করোনা ভাইরাস: প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন

বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করা তিনটি ভ্যাকসিনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন প্রি-ক্লিনিক্যাল ক্যান্ডিডেটের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য এটাও জানিয়েছে যে, নভেল করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যেই এই ল্যান্ডস্কেপ ডকুমেন্টটি তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট একটি পণ্যের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়া বোঝায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যান্ডস্কেপ ডকুমেন্টে ক্লিনিক্যাল ইভালুয়েশনের তালিকায় মোট ৪২টি এবং প্রি-ক্লিনিক্যাল ইভালুয়েশনের তালিকায় ১৫৬টি ভ্যাকসিনের নাম রয়েছে।

প্রি-ক্লিনিক্যাল ইভালুয়েশনের তালিকায় তিনটি ভ্যাকসিন স্থান পেয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তৈরি করছে। এগুলো হলো DNA plasmid vaccine , Adenovirus Type 5 Vector , D614G variant LNP-encapsulated mRNA ।

গত ৮ই মার্চ থেকে তারা এই টিকা আবিষ্কারের কাজ শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে এর মধ্যে D614G variant LNP-encapsulated mRNA ভ্যাকসিনটির উন্নয়নের কাজ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে।

কীভাবে শুরু হলো?

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এই রোগটির জন্য ভ্যাকসিন উন্নয়নের কাজ করতে শুরু করে গ্লোব বায়োটেক।

তখন আন্তর্জাতিকভাবে যেসব জেনোম সিকোয়েন্স ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ ধরনের মিউটেশনের খোঁজ পান গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা। এই মিউটেশনটি হলো D614G ।

তখন এই মিউটেশনের সংখ্যা খুবই কম ছিল বলে জানান গ্লোব বায়োটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ।

তিনি বলেন, ওই সময়ে তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই জেনোম মিউটেশনটি ভবিষ্যতে মারাত্মক প্রভাব তৈরি করবে। তখন তারা এটি নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

“ওই সময়ে আসলে কেউ ধারণা করতে পারেনি যে এই স্ট্রেইনটি সারা বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করবে,” বলেন তিনি।

গ্লোব বায়োটেক বলছে, বর্তমানে সারা বিশ্বে যতগুলো স্ট্রেইন আছে তার মধ্যে D614Gটি ১০ গুণ বেশি সংক্রামক এবং এর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কেউ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট বানায়নি।

কোন পর্যায়ে আছে?

তিনটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটের মধ্যে উন্নয়নের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে এলএনপি ভিত্তিক D614G variant LNP-encapsulated mRNA ক্যান্ডিডেটটি। মূলত এটির প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে।

গ্লোব বায়োটেকের কোয়ালিটি এন্ড রেগুলেটরি অপারেশনের ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এই ভ্যাকসিনটির তিনটি ক্যান্ডিডেটের মধ্যে একটির প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে।

এ নিয়ে গত ১৪ই অক্টোবর আইসিডিডিআরবির সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারাই এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটি পরিচালনা করবে।

বর্তমানে আইসিডিডিআরবির প্রটোকল ডেভেলপমেন্ট রিভিউ নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, তাদের নিজস্ব কিছু ব্যবস্থা আছে যা তারা অনুসরণ করে কাজ করছেন।

মি. মহিউদ্দিন জানান, আইসিডিডিআরবি দ্রুততার সাথে এবিষয়ে একটি আবেদন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল-বিএমআরসি’কে জমা দেবে।

বাকি দুটো স্ট্রেইন এখনো প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে।

আর কী কী ধাপ বাকি?

একটি ভ্যাকসিন উন্নয়নের বেশ কয়েকটি ধাপ থাকে। D614G variant LNP-encapsulated mRNA ক্যান্ডিডেটটি এরই মধ্যে ছয়টি ধাপ পার হয়ে এসেছে। এটি এখন সপ্তম ধাপে রয়েছে।

এই ধাপে ক্লিনিক্যাল বা হিউম্যান ট্রায়াল করা হয়। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্যে আবার তিনটি ধাপ রয়েছে। অনেক জায়গায় চারটি ধাপও থাকে।

গ্লোব বায়োটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ বলেন, এই টোটাল হিউম্যান ট্রায়ালটি বাকি আছে।

এর বাইরে ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়নের কাজটি এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

“এটি মানব শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে কিনা এবং মানব দেহে এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা সে বিষয়টি এখন দেখতে হবে।”

মি. নাগ জানান, এরই মধ্যে এই ভ্যাকসিনটি প্রাণীদেহে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে খুবই আশাপ্রদ ও ভাল ফল পাওয়া গেছে। যার ফলশ্রুতিতেই আসলে হিউম্যান ট্রায়ালে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

“বর্তমানে যে তথ্য-উপাত্ত আছে সেটি খুবই আশাপ্রদ যে মানব শরীরেও এটি খুব ভাল ফলাফল দেবে,” বলেন তিনি।

কবে নাগাদ আসবে?

গ্লোব বায়োটেক জানায়, নিয়ম অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদনের বিষয়গুলো গ্লোব বায়োটেকের হাতে নেই বলে জানান তারা।

এই বিষয়গুলোর জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারা এটি দ্রুততম সময়ে অনুমোদন দিলে ছয় মাস সময়ে মধ্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গ্লোব বায়োটেকের কর্মকর্তারা।

কতদূর যাবে এই ভ্যাকসিন?

মি. নাগ বলেন, বর্তমানে D614G ভ্যাকসিনটি প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাচ্ছে। এর পরে বাকি ধাপগুলো অতিক্রম করে এই ভ্যাকসিনটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানায় গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের তৈরি করা ভ্যাকসিনটি ট্রায়াল করে দেখার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

মি. নাগ বলেন, বাংলাদেশ যেমন চাইনিজ, ইন্ডিয়ান কিংবা রাশিয়ার ভ্যাকসিনের জন্য ছুটছে ঠিক তেমনি অন্য দেশগুলোও আমাদের ভ্যাকসিন তাদের দেশে ট্রায়ালের ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

ভ্যাকসিনের D614G ক্যান্ডিডেটটি অন্য আর কারো কাছে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আশা করছেন যে এটি একটি “সুপিরিয়র” ভ্যাকসিন হবে।

ভ্যাকসিনের তিনটি ক্যান্ডিডেটের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

ব্যানকোভিড নামে যে ভ্যাকসিনটি গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড বানাচ্ছে তার যে তিনটি ক্যান্ডিডেট রয়েছে তাদের মধ্যে মূলত প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে।

এছাড়া তিনটি ক্যান্ডিডেটের উদ্দেশ্যই কোভিড-১৯ প্রতিহত করা।

এই ভ্যাকসিনটির যে মলিকিউলটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে সেটি সব ক্যান্ডিডেটের ক্ষেত্রেই এক। আর সেটি হচ্ছে D614G।

কিন্তু এই ক্যান্ডিডেটগুলো উৎপাদন করার প্রযুক্তি ভিন্ন।

এর মধ্যে যে ক্যান্ডিডেটটি সবচেয়ে এগিয়ে আছে অর্থাৎ D614G variant LNP-encapsulated mRNA- এটির উৎপাদন প্রযুক্তি এখনো পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বলে তারা দাবি করছেন।

এরপরে Adenovirus Type 5 Vector নামে যে ক্যান্ডিডেটটি রয়েছে সেটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ভ্যাকসিন তৈরি করছে তার প্রায় কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন মি. নাগ।

আর ভ্যাকসিনটি যাতে সস্তায় দেয়া যায় তার জন্য আরেকটি প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে তিনি জানান। সেটি হচ্ছে ডিএনএ প্রযুক্তি। কিন্তু এই প্রযুক্তি খুব নিরাপদ বলে অতীতে প্রমাণিত হয়নি। তাই এর উন্নয়নের কাজটিও পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

কিভাবে কাজ করবে ব্যানকোভিড ভ্যাকসিন?

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ বলেন, ব্যানকোভিড ভ্যাকসিন যখন মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে তখন এর এমআরএনএ নামে মলিকিউলটি দেহের নির্দিষ্ট কিছু কোষে প্রবেশ করবে।

এই মলিকিউলটি কোভিড-১৯ ভাইরাস সার্স-কোভ-২- তার স্পাইক প্রোটিনের সান্নিধ্যে আসবে। এই স্পাইক প্রোটিনটি তখন অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করবে এবং পরবর্তীতে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে।

মি. নাগ বলেন, টিকা দেয়া হলে শরীরে এই অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর মেমোরি সেল ও টি-সেল তৈরি হয়ে যাবে। ফলে ওই ব্যক্তি সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই অ্যান্টিবডি সেটি শনাক্ত করতে পারবে এবং দ্রুত তারা সেটি দেহ থেকে সরিয়ে দেবে।

তখন আর এই জীবাণুটি মানুষকে রোগাক্রান্ত করতে পারবে না বলে তিনি জানান।

(মুন্নী আক্তার, ঘাটাইল ডট কম)/-

আইয়ুব বাচ্চু বিহীন এলআরবি’র দু’বছর

নব্বইয়ের দশক থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের রক মিউজিক শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় গানের দল বা ব্যান্ড “এলআরবি”। শুরুটা হয়েছিল ইংরেজি গানের কভার থেকে। তারপর রক, সফট রক, হার্ড-রক, ব্লুজ, অল্টারনেটিভ রক, মেলোডি- এমন নানা জনরার গানের সাথে শ্রোতাদের পরিচয় হতে থাকে এই ব্যান্ডের মাধ্যমে।

আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে ১৯৯১ সালের ৫ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় ব্যান্ড ‘এলআরবি’। আইয়ুব বাচ্চুই একাধারে ছিলেনে এই ব্যান্ডটির গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার ও সুরকার।

ব্যান্ডটির প্রথম নাম এলআরবি নয় বরং ছিল ওয়াইআরবি – ইয়েলো রিভার ব্যান্ড। সে সময় একটি ক্লাবে পারফর্ম করার সময় সেখানকার উদ্যোক্তারা ভুল করে ব্যান্ডটির নাম লেখেন – লিটল রিভার ব্যান্ড। সেই ভুলটাই আইয়ুব বাচ্চুর পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ব্যান্ডটি পরিচিত পায় এলআরবি নামে।

কিন্তু পরে জানা যায় যে, এই একই নামে অস্ট্রেলিয়াতে আরেকটি ব্যান্ড রয়েছে। কিন্তু এলআরবি নামটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠায়, নামটি পরিবর্তন করতেও চাইছিলেন না ব্যান্ডের সদস্যরা। এমন অবস্থায় এল-আর-বি এই তিনটি অক্ষর ঠিক রেখে এর ‘পুরো’ নামটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর আইয়ুব বাচ্চু এলআরবির নাম রাখেন “লাভ রানস ব্লাইন্ড”। নতুন এই নামেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসছে সঙ্গীতের এই দলটি।

এলআরবির প্রায় প্রতিটি অ্যালবাম সুপারহিট হওয়ায় রাতারাতি তার জনপ্রিয়তা শীর্ষে উঠে যায়। এমনও হয়েছে যে অ্যালবাম বাজারে আসতে দেরি হওয়ায় শ্রোতাদের অসংখ্য ফোন পেতে হয়েছে রেকর্ড বিক্রেতাদের।

তবে ২০১৮ সালের ১৮ই অক্টোবর ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর ব্যান্ডের ভেতরে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় এই এলআরবি’র ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

২০১৯ সালে মাঝামাঝি সময়ে ব্যান্ডটির নতুন শিল্পী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন বালাম। তবে এনিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার এবং ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, তারা এলআরবির নাম ব্যবহার করে গান গাইতে পারবে না। এমন অবস্থায় এলআরবি ছেড়ে বালাম গঠন করেন নতুন ব্যান্ড “বালাম এন্ড দ্য লিগ্যাসি”।

এধরনের একের পর এক ঘটনার পর শ্রোতাদের মনে প্রশ্ন জাগে: তাহলে কি আইয়ুব বাচ্চুর সাথে এলআরবি ব্যান্ডও চির বিদায় নিতে যাচ্ছে? জনপ্রিয় ব্যান্ডটির টিকে থাকা নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা যেন কিছুতেই মানতে পারছিলেন না ভক্তরা। এ নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকেও ভক্তদের রোষানলে পড়তে হয়েছিল।

পরে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে এবং ‘আইনগতভাবে ব্যান্ডটির উত্তরাধিকার’ আহনাফ তাজওয়ার গত বছরের ৫ই এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানান যে তিনি ও তার পরিবারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

তারা চান ব্যান্ড সদস্যরা ‘বালাম এন্ড দ্য লিগ্যাসি’ নয় বরং এলআরবি নামেই এগিয়ে যাক এবং তারা ‘এলআরবি’ নামে গান করতে পারেন। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও বাধা নেই।

আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের এমন আহ্বানের পর নতুন দল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে “বালাম অ্যান্ড দ্য লিগ্যাসি”। নতুন এই ব্যান্ড গঠনের কয়েকদিনের মাথায় পুনরায় তারা এলআরবিতেই ফিরে আসেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বেশিদিন টেকেনি। শিল্পী বালামকে নিয়ে এলআরবি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে ব্যান্ড সদস্যদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিতে শুরু করে।

ব্যান্ডের একটি পক্ষ চাইছিলেন বিরতি নিতে এবং ‘ভয়েস হান্টের’ মাধ্যমে নতুন ভোকাল নিয়ে যাত্রা শুরু করতে।

অন্যদিকে আরেকপক্ষ চাইছিল বালামকে নিয়ে দ্রুত এই ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করতে।

মতের অমিল হওয়ায় ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ান গিটারিস্ট আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং ম্যানেজার শামীম আহমেদ।

এ নিয়ে শামীম আহমেদ বলেন, “দোষটা আসলে আমাদেরই। বাচ্চু ভাই মারা যাওয়ার পর আমরা কেউ ঠিকমতো ব্যান্ডটাকে লিড করতে পারছিলাম না। এ কারণে অনেক ভুলভ্রান্তির জন্ম হয়েছে।”

এরপর ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বেইজ গিটারিস্ট স্বপন ড্রামার রোমেলকে নিয়ে ‘এলআরবি’র নতুন লাইনআপ সাজানোর চেষ্টা করলেও সেটাও বেশিদূর এগোয়নি।

তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে টানাপড়েনের অবসান ঘটে শিল্পীর দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবসের প্রাক্কালে।

এবার আইয়ুব বাচ্চুর সব গান সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম কোন শিল্পী যার গান সরকারি ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

এখন থেকে এলআরবির লোগো এবং যেসব গান আইয়ুব বাচ্চু লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং নিজ কণ্ঠে পরিবেশন করেছেন এমন ২৭২ টি গানের কপিরাইট থাকবে তার পরিবারের কাছে।

আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে বাংলাদেশের কপিরাইট অফিস যে ওয়েবসাইট খুলেছিল সেখানেই গানগুলো ডিজিটাল আর্কাইভ করে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি গানের ইউটিউব লিঙ্কও জুড়ে দেয়া থাকবে।

কপিরাইট অফিসের কর্মকর্তা জাফর রাজা চৌধুরী বলেছেন আইনানুযায়ী এই কপিরাইটের উত্তরাধিকার এখন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ও দুই সন্তানের। আইয়ুব বাচ্চু নিজে এসব গান বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে নিজ নামে নিবন্ধন করে গেছেন।

তিনি জানান, এখন থেকে কপিরাইটযুক্ত গানগুলি কেবল আইয়ুব বাচ্চুর নামে প্রকাশিত হবে।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর এলআরবি ব্যান্ড নিয়ে দলের শিল্পীদের নানামুখী তৎপরতার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এই ব্যান্ডের নাম নিয়ে গান পরিবেশনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর দুই সন্তান ফাইরুয সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব গত আগস্টে এক বিবৃতিতে জানান, তারা চান না বাংলা ব্যান্ড জগতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ব্যান্ডটির নামের কেউ অপব্যবহার করুক।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবারের অনুমোদন ছাড়া এলআরবির নামে কোনও কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সেটা হবে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর বিবাদে জড়িয়ে পড়া দুই পক্ষ এই সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও এর আগেই বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) ঘোষণা করেছিল যে তাদের সদস্যভুক্ত ২৫টি ব্যান্ডের কোনও গান অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবেশন করা যাবে না। এলআরবি শুরু থেকেই এই সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এর ফলে কোন শিল্পী, গানের দল, টিভি রিয়েলিটি শো বা ইন্টারনেটভিত্তিক অন্যান্য সম্প্রচার মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এলআরবির গান পরিবেশন করতে চাইলে আগে গানের স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

অন্যথায় ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে কপিরাইট অফিস।

এলআরবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে যাত্রা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর তিনি যুক্ত ছিলেন ব্যান্ড “সোলস” এর সাথে। সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালের ৫ই এপ্রিল গঠন করেন এলআরবি।

বাংলাদেশে এলআরবি প্রথম কোন ব্যান্ড যারা নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে শো করেছে। এছাড়া ভারত, অস্ট্রিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, কাতার, দুবাইসহ আরও বহু দেশে কনসার্ট করেছে জনপ্রিয় এই ব্যান্ড।

ক্যারিয়ারে মোট ১২টি একক এবং একটি ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবাম করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দলের স্টুডিও অ্যালবাম ১১টি। মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে ৯টি।

এর প্রথম অ্যালবাম “এলআরবি ওয়ান” “এলআরবি টু” বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম।

পরে ১৯৯৮ সালে , “আমাদের” ও বিস্ময় নামে আরেকটি ডবল অ্যালবাম বাজারে আসে।

এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হল ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮) এবং যুদ্ধ (২০১২)।

আইয়ুব বাচ্চুর সর্বাধিক জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে “সেই তুমি,” “কষ্ট,” “ফেরারি মন” “হাসতে দেখো গাইতে দেখো,” “রূপালী গিটার,” “একদিন ঘুম ভাঙা শহরে।”

(সানজানা চৌধুরী, ঘাটাইল ডট কম)/-

দুর্গাপূজায় মমতাকে উপহার পাঠালেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা ও উপহারসামগ্রী পাঠিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে এ উপহারসামগ্রী পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান উপহারসামগ্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ‘নবান্ন’তে গিয়ে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো উপহারসামগ্রী দুপুর ১২টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে নিয়ে তিনি ওপারে পেট্রাপোল চেকপোস্টে পৌঁছে দেন।

উপহারসামগ্রী দুটি কার্টনে ছিল বলে জানান তিনি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান হাবিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ প্রটোকল অফিসার আতাউর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারসামগ্রী বেনাপোলে পাঠানো হয়। উপহারসামগ্রী গ্রহণের জন্য পেট্রাপোলে অবস্থান করেন কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রথম সচিবের সহকারী আলম হোসেন।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের ডেপুটি কমিশনার বিএম জামাল হোসেন (পলিটিক্যাল) স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো উপহারসামগ্রী সন্ধ্যায় কলকাতা পৌঁছানোর পর সেটি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

(বাসস, ঘাটাইল ডট কম)/-

খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে: ফখরুল

বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত নন, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জেলখানায় থাকা আর বাসায় থাকার মধ্যে একটিই পার্থক্য যে তিনি ঘরোয়া পরিবেশে থাকতে পারছেন। এর বেশি কিছু নয়। আসলে তিনি গৃহ অন্তরীন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ সরকারের কারচুপির মুখোশ উন্মোচন করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এতে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন চায় বিএনপি।

ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো উপ-নির্বাচনেও ত্রাসের রাজত্ব ও কারচুপির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

এই দাবিতে আগামি ১৯ অক্টোবর রোববার জেলা ও মহানগরে এবং ২০ অক্টোবর সোমবার থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র মহাসচিব।

বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয় বলে জানান মির্জা ফখরুল। কোভিড পরিস্থিতিসহ পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে সমস্যা হচ্ছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ছাত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ, আসামী গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গোপনে বিশ্ববিদ্যায়ে পড়ুয়া এক ছাত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।

ওই দুই যুবকদের নাম আশিক শীল (২৪) ও পাপ্পু (২৭)। তারা দুজনে সখীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ওই ছাত্রী সখীপুর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আহমেদ জানান, বেশ কয়েকদিন আগে আশিক শীল গোপনে ওই ছাত্রীর গোসলের ভিডিও করে। সেই ভিডিও তার বন্ধু পাপ্পুকে দেখায়। পরে ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। পরে পুলিশ প্রমাণসহ আশিক ও পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সখীপুর থানার এসআই ফয়সাল আরো জানান, আসামিদের কাছ থেকে জব্দকৃত ডিভাইসগুলো অধিকতর তদন্তের জন্যে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাকায় তারের জঞ্জাল অপসারণের অভিযান স্থগিত, যেসব শর্তে সমঝোতা

কেবল অপারেটরদের চাপের মুখে ঢাকায় ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল কেটে ফেলার অভিযান আপাতত স্থগিত করার কথা জানালো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

দুপক্ষের এক সমঝোতা বৈঠকের পর কেবল অপারেটরদের সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনও বলছে, ঝুলন্ত তার মাটির নিচে সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে কেবল অপারেটররা।

গত অগাস্ট মাস থেকে ঝুলে থাকা তার কেটে ফেলার অভিযান চালিয়ে আসছিল কর্পোরেশন।

এরই এক পর্যায়ে আইএসপিএবি ঘোষণা দেয়, প্রতিদিন তিন ঘন্টা করে ইন্টারনেট ও কেবল টিভির সংযোগ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করার।

আজ (রবিবার) থেকে সেই প্রতিবাদ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু সমস্যা সমাধানের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচী কিছুদিন পিছিয়ে দেয় কেবল অপারেটররা।

আর রবিবারই সিটি মেয়রের সাথে সমঝোতা বৈঠকে বসে আইএসপিএবি, যেখানে কেবল অপারেটরদের মালিকদের সংগঠন ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে চলমান টানাপোড়েনের আপাত সমাপ্তি হলো।

ঢাকাকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করার অংশ হিসেবে গত অগাস্টে শুরু হয় দক্ষিণ সিটির তার অপসারণ অভিযান। এরই মধ্যে শান্তিনগর, ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, নগরভবনের চারপাশ, ওয়ারি, মুগদা এলাকায় দার অপসারণ করা হয়েছে।

এসব অভিযানের কারণে ইন্টারনেট ও কেবল টিভির বহু গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিটি কর্পোরেশনের সাথে কেবল অপারেটরদের আজকের সমঝোতা বৈঠক শেষে আইএসপিএবির মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন, তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।

সেবা প্রদানকারী সংস্থা নিজেদের খরচেই তাদের কেবল সংযোগগুলো মাটির নিচে স্থানান্তর করতে রাজি হয়েছে বলে জানান মি. হক।

আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলছেন, আইএসপিগুলো নভেম্বরের মধ্যেই ঝুলন্ত তার সরিয়ে মাটির নিচে নেবে বলে জানিয়েছে। এজন্য নভেম্বর পর্যন্ত তার কাটার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

মি. নাছের বলছেন, মাটির নিচে তার নেয়ার জন্য সড়ক-সহ অন্য কোন কিছু কাটার প্রয়োজন হলে সেজন্য অনুমতি দিয়ে সাহায্য করবে সিটি কর্পোরেশন।

আইএসপিএবি বলছে, তারা আগামীকাল (সোমবার) থেকেই মাটির নিচে তার নেয়ার কাজ শুরু করবে।

নভেম্বরের মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি রাস্তার তার মাটির নিচে নেয়ার কাজও শেষ হবে বলে জানাচ্ছেন আইএসপিএবি-র মহাসচিব মি. হক।

তবে পুরো দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এই সেবা দেয়ার জন্য দুই বছর সময় চেয়েছে আইএসপিএবি।

রাস্তা খোঁড়াখুড়ি করতে গিয়ে কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে সেক্ষেত্রে জরিমানা এবং অনুমোদন নেয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় মওকুফেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইএসপিএবি বলছে, এ ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস পেয়েছে তারা।

এ বিষয়ে ক্যাবল অপারেটররা সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে মাটির নিচ দিয়ে তার নেওয়ার কাজ শুরু করবে এবং এটি নভেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরভবনে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও ক্যাবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা হয়।

বৈঠক শেষে মেয়র তাপস বলেন, দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে রাস্তার ঝুলন্ত তার আর কাটা হবে না। ইন্টারনেট প্রোভাইডাররা নিজ খরচে মাটির নিচ দিয়ে তারের সংযোগ নেবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উপরে ঝুলন্ত তার কেটে দেবেন। আর এটা আগামী নভেম্বরের মধ্যেই তারা শেষ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, আমরা খুব দ্রুতই ঝুলন্ত তার নামিয়ে মাটির নিচে সংযোগের কাজ শুরু করে দেবো। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই এটি আমরা সম্পন্ন করতে পারবো। প্রয়োজনে আমরা আজ থেকেই কাজ শুরু করবো।

বৈঠকে দুই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

দল গঠনে গণচাঁদা চাইলেন নুরুল

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের নেতৃত্বে শিগগিরই আসছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’৷ নতুন দল গঠনকে সামনে রেখে ‘দেশের মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার’ সংগ্রামকে সুসংগঠিত করতে গণচাঁদা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন নুরুলেরা৷

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক যৌথ বিবৃতি শেয়ার করে দেশের মানুষের কাছে গণচাঁদা আহ্বান করেছেন নুরুল হক৷

জনগণের উদ্দেশে নুরুল বলেছেন, ‘তারুণ্যের নতুন ধারার রাজনীতিতে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য৷’

নুরুলের ফেসবুকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে দেশের মানুষের উদ্দেশে আরও বলা হয়, গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের মহৎ কাজে আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন ও সহমর্মিতা থাকবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস৷ আমাদের এই সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত করে এগিয়ে নিতে গণচাঁদা সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সমেস উদ্দিন (৫৫) নামে এক পিতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত প্রতিবন্ধি ছেলে হাসু মিয়ার বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯ টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের হেংগারচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হাসু মিয়া দীর্ঘদিন যাবত মাদক সেবন করতো। মাদক সেবন করতে করতে এক পর্যায়ে তিনি প্রতিবন্ধির মতো হয়ে যায়। মাদকের জন্য তার বাবা মাকে মারধর করতে যায়।

গত তিন বছর আগে থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে হাসু মিয়াকে বাড়িতে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতো। বেঁধে রাখায় বাবা সমেস উদ্দিনের প্রতি তার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগে বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন হাসু।

শনিবার রাতে যে খুঁটিতে হাসুকে বেধে রেখেছিলো সেই খুঁটি তুলে শিকল খুলে ফেলে। পরে ঘরে ঢুকে মাটি কাটার কোদাল দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তার বাবা সমেসকে হত্যা করে।

ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম শনিবার রাতে জানান, এ ঘটনায় ছেলে হাসু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে খুনের আলামত হিসেবে কোদাল, একটি বিদেশি লাইট, একটি বাঁশের লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ঘাটাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা হাসমতকে ধরে ফেলে। পরে তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-