ঘাটাইলে ৪৭ মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

মহামারী করোনায় সরকারী বিধি নিষেধের মধ্য দিয়ে আর কয়েক দিন বাদে শুরু হবে সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী এবার আসছে গজে চড়ে, যাবে দোলায়।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ভাটা পড়তে যাচ্ছে দুর্গাপূজার উৎসবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এবার ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। থাকবে না উৎসবের আমেজ এবং আয়োজন।

স্বাস্থ্যবিধি পালন এবং করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা। পূজা উদযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৪৭টি মন্ডপে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। পৌরসভায় ৬টি বাকী ৪১টি ১৪টি ইউনিয়নে শুরু হবে দুর্গাপুজা।

আসন্ন পুজাকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা রংতুলি ও সাজসজ্জা এবং আনুসাঙ্গিক কাজ ।

বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বিষ্ণু কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসছে ২২ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় পূজামণ্ডপে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় রীতিনীতি মানার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

পূজা উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাইকের ব্যবহার বর্জন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জা সীমিত আকারে করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ অধির চন্দ্র সাহা জানান মহামারী করোনায় আমরা আমাদের সরকারী বিধি নিষেধ মান্য করে পুজা উদপান করতে হবে। সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

আসন্ন দুর্গা পূজার সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, পূজামণ্ডপে প্রবেশের সময় করোনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার, মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে হবে।

পূজামণ্ডপের সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে সীমিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দেশব্যাপী সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা মোকাবিলায় মোবাইল ডিউটিতে থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনও শোভাযাত্রা করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে হবে। জনসমাগম সীমিতকরণসহ অন্যান্য নির্দেশনাবলি মিডিয়ায় প্রচারের ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে।

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। পূজামণ্ডপ ব্যবস্থাপনায় পূজা উদযাপন কমিটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এর সেবা নিতে পারবেন পূজা উদযাপন কমিটি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, সারাদেশে ২৬টি নির্দেশনা পাঠিয়েছি আমরা। এর পাশাপাশি আরও ৭ দফা নির্দেশনা আছে।

পূজা উদযাপনে স্বাস্থ্যবিধি

এবার দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। করোনার কারণে দুর্গাপূজায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সম্প্রতি ১১টি নির্দেশনা দিয়ে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য-১ অধিশাখার উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাইডলাইন মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, মন্দির প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পৃথক ও নির্দিষ্ট থাকতে হবে।

পূজামণ্ডপে আগত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে দুই হাত) বজায় রেখে লাইন করে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করবেন এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যাবেন। সম্ভব হলে পুরো পথ পরিক্রমা গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করতে হবে।

পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ভক্তের সংখ্যা অধিক হলে একাধিকবার পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করতে হবে।

পূজামণ্ডপে আগত সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

মন্দিরের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ পূজামণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। হাঁচি ও কাশির সময় টিস্যু রুমাল বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে।

ব্যবহৃত টিস্যু বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঢাকনাযুক্ত বিনের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং জরুরিভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা/ধুনচি নাচ এবং শোভাযাত্রা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ধর্মীয় উপাচার ছাড়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জা বর্জন করতে হবে। পূজামণ্ডপে একজন থেকে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে বসার স্থানটি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে যাতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিফলিত হয়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, মহামারির কারণে আমাদের এবার অনেক কিছু মেনে চলতে হবে। সব ধর্মের মানুষেরই কিন্তু করোনার কারণে এমনটা করতে হয়েছে। আমরা রথযাত্রা করিনি, জন্মাষ্টমী খুব নিয়ন্ত্রিত উপায়ে আমরা পালন করেছি। মহালয়াতেও আমরা কাউকে নিমন্ত্রণ করিনি।

টিভিতে দেখানো হয়েছে , অনেকেই ঘরে বসে দেখেছে। এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের পূজা করতে হবে।  ভক্তরা যারা আসবে তাদের প্রত্যেকেরই মাস্ক পড়তে হবে বাধ্যতামূলকভাবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে কিন্তু প্রবেশ করতে হবে।

এরকম অনেক নির্দেশনা আছে। আমাদের দুর্গোৎসবে সব ধর্মের মানুষ আসে। এবার আমরা দুর্গোৎসব বলছি না, আমরা দুর্গাপূজা বলছি। কোনও প্রকারের উৎসব হবে না।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

রোববার থেকে তিন ঘণ্টা ডিস-ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে আতংক!

মাটির নিচ দিয়ে তার সম্প্রসারণের সুযোগ না দিয়েই ঝুলন্ত তার কাটায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ডিস ক্যাবল ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন। এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আতংক দেখা দিয়েছে সব মহলে।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে ডিস ক্যাবল ও ইন্টারনেট অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের ঝুলন্ত তার কাটা শুরু করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মাটির নিচ দিয়ে তার সম্প্রসারণের সুযোগ করে না দিয়েই এমন তার কাটায় ক্ষুব্ধ ডিস ক্যাবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াব এবং ইন্টারনেট সংযোগ সেবা দেওয়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন আইএসপিএবি।

এভাবে তার কাটার প্রতিবাদে রোববার (১৮ অক্টোবর) শুরু করে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠন দু’টি।

গেলো সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দু’টির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এভাবে তার কাটায় ইতোমধ্যে আইএসপিএবি এবং কোয়াবের আনুমানিক ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ৩৩টি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক, এক লাখের বেশি চাকরিজীবী এবং এক হাজার আইএসপিএবি ও কোয়াব সদস্য চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।

সংগঠনগুলোর এমন হুংকারেও অনড় অবস্থানে আছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আইএসপিএবি, কোয়াব ও এনটিটিএন অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে মাটির নিচ দিয়ে তার সম্প্রসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার না কাটার একপ্রকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে তার অপসারণ এখনও অব্যাহত রেখেছে ডিএসসিসি।

এদিকে তার টানাটানির এমন বিশৃংখলার খেসারত চিন্তা করে আতংকিত হচ্ছেন ইন্টারনেট ও ক্যাবল সেবা গ্রহীতারাও। বাড়িতে থেকে ইন্টারনেটনির্ভর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা করছেন তারা।

ঢাকা মিরপুর এলাকার গৃহিণী সামসুন নাহার বলেন, সমন্বয়হীনতার এই বেড়াজালে বলির পাঠা হচ্ছি আমরা। মেয়ের ক্লাস, পরীক্ষা সব হচ্ছে ইন্টারনেটে। এরজন্য ব্রডব্যান্ড সংযোগই ভরসা। মোবাইল ইন্টারনেট সহজলভ্য না আবার নেটওয়ার্কের গতিও স্থির থাকে না। আবার নাকি ডিস বন্ধ থাকবে। আমরা গ্রাহকেরা অর্থ খরচ করেও সেবা পাবো না। উল্টো ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

ভোক্তা ছাড়াও ব্যবসায়ী খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আতংক দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের পরিচালক দিদারুল আলম সানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে আমরা এগোচ্ছি, এমন সিদ্ধান্ত সেই পথে একটা বড় বাধা। তবে তাদের এমন ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্তও যৌক্তিক। তার সম্প্রসারণের বিকল্প না করেই যদি তার কাটা হয় তাহলে তারাই বা কী করবে?

‘একটা সুপারশপের পজ (পয়েন্ট অব সেল) মেশিনও ইন্টারনেটে চলে। একদম তৃণমূল পর্যায়েও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ রাখছি যেন বিষয়টির একটা সুরাহা হয়। ’

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে মনে বলে করছেন বিপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে আমাদের প্রচুর ক্ষতি হবে। আমরা সার্ভিস দিতে না পারলে বিদেশি গ্রাহকেরা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। এটা তো আর সাবমেরিন ক্যাবলের সমস্যা না যে পুরো পৃথিবীজুড়ে হচ্ছে। বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে এই বার্তাই যাবে যে, এই দেশে সরকার আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনে এমনটা হচ্ছে।

তবে শনিবারের (১৭ অক্টোবর) মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। আলোচনায় সমাধান না এলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সংগঠনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারিখাতের পাশাপাশি সরকারিখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশংকা খোদ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর। বাংলানিউজকে মোস্তাফা জব্বার বলেন, কিছুক্ষণ আগেও আইএসপিএবির সঙ্গে আমি এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য কথা বলছিলাম। কিন্তু তারা জানালো দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গতকালও তাদের তার কেটেছে। এমন অবস্থায় তাদের পিঠ তো দেয়ালে ঠেকে গেছে। উত্তর আলোচনা করে একটা অবস্থায় এসেছে।

কিন্তু দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের কথাও শোনে না। তাহলে এই ব্যবসায়ীরা আর কী করবে? আমরা সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও চিন্তিত আছি। ই-নথির মাধ্যমে ফাইল চালাচালি হয়। তাহলে সেখানেও তো সমস্যা হবে। ডিস সংযোগ বন্ধ থাকলে এতগুলো গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, আমি শেষ পর্যন্ত সবার সঙ্গে কথা বলে যাবো। কোয়াব, আইএসপিএবিকে বলবো সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে আর কী কর্মসূচি নেওয়া যায়। বাকিটা দেখা যাক।

(শাওন সোলায়মান, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব খাবার ক্ষতিকর

বাংলাদেশের মানুষ চাল, মাছ, মাংস, শাক-সবজি মিলিয়ে কয়েক হাজার ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন, তবে এসবের মধ্যে বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যা অনেক সময় মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আপাত দৃষ্টিতে এসব খাবারের অনেকগুলোকেই নিরাপদ মনে হলেও বিশেষ কারণে বা বিশেষ অবস্থায় এগুলো বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে, হয়ে উঠতে পারে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

আবার কোন কোন খাবার রয়েছে যা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

আবার কোন কোন খাবারের কারণে হওয়া ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে।

এসব খাবার সম্পর্কে পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন যেসব খাবার অবস্থাভেদে আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এরকম কয়েকটি খাবার পটকা মাছ, মাশরুম, খেসারি ডাল, আলু, টমেটো, কাজু বাদাম, আপেল, কাঁচা মধু, কাসাভা, মটরশুঁটি-শিমের বিচি, কামরাঙ্গা, কচু, ডিম, ক্যানড বা প্রসেসড ফুড, ধুতরা ফুল ও ফল, পটকা মাছের বর্ণনা তুলে ধরা হলো:

পটকা মাছ

বাংলাদেশ, চীন, জাপান, কোরিয়া-সহ বেশ কিছু দেশের মানুষের কাছে পটকা মাছ বা পাফার ফিশ বেশ জনপ্রিয় একটি মাছ। কিন্তু এই মাছটি ঠিকভাবে প্রসেস করা সম্ভব না হলে সেটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এর শরীরে থাকে বিষাক্ত টিউরোটক্সিন নামক উপাদান, যা সায়ানাইডের তুলনায় বহুগুণ বেশি কার্যকর।

পুষ্টিবিদ অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলছেন, এই মাছ খাওয়ার আগে দক্ষতার সঙ্গে মাছের শরীরের বিষাক্ত অংশটি আলাদা করে ফেলতে হবে।

তি নি বলেন, এমনিতে মাছটি হয়তো ক্ষতিকর নয়, কিন্তু বিষাক্ত অংশটি কোনওভাবে মাছের শরীরে রয়ে গেলে আর তা মানুষের পাকস্থলীতে গেলে অল্পক্ষণের মধ্যে এটা মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে – এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

মাশরুম

বিশ্বের অনেক দেশেই মাশরুম একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার।

মাশরুম রক্তচাপ কমাতে, টিউমার কোষের বিরুদ্ধে, বহুমূত্র রোগীদের জন্য, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, বাত-ব্যথার মতো রোগের বিরুদ্ধে উপকারী বলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন।

তবে প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার রকমের জাত রয়েছে এবং এগুলোর অনেকগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যেমন শুধু উত্তর আমেরিকায়ই মাশরুমের ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির রয়েছে। খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে এগুলোর ২০ শতাংশই মানুষকে অসুস্থ করে দিতে পারে, আর শতকরা এক ভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মানুষ মেরেও ফেলতে পারে।

মাশরুমের নানা জাতের মধ্যে বাংলাদেশে ৮-১০টি জাতের চাষ হয়ে থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশেই পাওয়া যায় মাশরুমের এমন অনেক জাত, বিশেষ করে বুনো মাশরুম, অনেক সময় শরীরের জন্য বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলছেন, ”পরিচিত জাতের বাইরে অন্য মাশরুম, বিশেষ করে বুনো মাশরুম কখনোই খাওয়া উচিত নয়। কারণ মাশরুম শরীরের জন্য উপকারী হলেও সব মাশরুম উপকারী নয়। বরং অনেক মাশরুম মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে ব্যাঙের ছাতা বলে পরিচিত বুনো মাশরুমে এক ধরণের ছত্রাক থাকে, যা লিভার-কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”

খেসারি ডাল

বাংলাদেশে মসুর ও মুগডালের পাশাপাশি অনেকের খাদ্য তালিকায় খেসারি ডালও থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডালে বোয়া (BOAA) নামের এক প্রকার অ্যালানাইন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকতে পারে, যা বিষাক্ত নিউরোটক্সিন তৈরি করে। এই অ্যাসিড ‘নিউরো-ল্যাথারিজম’ বা স্নায়ুবিক পঙ্গুতা তৈরি করতে পারে।

এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। এতে করে হাঁটতে গিয়ে অসুবিধা এবং অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া কিংবা পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পরে।

পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসি বাংলাকে জানান, বেশিদিন ধরে খেসারির ডাল খেলে এই রোগ হতে পারে।

আলু

আলুতে শেকড়ের জন্ম হলে সেখানে গ্লাইকোঅ্যালকালোইড নামের এক ধরণের উপাদান তৈরি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাবৎ আলু পড়ে থাকলে এই ধরণের উপাদানের জন্ম হয়।

অনেক সময় গাছের পাতায় বা কাণ্ডেও এই উপাদান থাকে। বিশেষ করে আলুর গায়ে শেকড় জন্মালে যে লাল রঙের গাদ তৈরি হয়, সেখানে এই উপাদান বেশি থাকে।

বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, এই গ্লাইকোঅ্যালকালোইড শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ডায়ারিয়া, মাথাব্যথা, এমনকি মানুষ কোমায়ও চলে যেতে পারেন।

বলা হয়ে থাকে, কেউ কোনভাবে তিন থেকে ছয় মিলিগ্রাম পরিমান এই উপাদান খেয়ে ফেললে মৃত্যু হতে পারে।

এছাড়া আলুতে অনেক সময় সবুজ রঙের এক ধরণের পদার্থ দেখা যায়। সেটা হলো কারসিনোজেনিক নামের একটা উপাদান, যার ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এ ধরণের আলু খাওয়া উচিত নয়।

টমেটো

টমেটো গাছের পাতা এবং কাণ্ডে অ্যালকালাই থাকে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাঁচা টমেটোর ভেতর এই উপাদান থাকে বলে মনে করা হয়।

পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, এই কারণে ভালো করে রান্না না করে কাঁচা টমেটো খাওয়া উচিত নয়। কারণ বেশি পরিমাণে কাঁচা টমেটো খেলে যে কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

“কাঁচা টমেটো খেয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।”

টমেটো গাছের পাতাও কোনভাবে খাওয়া উচিত নয় বলে জানান তিনি।

কাজু বাদাম

কাজু বাদামের দুইটি জাত রয়েছে – একটি মিষ্টি, অপরটি তিতকুটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও তেতো কাজুবাদামের ভেতর সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড নামের একটি বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ তা শরীরে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে।

কাঁচা অবস্থায় তেতো কাজুবাদাম খাওয়া একেবারে উচিত নয়।

বলা হয়, প্রতিটা তেতো কাজুবাদামের ভেতর ছয় মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে। কারো শরীরে ১০০ মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড প্রবেশ করলে তা তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

আপেল

আসলে ঠিক আপেল নয়, আপেলের বিচির ভেতর খানিকটা পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। ফলে কারো শরীরের ভেতর যদি বেশি পরিমাণে আপেল বিচি বা বিচির নির্যাস প্রবেশ করে, তাহলে তা তাকে মেরে ফেলার মতো সায়ানাইড তৈরি করতে পারে।

আর সায়ানাইড হলো একটি মারাত্মক ধরণের বিষ।

বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, “অনেক সময় অনেকে আপেলের জুস তৈরি করে খান। তখন যদি অনেকগুলো বিচি-সহ আপেলের জুস করা হয়, তাহলে সেই বিচির কারণে ওই জুসে মারাত্মক বিষ তৈরি হতে পারে।”

তবে বিচি বাদ দিলে আপেলের বাকি অংশে অনেক পুষ্টি রয়েছে।

কাঁচা মধু

মৌমাছির চাক ভাঙ্গা তাজা মধু সংগ্রহ করতে অনেকেই পছন্দ করেন।

কিন্তু খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাস্তুরায়িত করা হয়নি এমন কাঁচা মধু শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ কাঁচা মধুর মধ্যে অনেক বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে, যার কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া এমন মধু খাওয়ার ফলে ঘোর ঘোর ভাব আসা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বমি করার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, কাঁচা মধুর ভেতর গ্রায়ানোটক্সিন নামের একটি উপাদান থাকে। এর এক চামচ পেটে গেলে হালকাভাবে এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিন্তু বেশি খাওয়া হলে সেটার ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।

তাই বিশেষজ্ঞরা কাঁচা মধু না খেয়ে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে সেই মধুর ভেতর যেন মৌমাছির চাকের বা মৌমাছির কোন অংশ না থাকে।

কাসাভা

আফ্রিকার অনেকগুলো দেশে এই খাবারটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে কাসাভা এখনো ততোটা জনপ্রিয় নয়, তবে দেশের কোন কোন স্থানে অল্প পরিমাণে চাষাবাদ এবং এর খাওয়ার চল শুরু হয়েছে।

ড. খালেদা ইসলাম বলছেন, কাসাভা যদি ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করা না হয়, তাহলে সেটা স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন যে কাসাভার পাতা ও শিকড়ে অনেক বেশি পরিমাণে সায়ানাইড থাকে। এটি একটি বিষাক্ত উপাদান, যা মানুষের শরীরে গেলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

মটরশুঁটি-শিমের বিচি

বাংলাদেশে মটরশুঁটি ও শিমের বিচি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। শিমের বিচি অবশ্য সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় খাবার।

কিন্তু পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, ”মটরশুঁটি ও শিমের মধ্যে ফাইটোহেমাগ্লুটিনিন নামের একটা পদার্থ থাকে, যা অনেকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ কারণে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন যে রান্নার আগে মটরশুঁটি ও শিমের বিচি অবশ্যই ১৫ মিনিটি ধরে পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিয়ে আবারও রান্না করতে হবে।

কামরাঙ্গা

এটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল।

সাধারণ মানুষ এটি খেলে কোন সমস্যা নেই। তবে যাদের কিডনির বা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই ফলটি ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা।

কচু

কচু বাংলাদেশে একটি সবজি এবং এর পাতা শাক হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলছেন, কচু গাছ যদি ছায়ায় জন্মে বা বড় হয়, তাহলে এর মধ্যে এমন একটি কম্পোনেন্ট তৈরি হয়, যা অনেকের জন্য অ্যালার্জি তৈরি করে।

ফলে কচু খেলে তাদের চুলকানি হয়, গলা ফুলে যায়। এর কারণ হলো, কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট। অনেক সময় এতে করে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলছেন, কচু জাতীয় জিনিস খেতে হলে সঙ্গে লেবু খেতে হবে। সেটা কচুর অক্সালেটের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করে বলে তিনি জানান।

ডিম

বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানান, ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো – কিন্তু কাঁচা ডিম খাওয়া, আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়া, বা ডিমের এক পাশ পোঁচ করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর, বলছেন তিনি।

ক্যান বা প্রসেস ফুড

ব্যস্ততার কারণে এখন অনেকেই ক্যানে থাকা খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে পছন্দ করেন, কারণ এগুলো অনেকটা প্রস্তুত অবস্থায় থাকে বলে সহজেই খাওয়া যায়।

তবে পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ জাতীয় ক্যানড খাবার মানসম্পন্ন না হলে বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে তা ডায়রিয়া, ক্যানসার ইত্যাদির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এছাড়া, শুটকি মাছ, শুকনো ফল ইত্যাদি খাবারে অনেক সময় সালফার ব্যবহার করা হয়, যা পেটে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ধুতরা ফুল ও ফল

একসময় বাংলাদেশি বিভিন্ন কবিরাজি ওষুধে এই ফলের ব্যবহার হতো। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি ফল এবং এর পাতাও বিষাক্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে এখন অবশ্য এই গাছটি অনেকটাই দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

(সায়েদুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

সাত বছর কোমায় থাকা সেনা কর্মকর্তাকে সন্মানজনক পদোন্নতি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত একজন সেনা কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে যিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত সাত বছরের বেশি সময় ধরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজার চাকরির মেয়াদের শেষ দিন ১২ই অক্টোবরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে কর্নেল র‍্যাংকে উন্নীত করা হয়। তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কক্ষেই সম্পন্ন হয় পদোন্নতির আনুষ্ঠানিকতা।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে হার্ট অ্যাটাকের পর থেকেই কোমায় চলে যান তিনি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তার অসুস্থতাকে বলা হয় ‘হাইপোস্কিক স্কিমিক ইনজুরি টু ব্রেইন ইফেক্টস।’

চিকিৎসকরা বলছেন যে তার মস্তিষ্কের নিচের অংশ ভালো আছে, কিন্তু মস্তিষ্কের যে অংশ মানুষের চিন্তা-চেতনার সাথে জড়িত, ওই অংশের কোষগুলো সুস্থ হয়নি।

অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আছেন তিনি। এর মধ্যে এই কর্মকর্তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি।

দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা ২৩শে জুন ১৯৮৯ সালে সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন পাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৩ সালে হার্ট অ্যাটাক করার আগে ছিলেন শিক্ষা পরিচালকের পদে।

প্রায় ৩২ বছরের চাকরি জীবনে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও ছিলেন – সেখানে বিশেষ অবদানের জন্য পান ‘পিস মেডেল।’

এছাড়া সেনাবাহিনীর একাধিক প্রশিক্ষণ স্কুলের রণকৌশল প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বইও লিখেছেন দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার। সেনাবাহিনীর ইতিহাস এবং প্রখ্যাত কর্মকর্তাদের জীবনী ছাড়া তিনি নিজের পূর্বসূরি হাছন রাজাকে নিয়েও বই লিখেছেন।

দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ারের স্ত্রী মোসলেহা মুনিরা রাজা স্বামীর অসুস্থ থাকাকালীন পুরো সময় চিকিৎসায় সহায়তা করায় এবং পদোন্নতি দেয়ায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, “প্রমোশনের ঠিক এক মাস আগে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে যান। আমাদের সবার মনে এক রকম আশা ছিল যে তার পদোন্নতি হওয়ার পরেই যেন তিনি অবসরে যান।”

“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার অবসরের দিন তাকে যেভাবে সম্মানিত করেছে, সে জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ”, বলেন মোসলেহা মুনিরা।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে আরপি সাহার খুনী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবুরের মৃত্যু

দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার (আরপি সাহা) খুনী যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাহবুবুর রহমান গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার রাইনহাটি এলাকার বাসিন্দা।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, যুদ্ধাপরাধের মামলায় মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড হয়। আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। আজ ভোর ৫ টা ৪০ মিনিটের দিকে মারা যান তিনি। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মাহবুবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই কারাগারে তার কয়েদি নং- ৪৪১২/এ ছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি এ কারাগারে বন্দি ছিলেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৭ জুন মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নাছির উদ্দিন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নাছির  উদ্দিন উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে এবং সরকারি পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার এ অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার , নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীল মাঝে  শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায় , বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাসির তার  মোটরসাইকেল নিয়ে সখীপুর থেকে  নিজ বাড়ি যাচ্ছিল। ঢাকা-সখীপুর সড়কের প্রতিমা বংকী এলাকায় মুরগি বহনকারী একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানের সঙ্গে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সখীপুর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সে মারা যায়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা ২২অক্টোবর

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও তরান্বিত করতে এক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল ও জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন সাক্ষরিত পত্রএ আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এই তথ্য জানা যায়।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড শক্তিশালী করার লক্ষে সকল উপজেলা ও ইউনিটগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জনগুহ এবং সাধারন সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশক্রমে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।

সেই লক্ষ্যে আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জেলা) আওয়ামী লীগ অফিসে সকাল ১০.০০মিঃ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভার আহ্বান করা হয়েছে বলে পত্রে জানানো হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে পরকীয়া প্রেমিক যুগলের রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার রাজাফৈর গ্রামে পরকীয়া প্রেমিক যুগলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে পুলিশ প্রেমিক শাজাহান (৩৮) ও প্রেমিকা আলেয়া বেগমের (৩৫) লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, রাজাফৈর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে আলেয়া বেগমের ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া গ্রামের আব্দুল বাছেদের ছেলে মো. দানেছ আলীর সাথে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আলমগীর নামে ১১ বছরের এক ছেলে রয়েছে।

কয়েক বছর আগে আলেয়া বেগম রাজাফৈর গ্রামে তার বাবার বাড়ির পাশে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেশি আ. বাছেদ মিয়ার ছেলে দুই সন্তানের জনক শাজাহান মিয়ার সাথে গৃহবধূ আলেয়া বেগমের পরকীয়া গড়ে ওঠে।

পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবার থেকে তাদেরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে গত ৩ সেপ্টেম্বর আলেয়া বেগম ও শাজাহান অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমায়।

দীর্ঘ ৪২ দিন বিভিন্ন স্থানে থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে তারা শাজাহানের বাড়িতে আসেন। এ নিয়ে শাজাহানের স্ত্রী-সন্তানের প্রতিবাদের মুখে স্থানীয় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় কয়েক মাতব্বর পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের লক্ষে শাজাহানের বাড়িতে যান।

মাতব্বররা কথা বলার এক পর্যায়ে শাজাহানের সম্মন্ধি (স্ত্রীর বড় ভাই) শিপন, অপর সম্মন্ধি প্রবাসী আ. খালেকের মেয়ে ঝর্ণা, শ্যালক প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী বীথি, জেঠাস (স্ত্রীর বড় বোন) ইয়ারজান, স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলে জাহিদ সহ সম্মন্ধি শিপনের কয়েকজন বন্ধু অতর্কিতভাবে শাজাহান ও আলেয়া বেগমের উপর চড়াও হয়।

তারা পরকীয়ার অপরাধে শাজাহান ও আলেয়া বেগমকে এলোপাতারি পিটাতে থাকে।

আলেয়া বেগমের মা সোনাভানু জানান, বাড়িতে আসার পর থেকে একাধিকবার আলেয়া বেগম ও শাজাহানকে তারা মারপিট করে। রাতে গ্রাম্য সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে ডাকা হয়নি।

গৃহবধূ আলেয়া বেগমের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, শাজাহানের শশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ে ও শাজাহানকে পিটিয়ে খুন করে আলেয়ার গোয়াল ঘরে ধর্ণার (আড়া) সাথে ঝুঁলিয়ে রাখে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালায়।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আত্মহত্যা করলে গোয়াল ঘরে রক্ত এলো কীভাবে।

শাজাহানের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, তার স্বামীর ইচ্ছায় তিনি আলেয়াকে সতীন হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। সামাজিকভাবে বিয়ের কথাও হয়েছিল।

স্থানীয় মাতব্বর ও শাজাহানের খালু মো. আজমত আলী ও মাতব্বর আবুল কাশেম জানান জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় মসজিদে আলোচনা হয়। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পুনরায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার সকালে তাদের লাশ গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন ইউপি সদস্য হামিদ মিয়া বলেন, এটা আত্মহত্যা নয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বীরবাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছোহরাব আলী বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের পা মাটিতে ঠেকানো ছিল। মাটিতে রক্তও পড়েছিল। এ ঘটনায় তিনি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি করেন।

কালিহাতী থানার ওসি (তদন্ত) রাহেদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সালিশ হওয়ার কথা ছিল। আলেয়া বেগম ও শাজাহানকে পরকীয়ার কারণে অপমানজনক কথা বলেছে। এ কারণে অভিমান করে তারা একই রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে মা ইলিশ ধরার দায়ে তিন জেলের দণ্ড

টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে তিন জেলেকে কারাদণ্ড ও মাছ ধরার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধংস করা হয়েছে।

যমুনা নদীর নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ অংশে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস এ অভিযান পরিচালনা করে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুরের নেতৃত্বাধীন অভিযানে জেলে আনোয়ার হোসেন মোল্লা, আমজাদ মোল্লা ও রফিক মোল্লাকে আটক করে ভ্রাম্যমান

আদালতের মাধ্যমে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান এবং দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধংস করা হয়। ধংসকৃত কারেন্ট জালের বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের টহল জোড়দার করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে মা ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে তিন জেলেকে আটক করা হয়।

পরে সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী জেলেদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং দুই হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে সেগুলো নদীর তীরে এনে বিনষ্ট করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় মোবাইল কোর্টের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানে উপজেলা মৎস্য অফিস, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-