পুলিশে চাকুরির প্রলোভনে সখীপুরে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার ওরফে লাভলু তালুকদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি পুলিশে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৭’লাখ টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগি মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশ সুপার’র নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর দূর্গাপুর গ্রামের হাবেল উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একটি ওয়ার্কসপের ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসায়িক সূত্র ধরে সখিপুর উপজেলা যুগিরগোপা গ্রামের মৃত মতি তালুকদারের ছেলে লাভলু তালুকদারের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে লাভলু তালুকদার আতিককে বলে আমার কাছে পুলিশে চাকুরি দেওয়ার সুযোগ আছে। সরল বিশ্বাসে আতিক তার ভাই শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ ও তার প্রতিবেশি সাগর’র জন্য ২ দফায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে এবং নগদে ১৭’লাখ টাকা প্রদান করে লাভলু ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে।

ওই টাকা পাওয়ার পর চাকুরি না দিতে পারায় বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা করে। চাকুরি দিতে না পারায় পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করে।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগি আতিকুর রহমান জানান, আমি সরল বিশ্বাসে ঘরবাড়ী, গরু, দোকানের অর্ধেকাংশ বিক্রি করে ও বিভিন্ন ভাবে সুদে টাকা সংগ্রহ করে প্রতারক লাভলুকে দিয়েছিলাম চাকুরির আশায়। কিন্তু প্রতারক লাভলু সে চাকুরি না দেয়ায় মানসিক ও আর্থিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

এহেন অবস্থায় আমার মৃত্যু ছাড়া কোন পথ নেই। বিষয়টির সুবিচার দাবি করে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের নিকট সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে প্রতারক লাভলু’র সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(ইমরুল হাসান বাবু, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে প্রাইভেটকার নিয়ে অটো ছিনতাই, আটক যুবক

 

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে থানা পুলিশ এক অটোরিক্সা ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থল হতে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো -গ-২১-৭৮৪৬), একটি মোবাইল সেট, দুইপাতা ঘুমের ঔষধ ও এক প্যাকেট বিস্কিটসহ গাড়ীর চালক মোঃ শহীদুল ইসলাম (৩৩) কে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে একটি প্রাইভেট কার কাঠুরী গ্রামে উপেন্দ্র সরোবরের কাছে এসে থামে ও গাড়ী থেকে একটি ছেলেকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার ধারে ফেলে দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করি এবং ছেলেটিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাই। পরে তাকে বহন করা গাড়ীটি উপজেলার ভাদ্রাবাজরে ফোন দিয়ে চালকসহ আটক করা হয়

এসময় গাড়ী হতে একজন নেমে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে গাড়ীর চালক সহ থানায় নিয়ে আসে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ধৃত আসামী মোঃ শহিদুল ইসলাম অটোরিক্সা চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। তার বাড়ী ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানায়। তার অপর দু সহযোগী শহীদুজ্জামান বিপুল ও আজিম জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন জেলায় অটোরিক্সা চুরি করে আসতেছে।

এ ব্যাপারে অটোচালক দিপুর (১৮) বাবা দেলদুয়ার থানার নলশোধা গ্রামের মোঃ মামুদ আলী (৫৫) নাগরপুর থানায় উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয় নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলম চাঁদ জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার চালকসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃতকে আজ বুধবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(সিরাজ আল মাসুদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে কাঁচা মরিচের রেকর্ড দাম

টাঙ্গাইল শহরে এবার রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিভিন্ন বাজারে এবার ২৬০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ দাম।

গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এই পণ্যটি। দাম কমাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করে বাজার সামাল দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণে দাম কমছে না।

স্বাদে না হলেও কাঁচা মরিচের দামের ঝালে সাধারণ ভোক্তার চোখে পানি ঝরছে। কেউ কেউ নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে কৌতুকের সুরে ব্যঙ্গ করে বলছেন, কাঁচা মরিচে ‘রেড এলার্ট’। হাত না দেয়াই ভাল।

এদিকে, মরিচের পাশাপাশি আরেক পণ্য পেঁয়াজের দাম কমছে না। হঠাৎ করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। প্রতিকেজি বড় আকৃতির আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। অন্যদিকে দেশী পেঁয়াজ জাত ও মানভেদে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। তবে পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ মুহূর্তে সবজি জাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁচা মরিচের। এছাড়া অন্যান্য শাক-সবজির দামও চড়া। একমাত্র গোলআলু ছাড়া কোন সবজি ৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া সিম, টমেটো, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি রয়েছে যা ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে গত প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস যাবত সবজির বাজার অস্থির। করোনার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর পেশার মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। এ অবস্থায় সবজিসহ কাঁচা মরিচের দাম বাড়ায় তাদের কষ্ট বেড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে না আসলে সহসাই জিনিসপত্রের দাম কমবে না।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল শহরের পার্কবাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আব্বাস সরকার বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। আর এ কারণে কমছে উৎপাদন। ফলে বাজারে সবজির দাম বাড়তি।

তিনি বলেন, শীতের সবজি আসা শুরু হয়েছে। পুরোদমে আসলে দাম কমে আসবে। এজন্য ভোক্তাদের আরও একমাস অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দুদিন ধরে দাম আরও বেড়েছে। এখন ২৬০-৩০০ টাকায় ভোক্তাদের মরিচ কিনতে হচ্ছে। বেশি পরিমাণে প্রয়োজন না হলে ভোক্তারা ১০০ থেকে আড়াই শ’ গ্রাম মরিচ কিনে বাসায় ফিরছেন। কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি বিরক্ত।

ছয়আনী বাজার থেকে কাঁচা মরিচ কিনছিলেন বেসরকারি চাকুরীজীবী মাহিদুল রহমান। তিনি বলেন, গত গত কয়েক মাস ধরে সবজি ও মরিচের দাম চড়া। এখন আবার সর্বোচ্চ রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে মরিচ।

অপর একজন চাকুরিজীবী জিন্নত আলী বলেন, বেশি দাম হওয়ায় আড়াইশ’ গ্রাম মরিচ কিনেছি ৭০ টাকা দিয়ে। বাজারে এসে জানলাম দাম আরও বাড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

(জাহিদ হাসান, ঘাটাইল ডট কম)/-

পৌর নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম কালিহাতী

টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছে সম্ভাব্য ৮ প্রার্থী। ভোটের মাঠে শক্তি প্রদর্শন করতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিরা প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে মিটিং-মিছিল ও মোটারসাইকেল শোডাউন করছেন।

বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার বিএনপির একক প্রার্থী থাকায় তিনি এখনও প্রচারণায় নামেননি।

কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হচ্ছেন, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ আহামেদ রাজু, উপজেলা আ’লীগের সদস্য মো. আসলাম সিদ্দিকী(ভুট্টু), পৌর আ’লীগের সভাপতি আ. মালেক তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মো. হুমায়ুন খালিদ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুন্নবী সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা সৈনিক লীগের আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা মো. মিন্টু সরকার এবং পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য মানিক দেবনাথ।

সরেজমিনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করে জানান, দল যাকে মনোনীত করবে তার হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশিরা সবাই ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বার বার কারাবরণকারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহামেদ রাজু জানান, তিনি ১৯৯৫ সালে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। দলের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তিনি স্প্রিণ্টারে আহত হন। করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌরসভার সাড়ে ৭শ’ পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারির ঘণিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আ’লীগ নেতা মো. আসলাম সিদ্দিকী (ভুট্টু) জানান, ১/১১-এর সময় নেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক ও বাল্য বিয়েমুক্ত সকলের বাসযোগ্য পৌরসভা বিনির্মাণ করবেন।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আ. মালেক তালুকদার একটি আধুনিক পৌরসভা বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করে জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত কালিহাতী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেছেন। পৌরসভার সকল মানুষের সাথে তার অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক রয়েছে। দল তাকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করলে তিনি বিজয়ী হয়ে পৌরসভার রাস্তাঘাট সহ সার্বিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন।

একাত্তুরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপজেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন খালিদ জানান, তিনি সব সময় সততার সাথে রাজনীতি করেন। ইতিপূর্বেও তিনি পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নিজ গুনেই তিনি পৌরবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন। উপজেলায় দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশ নিয়ে তিনি জমি বিক্রি অর্থ ব্যয় করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন বলে জানান।

কালিহাতীতে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে উচ্চ কণ্ঠ মোহাম্মদ নুরুন্নবী সরকার জানান, আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি দলীয় সকল কর্মসূচিতে অংশ নেন। পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি গত দুই বছর ধরে পৌরসভার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

দল তাকে মনোনয়ন দিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকাকে অবশ্যই বিজয়ী করে ডিজিটাল পৌরসভা গঠন করবেন।

বার বার পুলিশি নির্যাতনের শিকার কারাবরণকারী তরুণ ছাত্রনেতা মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। ২০০২ সালে কালিহাতী আরএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তৎকালীন বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের বিরাগভাজন হওয়ায় তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারেননি।

তিনি সব সময় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি জানান, ভোটের মাঠে তার জনপ্রিয়তায় তিনি আপ্লুত। দলীয় মনোনয়ন পেলে পৌরবাসী তাকে অবশ্যই বিজয়ী করবে।

পৌরবাসীর আশা-আকাঙ্খা পুরণের অঙ্গিকার করে শ্রমিক নেতা মিন্টু সরকার জানান, তিনি বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শুনতে শুনতে বেড়ে ওঠেছেন। এক পর্যায়ে ইতালিতে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। ইতালিতেও তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। দেশে ফিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌরসভার পাঁচ হাজার পরিবারের মাঝে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারির মাধ্যমে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগার মানিক দেবনাথ জানান, পৌরসভার ২৫ হাজার ভোটারের মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার সংখ্যালঘু। সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হন।

করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনি খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা করেছেন। এছাড়াও তিনি দুস্থ ও হতদরিদ্রদের পাশে সব সময় থাকেন। সংখ্যালঘু ভোটাররা তাকে একযোগে সমর্থন দিয়েছে। তিনি সংখ্যালঘু ভোটারের পাশাপাশি দলীয় ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে, কালিহাতী পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলী আকবর জব্বার বিএনপির একক প্রার্থী। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক।

আলী আবকর জব্বার জানান, তিনি কালিহাতী সদর ইউনিয়নে একবার চেয়ারম্যান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠাকালীন প্রশাসক, দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি এখনও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন নি। তবে তফসিল ঘোষণার পর তিনি প্রচার-প্রচারণায় নামবেন।

প্রকাশ, কালিহাতী ইউনিয়নকে ১৯৯৮ সালে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। ১৫ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভার বর্তমান ভোটার ২৮ হাজার ৫৫২জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৭৬৯জন এবং মহিলা ১৪ হাজার ৫৮৩জন। আগামি ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ পৌরসভার নির্বাচনের মেয়াদ পূর্ণ হবে। সে কারণে আগামি ডিসেম্বরে এ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

৩ বাংলাদেশীকে ভারতের হত্যা, লাশ ভাসছে মহানন্দায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে মহানন্দা নদীতে ভাসছে বিএসএফের গুলিতে নিহত তিন বাংলাদেশির মৃতদেহ। গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে বিএসএফের গুলিতে ওই তিন বাংলাদেশি নিহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।

এরপর থেকে ভোলাহাটের বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তের মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৭-৮ জনের একটি চোরাকারবারি দল ভোলাহাটের বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের সূখনগর সীমান্তে গরু আনতে যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূখনগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

সে সময় কয়েকজন নদী সাঁতরে পালিয়ে এলেও গুলিবিদ্ধ হন ৩-৪ জন। এরপর থেকে ওই এলাকার জেলেদের নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

রোববার বিকালে জেলেদের বিছানো জাল তুলে আনার জন্য ১ ঘণ্টার সময় দেয় বিজিবি। জাল তুলতে গিয়ে মহানন্দা নদীর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের (৪১ ও ৪২) কাছে দুটি স্থানে পানির মধ্যে দুটি লাশ একসঙ্গে বাঁধা এবং অপর লাশটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান জেলেরা। এ সময় আতঙ্কিত জেলেরা দ্রুত ফেরত আসেন।

স্থানীয় জেলে সানাউল হক, আমিন আলী, মোহন আলী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দুটি গুলির শব্দ আমরা শুনেছি। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় জেকে পোলাডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা আমাদের নদীতে মাছ ধরতে দেয়নি। গত রোববার এক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের জালগুলো তুলে আনার অনুমতি দেয়।

জেলে আবদুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, জাল তুলে আনতে গিয়ে নদীর শেষ সীমানায় একটি লাশ ভাসতে দেখেছি।

জেলে সাদিকুল ইসলাম বলেন, নদীর শেষ সীমানায় বেগুনের ক্ষেতের পাশে দুটি লাশ একত্রে বাঁধা অবস্থায় দেখেছি। এরপরই ভয়ে দ্রুত ওই এলাকা থেকে চলে আসি।

এদিকে ভোলাহাটের কয়েকজন চোরাকারবারি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে চোরাকারবারি দলের হোতা নামোপাঁচটিকরী গ্রামের সাজেদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান ইঞ্জিল (৩৫) ও একই এলাকার দুরুল হোদার ছেলে নুরু মোহাম্মদ ওরফে নুরুদ্দীন (২৮) নিখোঁজ রয়েছেন। মিজানুর রহমান ইঞ্জিল ও তার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে। আর নুরুদ্দীনের পরিবারের দাবি কাউকে কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয় নুরুদ্দীন।

নিখোঁজ নুরু মোহাম্মদ ওরফে নুরুদ্দীনের পিতা দুরুল হোদা এবং ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় চৌকিদারের মাধ্যমে জানতে পারি বিএসএফের গুলিতে নুরুদ্দীনের মারা গেছে। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পায়নি। এখন যে যাওয়ার সে তো চলে গেছে, যদি লাশটা ফেরত পেতাম তাহলে কাফন-দাফন দিতে পারলে শান্তি পেতাম। তবে কী কারণে তারা ভারতের সীমান্তে গিয়েছিল সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেনি তারা।

ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা শোনার পর নিখোঁজ নুরুদ্দীনের পিতার সঙ্গে আমি বিজিবি ক্যাম্পে যাই। সেখানে নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করলে বিজিবি বিষয়টি অনুসন্ধানের আশ্বাস দেয়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকে মহানন্দা নদীতে লাশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা জানা নেই বলে জানিয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তে মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশুর মাথার চুল কেটে বিকৃতর অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গত রোববার উপজেলার বেতুয়া পশ্চিমপাড়া বিশ্বনবী (সা.) হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মো. তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (বড় হুজুর)। তাঁর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী অভিভাবক জানান, তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে প্রায় দুই বছর ধরে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। গত রোববার তাঁর ছেলে মাদ্রাসায় গেলে মাথা ন্যাড়া না করার অপরাধে ওই মাদ্রাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে ছেলের মাথার চুল বিকৃত করে দেন। একই সময় আরেক শিশুর (ছেলের বন্ধু) মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করেন। চুল কেটে দেওয়ার পর ওই হুজুর দুই শিশুকে শারীরিক নির্যাতন করেন।

ওই অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের মাথার এ অবস্থা দেখে সহপাঠীরা হাসাহাসি শুরু করে। ছেলে বিকেলে বাড়িতে ফিরে লজ্জায় কান্নাকাটি করে আর জীবনেও মাদ্রাসায় পড়বে না বলে জানায়।’

ভুক্তভোগী এক শিশু বলে, ‘মাথার চুল ছোট করে কাটলেও বড় হুজুর ন্যাড়া না করার অপরাধে একটি ব্লেড হাতে নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে একপর্যায়ে ঘাড়ের ওপর “কারাতে স্টাইলে” আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে পেটান না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে “কারাতে স্টাইলে” মারধর করেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি মো. তৈয়ব আলী আকন্দ বলেন, ‘প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওই দিন দুজনের ন্যাড়া করার মাঝপথে নামাজের সময় হওয়ায় আমি মসজিদে চলে যাই। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু দুষ্ট শ্রেণির লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করে। গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলার চেষ্টাও করে। আমাকে না পেয়ে দ্বিতীয় হুজুর আরিফুল ইসলামকে মারধর করেছেন তাঁরা।’

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম লুৎফুল কবির বলেন, এক শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক (দ্বিতীয় হুজুর) আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা বলেন, ‘এক অভিভাবক তাঁর শিশুকে নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। শিশুদের বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিক্ষোভ

‘ধর্ষকের ঠাই বাংলার মাটিতে নাই’ শ্লোগানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষনের ঘটনার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলা চত্বরের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। পরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী এক বিক্ষোভ মিছিল ঘাটাইল পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতন, নোয়াখালী বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, সিলেটের এমএমসি কলেজ গৃহবধুকে ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের শাস্তি এবং ধর্ষণ সহিংসতা প্রতিরোধের দাবীতে নানা শ্লোগানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকার, জিবিজি সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি আবু সাইদ রুবেল সহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানে স্বামীর আত্মহত্যা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামী রুমেজ তালুকদার (৪০) ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার গজারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুমেজ তালুকদার ওই গ্রামের মৃত আবু সাঈদ তালুকদারের ছেলে।

জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান স্বামী রুমেজ তালুকদার। এর এক ঘন্টাপর বাড়ির পাশে সামাজিক বনায়নে আকাশমনি গাছের ডালে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

পরে সখীপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠায়।

সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

এইচএসসি পরীক্ষা হবে না

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে না। এবারের পরীক্ষার্থীরা তাদের জেএসসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় যে ফল পেয়েছিল তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা হবে। ডিসেম্বর মাসে এ ফল প্রকাশ করা হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য একটি পরামর্শক কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, সদস্য আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। কমিটির সদস্য-সচিব থাকবেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পরামর্শক কমিটির সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে পারবো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফল রয়েছে। এর ভিত্তিতেই করতে হবে মূল্যায়ন। অন্যকিছুতে যাওয়া যাবে না। কেউ হয়তো বলেতে পারেন টেস্ট পরীক্ষা হয়েছে, এবং সেই ফলগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে। সেখানেও তো নানা ধরণের সমস্যা থাকতে পারে।

গত বছর যারা উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় এক বা এক বিষয়ে ফেল করেছে তাদের মূল্যায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদেরও বিগত জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। তারাও তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন।

এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের ফল তৈরিতে জেএসসি ও এসএসসির ফলের কত শতাংশ হিসেব করা হবে,  দৈনিক শিক্ষার রিপোর্টার রুম্মান তুর্য প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টি পরামর্শক কমিটির মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের হাতে সময় আছে।’

যারা এসএসসির পর উচচ মাধ্যমিকে এসে বিভাগ পরিবর্তন করেছেন তাদের মূল্যায়নের বিষয়েও পরামর্শক কমিটি সুপারিশ করবে।

এবারে ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে  এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ভারতে এইচএসসির তিনটি পরীক্ষা নেয়ার পর বন্ধ রয়েছে। হংকংয়ে ও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আন্তর্জাতিক বেস্ট প্রাকটিস দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হয় তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

আবরারের স্মরণে ঢাকায় আগ্রাসন বিরোধী স্মৃতিস্তম্ভ

বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ স্মরণে ঢাকার পলাশীর মোড়ে স্তম্ভ তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা। আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে এটি করা হলেও উপস্থিত কেউ বুয়েটের ছাত্র ছিল না। এ কাজে নেতৃত্বে দেখা গেছে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের নির্মমতার শিকার হয়ে আবরার ফাহাদকে প্রাণ দিতে হয়। আর যেনো কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র নির্যাতন-নিপীড়ন না হয় এজন্যই এই স্তম্ভ।

তারা আবরারকে ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং ভারত বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে ।

পলাশীর মোড়ের ছোটো দেয়ালের উপর আটটি পিলার ও একটি ফলক দিয়ে নির্মিত হয়েছে এটি। সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গনপ্রতিরক্ষা, সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাসহ মোট আটটি শব্দমালা নিয়ে তৈরি হয়েছে আটটি পিলার।

স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে লেখা হয়েছে ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে’। আবরার ফাহাদ তার ফেইসবুক প্রোফাইলেও ওই উক্তি ব্যবহার করেছিলেন।

আখতার বলছেন, “আপনারা জানেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার আজ থেকে এক বছর আগে ঠিক এই রাতেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তাই আমরা এই স্থাপনাটির নাম দিয়েছি আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ। আমরা মনে করছি, আটটি স্তম্ভ আটটি বিষয়কে নির্দেশ করবে। এই আটটি বিষয় যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা একটি আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব।”

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-