এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরত চায় শিক্ষার্থীরা, বোর্ড বলছে খরচ হয়ে গেছে

এইচএসসি ও সমামানের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল করার কারণে এই পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া রেজিস্ট্রেশনের তিন হাজার টাকা ফেরত চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন দাবিই তুলেছেন তারা। অন্যদিকে শিক্ষাবোর্ড বলছে, পরীক্ষার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। সে কারণে ফি ফেরত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষা নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল, প্রশ্নপত্র-উত্তরপত্র (ওএমআর সিট) তৈরি, পরীক্ষার সময়সূচিসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এতে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই এসব কাজ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর সার্বিক প্রস্তুতি আমাদের নিতে হয়েছিল। এ কারণে অর্থ ফেরত দেয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের অর্থ দিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

তথ্যমতে, এইচএসসির ফরম পূরণের জন্য গত বছরের নভেম্বরে কেন্দ্র ফিসহ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের দুই হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীদের এক হাজার ৯৪০ টাকা করে ফি দিতে হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানে কেন্দ্র ফি (ব্যবহারিক ফিসহ) ৮০৫ টাকা এবং মানবিক ও বাণিজ্যে ৪৪৫ টাকা করে ফি নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের ফি থেকে ট্যাগ অফিসারের সম্মানীসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতে বলা হয়। কিন্তু যাদের ব্যবহারিক বিষয় আছে তাদের টাকার সঙ্গে প্রতি পত্রের জন্য আরও ২৫ টাকা করে দিতে হয়েছে। এছাড়া ব্যবহারিক উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত পরীক্ষকের জন্য পত্রপ্রতি ২৫ টাকা করে কেটে নেয়া হয়েছে।

ফরম পূরণের জন্য একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে প্রতি পত্রের জন্য ১০০ টাকা, ব্যবহারিক প্রতি পত্রের জন্য ২৫ টাকা, একাডেমিক/ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫০ টাকা, সনদ ফি ১০০ টাকা, রোভার স্কাউট/গার্লস গাইড ফি ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি পাঁচ টাকা দিতে হয়েছে।

বাস্তবে ঢাকার অনেক কলেজ বোর্ডের ধার্য করা ফি’র চাইতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। বর্তমানে এসব অর্থ ফেরত চান পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

এর আগে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত অনলাইন বৈঠকে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এমন ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার ফি হিসেবে নেয়া ৩ হাজার টাকা ফেরতের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরতের দাবি স্ট্যাটাসও দেন অনেকে। তবে শিক্ষার্থীদের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় বিপর্যস্ত শিশু

সাড়ে তিন বছরের শিশু সাধ্য। কোভিড শুরুর আগে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন বাবার সঙ্গে বাইরে যাওয়া ছিল তার নিয়মিত রুটিন। বাসার পাশে খেলার মাঠ। সেখানে বল নিয়ে খেলা। রিক্সা করে ঘুরে বেড়ানো…। মাঝেমধ্যে হাত ধরে গুঁটি গুঁটি পায়ে বাজারে মাছও দেখতে যেত। প্রায় আট মাস। ছোট্ট এই শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন যেন থমকে গেছে। সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের কেউ তাকে নিয়ে বাইরে যান না।

অভাব-অনটনের সংসার। তাই সাড়ে ৫০০ বর্গফুটের ছোট্ট দুই রুমের বাসায় তার ২৪ ঘণ্টা কাটে। ইচ্ছা হলে গাড়ি বা মোবাইল নিয়ে খেলে…। নয়ত চুপ করে বসে থাকে সাধ্য।

আগের চঞ্চলতা অনেকটাই নেই। তবে বাইরে যাওয়ার নেশা কাটেনি। চার তলার বারান্দার গ্রিল ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেক সময়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেনে নিয়ে গেলে চিৎকার করে…। কান্না যেন থামেই না…।

কয়েক মাসের মাথায় শিশুটির স্বাভাবিক আচরণে যে পরিবর্তন এসেছে বাবা-মা তা বুঝতে পেরেছেন। তবে শিশুটিকে স্বাভাবিক রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোন কমতি নেই, বলছেন বাবা সুমন প-িত। তিনি বলেন, আমরা এখন সন্তান ও তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। ভাবছি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ দ্রুত দেখাব।

করোনায় ১০ বছরের শিশু মিতালীর ২৪ ঘণ্টা কাটে আরেকটু অন্যরকমভাবে। দিনরাত মেজাজ করে এক সময়ের চুপচাপ থাকা মেয়েটি। খাওয়াদাওয়া, গোসল ও ঘুমের রুটিন বদলে গেছে। স্কুলের পড়ায় মন নেই। মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ততা। বাবা বাসায় ফেরার পর ল্যাপটপে গেম দেখা। ছোট বোনটিকেও কোলে নিতে পর্যন্ত চায় না। বাসাবোর লিটল এ্যাঞ্জেলস স্কুলের এই ছাত্রীর বাবা রুপন জানালেন, আমরা সব সময় মিতালীকে সময় দেয়ার চেষ্টা করি।

গান, নাচ ও আর্ট স্কুলও বন্ধের কারণে মেয়েটি আরও বেশি সমস্যায় পড়েছে। চেষ্টা করেও তাকে আর গানে বসানো যাচ্ছে না। আর্ট ক্লাস একেবারেই ভুলে গেছে। হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করলেও সে নিজের মতো করে আলাদা সময় কাটাতে পছন্দ করে। করোনা আসলে বাচ্চাদের জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছে। আমরা বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তায় আছি।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে জনসমাগম এড়াতে ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে সরকার। পর্যায়ক্রমে মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। শীত মৌসুমে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে সামনের দিনগুলো আরও বিপজ্জনক। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর আর খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী এখন ঘরে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পৌনে দুই কোটি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে এক কোটির বেশি। এতে শিশুদেও মনোজগতেও পড়ছে বিরূপ প্রভাব। এর বাইরেও রয়েছে শিশুদের একটি বিরাট অংশ। সব মিলিয়ে শিশুরা এখন ভাল নেই। বিশেষ করে শহুরে শিশুদের জন্য দিনগুলো সবচেয়ে কঠিন কাটছে। গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

বন্দী শিশুদের মনে যেন ভয় ঘিরে ধরতে না পারে সেদিকেই বেশি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, ব্যস্ততার কারণে অন্য সময় অভিভাবকরা শিশুদের তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। বরং এই সময়টাকে নষ্ট না করে অভিভাবকরা পরিকল্পনামাফিক প্রতিটি মুহূর্তকে আনন্দঘন করে তুলতে পারেন। অর্থাৎ শিশুদের হাশিখুশি রাখতে পারলে তারা ভাল থাকবে। তাদের মনে কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

এদিকে করোনা সঙ্কটে শিশুর মনোজগতে যেন নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার না করতে পারে সে জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে, সন্তানকে শরীর চর্চা করাতে পারেন। সন্তানের সঙ্গে খেলায় সঙ্গ দিন। ওদের সঙ্গে খেলতে খেলতে বাড়ির বড়দেরও খানিকটা শরীর চর্চা হয়ে যাবে। পড়াশোনার বাইরে অবসর সময় কাটানোর জন্য সন্তানের হাতে মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তুলে দিন গল্পের বই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারের সঙ্গে যতটা কম সময় কাটাবে, ততই ভাল। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে বড়জোড় এক ঘণ্টা টিভি বা কম্পিউটারে সময় কাটাতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই অঞ্চলের ১২ কোটি শিশু আর্থিক সচ্ছলতা হারিয়ে দরিদ্র্য হয়ে পড়বে। জাতিসংঘের শিশুকল্যাণ সংস্থা- ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

বাস্তবে শিশুরা কেমন আছে। তা দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, করোনার কারণে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যান ও পার্কসহ খেলার মাঠ এখনও খোলেনি। ইচ্ছা থাকলেও শিশুদের বাইরের খোলা মাঠের মুক্ত পরিবেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীর রমনা পার্ক দেয়ালঘেরা থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশে এখনও দেয়াল নেই। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে এসেছেন। সেখানের জাদুঘরটি বন্ধ থাকায় বল আর ব্যাট নিয়ে এসেছেন আরিফ দম্পত্তি। বলেন, আমার ছেলেমেয়ারা ভাল নেই। ঘরে বন্দী থাকতে থাকতে দিন দিন কেমন হয়ে যাচ্ছে। তাই ঝুঁকি থাকলেও এসেছি।

ঘরে থাকলেও মৃত্যু, বের হলেও মৃত্যু! তবুও বাঁচার চেষ্টা করে দেখি। যদি পারি। চোখে-মুখে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে এসব কথা বলছিলেন মিরপুর থেকে আসা আনিসা রহমান। তিনি বলেন, চাকরির প্রয়োজনে স্বামী ঢাকার বাইরে থাকেন। মাঝে মাঝে আসেন। কিন্তু আমার মেয়ের তো দিন যাচ্ছে না। তাই বের হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

উদ্যানে এসে মাস্ক খুলে স্বস্তির নিঃশ^াস নিচ্ছিল পৃথা আর বৃষ্টি। দুই বোন জানাল, দীর্ঘদিন পর বাসা থেকে বের হলাম। খুব খুশি লাগছে। মনে হয় এর চেয়ে আর আনন্দ নেই। যা বন্দী পুরো সময়েও পাইনি। তবে পৃথা মাঠে এলেও একেবারেই চুপচাপ। কেমন যেন বদলে গেছে। কেন এমন পরিবর্তন ছয় বছরের শিশুটির জীবনে।

এর কারণ হিসেবে পুরো বিশ্ব একটি সাইকোলজিক্যাল প্যানডেমিকের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের ওপরও মানসিক চাপ পড়ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অভিভাবকদের কিশোর-কিশোরী সন্তানের মনের কষ্ট বুঝতে হবে। আর শিশুদের ব্যস্ত রাখতে হবে বিভিন্নভাবে। সর্বোপরি মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্যও ভাল রাখতে হবে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক ভাল রাখতে হবে। তা না হলে কোন কথাই কাজে আসবে না।

মহামারীর এই দুর্যোগের সময় শিশুর মনোজগতের বৈকল্য কাটাতে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল। তিনি বলেন, অনলাইন ক্লাসগুলোর বিস্তার বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে স্কুলের পোশাক পরে এসব ক্লাসে শিশুদের অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

ড. মোহিত কামাল বলেন, শিশুদের জন্য স্কুলে যাওয়া সব সময়ই আনন্দের বিষয়। তারা স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করবে, মাঠে খেলবে, শিক্ষক-শিক্ষিকার আদর পাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় স্কুলে না যেতে পেরে তারা হতাশ ও বিরক্ত। হতাশা থেকে রাগ হয়, অল্পতে ক্ষেপে যায়, পড়তে চায় না, মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে- এসব সমস্যা এখন ঘরে ঘরে।

তিনি বলেন, এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কিন্তু ক্ষণস্থায়ী নয়। এটি দীর্ঘকাল থাকবে। তাই সঙ্কট মোকাবেলার জন্য আমাদের উপায় বের করতে হবে।

স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের অবস্থা আরও বেহাল। ইস্কাটনের বাসিন্দা সঞ্চিতা বলেন, আমার মেয়ের অবস্থা আরও বেহাল হয়েছে। অনেক চেষ্টা করছি তাকে স্বাভাবিক রাখতে। প্রতিবন্ধী স্কুলটি বন্ধ। তাই তার যাওয়ার কোন জায়গা নেই। কি করব? এমন উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন মায়ের।

করোনাকালে সব ধরনের শিশুর মধ্যে অটিস্টিক শিশুরাই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে বলে মনে করেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, এ ধরনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অতিচঞ্চল শিশুদের নিয়েই অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে আছে। তারা অভিভাবকদের স্বস্তির নিঃশ্বাসই নিতে দিচ্ছে না। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে করোনার প্রাদুর্ভাব ১০ শতাংশের মতো। সমস্যা শুধু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়েই নয়, মানসিক সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।

ঘরে বন্দী শিশুদের জীবনে এরই মধ্যে বেশ বিরক্তি চলে এসেছে। শিশুদের মধ্যে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুদের কোন কিছুই স্বাভাবিক না হওয়ায় তারা খুব বেশি কষ্টের মধ্যে আছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাগুলোও অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

ডাঃ গোলাম রাব্বানী বলেন, করোনার সময় শিশুদের বিশেষ সেবা দিতে হবে। তাদের সুস্থ রাখার জন্য সাধারণ যেসব সরকারী-বেসরকারী স্কুল আছে, সেখানে অনলাইনে পঠন-পাঠন কর্মসূচী চালাতে হবে। এসবের মাধ্যমে আমরা যদি শিশুদের ব্যস্ত রাখতে পারি, তাহলে তাদের মধ্যে যেসব হতাশা, দমবন্ধ ভাব ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, তা দূর হতে পারে।

জার্মান এ্যাকাডেমি ফর চিলড্রেন এ্যান্ড ইয়ুথ মেডিসিনের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, অতীতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শিশু-কিশোরদের সম অধিকার পাওয়া মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, বরং সম্ভাব্য ভাইরাসবাহক হিসেবে দেখা হয়েছে। বিভিন্ন পারিবারিক পটভূমি থেকে উঠে আসা কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি শুধু অন্যায়ই নয়, ভীষণ মারাত্মকও।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা সম্প্রতি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে আমাদের শিশুরা অনেকদিন ধরেই গৃহবন্দী। বন্দী থাকতে থাকতে তাদের মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। তাই শিশুদের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গৃহবন্দী থাকতে থাকতে শিশুদের মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।

তারা যেন উত্তেজিত না হয়ে যায়। বিষয়টা তাদের বোঝানো এবং তারা যেন স্বাস্থ্য বিধিগুলো মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে যায় সে বিষয়ে পিতা-মাতা বা অভিভাবক যারা আছেন, তারা খেয়াল রাখবেন।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গৃহবন্দী শিশুদের বিশেষভাবে যত্ন নেন। তাদের জন্য ঘরে থাকাটা আনন্দময় করার জন্য যে সকল ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সেগুলো নেবেন। তাদের পাঠদান কীভাবে আনন্দময় করা যায়, সেভাবেই আপনারা ব্যবস্থা নেবেন।

বিশে^র অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলের মতো আমাদের দেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়া করোনার ধাক্কায় কুপোকাত। চোখ রাঙিয়েই যাচ্ছে কোভিড। জনবহুল এই অঞ্চলে বসবাস পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ মানুষের। এই অবস্থায় কোভিড-১৯ দক্ষিণ এশীয় ৬০ কোটি শিশুর ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।

(রাজন ভট্টাচার্য, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে বিলের পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিলের পানি পড়ে জয়রাজ বংশী নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের নিকলা রায়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জয়রাজ উপজেলার চাঁন মোহন রাজ বংশীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, আজ শনিবার বিকালে শিশুটির মা জয়রাজকে উঠানে রেখে রান্না করছিল। একপর্যায়ে শিশুটি উঠানে খেলতে না দেখে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বাড়ির পাশের বিলে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়টি ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম ও এসআই ইউসুফ আলী সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরের শামসুল হক তালুকদার বেঁচে থাকবেন প্রেরণার উৎস হয়ে

একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি। সর্বদাই আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের কর্মকাণ্ডকে মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। এমনই একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন শামসুল হক তালুকদার ছানু। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জন্মগ্রহণ করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। কর্মগুণে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে তিনি মফস্বলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিলেন। গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অবদান রাখেন জাতীয় রাজনীতিতে। এখানেই তাঁর কৃতিত্ব।

ভূঞাপুরের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছিল তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। হাজার হাজার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবক তুল্য। তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞা ও কর্মোদ্দীপনার যে সমন্বয় ঘটেছিল সচরাচর তা দেখা যায় না। জীবনের শেষদিকে শারীরিকভাবে অসমর্থ হলেও ভূঞাপুরের নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন।

শামসুল হক তালুকদার পরিণত বয়সেই মৃত্যুবরণ করলেন। তবে তাঁর মৃত্যু ভূঞাপুরবাসীর জন্য যে অভিভাবকশূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কবে পূরণ হবে কে জানে?

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় শামসুল হক তালুকদারের ভাগ্নে ছাউদুর রহমান ওরফে হিরু স্যারের ফোন। রিসিভ করতেই ও-প্রান্ত থেকে জানালেন- বকুল একটা দুঃসংবাদ। কেন, কি হয়েছে? আমার কথার প্রতিউত্তরে এবার সে ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছানু মামা (শামসুল হক তালুকদার) মারা গেছেন।

এরপর সাংবাদিক ও আইনজীবী বিষ্ণু প্রিয় দীপ, নবীন সাংবাদিক শফিউর রহমান তালুকদারসহ অনেকেই জানান শামসুল হক তালুকদারের চিরবিদায়ের সংবাদ। শুনে মনটা বিষণ্ণ হয়ে গেল। আকাশের দিকে তাকালাম। ভালো করে দেখার চেষ্টা করলাম, আজকের তারাগুলি কি অন্য দিনের চেয়ে উজ্জ্বল? নাকি ম্লান? বুঝতে পারলাম না। হারিয়ে গেলাম অতীতে। কত কথা মনে পড়লো। এক ধরনের শূন্যতা আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললো। মনে হলো শামসুল হক তালুকদারের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে ভূঞাপুরের রাজনীতির একটা ধারার পরিসমাপ্তি ঘটলো।

সময়ের সাহসী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক তালুকদার ছানু ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাদারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছামান আলী তালুকদার। মাতা হাজেরা বেগম।

তাঁর বাবা ছামান আলী তালুদার ফলদা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে তাঁর পরিচিতি ছিল। সে কারণে শামসুল হক তালুকদার ছোটবেলা থেকেই জনসেবায় মনোনিবেশ করেন। অন্যের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকতে ভালোবাসতেন তিনি। তৃপ্তি খুঁজে পেতেন সেখানেই। এক মুহূর্তের জন্যেও তিনি ভুলে যেতেন না তাঁর সামাজিক দায়িত্বের কথা।

জননন্দিত এই নেতা ১৯৭৩ ও ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে পর পর দুই বার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৮৫ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ হতে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ তিনি টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ হতে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ছিলেন বড় মাপের একজন রাজনীতিক। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর, বর্তমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি. এম. কাদের, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ জাতীয় পার্টির অনেক কেন্দ্রীয় নেতার সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল।

ভুঞাপুরের ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের তিন তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু তার বড়ভাই শামসুল হক তালুকদার সম্পর্কেবলেন- ‘তাকে সব সময় গরিব-দুখি মানুষের কল্যাণ চিন্তায় মুগ্ধ থাকতে দেখেছি। বাংলাদেশের সকল রাজনীতিবিদ যদি তাঁর মতো এমন চিন্তায় মগ্ন হতেন তাহলে অনন্তহীন সম্ভাবনার এই দেশে হাজার বছর ধরে যেসব বঞ্চিত মানুষ বঞ্চনা-নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও আশার ছোট্ট প্রদীপটি সযত্নে লুকিয়ে রেখেছেন মনের মণিকোঠায় তা আরো জ্বলে ওঠবে নিজস্ব মহিমায়।’

সফল এ জনপ্রতিনিধি ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল গ্রামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ধুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কয়েকটি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।

শামসুল হক তালুকদার ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোবাদ হোসেন তালুকদারের কন্যা দিল আফরোজ বেগমের সাথে শুভ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। তিনি তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁরা হচ্ছেন- সানিয়া আফরোজ শাপলা, সেলিনা আফরোজ শায়লা ও সুমি আফরোজ শীলা এবং একমাত্র পুত্র মো. আমিনুল হক তালুকদার। এরমধ্যে সেলিনা আফরোজ শায়লা ক’বছর আগে মারা যান।

শামসুল হক তালুকদারের ভাগ্নে আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মুক্তা বলেন- ‘মামার জীবন উৎসর্গকৃত ছিল গণ-মানুষের জন্য। মানুষও তাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। এ কারণে তাঁর মৃত্যু হাজার হাজার মানুষ শুধু স্তব্ধ হয়ে থাকেনি, কেঁদেছেন। অনেককেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেছি।’

শোকাহত ভূঞাপুরবাসী শামসুল হক তালুকদারকে নানাভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যা- যে কোন মানুষকে সহজে স্পর্শ করে।

তাঁরা বলেন, ‘আমাদের সমাজে যারা গুণী এবং কীর্তিমান, নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের কর্মকাÐ ও জীবনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের কর্তব্য। কেননা তাঁরা জীবন ব্যয় করেছেন আমাদের জন্য। তাদের স্মরণ করলে সম্মাননা জানালে আমরাই লাভবান হবো সম্মানিত হবো।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও ছড়াকার মামুন তরফদার বলেন, ‘মণিষীরা বলে গেছেন- যে সমাজে গুণীর কদর নেই, সে সমাজে গুণী ব্যক্তি জন্ম হয় না। শামসুল হক তালুকদার ছিলেন একজন আদর্শবাদী, সদালাপি ও নির্লোভ মানুষ। তাই তাকে সেভাবেই মর্যাদা দেয়া আমাদের দায়িত্ব।’

যৌবন যদি হয় যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তবে শামসুল হক তালুকদার সেই শ্রেষ্ঠ সময়ে শ্রেষ্ঠ কাজটিই করেছিলেন। তিনি ৬৯ এর গণ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এদেশের জনগণের মঙ্গলার্থে কিছু করা উচিত। এ ভাবনাই তাড়িত করে তরুণ শামসুল হককে। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ তাকে বিচলিত করে তোলে। তাইতো তিনি বিলম্ব না করে যোগ দেন গণমানুষের প্রতিরোধ লড়াইয়ে।

ভারতে গিয়ে তিনি ৩ মাস ট্রেনিং নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন। শামসুল হক তালুকাদারদের ত্যাগ তীতিক্ষা ও দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রামে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। যুদ্ধকালীন সময় সে প্লাটুন কমান্ডার এবং পরবর্তীতে ভূঞাপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ছিলেন।

তিনি বলতেন- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। যা এখনও পূরণ হয়নি। বলতেন- সততা ও স্বচ্ছতার চর্চা করে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এসব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতানা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন- বাংলাদেশে রাজনীতি যখন সুস্থ-স্বাভাবিক কল্যাণমুখী ও সৃজনশীল হয়ে উঠে তা যেন দেখে যেতে পারি।

তিনি আক্ষেপ করে বলতেন- কবে চোখে পড়বে সেই সুস্থ রাজনীতির মসৃণ রাজপথের কিনারা?

শামসুল হক তালুকদারের সঙ্গে আমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন আমার বাবা আবুল হোসেন তালুকদার। আব্বার সাথে তাঁর মধুর সম্পর্ক ছিল। সে সময়টা ঠিক মনে নেই। তবে নব্বই-একানব্বই সালের কথা। তখন আমি ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এরপর অনেক জায়গায় তাঁর সাথে দেখা হয়েছে, কিন্তু কথা হয়নি।

৯৩ সালে আমি নবীন সাংবাদিক। মাত্র বছের খানেক হলো এ নেশায় যোগ দিয়েছি। সে সময় আমি তাঁকে একটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। বাসায় যাওয়ার আগে ঠিক করেছিলাম কীভাবে কী বলবো? আমি তাঁর বাসার ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার পাশের খালি চেয়ারটায় এসে বসেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আমার গোছানো সব কথা ভুলে গেলাম।

এরইমধ্যে তিনি আমাকে এতটা সহজ করে নিলেন যে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না- আমার সামনে বসে থাকা মানুষটা স্বয়ং সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক তালুকদার। আমার জড়তা কেটে গেল।

একটা মানুষের হৃদয় কতটা প্রশস্ত কতটা মহৎ আর উদার হলে এমন আচরণ করতে পারে সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম। একজন সংসদ সদস্য সময় দিলেন আমার মত একজন নবীন সাংবাদিককে। আজ ভাবলে মনে হয় সেদিনের সেই ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। খুবই স্বাভাবিক। স্বাভাবিক বলছি এজন্যেই যে, এটা কেবল শামসুল হক তালুকদাররাই পারেন। তাঁর পক্ষেই সম্ভব। কারণ তিনি ধারণ করেছিলেন বিশালতাকে। তিনি পরশ পাথর ছিলেন।

শামসুল হক তালুকদার ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তাকে দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে ফোন করে সে তাঁর অফিসে যেতে বলেন। যথাসময়ে আমি হাজির হই তাঁর অফিসে। সেদিন তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তের কথা শুনে আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ি। মনে হলো সমাজের রন্ধে রন্ধে ভালো মানুষগুলো মানুষরূপি নরপশুদের তাড়া খেয়ে চকিত হরিণীর মতো কেবল ন্যায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। দীর্ঘক্ষণ তাঁর সামনে বসে রইলাম। কথা নেই। নৈশব্দের নীরবতা গ্রাস করেছে চারদিক।

আমি শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম- আপনি বললে প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমে তুলে ধরবো। মনে হলো তিনি যেন এই প্রশ্নের জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন।

নিজের সব শক্তি এক করে প্রায় চিৎকার দিয়ে বললেন- হ্যাঁ। তাঁর বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তা কোরবানীর মাঠে তড়পানো জন্তুর আত্মচিৎকারে পরিণত হলো। আমি কি করবো ভেবে না পেয়ে স্তব্ধ বিস্ময়ে বসে থাকলাম। অনেকক্ষণ পরে তিনি শান্ত হলেন। আমি ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি গোচড়ে আনলাম।

পূর্বাকাশের বার্তা সম্পাদক বড়ভাই শ্রদ্ধেয় রাশেদ রহমানের সাথে পরামর্শ করে চার পর্বের ধারাবাহিক নিউজ করলাম। শামসুল হক তালুকদার নির্দোষ প্রমাণিত হলেন।

শামসুল হক তালুকদার তাঁর নিকটজনদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছেন। আমাকে স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়েছেন। সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সহযোগিতায় আমি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সবুজায়ন প্রকল্প বৃক্ষরোপণের কাজ পাই। যা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। কারণ বঙ্গবন্ধু সেতুর দু’পাড়ের বৃক্ষগুলো কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে।

এ প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন সেতু বিভাগের সচিব সৈয়দ মাগরুব মোর্শেদ। তাঁর সঙ্গে পরিচয় পর্বে আমার ভূয়সী প্রশংসা করেন শামসুল হক তালুকদার। তিনি আমাকে তাঁর এক আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অক্ষুন্ন ছিল।

আমি জানি না শামসুল হক তালুকদারের জনসেবা অসাধারণ ছিল কি-না। জানিনা পৃথিবী কতদিন টিকে থাকবে, এও জানি না পৃথিবীতে কত দিন সূর্য ওঠবে, চন্দ্র হাসবে। কিন্তু আমার বিশ্বাস শামসুল হক তালুকদারের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার অশ্রু কোনদিন পৃথিবী ভুলবে না। কোনদিনও না।

আজ এই লেখা যখন লিখছি তখন ভীষণ জানতে ইচ্ছে করছে- শামসুল হক তালুকদার, ওপাড়ে আপনি কেমন আছেন?

শামসুল হক তালুকদার আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শ ও জনসেবা আমাদের উৎসাহিত করবে। তিনি বেঁচে থাকবেন যুগে যুগে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে। তিনি ভূঞাপুরের উন্নয়নে যে প্রদীপ জ্বালিয়ে গেছেন সে প্রদীপের আলোয় আলোকিত পথ বেয়ে এগিয়ে যাবেন আমাদের ভূঞাপুরের জনপ্রতিনিধিরা।

তাঁর অনুসারীরা, শুভানুধায়ীরা এবং তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাকে স্মরণ করবে চিরকাল।

(আনোয়ার হোসেন বকুল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গোমর ফাঁস করলে পরেরদিনই চাকরি শেষ!

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকারি দলের কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে প্রতিবছর তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছেন। এতে করে সেই ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিবছর কর্মচারী নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আর টেন্ডারের মাধ্যমেই কাজ পেয়েছে এইচআরকে এবং মীম ট্রেডার্স নামের দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী তুহিন ও মোশারফ। আর এ দু’জন ছাড়াও তাদের সঙ্গে রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী ঠিকাদার রিপন মিয়া। হাসপাতালে ১৮ জন সিকিউরিটি গার্ড, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, আয়াসহ মোট ৬৫ জন কর্মচারী রয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর টেন্ডার আহ্বান করা হলেও সেখানে ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জন্য। ফলে সরকার প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা হারাচ্ছেন। আর এই টাকার ভাগ নিচ্ছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে হাসপাতালে ৬৫ জন কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৪৫ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ক্লিনার বলেন, আমি তিন বছর ধরে হাসপাতালে চাকরি করছি। আমাকে প্রতিমাসে ঠিকাদার সাত হাজার করে বেতন দেন। বেতন দেওয়ার সময় তারা আবার আমার কাছ থেকে বেতনের দ্বিগুন হারে সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার চেকে সই করিয়ে নেন।

একই অবস্থা আরেক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও। তিনিও প্রতিমাসে বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু পরিবর্তে তার কাছ থেকেও নেওয়া হয় দ্বিগুন টাকার চেক। তিনি জানান, তার চেক বই ঠিকাদারের কাছেই রয়েছে। প্রতিমাসে তারাই এসে বেতন দিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নারী জানান, তিনিও বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু তার কাছ থেকেও সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে তিনি কতটাকা মূল বেতন পান সেটি তিনি জানেন না।

তৃতীয় তলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক ওয়ার্ড বয় জানান, তিনি প্রতিমাসে আট হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। তবে বেতন দেওয়ার সময় কোনো চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে আর কিছু জানতে চাইয়েন না। আপনি ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় কথা হয় এক সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১০/১১ বছর ধরে একই ঠিকাদারের মাধ্যমে একানে চাকরি করছি। প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিমাসে ঠিকাদার তাকে নয় হাজার টাকা বেতন দিয়ে তার কাছ থেকে বেতনের দ্বিগুন অংকের চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

এ বিষয়ে মীম ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোশারফ বাংলানিউজকে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা করে দেন। টাকা জমা হওয়ার পর তারাই টাকা উত্তোলন করেন। তবে ব্যাংকের (যার যার) সব চেকে আগে থেকেই স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। আর কোন কর্মচারীদের মূল বেতনের কম দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

(সুমন কুমার রায়, ঘাটাইল ডট কম)/-

যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়ার আসর, জানে না প্রশাসন

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় অভিনব কায়দায় শতশত লোকের সমাগমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা চললেও জানে না প্রশাসন। যমুনা নদীতে নৌকা ভাসিয়ে সেখানে চলছে রমরমা ভাসমান জুয়ার আসর। অনেকটা জাকজমকভাবেই দিনের পর দিন ভাসমান নৌকায় চালানো হচ্ছে এ অবৈধ কার্যক্রম।

ঢাকাসহ সারাদেশের জুয়াড়িরা নিরাপদ আস্তনা ভেবে এই যমুনা নদীতে ভাসমান জুয়ার আসরে আসছে। শুধু জুয়াই নয়, সেখানে অবাদে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কুঠিবয়ড়া হতে গাবসারার রামপুর পর্যন্ত চরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে জুয়াড়িদের নিরাপদ স্থানে ভাসমান জুয়া খেলা চলছে। ইঞ্জিন চালিত ছোট ছোট নৌকাযোগে জুয়াড়িরা মধ্যে নদীতে যাচ্ছে।

সেখানে থাকা জুয়ার নৌকা অপেক্ষা করছে তাদের নিতে। এরপর নিরাপদ স্থানে নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে তাতেই চলে জুয়া খেলা। আর এই খেলা নজরদারী করতে জুয়াড় বোর্ড পরিচালনাকারীরা তাদের নিজস্ব লোকবল গোবিন্দাসী ঘাট থেকে গোপালপুর উপজেলার নলীন পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রেখেছে খোঁজ খবর রাখার জন্য।

আর তাতে জুয়াড় বোর্ড পরিচালনা করছে জুয়াড় হামলা মামলার জামিনে থাকা প্রধান আসামি ফজল মন্ডল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আয়োজকরা প্রভাবশালী। সেইসাথে প্রশাসন ও ক্ষমতাবানদের সাথে তাদের যোগসাজশ থাকায় তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননা তারা। প্রতিনিয়তই দিনে দুপুরে যমুনা নদীতে ভাসমান ওই নৌকায় চলছে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা আর মাদক সেবন।

এ বিষয়ে গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব হতে গোপালপুরের নলীন পর্যন্ত নৌ পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে। এরমধ্যে কোথাও নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন খবর নেই। তবে থানার অধীন বিভিন্ন নদীর শাখা-প্রশাখা বা খালগুলোতে হয়তবা জুয়া খেলা চলতে পারে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে ভাসমান নৌকায় জুয়া খেলার কোন তথ্য নেই। তবে সিরাজগঞ্জের সীমানায় জুয়া খেলার খবর পাওয়ার পর সেখানকার থানা পুলিশের মাধ্যমে সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী যমুনা ঘাট সংলগ্ন কাঁশবনে জুয়ার আসরের সচিত্র সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় জুয়াড়িরা। এতে চার সাংবাদিক সহ ৬ জন আহত হয়। ওই রাতেই ডিবিসি নিউজ এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সোহেল তালুকদার বাদী হয়ে জুয়াড়ি ফজল মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখহ অজ্ঞাত শতাধিক জুয়াড়ির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ফজল মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা করে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণে ধর্ষকের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুইজন মিলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক গোলাম মোস্তফা (৫০)।

গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা হাসানাতের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দীতে তারা দুইজনে মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাতে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার অপর আসামি ধর্ষক ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানায়, ধর্ষক গোলাম মোস্তফা তার জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।

ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নে বাসুদেবকোল গ্রামের ইসমাইল হোসেন ওই ছাত্রীকে কৌশলে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে যোগ দেয় গোলাম মোস্তফা নামের আরও একজন। বাড়ি ফাঁকা থাকায় তারা দুজন মিলে শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হয় তাকে।

ধর্ষিতার পরিবার জানায়, ধর্ষণের পরে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটি তার পেটে ব্যথা অনুভব করলে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গোলাম মোস্তফা ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গোলাম মোস্তফা ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। অপর আসামি ধর্ষক ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসময় তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফা (৫০) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের দূর্গমচরাঞ্চল বাসুদেবকোল গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে ও ইসমাইল হোসেন (৪০) একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।

(অলক কুমার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে হামলায় কুলি সরদার আহত, চেয়ারম্যানসহ আটক ৭

টাঙ্গাইলে কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতুপুর্বপাড়ে ট্রাক লোড আনলোড পয়েন্টের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চেয়ারম্যান বাহিনী তার দলবল নিয়ে কুলি সরদার আকবর আকন্দকে অতর্কিতভাবে হামলা করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হরযত আলী তালুকদারসহ ৭ জনকে আটক করেছে।

আটকরা হলেন, ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার, তার ছেলে সালাউদ্দিন তালুকদার, ভাতিজা জাহাঙ্গীর তালুকদার, একই এলাকার ইমান হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, এনামুল হক ও লেবু মিয়া।

আহত কুলি সর্দার আকবর ভল্লব বাড়ী গ্রামের এনছের আলীর ছেলে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুপুর্বপাড়ে লোড আনলোডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন যাবত গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বাহিনী ও কুলি সর্দার আকবের সাথে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে চেয়ারম্যান হরযত আলী তালুকদার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কুলির সরদার আলী আকবর উপর হামলা করে।

এ সময় চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও তার দলবল হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কুলি সরদার আলী আকবরকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কুলি সর্দার আকবর আকন্দকে একা পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও তার ছেলে ওবায়দুল, শহিদুল, সালাউদ্দিন, ভাতিজা মমিন তালুকদার, ইসরাফিল তালুকদার, হাফিজুর তালুকদার, মিজানুর তালুকদার, ইউসুফ তালুকদার মিলে দেশীয় অস্ত্র হাতুড়ি, লোহার রড, হকস্টিক নিয়ে আকবরের উপর আক্রমণ চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আকবরকে একা পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে পিটানো শুরু করলে অন্যান্যরাও লোহার রড ও হকস্টিক দিয়ে আঘাত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারসহ ৭ জনকে আটক করে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী নুসরাত এদীব লুনা বলেন, মারামারি খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যান সহ ৭ জন আটক করে। এ ঘটনায় কালিহাতী থানা চেয়ারম্যানসহ ২৬ জনকে আসামি করে আহত কুলির সরদার আলী আকবর আকুন্দ ভাই আবু বক্কার আকন্দ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।পরে তাদেরকে টাঙ্গাইল জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে পাহাড়ি টিলা কেটে দেদারে লাল মাটি চুরি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর, লতিফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নে চলছে মাটি চুরির মচ্ছোব। সরকারি আইন অমান্য করে একটি চক্র বন বিভাগ ও পাহাড়ি এলাকায় টিলা ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেদারে লাল মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগকারী মো. কামাল উদ্দিন জানান, মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় চক্রটি নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তরফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাইদ আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাজিম মোল্লা ও তাদের সহযোগী মোকলেছুর রহমান মুকুল, সহিদ মিয়া ও ফরহাদ আলী মইদাসহ ১৫-২০ জনের একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি খলিয়াজানি, ডোহাতলী, পাথরঘাটা, তরফপুর, টাকিয়া কদমাসহ বিভিন্ন গ্রামের পাহাড়ের টিলা ও বন বিভাগের জমিতে ভেকু বসিয়ে পাহাড়ের টিলার লাল মাটি কেটে চুরি করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্ত-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এদিকে অবৈধভাবে বন বিভাগের ও পাহাড়ি টিলা কাটা বন্ধসহ মাটি চোরদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডৌহাতলী (পাথরঘাটা) গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরও আবেদন দিয়েছেন। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই কামাল উদ্দিনকে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নানা ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

অপরদিকে পাহাড়ি এলাকা লতিফপুর, টাকিয়া কদমা, সিট মামুদপুর, মামুদপুর, বান্দাচালা, লতিফপুর, কোদালিয়া, আজগানা, কোড়াতলী, শেখেরচারা, হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, নয়াপাড়া, পেকুয়া, গায়রাবেতিল, বালিয়াজান, মোতারচালাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা ও উচু এলাকা থেকে লাল মাটি চুরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকগুলোর বাসিন্দারা।

মাটি চুরিতে অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান বলেন, আমি নই, অন্যরা মাটি চুরি করছে।

বক্তব্য নিতে আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম মোল্লা ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, পাহাড়ের টিলা ও বনাঞ্চলের মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এরাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে ৪ বছর আগে নিখোঁজ গৃহবধূ সন্তান সহ ফিরলেন বাড়ি

চার বছর আগে নিখোঁজ গৃহবধূ পাঁচ মাসের এক শিশু পুত্রসহ ৪ অক্টোবর বাবার বাড়ি ফিরেছেন। ওই গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পর তার অভিভাবক পাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইল মানবপাচার ও প্রতিরোধ দমন অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগর ভাতগ্রাম গ্রামে। নিখোঁজ গৃহবধূর নাম মদিনা আক্তার (২৩)। তিনি ওই গ্রামের জলিল মোল্লার মেয়ে।

ঘটনার অভিযোগে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন একই গ্রামের ভ্যানচালক আকবর আলী। তার বিরুদ্ধে তিন বছর আগে মদিনার মা ছাহেরা বেগম মেয়েকে পাচারের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, ২০১৩ সালে খৈলসিন্দুর গ্রামের মিনহাজ মোল্লার সঙ্গে মদিনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিনহাজ সৌদি চলে যান। এর কয়েকদিন পর মদিনা ও মিনহাজের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরপর মদিনা বাবার বাড়ি গিয়ে বন্ধু চুলা নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। কিছুদিন পর মদিনা নিখোঁজ হন।

পরে মদিনার বাবা জলিল মোল্লা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মির্জাপুর থানায় মিনহাজ মোল্লাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মদিনাকে হত্যার পর মরদেহ গুমের অভিযোগ এনে মামলা করেন। এছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর মিনহাজ তার স্ত্রীর চার ভরি স্বর্ণ, দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায় বলে থানায় জিডি করেন। এরপর মদিনার ছোট বোনকে মিনহাজের কাছে বিয়ে দেয়ার প্রস্তাবেরভিত্তিতে দুই পরিবারই মামলার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন।

এদিকে মদিনার মা ছাহেরা বেগম পূর্বশত্রুতার জের ধরে ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের মানবপাচার ও প্রতিরোধ দমন অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আকবর আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে মামলা করেন।

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক খান মনিরুজ্জামান আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মদিনাকে বন্ধু চুলায় চাকরি দেয়ার কথা বলে তুলে নিয়ে পাচারের কথা মামলায় উল্লেখ থাকলেও তার সত্যতা মেলেনি।

শুক্রবার আকবর আলী এই প্রতিবেদককে জানান, শ্বশুরবাড়ির জমি বিক্রি ও টাকা ধার করে মামলার পেছনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আমাকে শারীরিক নির্যাতনও করেছে।

আকবর আলীর বৃদ্ধ মা জাকিয়া বেগম বলেন, পুলিশের ভয়ে আমরা অনেকদিন বাড়িতে থাকতে পারিনি। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।

মদিনা আক্তারের বাবার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, যেদিন আমি নিখোঁজ হই- সেদিন আমার মুঠোফোনে আকবর আলীর কল আসে। এরপর আকবর আলীর কথামত অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বালিয়া বাসস্ট্যান্ডে যাই। সেখান থেকে আমাকে বাসে উঠায়। এরপর আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়- তা বলতে পারব না।

পরে সেখান থেকে গোপালগঞ্জের নিজরা গ্রামের মামুন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি উদ্ধার করেন। পরে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। তিনি কিভাবে উদ্ধার হলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন বলেন, পুলিশের প্রতিবেদনের কারণে আকবর আলী মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন। তিনি হেয় হওয়ার বিষয়ে পুলিশের কিছুই করার নেই।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-