহযোগিতা ছাড়া আকবর পালিয়ে যেতে পারে না। আর ঘটনার চার দিনের মধ্যেও পুলিশের কেউ রায়হানের বাড়িতে যাননি। তাদের এই প্রশ্ন তোলার পর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া রায়হানের বাড়িতে যান। এবং পরিবারকে সান্ত্বনা জানান।

আকবর পালিয়ে যেতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তদন্ত কমিটি। তবে এটি স্পষ্ট হয়েছে রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর আকবরকে হেফাজতে না রাখা ছিল ভুল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভেতরে সবচেয়ে বেশি তোলপাড় হয়েছে। কারণ কোনো পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া হঠাৎ উধাও হতে পারে না। এজন্য দায় এড়াতে পারেন না ঊর্ধ্বতনরাও।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রায়হান হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় সিলেটের পুলিশ লাইনে গিয়েছিল রায়হান। সে পুলিশ লাইনের ক্যান্টিনে বসে নাস্তা করেছে। ওই সময় মোবাইলফোনে বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। কিছু সময় পর আকবর পুলিশ লাইন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।

রায়হানের সঙ্গে  কোম্পানীগঞ্জের এক ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ১১ই অক্টোবর ওই ব্যক্তি সিলেটে ছিলেন। আকবর পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই ব্যক্তিরও মোবাইলফোন বন্ধ রয়েছে। পুলিশের ধারণা- আকবর ঘটনার দিন রাতেই কোম্পানীগঞ্জ এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশও এ নিয়ে তদন্ত করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কয়েকজনকে।

নতুন কর্মসূচি:

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ  থেকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গতকাল বুধবার দুপুরে শেষ হয়েছে। আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার আগেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এলাকাবাসী ও রায়হানের পরিবার।

মঙ্গলবার রাত ১০টায় এক সম্মিলিত বৈঠকে নতুন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ বৃহস্পতিবার পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে রায়হানের জন্য দোয়া মাহফিল ও শনিবার বিকাল ৪টায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন।

রায়হানের স্বজন মো. শওকত  হোসেন জানিয়েছেন, আল্টিমেটামের শেষের পর কঠোর কর্মসূচির কথা ছিল। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তারা আপাতত কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তবে এরপর যদি প্রশাসন জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচির  ঘোষণা আসবে।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, এই আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন। বিচার প্রাপ্তির আন্দোলন। সরকারও এই আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তদন্ত কমিটি: নিহত রায়হানের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্যরা। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি- ক্রাইম অ্যানালাইসিস বিভাগ) মুহাম্মদ আয়ুবের নেতৃত্বে রায়হানের বাড়িতে যান পুলিশ সদর দপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা রায়হানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে তদন্ত কমিটির প্রধান এআইজি মুহাম্মদ আয়ুব সাংবাদিকদের বলেন- ‘এস আই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আর  কেউ সংশ্লিষ্ট আছেন কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্যই আমাদের সিলেট আসা। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই আমরা রায়হানের বাড়িতে এসে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ:

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফাঁড়ি ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ সিলেট। এ সময় রাস্তা অবরোধ করে ফাঁড়িতে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, ঘটনার এতোদিন পরও কেন  কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সেটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের  গ্রেপ্তারের আশ্বাস না দেবে প্রশাসন ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।

(ওয়েছ খছরু, ঘাটাইল ডট কম)/-

স্বামীর সঙ্গে পূজা মণ্ডপে গিয়ে মহাষ্টমীর অঞ্জলি দিলেন মিথিলা

ভারতে কলকাতার একটি পূজা মণ্ডপে গিয়ে মহাষ্টমীর অঞ্জলি দিলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী মিথিলা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন স্বামী চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে আরো ছিলেন আরেক অভিনেত্রী ও তৃণমূল সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান এবং তার স্বামী নিখিল জৈন।

দুই বাংলায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও নুসরাত জাহানের বিয়ের পর এটাই প্রথম পূজা। তাই তো এই পূজাকে ঘিরে কতশত আয়োজন। পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূজার উপহারও।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার সুরুচি সংঘের পূজামণ্ডপে পৌঁছান এই দুই তারকা জুটি।

অষ্টমীর দিন মণ্ডপে গিয়ে ঢাক বাজিয়েছেন অভিনেত্রী মিথিলা। পূজামণ্ডপে সৃজিত-মিথিলা দম্পতির সঙ্গে দেখা মিলছে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহান ও তাঁর স্বামী নিখিল জৈনকে। সেই ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শুভ মহাষ্টমী’ শিরোনামে শেয়ার করেছেন সৃজিত মুখার্জি।

সৃজিত মুখোপাধ্যায় খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি, কালো মাস্ক এবং তার স্ত্রী মিথিলাকে দেখা যায় গাড় ও সাদা পাড়ের শাড়ি পরা অবস্থায়, মুখে ছিল সাদা এবং কালো রঙের মাস্ক। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নুসরাতকেও দেখা যায় জামদানি শাড়ি ও জামদানি ডিজাইনের মাস্ক পরে আরতিতে অংশ নিতে।

এর আগে করোনার বাধা মাড়িয়ে ১৫ আগস্ট বিশেষ অনুমতি নিয়ে সড়কপথে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছেন মিথিলা। মিথিলা পূজা নিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘এটা আমার প্রথম পূজা নয়। গত বছরও দুই-তিন দিন পূজার সময় এখানে ছিলাম। তবে হ্যাঁ, বিয়ের পর এটা আমার প্রথম পূজা।’

মহাষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার পর ঢাক বাজালেন নিখিল জৈন ও সৃজিত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সুরুচি সংঘের মণ্ডপে ঢাক বাজিয়েছেন তারা। বেশ কিছুক্ষণ তারা সেখানে ছিলেন। মহাষ্টমীর পূজা দেখেন নুসরাত ও মিথিলা। পূজায় অংশও নেন তারা।

বাংলাদেশি অভিনেত্রীর বিয়ের প্রথম বছরের পূজা, তাই কলকাতার পূজা দেখা নিয়ে একটু বেশি উৎসাহী ছিলেন মিথিলা।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

১০টি কৌতুক

১।
পর্যটকদের একটা বাস হাইজ্যাক করল কিছু লোক। পর্যটকরা সব ভীত-সন্ত্রস্ত। গেটের কাছে পিস্তল হাতে দাঁড়ানো লোকটি ড্রাইভারের পেছনে বসা পর্যটককে নাম জিজ্ঞেস করল

: আপনার নাম?

: জুলেখা।

: জুলেখা? জুলেখা আমার মায়ের নাম। ওহ মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। ঠিক আছে আপনি নেমে যান। গাড়ি থামিয়ে তাকে নামিয়ে দেয়া হল।

: আপনার নাম?

দ্বিতীয় আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলো সন্ত্রাসী।

: মোকাদ্দেস আলী। তবে লোকজন আদর করে জুলেখা বলে ডাকে।

২।
দুধ বহনকারী গাড়িটা অন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে গেল। দুধে ভেসে গেল রাস্তা। ভিড় জমে গেল।

ভিড়ের মাঝ থেকে অমায়িক চেহারার এক ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে দুধ বহনকারী গাড়ির ড্রাইভারকে বললেন, এজন্য নিশ্চয়ই তোমার মালিক তোমাকে দায়ী করবে। ক্ষতিপূরণ চাইবে?

: জি।

: তুমি তো গরিব। এত টাকা পাবে কোথায়? এক কাজ কর আমি পাঁচ টাকা দিলাম, এখন অন্যদের কাছ থেকে আরো কিছু কিছু নিলে বোধহয় হয়ে যাবে তোমার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কিছু টাকা উঠে গেল। ভিড় কমে গেলে ভদ্রলোকটিও চলে গেলেন।

একজন পথিক আপন মনে বলে উঠল, কে এই ভদ্রলোক?

ড্রাইভার বলল, ‘আমার মালিক।’

৩।
ভোরবেলায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এক পুলিশ অফিসার সে গাড়ির চালককে জানাল যে, সে দিনের প্রথম ‘সিটবেল্ট পরিধানরত গাড়িচালক হিসেবে নিরাপত্তা দিবসে দশ হাজার টাকা পুরস্কার পেতে যাচ্ছে।

পুলিশ অফিসার সাধারণ কৌতূহলে জানতে চাইল: তুমি এই টাকা দিয়ে কী করবে?

চালক চোখ বুজে বলল, ‘এই টাকায় ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে এবার আমি সত্যিকারের একটা লাইসেন্স নেব।’

৪।
এক লোক নতুন গাড়ি কিনেছে কিন্তু কীভাবে বন্ধুদের বলবে বুঝতে পারছে না। তো একদিন বলে বসল—

: বুঝলি পা দুটোর উপর ঘেন্না ধরে গেছে।
: কেন?
: সব সময় এক পা এক্সিলেটরে আর এক পা ব্রেকের ওপর ফেলে রাখতে হয়।

৫।
দুই গাড়ির ড্রাইভার গল্প করছে—
: কী রে, মাঝখানে শুনলাম তোর চাকরি যায় যায় অবস্থা হয়েছিল। তা কী করে সামলে নিলি?
: এ আর কঠিন কী? অ্যাকসিডেন্ট করে গাড়ির দামি উইন্ডশিল্ড ভেঙে ফেললাম।
: কী?
: হ্যাঁ! তারপর বস বলল আগামী তিন বছরে ওই টাকা আমার বেতন থেকে কেটে রাখবে! তিন বছরের জন্য চাকরি পাক্কা।

৬। .
এক লোক নতুন গাড়ি কিনেছে। গাড়ির প্রতি খুব মায়া। এই সময় তার এক বন্ধু এসে গাড়িটা চেয়ে বসল।

: তোর গাড়িটা একটু দিবি?
: ইয়ে মানে ড্রাইভার নাই তো ছুটিতে।
: অসুবিধা নাই আমি একটু একটু চালাতে পারি।

৭।
: মেয়েরা ভালো গাড়ি চালায়, না ছেলেরা?
: অবশ্যই মেয়েরা।
: কেন?
: কারণ ওরা স্বামীর মতো একটা বাজে জিনিস যখন চালাতে পারে, তাহলে গাড়ির মতো অত্যাধুনিক একটা জিনিস কেন ভাল চালাতে পারবে না?

৮।
সদ্য কার অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া একজনের সাথে তার এক বন্ধুর দেখা…

: তোর গাড়ির দুদিকে দু রঙ কেন?
: অ্যাক্সিডেন্টের পর যখন কেস হয় তখন যে মজাটা হয় না! একেক জন একেক রঙের গাড়ির কথা বলে…হে হে!

৯।
প্রফেসর ক্লাস-টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলেন দুই ছাত্রের কাছে। তারা বলল, রাস্তায় গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে গিয়েছিল তাই সময়মমো আসতে পারিনি, স্যার।

প্রফেসর বললেন, আগামী পরশু তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

দুই বন্ধু খুব ভালো প্রস্তুতি নিল পরীক্ষার জন্য।

পরীক্ষার সময় প্রফেসর দু’জনকে দুরুমে বসিয়ে দিলেন প্রশ্নপত্র দিয়ে। প্রশ্ন খুলে তারা দেখল দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

প্রথম প্রশ্নটির নম্বর মাত্র পাঁচ। প্রশ্নটি হল—অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন মিলে কী হয়? দ্বিতীয় প্রশ্নটির নম্বর ৯৫। প্রশ্নটি হল— কোন চাকা পাংচার হয়েছিল?

১০।
বাড়ি ফিরেই এক লোক দেখত পেল তার স্ত্রীর হাতে, মাথায় ব্যান্ডেজ।

সে ছুটে তার কাছে গিয়ে বলল, ‘কী হয়েছে জানতে চাই’।

: গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছি…সকালে ঘরের কিছু কেনাকাটা করতে বেরুচ্ছিলাম, স্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে স্বামী উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘এত বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই, এখন কী অবস্থা বল?’

স্বামীকে তার ব্যাপারে এত চিন্তিত হতে দেখে খুশি হয়ে স্ত্রী বলল— ‘আরে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই, মাথায় দুটো সেলাই পড়েছে আর কব্জি সামান্য একটু মচকে গেছে। অবশ্য ডাক্তার বলেছে….

এবার স্বামী আগের চেয়েও জোরে চিৎকার করে উঠল, ‘আরে তোমার কথা কে জিজ্ঞেস করল? গাড়ির কী অবস্থা সেটা বল!’

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে ভেঙে পড়া বেইলী ব্রিজ পুনঃনির্মাণ, যানচলাচল শুরু

টাঙ্গাইলের বাসাইলের লাঙ্গুলিয়া নদীতে ভেঙে পড়া বেইলী ব্রিজের পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে এই ব্রিজটি দিয়ে যানচলাচল শুরু হয়েছে।

ভেঙে পড়ার  ১৩দিন পর এই ব্রিজটির পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ হলো। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুছ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ব্রিজের দুপাশে মাটি ভরাটের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে যানচলাচল করছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর রাতে বাসাইল-টাঙ্গাইল সড়কের নাকাছিম এলাকায় লাঙ্গুলিয়া নদীতে বালু ভর্তি একটি ড্রাম ট্রাকসহ বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যায়। এতে টাঙ্গাইল সদরের সঙ্গে বাসাইল ও সখীপুরের ৬ লক্ষাধিক মানুষের সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে যানবাহনগুলো ব্রিজটির দু’পাশে রেখে মানুষ যাতায়াত করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাড়িওয়ালার অভিনব পদ্ধতি!

রান্নায় ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন খাগড়াছড়ি শহরের স্থানীয় এক বাড়ির মালিক।

পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ন পুর এলাকায় পাঁচ তলা ভবনের প্রতিটি রান্না ঘরের বাহিরে দেয়ালে লোহার খাঁচা তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। অভিনব এ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলেও ক্ষতি কম হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

বাড়ির মালিক বিল্লাল হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ কমাতেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

বাড়িতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়ারা ঘর ভাড়া একটু বেশি হওয়া সত্যেও নিরাপত্তার এ ব্যবস্থা দেখে ঘর ভাড়া নিয়েছেন বলে জানা যায়।

ভাড়াটিয়া সেলিম মোল্লা বলেন, রান্না ঘরের বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার ব্যবস্থা রয়েছে দেখে আগ্রহী হয়েই এখানে থাকা।

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানিয়েছেন, ঘরের ভেতর সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে প্রাণহানিসহ বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থায় দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানি কমতে পারে। তবে বাহিরে দেয়ালে গ্যাস সিলিন্ডার ঝুলিয়ে রাখা এই প্রথম হওয়ায় এ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা যেতে পারে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লোকমান আটক

টাংগাইলের নাগরপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নের মৃত হযরত আলীর ছেলে লুকিমুদ্দিন লোকমান।

আসামি লোকমান টাংগাইলের মির্জাপুর থানায় ২০১৩ সালে দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই সিরাজুল, এএসআই গোলাপ, এএসআই আনিস, এএসআই রাসেল, এএসআই জহিরসহ সঙ্গীয় ফোর্স শুক্রবার দিবগত রাতে লোকমানকে উপজেলার ভাড়রা গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে।

মির্জাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ২০১৩ সালে ছেলে আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে মামলা করে। পরে তার আচরণে সন্দেহ হলে বাদী আসাদুজ্জামানকে আটক করে থানা পুলিশ। বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনজন খুনিকে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী লোকমানসহ আরো দুজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম চাঁদ জানান, মির্জাপুর থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি লোকমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে আসামিকে টাঙ্গাইল কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলের সাবেক এমপি মতিউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সিলেটের রায়হান হত্যার মামলার মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরতে চেষ্টা অব্যাহত আছে। শীঘ্রই তাকে ধরা হবে। অপরাধ করে কেউ পাড় পাচ্ছে না। পুলিশ কোনও অপরাধ করেও ছাড় পাবে না।

মন্ত্রী শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে ঘাটাইল যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতিকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। অতি শীঘ্রই পুলিশ বাহিনীতে দুটি হেলিকপ্টার প্রদান করবেন। এছাড়াও পুলিশের জন্য আধুনিক হাসপাতালও নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুলিশ যেখানেই অন্যায় করেছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, কোথাও ছাড় দেয়া হয়নি। তাদেরকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যাবার প্রাক্কালে তিনি সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন।

এ সময় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি খান আহমেদ শুভ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেলে মন্ত্রী ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়িতে সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।

সে সময় ঘাটাইলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের বিপুল পরিমাণের নেতাকর্মী রাস্তার দুধারে দাড়িয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মোবাইলে নানা সার্ভিস চালু করে গ্রাহকের টাকা লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র

গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চালু করে টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে। নিউজ এলার্ট, ওয়েলকাম টিউনসহ এমন নানা ধরনের সেবার নামে এ টাকা কেটে নিচ্ছে এক শ্রেণির ভ্যাস (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস) প্রোভাইডার।

মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স পাওয়া পর এসব ভ্যাস প্রতিষ্ঠান মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই সেবাগুলো থেকে প্রাপ্ত অর্থের অংশ মোবাইল অপারেটর, সরকার ও ভ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়ে থাকে। মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক ভ্যাস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের ছয় মাসের কার্যক্রম অনুসন্ধান করেছে বিটিআরসি। সেখানে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

একটি প্রতিষ্ঠান গত আগস্ট মাসে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি গ্রাহকের মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের সেবা চালু করেছে। বিটিআরসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সার্ভিসগুলো চালুর আগে একজন গ্রাহকের কাছ থেকেও তারা সম্মতি নেয়নি। অথচ এই গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘এই ধরনের চুরি বন্ধের জন্য বিটিআরসি সব সময় তত্পর রয়েছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারেও অনুসন্ধান শুরু করব। যাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা মিলবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছি।’

বিটিআরসির ২৪৪তম সভায় ভ্যাস প্রোভাইডারদের এই অপকর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সেখানে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার পক্ষে অনেকে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি এই অবৈধ উপার্জনের যে অংশ মোবাইল অপারেটররা পেয়েছেন তাদের কাছ থেকেও অর্থ ফেরত আনতে হবে।

বৈঠকে ভ্যাস প্রোভাইডারদের এই অপকর্মের জন্য মোবাইল অপারেটরদের দায়ী করে বলা হয়েছে, মোবাইল কোম্পানিগুলো চাইলে এভাবে গ্রাহকের অজান্তে তারা টাকা কেটে নিতে পারত না। তারা কোনোভাবে দায় এড়াতে পারে না। বরং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই টাকা কেটে নেওয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে প্রশাসনিক জরিমানা করার পক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকে।

সক্রিয় শতাধিক ভ্যাস প্রোভাইডারের মধ্যে ‘পার্পল ডিজিট কমিউনিশেন লিমিটেড’ ও ‘দ্য অভিকথাচিত্র লিমিটেড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের গত ছয় মাসের কার্যক্রম অনুসন্ধান করে বিটিআরসি। সেখানে দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে অভিকথাচিত্র ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭২২ জন গ্রাহকের ফোনে ‘ডেইলি নিউজউড২৪’ এর নিউজ এলার্ট ও ‘ঝালমুড়ি ওয়েব পোর্টাল’ সার্ভিস চালু করেছে।

এই গ্রাহকদের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিটিআরসি ৯০ জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছে। ৪২ জনই বলেছেন তাদের কাছ থেকে কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। ১৭ জন ফোন ধরেননি, আর ৩১ জনের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। একজনও বলেননি, তাদের সম্মতি নিয়ে এই সার্ভিসটা চালু করা হয়েছে।

অভিকথাচিত্র শুধু নিউজ এলার্ট দিয়েই ওই মাসে ৪৩ লাখ টাকা আয় করেছে। এর মধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটররা পেয়েছে ২৬ লাখ টাকা আর অভিকথাচিত্র পেয়েছে ১৭ লাখ টাকা। বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের কর্মকর্তারা এই অনুসন্ধান করেন।

একইভাবে পার্পল ডিজিট গত এপ্রিল মাস থেকে ৭৬ হাজার ৮৬০ জন গ্রাহককে দুটি ভ্যাস সার্ভিস দিয়েছে। এর মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে বিটিআরসি। এর মধ্যে ১৭ জন বলেছেন তাদের সম্মতি নিয়েই এটা চালু করেছে। ৪৬ জন বলেছেন তাদের সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২৬ জন ফোন ধরেননি, আর ১১ জনের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। বিটিআরসির কাছে পার্পল ডিজিট স্বীকার করেছে, তারা ‘ইকরা’ সার্ভিস চালু করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করেছে। গ্রাহকদের সম্মতি না নিয়েই এটা তারা করেছে।

জানা গেছে, বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভ্যাস সার্ভিস বন্ধ রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে। এভাবে গ্রাহকদের ঠকানো প্রতারণার শামিল বলে মনে করে বিটিআরসি। জানা গেছে, এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ইতিমধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

এ ব্যাপারে মোবাইল অপারেটর রবির হেড অব রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘ভ্যাস প্রোভাইডারদের লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। তাদের জবাবহিদিতাও বিটিআরসির কাছে। বিটিআরসি লাইসেন্স দেওয়ার পর আমরা তাদের সংযোগ দিতে বাধ্য। তাদের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুযোগও নেই আমাদের। ফলে তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আমরা সার্ভিস দিয়েছি, এর জন্য টাকা পেয়েছি। তারা গ্রাহকের সম্মতি নিয়ে এই সেবাটি চালু করেছেন, নাকি সম্মতি না নিয়ে করেছেন এটা আমাদের জানার কোনো সুযোগ নেই।’

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান আলাপকালে একই কথা বলেছেন। তার মতে, ‘অন্যের অপরাধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ নাগাদ দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৬ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। মোট গ্রাহকের মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক রয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬১ হাজার, রবির গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে ৪৮ লাখ ৪০ হাজার।

(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-