ঢাকা সিটি কর্পোরেশন আর আইএসপি-দের সমন্বয়হীনতা

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে সংযোগ তার কেটে দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮ই অক্টোবর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বেলা ০১টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ইন্টারনেট সেবা গ্রাহকরা নানা ধরণের হয়রানির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১০ই অগাস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ সিটিকে তারের জঞ্জালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যার অংশ হিসেবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুলে থাকা বাড়তি তার কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে অনেক জায়গায় তার কেটে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ধানমন্ডি এলাকার একাংশে কেবল বা তার কাটার কাজ চলছিল।

অনাকাঙ্খিত’ পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা শহরের ঝুলন্ত তার কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই মুহূর্তে যেনে ইন্টারনেট ও ক্যাবেল দুটোই যেন সচল থাকে’ সে বিষয়টি যেনো মাননীয় মেয়র বিবেচনা করেন যে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করেছে টেলিকম মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেয়া এবং তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

এবিষয়ে আইএসপিএবি- এর পরিচালক নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে নই। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে যে বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের করে নিতে হবে। তবে ঢাকা শহরে এই ধরণের কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। যার কারণে এই প্রতিবাদ।”

তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, ‘মাথার উপর দিয়ে তার নেয়া অবৈধ’।

ভোগন্তিতে গ্রাহকেরা

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ফারহানা মাহবুব। তিনি একজন চাকরিজীবী। সেই সাথে তার দুটি স্কুল পড়ুয়া সন্তান রয়েছে।

মিসেস মাহবুব জানান, করোনাভাইরাসের কারণে একদিকে সন্তানদের স্কুলের ক্লাস চলছে অনলাইনে। আর সেই সাথে নিজেকেও বাড়িতে থেকে অফিস করতে হয়।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অভিযানের অংশ হিসেবে ঝুলন্ত তার কেটে দেয়ার কারণে এ পর্যন্ত চার বার ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে তাকে। প্রতিবারই একবার ইন্টারনেট সংযোগ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুদিন পর পর সংযোগ এসেছে।

মিসেস মাহবুব বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে সন্তানদের অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

“দুই বাচ্চার ক্লাস এক সাথে শুরু হলে ঝামেলা হয়ে যায়। একটি মোবাইল দিয়ে দুই জনের পক্ষে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। কারণ, ব্রডব্যান্ড না থাকায় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করতে হয়। ওরা চিল্লাচিল্লি শুরু করে।”

সেই সাথে নিজের অফিসের কাজও ব্যাহত হয় বলে জানান তিনি।

পরীবাগ এলাকার বাসিন্দা শুচিস্মিতা তিথি। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তিন বার ইন্টারনেট সংযোগ পরিবর্তন করেছেন তিনি। কিন্তু এর পরও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পান নি তিনি। পরে জানতে পেরেছেন যে, সিটি কর্পোরেশন থেকে একাধিকবার তার কেটে দেয়ার কারণে এ ধরণের সমস্যায় পড়েছেন তিনি।

শুচিস্মিতা তিথি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। যার কারণে হোম অফিস করতে গেলে প্রায়ই তাকে সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে হানি তামিমা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস করতে হচ্ছে তাকে। তবে তার কাটার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং স্লো স্পিডের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে তাকে।

“দেখা যায় যে পরীক্ষা চলছে, এর মধ্যে ইন্টারনেট নেই। তখন ঝামেলায় পড়ে যাই।”

সিটি কর্পোরেশন-আইএসপি পারস্পরিক দোষারোপ

তবে গ্রাহকদের এমন ভোগান্তির জন্য পরস্পরকে দুষছে সিটি কর্পোরেশন এবং ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিটি কর্পোরেশন একদিকে অভিযোগ করছে যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়নি। আর ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কোন প্রক্রিয়ার কথা জানাচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন।

এছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করেই কেবল বা তার কেটে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, “মাথার উপর দিয়ে কেবল বা তার নেয়াটা এমনিতেই অবৈধ। অনেক বছর ধরে এটা চলে আসছে। আর এখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও উল্টো সেটার পক্ষেই সাফাই আসছে।”

কেবল মাথার উপর দিয়ে না নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রায় সব অঞ্চলে কেবল কাটার কাজ চলছে। এর মধ্যে শান্তিনগর, ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, নগরভবনের চারপাশ, ওয়ারি, মুগদা এলাকায় কেবল কাটা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও কাটা হবে।

“অনুমতি নিতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কাছে আবেদন করতে হবে। সেখানে কিছু শর্তের বিনিময়ে অনুমতি দেয়া হবে। যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হবে, তার মাথার উপর ঝোলানো যাবে না, মাটির নিচে হতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশনকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রেভিনিউ দিতে হবে।”

অনুমতি নেয়াটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এই সময়ের মধ্যে বিকল্প কি ব্যবস্থা হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে মি. আবু নাছের বলেন, ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের পরিবর্তে অভিভাবকরা মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

“৫০০ টাকায় ৪০ জিবি ইন্টারনেট পাওয়া যায়। মাথার উপর দিয়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট নেই এবং এর কারণে অনলাইন ক্লাস বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ একটা মিস কনসেপ্ট এবং মানুষকে ভুল পথে ধাবিত করার অপপ্রয়াস। আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্সও সিটি কর্পোরেশনই দিয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স অনেকগুলো অনুমোদনের একটা অংশমাত্র”।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, “ট্রেড লাইসেন্স করা মানেই সে বিজনেসের বৈধতা পেয়ে গেলেন তা নয়।”

তবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- আইএসপিএবি’ এর মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন, “কর্তৃপক্ষ বা নীতিনির্ধারক যারা রয়েছেন তাদেরকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমাদেরকে কত জায়গা থেকে অনুমতি নিতে হবে। বিটিসিএল আমাদের লাইসেন্স দিয়েছে, সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে।”

তারা মনে করছেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নানা ধরণের সমস্যায় পরছেন তারা।

ইমদাদুল হক বলেন, “প্রত্যেকটা অপরাটেরকে বছরে ২৫ লাখ টাকা করে সিটি কর্পোরেশনকে দেয়ার একটা প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। কিন্তু আমাদের অনেক অপারেটর রয়েছে যাদের মূলধনই ২০ লাখ টাকা নয়। সে কিভাবে বছর শেষে এতো টাকা দেবে।”

ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন তাদের সাথে বৈঠক করে মাথার উপরে থাকা কেবল গুলোর বিষয়ে সমাধানে এসেছে। যার কারণে উত্তর সিটিতে মেইন রোড গুলো থেকে কেবল সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তা থেকেও সরিয়ে নেয়া হবে।

তবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে বার বার চেষ্টা করেও বৈঠকের কোন ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশন থেকে নতুন করে অনুমতি নিতে হলে অনেক সময় লাগবে এবং গ্রাহকদেরকে ইন্টারনেট সেবা দেয়াও বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা।

উন্নত বিশ্বে বিদ্যুৎ সংযোগের মতো ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট সংযোগও রাস্তার নিচে লাইন টেনে বাড়িতে বা অফিসে সরবরাহ করা হয়। এজন্য তাদের কোন তার বাইরে থেকে দৃশ্যমান থাকে না।

কিন্তু বাংলাদেশে এখনও এমন কোন পরিপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাটির নিচে এই নেটওয়ার্কিং-এর ব্যবস্থা করলেও সেটার পরিধি সীমিত।

মূলত তারা ঢাকার মূল কয়েকটি সড়কের নীচ দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সার্ভিস প্রোভাইডাররা নির্দিষ্ট ভাড়ার বিপরীতে সেই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট সংযোগ পৌঁছে দেয়ার সময় ওই বিদ্যুতের খুঁটির ওপর দিয়েই তার টানতে হয়।

মাথার উপর ঝুলে থাকা তার ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করতে ভূগর্ভস্থ কমন নেটওয়ার্ক অর্থাৎ নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক-এনটিটিএন ব্যবস্থা করেছে সরকার। দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা দিতে ১০ বছর আগে লাইসেন্স পায় এবং কাজ শুরু করে।

তবে এরপরও পুরো ঢাকা শহর এখনো এই নেটওয়ার্কের আওতায় আসেনি।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- আইএসপিএবি’ এর মহাসচিব ইমদাদুল হক বলেন, শুধু মেইন রোডগুলোতে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। সবগুলো হাউজহোল্ডগুলোতে এই সুবিধা নেই। যার কারণে চাইলেও সব তার ভূগর্ভস্থ ভাবে নেয়া সম্ভব নয়।

এই সমস্যার কারণে অনেক স্থাপনাই ইন্টারনেট সংযোগ সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এবিষয়ে আইএসপিএবি- এর পরিচালক নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “বিটিসিএল বা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা এখনো এনটিটিএন নেটওয়ার্কের কোন অফার আমরা পাই নাই। যেভাবে আমরা দিতে পারবো।”

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে গৃহবধূর লাশ, স্বামী পলাতক

টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে তারটিয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফরিদা বেগম (২৫) ওই গ্রামের রানার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরে। তিনি ফিকির উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে প্রতিবেশীরা তাকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। লাশের গলায় গামছা প্যাচানো ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মর্কতা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছে। ওই গৃহবধূর বাবা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশ কেন সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে সরে আসলো?

বাংলাদেশ কেন সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করলো? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন, ভারত-চীনের লড়াইয়ের মাঝখানে বাংলাদেশ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

সোনাদিয়া বাতিল হলেও পঁচিশ কিলোমিটার দূরে মাতারবাড়িতে বন্দর ঠিকই হচ্ছে। তবে সেটা অর্থায়ন করবে জাপান। এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন ভারতীয় সাংবাদিক সুধা রমাচন্দ্রন।

দ্যা ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার সরকারিভাবে সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

এটি ছিল বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের এমন একটা হাইপ্রোফাইল প্রকল্প, যা ভারত মহাসাগরে চীনের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত উচ্চাভিলাষকে ত্বরান্বিত করত। আর এখন সেটি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করল।

তবে প্রতীয়মান হয় যে, পরিবেশগত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্প বাতিল করেছে।

এখন সোনাদিয়ার পরিবর্তে একটি গভীর সমুদ্র নির্মাণ করা হবে মাতারবাড়িতে। এলাকাটি সোনাদিয়া থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। তবে পরিবেশগত বিষয়গুলো এই প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কাজ করলেও এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে, বিষয়টির নেপথ্যে আছে ভূ-রাজনৈতিক কার্যকরণ। সেটিই ওই প্রকল্প বাতিলের ভাগ্য নিশ্চিত করে দিয়েছে।

কারণ সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে ভারত এবং চীনের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তারা উভয়ে বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল।

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ পরিকল্পনার সূচনা ঘটেছে ২০০৬ সালে। এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নে সম্মত হয়েছিল চীন।

২০১৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিং সফর করেন। ওই সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারের মধ্যে এই বিষয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা ঘটেনি ।

ওই প্রকল্পের বিষয়ে চীনের অব্যাহত ইন্টারেস্ট থাকা সত্বেও ঢাকায় ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরকালে তা আলোচনার এজেন্ডাভুক্ত হয়নি । গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা এটাই বলে আসছেন যে, ওই প্রকল্পের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে । কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি।

এখন একটা পরিবর্তন সূচিত হলো । আগস্ট মাসের শেষে একটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে শেখ হাসিনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সোনাদিয়া ডিপ সি পোর্ট অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১২ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন যে, প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সোনাদিয়ায় একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণে খুবই আগ্রহী ছিল। কারণ চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরের বিদ্যমান সমুদ্র বন্দর জাহাজ জট লেগেই আছে। এমনকি বন্দর দুটি তার সংলগ্ন সাগরের নাব্যতা হারিয়েছে। এসব বন্দর সেকারণে এখন খুব বেশি ভারী ওজনের মাল বোঝাই জাহাজ নোঙ্গর করতে পারে না।

আর অবস্থা এমনই হয়েছে যে, বাংলাদেশ অভিমুখী কার্গোগুলোকে এখন শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরে মালামাল খালাস করতে হয় এবং সেখান থেকে ছোট জাহাজে করে নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশে।

এর ফলে মালামাল পরিবহনে বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে । আশা করা হয়েছিল যে, একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হলে তা খরচ কমাবে, ভোগান্তি কমাবে । ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

সোনাদিয়া সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সঙ্গে আরও পরিকল্পনা ছিল চীনের ইউনান প্রদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল এবং ভুটানের মত ভূবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর জন্য এটি একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২০০৬ সালে জাপানের পরিচালিত একটি সমীক্ষায় ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে, একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য সোনাদিয়াই সবথেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে ।

তাই প্রশ্ন হল, বাংলাদেশ কেন এই প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল ? নয়াদিল্লি অব্যাহতভাবে সোনাদিয়া প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করেছিল। কারণ তারা দেখেছে, ওই সমুদ্র বন্দরটি বঙ্গোপসাগর এবং ভৌগোলিকভাবে ভারতের নিকটবর্তী।

ভারতের অবশ্য এরকমের আশঙ্কাও রয়েছে যে, শ্রীলংকার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। চীন হয়তো ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারণে অদূর ভবিষ্যতে তার এই ধরনের স্ট্র্যাটেজিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা কৌশলগত অবকাঠামো চীনের কাছে হস্তান্তর করার জন্য চাপ দিতে পারে । এ ধরনের সম্ভাব্য দৃশ্যপটে নয়াদিল্লি ভীত হল এবং ভাবল, ভারতীয় নিরাপত্তা বলয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অবশ্য এটাও ঠিক যে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত তার অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে সর্তকতা অবলম্বন করে চলছে । এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সে কোনো একটি দেশের উপর নির্ভরশীল না থেকে অনেকগুলো দেশের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ যদিও চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার । একই সঙ্গে আবার চীনের প্রতি উদ্বিগ্ন কিছু দেশের সঙ্গেও তার রয়েছে অংশীদারিত্ব । এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান , ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। এরা সবাই বেইজিংয়ের প্রভাব সীমিত দেখতে আগ্রহী।

বাংলাদেশে এখন মাতারবাড়িতে যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে জাপানি সহায়তা রয়েছে। সোনাদিয়ার মতোই মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দরটিও অবশ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং সেটা ভারতের নিকটবর্তী । তবে ভারত-জাপান শক্তিশালী সম্পর্কের আলোকে ভারত এক্ষেত্রে আপত্তি নাও তুলতে পারে । এই প্রকল্পের কাজ অবশ্য ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ তাই আশা করছে, ২০২৫ সালের মধ্যে সে তার প্রথম গভীর গভীর সমুদ্র বন্দরটি দেখতে পাবে । কিন্তু এর অর্থায়ন এবং নির্মাণ কাজ যারা করছে, সেই দেশটির নাম জাপান। চীন নয় ।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয় ২০০৯ সালে। বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ প্রকল্পের কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও বর্তমানে আলোচিত এই মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

‘ঝুলন্ত তার’ কাটা বন্ধের দাবি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর

‘অনাকাঙ্খিত’ পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা শহরের ঝুলন্ত তার কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

‘এই মুহূর্তে যেনে ইন্টারনেট ও ক্যাবেল দুটোই যেন সচল থাকে’ সে বিষয়টি যেনো মাননীয় মেয়রকে বিবেচনা করেন যে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করেছে টেলিকম মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেয়া এবং তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট এখন মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের মতো। তাই যদি ঢাকা শহরের তার পরিস্কার করতেই হয়, তাহলে অন্তত পক্ষে তাদের (সেবাদাতা) সঙ্গে বসে করা দরকার।

‘গায়ের জোরে’ তার কাটলে এর পরিণতি ভায়বহ হবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটা বন্ধ হলে শিশু থেকে বৃদ্ধ, গৃহিনী থেকে সরকারী কর্মচারী সবাই আক্রান্ত হবে। এতে কেবল ইন্টারনেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এতে স্যাটেলাইট টিভি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাস্তব সম্মতভাবে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তিনি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

দেলদুয়ারে অন্যের জায়গা দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন চাওয়ায় পেটালেন প্রতিবেশী

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে অন্যের জায়গার উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মো. হারুন (৩২) নামের এক যুবককে রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ডেকে এনে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।

আহতবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত হারুন বরটিয়া গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপরে অভিযুক্ত প্রতিবেশি আফাজ মুন্সীর ছেলে রেজা (৩৫) , অপর ছেলে তমাল (২৭), আওয়ালের ছেলে হাবিব (২৫) ও গফুরের ছেলে আজাদ(১৮) কে আসামী করে দেলদুয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন হারুনের ভাই মো. রফিকুল ইসলাম।

আহত হারুন ও তার ভাই শুকুর জানান, হারুন, জহুরুল,রিনা ও খশরুর বাড়িতে একটি খুটিসহ চারটি মিটারের আবেদন করে হারুন। মাসখানি আগে ঠিকাদার পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও তার এনে লাইনের সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবেশি আফাজ মুন্সীর পুকুরের একপাশ দিয়ে তার টানার প্রয়োজন হলে তাদের বাঁধায় ঠিকাদার লাইন না দিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ চলছিল।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সারদিন শ্রমিকের কাজ শেষে সন্ধ্যায় খেতে বসলে হাবিব তাকে আলোচনার কথা বলে ডেকে নিয়ে বরটিয়া নুরুর মোড়ে নেওয়ার আগেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎপেতে থাাকা আরও চারপাঁচজন যোগ দিয়ে হারুনকে এলাপাথারী রড দিয়ে পেটাতে থাকে। হারুনের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বুধবার কর্মরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য হারুনকে টাঙ্গাইল পাঠান। এবং বুধবারই থানায় মামলা করে। পরে শহরের সোনিয়া ক্লিনিকে সমস্থ পরীক্ষা নিরিক্ষা করানোর পর পূণরায় হারুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গুরুতর আহত হয়ে দিনমুজুর হারুন হাসপাতালে থাকায় শিশু সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হারুনের গর্ভবতী স্ত্রী। চিকিৎসা করাতেও পারছেন না তিনি।

এদিকে ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার সরকারের এমন উদ্যেগে বাঁধা দেওয়া এবং বর্বরিচিত হামলায় সামাজিকভাবে সমালোচিত হয়েছে হামলাকারীরা। নুরুর মোড়ের ব্যবসায়ীরা হারুনকে মারধরের তীব্র নিন্দা জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জায়গার উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে চাওয়ায় প্রতিপক্ষ বাঁধা দিয়েছে। এর আগেও সরকারি কাজে বাঁধা দিতে নিষেধ করে সমন্বয় করতে বলেছি। হঠাৎ বাড়ি থেকে ডেকে এসে হারুনকে এভাবে মারধর করা উচিৎ হয়নি।

পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফুজ্জামান লিটন বলেন, ঘটনা আমি শুনেছি। সামাজিকভাবে মিমাংশা করার চেষ্টা করবো। অন্যাথায় আইংিন প্রক্রিয়ায় সমাধান হবে।

মামলার আইও দেলদুয়ার থানার এসআই সাচ্চা জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বরটিয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণে ৫ হিন্দু যুবকের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে ছাব্বিশা গ্রামে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে দুইজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রি দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০)।

পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)।

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ জারির পর এটিই প্রথম ফাঁসির রায়।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার। আর মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভিকটিমকে আইনি সহায়তা দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসাছাত্রীর। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে এলেঙ্গা নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়।

পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে স্বজনরা এসে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ এ মামলার রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিলো আদালত।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

গুজবে সাংবাদিক পীর হাবিবের বাসায় হামলা

বুধবার দুপুরের পর ওই গৃহকর্মীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পীর হাবিবের বাড়ির সামনে; পরে ওই গৃহকর্মীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ওই ভবনের মূল ফটকে ভেঙে ঢুকে পড়ে গাড়ি ভাংচুর করে।

নুরদের নতুন দল ‘গণ অধিকার পরিষদ’

শিগগিরই আত্মপ্রকাশ করছে নুর-রাশেদদের নতুন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অপেক্ষা এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

এর আগে বিভিন্ন সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর একাধিকবার রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের আদলে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে অধিকার পরিষদ গঠন করেছেন তারা।

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন জানান, আমাদের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের নাম ‘গণ অধিকার পরিষদ’। ইতিমধ্যে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক আমলা, অভিজ্ঞ ও  বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে দেশের গুণী ব্যক্তিরা।

রাশেদ বলেন, এটি মূলত: তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল। তার মানে এই নয় যে, এই দলের সবাই বয়সে তরুণ, বরং বয়স্ক হয়েও একজন তারুণ্যের বলে বলিয়ান হতে পারেন চিন্তায়, কর্মে, উদ্যোমে। এখানে প্রবীণ-নবীণরা মিলে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলবে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতা আরো বলেন, আপাতত: দল গঠনের উদ্যোগের নাম ‘গণ অধিকার পরিষদ’। পরে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করা হতে পারে। আবার ‘গণ অধিকার পরিষদ’ নামও চূড়ান্ত হতে পারে। সবাই একমত হলে এ নামেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এবং সেটা খুব শিগগিরই।

সারাদেশে এ পরিষদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি

মো. আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম চাকলাদারকে সদস্য সচিব করে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির ১১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন খন্দকার নাজিম উদ্দিন ও মোজাম্মেল হক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু’র সুপারিশে এ কমিটির অনুমোদন দেন।

দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে আহ্বায়ক কমিটিকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম প্রেস বিজ্ঞপ্তীর মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

যুবদল সম্পাদক টুকু করোনা আক্রান্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) কোভিডের টেস্টের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

যুবদল সম্পাদক টুকু বলেন, আমি বাসায়ই থাকব। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলব। হাসপাতালে ভর্তি হব না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পরামর্শে চিকিৎসা নেব। এছাড়াও তিনি দেশবাসীর কাছে করোনা মুক্তি কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

এরআগে কোভিডে আক্রান্ত হন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ। তারা তাদের নিজ নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সম্প্রতি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-