কালিহাতীতে মাদকের প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে মারধর

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ঘাটাইলে হামিদপুর এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাদলকে প্রাননাশের হুমকি ও ওয়াসিম নামের এক যুবককে মারধর করেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, কালিহাতী পৌর এলাকার উত্তর সালেংকা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী রফিক, মানিক, মামুন, রুনু, রুহুল আমিন ও আলী আকবর মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন করে বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল ছাত্তারের ছেলে ওষুধ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাদলের পুকুর পাড়ে মাদকের আবর্জনা ফেলে আসছিল।

এতে প্রতিবাদ করায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা বাদলকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।

এ ব্যাপারে কামরুজ্জামান বাদল মাতব্বরদের বিষয়টি জানালে শনিবার (৩ অক্টোবর) উত্তর সালেংকা মসজিদে সালিশের আয়োজন করে। সালিশে উত্তর সালেংকা গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে ওয়াসিম মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদক ব্যবসায়ী রফিক তার দলবল নিয়ে ওয়াসিমকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে মেছের আলীর ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে গিয়ে ওয়াসিমকে এলোপাথাড়িভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

ওয়াসিমের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ওয়াসিমকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওয়াসিমের পিতা মর্তুজ আলী বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় অভিযোগ দায়ের করেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরে রফিক সহ উপরোক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা ওষুধ ব্যবসায়ী বাদলকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখালে ওষুধ ব্যবসায়ী বাদল তার প্রাণ রক্ষার্থে কালিহাতী থানায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ওষুধ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাদল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার পুকুর পাড়ে রফিক, মানিক, মামুন, রুনু, রুহুল আমিন ও আলী আকবর মাদক ব্যবসা ও সেবন করে পুকুর পাড়ে মাদকের আবর্জনা ফেলে আসছে। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না।

এসময় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এসআই মাহাবুল ইসলাম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নষ্টদের দখলে দেশ

নিজের বৌ এর সাথে ঘুমাতে গেলেও নিজেকে ধর্ষক মনে হয় আজ। আমরা বলি – সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। সরকার আসলে চরমভাবে সফল। প্রতিটা ক্ষেত্রেই তারা সফল। ক্ষমতায় টিকে থাকা হলো তাদের সফলতা। তারা চরম সফল। ব্যর্থ আমরা জনগণ। আমরা চরম ভাবে ব্যর্থ। সরকার প্রতি পদে পদে সফল; আমরা প্রতি পদে পদে ব্যর্থ।

সরকার পরিচালনায় আছে- একদল হায়েনা। সেই হায়েনার দলেরা সব দিক থেকেই অন্ধ- তাদের চোখ শুধু একটা জিনিসই দেখে; নিজেদের সফলতা।

আব্দুল কাদেররা বাগানের ভিতরে ফটো সেশনে ব্যস্ত; কয়দিন পর পর পদ্মা ব্রীজের খুঁটি গুনে জাতীকে ধন্য করবে আর নিজেরা উৎফুল্ল হবে। কারণ ডাক্তার বলেছে উৎফুল্ল থাকতে হবে; তারা উৎফুল্ল। তাদের কর্মীদের দায়ভার তারা নিবে না; বিচারও করবে না। অপরাধের সময়- আমার দলের কেউ না; বিচারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

একেকজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসেছে- নিজের চৌদ্দ গুষ্ঠি যেনো খেয়ে পড়ে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধর্ষণ করতে পারে- সে ব্যবস্থা করে গেছে এবং করছে।

গত ১০/১২ বছরে এই দেশ যতজন ধর্ষক তৈরি করেছে (সরকারী প্রতিটা সেক্টরে এবং দলীয় ভাবে লাখো লাখো ধর্ষক)- এই ধর্ষকদের হাত থেকে নিস্তার পেতে আমাদের সত্যিই আরেকটা যুদ্ধ দরকার।

আমি জানি আর্মি ক্ষমতায় আসলে- দেশটা পিছিয়ে যাবে অনেক। কিন্তু মাঝেমধ্যে- এগিয়ে যাবার জন্য হলেও দুই কদম পিছাতে হয়।

এই উলঙ্গ দেশ; উলঙ্গ বিচার ব্যবস্থা; উলঙ্গ সমাজে- গণতন্ত্রের নামে প্রতিমুহূর্ত ধর্ষিত হবার কোনো মানে নেই।

যারা গোটা দেশকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করছে; তাদের কানে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কান্না পৌঁছাবে কিভাবে?

এই অবস্থায়- জনগণের আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ছাড়া কোনো সমাধান দেখছিনা। কার উপর ভরসা করবেন আপনি? ভরসার জায়গাটা কোথায়?

সিদ্ধান্ত আপনার/আমার। নিজের পরিবারের একটা দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করবেন; নাকি নিজের যা কিছু আছে তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

নষ্টদের দখলে দেশ। বাবা-মাদের বলবো সামর্থ্য থাকলে আপনার সন্তানকে বিদেশ পাঠিয়ে দিন; না থাকলে চেষ্টা করুন।

আমি বলি এই ধর্ষণ রোধে, নারীদের দাও ফাঁসি !!
তবেই মিটবে ধর্ষণ কেস, সমাজের মুখে হাসি !!

আমরা পুরুষ জাতে ধর্ষক, এভাবেই গড়া প্রাণী !!
মনে মনে কত ধর্ষণ করি, আমরাই শুধু জানি !!
-তাওসিফ খানের গান থেকে

সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে – হুমায়ুন আজাদ—সংকলিত (হুমায়ুন আজাদ)

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।

নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক

সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে

চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল

নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র

আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের

অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত

কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক

মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।

অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;

চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন

সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।

কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ

নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ

শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।

রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের

সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর

ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল

কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।

চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা;

এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা

নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে

অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।

 

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।

সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত

চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে

গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,

কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা

ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের

উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র

শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর

গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,

আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-

রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক

আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

(মাহফুজ কামাল, জাপান/ ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী

সৎ বাবা মাঝেমধ্যেই কুপ্রস্তাব দিত ছোট্ট মেয়েটিকে (১৩)। বিষয়টি তিনদিন সে তার মাকে জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সৎ বাবার বিরুদ্ধে মেয়ের মা বাদি হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নে। অভিযুক্তের নাম হবিবুর রহমান (৫৫)। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। মাঝে মাঝেই তার সৎ বাবা তাকে কুপ্রস্তাব দিত। ওই প্রস্তাবের বিষয়ে মাকে জানালে বিষয়টি দেখবে বলে জানায়। কিন্তু মা হয়ে তিনি মেয়ের ইজ্জত রক্ষা করতে পারেননি।

কিশোরীর মা বলেন, মেয়ের বিষয়টি নিয়ে যখনই স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করেছি, তখনই আমার ওপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাই। ওই লোকটা কোনো টাকা পয়সাও দেয় না।

কিশোরীর প্রতিবেশী এক নারী বলেন, ছোট বাচ্চারাও এখন ওই লোকটার কথা শুনে ভয় পাচ্ছে। এমন জঘন্য কাজের জন্য তার ফাঁসি হওয়া দরকার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.শফিকুল ইসলাম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। পরে ওইদিন রাতেই আমি ৯৯৯ নম্বরে কল দেই এবং বিষয়টি নিয়ে ওখান থেকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে। রাতেই ওর মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাই এবং মামলার কাজে সাহায্য করি।

ঘাটাইল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. ছাইফুল ইসলাম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে ভাষা সৈনিক ডা. হযরত আলী আর নেই

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া বায়ান্নর ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব ডাক্তার হযরত আলী আর নেই। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকাল পাঁচটার সময় নিজ বাড়ীতে তিনি ইন্তেকাল করেন( ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)।

মরহুমের জানাজা নামাজ আগামীকাল শনিবার সকাল নয়টায় উপজেলার নবগ্রাম দাখিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, যাঁরা মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে বিন্দু মাত্র কার্পণ্য করেননি। বুকের তাঁজা রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে আমাদের জন্য বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তাঁদের একজন ছিলেন গোপালপুর উপজেলার নবগ্রামের মৃত রোস্তম আলীর ছেলে এই ভাষা সৈনিক।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা খালি পায়ে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দায়িত্ব শেষ করি। অথচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হযরত আলীদের মতো ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় স্মরণিকায় নাম না থাকায় তাঁরা এ প্রজন্মে অপরিচিত।

জীবদ্দশায় ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব হযরত আলী জানান, ভাষা আন্দোলনের ঢেউ ঢাকা ছাড়িয়ে যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সারা দেশের ন্যায় গোপালপুর উপজেলায় মিটিং করে গান গেয়ে ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করা হয়।

সে সময় হযরত আলী স্থানীয় সূতী ভি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ও ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলেন।

যেদিন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, সেদিন একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে মিছিল করতে গিয়ে তিনিসহ গ্রেফতার হন আব্দুর রহিম ও সহপাঠি মহেন্দ্র দেবনাথ। তাদের পাঠানো হয় ময়মনসিংহ কারাগারে। সেখানে ২৫ দিন কারাভোগের পর প্রেরণ করা হয় টাঙ্গাইল কারাগারে। সেখানে ৪ দিন কারা ভোগের পর জামিনে মুক্তি পান এ সাহসী ভাষা সৈনিক।

১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর তিনি ভর্তি হন রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রবস্থায় ১৯৫৮ সালে প্রয়োজনের তাগিদে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সৈয়দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু দিন শিক্ষকতা করে বদলী হয়ে আসেন হাদিরা বাঘেরঘাট স্কুলে। ১৯৬২সালে শিক্ষকতা ছেড়ে চাকুরী নেন স্বাস্থ্য বিভাগে। দীর্ঘ দিন চাকুরী করার পর ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং পবিত্র হজব্রত পালন করেন।

ব্যক্তি জীবনে হযরত আলীর কোন ভাই-বোন ছিলোনা। তাঁর এক ছেলে আশরাফুল আলম একজন কলেজ শিক্ষক। চার মেয়ে মেহেরুন্নেছা, সেলিনা, নাজমা ও লাকি আক্তার বিবাহীতা।

প্রায় ৬৭ বছর আত্ম অভিমানে লুকিয়ে থাকা এ ভাষা সৈনিক আক্ষেপ করে সেদিন বলেছিলেন, আমি যখন মাতৃগর্ভে ছিলাম তখন আমার বাবা মারা যান। তাই মায়ের প্রতি, দেশের প্রতি আমার ভালোবাসাটা অনেক বেশি। যেহেতু মা আজ নেই তাই মাটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। যতদিন বাঁচবো মানুষের সেবা করে যাব। ভাষা আন্দোলনের বিষয়টি আমার স্ত্রী সন্তানসহ শুভাকাঙ্খিরা জানতো। ভাষা সৈনিকদের কোন মূল্যায়ন না থাকায় তারা সে সময়কার ঘটনা গুলো স্মৃতিচারণ করতে দিতো না।

কিন্তু গত ২০১০ সালে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ক্রেষ্ট’ প্রদান করা হয়। ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখায় যা আমার জীবনের প্রথম কোন সম্মাননা।

(সেলিম হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে নদীতে গলায় পাথরের বস্তা বাঁধা নারীর মরদেহ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে গলায় পাথরের বস্তা বাধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ধলেশ্বরী নদীর নাগরপুর অংশের সহবেতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাহারুল খান বাহার বলেন, বিকালে দিকে ধলেশ্বরী নদীতে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় তার গলায় রশি দিয়ে পাথর ভর্তি বস্তা বাধা ছিলো। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মরদেহ গুম করতেই গলায় পাথর ভর্তি বস্তা বাধা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়না তদেন্তর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে নাম পরিচয় জানা না গেলেও সনাতন ধর্মে বলে ধারণা হচ্ছে ।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষন ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে উদীচী শিল্পি গোষ্ঠী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা শাখা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর ঘাটাইল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উদীচী ঘাটাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসেন শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা। প্রতিবাদী সভায় বক্তব্য রাখেন উদীচী টাংগাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, উদীচী ঘাটাইল শাখার সহ- সভাপতি নাজমুল হুদা, কোষাধ্যক্ষ খঃ মনিরুজ্জামান, শিক্ষক খালিদ হাসান খোকন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে নির্যাতন কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। সেই সাথে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার আহবান জানান বক্তারা।

সমাবেশে ধর্ষণ বিরোধী সংগীত পরিবেশন করেন নাহিদা আক্তার ও মোশতাক আহমেদ। সাংস্কৃতিক সমাবেশে একাত্বতা প্রকাশ করেন ঘাটাইলের কথা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, ঘাটাইল সমাজ কল্যান সংস্থা সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন।সমাবেশে ঘাটাইলের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে সাপ্তাহিক যুগধারা পত্রিকার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন

এইচ.এম হাবিবুর রহমান সরকার সম্পাদিত টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক যুগধারা পত্রিকার নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে।

৯ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে টাঙ্গাইল জেলা সদর রোডে যুগধারা পত্রিকার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের)।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, যুগধারা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এইচ.এম হাবিবুর রহমান সরকার, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান, টাঙ্গাইল এ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মহসিন শিকদার, টাঙ্গাইল বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শ্রী আনন্দ মোহন দে, দৈনিক নেক্সটনিউজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন তুহিন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিয়াচাঁন, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রশিদ আব্বাসী, দৈনিক কালবেলা জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান চৌধুরী, দৈনিক আমার বার্তা জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সহ যুগধারা পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীগণ।

টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র বটতলাস্থ বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন যুগধারা’র নতুন কার্যালয়টি নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়। সকালে অতিথিবৃন্দ যুগধারাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য উপস্থিত হয়। অতিথিগণ যুগধারা পত্রিকা’র উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

(জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধনবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের বিস্তর অভিযোগ

ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ছাত্রীর মাকে বিয়ে করা, সহকারি শিক্ষিকার সাথে অবৈধ সম্পর্ক, ভূয়া সনদ তৈরি, উপবৃত্তির টাকা তছরূপ করাসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান ওরফে মান্নানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত দিয়েছে। অভিযোগের সাথে অভিযোগকারীগণ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও জমা দিয়েছেন।

গত ৬ অক্টোবর দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে একই উপজেলার কদমতলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময় ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করাসহ নানা অপকর্মের দায়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

এসব গোপন করে আসাদুজ্জামান মান্নান কৌশলে গোপালপুরের নলীন- নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিরাট উৎকোচে প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেন। চোরায় না শোনে ধর্মের বাণী। সেখানেও আরেক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে তার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। পরিচালনা কমিটি তাকে বহিষ্কার করে।

অভিযোগ করেন, সেখানেও টিকতে না পেরে সুযোগ বুঝে শিক্ষা জীবনের সহপাঠী পাইস্কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বন্ধু আরিফ বজলুর হাত ধরে ধনবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে পদায়িত হয়ে মান্নান এলাকায় ফিরে আসেন। যোগদানের পর থেকেই মান্নান সমহিমায় ফিরে আসেন। ভুয়া নিবন্ধন সনদে নিযোগ, অর্থনৈতিক তছরূপসহ নারী ঘটিত ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েন।

২০১৭ সালে এক শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক হাতেনাতে ধরা খেয়ে মান্নান তাকে চাপে পড়ে বিয়ে করেছেন।

গত বছর ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তছরূপসহ নানা অভিযোগ উঠে প্রধান শিক্ষক মান্নানের বিরুদ্ধে। জুলাই মাসের প্রথম দিকে স্থানীয়রা গণস্বাক্ষর দিয়ে তার বিরুদ্ধে ইউএনও, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দেয়।

নারী কেলেংকারিতে আবারও মান্নান আলোচিত। ভুয়া নিবন্ধন সনদে সহকারি শিক্ষিকার পদে নিযোগ দিয়ে সেই শিক্ষিকার সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন এবার। তাদের দুজনের আপত্তিকর ২০ মিনিটের ফোনালাপ এলাকায় ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষককে মোবাইল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এসব নিয়ে এলাকায় তোলপাড়। অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিব্রত। লিখিত অভিযোগ দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে বিদ্যালয়কে রক্ষার দাবি করেছেন তারা। মিটিং করে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করা হয়েছে জানিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা উপ্যাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বেলাল জানান, আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বুধবার বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশী বাধা ও স্থানীয় নেতাদের কারণে মানববন্ধন করতে না পেরে আরও ক্ষুব্দ হয়েছেন স্থানীয়রা।

সাবেক সরকারি চাকরিজীবী ফজলুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক মান্নান নারী লিপ্সু। কেলেংকারির প্রথম বিয়ের পর দ্বিতীয় বিয়েও আলোচিত। এ প্রধান শিক্ষককে নিয়ে এলাকায় আমরা সবাই বিব্রত। চলমান ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে এলাকায় সর্বত্র উম্মুখ ।

প্রত্যক্ষদর্শী মিলন নামের একজন জানান, এলাকাবাসীর শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ বজলুর (শারীরিকভাবে অসুস্থ) অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্য) লিটন মেম্বারের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মিরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করতে বাধা প্রদান করে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিদ্যালয়ের মাঠে গাড়ী রেখে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীদের একত্র হতে বাধা দিয়েছে। রাস্তার মোড়ে টহল বসিয়েছে। ধনবাড়ী থানার ওসি চানমিয়া একটি সভায় যোগ দিতে টাঙ্গাইলে ছিলেন। টাঙ্গাইল থেকেই তিনি জানান, এ নিয়ে আন্দোলন কিসের। অভিযোগ দিয়েছে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাইলেই তো চাকরিচ্যুত করা যায় না। আইন আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।

অভিযোগকারীদের অন্যতম মফিজ উদ্দিন জোয়াদ্দার জানান, এ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বার বার লিখিত দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগ করে তারা খুব চাপের মধ্যে আছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই তদন্ত করছেন। আমরা তাকে সহযোগিতা করছি।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসছি আলোচনা করতে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশের ১৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন হচ্ছে

প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এরপর শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির বিষয়ে এনসিটিবির (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) প্রস্তাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আমরা (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) সম্মত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবি কাজ করছে।’

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একটি কারিকুলামের খসড়া গত বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। কারিকুলামের কাঠামোতে আমরা বলেছি সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন থাকলে সমস্যা হবে না। নতুন এই কারিকুলাম চালু হবে ২০২২ সাল থেকে।।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটি সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও শনিবার। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুধু শুক্রবার। এই ছুটি বাড়াতে প্রস্তাব করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রস্তাবে বলা হয়, ছুটি বাড়ালেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কোনও ক্ষতি হবে না। সাপ্তাহিক এই দুইদিন ছুটির সিদ্ধান্ত ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে এনসিটিবি। তবে দুই মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনও সময় এই ছুটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

বিদ্যমান সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটি ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরে ক্লাস চলে ২১৫ দিন। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলবে ১৮৫ দিন। কারণ, অনেক শনিবারে সরকারি ছুটি থাকে প্রতিবছর।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন ছুটি থাকলেও শিক্ষার্থীদের বাসার যে কাজ দেওয়া হয়, তাতে তা লার্নিং আওয়ার কমবে না। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এই প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এবং বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল সপ্তাহে দুইদিন ছুটি চালু রেখেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ কমে যাবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-