সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী গ্রেপ্তার

ধর্ষণে ৫ বছরে মামলার পরিসংখান জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ধর্ষণের ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কারণে সালিশে মীমাংসা করার বিষয়টি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

 

একইসঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় গত ৫ বছরে সারা দেশে থানায়/ আদালতে/ ট্রাইব্যুনালে কতগুলো মামলা হয়েছে তার তথ্য জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান ও অ্যাডভোকেট শাহিনুজ্জামান শাহিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে অনিক আর হক বলেন, রুলে মীমাংসার বিষয়টি কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিনটি মামলায় ধর্ষণ বিষয়ে বিভিন্ন রকমের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো, সেগুলো এখন পর্যন্ত পালন করা হচ্ছে না, যদি পালন করা হয় তাহলে সে বিষয়ে তিনমাসের মধ্যে এক প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এছাড়া মীমাংসার ব্যাপারগুলো যে ঘটছে এগুলোকে অবিলম্বে বন্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এছাড়াও থানায় ও ট্রাইব্যুনালে কতগুলো ধর্ষণের মামলা হয়েছে এগুলো প্রতিবেদনও চেয়েছেন আদালত।

আইন, স্বরাষ্ট্র, সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

মোঃ রতন মিয়া (৩৫)। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে থ্রি-পিচের (মেয়েদের জামা) ব্যবসা করে আসছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। তার শ্বশুর বাড়ি একই উপজেলার কাউলজানি ইউনিয়নের বাদিয়াজান গ্রামে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্প্রতি বৃষ্টি নামের এক গৃহবধূকে এক হাজার টাকা বাকিতে থ্রি-পিচ বিক্রি করেন রতন। আর এতেই ঘটে বিপদ।

সেই পাওনা এক হাজার টাকা চাইতে গিয়ে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে রতনকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় মাতাব্বরদের আয়োজনে উপজেলার বাদিয়াজান গ্রামের খালেক পীরের বাড়িতে শালিশি বৈঠকে এ জরিমানা নির্ধারন করা হয়। একই সাথে ওই গৃহবধূর সাথে রতনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় মাতাব্বররা ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

তবে গৃহবধূ বৃষ্টি জানিয়েছেন, তার সাথে রতনের কোন সম্পর্ক নেই। স্থানীয় মাতাব্বর ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের যোগসাজতে তাকে তার স্বামীকে শালিশি বৈঠকে তালাক দিতে বাধ্য করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টায় রতন নামের এক লোক গৃহবধূ বৃষ্টির ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা টের পেয়ে রতনকে আটক করে।

পরে স্থানীয় মাতাব্বরদের জানানো হলে তারা পরদিন সকালে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশি বৈঠকে রতনকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জারিমানা এবং গৃহবধূ তার কাতার প্রবাসি স্বামী রফিককে তালাক দেওয়া এবং কাবিনের তিন লাখ টাকা দাবি করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক রতনের বাবা মোশারফ জরিমানার টাকা জোগারের জন্য মাতাব্বরদের কাছে এক মাস সময় চান।

কিন্তু মাতাব্বররা তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা রেখে বাকি টাকা দিতে ১৫দিনের সময় বেধে দেন। একই সাথে বৃষ্টি নামের ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে সালিশি বৈঠকে স্থানীয় কাজীর উপস্থিতিতে বিয়ের কাবিনের তিন লাখ টাকা দাবি করবে না মর্মে তালাক নামায় স্বাক্ষর করেন।

শালিশি বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন, ফুলকি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জামাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন (সারোয়ার) ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্থানীয় মাতাব্বররা।

রতন মিয়া জানান, তিনি অনলাইনে থ্রী-পিচের ব্যবসা করেন। এ কারনে বৃষ্টি নামের ওই গৃহবধূ তার কাছ থেকে সম্প্রতি একটি এক হাজার টাকা মূল্যের (বাকীতে) থ্রী-পিচ ক্রয় করেন। রোববার সকালে স্থানীয় বাজারে ওই গৃহবধূর কাছে তিনি পাওনা এক হাজার টাকা চান। এসময় তার কাছে টাকা না থাকায় সন্ধ্যায় বাসায় যেতে বলেন টাকার জন্য।

এ কারনে তিনি রাত আটটার দিকে ওই গৃহবধূর বাসায় যান টাকার জন্য। টাকা নেওয়ার পরপরই গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে তাকে মারপিট করে। পরদিন শালিশি বৈঠকের মাধ্যকে তাকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গৃহবধূ বৃষ্টি জানান, রতন মিয়ার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি থ্রী-পিচের পাওয়ানা এক হাজার টাকা নেওয়ার জন্য তার বাসায় এসেছিলেন। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রতন মিয়াকে তার পাওয়া এক হাজার টাকা দেওয়ার সাথে সাথে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন রতন মিয়াকে ঘরের ভিতরে ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ডাকচিৎকার করতে থাকেন।

পরে স্থানীয় মাতাব্বররা এসে পরদিন সকালে শালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে যান। সোমবার শালিশি বৈঠকের মাধ্যমে কাতার প্রবাসি তার স্বামী রফিককে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে তালাক দেওয়ানোর জন্যই শ্বশুর বাড়ির লোকজন অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেছেন।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রতনের বাবা মোশারফ হোসেন একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীর পাইকড়া কোনাবাড়ী মাদকের গ্রামে পরিণত, নিশ্চুপ পুলিশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের অত্যচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার কতিপয় মাদকসেবী যুবকদের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ জনগণ। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এই এলাকার সাধারণ জনগণ।

পাইকড়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাইকড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কোনাবাড়ী বাজারের পাশে একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, দুইজনের বাড়িতে প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার আসর বসে। এলাকাবাসী সমন্বিতভাবে বারবার তাদের দমনের জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাংবাদিকদের আরো জানান, কোনাবাড়ী গ্রামের কুখ্যাত এক মাদক ব্যবসায়ী এ গ্রামের মাদক ও জুয়ার আসরের প্রধান। এর আগে ওই মাদক ব্যবসায়ী একাধিকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। কিন্তু খুব তারাতারি ছাড়া পেয়ে আবার সেই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

মূলত এই মাদক ব্যবসায়ী সকল প্রকার মাদক বেচাকিনি করে থাকে। তার নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় যুবকরা ইয়াবা, গাঁজা ও মদ বিক্রি ও সেবন করে থাকে। তার কারণে এলাকার যুব সমাজ আস্তে আস্তে মাদকসেবী হয়ে পড়ছে বলে তারা জানান।

এছাড়া একই এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলে এই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের প্রধান শেল্টার দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

কোনাবাড়ী গ্রামবাসী আরো জানান, আমরা থানায় প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে যাচ্ছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় এমপি সোহেল হাজারীকেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, কোনাবাড়ী গ্রামে মাদকের বিস্তারের বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। অতিদ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিলেটে শ্রীহট্ট প্রকাশ-এর ৩য় বই প্রদর্শনী

শ্রীহট্ট প্রকাশ-এর উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো বই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২১ শ্রীহট্ট প্রকাশ-এর স্থায়ী অফিস মেঘনা-বি/১৮, দাড়িয়াপাড়া, সিলেট-এ এই বই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘাটাইল ডট কম প্রাপ্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বই প্রদশর্নীতে ক্রেতারা বিশেষ ছাড়ে হজরত মুহম্মদ (সা.), মুক্তিযুদ্ধ, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নাস্তিক-আস্তিক, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারতের ইতিহাস কাঁপানো ঝান্সী রানি, পবিত্র হজ, কবিতা, সাইন্স ফিকশন, প্রবন্ধ, নারী, সামাজিক সমস্যা, সালমান শাহ, সংস্কৃতি, গান, রাজনীতি, ইতিহাস,  শিশুতোষ, ছড়া, গল্প, রহস্য, সংস্কৃতি, রম্য প্রভৃতি বই ক্রয় করতে পারবেন।

প্রতিদিন দুপুর ৩ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত শ্রীহট্ট প্রকাশ বই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাঠকরা শ্রীহট্ট প্রকাশ-এর অফিসিয়াল পেইজ facebook.com/srihotto.prokash অর্ডার দিয়েও ডাকযোগে বই সংগ্রহ করতে পারবেন। ০১৭১৬৯৭৩১৭৬ নম্বরে বিকাশের (মার্চেন্ট) টাকা পরিশোধের পর পাঠিয়ে দেওয়া হবে বই।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ৪৭ পুজা মন্ডপে ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ১টি পৌরসভায় জিআর প্রকল্প থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৪৭টি পুজা মন্ডপে বিশ হাজার করে নগদ মোট ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা, কাজী আরজু, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ অধির চন্দ্র সাহা প্রমুখ ।.

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী’র শ্রমিকদের অনশন

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিল ঘারিন্দা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীতে কাজের দাবীতে দুইশতাধিক শ্রমিক অনশন করছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে এ অনশন শুরু করে বিড়ি শ্রমিকরা।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী ছাড়াও ছোট বড় মিলে ২০টি বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে। সরকার তামাকের মূসক আইনে প্রতি বিড়ির প্যাকেটে ৮.১০ টাকা মূল্যের মূল্য সংযোজন কর লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে টাঙ্গাইলের কতিপয় বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিকরা অল্পদিনে কোটিপতি বনে যাওয়ার লক্ষ্যে ওই মূসক কর ফাঁকি দিয়ে জাল ও পুরাতন ব্যান্ডরোল লাগিয়ে দেদারছে প্রতি প্যাকেট ৮-১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছে।

এতে করে সরকার কয়েক কোটি টাকা মূসক কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের বিভাগীয় কর্মকর্তা জোবায়দা খানম নিরলস প্রচেষ্টায় এবং স্বল্প জনবল নিয়েও একাধিকবার কয়েকটি বিড়ি ফ্যাক্টরীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।

ওই অভিযানে কালিহাতীর বানিয়াফৈরে নিউ মিরাজ ও একই উপজেলার ভুক্তা গ্রামের মোহিনী ও মিষ্টি বিড়ি ফ্যাক্টরী থেকে অসংখ্য পুরাতন ও জাল ব্যান্ডরোল সহ ২ ব্যক্তিকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

অপরদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক শাহজাহান সঠিক ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে ১৮ টাকা মূল্যে প্রতি প্যাকেট বিড়ি বাজারজাত করায় ওই সব অবৈধ বিড়ির মূল্যে ব্যপক তফাত থাকায় মার্কেটে টিকতে পারছে না। ফলে গত ১০ অক্টোবর লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক ব্যবসায়িক লোকসান ঠেকাতে টাঙ্গাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের নিকট ফ্যাক্টরীটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন।

ফলে প্রায় অর্ধশতাধিক বছরের পুরানো টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ হওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারন সম্পাদক মোঃ আরজু ও মহিলা শ্রমিক কল্পনা রানী দাস জানান, ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকাতে প্রায় দুইশতাধিক শ্রমিক পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে তারা ফ্যাক্টরী মালিক ও স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লাকী বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক শাহজাহান জানান, আমি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলে অধিকাংশ বিড়ির মালিকরা অনৈতিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফ্যাক্টরী সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।

টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে বিভাগীয় কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আমি টাঙ্গাইলে যোগদানের পর থেকেই অবৈধ বিড়ি ফ্যাক্টরী মালিকদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। ফলে টাঙ্গাইলের ২১ টি বিড়ি ফ্যাক্টরীর নিকট থেকে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি মূসক আদায় করেছি।

(রাইসুল ইসলাম লিটন, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাছপালা কর্তন বাড়িঘর নির্মাণ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদালত কর্তৃক জমির অবস্থা অপরিবর্তনে উভয় পক্ষের উপর জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এক পক্ষের বিরুদ্ধে জমির উপর বসতবাড়ি নির্মাণ, গাছ ও বাঁশ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের মৃত সামেদ আলীর ছেলে আবেদালীর বিরুদ্ধে বহুরিয়া মৌজার ৪৩৯ দাগের ৯৯ শতাংশ  জমি নিয়ে এ অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের মৃত গফুর হাজীর ছেলে আলহাজ মাওলানা মো. শামসুল হক তাদের দখলীয় ওই সম্পত্তির সকল কাগজপত্র দাখিল করে মোকাম টাঙ্গাইলের সখীপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে জমির অবস্থা অপরিবর্তনের আবেদন করলে আদালত ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আদালত সার্বিক বিবেচনা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপত্তি শুনানীর পূর্ব পর্যন্ত ওই জমির স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু আবেদালী মানতে নারাজ ওই নিষেধাজ্ঞা। সে ওই জমির অবস্থা পরিবর্তন করে ইতোমধ্যেই মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি, গোয়ালঘর নির্মাণ, গাছপালা ও বাঁশ কেটে বিক্রি করছেন।

জানা যায়, ওই ৯৯ শতাংশ ভূমিসহ আরো বহু ভূমি সাবেক থানা বাসাইল এর অন্তর্গত বহুরিয়া চতল বাইদ মৌজার ডিঃ সেঃ মেঃ জরীপ ২নং খতিয়ানে আটিয়া পরগনা ৯-১২/১৬/ ৫০৩১-৫০৩৫/ ৫১৫১/৫১৫৩ নং জোতের মালিক জমিদার দেলদুয়ার নিবাসী সৈয়দ ফয়জল বারী, মহম্মদ আলতাব আলী চৌধুরী জীবিত স্বত্বে ইজারা দখল সৈয়দ আবদুল ছোবান চৌধুরী গং এবং করটিয়া জমিদার মৌঃ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী এবং হায়দার আলী খান পন্নী এবং ঢাকার নবাব হবিবউল্লাহ গংসহ অন্যান্য জমিদারদেরও মালিকী স্বত্বে স্বত্ববান দখলদার থাকাবস্থায় উক্ত মালিকগন প্রজা পত্তন দেওয়ার ঘোষণা দিলে মাওলানা শামসুল হকের বাবা হাজী আবদুল গফুর মিয়া জমিদার মৌঃ ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওয়াকফ এবং মৌঃ হায়দার আলী খান পন্নী ওয়াকফ এস্টেট হইতে ১৩৪৮ সনের ১৪ মাঘ পৃথক দুটি পত্তনে ওই ৪৩৯ দাগের ৯৯ শতাংশ জমির মালিক হন।

ওই ৯৯ শতাংশ জমি গত প্রতারণা করে ২০১০ সালের ২ নভেম্বর প্রতিবেশী মৃত সামেদ আলীর ছেলে আবেদালী নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে তথাকথিত ৩৮১৭/১০নং ভূমিহীন বন্দোবস্ত কবুলিয়তনামা করে জমিটি জোরপূর্বক দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, গাছপালা ও বাশ কেটে নেন।

পরে মাওলানা মো. শামসুল হক তাদের দখলীয় ওই সম্পত্তির সকল কাগজপত্র দাখিল করে মোকাম টাঙ্গাইলের সখিপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিবাদমান জমির অবস্থা অপরিবর্তনের আবেদন করলে আদালত ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং জমির মালিকানা নিষ্পত্তির জন্য আদালত সার্বিক বিবেচনা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপত্তি শুনানীর পূর্ব পর্যন্ত ওই জমির স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে আবেদালীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।

মাওলানা মো. শামসুল হক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী আবেদালী ও তার লোকজনের বিচার দাবি করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

এলেঙ্গায় অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের কালিহাতীর এলেঙ্গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মাসড়কে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে লিফলেট বিতরণ করেছেন এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা প্রায় ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন জানান, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় জনসাধারণ, যানবাহনের চালক, হেলপার ও মালিকদের সচেতনার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন আইনের লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ তিন চাকার অযান্ত্রিক যানবাহন ভটভটি, নচিমন, করিমন, ইজিবাইক ও রিক্সা মহাসড়কে না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

(তারেক আহমেদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূগর্ভস্থ এক্সেস নেটওয়ার্ক স্থাপন শুরু করলো আইএসপিএবি-কোয়াব

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এক্সেস নেটওয়ার্ক স্থাপন করছে আইএসপিএবি ও কোয়াব। নগর সৌন্দর্য রক্ষায় বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সম্মিলিত অর্থায়নে মাটির নিচ দিয়ে বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।

এর আগে দুই সংগঠনের নেতারা এই কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় আইএসপিএবি, সভাপতি আমিনুল হাকিম, মহাসচিব ইমদাদুল হক ও কোয়াব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ এই কাজের উদ্বোধন করেন।

এইচডি ড্রিলিং মেশিনের মাধ্যমে সিটি কলেজ প্রান্ত থেকে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ১০০ মিটার পর পর ‘বোরিং কল’ স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়ে এই মিশন।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এই কাজের লিখিত অনুমতি পেয়েছে আইএসপিএবি। অনুমতি অনুযায়ী, ধানমন্ডি ২৭ মোড় পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট দূরত্বে ট্রেঞ্চ করে ক্যাবল সঞ্চালন করবে তারা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ১৮ তারিখ থেকে সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত আগস্ট মাস থেকে মাটির নিচ থেকে সংযোগের কোনো ব্যবস্থা না করেই আইএসপি ও ক্যাবল টিভি অপারেটরদের লাইনগুলো অপসারণ করা শুরু করে। এতে গত দুই মাসে আনুমানিক ২০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াবকে। এছাড়াও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ৩৩টি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক, ১ লাখেরও বেশি চাকরিজীবী এবং ১ হাজার আইএসপি ও কোয়াব সদস্য চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এরপর গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সাথে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর আইএসপিএবি ও কোয়াব ঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। আর রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে উভয় সংগঠনের আলোচনার ভিত্তিতে নিজেরাই আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মিশন শুরু করছে সংগঠন দুটি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-