গোপালপুরে বানোয়াট ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষনের অভিযোগে দায়ের করা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে মির্জাপুর ইউনিয়নের কাগুজিআটা মোড়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপজেলার কাগুজিআটা, মোহনপুর, নুঠুরচর, মির্জাপুরসহ দশ গ্রামের নারী ও শিশুসহ সহস্রাধিক গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক ব্যাংকার আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শেখ রাসেল, লাকি আখতার, শেখ ফরিদ, ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক, ইউপি সদস্য আবুল হানিফ প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের এক ব্রিফিং এ গ্রামবাসিরা জানান, ২০১৩ সালে কাগুজিআটা গ্রামের মৃত আনছের আলীর কন্যা বিথী খাতুনের সাথে একই গ্রামের মৃত আঃ সালামের পুত্র শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জের ধরে গত মার্চ মাসে মৌখিক তালাকে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

এমতাবস্থায় শফিকুলের সাথে ঘাটাইল উপজেলার রৌহা গ্রামের এক যুবতীর বিয়ে ঠিক হয়। গত বুধবার এ বিয়ে হবার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের দুদিন আগে গত সোমবার বিকালে বিথী প্রাক্তন স্বামী শফিকুলের বাড়িতে গিয়ে উঠেন।

এ সময় বাড়ির লোকজন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিথীকে ঘরে উঠতে বাধা দেন। ঝগড়াটার এক পর্যায়ে বিথী শারিরীকভাবে লাঞ্জিত হন। পরে গ্রামবাসির সহায়তায় সন্ধ্যা সাতটার পর তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে বাবার বাড়ি নিয়ে মায়ের হেফাজতে দেয়া হয় বলে মানব বন্ধনে উপস্থিতরা জানান।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হানিফ মিয়া জানান, গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ রাত দশটা পর্যন্ত বিথীদের বাড়িতে তালাক ও পুনঃবিবাহ নিয়ে সালিশ করেন। সালিশের একটি ভিডিও করা হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় সালিশ অমিমাংশিত রাখা হয়। রাত দশটার পর গ্রামবাসিরা যার যার বাড়িতে চলে আসেন। পরদিন কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেলের খবর থেকে গ্রামবাসি জানতে পারেন আগের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিথী অপহরণ এবং ধর্ষিত হন।

গ্রামের সাবেক ব্যাংকার আশরাফ আলী, কবীর হোসেন, আমজাদ আলী, আব্দুর রশীদ, রুবী বেগম ও হোসেন আলী জানান, কাবিন ছাড়া বাল্য বিয়ে, খোরপোষ ছাড়াই তিন তালাক প্রদান এবং শফিকুলের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে এ বানোয়াট গণধর্ষনের মামলা হয়। এতে শফিকুলের পরিবারের আপন দুই চাচা ও তিন ভাতিজাকে আসামী করে গত মঙ্গলবার গোপালপুর থানায় গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন মা তাছলিমা বেগম।

গ্রামবাসিরা এ বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার, ভুল তথ্য দিয়ে এক শ্রেণীর মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে অপপ্রচার এবং নিরিহ মানুষকে হয়রানির পায়তারা বন্ধের দাবি জানান।

তবে মামলার বাদী তাছলিমা বেগম জানান, শফিকুলের সাথে তার কন্যা বিথীর কোন বিয়ে হয়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় শফিকুলের বাড়িতেও সে যায়নি। মোহনপুর বাজার থেকে ফেরার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ব্রীজপার থেকে আসামীরা তাকে অপহরণ করে এবং বাড়িতে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিথী এখন টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। পরশু দিন তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। তিনি পাঁচজনকে আসামী করে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমণ আইনে মামলা করেছেন। ধর্ষকরা সবাই ছাত্রলীগ করেন বলে জানান তিনি।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার ঘাটাইল ডট কমকে জানান, ওই দিন রাত দশটায় গ্রামবাসি তাকে জানান, ওই দম্পতির তালাক ও পুনঃবিয়ে নিয়ে তাছলিমা বেগমের বাড়িতে বিথীর উপস্থিতিতে সালিশী বৈঠক করার খবর তাকে জানানো হয়। পরদিন বিষয়টি মিমাংসা করার কথা। কিন্তু পরদিন সকালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যালেনের খবরে জানতে পারেন বিথী গণর্ধষণের শিকার হয়েছেন। খবরটি শুনে তিনি অবাক হয়েছেন।

গোপালপুর থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান, ভিক্টিমের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে গত ২০ অক্টোবর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত করছেন। মেডিক্যাল রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা এটি গণধর্ষণ কিনা।

গ্রামবাসির অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সবকিছু মাথায় নিয়েই তদন্ত হচ্ছে। দুতিনদিনের মধ্যেইে বিষয়টি পরিস্কার হবে বলে ঘাটাইল ডট কমকে জানান তিনি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, ঘরে ঘরে পাঠাগার’- এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকায় বংশাই সাহিত্য সংসদে বঙ্গবন্ধু চর্চায় ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঘাটাইলের উপজেলা পরিষদের সামনে বংশাই সাহিত্য সংসদের কার্যালয়ে এই ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ এর শুভ উদ্বোধন করেন স্পাইডার গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক জমির উদ্দিন মিলন।

বংশাই সাহিত্য সংসদের সভাপতি হায়দার রাহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানীড় এর পরিচালক মোঃ লুৎফর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছায়ানীড় এর প্রশাসনিক পরিচালক শাহানাজ রহমান, সঙ্গীত শিল্পী রুহুল আমিন খোকন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিরন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ঘাটাইল শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কমের উপদেষ্টা মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু কর্নারে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর শতাধিক বই, ডকুমেন্টারি, ভিডিওসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরাট সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়েছে, যা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে জানান এর প্রতিষ্ঠাতা স্কুল শিক্ষক বেদেনা খাতুন।

বঙ্গবন্ধু কর্নারের প্রতিষ্ঠাতা স্কুল শিক্ষক বেদেনা খাতুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ওপর লিখিত বইগুলো পড়ে সাধারণ মানুষজন বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে জানতে এবং তার কর্ম ও জীবনাদর্শ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর চেতনা বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকে চর্চার মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে আমাদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরও জানতে হবে। এ জন্যই এই বঙ্গবন্ধু কর্নারের অবতারণা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছায়ানীড় এর পরিচালক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তা আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারি, তা হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়।

স্পাইডার গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক জমির উদ্দিন মিলন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারলে বাংলাদেশের ইতিহাসকে জানা হয়ে যায়। আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে হবে, স্বাধীনতার জন্যে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য আত্মদানকে জানাতে হবে, শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাই প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করতে পারলে ঐ লক্ষ্য অর্জন তরান্বিত হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

চলাচলের অনুপযোগী দেলদুয়ারের জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়ক

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কে খানা-খন্দকে ভরপুর। এতে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও হাজার হাজার পথচারীদের। সড়কটি খানা-খন্দক হওয়ায় দ্বিগুন সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে হয় এলাকাবাসীর। এতে চরম দুর্ভোগও পোহাতে হয় পথচারীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ এ সড়কে নিম্নমানের কাজ করায় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত বন্যায় সড়কে পানি উঠায় দুই স্থানে ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্থানীয়ারা। তবে সড়কটির বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি দেলদুয়ার উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগন।

স্থানীয়রা জানান, দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া থেকে কান্দাপাড়া, নান্দুরিয়া, গড়াসিন, গইজাবাড়ি হয়ে ছিলিমপুর পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। সড়কটির বেশির ভাগ অংশে খানাখন্দকে ভরপুর। গত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কটির দুইস্থানে ভেঙ্গে যায়। পরে স্থানীয়রা কিছু ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগি করলেও খানা খন্দকের কারণে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হয় পথচারীদের। খানাখন্দকের কারনে প্রচুর পরিমান ঝাঁকুনি লাগে যানবাহনে চলাচল করা যাত্রীদের। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় তাদের। অসুস্থ রোগিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময়ও কষ্টের শিকার হতে হয়। এছাড়াও গন্তব্যে পৌছাতে দ্বিগুন সময় লাগে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কের বেশিরভাগ অংশের উপরের পিচের কার্পেটিং উঠে গিয়েছে। এছাড়াও সড়কে খানাখন্দকে ভরপুর। সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে রয়েছে। এতে ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়াও সড়কটির পাশে পিচের কার্পেটিং ও ইটের সলিং ভেঙ্গে পড়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সড়কটির উভয় পাশে বনজ গাছ লাগানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী আমির মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দেড় বছর আগে কোন রকম সংস্কার হয়েছিলো। নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই সড়ক দিয়ে আমাদের খুব কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়।’

অপরজন আব্দুল কালাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ হলেও স্থায়ী উন্নয়ন না হওয়ায় দেড় বছরের মাথায় সড়কটির খানাখন্দকে ভরে গেছে। এতে গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েরা সড়কে চলাচলের সময় হোচট খেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও গর্তে পড়ে মোটরসাইকেলের আরোহীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’

মোতালেব মিয়া বলেন, ‘সড়কটি নিম্নমানের কাজ হলেও কর্তৃপক্ষ বা তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সঠিকভাবে বুঝে নেয়নি। যে কারনে অল্প দিনে আবার খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’

সিএনজি চালক মো. তোফাজ্জল বলেন, ‘প্রচুর ঝাকি লাগায় যাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে যেতে চায় না। এছাড়াও গন্তব্যে পৌছাতে দ্বিগুন সময় লাগে। অন্য দিকে সড়কে গর্ত থাকায় কোন রোগিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় রোগির খুব কষ্ট হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার দাবি করছি।’

ট্রাক চালক মো. আজাদ বলেন, ‘এই সড়কে খালি ট্রাক নিতে তেমন বেগ পোহাতে হয় না। তবে লোড গাড়ি এই ভাঙ্গা সড়কে নিতে খুব বেগ পোহাতে হয়। এই সড়কে চলাচলের সময় চিন্তায় থাকি কখন বুঝি ট্রাকের চাকা গর্তে ডেবে গিয়ে আটকা পড়বে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বারেক মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি আনুমানিক দেড় দুই বছর আগে কোন রকম রিপেয়ারিং করা হয়েছিলো। এতে এক বছর পড়েই সড়কটিতে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত বন্যায় সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে গিয়েছিলো।’

আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘সড়কটি কাজ নয় ছয় করায় দেড় বছরের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের আবার খানাখন্দকে ভরে গিয়েছে। মুল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে অন্য ঠিকাদার কাজ করায় নি¤œমানের কাজ হয়েছিলো। সড়কটি সংস্কার ব্যয় ও কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি করেছিলো তা এলজিইডি অফিস থেকে বলতে পারবে। নতুনে সড়কটি পুনঃনির্মানের টেন্ডার হয়েছে। আশা করি ডিসেম্বর না হলেও আগামী জানুয়ারি মাস থেকে কাজটি শুরু করবে।’

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, সড়কটি খানাখন্দকে ভরপুর। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ওই সড়কের কাজ হয়েছিলো। সে জন্য ওই সড়কের পূর্বের কোন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে জানতে পেরেছি ওই সড়কটির টেন্ডার হয়েছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করা হবে।’

অফিসে গিয়ে দেলদুয়ার এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। ওই সড়কটি বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই, আপনি অফিসে উপসহকারি প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন।’

অফিসে উপসহকারি প্রকৌশলী তোরাপ আলীকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে সাইডে আছি। আমার কাছে ওই সড়কের তেমন কোন তথ্য নেই। আপনি হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন।’
হিসাব রক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ওই সড়কের কাজ সর্বশেষ কত দিন আগে হয়েছে, বরাদ্দ কত ছিলো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে ছিলো তা সঠিক আমি বলতে পারবো না। কাগজ পত্র দেখে বলতে গেলেও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। আর ওই সময় টুকু আমার কাছে নেই। কারণ গোডাউনে অনেক কাগজ পত্র জমা আছে। সেখান থেকে খুঁজে বের করা খুব কষ্টকর।’

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা আক্রান্ত মির্জাপুরের ইউএনও

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

গতকাল (২২ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম। ইউএনও তার সরকারি বাস ভবনে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, ইউএনও আবদুল মালেক ১৯ অক্টোবর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ২০ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নমুনা ঢাকার আইপিএইচ ল্যাবে পাঠানো হয়। ২১ অক্টোবর তার করোনা পজেটিভ আসে।

গত ৭ এপ্রিল মির্জাপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া গ্রামে। সেদিন থেকেই ইউএনও ছুটে বেড়ান বিভিন্ন এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি বাড়ি। তাছাড়া উপজেলা পরিষদের সকল প্রকার মিটিং উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে তার অংশগ্রহন ছিল নিয়মিত। তিনি তার অফিসে প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে দেখা করা কথা বলা এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত হয়েছেন।

ইতিপূর্বেও তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। সর্বশেষ কয়েকদিন পুর্বে তার করোনা উপস্বর্গ দেখা দিলে ১৯ অক্টোবর নমুনা দেন এবং ২১ অক্টোবর করোনা পজেটিব আসে ইউএনও আবদুল মালেকের।

ইউএনও আবদুল মালেকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন এখন তার একটু একটু শরীর ব্যাথা এবং অল্প জ্বর আছে। তিনি এখন মির্জাপুরে তার সরকারি বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মহাবিপন্ন তালিকার লজ্জাবতী বানর এখন মধুপুর বনাঞ্চলে

সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের বিলুপ্তপ্রায় লজ্জাবতী বানর এখন টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বিচরণ করছে। পত্রঝরা গজারি বা শালবনে এর অস্তিত্ব মেলায় বন্যপ্রাণী বিশারদরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মধুপুর জাতীয় সদর উদ্যান রেঞ্জের লহুরিয়া বিটের গভীর জঙ্গলে এক সৌখিন ভিডিওগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে মহাবিপন্ন তালিকার এ প্রাণী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটির সচিত্র খবর ভাইরাল হয়ে যায়।

মধুপুর পৌরশহরে সৌখিন ভিডিওগ্রাফার আব্দুর রহমান রুপম জানান, নিজস্ব অনলাইন চ্যানেল ‘ভয়েস অব মধুপুর’ এ প্রচারে জন্য বানর ও হনুমানের ওপর একটি ডকুমেন্টেশন নির্মাণ করছেন। এ ডকুমেন্টশনের শুটিং করার সময় ওই বনবিটের বাঁশঝাড়ে লজ্জাবতী বানরকে দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বনকর্মীরাও সেখানে হাজির হন। তারা বিরল প্রজাতির এ বন্য প্রাণী অবলোকন করে বিস্মিত হন।

দোখলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, মধুপুর বনাঞ্চলে হরিণ, বাঘডাস, বনবেড়াল, খরগোশ, বনমুরগি, বানর, হনুমানসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা হলেও কখনো লজ্জাবতী বানর দেখা যায়নি।

মধুপুরের পাহাড়জুড়ে এখন কলা চাষ হয়। অনেক সময় খাদ্য সংকট হলে ক্ষুধার্ত বানর ও হনুমান খাবারের লোভে কলার ট্রাকে চড়ে বসে। সেসব ট্রাক কলার চালান নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে থাকে। এভাবে কলার ট্রাকের সাথে বানরহনুমান বিভিন্ন স্থানে হিজরত করে।

একইভাবে হয়তো সিলেট থেকে কোন অনাহারী লজ্জাবতী বানর ট্রাকে চড়ে মধুপুর এসেছে। তারপর কোন না কোনভাবে সে মধুপুরের গজারি বনে আশ্রয় নিয়েছে। কারণ লজ্জাবতী বানর শালবনের প্রাণী নয়।

তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক এবং আইইউসিএনের বানর বিশেষজ্ঞদলের সদস্য তানভীর আহমেদ জানান, বিশ্বে প্রাইমেট বর্গের ৭৯ গোত্রের ৫০৪ প্রজাতির বানর রয়েছে। তবে বাংলাদেশে রয়েছে ১০ প্রজাতির বানর-হনুমান। এর ৬ প্রজাতি বিপদগ্রস্ত তালিকার। আর লরিসিডি পরিবারের লজ্জাবতী বানর মহাসংকটাপন্ন। এটি নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের। লাজুক স্বভাবের বলে এর নাম লজ্জাবতী বানর। এটি সাধারণত দৈর্ঘ্যে ২৬ থেকে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১ থেকে ২ কেজির হয়ে থাকে। এর মাথা গোলাকার, মুখ চ্যাপ্টা, মায়াবী চোখ দুটো বেশ বড়। তবে কান ও লেজ ছোট। শরীর ঘন ময়লাটে সাদা-বাদামী লোমে ঢাকা। মাথার ওপর হতে গাঢ় রংয়ের দাগ পিঠ বেয়ে নিচে নেমে গেছে। এরা একাকী এবং নীরবে থাকতে পছন্দ করে। সারা দিন গাছের উঁচু কোটরে অথবা পাতা ভরা ঘন ডালের আঁধারে ঘুমিয়ে কাটায়। সন্ধ্যার পর একা বা জোড়ায় খাবারের সন্ধানে নামে। এরা বাঁচে বড়জোর ২০ বছর। বছরে একবার একটি মাত্র বাচ্চা প্রসব করে। চিরসবুজ ও বৃষ্টিপাতপূর্ণ ঘন বন বা বাঁশঝাড় এদের খুব পছন্দ।

বর্তমানে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে। দশ বছর আগে চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে এদের দেখা গেছে বলে চট্টগ্রাম বনগবেষণা কেন্দ্র দাবি করেন।

বানর বিশেষজ্ঞরা জানান, পোকামাকড়, ছোটফলমূল, গাছের নরম বাকল এবং জিগার আঠালো খাবার এদের খুব পছন্দের। ফুলফলের পরাগায়নে এদের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত দুই দশকে এদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। দেখতে খুব সুন্দর বলে আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে এর চাহিদা বেশি।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, চীন, কম্পোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে এদের দেখা মেলে। লজ্জাবতী বানরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা বিষাক্ত প্রাণী। এরা রেগে গেলে আত্মরক্ষার জন্য গ্রন্থিথলি থেকে মুখে বিষ আনে এবং শত্রুকে কামড়ে দেয়। এর কামড়ে বিষাক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ব্যয়বহুল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বানরবিদ ড.ফরিদ আহসান ১৯৭৯ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত লজ্জাবতী বানর নিয়ে গবেষণা করেন।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার গবেষণা পত্র থেকে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বনবিভাগের শেরপুরের বালিজুড়ি রেঞ্জের গজারি বনে লজ্জাবতী বানর রয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালে এখানকার বন লজ্জাবতী বানর শূন্য হয়ে যায় বলে এক বন বিভাগীয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

সাবেক বিভাগীয় বনকর্মকর্তা শামসুল হক জানান, ব্যাপকহারে প্রাকৃতিক বন উজাড়, খাদ্যাভাব, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার, বিদেশি গাছের বনায়ন এবং বনভূমি জবরদখলের ফলে লজ্জাবতী বানরসহ বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, বছর দেড়েক যাবৎ এ লজ্জাবতী বানরটি মধুপুর বনে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে। অতিথি হিসাবে এর আগমন। ঠিক কখন, কিভাবে এটি মধুপুর বনাঞ্চলে এসেছে তা বলা যাচ্ছেনা।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরুল হক জানান, মধুপুর বনাঞ্চলে লজ্জাবতী বানরের বসবাসের কোন ইতিহাস নেই। এটি পুরোটাই চিরহরিৎ বনের প্রাণী। শুস্ক মৌসুমে মধুপুর বনাঞ্চল পাতাশূণ্য হয়ে গেলে সাধারণ বানর-হনুমানের তখন খাবার সংকট চলে। এখানে লজ্জাবতী বানরের টিকে থাকা খুবই কঠিন।

(জয়নাল আবেদীন, ঘাটাইল ডট কম)/-