বাংলার প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ যেভাবে দেশদ্রোহী

“… ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারীতে ঢাকায় ‘পাকিস্তান সাহিত্য মজলিস’-এর এক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এটাই ছিল এই সংগঠনের সর্বশেষ সভা। এই সভায় অনেকের সঙ্গে ইবরাহীম খাঁও উপস্থিত ছিলেন। অত:পর বিদায় বেলায় ইবরাহীম খাঁ এক খোলা চিঠিতে (১৯৭১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি) বলেন :

আমার প্রিয় দেশবাসী সমীপে –

আমি দলীয় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করলাম।

বিদায় বেলায় কর্মজীবনের প্রভাত থেকে বহু বর্ষব্যাপী অতীতপানে চেয়ে আজ বার বার মনে পড়ছে তাদের কথা যাদের প্রেরণার দীপশিখা সামনে ধরে দেশসেবার পথে নেমেছিলাম; মনে পড়ছে তাদের কথা যাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ দুর্গম পথে এগিয়ে চলেছি; তাদেরো কথা মনে পড়ছে, যাদের প্রীতি-প্রসন্ন দৃষ্টির জীবনময়ী পরশে সে পথের ক্লান্তি ভুলতে পেরেছি।

তাদের মধ্যে যারা আছেন আর যারা নাই, তাদের প্রত্যেকের স্মৃতির দরগায় আমি শ্রদ্ধার ফুল অর্পণ করছি।

আমি ওপারে চলে যাওয়ার আগের দিনগুলি নির্দলীয় নাগরিক হিসাবে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সেবায় নিজেকে নিয়োগ করব, এই আমার সবিনয় সংকল্প।

কারো বিরুদ্ধে আমার কোন নালিশ নাই। আমার দেশ ও সমাজ আমাকে যে অপরিমেয় স্নেহ-প্রীতি দিয়ে ধন্য করেছে, তার মধ্যে বন্ধুদের দুর্লভ বিরোধিতার স্মৃতি হেলায় হারিয়ে গেছে।

প্রীতিধন্য ইবরাহীম খাঁ

… মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়, শেষের দিকে পাক-শাসকরা এদেশের গণ্যমান্য সন্তানকে পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানে বাধ্য করাতেন, সেসব আবার রেডিও-টিভিতে ফলাও করে প্রচার করা হতো, যাতে দেশবাসী বিভ্রান্তিতে ভোগে।

এমনি একটি বিবৃতির জন্য তৎকালীন রেডিও’র বাঙ্গালী কর্তৃপক্ষ ইবরাহীম খাঁর কাছে গেলে, তিনি এ ধরণের কোনরূপ বক্তব্য-বিবৃতি দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন।

কিন্তু দু:খের বিষয়, ওই রকম একটা বিবৃতি প্রদানকারীদের লিস্টের মার্জিনে তিনি লেখেন যে, তাও বক্তব্য-বিবৃতি-সংগ্রহকারী বাঙ্গালীদের চাকরি যাতে না যায়, সে জন্য – ‘এসব বক্তব্য-বিবৃতিতে আমার মত নাই।’

আর এতেই ইবরাহীম খাঁ তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্রে’র গবেষণায় ১৯৮৭-তে এসে হয়ে গেলেন ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়?’– এর একজন।

ওই গবেষণায় এদেশের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বই আছেন, ‘তারা অনেকেই এখনো দিব্যি মান-সম্মান ও শান-শওকতেই দিন গুজরান করছেন।’

পারলেন না অভিমানী শিল্পী ফতেহ লোহানী। তিনিও স্বাধীনতার পর ‘রাজাকার’ বলে ধিকৃত হয়েছিলেন।

তিনি কেবল এটুকুই বলেছিলেন যে, “যারা স্ক্রিপ্ট লিখলেন, অনুষ্ঠান প্রযোজনা করলেন, তারাও তো বাঙ্গালীই ছিলেন, তাদের কিছু হলো না, তারা দিব্যি ধোয়া তুলসী পাতাটিই রয়ে গেলেন – আমি জীবনের মায়ায় বাধ্য হয়ে কন্ঠ দিয়ে অভিনয় করে হয়ে গেলাম জাতির কাছে ধিকৃত।”

এমনিভাবে কত ইবরাহীম খাঁ, ফতেহ লোহানী যে জাতির কাছে ধিকৃত হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছেন তা কে গবেষণা করবেন?

দেশবাসীর প্রতি তাদের সততা শ্রম সাধনার তো কোনদিনই ঘাটতি ছিল না, তবে কেন গবেষণার ভুল ব্যাখ্যায় তারা জাতির হিতাকাঙ্খী বন্ধু হয়েও শত্রু হিসেবে ব্যাখ্যাত হবেন – এ বিষয়টিও ‘স্বজাতির সিংহাসন উচ্চ করি গড়/ সেই সঙ্গে মনে রেখো সত্য বড়’ – এই অমর বাণী সামনে রেখে জাতিকে আজ নতুন করে ভাবতে হবে এবং নির্ভেজাল সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

ঢাকা টিভি’র জেনারেল জেনারেল ম্যানেজার মৌলভী আমিরুজ্জামান খাঁ সাহেব সমীপে ইবরাহীম খাঁ লেখেন :

জনাব, আচ্ছালাম।

বাদ, বর্তমানে মে মাসের অনুমান ১৪ কি ১৫ তারিখে আপনার দ্বারা প্রেরিত পরিচয়ে আপনার অফিসের মি: আতিকুর রহমান চৌধুরী ‘পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের বিবৃতি’ (ইংরেজিতে) নামে একটি বিবৃতি নিয়ে আসেন ও আমাকে বিবৃতির নিচে স্বাক্ষর করতে অনুরোধ করেন।

দেখলাম বিবৃতিটির প্রথমেই যা আছে তা এইরূপ “নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব ইউনিভার্সিটি ইমারজেন্সীর একটি বিবৃতি পড়ে আমরা বিস্মিত হয়েছি।”

আমি বল্লাম : নিউইয়র্কের বিবৃতিটি না দেখে সেটা ‘পড়েছি’ বলা ঠিক হয় না। ওদের সে বিবৃতিটি আগে আমাকে পড়তে দিন।

উনি বললেন: এই আপত্তির কথাটা আপনি এই বিবৃতির মার্জিনে একটু লিখে দিন। তাই লিখে দিলাম।

তারপর উনি বললেন – এই বিবৃতিটার কপি যে আপনার সামনে ধরলাম, তারই স্বীকৃতি হিসাবে সঙ্গীয় কাগজে আপনি ছোট্ট একটা ইনিশিয়াল দিন। তাই দিলাম।

১৭ই মে তারিখের দৈনিক পাকিস্তানে দেখতে পেলাম, আমাকে কিছু না বলে ঐ বিবৃতির নিচে আমার নামও ছাপা হয়েছে।

এই প্রতিবাদের কথাটা আপনাকে জানিয়ে রাখলাম।

যে স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে আমি লিখিত প্রতিবাদ করলাম এবং যে প্রতিবাদের ফলে সে উত্তেজিত মুহুর্তে পশ্চিমা সৈন্যদের যে কারো গুলিতে আমার বুক এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় হয়ে যেতে পারত, সেই স্বাক্ষরকে বিবৃতির মার্জিন থেকে স্থানান্তরিত করে নিচের স্থানে বসিয়ে দিয়ে আমাকে দালাল বানান হল।

আর এই ভিত্তিহীন আরোপের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ কোন কাগজ ছাপতে রাজি হলো না। ভিতরের একথা বাইরে কেউ জানল না, পাবলিকের চোখে আমি দালাল হয়েই রইলাম।

স্বাধীনতা আসার পর আমি এডভোকেট আবদুস সালাম খাঁর কাছে গিয়ে বললাম :

আমি আপনাকে দিয়ে একটা মামলা করাতে চাই; টেলিভিশনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা।

সমস্ত শুনে তিনি বললেন : ভাইয়া, আপনার মামলার গ্রাউন্ড ভাল, কিন্তু মামলা করবেন কোথায়?

আদালতে বিচারক কখনো আসেন, কখনো আসেন না, পেশকারকে অনেক সময়ই খুঁজে পাওয়া দায়। তারপর আপনার আসামী বেঁচে আছে না মরে গেছে কে জানে? বেঁচে থাকলে এদেশে আছে, না ভারতে আছে, তাই বা কে বলতে পারে?

কাজেই এই মুহুর্তে মামলায় কোন ফায়দা হবে না। তবে হ্যাঁ, এই নিয়ে যদি সরকার আপনাকে কোন ফ্যাসাদে ফেলতে চায় তবে আমাকে জানাবেন। আমি বিনা পয়সায় সে মামলা লড়ব যাতে আপনার গায় একটা আঁচড়ও না লাগতে পারে।

… দেশের বাড়ি শাবাজনগর থেকে ভাইপো হেডমাস্টার শহীদুজ্জামান খাঁ ২১/১২/১৯৭১ তারিখের একটি পত্রে লিখেছে :

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এক পত্রবাহক আপনার নাম লিখা একটি নোটিশ আমার কাছে এনে দেয়। তারপর উপস্থিত লোকজনের মোকাবিলায় উক্ত পিয়ন আপনার ঘরের তালা বদলিয়ে তাদের নিজস্ব তালা দিয়ে ঘর আটকে দিয়ে চলে যায় –

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
টাঙ্গাইল জেলা দফতর
মেমো নং ১৮/২
বেসামরিক প্রধান

এতদ্বারা ইবরাহীম খাঁ, গ্রাম– বিরামদী, ডাকঘর– কুদ্দুসনগর, জেলা– টাঙ্গাইল কে ‘দেশদ্রোহী’ ঘোষণা করিয়া তাহার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হইতে বাজেয়াপ্ত করা হইল।

এই নির্দেশ মোতাবেক তাহার সকল সম্পত্তির মালিক করিলেন স্থানীয় জনসাধারণকে এবং ইবরাহীম খাঁর বর্গাদারদের জানান যাইতেছে যে, তাহার ফসলের অর্ধেক বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধির নিকট জমা দিতে হইবে।

এই আদেশ অমান্য করা দন্ডনীয় অপরাধ।

দস্তখত (অবোধ্য)
বেসামরিক প্রধান
টাঙ্গাইল জেলা দপ্তর

এমন চিঠি পাওয়ার পর ইবরাহীম খাঁর উপলব্ধি :

“… দেশদ্রোহী ঘোষণার পর দেশদ্রোহীর বসত বাড়ীতে তালা দেওয়া ছাড়া দেশদ্রোহীর বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আর কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।

আমার জমিনের বর্গাদারদের কাছ থেকে সরকার পক্ষের কেউ কোন শস্যও আদায় করতে যায় নাই।

তবে আমার ঘর-বাড়ী মুক্তিফৌজের সাময়িক ক্যাম্প হয়ে দাঁড়ায়। এদিক-সেদিক থেকে দলে দলে মুক্তিফৌজ এসে হাজির হত, আমার পুকুরে ঝাপাঝাপি করে গোসল করত, তারপর আমার ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিকটবর্তী ভুয়াপুর ক্যাম্পে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করত।

আমার ঘরে মণ পঞ্চাশেক ধান ছিল। মুক্তিফৌজ সে ধান আমার গায়ের গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়। আমার ঘরের জিনিসপত্র মুক্তিফৌজ কিছু কিছু ব্যবহার করত। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন অপচয় করে নাই।

আমি ভাবতাম, আমি থাকি ঢাকায়, আমার দেশের বাসাবাড়ী খালিই পড়ে থাকে। মুক্তিফৌজ তাদের ব্যবহারের জন্য ও-ঘর চাইলে আমি তো খুশী মনে ছেড়ে দিতাম। আমার বাড়ী মুক্তিফৌজের কিছুটা কাজে লেগেছে, এ আমার জন্য তো গৌরবের কথা।

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেল। দেশ স্বাধীনতা লাভ করল। কিন্তু আমার বসতবাড়ী তালাবদ্ধ রইল।

একদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নান মিয়ার সঙ্গে দেখা করে বললাম: তুমি আমার প্রাক্তন ছাত্র। আমি ক্লাসে বসে তোমাদের শিক্ষামূলক যেসব কথা বলেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কথা ছিল, যখন কঠিন কর্তব্য সামনে আসে, তখন মাতা-পিতা, শিক্ষাগুরু-ধর্মগুরু কারো চিন্তাই যেন সে কর্তব্য সাধনের পথে না দাঁড়ায়।

আজ সেই কথা মনে করিয়ে বলছি, আমি যদি সত্যিই দেশদ্রোহী হয়ে থাকি তবে আমাকে বিচারালয়ে সোপর্দ কর, উপযুক্ত শাস্তি দাও। আর বাড়ীর তালা এখন খুলে দাও। ও ঘর এখন তো আর মুক্তিফৌজের কোন কাজে আসছে না।

বলল– স্যার আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিন। আমি আরো ভালো করে খুঁজে দেখি।

কয়েকদিন পর বলল: স্যার আপনার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো কিছু পেলাম না। শিগগিরই আমি ঘরের তালা খুলে দিচ্ছি।

খুলে দিল।

দেশদ্রোহী খেতাবের শেষ দান:

যেকালে বাংলাদেশের সরকারের কথিত বেসামরিক প্রধান আমার বসত বাড়ীতে তালা এঁটে দেয় সেই সময় একদল পাঞ্জাবী সিপাই একদা এসে আমার ভুয়াপুর বাজারস্থ তিনটি ঘর পুড়িয়ে খাক করে দেয়।

এমনভাবে দিনে-দুপুরে সম্পূর্ণ বিনা প্রভোকেশনে পাঞ্জাবীরা যাদের বাড়ীঘর পুড়িয়েছে, তাদের অনেকে সরকার থেকে খেশারত পেয়েছে।

খেশারত চেয়ে আমিও একটা দরখাস্ত করেছিলাম। এ যাবৎ তার কোন উত্তর পাই নাই।

এ মঞ্চের অভিনয় এখানেই শেষ হয় নাই।

সাধারণে ভাবল, প্রিন্সিপাল সাহেবের ভবের খেলা সাঙ্গ হয়ে গেছে। তার বাড়ী তালাবদ্ধ, তার স্থাবব-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, তার বাজারের ঘর ভস্মে পরিণত, তবে ঘর পোড়া ভিটাগুলি খালি পড়ে থাকে কেন?

একদল লোক এসে বড় ঘরের ভিটায় ঘর তুলে দখল করে বসল।

ভক্তদের কতক এসে বলল- স্কুল কলেজের হাজার চারেক ছাত্র, হাজারখানিক অভিভাবক, তারপর আছি আমরা__ আপনি শুধু একটু ইশারা করুন স্যার, ঘর-দুয়ারসহ লোকগুলোকে হাওয়ায় উড়িয়ে দেই।

বললাম : আমি তা পারি না যে।

তারা উত্তেজিত কন্ঠে বলল : সবাই পারে, আপনি পারেন না কেন?

বললাম: আমি তোমাদের কাছেই যে জবানে আবদ্ধ। আমি ক্লাসে বসে তোমাদের বলেছি –

‘হক আদালত, হাজার এবাদত’

সেই আমি আদালতে না গিয়ে ওদেরে লাঠির জোরে উড়িয়ে দেওয়ার হুকুম কি করে দেই?

আমি অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলাম। আদালতে বিচারকের আসনে যা করেছি বাইরে এসে ব্যতিক্রম করতে পারি?

বেদখলকারীদের সরাতে মামলা করতে যেতে হযেছে॥

আহমাদ কাফিল / প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁর চিঠি ॥ [ সংরক্ষণ কম্প্রিন্ট – ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ । পৃ: ১১২-১২৪ ]

#০২

“… ইবরাহীম খান (১৮৯৪-১৯৭৮ খৃ:) শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।

জন্ম টাংগাইল জেলার ভুয়াপুরের বিরামদী গ্রামে ১৮৯৪ খৃস্টাব্দে। বিরামদী গ্রামের বর্তমান নাম শাহবাজ নগর।

ইবরাহীম খাঁর পিতার নাম শাহবাজ খাঁ, মাতার নাম রতন খানম। ইহারা ছিলেন ছয় ভাই এক বোন। তন্মধ্যে ইবরাহীম খাঁ ছিলেন ষষ্ঠ।

তাহার পূর্বপুরুষগণ ছিলেন টাংগাইলের বাসাইল উপজিলার বাসিন্দা। শিশু বয়সে ইবরাহীম খাঁ মাতৃহারা হইলে পিতা এবং সৎমার স্নেহ-ভালোবাসায় লালিত পালিত হন।

তাহার শিক্ষা জীবন শুরু হয় পাশের গ্রাম লোকেরপাড়া পাঠশালায়। সেই পাঠশালা থেকে হইতেই ইবরাহীম খাঁ নিম্ন ও উচ্চ প্রাইমারী পাস করিয়া ১৯০৬ খৃ: হেমনগর হাই স্কুলে ভর্তি হন।

কিন্তু তিনি যে বাড়িতে থাকিয়া লেখাপড়া করিতেন সেই বাড়ির পরিবেশ লেখাপড়ার অনুকূল ছিল না। এই কারণে তিনি পরবর্তী বছর ১৯০৭ খৃস্টাব্দে পিংনা হাইস্কুলে চলিয়া যান এবং এই স্কুল হইতেই ইবরাহীম খাঁ ১৯১২ খৃ: ম্যাট্রিক পাস করেন।

ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ হইতে ১৯১৬ খৃ: আই.এ পাস করেন।

ইচ্ছা ছিল আলিগড়ে লেখাপড়া করিবেন। কিন্তু জনৈক প্রিয় শিক্ষকের পরামর্শে তিনি কলিকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হইতে গিয়া এক দু:খজনক অভিজ্ঞতা নিয়া ফিরিয়া আসেন।

তাহার অপরাধ ছিল তিনি জাতিতে মুসলমান। পরে তিনি কলিকাতায় রিপন কলেজে বি.এ ভর্তি হন।

কিন্তু থাকিবার জায়গা না থাকায় তিনি কলিকাতার সেন্টপল কলেজে চলিয়া আসেন এবং সেই কলেজ হইতেই ১৯১৮ খৃ: ইবরাহীম খাঁ ইংরেজীতে অনার্সসহ বি.এ পাস করেন।

পরে এম.এ পড়ার আশায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়াছিলেন, কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পড়াশুনায় ইতি টানিতে হয়।

পরবর্তী সময়ে ইবরাহীম খাঁ ১৯১৯ খৃ: প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়া এম.এ পাস করেন এবং ১৯২৩ খৃ: ‘ল’ ডিগ্রী লাভ করেন।

মানসিকভাবে ইবরাহীম খাঁ ছিলেন ঐতিহ্য-সচেতন মুসলমান। স্বজাতির প্রতি ভালোবাসা আর মমত্ববোধই ছিল ইবরাহীম খাঁর প্রতিটি কর্মের প্রেরণার উৎস।

পিংনা স্কুলে অধ্যয়নকালেই ইবরাহীম খাঁ ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং কবি কায়কোবাদের মত ঐতিহ্যসচেতন মুসলিম মনীষীদের সাহচর্যে আসিবার সুযোগ পান।

তৎকালীন পরিবেশ আর পরিস্থিতি ইবরাহীম খাঁকে আত্মসচেতন করিয়া তুলিয়াছিল। এই কারণে সরকারী চাকুরীর নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ইবরাহীম খাঁ কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষক হিসাবে, তাহাও বেসরকারী স্কুলে।

টাঙ্গাইলের করটিয়া হাইস্কুলের হেডমাস্টার হিসাবে যোগ দেন ১৯১৯ খৃস্টাব্দে টাংগাইলের জমিদার মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর অনুরোধে।

ইবরাহীম খাঁ শিক্ষা বিস্তার আর সমাজ সেবার প্রতি ছিলেন বিশেষভাবে নিবেদিত। এই কারণে শিক্ষকতাকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসাবে গ্রহণ করিয়াছিলেন।

অবশ্য করটিয়া হাইস্কুলে চারি বৎসর শিক্ষকতার পর ইবরাহীম খাঁ ১৯২৩ খৃস্টাব্দে ময়মনসিংহ জজকোর্টে আইন ব্যবসায় যোগ দিয়াছিলেন। সেই সময় তিনি করটিয়ার জমিদারদের ছোট তরফের জুনিয়র উকিল নিযুক্ত হইয়াছিলেন। কিন্তু তাহার ওকালতি পেশা তেমন জমিয়া উঠে নাই।

তাই আবার তিনি শিক্ষকতায় ফিরিয়া আসেন।

ইবরাহীম খাঁর প্রচেষ্টায় আর করটিয়ার জমিদার চাঁন মিয়ার সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯২৬ খৃস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় করটিয়া সাদত কলেজ।

ইবরাহীম খাঁ ছিলেন করটিয়া সাদত কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল।

তৎকালে সমগ্র বাংলা, বিহার এবং আসামে সাদত কলেজ ছিল প্রথম মুসলিম প্রতিষ্ঠিত এবং মুসলিম পরিচালিত কলেজ।

আর ইবরাহীম খাঁ ছিলেন প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল।

ইবরাহীম খাঁ অনুভব করিতে পারিয়াছিলেন এই উপমহাদেশের, বিশেষ করিয়া এই বাংলার মুসলিমদের অধ:গতির প্রধান কারণ অশিক্ষা। তাই শিক্ষা দীক্ষায় অনগ্রসর মুসলিমদের বুকে আলো জ্বালাইবার প্রত্যাশা নিয়াই তিনি এক দু:সাহসিক অভিযাত্রায় নামিয়াছিলেন।

করটিয়ার মত এক অজ পাড়াগাঁয়ে কলেজ স্থাপন করিয়া ইবরাহীম খাঁ সফল হইয়াছিলেন। তিনি সাদত কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন দীর্ঘ বাইশ বৎসর।

১৯২৬ খৃ: হইতে ১৯৪৭ খৃ: পর্যন্ত ইবরাহীম খাঁ ছিলেন করটিয়া সাদত কলেজের একজন নিষ্ঠাবান এবং আদর্শবান প্রিন্সিপাল। তাই তিনি ইবরাহীম খাঁ নামেই সমধিক পরিচিত।

স্বদেশ এবং স্বজাতির মঙ্গল কামনাই ইবরাহীম খাঁকে রাজনীতি-মনস্ক করিয়া তোলে। তাই তিনি শিক্ষকতা জীবনের সংগে সংগে রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, রায়ত আন্দোলন, মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান আন্দোলনে ইবরাহীম খাঁ ছিলেন একজন অগ্রসৈনিক। ঐতিহ্য-সচেতন ইবরাহীম খাঁ তাহার রাজনৈতিক জীবনেও দেশ, জাতি এবং ধর্মকে অভীষ্ট করিয়াছিলেন। স্বধর্ম আর স্বজাতির কল্যাণ কামনাই ছিল ইবরাহীম খাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ইবরাহীম খাঁ পূর্ববঙ্গ সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এই পদে ছিলেন ১৯৫২ সাল পর্যন্ত। তখন তিনি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।

ইবরাহীম খাঁ ১৯৪৬ খৃ: প্রাদেশিক আইন পরিষদে, ১৯৫৩ খৃ: পাকিস্তান গণ-পরিষদে এবং ১৯৬২ খৃ: এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ইবরাহীম খাঁ ছিলেন বাংলা কলেজের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী।

ইবরাহীম খাঁর পরিচয় কেবল শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী আর রাজনীতিবিদের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ নহে। তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল সাহিত্যিকও।

অবশ্য তাহার সাহিত্য সৃষ্টির পিছনেও স্বধর্ম আর স্বজাতির কল্যাণ-চিন্তাই ক্রিয়াশীল ছিল। তাহার সব ধরণের লেখাই কেবল শিল্প নয়। এক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের পানে ধাবিত হইয়াছে আর তাহা হইল জাতি-ধর্ম-ঐতিহ্যের কল্যাণ ও সাফল্য কামনা তথা নিপীড়িত মানুষের মঙ্গল ভাবনা।

কবিতা রচনা দিয়া শুরু হইয়াছিল ইবরাহীম খাঁর সাহিত্যিক জীবন। তবে কথা সাহিত্যিক আর নাট্যকার হিসাবেই ইবরাহীম খাঁ সাহিত্য জগতে সমধিক পরিচিত। কর্মজীবনে তিনি নানাদেশ ভ্রমণ করিয়াছিলেন।

সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়া তিনি রচনা করিয়াছেন ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ আর ‘নয়া চীনে এক চক্কর’-এর মত আকর্ষণীয় ভ্রমণ কাহিনী।

… ইবরাহীম খাঁ ইন্তিকালের পূর্বে তাহার শেষ আত্ম-জীবনীমূলক গ্রন্থটি রচনায় রত ছিলেন। কিন্তু তিনি তাহা শেষ করিয়া যাইতে পারেন নাই।

বার্ধক্যজনিত কারণে ইবরাহীম খাঁ ১৯৭৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন।

তথ্যসূত্র ইসলামী বিশ্বকোষ (৪র্থ খন্ড) ॥ [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন – মে, ১৯৮৮ । পৃ: ৪১১-৪১৩ ]

(মুজতবা খন্দকার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বঙ্গভঙ্গ থেকেই বাংলাদেশের প্রবর্তনা

এটা অক্টোবর মাস। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গ বিভাজন কার্যকর হয়! প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কতগুলো দিন আসে, যে দিনগুলো কালের অতলে হারিয়ে যায়না, ধ্রুবতারার মত মধ্যগগনে স্থির হয়ে থাকে। জাতিকে অন্ধকারে পথ চলতে সাহায্য করে।

বঙ্গ বিভাগ যা বঙ্গভঙ্গ নামে সমধিক পরিচিত; বাংলাদেশী জাতীর জীবনে তেমনি একটি ধ্রুবতারা। যা দিক হারা জাতিকে পথের নিশানা বলে দেয়, সঠিক ঠিকানায় পৌঁছতে সাহায্য করে। তাই বঙ্গভঙ্গের তাৎপর্য অনুধাবন করা আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কি এই বঙ্গভঙ্গ?

প্রশাসনিক সুবিধার জন্য, ভারতে নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন বৃহদায়তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে জন্ম হয় পূর্ববঙ্গ আসাম নামক নতুন প্রদেশের যার রাজধানী হয় ঢাকায়। সাদামাটা ভাবে দেখলে এটাই ছিল বঙ্গ ভঙ্গের ইতিহাস। কিন্তু ইতিহাস তো শুধু অতীত রোমন্থন নয়। ইতিহাস অতীত ও বর্তমানের কথোপকথন। সেই কথোপকথন শুনতে হলে ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করতে হবে, বর্তমানের জন্য তার প্রাসঙ্গিকতা নির্ণয় করতে হবে; তবেই সেই ইতিহাস ভাবীকালের ইঙ্গিতবহ হয়ে উঠবে।

ব্রিটিশ আমলে বেঙ্গল, ফোর্ট উইলিয়াম প্রেসিডেন্সির এলাকা ছিল আসাম, পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার, এবং ছোট নাগপুর অঞ্চল নিয়ে! ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৮৬ বর্গমাইলের এই বিশাল অঞ্চল জুড়ে সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা দুরূহ কাজ অনুভূত হওয়ায়, তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করার কথা চিন্তা করেন।

১৮৭৪ সালের ১২ই অক্টোবর তারা প্রথমবার বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ১০টি জেলাকে আলাদা করে পৃথক আসাম প্রদেশ গঠন করেন। জেলাগুলো ছিল কামরূপ, দারাং, নওগা, শিবসাগর, লক্ষ্মীপুর, গাড়োহিলস, খাসিয়া এন্ড জয়ন্তিয়া হিলস, নাগাহিলস, কাছাড় এবং গোয়াল পাড়া। এই বছরই এক সরকারি নির্দেশ বলে সিলেট জেলাকে আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কিছুদিন পর লুসাই পার্বত্য অঞ্চলকেও আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির আয়তন গিয়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল, যা ছিল জার্মানির থেকেও বড় এবং লোকসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৮ মিলিয়ন; যা ছিল ব্রিটিশ শাসিত অন্যান্য প্রদেশগুলোর চাইতে অনেক বেশি। কিন্তু তখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তই ছিল।

এরপর ব্রিটিশ সরকার বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি কে আবার দু ভাগে ভাগ করতে চাইলেন। ১৯০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে লর্ড কার্জন বঙ্গ বিভাগের খসড়া তৈরি করেন, ১৯০৫ সালের জুন মাসে ভারত সচিব সেটা অনুমোদন দেন।

১৯০৫ সালের ৫ জুলাই বঙ্গ বিভাগ প্রচারিত হয়, ১লা সেপ্টেম্বর প্রদেশ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয় এবং ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর করা হয়।

অবিভক্ত বাংলার ১৪টি জেলা, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের সবকয়টি জেলা ও দুটি দেশীয় রাজ্য যেমন ত্রিপুরা, পার্বত্য ত্রিপুরা ও কুচবিহার নিয়ে নতুন প্রদেশের সীমা নির্ধারিত হয়। তাতে নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লাখ। যার মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। নতুন প্রদেশটির নামকরণ করা হয় পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশ।

ব্রিটিশ সরকারের নতুন প্রদেশ করার উদ্দেশ্য ছিল বিশাল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা। কিন্তু পূর্ববঙ্গের অবহেলিত মুসলমান ও নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায় এই বঙ্গভঙ্গের মধ্যে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের শুভ সূচনার ইঙ্গিত লক্ষ্য করলেন। তারা ভেবেছিলেন, নতুন প্রদেশ গঠনের ফলে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, কৃষি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পূর্ববঙ্গের উন্নতি তরান্বিত হবে ফলে তারা লাভবান হবেন।

প্রকৃতপক্ষেই বঙ্গভঙ্গের প্রাক্কালে পূর্ববঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায় এবং অবর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। তখন পরিস্থিতি এমনি ছিল যে জমিদার মানেই বর্ণ হিন্দু, খাতক মুসলমান আর যোতদার হিন্দু, চাষা মুসলমান। উকিল-ডাক্তার হিন্দু, মক্কেল-রুগী মুসলমান। অফিসার হিন্দু আর ঝাড়ুদার, চৌকিদার, পিয়ন, চাপরাশি মুসলমান। পৃথিবীর ইতিহাসে এটা ছিল এক অমানবিক ঘটনা।

শতাব্দীব্যাপী দুটা জাতি একসঙ্গে পাশাপাশি বাস করেছে; অথচ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে একশ্রেণী চালিয়েছে নির্যাতন এবং অপরজন হয়েছে শুধুই নির্যাতিত, অধঃপতিত।

বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার ফলে নির্যাতিত মুসলমানরা ভাবলেন, ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানী হওয়ার পর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর চালু হলে তাদের ভাগ্য ফিরাবার সুযোগ আসবে। কোর্ট কাচারি ঢাকাতেই হবে, তাদের কলকাতায় দৌড়াতে হবেনা। রাস্তাঘাটের উন্নতি হবে। শিক্ষার উন্নতি হবে। নতুন নতুন স্কুল কলেজ হবে। ঢাকা চট্টগ্রামে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। তারা কলকাতার শোষণবঞ্চনা থেকে মুক্ত হবে।

গুড়ে বালি!

ফুসে উঠলেন দুই বঙ্গের কায়েমি স্বার্থবাদী বর্ণ হিন্দু বাবু সম্প্রদায়। জমিদার বাবুরা ভাবলেন, বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলিম প্রজাপ্রধান পূর্ববঙ্গের মানুষ শিক্ষিত এবং সচেতন হয়ে উঠলে জমিদারি শাসন শোষণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এছাড়াও ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুরা ভাবলেন, ধর্মগত ভাবে তারা সংখ্যালঘু জনসমষ্টিতে পরিণত হওয়ায় নতুন প্রদেশে তাদের কায়েমি স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে!

সুতরাং বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার সাথে সাথেই তারা প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন। ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক সরল চট্টোপাধ্যায় তার ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্রমবিকাশ’ বইতে লিখেছেন, “বঙ্গ বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্য সভাসমিতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।

১৯০৩ এর ডিসেম্বর থেকে ১৯০৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, ছোট বড় এবং অতি বিশাল প্রায় দুহাজার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী সভায় বঙ্গের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।” কবি রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর রাখী দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ক্রমে ক্রমে সভা সমিতি এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের আন্দোলন, স্বদেশী নাম গ্রহণ করে বিলাতি পণ্য বর্জন এবং অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এবং সাথে সাথে সুরেন ব্যানার্জি, বারীন ঘোষ, অরবিন্দ ঘোষ, তিলক প্রমুখ চরমপন্থি কংগ্রেস নেতাদের নেতৃত্বে এই স্বদেশী আন্দোলন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে।

এই স্বদেশী আন্দোলনে পূর্ববঙ্গের নিম্নবর্ণের হিন্দুশ্রেনীর আশানুরূপ সাড়া না দেয়ায় বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় এক কৌশল অবলম্বন করেন। তারা বঙ্গকে ‘কালীমাতার’ রূপ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বঙ্কিম চন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’ কে জাতীয় শ্লোগানে রূপান্তরিত করেন এবং বর্গী শিবাজীকে জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। যার ফলে স্বদেশী আন্দোলন পুরাপুরি হিন্দু জাতীয়তাবাদী এবং হিন্দু পুনর্জাগরণবাদী আন্দোলন হিসাবে গড়ে ওঠে, যা ছিল ঘোর সাম্প্রদায়িক এবং পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগুরু মানুষের স্বার্থবিরোধী আন্দোলন।

ভারতীয় গবেষক অমলেন্দু দে তার ‘বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ’ বইতে লিখেছেন, “কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্র নন্দী এক প্রতিবাদ সভায় বলিলেন, নতুন প্রদেশে মুসলমানেরা হবে সংখ্যাগুরু আর বাঙালিরা (মানে হিন্দু) হবে সংখ্যা লঘিষ্ঠ, ফলে স্বদেশে আমরা প্রবাসী হব। আমার জাতির ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমি উদ্বিগ্ন।”

নতুন প্রদেশের গতিধারা যখন সবেমাত্র শুরু হয়েছিল, সেই মুহূর্তেই মুসলমানদের আশায় গুড়ে বালি ছিটিয়ে সবকিছু তছনছ করে দেয়া হল। আইনজীবী লেখক বিমলানন্দ শাসমল তার ‘ভারত কি করে ভাগ হল’ বইতে লিখেছেন, “বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ছিল সন্দেহাতীত ভাবে মুসলমান বিরোধী এবং গভীরভাবে মুসলমান স্বার্থের পরিপন্থী। এই আন্দোলনের তাগিদে যে সকল সন্ত্রাসবাদী বিপ্লববাদী নেতা কর্মক্ষেত্রে প্রকাশিত হলেন, তারা সকলেই ছিলেন গভীর ভাবে মুসলমান বিরোধী।

মওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর ‘ইণ্ডিয়া উইন্স ফ্রীডম’ বইতে লিখেছেন, বিপ্লববাদীরা যে শ্রেণী থেকেই আসুক না কেন প্রত্যেকেই ছিলেন মুসলমান বিরোধী।”

আমরা ভুলে গেলাম!

বঙ্গভঙ্গের পথ ধরেই মুসলমানদের জাতীয় চেতনার স্ফুরণ ঘটে। বঙ্গভঙ্গের পথ ধরেই মুসলিম হোমল্যান্ড প্রতিষ্ঠার আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। বঙ্গভঙ্গের পথ ধরেই ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ হয় বাংলাদেশ নামক ৯৯% মুসলমানের নতুন ভূখণ্ডের অভ্যুদয় হয়। অতএব বঙ্গভঙ্গ থেকেই বাংলাদেশের প্রবর্তনা। বঙ্গভঙ্গ ই বাংলাভাষী মুসলমানদের চেতনার সেই সুউচ্চ কুতুব মিনার, যার চূড়ায় দাঁড়ালে আমরা শত্রু মিত্র চিনতে পারতাম, সঠিক পথের দিকনির্দেশনা পেতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আধিপত্যবাদীদের দেশীয় অনুচররা বঙ্গভঙ্গ মিনারের চারপাশে দেয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস আজ অন্ধকারে ঢাকা।

স্বাধীন বাংলাদেশের জমিনে আজ আবার ব্রাহ্মণ্যবাদীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। স্বাধীন দেশের জলসীমা তাদের দখলে, সমুদ্রসীমা তাদের দখলে, রাস্তাঘাট তাদের দখলে, সীমান্ত অরক্ষিত, দেশের ভিতরে তাদের পোষা ভোট বিহীন সরকার না চাইতেই দেশের সব কিছু প্রভুর হাতে তুলে দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের জনগণ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানরা আবার বঙ্গভঙ্গ পূর্ব জাজিম তোলা আসনে বসার ভাগ্যকে বরণ করে নেবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। চিন্তাই করছেনা এর পরিণতি কি!

আল কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেন:-

‘স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, তখন তোমরা ছিলে খুবই অল্পসংখ্যক, জমিনে তোমাদেরকে প্রভাব প্রতিপত্তিহীন মনে করা হইত। তোমরা ভয় করিতেছিলে যে লোকেরা তোমাদের না নিশ্চিহ্ন করিয়া দেয়। পরে আল্লাহ তোমাদেরকে আশ্রয়স্থল যোগাড় করিয়া দিলেন, নিজের দেয়া সাহায্য দ্বারা তোমাদের হাত কে মজবুত করিয়া দিলেন, এবং তোমাদেরকে উত্তম রেজেক দান করিলেন, এই আশায় যে সম্ভবত তোমরা শোকর জ্ঞাপনকারী হইবে’। (আনফাল:২৬)

(আরিফুল হক, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে এডহক নিয়োগের দাবিতে কলেজ শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটিজনিত কারণে কাউকে আত্তীকরণ বঞ্চিত না করে কলেজ সরকারিকরণের তারিখে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভূক্ত করে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এডহক নিয়োগের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের আদালত প্রাঙ্গনে জেলা সরকারি কলেজ সমিতি এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন, মো. জামিল হোসেন, ডাঃ আব্দুল জলিল, মো. শহীদুল্লাহ, মীর ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলের পাশে থেকে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির দাবি গুলো মেনে নিবেন এমন প্রত্যাশা করেন বক্তারা। অন্যথায় পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীর জুয়েল কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক

টাঙ্গাইলে কালিহাতী উপজেলার নগরবাড়ী গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ আহাম্মদ উল্লাহ জুয়েলকে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কালিহাতী নগরবাড়ী গ্রামের (অবঃ) শিক্ষক শাজাহান মিয়ার ছেলে আহাম্মদ জুয়েল ১৯৯৫ সালে নারান্দিয়া টি আর কে এন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি- ১৯৯৮ সালে, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ২০০৩ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ২০০৫ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করেন।

তিনি সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যিালয় স্যার এফ রহমান হল’র ছাত্র লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

তার বাবা একজন শিক্ষক এবং বর্তমানে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদে আছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবনির্বাচিত বন ও পরিবেশ আহাম্মদ উল্লাহ জুয়েল জানান, আমাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত করায় আমাদের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ’র সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবুকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর সম্মেলনে নির্মল রঞ্জন গুহকে সভাপতি এবং আফজালুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিলে তা অনুমোদন পাওয়ার পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে এ কমিটি ঘোষণা হয়।

(জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা: টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্য বিধি মানায় মানুষের আগ্রহ নেই, তদারকি জনসচেতনতায়

টাঙ্গাইল জেলা শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে চলছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। সিভিল সার্জনের কার্যালয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে নানা পরামর্শের মধ্যে সীমিত রেখেছে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম।

সরেজমিনে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার(১৯ অক্টোবর) সকালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অধিকাংশই মাস্ক না পড়ে হাসপাতালে ঢুকে পড়ছে। গাদাগাদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছে।

চিকিৎসকের দরজার সামনেও গাদাগাদি করে দাঁড়ানো রোগীদের দীর্ঘ লাইন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনরা ভীর করে রয়েছেন। তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন প্রয়োজনই মনে করছেন না।

হাসপাতাল আঙিনায় অভ্যাগতদের হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে জরুরি বিভাগের ভেতরে রশি টাঙিয়ে চিকিৎসক ও কর্মীরা রোগীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালে গেটে দাঁড়িয়ে নুরু নামে এক সিকিউরিটি গার্ড সবাইকে মাস্ক পড়ে ভেতরে যেতে অনুরোধ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাস্ক পড়লেও অধিকাংশই মাস্ক থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছেন। হাসপাতালের অঙিনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা সহ ছোট ছোট গণপরিবহণ রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সদর উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয়েছে।

মাঝে মাঝে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। তারপরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা নেই।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশে তাপমাত্রা মেপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়। কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়।সেখানে ঢুকতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

আদালতে বিচারক, অ্যাডভোকেট, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাদি-আসামি ও তাদের স্বজনদের স্বাস্থ্য বিধি মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান জানান, মানুষের করোনা ভীতি অনেকটাই কেটে গেছে।

আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে এ আশঙ্কায় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এখন টাঙ্গাইলেই করোনা শনাক্ত করা হচ্ছে। অচিরেই জেনারেল হাসপাতালে ‘আইসিইউ’ চালু করা হবে। শীতকালে করোনার প্রকোপ মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র, প্রায় এক ডজন কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন।

সেজন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়নে তৎপর। প্রবেশে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। তাপমাত্রা নির্ণয় ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে ভেতরে ঢুকতে হয়।

পৌরসভা মিলনায়তনে সভা-সমাবেশ এবং সব বিভাগে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়ে থাকে।

পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ জানান, তিনি সহ পৌরসভার অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পৌরসভায় স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতে সবাই সচেতন। তবে জনসাধারণের মধ্যে এখনও করোনা বিষয়ে সচেতনতা আসেনি।

আগে পৌরসভার সামনে সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হাত ধোয়াকে অনেকে ঝামেলা মনে করে, তাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল শহরের ময়মনসিংহ সড়কে জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী দুপুরের খাবার খেতে চলে গেছেন। একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কয়েকজন ঠিকাদার ও বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।

দক্ষিণ পাশেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়। সেখানে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা কেউ কাজ করছেন, কেউ অলস সময় কাটাচ্ছেন। কর্মকর্তারা কেউ প্রকল্পের সাইটে গেছেন, কেউ নামাজ ও খাবার খেতে।

টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, তারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন। তবে অভ্যাগতদের অধিকাংশই শুধুমাত্র মাস্ক পড়ে আসছেন।

হাত ধোয়ার ব্যবস্থা তারা রেখেছেন, কিন্তু হাত ধোয়ায় অভ্যাগতদের আগ্রহ নেই। তারা মাঝে মাধ্যে অভ্যাগতদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখেন।

শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডে মনোয়ারা ক্লিনিকে দেখা যায়, রোগী বা স্বজনরা ভেতরে ঢুকার সময় তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, সবাইকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাস্ক না পড়ে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা।

ময়মনসিংহ রোডের এশিয়া হসপিটাল, সরকার হসপিটাল, বাসটার্মিনালের সোনিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডাগনস্টিক সেন্টার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, মেইন রোডের আয়শা খানম মেমোরিয়াল হাসপাতাল সহ অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা।

শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় অবস্থিত ব্যুরো বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে প্রায়ই সভা-সমাবেশ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক পড়ে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে বা হাত ধুয়ে তাপমাত্র মেপে ভেতরে যেতে হয়। ময়মনসিংহ সড়কের বেসরকারি সংস্থা সেবা টাওয়ারেও একই অবস্থা।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কলেজছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কাগুজিআটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কলেজছাত্রী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতিতার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার।

নির্যাতিতা জানায়, সোমবার সন্ধ্যার সময় উপজেলার নুটুরচর এলাকার স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কাগুজী আটা গ্রামের ছাইফুল, এনামুল, খালেদ, জালাল ও আলতাফ তার পথরোধ করে।

পরে তার মুখ চেপে ধরে পাশে থাকা একটি নৌকায় করে তুলে চরের ভেতর পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ভোরে তাকে নদীর পারে ফেলে রেখে পাঁচজন পালিয়ে যায়।

পরে অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিতা বাড়ি ফিরে পরিবারকে ঘটনাটি জানালে স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

গণধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে কেউ এখনও অভিযোগ করেননি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

এখন ভাড়ায় সাংবাদিক পাওয়া যায়!

শিরোনাম দেখে কি চমকে যাচ্ছেন? ভাবছেন, এ কেমন শিরোনাম!

আগের দিনে গ্রামে ভাড়ায় বাইসাইকেল পাওয়া যেতো। এখন তো হরদম মোটর সাইকেল, অটোবাইক ও ট্যাক্সি ভাড়ায় (রেন্ট এ কার) পাওয়া যায়। বিয়েবাদক বা নানা অনুষ্ঠানে ভাড়ার ডেকোরটরে টেবিল, চেয়ার, ফ্যান, গেইট, মাইক্রোফোন বা মঞ্চ মিলে। আরও কতো কী ভাড়ায় মিলে! হাত বাড়ালেই শুধু বউ ছাড়া সব মিলে। অবশ্য গোপনে সেটি মিললেও ভাড়ারী ও ভাড়াটের তা বলতে মানা। কারণ প্রচলিত আইনে এমন ভাড়া জায়েজ নয়।

বাড়ি দখল, জমি দখল, বিল দখল, টেন্ডার দখল, মঞ্চ দখল বা দখলমুক্ত দখলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বা মাস্তান তো সর্বত্র মিলে। শোনা যায়, শহরে কেউ মারা গেলে কাঁদার জন্য লোক ভাড়া করা যায়। রাজনীতিকরা টোকাই বা বস্তির মানুষ ভাড়া করে মিছিল সমাবেশ, অবরোধ করেন সারা বছর।

কিন্তু ভাড়ায় সাংবাদিক খাটানো অথবা সাংবাদিকদের ভাড়ায় খাটাখাটনির ঘটনা সাম্প্রতিক। দেশে এখন অনেক মিডিয়া হাউজ। প্রিন্ট হাউজ, টেলি হাউজ, অনলাইন হাউজ। সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইন টিভি। ইউটিউবের কথা নাইবা বললাম।

শাহেদ আলীর মতো নর, আর লোপা তালুকদারের মতো নারীরাও রীতিমতো মুজিবকোট পড়ে দলীয় পরিচয়ে মিডিয়া হাউজের মালিক বনেছেন। তাদের মতো আরো কতো ধান্দাবাজরা যে মিডিয়া জগতে বিচরন করছেন, হাউজ চালাচ্ছেন, সেই খবর কে রাখেন!

আগে জানতাম, ঢাকা শহরের বড় বড় সাংবাদিকরা মালিকের কথায় ভাড়া খাটেন। এখন এটি জেলা উপজেলায় বিস্তৃত। এখন পরিবেশটা এমন যে, আপনি গ্রামগঞ্জে সাংবাদিকতা করতে চানতো আপনাকে ভাড়া খাটতেই হবে। নতুবা আপনাকে ভাড়ায় খাটানো হবে। যদি না খাটেন তো আপনি স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনীতিকদের কোপানলে পড়বেন।

নতুবা আপনার পেছনে ভাড়াটে সংবাদকর্মীদের লেলিয়ে দেয়া হবে। আপনাকে তারা উত্যক্ত করে কোনঠাসা করে ফেলবেন।

আগের দিনে স্কুল বা কলেজ শিক্ষক, আইনজীবি, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী, কবি-সাহিত্যিক বা সজ্জনরা গ্রামগঞ্জে সাংবাদিকতা করতেন। কিন্তু এখন আপনার জেলা- উপজেলা বা মহানগরে মিলিয়ে দেখুনতো কারা সংবাদকর্মী হিসাবে কাজ করেন।
মাছের পঁচন যদি মাথা থেকে, তবে মিডিয়ার পঁচন ও লেজ থেকে নয়।

খোদ রাজধানী ঢাকাতে যদি হাজার হাজার সংবাদকর্মী অর্ধ বেকার বা পুরো বেকার থাকেন তাহলে মফস্বলের হরিজন, যারা ওই বেকার বা অর্ধ বেকারের ফুটানি বা ফুট ফরমায়েশে নিয়োজিত তাদের দশাসই ভাবুন একবার!

খোদ রাজধানীর ওই বেকার পুতরা যদি নিজ পেশার হরিজনদের ফুটফরমায়েশে খাটান, তাহলে রাজা, রাজাধিরাজ, রাজনীতিবিদরা কেন হরিজন দিয়ে জুতো টানাবেন না! অথবা ভাড়া খাটাবেন না!

মফস্বলেও আজ শত শত মেধাহীন, ব্যক্তিত্মহীন, কুজাত ও বেয়াদবকূল সংবাদ কর্মীর পেশা দখল করে বসে আছেন।

এদের ক্রমবর্ধমান দাপটে মফস্বল শহরে কোন পেশাদারিত্ব গড়ে উঠছেনা। যোগ্যদেরও কাজ করার সুযোগ থাকছেনা। ভাড়ায় খাটা কথিত সাংবাদিকদের দিগন্ত দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে। নেতাদের জুতো টানার রেওয়াজটা এখন স্থায়ী রীতিতে পরিণত হচ্ছে।

(জয়নাল আবেদীন, সভাপতি গোপালপুর প্রেসক্লাব/ ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টে গেচ্চুয়া একাদশ চ্যাম্পিয়ন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে দোখলা বাজার কমিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০ ফাইনালে গেচ্চুয়া একাদশ বানরিয়া একাদশকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন দলকে দেয়া হয়েছে ফ্রিজ। রানার আপ বানরিয়াকে দেয়া হয়েছে এলইডি টিভি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর বনের দোখলা পিকনিক স্পটের মাঠে এ টুর্নামেন্টর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

খেলার প্রথমার্ধে বানরিয়া দুই গোল করে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্থে সমতা ফিরিয়ে আনে গেচ্চুয়া একাদশ। খেলার শেষ মিনিটে দলের অন্যতম খেলোয়াড় সঞ্চারের দেয়া গোলে চ্যাম্পিয়ান হয় দলটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু। সহকারি বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার, উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, শোলাকুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন,  ফুলবাগচাল ইউপি  চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু ও অরণখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ছিলেন বিশেষ অতিথি। গারো নেতা ও বাজার কমিটির সভাপতি উইলিয়াম দাজেল এতে সভাপতিত্ব করেন।  বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক  আব্দুল মান্নান, ফরমান আলী,  রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা আব্দুস সাত্তার মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অসংখ্য  দর্শক  নারী পুরুষ  ফাইনাল এ খেলা উপভোগ করেন।

করোনা মহামারি এ বৈশ্বিক সংকটে  তরুণদের বিপদগামী হতে দূরে রাখা, খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সুস্থ জাতি গঠনে আগ্রহী ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরির লক্ষ্যে বাজার কমিটি প্রথমবারের মতো এমন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। ২ অক্টোবর শুক্রবার এ  টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হয়। এতে ১৬ টি দল অংশ নেয়।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন বানরিয়া দলের অধিনায়ক পিজার। খেলা শেষে সন্ধ্যায় অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের অধিনায়কের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী রিপন!

স্বামীর পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ গৃহবধুর পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভা এলাকায়।

এ ব্যাপারে গত ২৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে গৃহবধূর ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গৃহবধূর স্বামীসহ তিন জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গৃহবধূ সালমার বাবার বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের কাইকারচালা গ্রামে। তার বাবার নাম সাহাবউদ্দিন। ১৬ বছর আগে সখীপুর উপজেলা সদরের পৌরসভা এলাকার ৩নং ওয়ার্ডে রিপন সিকদারের সাথে সালমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সিহাব (১৩) নামে পুত্র সন্তান এবং রোজা (৮) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী মাদকাসক্ত থাকায় প্রায়ই সালমাকে শারিরিক নির্যাতন করত।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে, গৃহবধূর স্বামী রিপন সিকদারের সাথে বাসার ভাড়াটিয়া শিরিন আক্তারের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাকে কয়েকবার আপত্তিকর অবস্থায় দেখে স্বামীকে সর্তক করলেও সে কর্ণপাত করেনি। উল্টো বিষয়টি নিয়ে জানাজানি করার কারণে তাকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

তারই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর গৃহবধূর স্বামী ও তার প্রেমিকা মিলে রড দ্বারা মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে পড়ে এবং চাকু দিয়ে গলার শ্বাসনালী কেটে ফেলে। পরে বাড়ির আশে পাশের লোকজন তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গৃহবধূর ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ির লোকজনকে মৃ’ত্যুর খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়া মাত্রই আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই তড়িঘড়ি করে তাকে দাফন করা হয়। এই এলাকায় প্রচার করা হয় যে গরুর শিংয়ের আঘাতে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এলাকার রটানো ঘটনাটি ঠিক নয়। পরকিয়ায় বাধা দেয়ায় আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

চীন বাদ, ঢাকায় ট্রায়াল হবে ভারতীয় টিকার

অর্থকড়ি খরচ করে কোনো ট্রায়ালে অংশ না নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বাংলাদেশে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে চীন উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ টিকার ট্রায়াল। সেই প্রেক্ষাপটে আপাতত চীনকে ট্রায়াল থেকে বাদ রেখেই ভারত উদ্ভাবিত করোনা টিকা পেতে দৌড় শুরু করেছে ঢাকা।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও কূটনীতির প্রভাব বিবেচনায় টিকা প্রশ্নে দিল্লিও ঢাকাকে সহযোগিতার পথে অনেকটা এগিয়ে এসেছে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ট্রায়াল, উৎপাদন এবং বণ্টনে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ নিয়ে গত মাসের সমাপনীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক জেসিসিতে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এবং দিল্লির বিদেশমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের যৌথ নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উভয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের জয়েন্ট ট্রায়াল, কো- প্রোডাকশন অ্যান্ড জয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

সেগুনবাগিচা বলছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় শিগগির দিল্লির একটি কারিগরি টিম আসছে। নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি দলটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিসিডিডিআর,বি’র সঙ্গে আলোচনার করবে। সে মতেই হাইকমিশন যোগাযোগ এবং ফলোআপ করছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

সেগুনবাগিচা বলছে, মোটাদাগে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসি বা বৈশ্বিক রাজনীতির বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখভাল করলেও বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালসহ সহজে টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে দরকষাকষিতে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে। সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেকে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা দেখভালকারী বাংলাদেশি এক কূটনীতিক বলেন, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ ঠেকাতে ভ্যাকসিনে জোর দিচ্ছে দুনিয়া। বলতে গেলে অগ্রাধিকার বিবেচনায় ভ্যাকসিন উদ্ভাবন, হু’র অনুমোদনপ্রাপ্তি এবং তা উৎপাদন-বণ্টন প্রশ্নে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা চলছে বিশ্বজুড়ে। যে যার মতো করে এটি পেতে অস্থির। দেশ ভেদে এর ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিত রয়েছে। তবে এটা সবাই মানছেন যে, ফ্রি-তে কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা যুক্ত হয়ে গেছে।

কার আগে কে ভ্যাকসিনের সফল উদ্ভাবন প্রমাণ করতে পারবে, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কে আগে হু’র অনুমোদন পাবে এবং কোন রাষ্ট্র কাকে, কত আগে ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করতে পারবে? তার ওপর আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে কার কি প্রভাব হবে তা অনেকখানি নির্ভর করছে।

ওই কর্মকর্তার মতে, ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসিতে এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)’-ই নিয়ামক প্লেয়ার। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও মারাত্মক। সেখানে পশ্চিমা প্রভাবশালীরা তো বটেই, এশিয়ার দুই শক্তি চীন ও ভারতের রীতিমতো পেইড লবিস্ট রয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে জেনেভার রাজনীতিতে কার কৌশল জয়ী হয়।

বাংলাদেশে চীন ও ভারতের টিকার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, চীন এখন বলেছে, যে সময়ে তারা বাংলাদেশকে ট্রায়ালের প্রস্তাব দিয়েছিল সেই সময়ে বেইজিং কিছু বরাদ্দ রেখেছিল, বাংলাদেশ তা পেতো। কিন্তু ঢাকার সিদ্ধান্ত নিতে সময়ক্ষেপণের জন্য চীনের ওই বরাদ্দ অন্য দেশে চলে গেছে। এখন বাংলাদেশ ট্রায়ালে অংশ নিতে চাইলে তাতে সরকারকে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। ট্রায়াল না হলেও চীনের টিকা প্রাপ্তিতে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

ভারতীয় টিকার ট্রায়াল বিনা খরচে হবে কি-না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। দু’দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলেছেন। ঢাকা আশা করছে বিনা খরচেই দিল্লি বাংলাদেশে টিকার ট্রায়াল করবে, যা যৌথ উৎপাদন, বণ্টন এবং পরবর্তী বাণিজ্যে পুষিয়ে নেয়া যাবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-