প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ( ডিপিই) অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নিয়োগ শাখার সহকারী পরিচালক আতিক বিন সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ডিপিই থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক’ এর শূন্যপদ এবং জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিডিইপি-৪ এর আওতায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য রাজস্বখাতে সৃষ্ট ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ এর ১৩তম গ্রেডে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে। তবে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে ২৪ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন হবে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ এর গ্রেড ১৩ অনুযায়ী ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রার্থীদের বয়স ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে এ বয়সসীমা হবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ৩২ বছর।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ-সহ স্নাতক বা সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।

আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। আগামীকাল চারটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (http://dpe.teletalk.com.bd)।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ হাজার ৬৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং ৬ হাজার ৯৪৭ শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

 

সাংবাদিকতায় স্যাটায়ার

কার্টুন: আল হুদুদ। (কার্টুনটি আরবি অনুসারে করা। ফলে ডান থেকে বামে দেখুন।)

স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গ আপনার সাংবাদিকতাকে বিনোদনময় করে তুলতে পারে, নতুন পাঠকদের কাছে প্রতিবেদনকে করে তুলতে পারে আরো বোধগম্য। অবশ্য ভুয়া খবরের এই যুগে স্যাটায়ার তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। তাই মাথায় রাখতে হবে এটি যেন ভালো সাংবাদিকতা থেকে পাঠকের মনোযোগ না সরিয়ে, বরং তাকে আরো শক্তি যোগায়।

প্রশ্ন হলো: আপনি খবরের শিরোনামকে ব্যঙ্গধর্মী পাঞ্চলাইন (যে বাক্য গভীরভাবে নাড়া দেয়) কিভাবে বানাবেন?

“যদি মানুষকে সত্য জানাতে চাও, তাহলে হাসাও, নইলে তারাই তোমাকে মেরে ফেলবে।” ― অস্কার ওয়াইল্ড       

স্বৈরশাসক বা বাকস্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরতে চান যারা, তারা স্যাটায়ার পছন্দ করেন না। একারণে স্যাটায়ারিস্ট এবং কার্টুনিস্টরা তাদের কোপানলে পড়েন সবার আগে। মনে রাখবেন, “হাসি” এমন এক বস্তু যা চরম আশাহীনতার মধ্যেও শক্তি যোগায়;  যেখানে ভয়ের রাজত্ব, সেখানে মানুষের মনে সাহস জাগায়।

যদি দক্ষতার সাথে তৈরি করা যায়, তাহলে স্যাটায়ার তুলে ধরতে পারে রুঢ় সত্য, প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়াতে পারে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, বিষয়বস্তুকে করে তুলতে পারে প্রাণবন্ত, আর পাঠককে বিনোদন দিতে পারে এমনভাবে যা সোজাসাপ্টা সাংবাদিকতার মাধ্যমে সম্ভব নয়।

জার্নাল অব কমিউনিকেশন থেকে ২০১৭ সালে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে – রাজনীতিতে যাদের আগ্রহ নেই, তাদের মনেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এই স্যাটায়ার। এটি তাদের মনে বিশ্বাস যোগায়; ভাবতে শেখায়, চাইলে তারাও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এতো গেল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা। কিন্তু এর কিছু খারাপ দিকও আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় স্যাটায়ারের প্রভাবে পাঠকের মনোভাব আরো উগ্র ও রক্ষণশীল হয়ে ওঠে, এটি উন্মাদনা তৈরি করে, এবং সমাজে রাজনৈতিক বিভক্তি আরো বাড়িয়ে তোলে। ( অবশ্য এসব গবেষণা হয়েছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তাদের দেশের দর্শকদের ওপরে এবং সেখানকারই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।)

স্যাটায়ার মানে নিছক কৌতুক নয়। সেখানে মজা থাকবে অবশ্যই, কিন্তু একই সাথে থাকবে শক্তিশালী বক্তব্য। তাতে থাকতে হবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর অন্তদৃষ্টি, আর পাঠকের মনে ধাক্কা দেয়ার মত ক্ষমতা। এসব বিষয় নিয়ে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের স্বাধীন সাংবাদিকতা কর্মসূচির প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আমিনা বুবিয়া কথা বলেছেন খ্যাতনামা দুই স্যাটায়ারিস্টের সাথে। তাদের একজন ইসাম উরাইকাত, অপরজন হুয়ান রাভেল।

ইসাম হলেন আল হুদুদ নামের একটি ব্যাঙ্গধর্মী গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা। তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের অনিয়ন (বিখ্যাত স্যাটায়ার সাইট) বলে ডাকেন অনেকেই।  আর হুয়ান হলেন ভেনেজেুয়েলার কন্টেন্ট যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান প্লপ মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী। তিনি একই সাথে ব্যঙ্গধর্মী গণমাধ্যম এল চিগুয়ের বাইপোলার পরিচালনা করেন।

ইসাম বলুন তো, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠকদের কাছে টানতে স্যাটায়ার এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কেন?

ইসাম উরাইকাত: স্যাটায়ার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি একসাথে অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে। যেসব বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না, সমাজের সেসব ইস্যুকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রিত। তাই এখানে এর গুরুত্ব আরো বেশি। এটি এমন এক ফরম্যাট যা সেন্সরশিপ এড়াতে পারে, কারণ কর্তৃপক্ষ জানে না কিভাবে একে সামাল দিতে হবে।

আল হুদুদের প্রতিদিনকার কার্যক্রম কেমন?

 উরাইকাত: আমরা প্রতিদিন এডিটোরিয়াল মিটিং করি। আলোচনা করি, মধ্যপ্রাচ্যে ঐ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে। এজন্য আমাদের ব্যাপক মিডিয়া মনিটরিং করতে হয়। সেখান থেকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বাছাই করতে হয়। তারপর নিজেদের প্রশ্ন করি: “এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান কি হওয়া উচিত? আমারা কী বলব? কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? এখানে সমস্যা কোথায়? মোচড় কোনখানে?” এভাবেই আমরা অ্যাঙ্গেল খুঁজে বের করি। তারপর আমরা কৌতুক কিভাবে করব, সেই ভাষা ঠিক করি।

কৌতুক বা মজা খুঁজে বের করা খুব কঠিন নয়। এজন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পথে চিন্তা করা শিখতে হবে। বিষয়টি অনেকটা মগজের ভেতরে থাকা কিছু ছাঁচ বা টেমপ্লেটের মধ্য থেকে সঠিকটিকে বেছে নেয়ার মত। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে সম্পাদকীয় অবস্থান ঠিক করা।

মতামত পাতায় কিছু লেখার আগে যা করতে হয়, এটিও ঠিক তেমনই। প্রত্যেক দিন নতুন ব্যঙ্গধর্মী লেখা প্রকাশের জন্য আমরা একটি পদ্ধতি তৈরি করে নিয়েছি। মাসিক ছাপা সংষ্করণেও এই পদ্ধতি কাজে আসে। স্যাটায়ার কিভাবে লিখতে হয়, কোনটি ভালো স্যাটায়ার আর কোনটি মন্দ – এসব বিষয় ব্যাখ্যা করে আমরা ৩০ পাতার একটি নীতিমালা বানিয়ে নিয়েছি। এটি তৈরি করতে আমাদের প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে। দলে নতুন কোনো সদস্য যোগ দিলে, তাকে আগে এই নীতিমালা পড়ানো হয়।

ভালো স্যাটায়ার তৈরির সেরা রেসিপি কী?

উরাইকাত: কঠিন কোনো বিষয়কে মজা করে উপস্থাপনই হচ্ছে স্যাটায়ারের প্রাণ। আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শিরোনাম। যে শিরোনাম ছাপা হয়, তাতে পৌঁছানোর আগে আমরা কোনো কোনো সময় ৩০টি পর্যন্ত বিকল্প নিয়ে কাজ করি। গল্প যত গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে গল্পের প্যাকেজিং কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

স্যাটায়ার কি শেষ পর্যন্ত লেখকের ব্যক্তিত্ব ও রসবোধের ওপরই নির্ভরশীল নয়? 

উরাইকাত: ব্যক্তিত্ব অনেক সময় ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি করে। কারণ আপনাকে যা বলতে হবে, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে উচ্চারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায়, অনেক স্যাটায়ারিস্ট সঠিক আধেয় বা শব্দের চেয়ে তার ব্যক্তিগত কারিশ্মার ওপর নির্ভর বেশি করেন। আমাদের দলে অবশ্য বেশিরভাগ সদস্যই লাজুক প্রকৃতির। মনে রাখবেন, স্বভাবজাত কৌতুকবোধ না থাকলেও ব্যঙ্গধর্মী লেখা কিভাবে লিখতে হয়, অনেকে তা শিখে নিতে পারেন। আমরা ব্যঙ্গধর্মী সংবাদ লেখার ওপরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করি।

প্রশিক্ষণার্থীদের ছোট ছোট অনুশীলন করতে দিই, আমরা কিভাবে কাজ করি দেখার সুযোগ করে দিই, সম্পাদকীয় বৈঠকে নিয়ে তাদের সাথে স্টোরি আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করি। ভালো কন্টেন্ট তৈরির জন্য সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এখান থেকে তারা বুঝতে পারে।

আল হুদুদে শুধু একটি কথাই বলা বারণ: “এটা মজার হয়নি।” এমন সমালোচনা দিয়ে কাউকে কিছু শেখানো যায় না।

আপনাদের স্টোরি যে সঠিক বার্তা দিচ্ছে বা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেনা, তা কিভাবে নিশ্চিত করেন? 

উরাকিয়াত: আপনাকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ অনেক সময় স্যাটায়ার পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে তোলে। দেখা যায়, তার ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে এবং সেই ভুলব্যাখ্যার কারণেই সেটি ভাইরাল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে আমরা ১১টি নীতিমালার একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। (এর মানে এই না আমরা ভাষাকে নরম করি। তবে চেষ্টা করি, যাতে ভাষার ব্যবহারে অতিরঞ্জন না থাকে। ১১টি নীতির মধ্যে ১০টি মানা হলো, আর রিপোর্ট ছেড়ে দিলাম – এমন নয়। আমরা নিশ্চিত করি যেন ১১টি নীতির প্রত্যেকটি মেনে চলা হয়।)

আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি, যাতে আমাদের ব্যঙ্গধর্মী প্রতিবেদনগুলোর অপব্যাখ্যা না হয়। কারণ তাহলে সেটি ভুয়া খবরে পরিণত হবে। গল্পে পর্যাপ্ত রসবোধ না থাকলে এমনটা ঘটে। আমরা যতটা সম্ভব স্টোরির সব দিক বিবেচনা করি। যেমন, সৌদি-ইরান বিরোধের ঘটনায় আমরা যদি সৌদি আরব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করি, তাহলে নিশ্চিত করি সেখানে ইরান নিয়েও যেন কিছু থাকে। যেখানে সম্ভব আমরা একই স্টোরিতে দুই দিকই তুলে ধরার চেষ্টা করি, কারণ স্টোরিরও একটি জীবনকাল আছে। এমনকি আমরা শিরোনামেও সেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করি। কারণ স্টোরি যত জন পড়েন, তার চেয়ে ছয়গুণ বেশি মানুষ শিরোনাম পড়েন।

ল্যাটিন আমেরিকায় ঝড় তোলা লাভা হাতো (‘কার ওয়াশ’) কেলেঙ্কারি নিয়ে, কয়েকটি “মজার কিন্তু ব্যাখ্যামূলক” ভিডিও তৈরি করতে প্লপ মিডিয়া সাহায্য করেছিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাইট আইডিএল-রিপোর্টেরোসকে। ভিডিওগুলো ইউটিউবে প্রকাশ করেছে আম্পলি কন্টেন্ট ল্যাব। হুয়ান, এই ভিডিওতে আপনার সবচেয়ে প্রিয় অংশ কোনটি?

হুয়ান রাভেল: একটি অংশ আছে যেখানে “ব্রাইবারি ডিপার্টমেন্ট” অর্থ্যাৎ ঘুষ বিভাগ কিভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করা হয়। সেটিই আমার সবচেয়ে প্রিয়। এর উপস্থাপনা সাদামাটা এবং বেশ মজার, আর অ্যানিমেশনও একেবারে নিখুঁত। এই কাজের জন্য আমরা একটি মেক্সিকান অ্যানিমেশন স্টুডিওর সহায়তা নিয়েছি। তারা বিবিসি, ডিসকভারি কিডস্ এবং কার্টুন নেটওয়ার্কের সাথে নিয়মিত কাজ করে। এটি ছিল তাদের প্রথম রাজনৈতিক স্যাটায়ার, যদিও কাজটি তারা করেছে বেশ দক্ষতার সাথে।

এই কোলাবরেশন থেকে আপনারা কী শিখলেন?

রাভেল: বিষয়বস্তু হিসেবে লাভা হাতো কেলেঙ্কারি বেশ জটিল, আর আমাদের হাতে তথ্যও ছিল একগাদা। তাই অন্য যে কোনো ব্যঙ্গধর্মী কাজের চেয়ে এখানে গবেষণায় সময় দিতে হয়েছে অনেক বেশি। এটাই আমাদের প্রথম শিক্ষা। প্রথমে ভেবেছিলাম, শুধু স্কেচ অ্যানিমেশন দিয়ে কাজ চলবে। কিন্তু বিষয়বস্তু জটিল হওয়ার কারণে তাতে স্যাটায়ার, রসিকতা এবং সাক্ষাৎকারও দিতে হয়েছে। ভিডিওগুলো আমরা তৈরি করেছি ব্যাখ্যামূলক (এক্সপ্লেইনার) ডকুমেন্টারি ধাঁচে, যাতে বৃহত্তর চিত্রটা তুলে ধরা যায়, আর দর্শকরাও সহজে বুঝতে পারেন।

গোটা সিরিজে আমাদের অনেক তথ্য যাচাই করে নিতে হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ভিডিওর প্রতিটি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং তাকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা। এজন্যই সহযোগী সংগঠনের সাথে (এখানে আইডিএল রিপোর্টেরোস) ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। এখানে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে, কিন্তু আমরা কাজ করে আনন্দও পেয়েছি। অবশ্য পেশায় নতুন হলে, শুরুতেই এত বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত নয়।

এর পরে আপনাদের কাজের ধরণ কি বদলেছে?

রাভেল: সব গল্পই যে আপনাকে একই ধাঁচে বা ছাঁচে বলতে হবে, তা নয়। কখনো কখনো ছোট ভিডিওতেই বেশি কাজ হয়। আপনার যদি একজন ভালো উপস্থাপক থাকে – একটি ভালো স্ক্রিপ্ট তৈরি করে, তার মুখের ওপর ক্যামেরা ধরে, সেই ভিডিও কিছুটা কাটছাঁট করে নিয়ে – আকর্ষণীয় শো বানিয়ে ফেলা যায়। আমরা অন্যখানেও এমন কাজ করেছি। এখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীন কিছু গণমাধ্যমের সাথেও কথাবার্তা চলছে। আমরা তাদের সহযোগী হতে চাই, যেন তারা নিজ নিজ সাইটের জন্য এমন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে। আরেকটি বিকল্প নিয়েও আলোচনা হচ্ছে – দুই মিনিটের ছোট ভিডিও তৈরি করা, যাতে সেটি দেখে পাঠকরা ওয়েবসাইটে গিয়ে মূল স্টোরিটি পড়তে আগ্রহী হন। যদি তারা না-ও পড়েন, তারপরও ছোট ভিডিও দেখে বুঝে যাবেন, আসলে কী ঘটেছে। আমরা ধীরে ধীরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কন্টেন্ট এজেন্সি হয়ে যাচ্ছি।

এই কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় কোন বাধাটি আপনাদের উৎরাতে হয়েছে?

রাভেল: লাভা হাতো কেলেংকারি নিয়ে কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল। আমাদের সাইট এল চিগুয়ের বাইপোলারে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজ করে অভ্যস্ত। এটি অনেকটা অনিয়নের মত: আমরা বাস্তবতা নিয়েই কথা বলি, কিন্তু তাতে হাস্যরস জুড়ে দিই। কেউ আমাদের বলে না, কী করতে হবে। কোনো বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড়ও দিতে হয় না। কিন্তু লাভা হাতোতে কাজ করতে গিয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো: আমরা মজা করে যা-ই বলতে চাচ্ছি, সত্যিকারের ঘটনার সাথে তা ঠিক মিলছে না। তাই আমাদের ছাড় দিতে হচ্ছিল। আমরা খুব মজার একটা কিছু বলতে যাই, আর তারা (অনুসন্ধানী সাংবাদিক) শুধু সেখানে ভুল ধরিয়ে দেয়। তাদের শঙ্কা ছিল, কৌতুকময় উপস্থাপন শেষ পর্যন্ত পাঠককে বিভ্রান্ত করবে, এবং তারা ঘটনাটিকে মিথ্যা বলে ধরে নেবে। এই কোলাবরেশনে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় শিক্ষা। আমরা যদি শুধু নিজেরা এই ভিডিও বানাতাম, কোনো সন্দেহ নেই তাতে অনেক ভুল থাকতো।

আপনি কি বলেন, পাঠক আকর্ষণের জন্য সাংবাদিকতায় হাস্যরস ব্যবহার করা উচিত? 

রাভেল: অনেক গল্পই আরো বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায়, যদি তাতে একটু কৌতুক বা স্যাটায়ার মেশানো থাকে। ওয়াশিংটন পোস্টে তো এমন লোকই আছে, যিনি স্যাটায়ার করেন এবং তাদের টিকটক একাউন্ট চালান। কিন্তু এমন কিছু বিষয়ও আছে যা হাস্যরস দিয়ে উপস্থাপন অসম্ভব, অথবা স্পর্শকাতর। যেমন, আমরা এখন সেন্ট্রাল আমেরিকার অভিবাসন সংকট নিয়ে একটি কাজ করছি। আমাদের সাথে বার্তোলো ফুয়েন্তেস নামের একজন রিপোর্টার কাজ করছেন। তিনি অভিবাসীদের বহরের সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু তার সাথে আমরা ভেনেজুয়েলার একজন কমেডিয়ানকেও রেখেছি। তিনি একটি ক্যামেরা নিয়ে কুকুতা থেকে বোগোতা পর্যন্ত শরণার্থীদের সাথে হেঁটে হেঁটে এসেছেন।

তার ওয়েব শোতে সবচেয়ে দারুন যে বিষয়টা ছিল, সেখানে হাস্যরস ভরা কথাগুলো আসছিল চারপাশের অভিবাসীদের কাছ থেকে। এখানে আমরা তাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করিনি, বরং তাদের সঙ্গে হেসেছি। এটা যে কত কঠিন, বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এজন্য তাদের সাথে লম্বা পথ হাঁটতে হয়েছে, ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে হয়েছে, একসাথে থাকতে হয়েছে; আর একই সময় নিজের কল্পনাশক্তি ও রসবোধকেও চাঙ্গা রাখতে হয়েছে। এভাবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে, ফলে কঠিন এই সময়েও তারা ক্যামেরার সামনে মজা করতে পেরেছেন।

স্যাটায়ার এর বাকশক্তি

“একটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পারফরম্যান্স হিসাবে, ব্যঙ্গাত্মকতা তার নৈতিক উদ্বেগ ardor বা acuteness জন্য না কিন্তু একটি rhetorician হিসাবে প্রসিদ্ধ বুদ্ধি এবং satirist বল জন্য, পড়ার শ্রোতা প্রশংসা এবং applause জয় করার জন্য ডিজাইন করা হয়।

ঐতিহ্যগতভাবে, বিদ্রুপ চিন্তা করা হয় কিন্তু সাহিত্যিক তত্ত্ববাদী উত্তরপোস্টের মত ফরি, এই বক্তব্যকে একনিষ্ঠভাবে অনুধাবনের জন্য উৎসর্গীকৃত নয়, উল্লেখ করে ‘শোভাময় বক্তৃতা’ এবং ‘প্রেয়সী বক্তৃতা’ এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘অলঙ্কারশাস্ত্র অলঙ্কারশাস্ত্রগুলি স্থিরভাবে তার শ্রোতাদের উপর কাজ করে, তাদের নিজস্ব সৌন্দর্য বা বুদ্ধিমানের প্রশংসা করে; প্রফুল্ল অলঙ্কারশাস্ত্র ক্রিয়াগতভাবে কর্মের দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করে।

এক অনুভূতি প্রকাশ করে, অন্যটি এটিকে ম্যানিপুল্যু করে ‘( অ্যায়োটোমি অফ সমালোচনা , পৃঃ ২49)। প্রায়ই আমরা স্বীকার করে নিই, প্রবীণ ‘অলঙ্কৃত আলিঙ্গন ব্যবহার করে।’ ।

“আমি বলতে চাইছি না যে প্রথম শতাব্দীর এপিডেক্টিক্ট অলঙ্কারশাস্ত্রটি কেবলমাত্র বিনোদন হিসাবে কাজ করে, অথবা এপিডেকিক্টিক অলঙ্কারযুক্ত satirists ব্যবহার করে যে তাদের বিষয় (শত্রু) উপর অসদাচরণের চেষ্টা করতে না … … আমি যে satirists বাদানুবাদ করছি নিঃসন্দেহে (এবং কখনও কখনও স্পষ্টভাবে) আমরা তাদের দক্ষতা দেখি এবং তাদের প্রশংসা করি বলে দাবি করি.এই সন্দেহ করা হয় যে Satirists এই ধরনের মানদণ্ড দ্বারা নিজেকে বিচার করে।

কেউই নাম কল করতে পারে, কিন্তু এটি একটি পুরুষভক্তকারীকে মিষ্টিভাবে মরতে দক্ষতার প্রয়োজন। ”

(ডাস্টিন এইচ। গ্রিফিন, স্যাটায়ার: এ ক্রিকটিকাল রেইন্ট্রুডেকশন । ইউনিভার্সিটি প্রেস অফ কেনটাকি, 1994)


এই লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ফর ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম নিউজলেটারে। এখানে অনুমতি নিয়ে পুনঃপ্রকাশ করা হলো। নোট: ওএসএফ হচ্ছে জিআইজেএনের অন্যতম দাতা প্রতিষ্ঠান। 

আমিনা বুবিয়া ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ফর ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজমে কর্মসূচি বিশারদ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এর আগে দিন ওয়া দুনিয়া নামের একটি গণমাধ্যমে কলামিস্ট ছিলেন। বুবিয়া, সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে (ইসলামী বিশ্ব বিষয় নিয়ে) পিএইচডি করেছেন।

রুপগঞ্জে অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে আ’লীগের হামলা, মান্না-তৈমূর আহত

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ভাঙচুর করা হয়েছে অনুষ্ঠানের ওই মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল ও সাউন্ড সিস্টেম । সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে হামলা চালায় অনুষ্ঠানে। অভিযোগের আঙুল ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে।

মঞ্চ থেকে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলা হয়েছে তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম খন্দকার, নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর মান্না প্রমুখদের। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রূপগঞ্জের রূপসী খন্দকার বাড়িতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

তৈমূর আলম খন্দকারের সহকারী আলাল জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনা, তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রূপসী খন্দকার বাড়িতে দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টার মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম সহ অনেকেই।

ওই সময়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। উপস্থিত লোকজনদের একের পর এক মারধর করতে থাকে। মঞ্চ থেকে নেতাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

এছাড়া হামলাকারীরা সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আকস্মিক এ হামলায় লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। এভাবে একটি হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

তৈমূর আলম খন্দকার জানান, তাদের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এতে অনেক আহত হয়েছে।

তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ অভিযোগ করে বলেন, রূপসীর খন্দকার বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে যখন প্রধান অতিথি বক্তব্য দিচ্ছেন তখন সরকার দলীয় অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় গাড়ি, সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার, মোবাইল ভাঙচুর করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত তাদের কাছে হামলার কোন খবর আসেনি। তবে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে নিখোঁজ বৃদ্ধের লাশ গাজীপুরের জঙ্গলে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের জাথালিয়া উত্তরপাড়া এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বৃদ্ধের নাম আছর উদ্দিন (৭০)। তার বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার বংকুরী এলাকায়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গেলো তিন থেকে চার মাস ধরে আছর উদ্দিন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে মাইকিং করে।

এরপর আজ সোমবার দুপুরে পাশের উপজেলা কালিয়াকৈরের জাথালিয়া উত্তরপাড়া এলাকার জঙ্গলের ভেতর একটি কাঁঠাল গাছে তার মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।খবর পেয়ে পুলিশ আছর উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন জানান, এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে সাইকোলজি কী বলে

নারীর প্রতি সহিংসতা বিশ্বের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের সতীদাহ প্রথা থেকে শুরু করে একবিংশ সমাজের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, যুগে যুগে এভাবেই সহিংসতার রূপ বদলেছে। তবে সব যুগের সব সহিংসতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বর্তমান যুগের ধর্ষণ। হ্যাঁ, ধর্ষণ শব্দটি নতুন কিছু নয়। তারপরও ‘বর্তমান যুগের ধর্ষণ’ বলার কারণ এখন প্রতিনিয়ত যেসব ধর্ষণের খবর পাচ্ছি- এতটা বিকৃত, এতটা পাশবিক যৌনাচারের খবর কি আগে কখনো শুনেছেন?

এমন একটি দিন নেই; যেদিন সোশ্যাল মিডিয়া বা পত্রিকা খুললে একটি ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় না। ক্রমবর্ধমান হারের এ অপরাধ সম্পর্কে অনেকের অনেক মত, কেউ বলেন সামাজিক অবক্ষয়, কেউ বলেন ক্ষমতার অপব্যবহার। কিন্তু নিকৃষ্টতম এ আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কী? একটু বোঝার চেষ্টা করি চলুন।

নারীর প্রতি সহিংসতার সাইকোলজি বুঝতে হলে আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে ‘সহিংসতা’ বা সাইকোলজিতে আমরা যেটা পড়ে থাকি, ‘Aggression’ তার পেছনের তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা। সাইকো অ্যানালাইসিসের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড একটি সময় পর্যন্ত বিশ্বাস করতেন, মানবচরিত্রে জন্মগতভাবে একটি গুণ বিদ্যমান- যার অর্থ ভালোবাসা। এ ভালোবাসা আছে বলেই মানুষে মানুষে প্রেম হয়, তারা একে অপরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, একসাথে থাকে, বংশবৃদ্ধি করে। মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখতে যার ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে ফ্রয়েডের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসে। তিনি তখন দ্বিতীয় আরেকটি ড্রাইভের অবতারণা করেন, যার নাম দেন ‘থানাটস’।

থানাটস শব্দের অর্থ আত্মধ্বংসী মনোভাব। ফ্রয়েডের মতে, প্রতিটি মানুষের মাঝে জন্মগতভাবেই এ দুটি ড্রাইভ পাশাপাশি বিদ্যমান। মানবজাতি একইসাথে ভীষণ রকমের সৃষ্টিশীল এবং বিধ্বংসী। তার মতে, সময়ে সময়ে মানুষের এ বিধ্বংসী মনোভাব প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ঠিক যেমনইভাবে প্রয়োজন পড়ে তার ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং যৌন চাহিদা প্রকাশের।

ইন্সটিঙ্কট থিওরি:

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, জন্মগতভাবে মানুষের মাঝে যে অ্যাগ্রেশন থাকে, সেটাই ইন্সটিঙ্কট থিওরির আলোচ্য বিষয়। সে হিসেবে ফ্রয়েডের থিওরিটির অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে ইথিওলজিস্ট কোনার্ড লরেঞ্জ তার বই ‘অন অ্যাগ্রেশনে’ও এ থিওরি নিয়ে আলোচনা করেন।

ফ্রাস্টেশন-অ্যাগ্রেশন হাইপোথিসিস:

ফ্রয়েডীয় ইন্সটিঙ্কট থিওরি দিয়ে প্রভাবিত সাইকোলজিস্ট জন ডলার্ড এবং তার কয়েকজন কলিগের সমন্বয়ে প্রকাশিত বই ‘ফ্রাস্টেশন অ্যান্ড অ্যাগ্রেশনে’ সর্বপ্রথম এ থিওরির প্রকাশ। এ থিওরি অনুযায়ী, জন্মগতভাবে মানুষ যে অ্যাগ্রেশন নিয়ে আসে, সেই অ্যাগ্রেশনের প্রকাশ ঘটে কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে। তেমনই এক পরিস্থিতি হলো ‘হতাশা’। জন ডলার্ডের মতে, ফ্রাস্টেশন সব সময়ই অ্যাগ্রেশনে রূপ নেয়, মতান্তরে অ্যাগ্রেশন হল ফ্রাস্টেশনের একটি ফলাফল।

এ হতাশা বা ফ্রাস্টেশনের উৎস হতে পারে জীবনের মৌলিক চাহিদার অভাব কিংবা অন্য যেকোনো কিছু। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়টি হচ্ছে, ফ্রাস্টেশন থেকে উদ্ভুত এ অ্যাগ্রেশন সব সময় ফ্রাস্টেশনের মূল উৎসের প্রতি না হয়ে হতে পারে অন্য কোনো বস্তুর প্রতি। একে বলে, ‘ডিসপ্লেসড অ্যাগ্রেশন’। সমাজে এটিই বরং অহরহ দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, অন্যান্য দিনের মত সকালে অফিসে যাওয়ার পর আপনি জানতে পারলেন, আগামী মাস থেকে আপনার চাকরিটা আর থাকছে না। আকস্মিক এ চাকরিচ্যুতির ঘোষণা আপনাকে ভয়াবহ রকমের ফ্রাস্টেশনে ফেলে দিলো। মনে মনে তৈরি হলো বসের প্রতি তীব্র ক্ষোভ। কিন্তু আপনার পক্ষে তো আর সম্ভব না বসের প্রতি ক্ষোভ দেখানো। তাই ক্ষোভটা ডিসপ্লেসড করলেন বাসায় ফিরে আপনার স্ত্রী বা সন্তানের ওপর। অর্থাৎ ফ্রাস্টেশন থেকে সৃষ্ট অ্যাগ্রেশনটি আপনি দেখালেন আপনার জন্য মোটামুটিভাবে নিরাপদ এবং আপনার চেয়ে কম ক্ষমতার অধিকারী একটি জায়গায়।

আরেকটি উদাহরণ দেই, প্রায়ই আমরা শুনি বা অনেকসময় নাটক-সিনেমায়ও দেখি, গ্রামের প্রতাপশালী চেয়ারম্যানের কুলাঙ্গার ছেলে অমুক বাড়ির দরিদ্র বাবার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এ ছেলে তার বাবার কাছে উঠতে-বসতে অপমানিত হয় এবং এরকম একটি ছেলে কখনো তার থেকে মোটামুটি ক্ষমতাবান কোনো পরিবারের মেয়েকে অত্যাচার করার সাহস দেখাবে না। তাহলে আপনারাই এখন ভাবুন, ফ্রাস্টেশন-অ্যাগ্রেশন থিওরি অনুযায়ী, এ ঘটনাটাকে ব্যাখ্যা দেওয়া যায় কি না। শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতাকেও আমি এর অন্তর্ভুক্ত করব।

অ্যারোস্যাল অ্যান্ড অ্যাগ্রেশন:

ডলফ জিলম্যানের এ থিওরি বেশ ইন্টারেস্টিং। এর মূল বক্তব্য হলো, একটি উৎস থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনা অন্য একটি বস্তুতে প্রবাহিত করা। উদাহরণস্বরূপ, রাস্তা-ঘাটে আসতে-যেতে দেখবেন চলন্ত অবস্থায় এক রিকশার সাথে আরেক রিকশার সামান্য একটু ধাক্কা লাগতেই রিকশাওয়ালা দুজনের মধ্যে গালাগালের ধুম পড়ে যায়। পারলে একজন আরেকজনকে মেরেই ফেলেন এমন অবস্থা আর কি। অথচ ঘটনা খুবই সামান্য। এর কারণ হলো, অলরেডি শারীরিক পরিশ্রমের দরুণ তারা ফিজিক্যালি অ্যারোসড বা এক্সাইটেড হয়ে আছেন। এমতাবস্থায় ধাক্কা লাগা বিষয়টি তাদের একটি সুযোগ এনে দিলো নিজের ফিজিক্যাল অ্যারোস্যালকে আরেকজনের ওপর চ্যানেলাইজ করার।

অন্যভাবে আরেকটি উদাহরণ দেই, ধরুন, আপনি রেস্টুরেন্টে বসে আপনার প্রিয় মানুষের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ অপেক্ষা আপনার জন্য বিরক্তিকর নয়, আনন্দের। অর্থাৎ আপনি অলরেডি খুব রোমান্টিক মুডে আছেন। এমতাবস্থায় রেস্টুরেন্টে বাজতে থাকা একটি রোমান্টিক গান আপনার মাঝে এত বেশি ভালো লাগা তৈরি করবে, যেটি হয়তো এর আগে হাজারবার শুনেও আপনার মধ্যে তৈরি হয়নি। এখানে আপনার রোমান্টিক মুডটা চ্যানেলাইজড হয়ে গেল গানের প্রতি।

ধর্ষণের সাথেও অ্যাগ্রেশনের এ থিওরিকে খুব চমৎকারভাবে রিলেট করা যায়। যেমন ধরুন, যে ছেলে ইতোমধ্যে মাদক সেবন করে অথবা পর্নোগ্রাফিক মুভি দেখে ফিজিক্যালি অ্যারোসড হয়ে আছে, সেই ছেলে সুযোগ পাওয়া মাত্রই তার এই ফিজিক্যাল অ্যারোস্যালটি চ্যানেলাইজড করে দেবে একজন নারীর ওপর। সেক্ষেত্রে সেই নারীর সাথে তার পূর্বপরিচয়, ভালো লাগা, নারীর বয়স, নারীর কাপড় (যেহেতু সমাজের একটি বড় অংশ ধর্ষণ প্রসঙ্গে নারীর কাপড় টেনে আনেন) এসবের কিছুরই প্রয়োজন নেই।

সোশ্যাল লার্নিং অ্যান্ড অ্যাগ্রেশন:

অ্যাগ্রেশনের সবগুলো হাইপোথিসিসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হাইপোথিসিস এটি। লার্নিং সাইকোলজির একেবারেই বেসিক একটা বিষয়। একটা শিশু বড় হয়ে কেমন মানুষ হবে, তার ব্যক্তিত্ব কেমন হবে, আচরণ কেমন হবে- সেই সবকিছু যতটা তার জেনেটিক মেকাপের ওপর নির্ভর করে, ততটাই নির্ভর করে লার্নিংয়ের ওপর। এ থিওরি অনুযায়ী, অ্যাগ্রেসিভ আচরণ গড়ে ওঠে রিইনফোর্সমেন্ট এবং অ্যাগ্রেসিভ মডেলদের অনুকরণের মাধ্যমে।

এখানে আলোচ্য বিষয় তাহলে দুটি-

লার্নিং থ্র রিইনফোর্সমেন্ট:

রিইনফোর্সমেন্ট মানে সোজা বাংলায় যে জিনিস আপনার একটি আচরণকে বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু কিছু বাচ্চা আপনি দেখবেন যে কোনো কিছু চাইতে হলে চিৎকার-চেচামেচি করে চায়। এর কারণ হলো সে স্বাভাবিকভাবে হয়তো কখনো একটি জিনিস চেয়েছে, পায়নি। কিন্তু যখন সে চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি করেছে, তখন বাবা বা মা তাড়াতাড়ি তাকে থামানোর জন্য ওই জিনিসটি কিনে দিয়েছে। এখানে তার অভিভাবক যে তাকে ওই জিনিসটি কিনে দিলো, এটা হলো রিইনফোর্সমেন্ট। বাচ্চা যে চিৎকার করছিল, এটা বাচ্চার আচরণ এবং বাচ্চার লার্নিংটি হলো এরপর থেকে কিছু পেতে হলে অবশ্যই চিৎকার করতে হবে।

এবার আসি ধর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি কিভাবে কাজ করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটেই বলি। প্রথমত, আমাদের দেশে ম্যাক্সিমাম মেয়েরা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের কথা প্রকাশ করে না, ধর্ষণও না। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কেসটার কথাই ধরুন। ধর্ষণের ৩২ দিন পর ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। তাও প্রকাশিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, কয়েকজনের লেখালেখির মাধ্যমে।

তার আগ পর্যন্ত কিন্তু ধর্ষিতা বা ধর্ষিতার পরিবার কোনো মামলা করেনি। এখানে ধর্ষিতাকে আমি দোষ দেব না। আমাদের সমাজব্যবস্থাই এমন। এখানে মেয়েরা ধর্ষিতা হলে তাদের সম্মানহানি(!) হয়, মামলা করতে গেলে থাকে ক্ষমতাশীলদের হাতে প্রাণ হারানোর ভয়। সে যাই হোক, আমি আমার সাইকোলজিতে ফিরে আসি। এই যে চুপ থাকা, ব্যাপারটা ধর্ষকদের ক্ষেত্রে রিইনফোর্সমেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাদের জানা হয় যে, এরকম কাজ বারবার করাই যায়, কেউ তো আর মুখ খুলবে না। দ্বিতীয়ত, বিচারহীনতা বা বিচার হলেও সুষ্ঠু বিচার না হওয়া এটাও ধর্ষকদের জন্য রিইনফোর্সমেন্ট। এতেও তাদের বারবার ধর্ষণ করার শিক্ষা হচ্ছে।

লার্নিং থ্র দ্য ইমিটেশন অব অ্যাগ্রেসিভ মডেলস:

এটি আরেকটি ভয়ানক এবং আমি মনে করি, ধর্ষণের প্রথমসারির কারণগুলোর একটি। আমাদের দেশে ছোটবেলা থেকে একটা ছেলে এটা দেখে দেখে বড় হয় যে, তার বাবা তার মাকে উঠতে-বসতে গায়ে হাত তোলে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পাড়ার সো কল্ড বড় ভাই পাড়ার মেয়েদের দেখলেই শিষ দেয়, ওড়না ধরে টান দেয়, অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। এখানে যে ফাদার ফিগারের কথা বললাম, তিনি এবং এলাকার সেই বড় ভাই হচ্ছেন মূলত অ্যাগ্রেসিভ মডেলস।

যাদের ছোটবেলা থেকেই দেখে দেখে ছেলেটি শিখে নেয়, সমাজে মেয়েদের সাথে যা ইচ্ছা করা যায়, চাইলেই তার বুকে হাত দেওয়া যায় কিংবা তার সাথে যৌনক্রিয়া সম্পাদন করা যায়। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এটাই নিয়ম।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাগ্রেসিভ মডেল হচ্ছে পর্নোগ্রাফি। পর্নোগ্রাফিতে যে রোলগুলো দেখানো হয়, সেখানে কী হয়? মেইল রোলগুলো থাকে প্রচণ্ড রকমের ডমিনেটিং এবং ভায়োলেন্ট। যারা তাদের ফিমেল পার্টনারের সাথে ইচ্ছামত বিকৃত যৌনাচার চালিয়ে যায়। আর ফিমেল পার্টনারটিও যেন সেসব বিকৃতি বেশ উপভোগ করছে এমনটিই দেখানো হয়। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে একজন ছেলে যখন তার জীবনের প্রথম সেক্স এডুকেশনই পায় এধরনের পর্নোফিল্ম দেখে, তখন তার এটাই লার্নিং হয় যে, এখানে এ মডেলরা যা করছে, এটাই স্বাভাবিক।

যৌনসঙ্গম ব্যাপারটা এমনই। মেয়েদের সাথে এটাই করতে হয়। এমনকি একটি শিশুর সাথেও এগুলো করা যায়। এতে মেয়েদের কোনো কষ্ট হয় না বরং তারাও ব্যাপারটা এনজয় করে (যেটা একদমই সঠিক না)। মেয়েদের ক্ষেত্রে সেক্স ব্যাপারটা যতটা না ফিজিক্যাল তার থেকে অনেক অনেক বেশি মেন্টাল।

আমি যে শুরুতে বলেছিলাম, বর্তমান যুগের ধর্ষণ; যেখানে বিকৃত যৌনাচারের হার অনেকগুণ বেশি, তার পেছনে পর্নোগ্রাফি বা চটি বইয়ের বিকৃত যৌনাচারই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী বলে আমি মনে করি।

এতক্ষণ তো বললাম শুধু অ্যাগ্রেশন হাইপোথিসিসের কথা। কিন্তু শুধু অ্যাগ্রেশন দিয়েই ধর্ষণকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। যেকোনো অপরাধের পেছনে একজন মানুষের পার্সোনালিটির বিরাট গুরুত্ববহন করে। আর পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের কথা বলতে গেলেই চলে আসে মেন্টাল স্ট্রাকচার নিয়ে ফ্রয়েডের সেই চমৎকার কনফিগারেশনের কথা-

ইড: ইড হচ্ছে সোজা বাংলায় মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। যেখানে কোনো সামাজিক মূল্যবোধ, বিবেকবোধ এসবের বালাই নেই। যেমন আপনার প্রচণ্ড খিদা পেয়েছে এবং আপনার কাছে কোনো খাবার নেই, খাবার কেনার মত টাকাও নেই। কিন্তু আপনি দেখলেন একটু সামনেই একটা খাবারের দোকান। আপনি সেই দোকানে ঢুকলেন, দোকানিকে কিছু না বলেই একটা খাবারের প্যাকেট তুলে নিয়ে হাঁটা দিলেন। কাজটা ঠিক না বেঠিক সেসব চিন্তা আপনার মাথায় আসবে না। আপনার খিদা পেয়েছে, সেটা নিবারণ করাই এখন আপনার কাছে মুখ্য।

ইগো: ইগো হচ্ছে ইড এবং সুপার ইগো এ দুয়ের মধ্যে ব্যালেন্স। ইগো আমাদের বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। বস্তুত, যে মানুষের ইগো যত ভালো; সে সামাজিকভাবে তত বেশি খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। ইগো আমাদের শেখায় খিদা পেলে যদি আমার খাবার কেনার সামর্থ না থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা কী কী করতে পারি। আমরা কোনো বন্ধুর থেকে ধার নিয়ে খাবার কিনতে পারি, কিংবা দোকানি পরিচিত হলে অনুরোধ করতে পারি, আমাকে এক প্যাকেট খাবার আপাতত বাকিতে দিতে, আমি পরে পরিশোধ করে দেব।

সুপার ইগো:

এটি হচ্ছে আমাদের নীতিবোধ বা বিবেকবোধ। এ বিবেকবোধ সামাজিক অথবা ধর্মীয় মূল্যবোধ যেকোনোটি থেকেই আসতে পারে। সুপার ইগো আমাদের শেখায় খিদা পেলেই একটি দোকানে ঢুকে নিজের ইচ্ছামত খাবার তুলে নিয়ে চলে যাওয়া যায় না। এটি নীতিগতভাবে সঠিক নয়।

ধর্ষকদের মাঝে এই ইগো বা সুপার ইগো কোনটিই কাজ করে না। তাদের সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায় তাদের ইড। একজন নারীর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার চেয়ে তার নিজের সেক্সুয়াল প্লেজার পাওয়ার বিষয়টিই তার কাছে মুখ্য।

সবশেষ আরেকটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে একটু বলি। হিউম্যান সেক্সুয়াল রেসপন্স সাইকেলের অনেকগুলো সেক্সুয়াল মডেলের মধ্যে একটি হলো জন ব্যানক্রফটের ডুয়াল কন্ট্রল মডেল। মডেলের বিস্তারিত আলোচনায় আমি যাব না। এখানে যেটি মূলকথা সেটি হচ্ছে, সেক্সুয়াল অ্যাক্টিভিটি আমাদের নার্ভাস সিস্টেমের এক্সিটেটরি এবং ইনহিবিটরি দুই মেকানিজমের ব্যালেন্সের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এখন যাদের ক্ষেত্রে ‘Low excitation’ এবং ‘High inhibition’ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে সেক্সুয়াল ডিসফাঙ্কশন হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যাদের ‘High excitation’ এবং ‘low inhibition’ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে রিস্কি সেক্সুয়াল বিহেভিয়র’ (ধর্ষণ) হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।

পরিশেষে একটি কথা না বললেই নয়। ধর্ষণের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিয়ে আমার লেখাটির পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্ষণ প্রতিরোধে ঠিক কোন কোন জায়গায় কাজ করা উচিত, কেন করা উচিত- সে বিষয়ে একটি বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়া, ধর্ষণকে নরমালাইজ করা নয়। কারণ আমি জানি, আমাদের আশেপাশেই অনেক রেপিস্ট বা পটেনশিয়াল রেপিস্ট ভালো মানুষের চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

তারা কেউ কেউ হয়তো এটা বলবে, সবই যখন সাইকোলজিকাল কারণে হয়, তাহলে মানুষের কী দোষ! দোষ অবশ্যই আছে। আপনি চাইলেই মাদকাসক্ত না হতে পারেন, চাইলেই পর্নোগ্রাফিক মুভি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন, চাইলেই ধর্মীয়, পারিবারিক, সামাজিক অনুশাসন মেনে আপনার ইগো, সুপার ইগোকে উন্নত করতে পারেন। তা না করে, সব দোষ সাইকোলজি আর মেয়েদের পোশাকের- এসব কথা বলে বলে নিজেকে পটেনশিয়াল রেপিস্ট থেকে রেপিস্টে উন্নীত করার দায়ভার অবশ্যই আপনার।

(ডা. মাহাবুবা রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ট্রাক চালকের ঝুলন্ত লাশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মিজানুর রহমান (৩২) নামে এক ট্রাক চালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সাড়ে চার টায় উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের দশআনী বকশিয়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল তালুকদার নিশ্চিত করে জানান, মিজানুর রহমান ওই গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে।

ইউপি সদস্য মো. রাসেল তালুকদার জানান, স্থানীয়রা ঝুলন্ত লাশ দেখে তাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে অবগত করেন। বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা তা পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি করেন।

ঘাটাইল থানার এসআই মতিউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে বিকেলে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরুতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ’

ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর মুল রহস্য জানা যাবে।’

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে অটোভ্যান চাপায় প্রাণ গেল শিশুর

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ওয়াসিম (৫) নামের এক শিশুর  মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বড়চওনা-ধইন্যাজানি সড়কের বাঘেরবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওয়াসিম ওই এলাকার প্রবাসী আব্দুস সবুর মিয়ার ছেলে।

তার এ অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর  মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, সোমবার সকালে ওয়াসিম বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলতে যায়। এক পর্যায়ে  বড়চওনা-ধইন্যাজানি সড়ক পারাপার হতে গেলে একটি অটোভ্যান তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে দুর্গাপূজায় মোতায়েন থাকবে না আনসার, ঝুঁকিতে মণ্ডপগুলো

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোতে এবার আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে না। এতে করোনা উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হবে। একই সঙ্গে মণ্ডপগুলো ঝুঁকিতে থাকবে বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ভূঞাপুরে এবার পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে ৩৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারিভাবে ৬টি পূজা মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরণ দত্ত বলেন, প্রতিবছরই পূজা মণ্ডপগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি নারী আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হতো। এবারের পূজায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা না হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ প্রতিমাগুলো ঝুঁকিতে থাকবে।

ভূঞাপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিবি কর্মকর্তা সাজেদা খাতুন জানান, উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে দুইটি টিমে ২৪ জন আনসার সদস্য রাতে এবং দিনে নিয়মিত টহল দেবে। এর মধ্যে ১২ জন সদস্য দুইটি গাড়িতে দিনে এবং ১২ জন সদস্য রাতে নিয়মিত টহল দেবে। টহলরত প্রতিটি গাড়িতে সশস্ত্রসহ চারজন আনসার থাকবে। মণ্ডপে আলাদা করে আনসার মোতায়েন থাকবে না।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন জানান, সরকারিভাবে এবার মন্দিরগুলোতে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকছে না। তবে কোনো পূজা কমিটি যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে আনসার সদস্য চাইতে পারবেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিত চেয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের আপিল

শনাক্তকরণের ভুলে ঋণ জালিয়াতির মামলায় নির্দোষ পাটকলকর্মী জাহালমের তিন বছর কারাভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত সপ্তাহে আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির আইনজীবী আনিসুল হাসান।

তিনি বলেন, “ক্ষতিপূরণ বাবদ জাহালমকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হাই কোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদনটি আমলে নিলে শুনানি হবে, কবে শুনানি হবে জানি না।”

ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।

রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে জাহালমকে ওই ১৫ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে হলফনামা আকারে বাস্তবায়ন প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়।

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের এপ্রিলে ৩৩টি মামলা করে দুদক। দুদক তদন্ত করে বলে, জালিয়াত চক্র সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখায় আবু সালেকসহ তিনজনের হিসাব থেকে ১০৬টি চেক ইস্যু করে।

চেকগুলো ১৮টি ব্যাংকের ১৩টি হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা করে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই ১৮টি ব্যাংকের মধ্যে একটি হল ব্র্যাক ব্যাংক।

কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে গ্রেপ্তার করা হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। তাকে ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। সে কারণে ব্র্যাক ব্যাংককে এই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।

আদালতের আদেশে গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক।

তবে হাইকোর্টে দুদকের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।

দুদকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৩৩টি মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্রসহ (সিএস) যাবতীয় নথি তলব করে হাই কোর্ট। দুদকের কার্যক্রমে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারক বলেন, “ইঁদুর ধরতে না পারলে সেই বিড়ালের প্রয়োজন নেই।”

জাহালম কেমন আছেন, কীভাবে জীবনযাপন করছেন- তার মুখ থেকে তা শুনতে তাকে আদালতে নিয়ে আসতে আইনজীবী অমিত দাস গুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্টের এই বেঞ্চ। সে অনুযায়ী জাহালম গত বছর ১৭ এপ্রিল আদালতে হাজিরও হয়েছিলেন।

কিন্তু দুদক এক মাসেও নথি দাখিল করতে না পারায় ২ মে শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ মামলার নথি ও দুদকের প্রতিবেদন জমা দিতে বলে আদালত। পাশাপাশি আসামি না হয়েও জাহালমের কারাভোগের জন্য কে বা কারা দায়ী তা দেখতে দুদকের কাছে প্রতিবেদন চায় হাই কোর্ট।

ওইদিনই আদালত জানায়, ২ মে দুদক তাদের প্রতিবেদন দিলে তখনই হাই কোর্ট জাহালমের মুখ থেকে তার কথা শুনবে। এরপর দুদক গত ২১ এপ্রিল হাই কোর্টের ওই বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার আদালতে যায়।

দুদকের যুক্তি ছিল, হাই কোর্টে দুদকের মামলা শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ রয়েছে। যে বেঞ্চ রুল দিয়েছে, দুদকের মামলা শোনার এখতিয়ার সেই বেঞ্চের নেই। কিন্তু আপিল বিভাগ দুদকের ওই আবেদন খারিজ করে দেয়।

পরে জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রায় দেয় উচ্চ আদালত।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চল

টাঙ্গাইলে বন্যা পরবর্তী পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার একর কৃষি জমি। এতে হুমকি‌তে পড়েছে চাষাবাদ। তবে জেলা কৃষি বিভাগের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই ব‌লে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলার খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আহসানুল বাসার।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় গি‌য়ে দেখা গেছে, বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চলের কৃষি জ‌মি তলিয়ে গেছে। সব দি‌কে শুধু পা‌নি আর বন্যায় ভেসে আসা কচুরি পানা। কৃষকরা শঙ্কা করছেন দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার।

জানা গেছে, পাঁচ দফার বন্যায় টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, কালিহাতি, ভূঞাপুর ও নাগপুরসহ ১১ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী এই জলাবদ্ধতা।

কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভয়াবহ হুমকিতে পড়বে এ অঞ্চলের চাষাবাদ। প্রভাব পড়বে সামাজিক জীবনেও। তাই দ্রুত সমাধান চান তারা।

বাসাইল উপজেলার স্থলবল্লা গ্রামের কৃষক মুবারক হো‌সেন ব‌লেন, যে পা‌নি আসছে তা চৈত্রমাসেও শুকা‌নোর সম্ভাবনা নেই। এতে আমন, সরিষা, শসা চাষ করা গেল না। এছাড়া বন্যার পানিতে যে কচুরি পানা আসছে সে পানাগু‌লো কি দি‌য়ে সরা‌বো এটা নি‌য়েই দুশ্চিন্তায় আছি।

একই এলাকার ওসমান জানান, পা‌নি বের হওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফ‌লে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে। এতে চাষাবাদ করার উপায় নেই। ইরি মৌসু‌মে যদি বীজ বোপন কর‌তে না পা‌রি তাহলে এবার ধান আবাদ করা যাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলার খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আহসানুল বাসার জানান, গেল দুইবারের ভয়াবহ বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হ‌য়ে‌ছে ফসলের। তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি অফিস থে‌কে প্রনোদনা দেয়ায় সে ক্ষতি থেকে পুষিয়ে উঠেছে। তারপরও রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। অন্য ফসলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন প্রভাব পড়বেনা।

জেলা পা‌নি উন্নয়ন বো‌র্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কয়েক দফার বন্যায় নদী ও খালে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

(সোহেল তালুকদার, ঘাটাইল ডট কম)/-