পুঁজির অভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প করোনা ও বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ার ফলে লক্ষাধিক তাঁত শ্রমিক ও চার হাজারের বেশি তাঁত মালিক কার্যত বেকার হয়ে পড়েছে।

বাতাঁবো’র ঋণ সহায়তা না পাওয়ায় পুঁজির অভাবে ক্ষুদ্র ও প্রন্তিক তাঁত মালিকরা শাড়ি উৎপাদনে যেতে পারছে না। অনেকে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের(বতাঁবো) দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেন্টার রয়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার গর্বের বস্তু। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শাড়ির পরিচিতি বিশ্ব জুড়ে। এক সময় বাংলাদেশের খ্যাতি ও গৌরব ছিল মসলিন এবং জামদানির জন্য।

এর মধ্যে জামদানি টিকে থাকলেও মসলিন ইতিহাসের পাতায় বন্দি। তবে মসলিন ও জামদানির পর দেশীয় বস্ত্র খাতে টাঙ্গাইল শাড়ি নতুনমাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা, বুনন ও রঙের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। সাধ্যের মধ্যে দাম আর বাহারি কারুকার্য খচিত হওয়ায় টাঙ্গাইল শাড়ি সব সময় রমণীদের পছন্দের শীর্ষে।

ফলে টাঙ্গাইল শাড়ি দেশের সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এমনকি ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাপানেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে তাঁতশিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।

স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখা এ শিল্পের মূল সমস্যা মূলধন ও বাজারজাত। এছাড়া পৃথক তাঁতশিল্প এলাকা ও তাঁতিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা জরুরি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেন্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির এক হাজার ৮৮৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে।

এসব তাঁতের চার হাজার ১৫১জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের অধীনে এক লাখ তিন হাজার ২০৬জন তাঁত শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এরমধ্যে ৩৪ হাজার ৪০২জন নারী এবং ৬৮ হাজার ৮০৪জন পুরুষ।

বাতাঁবো নিয়ন্ত্রিত জেলার দুটি বেসিক সেন্টার সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করলেও টাঙ্গাইল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ আর্টিজেন্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় তাঁতের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক।

বাতাঁবো’র বেসিক সেন্টার শুধুমাত্র তাদের সমিতির সদস্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতি ও তাঁত সংখ্যার পরিসংখ্যান দিয়ে থাকে তাদের সমিতির বাইরেও তাঁত ও তাঁতি রয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলাবাড়ী, ভরবাড়ী, টেঙ্গুরিয়া, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, দড়িখশিল্লা, তেজপুর, কাজীবাড়ী, দত্তগ্রাম,

সহদেবপুর; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী; টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া, চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি এলাকায় তাঁতিদের সংখ্যা বেশি।

বাতাঁবো’র স্থানীয় বেসিক সেন্টারের কর্মকর্তা, তাঁত মালিক, তাঁত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, একটি তাঁতে ন্যূনতম তিনজন নারী-পুরুষ প্রত্যক্ষভাবে শ্রম দিয়ে থাকেন।

একজন তাঁতে কাপড় বুনে, একজন চড়কায় কাপড় বুননের সুতা(নলি বা ছিটা) কাটেন, একজন কাপড়ের নকশার সুতা কটেন(ড্রপ কাটা)। এছাড়া সুতা রঙ করা, শুকানো, পাটিকরা, তানার সুতা কাটা, ড্রাম থেকে ভিমে সুতা পেঁচানো, তানা সাজানো, মালা বা

নকশার ডিজাইন তোলা, কাপড় ভাঁজ করা, পেটি করা এবং বাজারজাত ও আনা-নেওয়ার জন্যও শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

অধিকাংশ ক্ষুদ্র তাঁত মালিক নিজেরা প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রম দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্রম দেন। তাঁত শিল্পের শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে মজুরি দেওয়া হয়।

তাদের সাথে কথা বলে আরও জানাগেছে, টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে শ্রম দেওয়া তাঁতিদের মধ্যে প্রায় ৫০শতাংশ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুড়িগ্রাম ইত্যাদি জেলার বাসিন্দা।

করোনার কারণে চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ঘোষণায় জেলার সকল তাঁত ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে এক লাখ তিন হাজার ২০৬জন তাঁত শ্রমিক এবং চার হাজার ১৫১জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিক বেকার হয়ে পড়েন।

এরই মাঝে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা তাঁতশিল্পকে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে। সেই বেকারত্ব এখনও বিদ্যমান। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রণোদনার ঘোষণা দিলেও তাঁতিরা তা পায়নি।

কোন কোন তাঁত মালিক চড়াসুদে টাকা নিয়ে সীমিত আকারে তাঁত ফ্যাক্টরী চালু করার চেষ্টা করলেও প্রকৃতার্থে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। একদিকে মহাজনের চড়া সুদ অন্যদিকে উৎপাদিত শাড়ি বিক্রি করতে না পারায় তারা মারাত্মক ক্রান্তিকাল পাড় করছে।

তারমধ্যে ‘মরার উপর খারার ঘা’ হিসেবে গত সেপ্টেম্বর থেকে বেসিক সেন্টারের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখানে পৃথক কোন তাঁতপল্লী বা তাঁতশিল্প এলাকা নেই। তাঁতিরা যার যার বাড়ি বা বাড়ির আশপাশে ছোট ছোট ফ্যাক্টরী করে শাড়ি উৎপাদন করছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির বাজারজাতই তাঁতিদের মূল সমস্যা। জেলা শহরের বাজিতপুর, করটিয়া ও বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপাড়ে কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে কাপড়ের হাট রয়েছে। এসব হাট করোনাকালে বন্ধ হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি খোলা হয়নি।

তাঁতশিল্পে উৎপাদন শুরু না হওয়ায় করোনা মহামারী শুরুর আগে উৎপাদিত শাড়ি নিয়ে বর্তমানে স্বল্প পরিসরে ওইসব হাট চলছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বাতাঁবো’র তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে কালিহাতী বেসিক সেন্টারের আওতায় মাত্র ২৫জন তাঁতির মাঝে ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই ঋণের দুই লাখ ১৯ হাজার টাকা তাঁতিরা পরিশোধ করেছে।

এছাড়া ‘ক্ষুদ্র ঋণ’ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৬৯৫জন তাঁতির মাঝে তিন কোটি ৮৯ লাখ তিন হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এক হাজার ৬৬জন তাঁতি তিন কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধ করেছে।

টাঙ্গাইল সদর বেসিক সেন্টারের আওতায় ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পে ১২৩জন তাঁতির মাঝে এক কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

এরমধ্যে চার লাখ ৭ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে দুই হাজার ১২৮জন তাঁতির মাঝে চার কোটি ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চার কোটি ৭ হাজার চাঁকা আদায় হয়েছে।

করোনার নিষেধাজ্ঞা ও বন্যার পর ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পটি চালু রেখে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের অর্থ ব্যাংকে জমা থাকলেও সমিতি ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ

আদায়ে প্রত্যাশিত হার ৬০% পুরণ না হওয়ায়র তাঁতিদের মাঝে ঋণ বিতরণ এক প্রকার আটকে আছে। ফলে তাঁতিরা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা চালু করার চেষ্টা করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, তাঁত ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জীবিকার প্রয়োজনে ছোটখাট ব্যবসা, ভ্যান-রিকশা ও কুলি-মজদুরী করছেন।

তাঁত মালিকরা জানায়, করোনার পর দীর্ঘস্থায়ী বন্যা তাঁতশিল্পকে পথে বসিয়েছে। পুঁজি হারিয়ে অনেকে পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাঁত বোর্ডের ঋণ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার মন্তব্য করে একাধিক তাঁত মালিক জানান, বেসিক সেন্টারের লোকজন আইনের নানা শর্ত দেখিয়ে তাঁতিদের ঋণ দিচ্ছেনা।

বাধ্য হয়ে কোন কোন তাঁত মালিক মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ফ্যাক্টরী চালু করার চেষ্টা করছেন এবং তারা সুদের বোঝা টানতে টানতে এক সময় তাঁত বিক্রি করতেও বাধ্য হবেন।

কালিহাতীর নাগবাড়ী ইউনিয়নের ভরবাড়ি গ্রামের মরহুম আমজাদ হোসেনের ছেলে মো. সাখাওয়াত হোসেন করোনা শুরু হওয়ার আগে ৩৫টি তাঁতের মালিক ছিলেন। তিনি জানান, করোনাকালে জমাকৃত শাড়ি কমদামে বিক্রি করে শ্রমিকদের খরচ মিটিয়েছেন।

পরে তাঁত বিক্রি করে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করেছেন। তাঁত বোর্ডের ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় তিনি বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে বর্তমানে বল্লা বাজারে কাঁচামালের (শাকসবজি) ব্যবসা করছেন।

একই এলাকার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে তাঁত শ্রমিক আব্দুল গফুর জানান, করোনাকালে তাঁত ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাঁত মালিক কিছুদিন ধারদেনা দিয়েছেন এখন তারই অবস্থা শোচনীয়।

বাধ্য হয়ে শাড়ি বুনন ছেড়ে তিনিও কাঁচামালের(শাকসবজি) ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন। একই অবস্থা বল্লা গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে আলমগীর হোসেনের। তিনি ১৬টি তাঁতের মালিক ছিলেন এখন বেকার।

একই গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে আব্দুল হামিদের ১১টি তাঁত ছিল। করোনা ও বন্যার কারণে ৫টি বিক্রি করে দিয়েছেন। মহাজনের কাছ থেকে চড়াসুদে টাকা নিয়ে সুতা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ৬টি তাঁত চালু করার চেষ্টা করছেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনাকালে ফ্যাক্টরী বন্ধ রাখায় তাঁতি প্রতি তাঁতে সপ্তাহে চার হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

করোনাকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এনে তিনি আড়াইশ’ শ্রমিকর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তাঁতবোর্ড তাঁতিদের জন্য করোনা ও বন্যায় কিছুই করেনি। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় তাঁত ফ্যাক্টরীতে পানি এসে সব নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে পুঁজির অভাবে তাঁত মালিকরা ফ্যাক্টরী চালু করতে পারছেন না।

বাতাঁবো’র ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের টাকা বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসারের অ্যাকাউন্টে ব্যাংকে থাকলেও নানা অজুহাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছেনা। সরকার করোনাকালে সকল ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করে দেয়।

অথচ বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার ক্ষুদ্র ঋণের ৬০% আদায় না হলে তাঁতিদের ঋণ দেওয়া যাবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার কারণে সব তাঁত ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক এবং ছোট ছোট তাঁত ফ্যাক্টরী মালিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

চলতি মূলধনের অভাবে ফ্যাক্টরী মালিকরা তাঁত চালু করতে পারছেনা। তাঁত বোর্ডের ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় তাঁতিদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন তাঁত শ্রমিক সহ সকল শ্রমিকদের মাঝে তিনি ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন।

তিনিও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সহজ শর্তে তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, করোনাকালে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে তারা তাঁত শ্রমিকদের কিছু কিছু ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন।

তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। তাঁত শিল্পে কোন প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের সাম্প্রতিক সংকট কাটাতে চলতি মূলধন সরবরাহ করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফ্যাক্টরী মালিকরা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

টাঙ্গাইল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ আর্টিজেন্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেডের সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম জানান, বাতাঁবো’র বেসিক সেন্টারের কর্মকর্তারা তাঁতিদের নয় নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কর্মরত।

তাঁতিদের সুখ-দুঃখের খবর তারা রাখেন না। তাঁতিদের সঠিক পরিসংখ্যানও তাদের কাছে নেই যা আছে তা হলো- সমিতির সদস্য সংখ্যা। জেলায় প্রায় দেড় লাখ তাঁত রয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় সঠিক পরিসংখ্যান তারা দিতে পারছেন না।

বাতাঁবো’র কালিহাতী বেসিক সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে জেলার তাঁত শিল্পে ধস দেখা দিয়েছে। তাঁতিরা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা।

বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁত ফ্যাক্টরীর মালকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাঁতবোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

তবে যেসব সমিতিতে দেয় ক্ষুদ্রঋণের টাকা ৬০শতাংশ আদায় হয়নি সেসব সমিতিতে ঋণ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে যারা ঋণ পরিশোধ করেছেন তাদেরকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি বাতাঁবো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া ৭ হাজার ৬০০ তাঁত শ্রমিকের পরিবারের মাঝে তিনি উপজেলা পরিষদের সহায়তায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁতিরা সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। তাঁত শিল্পের সংকট মোকাবেলায় তিনি বাতাঁবো’র ‘চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় তাঁতিদের ঋণ দিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে ১২৩জন তাঁতির মাঝে এক কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস: দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও করনীয়

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেশে চতুর্থবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সড়ক সচেতনতা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। সড়ককে নিরাপদ করার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়। এদিন জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের পাশাপাশি জাহানারা কাঞ্চনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীও পালিত হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে কম-বেশি ২০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থা। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দুর্ঘটনা কমাতে সবারই রয়েছে নিজস্ব প্রকল্প কর্মসূচি। কেউ সড়ক বানালে, কেউ বানায় ফুটপাত। উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, ফুটওভারব্রিজ, বাস বে কিংবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি— অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পের শেষ নেই।

শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা, যানজট হ্রাসের জন্যও রয়েছে অসংখ্য প্রকল্প, কর্মসূচি ও সুপারিশ। তবে এসবে কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি, ঘর ছেড়ে রাস্তায় বের হলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। দুর্ঘটনা, যানজট, হয়রানিসহ নানা রকম বিশৃঙ্খলা নিয়েই আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস।

সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০১৮ সালের আগস্টে ২০টি নির্দেশনা দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে বাস চলাচলের সময় দরজা বন্ধ রাখা, স্টপেজ ছাড়া ওঠানো বন্ধ, চালক ও সহকারীর পরিচয়পত্র প্রদর্শন, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক, ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাসের আশপাশে রাস্তা পারাপার বন্ধ রাখা, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোকে দ্রুত ধ্বংস করা। দুই বছর পর এসে চালক ও সহকারীর পরিচয়পত্র প্রদর্শন, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক ছাড়া আর কোনো নির্দেশনাই বাস্তবায়ন হয়নি।

সড়ক আইন বাস্তবায়ন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১ দফা সুপারিশ, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ডসহ অসংখ্য উদ্যোগ এসেছে সড়ক খাতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আনতে। যদিও এসব উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেছে সামান্যই।

সড়ক নিরাপত্তায় লিডিং অর্গানাইজেশন হিসেবে কাজ করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। বিভাগটির পাঁচটি সংস্থার মধ্যে তিনটি সংস্থা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। সড়ক পরিবহনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—মোটা দাগে এ তিনটি প্রধান কাজ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।

তবে সংস্থাটির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার বদলে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগই বেশি। আনফিট গাড়িকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি, অদক্ষ চালককে লাইসেন্স দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত সংস্থাটি।

অন্যদিকে দেশের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি ও সেগুলো চলাচল উপযোগী রাখার দায়িত্ব এ সংস্থাটির।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার তথ্য বলছে, বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামোর মান বিশ্বে একেবারে তলানিতে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ সড়ক অবকাঠামো কেবল নেপালের। দেশের সর্বত্র ভাঙাচোরা সড়ক, ভুল নকশা, ভুল পরিকল্পনায় নির্মাণ করা সড়ক-মহাসড়কের দায় কোনোভাবেই সওজ অধিদপ্তর এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকাগুলোয় নিরাপদ চলাচল ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এ সম্পর্কিত উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ)। তবে এখনো বলতে গেলে কাগুজে সংস্থার মতোই রয়ে গেছে ডিটিসিএ।

মহাসড়ক বিভাগের এ তিন সংস্থার বাইরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পুলিশের একাধিক বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সড়ক নিরাপত্তার কাজে সম্পৃক্ত।

দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, নকশাগত ত্রুটি, প্রয়োজনীয় ফুটপাত না থাকা, সড়কের পাশে হাটবাজার গড়ে তোলা, অবৈধ দখল, অবৈধ পার্কিং, আনফিট গাড়ি, অদক্ষ চালক—দেশের সড়ক পরিবহন খাতে সমস্যার যেন শেষ নেই।

এসবের দায় নিয়ন্ত্রক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর ওপরই চাপাচ্ছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তার মতে, এসব সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে বলেই এ খাতটিতে আজকে এত সমস্যা। এজন্য তিনি সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে গত পাঁচ বছরে দেশে ২৬ হাজার ৯০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ হাজার ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮২ হাজার ৭৫৮ জন। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৬৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৬৪২ জন নিহত ও  ২১৮৫৫ জন আহত হয়েছে। ২০১৬ সালে ৪৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫৯১৪ জন আহত হয়েছে, ২০১৭ সালে ৪৯৭৯টি দুর্ঘটনায় ৭৩৯৭ জন নিহত ও ১৬১৯৩ জন আহত হয়েছে, ২০১৮ সালে ৫৫১৪টি দুর্ঘটনায় ৭২২১ জন নিহত ও ১৫৪৬৬ জন আহত হয়েছে এবং ২০১৯ সালে ৫৫১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৮৫৫ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১৩৩৩০ জন।

তবে সংগঠিত দুর্ঘটনার সিংহভাগই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না বলেও জানায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপদজনক ওভারটেক বেড়ে যাওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

সমিতি মনে করে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের পরও সড়কে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়নি। বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি আগের মতোই আছে। ফলে যাত্রী ভোগান্তি, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সড়কে এই পরিস্থিতি বহাল রেখে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন বেমানান বলে মনে করে যাত্রী কল্যান সমিতি।

নিরাপদ সড়ক শুধুমাত্র দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সমিতি। সেইসঙ্গে অন্যান্য জাতীয় দিবসের মতো গতানুগতিকভাবে একদিন পালন না করে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজের সব স্তরে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে ধর্ষণ: শারীরিক পরীক্ষার ফল নেগেটিভ, এখন ডিএনএ পরীক্ষা

ভাসানচর: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যা আছে এই দ্বীপে

বাংলাদেশের দক্ষিণে সাগরের মধ্যে একটি পানি ছুঁই ছুঁই দ্বীপে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের অনেককে আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার বড় ধরণের যে অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে দেশে-বিদেশে।

বঙ্গোপসাগরের বুকে গজিয়ে ওঠা এই দ্বীপ, যার নাম ভাসানচর, তা ওই অঞ্চলে নবগঠিত যেসব চর রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে এই চরের বয়স মাত্র ২০ বছর।

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর কয়েক মাস পর থেকেই ভাসানচর জায়গাটি আলোচনায় চলে আসে।

ভাসানচর জায়গাটি কেমন? – গত দুই বছর যাবত এসব প্রশ্ন অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, কারণ এই দ্বীপ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই কম।

নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া এক লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য এরই মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে সেখানে বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ভাসানচরে যেসব সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো দেখানোর জন্য সরকারী একটি সংস্থা কয়েকদিন আগে ঢাকার বেশ কিছু সাংবাদিকের জন্য ভাসানচর পরিদর্শনের ব্যবস্থা করে।

ভাসানচরে যাত্রা সহজ নয়

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত নৌবাহিনীর বোট ক্লাব থেকে সকাল ১০টায় ভাসানচরের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। নৌবাহিনীর একটি বড় জাহাজে করে এই যাত্রা শুরু হয়।

কর্ণফুলী নদীর মোহনা পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে দিকে জাহাজ যতই এগুতে থাকে, ততই দৃষ্টিসীমার আড়ালে চলে যায় লোকালয়। বঙ্গোপসাগরে ঢুকে মাঝে মধ্যে একটি দুটি মালবাহী বড় জাহাজ চোখে পড়ে।

নৌবাহিনীর বড় জাহাজে করে যাত্রা করলেও সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ বেশ টের পাওয়া যাচ্ছিল।

দীর্ঘ তিন ঘণ্টা চলার পর আমাদের জাহাজটি ভাসানচরে এসে পৌঁছায়।

এই যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, বড় নৌযান ছাড়া ভাসানচরে যাত্রা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারতো। এবং আরও মনে হয়েছে যে এই পথে নিয়মিত যাতায়াত বেশ কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

ভাসানচর দেখতে কেমন?

গত প্রায় তিন বছরে ভাসানচরের চেহারা আমূল বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

চরে পৌঁছে দেখা গেল গেল, নৌবাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও সেখানে কিছু নির্মাণ শ্রমিক ও মহিষ চড়ানো রাখালও রয়েছেন।

গত পাঁচ বছর যাবত এই চরে মহিষের রাখাল হিসেবে কাজ করছেন তাজুল হক। তিনি বলেন, “বিস্তর জায়গা এই খানে। আমরা আগে ছিলাম স্বর্ণদ্বীপ। সেখানে সেনাবাহিনী আসার পরে আমাদের বললো, আপনারা অন্য চরে চলে যান। তখন আমরা এখানে আসলাম।”

কক্সবাজার থেকে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে এই প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ সরকার।

এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প, আর এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

এই প্রকল্পের পরিচালক কমোডোর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান যে ভাসানচরে সব ধরনের স্থাপনার নির্মাণ কাজ হয়েছে।

“এখানে যে কোন সময় রোহিঙ্গাদের আনা যাবে। আমাদের তরফ থেকে সব কাজ শেষ হয়ে গেছে,” বলেন কমোডোর চৌধুরী।

এই চরে এক লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য ১২০টি ক্লাস্টার বা গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১,৪৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়ে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে ১৬টি কক্ষ – সামনে ৮টি এবং পেছনের দিকে আরও ৮টি।

রান্নার জন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে চুলার জায়গা বরাদ্দ করা আছে। আর প্রতি ৮টি কক্ষের জন্য তিনটি টয়লেট এবং দু’টি গোসলখানা রয়েছে।

প্রতিটি কক্ষে দুটো ডাবল বাঙ্কার বা দোতলা খাট রয়েছে। অর্থাৎ একটি কক্ষে চারজন থাকতে পারবেন। যদি একটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা চারজনের বেশি হয়, তাহলে তাদের জন্য দুটো কক্ষ বরাদ্দ করা হবে।

রান্নাঘর, গোসলখানা এবং টয়লেটে পানির সরবরাহ রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরের গভীরতা ১০ ফুট। এসব পুকুরে পানি গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা যাবে।

প্রতিটি ক্লাস্টার একই আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। সব ঘর দেখতে একই রকম। প্রতিটি ঘরের সামনে বেশ চওড়া রাস্তা রয়েছে। এসব রাস্তার প্রশস্ততা ২০ থেকে ২৫ ফুট।

বাংলাদেশের কোন গ্রামে সাধারণত এই ধরণের রাস্তা দেখা যায় না।

ঝড় – জলোচ্ছ্বাসে কী হবে?

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য যেসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো কক্সবাজারে অবস্থিত শরনার্থী ক্যাম্পগুলোর তুলনায় যে অনেক ভালো, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

কক্সবাজারের ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের খুপড়ি ঘরগুলোতে বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকলেও ভাসানচরে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সমুদ্রের ঢেউ ভেঙ্গে দেবার জন্য শোর প্রোটেকশন দেয়া হয়েছে

কিন্তু ভাসানচরে নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে, বড় ধরণের ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় এই চরের কী অবস্থা হবে?

প্রকল্প পরিচালক কমোডোর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জানান, গত ১৭১ বছরের ঘূর্ণিঝড় পর্যালোচনা করা হয়েছে। “এখনও পর্যন্ত কোন ঘূর্ণিঝড়ের আই (কেন্দ্র) এই এলাকার উপর দিয়ে যায়নি।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যাতে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে ভাসানচরে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ১২০টি শেল্টার হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

কমোডোর চৌধুরী জানান, এসব শেল্টারহোম ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের মধ্যেও টিকে থাকবে।

জোয়ার এবং জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে ভাসানচরকে রক্ষার জন্য চারপাশে নয় ফুট উচ্চতার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বাঁধ ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হবে বলে জানালেন কর্মকর্তারা।

প্রকল্প পরিচালক কমোডোর চৌধুরী বলেন, অনেক শক্তিশালী ঝড় এই চরের উপর দিয়ে গেলে অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন বিপন্ন হবে না।

এই চর যাতে ভাঙনের কবলে না পড়ে, সেজন্য প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে শোর প্রোটেকশন স্থাপন বা তীর রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সমুদ্রের যে পাশ থেকে ঢেউ চরে আঘাত করে, সেই পাশেই শোর প্রোটেকশন দেয়া হয়েছে। শোর প্রোটেকশন থেকে ৫০০ মিটার ভেতরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

ভাসানচরে আলিশান বাড়ি

ভাসানচরে ঢুকে কিছুদূর অগ্রসর হলেই একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি সবার চোখে পড়বে। মনে প্রশ্ন জাগে, যে চরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বসবাস করবে সেখানে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা কেন?

নৌবাহিনীর সদস্যরা জানান, এই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য। তারা যখন ভাসানচর পরিদর্শনে আসবেন, তখন ওই বাড়িতে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

ভাসানচরে এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে ভিআইপিদের জন্য

নৌবাহিনীর এক সদস্য জানান, এই বাড়ি নির্মাণ এবং সাজসজ্জা করতে আট কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির জন্য আলাদা কক্ষ রয়েছে বলে তিনি জানান।

নৌবাহিনীর ওই সদস্য জানান, “এখানে নৌবাহিনী প্রধানের নিচে কেউ থাকতে পারবে না।”

রোহিঙ্গাদের দেখা মেলেনি

প্রায় চার মাস আগে সাগরে ভাসমান ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তারা নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আছেন।

সাংবাদিকদের এই সফরে সেসব রোহিঙ্গাদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। এমনকি চরের কোন স্থাপনায় রোহিঙ্গাদের রাখা হয়েছে, সেটিও সাংবাদিকদের জানানো হয়নি।

সম্প্রতি এসব রোহিঙ্গা ভাসানচর থেকে কক্সবাজারে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বিক্ষোভ করেছে।

সম্প্রতি ভাসানচরে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে লন্ডন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে যে সেখানে রোহিঙ্গা নারীদের উপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের তরফ থেকে প্রকল্প পরিচালক কমোডোর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। কমোডোর চৌধুরী এ ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে ভাসানচরে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের বেশ যত্নসহকারে রাখা হয়েছে।

তবে মাঝে মধ্যেই রোহিঙ্গারা ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণ’ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনজিওরা কাজ করতে পারবে?

কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য বর্তমানে ১০০’র বেশি দেশি-বিদেশী এনজিও কাজ করছে।

এসব এনজিও ভাসানচরে কাজ করতে পারবে কি-না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ এখনো পর্যন্ত ভাসানচরে এনজিওদের জন্য কোন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি।

এনজিওরা যদি সেখানে কাজ করতে চায় তাহলে তাদের জন্য অফিস নির্মাণ কারা করবে, এ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি অস্পষ্ট।

সরকারি জমি বরাদ্দ এবং নৌবাহিনীর সহায়তা ছাড়া ভাসানচরে এনজিওদের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা অসম্ভব।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণের পাশাপাশি জাতিসংঘ প্রতিনিধি, রেডক্রস এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনারের অফিসের জন্য একটি করে ভবন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাস্তবতা বিবেচনা করলে ভাসানচরে গিয়ে কাজ করা অসম্ভব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “সমুদ্রপথে ভাসানচরে যেতে সময় লাগে অন্তত তিন ঘণ্টা। বড় জাহাজ ছাড়া এই পথে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া এখানে নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমাদের কর্মীরা কীভাবে যাতায়াত করবে?”

শুধু এনজিও কর্মীদের জন্যই নয়, সরকারী কর্মকর্তাদের জন্যও ভাসানচরে যাতায়াত বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাসানচরে পুলিশের একটি থানা স্থাপন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানকার এক পুলিশ সদস্য বিবিসি বাংলাকে বলেন, বছরের মধ্যে নয় মাস এই চরে যাতায়াত বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ প্রায়শই সমুদ্র উত্তাল থাকে।

রোহিঙ্গারা না গেলে কী হবে?

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে এবং এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হলো যে কোন ধরণের জোর-জবরদস্তি করা হবে না। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেখানে রোহিঙ্গাদের যাওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের দৃষ্টিতে ভাসানচর একটি ‘কারাগার’। চারপাশে সমুদ্র বেষ্টিত এই দ্বীপে থাকতে চায় না রোহিঙ্গারা।

তাই এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে যদি রোহিঙ্গাদের সেখানে শেষ পর্যন্ত নেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে ভাসানচরে হাজার-হাজার কোটি টাকা খরচ করার অর্থ কী দাঁড়াবে।

এর পরিস্কার কোন উত্তর নেই।

তবে কমোডোর চৌধুরী জানালেন যে রোহিঙ্গারা যখন নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবেন, তখন বাংলাদেশের অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতোই এটি ব্যবহার করা হবে।

(আকবর হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সখীপুরে স্ত্রীর মৃত্যু

রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে মারা যাওয়া স্বামীর লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাড়ি ফেরার পথে ওই অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেলেন স্ত্রীও। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকা-সখীপুর সড়কে উপজেলার তক্তারচালা এলাকায় পৌঁছালে স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৪০) মারা যান।

মারা যাওয়া ওই দম্পতির বাড়ি উপজেলার দাড়িয়াপুর মাজারপাড় এলাকায়। তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফরিদ হোসেন জানান, গত তিনদিন আগে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের নেওয়াজ মিয়া (৫০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নেওয়াজ মিয়া মারা যান।

ওই সময় তাঁর স্ত্রী পেয়ারা বেগম ওই হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার তক্তারচালা এলাকায় পৌঁছালে পেয়ারা বেগম অচেতন হয়ে পড়েন।

রাত আটটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্বজনরা সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শামীম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অসুস্থ হয়ে একজন হাসপাতালে গেলেও লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বামী-স্ত্রী। সাত ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-