কেমন আছেন খালেদা জিয়া?

কারাগার থেকে বাংলাদেশের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তিলাভের পর এখন দিন পার করছেন ঢাকা গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য়। কিন্তু কেমন আছেন তিনি?

দলের নেতারা বলছেন, মহীয়সী এই নারীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়া দরকার। পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ স্পষ্ট করে কিছু না বললেও সরকারের বিভিন্ন মহলে স্বজনদের দেন-দরবারের খবর মিলছে নানা সূত্রে।

এই অবস্থায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, খালেদা জিয়া কি চিকিৎসার্থে বিদেশ যেতে পারবেন?

দুর্নীতির মামলায় সাজার রায়ের পর খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় সরকার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়। ২৪ সেপ্টেম্বর ওই ছয় মাস শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দেয়।

বাসায় থেকে দেশেই চিকিৎসা করাবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না— এমন শর্তে মুক্তির পর গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ অবস্থান করছেন তিনি।

তবে ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে চোখ ও দাঁতের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। মুক্তি পেলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এখনও তার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়নি। তার জন্য দলীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি টিম রয়েছে। ওই টিমের এক-দুজন নিয়মিত বিএনপিপ্রধানের শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করছেন।

এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি দল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানও তার চিকিৎসার নিয়মিত তদারকি করছেন।

পারিবারিক ও দলীয় বিভিন্ন সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রথম মেয়াদে যেন কোনোভাবে সরকারের বেঁধে দেয়া শর্ত লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে খুবই সচেতন ছিল তার দল ও পরিবার। ফলে সরকারও তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দেয়।

তবে, প্রথম দফায় খালেদা জিয়াকে যে শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছিল, সেটা দ্বিতীয় দফায়ও বলবৎ রাখা হয়। যদিও তাকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে নানাভাবে সরকারকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা চলছে।

একটি সূত্র জানায়, সরকারের কৃপায় কারামুক্তির কারণে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তি ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নেতাকর্মীদের একটি অংশ এখনও মানতে পারছেন না যে, আন্দোলন বা আদালতের বদলে দলীয় চেয়ারপারসন মুক্তি পেয়েছেন সরকারেরই কৃপায়।

অবশ্য এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না তার পরিবার। স্বজনরা চাইছেন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা। সেক্ষেত্রে দল বা দলের সমর্থকরা কী চান, সেটি এখন আর বিবেচ্য নয়।

তবে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ করলে একটি অংশ দাবি করে, খালেদা জিয়া আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে চান না। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েই বিএনপিপ্রধান বিদেশ যেতে চান।

কিন্তু স্বজনরা মনে করেন, এটা সম্ভব নয়। কারণ সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া উচ্চ আদালত থেকেও জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ইতোমধ্যে বারবার এটি প্রমাণিত হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মৌলিক চিকিৎসা এদেশে সম্ভব নয়। সেজন্য তার ভাই শামীম ইস্কান্দর ও বোন সেলিনা ইসলাম সরকারের সঙ্গে খালেদাকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন। এক্ষেত্রে দলকে একেবারেই পাশ কাটিয়ে চলা স্বজনরা আশাবাদী, সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেবে।

পরিবারের একটি সূত্র বলছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া দরকার হলেও এ ব্যাপারে সরকারের কাছে আবেদন করার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ‘ফিরোজা’য় গিয়ে দেখা করেন তার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালেদার শারীরিক অবস্থা খারাপ। হাসপাতালে যে চিকিৎসা হতো, বাসায় সে চিকিৎসা হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে তার স্থায়ী মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো সরকারের ব্যাপার।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন জানান, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য যেতে চাইলে সেদেশের সরকারের তরফ থেকে কোনো বাধা নেই। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে স্বজনদের দেন-দরবারের মধ্যে বিদেশি পক্ষের সক্রিয়তাও স্পষ্ট হয়।

ডিকসনের ওই বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ব্রিটেন এখনও একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাদের মধ্যে সভ্যতা-ভদ্রতা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে যথেষ্ট বেশি। তারা একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে, একজন গণতান্ত্রিক নেতার প্রতি যে দায়িত্ব সেই কথাটিই বলেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ম্যাডাম যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন। তার শারীরিক অবস্থা সবাই জানেন। খুব একটা উন্নতি হয়নি। খেতে পারছেন না।

বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টা খালেদা জিয়ার চাওয়া এবং সরকারের দেয়ার ওপর নির্ভর করছে। খালেদা জিয়া যদি যেতে চান, সেটা যদি পরিবারের পক্ষ থেকে, আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বলা হয়, সরকার যদি যেতে দেয়, তাহলে তিনি যেতে পারবেন। না হলে তো যেতে পারবেন না। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কিছু বলেননি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।

(খালিদ হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

পিয়াস করিমের শেষ বক্তৃতা

আমি অর্থনীতিবিদ নই। আমি বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কের ভারসাম্য এবং উল্লেখযোগ্য ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলবো। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে, যখন রাষ্ট্র একাই কেবল ভূমিকা পালনকারী ভূমিকায় থাকবে, অবশ্য যদি আপনি একান্তই নয়া রক্ষণশীল ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদ না হন।

স্থানীয় পুঁজি এবং আন্তর্জাতিক পুঁজির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। আপনি কিভাবে আন্তর্জাতিক পুঁজির সঙ্গে নেগোসিয়েট করবেন, আপনি কি ধরনের শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক পুঁজিকে আমন্ত্রণ জানাবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ, আপনাকে শ্রম ও পুুঁজির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। কারণ শ্রম উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। আর শ্রম এমন একটি বিষয়, বাংলাদেশে যা আমরা প্রায় প্রাত্যহিক ভিত্তিতে মুখোমুখি হচ্ছি। বিশেষ করে গার্মেন্ট কারখানার ক্ষেত্রে, যা এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

একটি অসন্তুষ্ট শ্রমশক্তি কখনওই খুব উৎপাদনশীল শক্তি হতে পারে না। আমরা একটি শিক্ষিত শ্রমশক্তি গড়তে চাই, যা হবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং একই সঙ্গে তাদের অবশ্যই পুরস্কৃত করতে হবে। আপনি কিভাবে শ্রমিকদের পুরস্কৃত করছেন সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমি মনে করি শ্রম ও মজুরির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য লাগবে। বিভিন্নভাবে পূর্ব এশীয় দেশগুলো এটা অর্জন করেছে। যদিও তা পর্যাপ্ত বা সম্পূর্ণভাবে তারা করতে পারেনি। তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, কিছুটা মালয়েশিয়া করেছে। চীনও কিছুটা তার নিজের উপায়ে পথ হাঁটছে।

যদিও তা পর্যাপ্ত বা সম্পূর্ণ নয়। কিন্তু সে তার নিজের মতো করে পুঁজির বাজার মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের জন্য এটাই মুখ্য সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়, যার দিকে আমাদের সর্বাগ্রে মনোযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমরা যখন অর্থনীতি নিয়ে কথা বলবো, তখন কেবল প্রবৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে পারি না। আমরা যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কথা বলবো, তখন ব্যাপক ভিত্তিক একটি ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কথা বলবো। যেটা অমর্ত্য সেন বলেছেন।

তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে না। যদিও ১৯৯৬ সাল থেকে প্রশংসনীয়ভাবে আমাদের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আমাদের যে কোন ধরনের একটা ‘রি-ডিস্ট্রিবিউটিং মেজার’ দরকার। আমাদের দরকার এক ধরনের ক্ষমতায়নের অনুভূতি। ভোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে দরকার নিরাপত্তাবোধ, যেটা দৈহিক, আর্থিক ও অন্যান্য অনুভূতির দিক থেকেও। নারী-পুরষের সম্পর্কও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

নারীকে উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় এনে তাকে একটি গুরুত্বসম্পন্ন অর্থপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করতে হবে। উন্নয়নের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা।

তবে সবার উপরে যে সত্য মনে রাখতে হবে তাহল কোন দেশের একটি অসুখী নাগরিককুল উন্নয়নের সারথি হতে পারে না। আর তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত। তবে এর আগের অধিবেশনে শাফকাত মুনির (বিআইপিএসএস) যেমনটা বলছিলেন যে বাংলাদেশে ‘ডেমোক্রেসি ডেফিসিট’ বা ‘গণতন্ত্রের ঘাটতি’ চলছে। এটা একটা খুবই চমৎকার মন্তব্য। আসলে এটাই এখন বাংলাদেশের প্রধান সঙ্কট।

বর্তমানে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা চলমান রয়েছে,  তাকে আসলে এক ধরনের গণতান্ত্রিক বাতাবরণ দেয়া ছাড়া টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বহুবিধ কারণে পূর্ব এশিয়ার স্বৈরতান্ত্রিক মডেল বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে বলছি, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরে যেসব ঐতিহাসিক কারণে রাষ্ট্র তার ইচ্ছাকে সমাজের অবশিষ্টাংশের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে, সে সব কারণ বাংলাদেশের সমাজে অনুপস্থিত।

আমি কিন্তু একেবারেই নৈরাশ্যবাদী নই। আমি অবশ্যই আশাবাদী। তবে আমাকে অবশ্যই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আমাকে অবশ্যই আশাবাদী হতে হবে। কারণ বাংলাদেশ আমার নিবাসভূমি। বাংলাদেশের যে সাফল্য তাতে সরকারের ধন্যবাদ প্রাপ্য। তবে সেজন্য একই সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ সাফল্য মূল্যায়ন করতে গেলে এটা মনে রাখতে হবে যে গৃহীত নীতিমালা যে সব কারণে কোথাও সুফল এসেছে সে সব নীতি এককভাবে কোন একটি সরকার গ্রহণ করেনি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ফসল।

বাংলাদেশে বসবাস করেন এমন অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে, দেশে এই মুহূর্তে যদি কোন সরকার না থাকে তাহলেও ৪-৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু তা নিশ্চয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে না। গ্রামীণ ব্যাংকের মতো এনজিওসমূহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু এটাই সত্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্ভব সকল উপায়ে হেনস্থা করেছে। আমি মনে করি তাঁর নোবেল পুরস্কার লাভ হয়তো এর অন্যতম কারণ হতে পারে। (সকলের হাসি)।

তবে তা সত্ত্বেও আমি ইতিবাচকভাবে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করতে পারি, আমরা যদি উন্নয়নের ধারণাকে সংকীর্ণভাবে দেখি। তবে আমি মনে করি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা দরকার।

সব হিসাব-নিকাশের পরে এটাই বলতে হয় যে একটি দেশের অর্থনীতি হলো সেটাই যা আসলে তার রাজনৈতিক অর্থনীতি। আমার মনে হয় সকল বিদেশী বিনিয়োগকারীর কাছে এটাই প্রত্যাশিত যে তাদের অব্যাহতভাবে শ্রমিক অসন্তোষের কবলে পড়তে হবে না। কিংবা প্রত্যেক সকালে তাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মুখ দর্শন করতে হবে না। ঘুষ দিতে হবে না। তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কবলে পড়তে হবে না।

বাংলাদেশে উন্মুক্ত বন্দরের বিরাট অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। গ্যাস ও কয়লার ব্যাপারে যদিও অনেক বেশি রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এখানে খনিজ সম্পদের ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মনোভাবকে ধারণ করার একটি বিষয় রয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে আমরা আমাদের খনিজ সম্পদ আহরণ ও তার ব্যবহার করতে পারি। সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের এক্ষেত্রে একটি বিরাট সম্ভবনা রয়েছে।

যদি তারা এ বিষয়ে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে। আমি এমন অনেককে ব্যক্তিগতভাবে জানি, যারা কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন তুলেছেন। আর সে সব প্রশ্নের খুবই সঙ্গত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর সেখানেই আমি মনে করি যে ‘প্র্যাগমেটিজম ডেফিসিট’ চলছে। তবে এখানে কথা হলো আমরা এখানে কিভাবে বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করতে পারি। যদি আমরা সেটা করতে সক্ষম হই, তাহলে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একটি সাফল্যজনক বাণিজ্য পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টি বাংলাদেশে ঘটতে যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা নিশ্চয়ই তর্ক করতে যাবেন না যে, গণতন্ত্রই হলো তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি আদর্শিক ব্যবস্থা। কিন্তু তারা অবশ্যই বাস্তবসম্মত কারণে বিনিয়োগের আগে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে নজর দেবেন। এবং আমার যুক্তি হলো গণতন্ত্রই হলো একমাত্র ব্যবস্থা, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারে। গণতন্ত্র অবশ্যই একটি বিমূর্ত তত্ত্বগত বিষয় নয়।

গণতন্ত্র একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবসম্মত প্রয়োজনীয়তা। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, যদিও আমার আদর্শের রাজনীতিবিদ  নন কিন্তু আমি তার একটি উদ্ধৃতি দিতে পারি।

তিনি বলেছিলেন, গণতন্ত্র একটি নিকৃষ্ট ব্যবস্থা তবে এর অনুশীলন ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোন উত্তম বিকল্প নেই। আর সেটাই আসলে গণতন্ত্রের গুরুত্ব নির্দেশ করে। অন্তত একটি গণতান্ত্রিক সাফল্য ছাড়া বাংলাদেশে বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে না। এটা অবশ্য সাধারণভাবে দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও প্রযোজ্য।

পিয়াস করিম (১৯৫৮-১৪ অক্টোবর ২০১৪) ৬ই অক্টোবর ২০১৪ সালে ওয়াশিংটনে আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট আয়োজিত ‘বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি সংলাপে অংশ নেন। সেখানে তাঁর আলোচনার অনূদিত অংশ উপস্থাপন করা হল। কোন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে এটাই তাঁর শেষ বক্তব্য।

মুজিব বর্ষে টাঙ্গাইলে এক লাখ বৃক্ষরোপন করছেন প্রবাসী

এসো সবুজে সবুজে পৃথিবী গড়ি, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করি স্লোগান নিয়ে টাঙ্গাইলে এক লাখ বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি হাতে নিয়েছেন এক প্রবাসী।

গোলাম সরোয়ার নামে জার্মান এই প্রবাসী মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপন এ কর্মসুচি হাতে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বঙ্গের আলীগড় খ্যাত টাঙ্গাইলে সরকারী সাদ’ত বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে ফলজ বৃক্ষ রোপনের মধ্যদিয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসুচি শুরু করেন।

এ সময় কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এসব বৃক্ষরোপন করা হবে।

সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত খরচে ফলজ ও বনজ একলাখ বৃক্ষরোপন কর্মসুচির বিষয়ে জার্মান প্রবাসী গোলাম সরোয়ার বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের পরিবেশের ভারমাস্য রক্ষায় সারাদেশে যেভাবে বৃক্ষরোপন করা হচ্ছে সেটা থেকেই তিনি অনুপ্রানিত হয়েছেন।

তার এই উদ্যোগ আগামীতেও চলমান থাকবে বলে জানান প্রবাসী গোলাম সরোয়ার।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে এ্যাপোলো পাওয়ার লিমিটেডের শো-রুম উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে এ্যাপোলো পাওয়ার লিমিটেড এর শো-রুম উদ্বোধন ও শীতকালীন ফ্যানের বুকিং নিয়ে মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরের কোদালিয়া নার্সারী রোড এলাকায় এ্যাপোলো পাওয়ার লিমিটেড এর ডিরেক্টর মো. বিল্লাল হোসেন ফিতা কেটে এ শো-রুমের উদ্বোধন করেন। পরে গ্রীন হাউজে মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় মো. হারুন অর রশিদ ও মো. নাজিবুল হক সাইফুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এ্যাপোলো পাওয়ার লিমিটেড এর উইং ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, এরিয়া ম্যানেজার নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

এ সময় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ইলেট্রনিক্স ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ্যাপোলো পাওয়ার লিমিটেড এর ডিরেক্টর বলেন, এ্যাপোলো ইলেট্রনিক্স সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করে সেবার মনোভাব নিয়ে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাত করার কারণেই এ্যাপোলো পণ্য এখন এক আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

কেবল উৎপাদনই নয় পণ্যের গুণগত মান ও সেবা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য এ্যাপোলো ইলেকট্রনিক্সের।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে সরকারী হাসপাতালে অভিযানে দুই নারী দালালের কারাদন্ড

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে দুই নারী দালালকে আটক করে ১০ দিনের কারাদন্ড দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত দুই নারী দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন পাকুল্যা গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী মুক্তা আক্তার (৩০) এবং আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সালেহা বেগম (৩৫)।

এলাকাবাসি জানায়, সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু অসাধু চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বনদের জিম্মি করে ক্লিনিকে ভাগিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগি রোগী ও তাদের স্বনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারী হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় দালাল চক্রের দুই সদস্য নারী দালাল আটক হলেও (২০-২৫) জন দালাল চক্র পালিয়ে যায়। দুই নারীকে আটকের পর ১০ দিনের কারাদন্ড দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। দুই নারী দালাল চক্র আটক হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(আনোয়ার হোসেন টুটুল, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাপের কামড়ে রুহান মিয়া (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কাশিল মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুছ মিয়া এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রুহান ওই এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে। সে টাঙ্গাইলের সৃষ্টি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলেজছাত্র রুহান পাশের গ্রাম নাকাছিমে টেটা দিয়ে মাছ ধরতে যায়। এসময় সড়কের পাশে তাকে সাপে কামড় দেয়। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা রুহানকে দ্রুত তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এরপর স্থানীয় কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক দেয়া হয়।

একপর্যায়ে রুহানের অবস্থা খারাপ হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করে।

পরে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের ২ শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের মামুদনগর ইউনিয়নের পোষ্টকামারীতে পানিতে ডুবে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে মো.হাবিব মিয়া (৩) ও সোনিয়া (২) নামে একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মৃত হাবিব উপজেলার পোষ্টকামারী গ্রামের মোঃ শফিকুল মিয়ার ছেলে ও সোনিয়া একই গ্রামের ওহাব আলীর মেয়ে। সম্পর্কে হাবিব চাচা ও সোনিয়া ভাতিজি।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে হাবিব ও সোনিয়া বাড়ির পাশে খেলতে যায়। খেলাধূলার ফাঁকে বাড়ির পাশের ডোবার মধ্যে বেধে রাখা নৌকায় উঠতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে হাবিবের ফুপু রোজিনা ডোবায় তাদের নিথর দেহ ভাসতে দেখে ডোবার পানি থেকে পাড়ে তুলে আনে।

পরে দ্রুত তাদেরকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিব ও সোনিয়াকে মৃত ঘোষনা করেন।

ডাক্তার বলেন, তাদেরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রীজেই যাতায়াত

টাঙ্গাইলের কালিহাতী-বড়চওনা সড়কের নোন্দাকুড়ী বেইলি ব্রীজের ঝাঁলাই খুলে গিয়ে পাটাতন প্রায় চব্বিশ ইঞ্চি দেবে গেছে। দেবে যাওয়া সেতুর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন রকমের যানবাহন।

গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী-বড়চওনা, ঘাটাইলের দেওপাড়া, পারখী সড়কে চলাচলকারী ভ্যান, সিএনজি, ইজিবাইক, পিকআপ-ট্রাক পন্য ও যাত্রীসহ মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে।

ইজিবাইক চালক রাসেল বলেন, করোনার কারণে এবাই যাত্রী কম। যাত্রী প্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় কালিহাতী কলেজ মোড় থেকে কস্তুরীপাড়া পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে সংসার চালাই। গাড়ি বেশি সিরিয়াল পাইতেও দেরি হয়, এহন আবার ঘুইরা যাইতে সারাদিনে কয়টা ট্রিপ পামু? সংসার কেমনে চলবে?

আরেক চালক রতন সরকার বলেন, আমগোরে এমপি সোহেল হাজারী ও অফিসারদের কাছে দাবি জানাই খুব তাড়াতাড়ি ব্রীজটা জরুরী মেরামত করা দেওয়া হোক এবং পাকা ব্রীজ নির্মাণ করুন।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির সই

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদীন আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই তথ্য জানান।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় এটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনে পরিণত হলো। এখন নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে এটি আইন আকারে পাস হবে।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আন্দোলনের মধ্যে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনি যাচাই (ভেটিং) সাপেক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ওই খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণ (২৫ সেপ্টেম্বর) এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আরেক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ৪ অক্টোবর ভাইরাল হওয়ার পর সারা দেশে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখার পাশাপাশি আরও দুটি সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো যৌতুকের ঘটনায় মারধরের ক্ষেত্রে (ধারা ১১-এর গ) সাধারণ জখম হলে তা আপসযোগ্য হবে। এ ছাড়া এই আইনের চিলড্রেন অ্যাক্ট-১৯৭৪-এর (ধারা ২০-এর ৭) পরিবর্তে শিশু আইন ২০১৩ প্রতিস্থাপিত হবে।

অন্যদিকে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা বলেছেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশ ধর্ষণমুক্ত হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

তবে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-