জন্মদিনে ‘বর্ণাঢ্য জীবনের খণ্ডচিত্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, দৈনিক আজকের দেশবাসী পত্রিকার সম্পাদক, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সংস্কৃতি হিতৈষী ফজলুর রহমান খান ফারুকের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী ছিল আজ সোমবার (১২ অক্টোবর)। দিনটি পালন উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সোমবার বিকেল চারটায় ক্লাবের বঙ্গবন্ধু ভিআইপি অডিটরিয়ামে।

এই অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান খান ফারুকের সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে প্রকাশিত বর্ণাঢ্য জীবনের খন্ডচিত্র গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি।

মুখ্য আলোচক ছিলেন ষাটের দশকের অন্যতম কবি ও মুুুক্তিযোদ্ধা জনাব বুলবুল খান মাহবুব। সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা।

অনুভুতি ব্যক্ত করেন বর্ণাঢ্য জীবনের খণ্ডচিত্র গ্রন্থের লেখক অরণ্য ইমতিয়াজ। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সিকদার, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলাম আহাদ, বিশিষ্ট রাজনীতিক খন্দকার নাজিম উদ্দিন, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুর রহমান খান ফারুকের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের তোড়া তুলে দেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইফতেখারুল অনুপম ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম। জন্মদিনের ক্রেস্ট তুলে দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা। তারপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে ধর্ষণচেষ্টায় ছুরিকাঘাতের মামলা না নেয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে রিট

টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা গ্রহণ না করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন।

তিনি বলেন, রিট আবেদনটির ওপর আগামী সপ্তাহে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

এছাড়াও মামলা না নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নাগরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মোট সাত জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এক ওই স্কুলছাত্রীর ঘাড়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে মতিউর রহমান নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলায় নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা। তাই বাধ্য হয়ে গত ৬ অক্টোবর বিকেলে তিনি মেয়েকে নিয়ে টাঙ্গাইল আদালতে যান মামলা দায়ের করতে।

মেয়ের বাবা জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর তার আঘাতের স্থানে ২৫টি সেলাই করা হয়েছে। তিনি নিজে বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন নাগরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের কাগজটি রেখে দিলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি।

জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার পর মতিউর রহমান নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী স্থানীয় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাসায় ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে মেয়েটির গলায় আঘাত করে।তখন ওই ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেই ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই ছাত্রীর গলায় ২৫টি সেলাই দেওয়া হয়। পরেরদিন তার বাবা নাগরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তা সে অভিযোগপত্র গ্রহণ করলেও তা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করে অভিযোগকারীকে জানান, আসামি ধরার পর আপনার বিষয়টি দেখা হবে, ততদিন আপনার মামলা রুজু করা হবে না।

ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার ২২ দিন পর গত ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মামলা গ্রহণ বা আসামি না ধরায় ভিকটিমের বাবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ঘটনার সত্যতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাত জাতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সেলে ফোন করে, তাদের সহযোগিতা নিয়ে পরদিন টাঙ্গাইলের নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করি। পরে এ বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় ওসি জানান, মামলাটি ৬ অক্টোবর গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ এই মামলা গ্রহণ করা উচিত ছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর,যে দিন মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেছিলেন। তাই এই ঘটনায় বিচারিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।’

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

এলেঙ্গায় চালককে অচেতন করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকায় কতিপয় অজ্ঞাত ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তরা এক অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে তার অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল দশটার দিকে এলেঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সন্নিকটে এই অটো চালককে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অটো চালকের নাম কামরুল হাসান লাবু। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার (লাল মিয়া চেয়ারম্যান) ছেলে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত চারদিন আগে লাবু মিয়া ১,৭০,০০০ (এক লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা দিয়ে উক্ত অটোরিকশাটি ক্রয় করেন।

লাবুর পরিবারের সদস্যরা জানান, এই অটোরিকশাটি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে ক্রয় করেছেন তিনি। ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা এবং লাবুর কাছে থাকা এন্ড্রয়েড ফোন, অটোরিকশার ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা সহ তার হাতঘড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

লাবু মিয়া তার স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ মেয়ে এবং তার মাকে নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করে বলে তারা জানান।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাবু মিয়ার এখনও জ্ঞান ফেরেনি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

পাহাড়ি টিলার মাটি বিক্রির দায়ে মির্জাপুরে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাহাড়ি টিলার মাটি কেটে বিক্রির করার অপরাধে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মাটি ব্যবসায়ীরা হলো, পাথরঘাটা গ্রামের শহিদ ও ফরহাদ আলী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা বাজারের কাছে ধানচালা নামক স্থানে এই অভিযান চালানো হয়।অভিযান পরিচালনাকালে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

এই অভিযান পরিচালনা করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন।

জানা গেছে, পাথরঘাটা গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী শহিদ ও ফরহাদ আলীসহ মাটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের টিলা কেটে অবৈধ ভাবে মাটির ব্যবসা করে আসছিল। খবর পেয়ে সোমবার ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মাটি ব্যবসায়ী শহিদ ও ফরহাদ আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, পাহাড় রক্ষার্থে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাকার ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত

ঢাকার ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমনটাই জানা গেছে অ্যান্টিবডি পরীক্ষায়। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে অর্থাৎ করোনায় আক্রান্ত ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা গুলশানের একটি হোটেলে এ গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এসময় আইসিডিডিআরবি সিনিয়র বিজ্ঞানী ফেরদৌসি কাদরি বলেন, অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় দেখা গেছে রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ২৪ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি।

এ বিষয়ে আইইডিসিআর সহকারী প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ৮২ ভাগের কোনো লক্ষণই ছিল না, ৬ ভাগের লক্ষণ ছিল, ১২ ভাগ প্রিসিম্পটোমেটিক ছিল। ঢাকা সিটিতে ৯.৮ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বস্তিতে আক্রান্তের হার ৫.৭ ভাগ।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ যাতে না আসে সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। জনগণ সচেতন না হলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যারা ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ থাকল।

আইইডিসিআর পরিচালক তাহমিনা শিরীন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভ্যাকসিন যেভাবে কাজ করবে, বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে কাজ করবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের কমিটি গঠন

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা শাখার পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘাটাইলের ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান আজাদকে সভাপতি ও ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাহাদত হোসেনকে সাধারন সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্য়করি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি (১০ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো.খবির হোসেন, সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী এ,কে. এম আব্দুল মোতালেব স্বাক্ষরিত এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর পূর্বে, আইডিইবি টাঙ্গাইলের সভাপতি ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, আইডিইডির টাঙ্গাইলের সাধারন সম্পাদক মীর মো. হোসেন চন্নু সুপারিশসহ ঢাকায় প্রেরন করেন।

কমিটির অন্যান্যরা হলেন-সহ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, আবু জাফর খান, শাহরিয়ার মো. নাজমুল আহসান, এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম খান, যুগ্মসম্পাদক জাহিদ রানা, মো. আশরাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো, রাসেল মাহমুদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আওয়াল, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. জাবেদুল ইসলাম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক কে এম এমরান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো.সাইফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রিতা সাহা, চাকুরি বিষয়ক সম্পাদক রুবেল মিয়া, সাহিত্য সংস্কৃতিক ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়া, নির্বাহী সদস্য এম,এম আব্দুল মান্নান তালুকদার, মো. শফিকুল ইসলাম, মো.আনোয়ার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ইসরাত জাহান, শাহনাজ আক্তার।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

৫০ বছরের দিনমজুরিতেও অভাব ঘোচেনি টাঙ্গাইলের সয়ান আলীর

পাঁচ দশকের দিনমজুরিতেও সংসারের অভাব ঘোচেনি সয়ান আলী শেখের (৭০)। দাদা আর বাবার পথ অনুসরণ করে বেছে নেয়া দিনমজুরিতে এতদিন কোনোভাবে জীবন আর জীবিকা চালিয়ে আসলেও এখন বয়স আর অভাব-অনটনের কাছে পরাস্ত তিনি। এখন সরকারি আর ব্যক্তি সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে চলছে তার পরিবার।

দিনমজুর সয়ান আলী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলার ঘোনা গ্রামের মৃত আয়ান আলী শেখের ছেলে।

সয়ান আলী জানান, দাদা, বাবা আর তার উপার্জনে কোনো জমিজমা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের তিন প্রজন্মেরই ঠিকানা দাদার বাবার গড়া বাড়ি। দাদার বাবার ছিল তিন ছেলে সন্তান। যার একজন তার দাদা বহর আলী শেখ। এই বাড়িতে বসবাস করে জমিজমা চাষাবাদ আর দিনমজুর করে সংসার চালিয়েছেন তার দাদা বহর আলী শেখ।

বাবা আয়ান আলী শেখের ঘরে জন্ম নেন সয়ান আলী শেখসহ তিন ছেলে সন্তান। বাবার মৃত্যুর পর তাদের দাদার বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমিজমা ভাগ করে নেন সয়ান আলী শেখসহ তিন ভাই। ভাগ-বাটোয়ারায় সয়ান আলী শেখের জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশের বাড়ি আর ১১ শতাংশ আবাদি জমি। সয়ান আলীর পাওয়া ওই সম্পত্তি আর দিনমজুরি করা সংসারে জন্ম নেয় তিন কন্যা সন্তান।

তিনি আরও জানান, আবাদি জমিতে নিজ পরিশ্রমে পাওয়া ফসল আর দিনমজুরি করে উপার্জিত টাকায় এক এক করে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার আনন্দ বেশি দিন দীর্ঘ হয়নি। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই বড় মেয়ের মৃত্যু আর তিন বছর আগে ছোট মেয়ের স্বামীর মৃত্যুর মত দুঃসংবাদ সইতে হয়েছে তাকে। সয়ান আলীর স্বামী-স্ত্রীর সংসারে বর্তমানে যোগ হয়েছে দুই সন্তানসহ স্বামীহারা ওই মেয়ে।

একদিকে বার্ধক্য অপরদিকে স্বামীহারা মেয়েসহ দুই সন্তানের লালন-পালনের ব্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর সয়ান আলী। এর মাঝে হানা দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা।

দিনমজুর সয়ান আলী শেখ বলেন, করোনা আসার পর থেকে কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আড়াই হাজার টাকা আমি পাইনি। তবে এ সময় স্থানীয় বেশ কিছু ত্রাণ সহায়তা পেয়েছি। এই ত্রাণ সহায়তা না পেলে হয়তো মরতে হতো। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০ টাকার চাল পাই। বয়স্কভাতার কার্ড হচ্ছে।

সয়ান আলী শেখের অসুস্থ স্ত্রী বিমলা বেগম (৬০) বলেন, স্বামীর বয়স হয়েছে। সংসারে কোনো ছেলে সন্তানও নেই। এতে চরম কষ্টে চলছে আমাদের জীবন চলছে। ভাঙা এক টুকরো টিনের ঘরে স্বামী-স্ত্রীসহ স্বামীহারা মেয়ে ও তার দুই সন্তান নিয়ে এখন আমাদের বসবাস। করোনায় সকল প্রকার কাজ বন্ধ থাকায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দেয়া বেশ কিছু ত্রাণ পেয়েছিলাম আমরা।

সয়ান আলী শেখের স্বামীহারা মেয়ে শরিফন বেগম (৩২) বলেন, তিন বছর আগে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আমার স্বামী মারা যান। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে দিনমজুর বাবা সয়ান আলীর বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছি।

গ্রামের মাতব্বর আব্দুল খালেক (৬৫) বলেন, দিনমজুর সয়ান আলী শেখ অতিদরিদ্র ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি সয়ান আলী শেখের দিনমজুরি করে জীবনযাপন করেন। তার দাদা আর বাবাও এই দিনমজুর ছিলেন।

বাঘিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফৈলার ঘোনা গ্রামের ইউপি সদস্য শামসুল আলম বলেন, হতদরিদ্র ও দিনমজুর সয়ান আলী শেখ আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে এখন ভালো মত দিনমজুরির কাজও করতেন পারেন না। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড করে দেয়াসহ তাকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে।

বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আড়াই হাজার টাকার জন্য এ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এক হাজার জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই টাকার বণ্টন তালিকা উপজেলা পরিষদ থেকে পাঠানো হয়। এ ইউনিয়নের কতজন ওই তালিকায় ছিল সে তথ্যও আমাদের দেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, বাঘিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পাঠানো তালিকা থেকে ৫৭০ জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আড়াই হাজার টাকা এর মধ্যে কতজন পেয়েছেন তা আমি জানি না।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা, ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

সিলেটের কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। রোববার রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কে বা কারা রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে হত্যা করেছেন। এজাহারে রায়হান বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে যে মুঠোফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই নম্বরটিও উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মিত্র প্রথম আলোকে মামলা দায়েরের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাতে লিখিত এজাহার দাখিল করা হলে সকালে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

পক্ষান্তরে নিহত যুবকের স্বজনদের দাবি, রায়হানকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সুরতহালের বরাত দিয়ে হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতের হাতের নখ টেনে তোলার চেষ্টা করা হয়। তার হাতের মধ্যে সেলাই করা রয়েছে। হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাতেই বোঝা যায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রায়হানের পরিবারের ভাষ্য, নগরীর নিহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান রিকাবিবাজার এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন। গত শনিবার রাতে বাসায় না ফেরায় তাঁকে খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। রোববার ভোরে রায়হানের পরিবারের সদস্যদের কাছে বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে ফোনে জানানো হয়, রায়হান পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। তাঁরা এ সময় পুলিশ ফাঁড়িতে যান। তবে গিয়ে জানতে পারেন, রায়হান মারা গেছেন। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে রায়হানের পরিবারকে জানানো হয়, নগরীর কাস্টঘর এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধরা পড়ে গণপিটুনিতে রায়হান আহত হন। পরে তিনি মারা যান। তবে ওই এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্থাপন করা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় এমন কোনো গণপিটুনির চিত্র পাওয়া যায়নি।

তবে রায়হানের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, কাস্টঘর এলাকায় কোনো ছিনতাই বা গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হয়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল বলেন, ‘আমিও সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা রাত ও সকালের ফুটেজ দেখেছি। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় গণপিটুনির কোনো ঘটনা দেখা যায়নি। ফুটেজে সন্দেহজনক কিছুই চোখে পড়েনি। আমি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও এ রকম কিছু ঘটেছে বলে শুনেননি।

কাষ্টঘরের কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দা বলেছেন, তাঁরা কেউই শনিবার রাতে বা রোববার ভোরের দিকে কোনো গণপিটুনির কথা শুনেননি।

তবে রোববার সকাল ১০টার দিকে এলাকায় পুলিশ গিয়ে জানায়, ভোরে এই এলাকায় গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

কাষ্টঘরে গণপিটুনিতে আহত রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। সিসি ক্যামেরায় গণপিটুনির কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি বলে তাঁকে জানালে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মিত্রও কোনো কথা বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হবে।’

৪ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে মো. রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক আদেশে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাকি তিনজন হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার করা তিনজন হলেন এএসআই আশীক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন। তাঁরা সবাই বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্তব্যরত ছিলেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা সাত পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আরেক দফা তদন্ত চলছে। এই তদন্তের পর দোষীদের রায়হান হত্যা মামলায় আসামি করা হতে পারে।

এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে আখালিয়া এলাকার রায়হান আহমদকে হত্যার প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় মানববন্ধন ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এসময় কাঁদতে কঁদাতে এসে রাস্তায় বসে পড়েন রায়হানের মা।

তপ্ত রোদ আর পিচঢালা রাস্তার তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে সালমা বেগম তার ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আকাশপানে দুহাত তুলে স্রষ্টার কাছে বিচার চান। চিৎকার করে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিহত রায়হানের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজন। অকালে সন্তান হারানো এক মায়ের আর্তনাদে তখন ভারী হয়ে উঠে আশপাশ এলাকা ও পরিবেশ।

সে সময় তিনি আহাজারি করে বলেন, আমার ছেলে ছিনতাইকারী বা অপরাধী নয় । তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা দোষে রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করেছে । পুলিশ মানুষের রক্ষক, কিন্তু সেই পুলিশই আজ আমার ছেলেকে হত্যা করলো। ঘুষের টাকার জন্য পুলিশ আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। রায়হানের দুই মাস ২১ দিনের একটিমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছে। সে বড় হলে তাকে আমি কী সান্তনা দিবো, আর আমি কীভাবে এটি সহ্য করবো?

সিলেটের আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ ‘পুলিশি নির্যাতনে’ মৃত্যুবরণ করেছেন- এমন অভিযোগ আজ সোমবার পুলিশের বিরুদ্ধে এবং ‘হত্যাকারীদের’ ফাঁসির দাবিতে রায়হানের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিক্ষোভকারীরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ৭২ ঘণ্টার ভেতরে রায়হানের হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

মানববন্ধনে কয়েক শ লোক উপস্থিত হয়ে রায়হান ‘হত্যা’র প্রতিবাদ করেন এবং ‘হত্যাকারীদের’ বিচার চান। এসময়  বিক্ষোভকারীরা পুলিশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে রায়হান হত্যার প্রতিবাদ করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে শ্রমিক লীগের ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্রমিক লীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন,বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন,র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা শ্রমিক লীগের উদ্যোগে শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে একটি র‌্যালী বের হয়ে উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স অডিটোরিয়াম এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম হোসেন সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ মো.আমিনুর রহমান আমিন,সহ- সাধারন সম্পাদক মো.রাসেল মিয়া,ছোবহান মিয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আনোয়ার হোসেন সোহাগ,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো.রফিক মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাবর আল-মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, উপজেলা ইজি বাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।

এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে দিনটি পালনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী ইতিহাস। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারী সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।

অবশেষে ১৯৭০ সালে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী ‘আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে লিখিত নিবন্ধের মাধ্যমে তাঁর প্রস্তাবিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব করেন। তিনি জীবদ্দশায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তিনিই মূলত বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করে যান।

১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ভাসানীর শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনায় একটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়।

সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের এই দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পরে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর এর শিক্ষায়তনিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। তিনিই ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারী সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেন নি, অবশেষে ১৯৭০ সালে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন।

১৯৭০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে লিখিত নিবন্ধের মাধ্যমে তাঁর প্রস্তাবিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব করেন। তিনি জীবদ্দশায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করে যেতে পারেন নি, কিন্তু তিনিই মূলত বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করে যান।

১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ভাসানীর শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনায় একটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বের ১২ সদস্যবিশিষ্ঠ একটা কমিটি গঠন করে দেন। উক্ত কমিটি ১৯৮৩ সালে ২২ মে সদুরপ্রসারী সুপারিশ রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেন। তিনি ১৯৮৪ সালের ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষাবিদ ডক্টর মীর ফকরুজ্জামানকে চেয়ারম্যান ও সৈয়দ ইরফানুল বারীকে সদস্যসচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ঠ সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সইবি) ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে দেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন জটিলতাই কার্যক্রম আর সামনে এগায় নি।

১৯৯৬ সালে সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তারের প্ররিকল্পনা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসাবে টাঙ্গাইলে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

১৯৯৭ সালে এডিবির আর্থিক সহায়তায় তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নেয় পুরাতন জেলাগুলোতে (যে গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় নেয়) একটি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থাপনের। এর পরিপ্রক্ষিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়(সইবি) ট্রাস্টি বোর্ড সরকারের নিকট সন্তোষেই একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ট্রাস্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব আজিজ-উল-হক, ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর এস এইচ কে ইউসুফজাই,সদস্যসচিব সৈয়দ ইরফানুল বারী, টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ সামসুল হক ও অত্র এলাকার গণ্যমান্য বাক্তিদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সন্তোষে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ পেশ করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রকল্প পরিচালক ২০০০ সালে অধ্যাপক ড. দুর্গাদাস ভট্টাচায নিয়োগ পান।

২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। পরে দ্বিতীয় প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পান অধ্যাপক ড. আমিনুল হক।

২০০২ সালের ২১ নভেম্বর অধ্যাপক ড. মোঃ ইউসুফ শরীফ আহমেদ খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি – বিভাগ দুটি নিয়ে এর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর এর শিক্ষায়তনিক কার্যক্রম শুরু হয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের সর্বমোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন শিক্ষক নিয়ে। প্রায় ৮ মাসের শিক্ষায়তনিক সময় পর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং ক্রিমিনোলজি এ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স নামক দুটি নতুন বিভাগ খোলা হয় লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে।

২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে বায়োটেকনোলজি এ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফুড টেকনোলজি এ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ চালু করা হয়।

২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ব্যচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও সাধারণ বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গণিত ও পরিসংখ্যান, রসায়ন] এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়।

২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ হতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে যাত্রা করেছে অর্থনীতি বিভাগ। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে লাইফ সায়েন্স অনুষদের অধীনে যুক্ত হয় ফার্মেসী ও বায়োকেমিস্ট্রি এ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ দুটি।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য সন্তোষে অবস্থিত। এই ক্যাম্পাসের নতুন বর্ধিত আয়তন প্রায় ১৫৭.৯৫ একর। এই জায়গার ভেতরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন, সাতটি আবাসিক শিক্ষার্থী হল, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ইত্যাদি অবস্থিত।

এছাড়া ক্যাম্পাসের অধিভুক্ত জায়গার ভেতরই মাওলানা ভাসানীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঐতিহাসিক দরবার হল, প্রখ্যাত সুফি সাধক পীর শাহ্ জামানের নামানুসারে পীর শাহ্ জামান দীঘি, মাওলানা ভাসানীর মাজার, একটি মসজিদসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এই অধিভুক্ত জায়গা ছাড়াও সন্তোষের অদূরে রথখোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি রয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের আবাসন প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-