ধনবাড়ীতে মরণ নেশা ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে আসক্ত শিক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে দিন দিন ইন্টারনেট ফাইটিং ফ্রি ফায়ার গেমসে ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। করোনায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অলস সময়ে এসব গেমস খেলায় জড়িয়ে পড়ছে তারা।

জানা গেছে, ধনবাড়ীর উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখাসহ শিক্ষাপাঠ গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে। সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়ে নেশায় পরিণত করছেন।

৮ বছর থেকে ২৫ বছরের উড়তি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফায়ার গেমসে অনুরাগী নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বকুল হোসেন জানায়, প্রথমে তার কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভাল লাগত না। কিছু দিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন সে আসক্ত হয়ে গেছে। এখন গেমস না খেলে তার অস্বত্বিকর মনে হয়। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিশির হোসেন টিনিউজকে জানায়, সে পূর্বে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতো না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলা তার নেশা হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে নেট সমস্যায় এ গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার। ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে সে আর ছাড়তে পারবে না বলে দাবি করে সে।

ফ্রি ফায়ার নামক গেমসকে মাদকদ্রব্যের নেশার চেয়ে ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করে স্থানীয় সমাজসেবক হুমায়ুন কবির টিনিউজকে জানান, এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিনিউজকে জানান, তাদের সময় অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে কাটতো। কিন্তু এখনকার যুগে সন্তানদেরকে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার গ্রামগঞ্জে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রুপ গেম মাঠে কিভাবে খেলাধুলা করবে মাঠ তো গরুর হাটেই ভর মহামারী আকার ধারন করেছে। অনেক শিক্ষার্থীই পড়ার টেবিল ছেড়ে খেলছে মোবাইল গেমস, কখনো ইন্টারনেটের খারাপ সাইটে বিভিন্ন ছবি দেখছে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। তাই কিশোর-কিশোরীদের মা-বাবাসহ সমাজের সবারই খেয়াল রাখতে হবে। যেন তারা মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে ধর্ষিতা ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় না নেয়ায় আদালতে মামলা

ভূঞাপুর সংবাদদাতা :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী (১৩) ছয়মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এবিষয়ে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলা নং – ২৭৬।

এই ঘটনায় ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত গোপালের ছেলে শুভ (১৮) দীর্ঘদিন যাবত স্কুলছাত্রীটিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এছাড়া নানাভাবে ওই স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ওই স্কুল ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে চলতি বছর ০৮ মার্চ রাতে স্কুলছাত্রীটি প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে যায়। সেই সুযোগে বখাটে শুভ লুকিয়ে তার ঘরের ভিতরে ঢুকে। যখনই স্কুলছাত্রীটি ঘরের দরজা বন্ধ করে বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে বখাটে শুভ বাম হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে ডান হাতে থাকা গরু জবাই করার ছুরি তার গলায় ধরে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

সে সময় ওই ঘরে স্কুলছাত্রীটি একাই ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে বখাটে শুভ মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন। ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই স্কুল ছাত্রী গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

মামলায় তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ভূঞাপুর থানায় মামলা করিতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রভাবে থানায় মামলা গ্রহণ করে নাই। তাই তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

পরে তিনি সাংবাদিকেদের বলেন, কোর্টে মামলা করার পর এলাকার প্রভাবশালী মো. শাহ আলম মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষিতার বাবাকে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, শাহ আলম ডিসি অফিসে চাকরি করেন, তাই তিনি সবকিছু করতে পারেন বলে তাদের শাষিয়েছেন।

এই বিষয়ে মো. শাহ আলম বলেন, শুভ আমার চাচাত ভাই। কিন্তু আমি এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। আমিও ধর্ষণের বিচার চাই। আমি করোনা পজিটিভ। আমি কারো সাথে কোন প্রকার বলি নাই। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভুঞাপুর থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেন ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভূঞাপুর থানায় কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। আমি জনগণকে সেবা দেয়ার জন্যই এখানে আছি। জনগণকে সেবা দেয়াই আমার প্রধান ও অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় মারা গেলেন ভাষা সৈনিক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর কৃতি সন্তান একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক, উপমহাদেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ও কিংবদন্তি সার্জন অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বারডেমের আইসিইউতে ভর্তি হন প্রবীণ এই চিকিৎসক। অনেক দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বারডেম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অনারারি চিফ কনসালটেন্ট ছিলেন।

ডা. মাজহারুলের ভাতিজা মির্জা তোফাজ্জল জানান, বারডেমে জানাজা শেষে এই ভাষাসৈনিককে বিকেলে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

দেশের প্রবীণতম চিকিৎসক মির্জা মাজহারুল ইসলাম ১৯২৭ সালে কালিহাতীর আগচারান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসাবে ১৯৫২ সালে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মহান ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮ সালে একুশে পদক পান তিনি।

কর্মজীবন

মির্জা মাজহারুল ইসলাম প্রায় ছয় দশক ধরে শৈল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৫৪ সালে অনারারি হাউজ সার্জন হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সহকারী সার্জন হিসেবে বরিশাল সদর হাসপাতাল (১৯৫৮), ফরিদপুর সদর হাসপাতাল (১৯৬০), সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৬), প্রফেসর অব সার্জারি ও প্রিন্সিপাল হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৭৬), প্রফেসর অব সার্জারি হিসেব ঢাকা মেডিকেল কলেজ (১৯৮০) এবং ১৯৮৫ সালে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এর পর তিনি জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৩ সাল থেকে বারডেম সার্জারি বিভাগে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। তিনি দুইবার বারডেমের অবৈতনিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনারসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ২০ বছর।

ভাষা আন্দোলনে অবদান

মুক্তিযুদ্ধীর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আহতদের পাশে চিকিৎসকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য (১৯৭১)। মির্জা মাজহারুল ইসলাম এ আন্দোলনে জড়িত হন এর সূচনাপর্ব থেকেই (১৯৪৭)। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম দু”টি সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন (১৯৪৭-১৯৪৮) এবং প্রথম শহীদ মিনারের পরিকল্পনা ও নির্মানে তার বিশেষ অবদান রয়েছে (২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২)।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করেন। ভাষা আন্দোলনের প্রায় প্রতিটিঘটনায় মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় (৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭), উক্ত কমিটিতে তিনি প্রতিনিধি হিসেবে অন্তভূক্ত হন।

পরবর্তীতে এ পরিষদ সম্প্রসারিত হয় (১৯৪৮)। নিজেকে ভাষা আন্দোলনের ‘আঁতুড় ঘরের’ সাক্ষী বলে দাবি করেন এ ভাষাসৈনিক।

১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর পুলিশের পামলার পর তিনি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অসংখ্য আহত ভাষাকর্মীর অপারেশন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি যোগ দেন আমতলার জনসভায়। গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন ২২ ফেব্রুয়ারি।

ব্যক্তিগত জীবন

মাজহারুল ইসলামের দাদা মির্জা মাহতাব উদ্দিন বেগ ব্রিটিশ সরকারের নমিনেটেড ডেপুটি পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট এবং পিতা মির্জা হেলাল উদ্দিন ‘ডেভিড এন্ড কোম্পানী’ ও ‘ল্যান্ডেল এন্ড ক্লার্ক’ নামক দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মকতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার অর্থমন্ত্রী মির্জা নূরুল হুদা ছিলেন তার মামা।

বিএমএর তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮২৬ জন চিকিৎসক, এক হাজার ৯৫৭ জন নার্স ও ৩২৫৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী। দেশে আজ পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৬ জন। মারা গেছেন ৫ হাজার ৫২৪ জন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুর বাজার সমিতির নির্বাচনে সভাপতি খলিল, সম্পাদক মামুন

টাঙ্গাইলে সখীপুর বাজার বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ কার্যালয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওইদিন রাত দুইটায় গণনা শেষে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খোদেজা খানম ফলাফল ঘোষণা করেন।

সমিতির ১ হাজার ৪৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৩০৫ বণিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলে চেয়ার প্রতীকে ৭৮৮ ভোট পেয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমিতির সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিল্লাল হোসেন ছাতা প্রতীকে পান ৫০৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে আনারস প্রতীকে ৫৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শরিফুল ইসলাম লেবু হাতপাখা প্রতীকে পান ৩৭৫ ভোট।

এছাড়াও সহ-সভাপতি পদে আলহাজ মিন্টু দেওয়ান মোমবাতি প্রতীকে (৬৬৬ ভোট), সহ-সম্পাদক পদে আলম মিয়া টিয়া পাখি প্রতীকে (৬৩৮ ভোট), কোষাদক্ষ পদে আনোয়ার হোসেন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে (৬২২ ভোট), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো.মতিন মিয়া খেজুর গাছ প্রতীকে ( ৬৩৮ ভোট), দপ্তর সম্পাদক পদে খন্দকার সোলায়মান হোসেন হাতি প্রতীকে ( ৬৭৫ ভোট ), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ডালিম ফুটবল প্রতীকে ( ৬২৩ ভোট ), প্রচার সম্পাদক পদে শ্রী রঞ্জিত মাইক প্রতীকে (৭৭৫ ভোট) পেয়ে নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বণিক ভাইদের সাথে নিয়ে আমরা কাজ করবো। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, এ বিজয় আমাদের নয়। পুরো বণিক ভাইদের বিজয়। আমরা সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। এজন্য সবাই কাছে তিনি দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

গরুর খাবার নিয়ে বিপাকে ভুঞাপুরের খামারিরা, বিক্রি করছেন কম দামে

টাঙ্গাইলে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে প্রধান গো-খাদ্য খড়ের দাম দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় হতাশ খামারি ও প্রান্তিক গরুর মালিকরা। ফলে বাধ্য হয়ে গরু কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গোবিন্দাসী খড় হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি আটি খড়ের দাম বিক্রি করা হচ্ছে ১৬-১৮ দরে। আর লোকাল মোটা এক বোঝা খড় ২ হাজার থেকে ২৫’শ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে এক কেজি খড়ের দাম গড়ে ৩০ টাকা পড়ছে। হাটে দিনাজপুর ও নওগাঁ অঞ্চলের খড়ের চাহিদা রয়েছে। মোকাম থেকেই খড় বেশি দামে কিনতে হয় বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

হাটে খড় কিনতে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে ৪টা গরু ছিল। কিন্তু দীর্ঘ বন্যায় চরাঞ্চলসহ আশ পাশের এলাকা তলিয়ে ছিল। এতে গো-খাদ্যে চরম সংকট দেখা দেয়। অন্য প্রধান খাদ্য খড়ের দামও বহুগুণে বেড়ে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে একটা গরু রেখে বাকি গরুগুলো কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি।

হাতেম আলী বলেন, আগে খড় ২’শ টাকা দিয়ে একশ আটি খড় কিনতাম। এখন ১৬’শ টাকা দিয়ে একশ আটি কিনতে হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা একশ খড় বিক্রি করা হচ্ছে ৬’শ টাকা।

খড় বিক্রেতা ঈমান আলী বলেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে সব জায়গায়। দিনাজপুর ও নওগাঁয় থেকে খড় কিনে এনে এখানে বিক্রি করছি। মোকামেও খড়ের দাম বেশি। এখন যে সংকট দেখা দিয়েছে সেটা আরো বেশি সংকট দেখা দিবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: স্বপন কুমার দেবনাথ বলেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে এমন সংকট তৈরি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ থেকে খামারি ও প্রান্তিক গরুর মালিকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রাস্তার ধারে বা ফাঁকা জায়গায় ঘাসের কাটিং লাগানো ও সংকটময় সময় গরুকে গমের ভূষি খাওয়ানোর জন্য বলা হচ্ছে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপ্রান্তে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা

বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপ্রান্তে ট্রাকে মালামাল লোড-আনালোড নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) দফায় দফায় সংঘর্ষে দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় পর্যায়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপ্রান্তে ট্রাকে মালামাল লোড-আনালোড নিয়ে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও স্থানীয় কুলি সর্দার আকবর আলী আকন্দের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

শনিবার সকালে গোহালিয়াবাড়ী ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম তালুকদার তার গ্রাম বেলটিয়া থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের আকবর আলী আকন্দ ও তার লোকজনরা তার (নজরুল তালুকদারের) উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

খবর পেয়ে নজরুল ইসলাম তালুকদারের স্বজনরা এগিয়ে এসে আকবর আলী আকন্দের উপর পাল্টা হামলা চালালে অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের গুরুতর আহত দু’জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারসহ ৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় আকবরের ভাই মৃত ইনছের আকন্দের ছেলে আবু বক্কার আকন্দ বাদি হয়ে ২৬জনকে আসামি করে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যান সহ আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।

ওই ঘটনায় অপর পক্ষের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গ্রহন না করায় বেলটিয়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান তালুকদারের ছেলে মো. শাহীন তালুকদার বাদি হয়ে রোববার(১১ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কালিহাতী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী(কালিহাতী) আদালতে মো. শাহীন তালুকদার বাদি হয়ে দায়েরকৃত মামলায় গোহালিয়াবাড়ী ইউপি সদস্য বল্লভবাড়ী গ্রামের মৃত আবেদ আলী আকন্দের ছেলে আব্দুল হাই আকন্দ ও আহত

আকবর আলী আকন্দ সহ ৭জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আবু বক্কার আকন্দের দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বেলটিয়াবাড়ী, জোকারচর, বল্লভবাড়ী, কুর্শাবেনু, দ্বৈবগাতি ও সীমান্তবর্তী ভূঞাপুর উপজেলার সারপলশিয়া ও চরপাথাইলকান্দী গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গোহালিয়াবাড়ী ইউপি সদস্য আব্দুল হাই আকন্দ জানান, ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপ্রান্তে বল্লভবাড়ী এলাকায় ট্রাক লোড-আনলোডের দখল নিতে তারা ইতোপূর্বেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। তারা কুলির সর্দার আকবরকে একা পেয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে।

গোহালিয়াবাড়ী ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান ফকির জানান, স্থানীয় একটি মহল ট্রাকে মালামাল লোড-আনলোডের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা অপকর্ম করছে।

তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন কৌশলে হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানী করা হয়। গত এক মাসে কুলির সর্দার আকবর আলী আকন্দের লোকজন স্থানীয় শাজাহান

তালুকদার, মামুন তালুকদার ও শাহ আলম তালুকদারকে পিটিয়ে আহত করেছে। তাদের সর্বশেষ হামলার শিকার আহত ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম তালুকদার।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী নুসরাত এদীব লুনা জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরপক্ষের কেউ থানায় মামলা করতে যায়নি।

এছাড়া ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুনরায় কোন পক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে পেচার আটা বাজারে অগ্রণী বাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন

প্রত্যন্ত অঞ্চলে রেমিটেন্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে টাঙ্গাইল অঞ্চলে অগ্রণী ব্যাংকের ২৭টি শাখার পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ঘাটাইল উপজেলার পেচার আটা বাজারে ৮তম এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।

গত বুধবার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ময়মনসিংহ সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক একেএম শামীম রেজা।

অগ্রণী দুয়ারের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে শাখা উদ্বোধন করেন।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মো. আবু হাসান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক সরকার ও ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে এজেন্ট ব্যাংকিং সমন্বায়ক ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো সামছুল হক।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় অধিকাংশ মুদির দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দিন দিন এর প্রবনতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম বা মহল্লার দোকানগুলোতে এ ব্যবসা দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে। যেন দেখার কেউ নেই, ভাবার কেউ নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় উপজেলার প্রায় সব কয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভেতরে কয়েক হাজার মুদি দোকানের মধ্যে অধিকাংশ দোকানে এ অবস্থা চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।

ঘাটাইল উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একটি সদর হাসপাতাল, ৫৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৬ টি সাব সেন্টার ৩০/৩৫ টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং দুই হাজারেরও বেশি ঔষধের দোকান সহ সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান থাকার পরও কেন এই সব জীবন রক্ষাকারী ঔষধ মুদির দোকানে বিক্রি হচ্ছে সেটির সঠিক উত্তর দিতে পারেনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোন মহল।

অথচ এসব দোকানে নেশা ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, দামি দামি এন্টিবায়োটিক সহ হাই প্রেসারের অনেক মুল্যবান ঔষধ তারা মজুদ রেখে না বুঝেই বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অসচেতন, নিরক্ষর ও নিম্নবিত্ত হওয়ার কারণে মুদি দোকানদাররা এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

মুদির দোকানের পাশাপাশি, এ চিত্র চা-দোকান, টং দোকান ও পানের দোকানেও পরিলক্ষিত হয়। ওষুধের পাশাপাশি সেসব দোকানে সেনিটারি ন্যাপকিন, প্যাম্পাস ও ব্যান্ডেজ সামগ্রী, জন্ম নিয়ন্ত্রনের ট্যাবলেট, সহ বেশ কিছু পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে তারা এমআরপির ধার ধারে না। নিজেদের ইচ্ছে মত বিক্রি করে।

আরও জানা যায়, জীবন রক্ষাকারী ঔষুধের মধ্যে মুদি দোকানদাররা জ্বর, সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, পেটের ব্যাথা, মহিলাদের বিভিন্ন সমস্যা, বাতের ব্যাথা ইত্যাদি রোগ থেকে শুরু করে কঠিন ও জটিল রোগের ঔষুধও বিক্রি করে থাকেন। তাদের বিক্রির তালিকায় যেসব ওষুধ সাধারণত দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিপ্রোসিনফ্লক্সাসিন, এজিথ্রোমাইসিন, টাইমোনিয়াম, ডাইক্লোফেনাক, ড্রোটাভেরিন (নো-স্পা), প্যারাসিটামল, সিটিরিজিন, রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল, কিটোরোলাক, এসিক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন, ইটোরিকক্সিব, মেট্রোনিডাজল ইত্যাদি জেনেরিকে নামের বিভিন্ন গ্রুপের ঔষধ।

এ বিষয়ে কয়েকজন ঔষুধ ব্যবসায়ী জানান, অধিকাংশ মুদি দোকানে শুধুমাত্র উক্ত জেনেরিকের ওষুধ পাওয়া যায় না। তারা অ্যান্টিবায়োটিক, হাই প্রেসার, ডায়াবেটিক, সরকারি ঔষুধসহ বিভিন্ন রোগের ঔষুধ বিক্রি করে থাকেন। পাশাপাশি যৌন উত্তেজক ঔষুধও বিক্রি করেন, যেটা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। রোগীরা না জেনে না বুঝে তাদের থেকে ঔষুধ কিনে থাকেন।

তারা বলেন, মুদির দোকান থেকে ওষুধ কিনে রোগীরা হয়ত সাময়িকভাবে আরাম বোধ করেন। কিন্তু, পরবর্তিতে দীর্ঘকালীন রোগ বাসা বাঁধে তাদের শরীরে। কেননা, তারা জানে না ঔষুধ কেমন তাপমাত্রায় রাখতে হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে কি না, ঔষধের ডোজ কিভাবে দিতে হয়, কোন রোগের কি ঔষধ এ সব সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।

রোগীকে কোন মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। আর এজন্য সেসব রোগীরা দিনের পর দিন আরও বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন এবং ধিরে ধিরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে তাদের শরীরে নতুন নতুন রোগ বাসা বাঁধছে আর নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পাশা পাশি অর্থনৈতিক ভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

ঔষধ কিনতে আসা ভূক্তভোগী মানিক, হাফিজুর, শেখ ফরিদ, তোলা মিয়া, হাসান আলীসহ বেশ কয়েকজন রোগী বলেন, আসলে মুদি দোকানদাররা যা শুরু করেছেন তা ন্যাক্কারজনক। আমরা বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যাই ঔষুধ কিনতে। মূলত, ঔষুধের দোকান বন্ধ থাকলে মুদি দোকানে ঔষুধ কেনার জন্য যাওয়া হয়। এ অবস্থায় তারা ঔষুধ সম্পর্কে কোন জ্ঞান না রেখেই ঔষুধ বিক্রি করে থাকেন। তাদের থেকে ক্রয়কৃত ঔষধ উপশম না করে রোগ শরীরে আরও বাসা বাঁধে। রোগীরা এসবের অবসান চান।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা ড্রাগ এন্ড কেমিষ্ট সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম (শফি) বলেন, ঔষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য না থাকায় আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না। তাছাড়া প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বার বার অবহিত করলেও তাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছিনা।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে পরামর্শ করে এই সমস্যার সমাধান কি করে করা যায় সে ব্যাপারে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করে প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অচিরেই সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। এত দিন আমরা ঔষুধ ব্যবসায়ীরা জোড়ালো কোন উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। ফলে, যা হবার তাই হয়েছে। এভাবে চলতে পারেনা।

(আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন (রাষ্ট্রীয়) প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ হাজার ৬১৫টি অডিট আপত্তি উঠেছে, যাতে জড়িত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি প্রায়। এ টাকা দিয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে যে ঘাটতি হিসাব করা হয়েছে তার পুরোটাই মেটানো সম্ভব।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদানসহ ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এটি জিডিপির প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, তারা তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট নিষ্পন্ন করতে ত্রিপক্ষীয় সভাসহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এর পরও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে নতুন নতুন আপত্তি ওঠায় টাকার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে লাখ কোটি অতিক্রম করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেতন, বোনাস, ইনক্রিমেন্ট নিয়ে অডিট আপত্তি ওঠে। ফলে এতে জড়িত টাকার পরিমাণও কম হয়। তবে ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক বেড়ে যায় মূলত নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ প্রদান ও সে ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার কারণে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং খাতের অনিয়মগুলো হয় নানা কৌশলে। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর খেলাপি হওয়া, শর্ত ভঙ্গ করে ঋণ গ্রহণ ও জাল অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে। এ ছাড়া মালামাল ঘাটতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ হওয়ার পরও প্রধান কার্যালয় থেকে ঋণ আদায়ে উদ্যোগী না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো।

পাশাপাশি ঋণের অর্থ আদায়ে তদারকির অভাবে ক্ষতি, লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিস্ট (এলটিআর) মঞ্জুরের পর পাওনা অর্থ আদায় না হওয়া, জামানত ছাড়া এলটিআর ঋণ মঞ্জুরের মতো অনিয়ম, বন্ধ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের অর্থ আদায়ে ব্যর্থতা, অনাদায়ী ঋণের ওপর পুনরায় ঋণ ইস্যু, এলসির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ অনাদায়ী অবস্থায় পুনরায় ঋণ ইস্যুর মতো অনিয়মের কারণে শত শত কোটি টাকার অডিট আপত্তি ওঠে।

জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সম্প্রতি তার বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে যে সমন্বয় সভা করেন, সেখানেও অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পন্নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ওই সভায় উপস্থাপিত তথ্যে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৫ হাজার ৭৩২টি সাধারণ আপত্তিতে জড়িত টাকার পরিমাণ ৭১ হাজার ৯৯৭ কোটি, ১৭ হাজার ৭০২টি আপত্তিতে ৮৬ হাজার ৬৮৮ কোটি, ১৪৬টি খসড়া আপত্তিতে ৩ হাজার ১৫০ কোটি ও সংকলনভুক্ত ১ হাজার ২৮টি অভিযোগের বিপরীতে ২৩ হাজার ১২৭ কোটি।

সভার কার্যপত্রে মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এসব অডিট আপত্তির উল্লেখ থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের অধীন ২৬টি প্রতিষ্ঠানের অডিট আপত্তির হিসাব এ তথ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কার্যপত্রে অডিটের সংখ্যা, ধরন ও টাকার অঙ্ক উল্লেখ থাকলেও কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ অনিয়মের অভিযোগ তা উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তবে তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, বীমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইডরা), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)র মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছাড়াও সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূলত ত্রিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে তারা দ্রুত এসব অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও কভিড-১৯-এর কারণে গত মার্চের পর থেকে নিয়মিত এসব সভা করতে পারেননি। সে কারণেই অডিট আপত্তিতে টাকার অঙ্ক বেড়েছে বলেছে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে এবং অফিস-আদালতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে আমরা আবার অডিটগুলো নিষ্পন্নের জন্য ত্রিপক্ষীয় সভার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এরই মধ্যে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কম্পোট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অফিসের ডেপুটি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মো. মাহবুবুল হক বলেন, পরিচালনা নীতির ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট আপত্তি বাড়ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। এ কারণে অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-ভাতা, বোনাসসহ নানা ইস্যুতে অডিট আপত্তি বাড়ে।

মাহবুবুল হক বলেন, অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি ত্রিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়গুলোকে। দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের উদ্যোগের পরও নতুন করে আরও বেশি অডিট আপত্তি উঠছে। যত দিন পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা নীতির মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর না হবে তত দিন এ ধরনের আপত্তি উঠতেই থাকবে।

তবে চলমান পরিস্থিতিতে অডিট আপত্তিগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে নিষ্পন্ন ও তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

(রুকনুজ্জামান অঞ্জন, ঘাটাইল ডট কম)/-

এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর চারলেন সড়ক প্রকল্প: ৫ বছরে অগ্রগতি ১১ শতাংশ

গতি নেই টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর চারলেন সড়ক প্রকল্পে। গত পাঁচ বছরে এর অগ্রগতি মাত্র ১১ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পটিতে ব্যয় বাড়ছে ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সেইসঙ্গে মেয়াদ বাড়ছে ৩ বছর ৪ মাস।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৯ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

এক্ষেত্রে সরকারের তহবিল থেকে ৫ হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ থেকে ১১ হাজার ৬২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক অংশটি জাতীয় মহাসড়ক এবং এর দৈর্ঘ্য ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যানবাহন চলাচলে এ মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মহাসড়কটি ব্যবহার করে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে উপ-আঞ্চলিক সড়ক সংযোগ স্থাপনের জন্য মোট ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে থেকে ২০২১ সালের আগস্টে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির মূল ডিপিপি ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পটি মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করে সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন করিডোর ৪ ও ৯, এশিয়ান হাইওয়ে-২, বিমসটেক-২ এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোর ৪-এর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। এছাড়া ধীরগতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং ব্যস্ততম স্থানগুলোর ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৃথক গ্রেডবিশিষ্ট একটি ইন্টারচেঞ্জ করা; সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সড়ক গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন; রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ তথা ওভারলোড নিয়ন্ত্রণের জন্য টাঙ্গাইলের পাকুল্লা, বগুড়ার মহাস্থানগড় এবং রংপুরের ইসলামপুরে তিনটি এক্সল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ভুমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ তিনগুণ হারে নির্ধারিত হওয়ায় এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত করায় ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ১২৭ হেক্টর বাড়ানোসহ ভূমি অধিগ্রহণখাতে মোট ২ হাজার ২৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং রিসেটেলমন্টে খাতে ২২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া মূল ডিপিপিতে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের জন্য ধারণাগত ডিজাইন বাবদ ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে ডিটেইল্ড ডিজাইন ও ২০১৯ সালের সওজ অধিদফতরের ডিসডিউল অব রেটস অনুসারে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণে ৪৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বাড়ানো হবে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সড়ক গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণে ১১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় কমানো হবে।

এছাড়া সড়ক নির্মাণ কাজের মোট আটটি প্যাকেজের মধ্যে চলমান সাতটি প্যাকেজের অনুমোদিত চুক্তি মূল্য ৪ হাজার ১৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অবকাঠামোর ডিজাইন সংশোধন ও কনক্রিট পেভমেন্ট অন্তর্ভুক্তির কারণে চলমান সাতটি প্যাকেজের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতে ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

সিসিজিপি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট প্যাকেজের প্রাক্কলন সওজ অধিদফতরের ২০১৯ সালের সিডিউল অব রেটস অনুসারে হালনাগাদ করায় প্যাকেজমূল্য মূল সংস্থানের চেয়ে ২৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণ প্যাকেজ এবং ইন্টারচেঞ্জ, সড়ক গবেষণাগার ও রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন পরামর্শক সেবা খাতে ১ হাজার ৩৩৪ জনমাস এবং এ খাতে ১৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাড়ানো হবে।

এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট খাতের সংস্থান ৩২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণ প্যাকেজ এবং ইন্টারচেঞ্জ, সড়ক গবেষণাগার ও রোড অপারেশন ইউনিট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন; তাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত হবে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এছাড়া সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন করিডোর ৪ও ৯ এশিয়ান হাইওয়ে-২, বিমসটেক-২ এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোর-৪-এর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।’

(জোসনা জামান, ঘাটাইল ডট কম)/-