বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা ও শাস্তি

বাংলাদেশে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। একজন নারী বা শিশু ধর্ষিতা হবার পর আদালতে বিচার প্রার্থনা করলে বহুলাংশে নাজেহাল হয়ে থাকে। ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ সহজে ঘটানো যায় কিন্তু এটা প্রমাণ করা খুবই কঠিন বিষয়। বিচারকালে ধর্ষিতা তার যৌন সম্পর্কের অতীত ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে সংকোচবোধ করে। কিন্তু জেরা তাকে নিস্তার দেয়না।

সংবিধানের যে ধারায় ধর্ষণ নিয়ে বলা হয়েছে

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদির সাজা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অত্র ধারায় একজন অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানে ধর্ষণের সংজ্ঞা

যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারা মতে সাজাসমুহঃ

৯(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তা হলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

(ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন;

(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তা হলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পৃথিবীর অন্য কয়েকটি দেশে এই অপরাধের সাজা কী তা জেনে নেওয়া যাক।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

যদি কারো বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে দেশটিতে সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

চীন

চীনে ধর্ষকের জন্য বরাদ্দ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। তবে এই শাস্তি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। কারণ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর অভিযুক্ত নির্দোষ ছিল এমনও দেখা গেছে। আরেকটি শাস্তি রয়েছে পুরুষাঙ্গচ্ছেদ।

ফ্রান্স

ধর্ষণের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে ঘটনায় ক্ষতি ও নৃশংসতার বিচারে তা ৩০ বছর পর্যন্ত বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

সৌদি আরব

ধর্ষণে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে শাস্তি প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ। তবে তার আগে দোষীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

উত্তর কোরিয়া

ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে গুলি করে অপরাধীর বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়।

আফগানিস্তান

আদালত রায় দেওয়ার চারদিনের মধ্যে অভিযুক্তকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় কিংবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মিসর

দেশটিতে এখনও অনেক অপরাধে মধ্যযুগীয় শাস্তির প্রথা থাকলেও ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি।

ইরান

ইরানেও ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ফাঁসি অথবা প্রকাশ্যে পাথর মেরে তা কার্যকর করা হয়।

ইসরায়েল

দোষ প্রমাণ হলে ১৬ বছরের কারাদণ্ড। সে দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা কিছুটা বর্ধিত। অন‌্য যৌন নির্যাতনও এর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র

স্টেট ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার ভিন্ন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী দোষীর সাজা কয়েক বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবনও হতে পারে।

রাশিয়া

ধর্ষকের তিন থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে রাশিয়ায়। তবে পরিস্থিতির বিচারে তা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। যদি ধর্ষকের আচরণ অত‌্যন্ত নৃশংস হয়ে থাকে, তবে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

নরওয়ে

সম্মতি ছাড়া যে কোনো যৌনতা ধর্ষণের মধ্যে পড়ে। নৃশংসতা অনুযায়ী দোষীর তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।

মঙ্গোলিয়া

ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় দেশটিতে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নাগরপুরে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এক স্কুলছাত্রীর ঘাড়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে মতিউর রহমান নামের এক মাদরাসা ছাত্র।

এ ঘটনা ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলায় নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা। তাই বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার তিনি মেয়েকে নিয়ে টাঙ্গাইল আদালতে এসেছেন মামলা দায়ের করতে।

তিনি জানান, তার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আসার সময় পাশের বাড়ির আব্দুস সালামের ছেলে মতিউর রহমান তাকে উত্ত্যক্ত করতো। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মতিউর তার মেয়ের ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দেয় ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে মতিউর তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মেয়ের ঘাড়ে আঘাত করে। এ সময় মেয়ের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে গেলে মতিউর পালিয়ে যায়।

পরে মেয়েকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে তিন দিন ভর্তি রেখে মেয়েটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নেয়ার পর তার আঘাতের স্থানে ২৫টি সেলাই করা হয়েছে। তিনি নিজে বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন নাগরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের কাগজটি রেখে দিলেও পুলিশ আজ পর্যন্তও মামলা রেকর্ড করেনি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে এসেছেন মামলা করতে। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মেয়েটির বাবা জানান, তার মেয়েকে মতিউর উত্ত্যক্ত করতো। এ কথা মতিউরের বাবাকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি মতিউরকে শাসন করেননি। উল্টো মতিউরের সঙ্গে তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম চাঁদ জানান, তার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। আসলে মামলা রেকর্ড করতেন।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলেে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের দূর্নীতির অনুসন্ধানে দূদক

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি এডভোকেট খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অনুসন্ধানে নেমেছে টাঙ্গাইল জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ সহকারী পরিচালক রাজু মো. সারওয়ার হোসেন।

এডভোকেট খোরশেদ আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা এলাকার মৃত ইব্রাহিম তালুকদারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৯ ও দূর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ২০ মতে দূর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা কার্যালয় স্মারক নং ০০.০১.৯৩০০.৬১৫.২৬.০০৩.১৮- ১০২৬৬, তারিখঃ ১৮/০৩/২০১৯ ও দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলা সমন্বিত কার্যালয় স্মারক নং ০০.০১.৯৩০০.৬১৫.০১.০৫.১৯./৪২৪ তারিখঃ ০৭/০৪/২০১৯ এবং টাঙ্গাইল জেলা সমন্বিত কার্য্যালয় ই/আর নং ০৫/২০১৯, তারিখঃ ০৪/০৪/২০১৯ইং অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দূদক।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট খোরশেদ আলম টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের ৫ কোটি টাকা প্রদান না করে তা আত্মসাৎ করে পৌরসভার বেড়াডোমা (পুরাতন পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন) এলাকায় ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ইমারত নির্মান করেন।

অথচ খোরশেদ আলম উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিগত ৫ বছরে মাসিক সম্মানি, বাড়ী ভাড়া ও ভ্রমন ভাতা সহ মোট ২৭ লাখ ১৪ হাজার ৬’শ ৪০ টাকা পান। প্রশ্ন ওঠেছে বিগত ৫ বৎসরে তার আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদের ৫ তলা বিলাস বহুল ভবন তৈরীর কোন মিল না থাকায় দূদক এ অনুসন্ধানে মাঠে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা দূদক সমন্বিত কার্য্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা রাজু মো. সারওয়ার হোসেন গত সেপ্টেম্বরে ৬ তারিখে স্বাক্ষরিত স্মারক নং ০০.০১.৯৩০০.৬১৫.০১.০৫.১৯/৯১১ এ বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের বিগত ৫ বছরের যাবতীয় ভাতার টাকার হিসাব চেয়ে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য চেয়ে একটি চিঠি প্রেরন করলে উপজেলা পরিষদ যাবতীয় তথ্য তাদের নিকট প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

(ইমরুল হাসান বাবু, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে এসিল্যান্ড ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে এলাহী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এসিল্যান্ড সোমবার (৫ অক্টোবর) বাসাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন।

জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে এলাহীকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে সর্বহারা পার্টির প্রধান মহিউদ্দিনের পরিচয় দিয়ে ০১৮২৬৭৫০৮৬৬ মোবাইল নং থেকে ফোন করা হয়। বলা হয়- ‘আমি জনযুদ্ধ এম- এর প্রধান সিকদার মহিউদ্দিন বলছি। আমি এতদিন বাংলাদেশের বাইরে ছিলাম। চাঞ্চল্যকর পুলিশ মার্ডার মামলার মুখ্য আসামি আমি। বেশ কিছুদিন থেকে বাংলাদেশে এসেছি। দলের হেড কমান্ডের নির্দেশে দেশে ফেরার পথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সঙ্গেও গুলাগুলি হয়। সে সময় আমাদের কয়েকজন কর্মী নিহত এবং কিছু আহত হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য আমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে হবে।

এসিল্যান্ড মো. ফজলে এলাহী টাকা দিতে অসম্মতি জানালে মহিউদ্দিন বলেন- ‘এই এসিল্যান্ড, আপনি পুলিশকে জানান, ওরা যদি পারে আপনাকে সেভ করবে, তাহলে করুক। আর আমার নেতাকর্মীরা যদি পারে তোকে চ্যালেঞ্জ করে টাকা ওঠাবে। এই টাকার জন্য তুই তোর পরিবারকে হারাবি, আমি সেটা চাই না। আমি বলছি টাকা তোকে দিতেই হবে। টাকা না দিলে আমার পোলাপান তোর পরিবারকে নির্বংশ করতে বাধ্য হবে।

এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে এলাহী বলেন, ‘সর্বহারা পার্টির প্রধান সিকদার মহিউদ্দিন আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে কল করে অনির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অসম্মতি জানালে তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমি এখন আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এই ঘটনায় সাধারণ ডাইরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত পূর্বক এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধর্ষণের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল শহিদ মিনারে বিথীর প্রতিবাদ

সিলেট ও নোয়াখালীসহ দেশজুড়ে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে বিভিন্ন ধরনের লেখা সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা রহমান বিথী।

সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।

এদিকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বুয়েটে ফাহাদ হত্যার এক বছর

ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের নির্মম প্রহারে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট তৈরি করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার আসামিরাও সবাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।

আজ (মঙ্গলবার) আবরার হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার রায়ের কাজ। দ্রুত সময়ে সব আসামিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি পরিবারের।

১৩ ই মে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবরার ফাহাদ। আবরার প্রথমে কুষ্টিয়া মিশন স্কুল ও জেলা স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে ২০১৮ সালে ৩১ মার্চ তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন।

তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের লেখাপড়াকালীন ২০১৯ সালে ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ প্রথমে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তবে তদন্তের পরে আসামির সংখ্যা ২৫ জন করা হয়। তার বিচারকার্য শেষ হয়নি এখনো।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন জানান, এই হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত বিচার কাজ শেষ হয়নি। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর ভোররাতে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে। দেশের অন্যতম এই বিদ্যাপিঠে একজন শির্ক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি ব্যপকভাবে সমালোচিত হয়। এরপর এই ঘটনার সাথে যুক্ত অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মাঠে নামে সারা দেশের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।

ফেসবুক সম্পৃক্ততা

আবরারের সহপাঠীরা বলেছিলেন যে তিনি সম্ভবত ফেসবুকে লেখার জন্যই মারা গিয়েছিলেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে, নিহত আবরার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের সরকারি সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের সমালোচনা করেছিলেন।

তার ফেসবুক পোস্টে ভারতকে মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করার বিষয়গুলি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছিলেন।

স্ট্যাটাসটি হচ্ছে:

মামলার আসামিরা

এ মামলায় আসামিরা হলেন— বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

আসামিদের মধ্যে মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক। বাকি ২২ জন গ্রেপ্তার আছেন। এ মামলায় আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-