মির্জাপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া চেকপোস্ট এলাকায় এ ঘটনার সুত্রপাত হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত মহিলাটি কয়েকদিন যাবৎ ওই এলাকায় ঘুরাফেরা করছিলো। সোমবার সকালে ট্রেন লাইন ধরে ব্র্রিজের উপরে উঠে দক্ষিণ দিকে হাঁটতে থাকে।

এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী “সুন্দরবন এক্সপ্রেস” নামক ট্রেনটি ওই স্থানে পৌছালে ট্রেনের ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মির্জাপুর রেলস্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বকুল সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী

চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছরও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন, মার্কিন বিজ্ঞানী হার্ভে জে আল্টার ও চার্লস এম রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল হাউটন। গত বছরও তিন বিজ্ঞানী যৌথভাবে চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছেন।

হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কার এবং এর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর দুই মার্কিন বিজ্ঞানী এবং এক ব্রিটিশ নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশে সময় বিকেলে এক অনুষ্ঠানে নোবেল কমিটি এই ঘোষণা দেয়।

ইতিহাসে এই প্রথম হেপাটাইটিস সি ভাইরাস কিভাবে নিরাময় সম্ভব তা জানিয়েছেন ওই তিন বিজ্ঞানী। নোবেল বিজয়ী এই তিনজন দূরারোগ্য হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সামনে এনেছেন। তারা রক্ত ​​পরীক্ষার মাধ্যমেই এই ভাইরাস শনাক্ত এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেছেন যা লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

বিশ্বজুড়েই একটি প্রধান স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে হেপাটাইটিস সি। এই ভাইরাসের কারণে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ সিরোসিস এবং যকৃতের ক্যান্সারে ভোগেন।

হেপাটাইটিস সি অনেক সময় নীরব ঘাতক হিসেবে শরীরে বাসা বাধে। প্রতি বছর প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় ৪ লাখ মানুষ এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু বরণ করছে।

যকৃতের ক্যান্সারের প্রধান কারণ এই ভাইরাস। ফলে রোগীদের বেশিরভাগ সময়ই যকৃত প্রতিস্থাপন করতে হয়। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নিয়ে ওই তিন বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারকে যুগান্তকারী অর্জন বলে উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

এর আগে চিকিৎসায় নোবেলের জন্য মনোনীত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বা সংক্ষিপ্ত তালিকা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। বরাবরের মতোই সব নথিপত্র অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে রেখে তা জনসাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়।

অক্সিজেনের প্রাপ্যতার সঙ্গে শরীরের কোষের সাড়া দেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে গত বছরও চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন মার্কিন ও ব্রিটিশ তিন বিজ্ঞানী।

ওই তিন নোবেলজয়ী হলেন- মার্কিন চিকিৎসাবিদ উইলিয়াম জি. কেইলিন জুনিয়র, গ্রেগ এল সেমেনজা ও ব্রিটিশ চিকিৎসাবিদ স্যার পিটার জে. র‌্যাটক্লিফ। অক্সিজেনের উপস্থিতি পাওয়ার পর মানবদেহের কোষ কীভাবে সাড়া দেয়; সে বিষয় নিয়ে যুগান্তকরী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তারা এই পুরস্কার পান।

এদিকে চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কারজয়ীদের গত বছরের তুলনায় ১০ লাখ ক্রোন বা প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি দেয়া হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লারস হেইকেনস্টেন।

ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ৩ কোটি ১০ লাখ ক্রোনার রেখে গিয়েছিলেন, আজকের বাজারে যা প্রায় ১৮০ কোটি ক্রোনের সমান। তার রেখে যাওয়া ওই অর্থ দিয়েই ১৯০১ সাল থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ নোবেল পুরস্কারের প্রচলন করা হয়। এতদিন এ নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

আলফ্রেড নোবেলের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে গোড়াপত্তন ঘটে। ১৯৬৮ সালে এ তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি।

আগামী ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর বুধবার রসায়ন, ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সাহিত্য, ৯ অক্টোবর শুক্রবার শান্তি এবং ১২ অক্টোবর সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী বা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। এ ছাড়া দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি থেকে সাহিত্য এবং নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কিংবা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

চিকিৎসক শুন্য ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি, সেবা বঞ্চিত লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন এখন চিকিৎসক শূণ্য। নানামুখি জটিলতায় ইউনিয়নটির লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র পাকুটিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (সাব সেন্টার) এখন ধ্বংসের দাঁড় প্রান্তে।

জানা যায়, আয়তন ও লোকসংখ্যা বিবেচনায় ঘাটাইল উপজেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন দেউলাবাড়ী। ১৯৯৬ সালে অত্র অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পাকুটিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (সাব সেন্টার) নামে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি গড়ে উঠে। বছর খানেক আগেও সদর হাসপাতালের মতই রোগী হত এখানে। গরীবের ডাক্তার আব্দুল হাকিম ও ফার্মাসিষ্ট আব্দুল খালেক দু’জনে মিলে রোগী দেখে শেষ করতে পারতেন না। কিন্তু এখন সেই জৌলুষ আর নেই।

ফার্মাসিষ্ট আব্দুল খালেকের অবসর আর গরীবের ডাক্তার আব্দুল হাকিমের মৃত্যুতে ইউনিয়নটির গোটা চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। বর্তমানে পাকুটিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র যেন ময়লার ভাগার, মাছের বাজার, গাড়ির গ্যারেজ আর মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকুটিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে গরীব, দুঃখি ও অসহায় মানুষদের সাথে যা করা হচ্ছে তা অনেকটা প্রতারনার শামিল। বর্তমানে শামীম আল মামুন নামে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার এখানে কর্মরত থাকলেও তিনি চিকিৎসা সেবা প্রদানে হিমসিম খাচ্ছেন। এছাড়া রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ, ঔষধ না থাকা, সময় মতো ডাক্তার না পাওয়া ইত্যাদি নানা অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের। ফলশ্রুতিতে নানামুখি জটিলতায় উক্ত সাবসেন্টারটি এখন ধ্বংসের দাঁড় প্রান্তে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অদক্ষ লোকজন দিয়ে জনগুরত্বপূর্ণ সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হওয়ার কারণে সিমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নটির লক্ষাধিক মানুষকে। অনেকে সঠিক চিকিৎসা ও ঔষধ না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেক গর্ভবতি মা ও শিশুদের টিকা দিতে এসে সময়মতো ডাক্তার না পেয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

পশ্চিম পাকুটিয়া গ্রামের রাহেলা বেগম, শিরিনা বেগম, দয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল বাছেদ, অনিল ঋষি, হাসমত আলী, পূর্ব পাকুটিয়া গ্রামের মাহাতাব আলী, করিমন বেওয়া, উত্তর খিলগাতী গ্রামের বোরহান উদ্দিন, দেউলাবাড়ি গ্রামের ফাতেমা বেগম, রমিচা বেগম, খাল পাকুটিয়া গ্রামের ছাইফুল ইসলাম সহ আরও অনেকেই বলেন, হাকিম ডাক্তার থাকাকালিন সময়ে আমরা ভালো চিকিৎসা পেতাম, যা এখন অনুপস্থিত।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার রহিজ উদ্দিন, মুকুল কর্মকার, আশরাফুল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, স্কুল শিক্ষক সম্রাট বাবর, মোতালেব মিয়া, হাসমত আলী সহ অনেকেই বলেন হাকিম ডাক্তার মরে যাওয়ার পর অত্র ইউনিয়নের মানুষ খুবই কষ্টে আছে। সামান্য সর্দি জ্বর, কাঁটা ছিড়া, ড্রেসিং সহ অন্যান্য রোগের ডাক্তার দেখাতে আমাদের প্রায় ৭ কিলোমিটার দুরে সদর হাসপাতালে যেতে হয়। রাতে কারও সমস্যা হলে ডাক্তারের কোন ব্যবস্থা নেই। এখানে অতি দ্রুত একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিয়ে বর্তমান জটিল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, আমার ইউনিয়নে অনেক বড় বড় ডাক্তার থাকলেও এলাকায় কেউ রোগী দেখে না, তারা বাহিরে চেম্বার করেন। বর্তমানে শামীম আল মামুন নামে যে ডাক্তার আছে তার পক্ষে এতো বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়। তাছাড়া স্থানীয় লোক হওয়ার কারণে অনেকের সাথেই প্রায়ই খারাপ আচরণ করে সে ও তার অভিজ্ঞতাও কম।

তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা থাকার কারণে মানুষ এখানে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে আসতে চায়না। এখানে যখন হাকিম ডাক্তার ছিলেন তখন সদর হাসপাতালের মতোই চলতো সাব সেন্টারটি। এখানে একজন মেডিক্যাল অফিসার সহ চারটি পোস্ট থাকলেও মেডিকেল অফিসার আসেন না। অত্র এলাকার মানুষের সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য দ্রুত একজন মেডিকেল অফিসারের খুবই প্রয়োজন।

(এবিএম আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র শিমুলের দায়িত্ব গ্রহণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সালমা আক্তার শিমুল দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

সোমবার(৫ অক্টোবর) সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শিমুল তার স্বামী প্রয়াত মেয়র সাহাদৎ হোসেন সুমনের স্থলাভিসিক্ত হলেন।

দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহামুদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান

আজহারুল ইসলাম, লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহীদ ইকবাল, মাজহারুল ইসলাম শিপলু, বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি বিপ্লব মাহামুদ উজ্জল, উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সোহেল রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হাজী আবুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শামীম আল মামুন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন খান প্রমুখ।

এরআগে মেয়র শিমুল পৌরসভা মিলনায়তেনে পৌছালে পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

নবনির্বাচিত মেয়র সালমা আক্তার শিমুল মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে সাত মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে

এক সাথে সাতজনের স্কুলে পড়াশোনা, এক সাথেই উনসত্তরের গণআন্দোলন, একই সাথে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে গমন। পুরো নয় মাস এক সাথেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বিজয় লাল সবুজের পতাকায় মুড়িয়ে এক সাথেই ঘরে ফেরা। পৈত্রিক কৃষি কাজকে জীবিকায়নে নেওয়া। অজপাড়া গাঁয়ের এ সাত মুক্তিযোদ্ধার সামান্য দাবি দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ না হওয়ায় খেদোক্তির যেন শেষ নেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ সাত সূর্য সন্তানের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা-দরবারপুর গ্রামে।

একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হুমায়ুন বেঙ্গল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেদায়েত হোসেন বাদশা, নূরুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, আবুল কাশেম, মতিয়ার রহমান ও আব্দুল খালেক ভূইঁয়া। একমাত্র আব্দুল খালেক ছাড়া সত্তরোর্ধ সবাই রোগেশোকে কোনভাবে এখনো বেঁচে আছেন।

মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম জানান, তিন দিকে বিল ও একদিকে খাল। এ খালবিল পেরিয়ে সর্পিল রাস্তা ঢুকেছে গ্রামে। সেটির বিস্তৃতি দরবারপুর পর্যন্ত। গ্রামের দেড়শ বছরের পুরনো এ মাটির রাস্তা নির্মাণ করেন জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী। রায়তের খাজনা আদায়ে জমিদারের নায়েব বাবুর ঘোড়ার গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে বানানো হয় মাটির রাস্তা। এখনো গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এটি। কালপ্রবাহে ব্রিটিশরা চলে গেছে। জমিদারি প্রথা রদ হয়েছে। পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসনের ২৪ বছর গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর চলছে। কিন্তু সেই কাঁচা রাস্তা কাঁচাই রয়ে গেছে।

মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান জানান, গোপালপুর উপজেলার সর্বশেষ প্রান্তে কড়িয়াটা। এর উত্তরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এবং উত্তর-পশ্চিমে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা। গাঁয়ের লোকসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। ব্রিটিশ রাজত্বে ফারায়জী আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল কড়িয়াটা। ফারায়জী নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহ ও দুদু মিয়ারা বহুবার এসেছেন এ গ্রামে। সাতচল্লিশে এ গ্রামের লোকেরা ‘হাতমে বিড়ি মুখমে পান, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ শ্লোগানে অংশ নেন। পরবর্তীতে দেশের আর সবার মতোই পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে নামেন। গ্রামে সাত যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিন্তু কেউ রাজাকার, আলবদর বা শান্তি কমিটিতে যোগ দেননি। গোপালপুর উপজেলা সদর ১৫ কিলোমিটার দূরের এ প্রত্যন্ত গ্রাম ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ ঘাঁটি।

মুক্তিযোদ্ধা হেদায়েত হোসেন বাদশা জানান, একাত্তরে যে রাস্তা ধরে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি সেই রাস্তা এখনো তেমনটিই রয়ে গেছে। কোন সরকারই রাস্তা পাকাকরণে মনোযোগ দেয়নি। গ্রামে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা রয়েছে। এর একটিতে আবার ভোট কেন্দ্র। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তাটি বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। হাটবাজারে যাওয়া-আসা, স্কুল-কলেজ বা মাদ্রাসায় গমন, অসুখে-বিসুখে উপজেলা হাসপাতালে যাতায়াত অনেক কষ্টের।

পঞ্চাশ বছরে উন্নয়ন বলতে দারোগা বাড়ির খালে দেড় লক্ষ টাকার একটি কালভার্ট। সাত মুক্তিযোদ্ধারা মিলে রাস্তা পাকাকরণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলজিইডির নিকট এক যুগ ধরে ধর্না দিয়ে আসছি। কিন্তু সবই অরণ্যে রোদন।

মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান জানান, সরকার দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে দাবি করছেন। এ কথার অনেকটা সত্যতাও হয়তো রয়েছে। কিন্তু দেশের উন্নয়নে যে বৈষম্য এবং সে উন্নয়ন যে অনেকটা নগরকেন্দ্রীক কড়িয়াটা গ্রামবাসীর বঞ্চনা সেটি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। গ্রামের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে রাস্তার দুরবস্থায় ডাক্তার আসতে চায়না। কড়িয়াটা-দরবারপুর গ্রামে কোন হাসপাতাল নেই। আদিম যুগের মতো মালকোঁচা দিয়ে জলকাদা মাড়িয়ে গ্রামের দুই কিলো রাস্তা পেরুতে হয়। তারপর ১৫ কিলো দূরের উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া অতীব কষ্টের।

তিনি আরও জানান, আমরা আর কদিনইবা বাঁচবো। গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি পাকাকরণে অন্তিম ইচ্ছা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হুমায়ুন বেঙ্গল জানান, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চারণভূমি কড়িয়াটা পুরোপুরি অবহেলিত।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা জানান, সুষম উন্নয়ন না হওয়ায় দেড়শ বছরের প্রাচীন জনপদ কড়িয়াটাবাসীরা আজ উপেক্ষিত। তাদের বঞ্চনা ও বেহালদশা খুবই পীড়াদায়ক।

হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, তিনি উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসাবে এ গ্রামের প্রাচীন রাস্তায় গতবার তিন লাখ টাকার মাটি ফেলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রাস্তা ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। মাটি ফেলে কাঁচা রাস্তার সংস্কার অর্থের অপচয় মাত্র। রাস্তাটি পাকা হওয়া জরুরি। এটি পাকা হলে সাত মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম ইচ্ছা যেমন পূরণ হবে তেমনি আশপাশের দরবারপুর, পাঁচপোটল, ভেঙ্গুলা পূর্বপাড়া, কেরামজানি ও চাতুটিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে।

গোপালপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, রাস্তাটি পাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় এমপি এটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির জানান, এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি আগে কেন পাকাকরণ হয়নি তা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই সড়কটি পাকাকরণ হবে বলে তিনি জানান।

(জয়নাল আবেদীন, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে এমপি’র মতবিনিমিয়

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে স্থানীয় এমপি’র সাথে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু।

এ সময় তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার যে ৫টি বিষয় আছে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, কৃষি, রাস্তাঘাট সহ সকল প্রকার সেবা সমুহ মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে হবে। এক দিকে করোনা অন্য দিকে দ্বিতীয় দফা বন্যা এ সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের সর্তকতার সাথে মোকাবেলা করেতে হবে। বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট মেরামত করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের সেবা নিশ্চিতে স্ব স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় নাগরপুরে উন্নয়নের জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছামাদ দুলাল, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছামিনা বেগম শিপ্রা, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবর রহমান প্রমুখ।

সে সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

আলেমা খাতুন ভাসানীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রথমা সহধর্মিণী বেগম আলেমা খাতুন ভাসানীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মরহুমার খাস জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও ইয়াতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময় মরহুমার পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও অনুসারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আলেমা খাতুন ভাসানী ছিলেন বগুড়া জেলার পাঁচবিবির বীরনগরের জমিদার-কন্যা। তাঁর পিতা সামীর উদ্দীন তালুকদার পাঁচবিবির বীরনগরের ২৪ পরগনা ৪০ মৌজার জমিদার ছিলেন।

ব্রিটিশ আমলে, বিশের দশকের মাঝামাঝিতে মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে বৃটিশরা হুলিয়া জারি করলে তাদের ফাঁকি দিয়ে মাওলানা ভাসানী ‘মুনশি’ সেজে আলেমা খাতুনের পিতার কাছে থাকতেন। সে সময় তিনি তাঁর পুত্র-কন্যাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। আনুমানিক ১৯২৫ সালে তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

জমিদার পিতার তরফ থেকে আলেমা খাতুন পেয়েছিলেন প্রায় ৬০ বিঘা জমি। পাঁচবিবি থেকে ৩/৪ কিলোমিটার পূর্বে মহিপুর গ্রামের সেই জমিতে মওলানা ভাসানী গড়ে তুলেন তাঁর ‘হক্কুল এবাদ মিশনের’ স্কুল-কলেজ-লাইব্রেরিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ।

মমতাময়ী এই মানুষটির আতিথ্য গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উঠতি নেতা থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার কৃষক-শ্রমিক শ্রেণী।

মওলানা ভাসানীর মাজার শরীফের পাশেই উনাকে সমাহিত করা হয়েছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে এই মহীয়সী নারীর সম্মানে।

আলেমা খাতুন ভাসানী ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বেগমগঞ্জের সেই নারী: পোড়াচোখে এ কী দেখলাম?

‘ভাই মাফ করেন, আমি বাচ্চার মা’। এই শুনে আসমান কেঁপে যাচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্রের পাষাণ মন অবিচল। গাড়ি চলছে, ঘোড়া চলছে, টেলিভিশন রঙ ছড়াচ্ছে। বেগমগঞ্জের সেই নারী, সেই মা, সেই স্ত্রী নির্যাতকদের পায়ে–পায়ে ঘুরে বলছে, ‘আমার মেয়েটা ছোট, ওরে অন্তত ছেড়ে দ্যান’।

পাড়া-প্রতিবেশী তখন দুয়ার আটকে চুপ! ফেসবুকে যখন ‘চ্যালেঞ্জিং টাইমসের’ সেলিফসহ কতরকম চ্যালেঞ্জের মচ্ছব, তখন হায়েনার দল নারীমাংস ছিঁড়ে খাচ্ছে আর উল্লাস করছে।

মরবার আগপর্যন্ত মানুষ বাঁচার চেষ্টা করে। বাঁচার চেষ্টায় ওই নারী কী–না করে গেলেন কিন্তু বাাঁচাবার কোনো হাত পাওয়া গেল না। আজ বেগমগঞ্জ, গতকাল সিলেট, তার আগে খাগড়াছড়ি, তার আগে খুলনা, তার আগে বগুড়া—কোথায় না? রাজধানী কত স্বাভাবিক। ‘চলো বন্দু ঘুরে আসি’ মেজাজে চলছে সবকিছু।

৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে যেন ধর্ষণের উৎসব, নারীর চিৎকার, শিশুর চিৎকার, মায়ের কান্না, অসহায় বাবার কলিজাফাটা আর্তনাদ। সেই আর্তনাদ কুতুব মিনারের বাসিন্দাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। তাঁদের দিলে বিবেকহীনতার মোহর মারা। তবুও নারকীয় দৃশ্যের জন্ম হয়। ফেসবুকে-ইউটিউবে ছড়িয়ে যায় নারী নামের হরিণ শিকারের দৃশ্য। শিকারিদের বর্বর উল্লাস।

সেই দৃশ্য দেখা যায় না, সেই কান্না শোনা যায় না, সেই উল্লাসে স্বাভাবিক প্রতিটি মানুষের অন্তরাত্মা ফুঁসে ওঠে ক্রোধে, হাহাকারে, বোবা যন্ত্রণায়। প্রতিটি লোমকূপে আগুন ধরিয়ে দেয় সেসব দৃশ্য। দৃশ্যগুলো তাড়াতাড়ি ঢেকে দেওয়া হয়, নির্যাতিতা মুখ লুকিয়ে ফেলেন, চলে যান অজ্ঞাতস্থানে। কিন্তু আমাদের ভুলে থাকার সাধনার দেয়ালে সেসব ছবি ফিরে আসে, ভেসে ওঠে মনের পর্দায়। এ যেন আগেকার দিনের বোবা চলচ্চিত্র। পর্দায় মানুষের কান্নার মুখভঙ্গি দেখি কিন্তু শুনি উৎসবের মিউজিক। উন্নয়নের ব্যান্ডপার্টির অর্কেস্ট্রায় ঢাকা পড়ে নির্যাতিতার ফরিয়াদ।

সেই ফাঁকে ধর্ষক–নির্যাতকেরা বুক ফুলিয়ে হাঁটে। জনমতের মধ্যে তাদেরই ভাইবেরাদরেরা দোষ ধরে নারীদের পোশাকের, চালচলনের। সবাই ধর্ষক–নির্যাতক নয়। কিন্তু এত এত মানুষের মনে নারীবিদ্বেষ, এত হিংসার প্রচার, এত পুরুষালি আগ্রাসী মনোভাব। কোনো নারীর পেটের সন্তান ধর্ষক হয়ে জন্মায় না। ধর্ষকের জন্ম নারীবিদ্বেষের এই সংস্কৃতির ঔরসে, রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তির ছাতার তলে, দুর্বৃত্ত রাজনীতির খামারে। ধর্ষকের মানসিক প্রশিক্ষণ দেয় যৌনায়িত হিন্দি মিডিয়া। সপরিবারে সেসবও দেখতে হয়।

এ এমন এক সময়, যখন জনগণের জনগণ ছাড়া আর কেউ নেই। সেই জনগণও পাশবিক ধর্ষকদের ক্ষমতার ভয়ে ‘দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া’ দশায় দিনাতিপাত করেছে। এক দিন নয়, দশ দিন নয়, বছরের পর বছর সয়ে যেতে হচ্ছে। আর কখন এমন অসহায়ত্বের লোমশ থাবার মধ্যে আমরা অবশ হয়ে ছিলাম? আর কখন ভাই হয়ে বোনের, মা হয়ে মেয়ের, বাবা হয়ে সন্তানের ওপর চলা বীভৎস নির্যাতন দেখে যেতে হয়েছে?

দেখতে না চাইলে জোর করে চোখ খুলে রাখা হয়েছে, যাতে নির্যাতকদের পাশবিক আনন্দ কানায় কানায় পূর্ণ হয়! এই দেশের মানুষ সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা ভোলেনি। পাকিস্তানি সেনারা তো এভাবেই তুলে নিয়ে যেত মেয়েদের। এভাবেই গেরস্তের নিজের বাড়িতেই তাঁদের কন্যা-স্ত্রীদের তারা ভোগ করেছে। সেই একই দৃশ্য ফিরে ফিরে আসছে আজকের বাংলাদেশে।

সেই যুগে ভিডিও ছিল না। তাই দূরে থাকা মানুষকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখার ট্রমায় ভুগতে হয়নি। কিন্তু ভিডিওর কারণে আজ ১৭ কোটি মানুষ সেসব নারকীয় দৃশ্য দেখতে বাধ্য।নির্যাতন শিবিরে চোখের পাতা টেনে খুলে রেখে আপনজনকে তার প্রিয় মানুষের ওপর নির্যাতন দেখতে বাধ্য করা হতো। আমরাও দেখছি বদরক্যাম্পের দৃশ্য।

গ্রিক নাটকে রাজা অয়দিপাউস নিয়তির দোষে না জেনেই আপন মা-কে শয্যায় তুলে নিয়েছিলেন। যা দেখার কথা নয়, তা দেখার পাপ করেছিলেন। অয়দিপাউস যখন মা-কে চিনতে পারলেন, তখন যা দেখার কথা নয় তা দেখার পাপে নিজের দুই চোখ নিজেই অন্ধ করে ভিখিরির বেশে পথে নেমে গিয়েছিলেন। বেগমগঞ্জর নির্যাতিতা নারীর ভিডিও আমাদেরও দেখতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি দেখিনি, যাঁরা দেখেছেন তাঁদের রাগ-ক্ষোভ-হতাশা দেখেছি। যদি আমরা এ রকম আরেকটি ঘটনা ঠেকাতে না পারি, যদি আবারও আমাদের মানবতার সেই দোমড়ানো-মোচড়ানো, ছিন্নভিন্ন দেহ দেখতে বাধ্য করা হয়, অক্ষমতার পাপে কিংবা অনুশোচনার বিষে আমরা আমাদের কী শাস্তি দেব? কী জবাব দেবেন বেগমগঞ্জের গ্রামবাসী, যাঁরা নির্যাতিত নারীর আর্তনাদ শুনেও লুকিয়ে ছিলেন দূরে?

নারকীয় পরিণতির সামনে দাঁড়িয়ে উল্লাস করা হায়েনাদের ‘বাবা’ ‘বাবা’ বলে ডেকে রেহাই ভিক্ষা করেছিলেন। মায়ের দাবি নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের পুরুষদের কানে যেন সেই ডাক তত দিন বাজে, যত দিন ধর্ষকের উল্লাসমঞ্চ থাকবে এই দেশ। যত দিন ধর্ষকেরা শাসকদলের বানানো ভয়ের পরিবেশে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্যাতনের খায়েশ মেটাবে, যত দিন ক্ষমতার খুঁটির জোরে পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে রাজনৈতিক বলে বলীয়ান দস্যুদের দাপট চলবে।

এ রকম এক ঘটনার সামনে দাঁড়িয়েই বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের যন্ত্রণাকাতর মন বলে উঠেছিল ঢাকার রোদন কবিতায়:

কালরাতে এই মহানগরীর আত্মার বিলাপে

অকস্মাৎ পাল্টে গিয়েছিল সব পুরুষের মুখের আদল।

ইস্তিরি করা ধূসর পাতলুন থেকে একে একে খসে গিয়েছিল

পৌরুষের সমস্ত বোতাম।

টিএসসির মোড় থেকে মূর্ছাতুরা ঢাকার ফোঁপানি

নপুংসক করেনি কি পৃথিবীর সমস্ত পিতাকে?

কারা পুত্র কে-বা পিতা? মাতা বধূ কন্যা কহ কারে?

হায়েনার দাঁত শুধু হামলে পড়ে-

আমাদের শতাব্দীর অনাবৃত লজ্জার ওপর।

শতাব্দীর উৎসব শেষ। ঢাকার মায়েরা

দাঁড়িয়ে আয়নার সামনে ভেবে দেখো আগামী শতকে

আর কোনো পুরুষের জন্ম দিতে দীর্ণ করে দেবে কিনা

নিজের শরম।

মানুষী মায়ের গর্ভে এই দেশে আর কোনো

হায়েনার উদ্ভব না হোক।

কবিতার ঢাকার জায়গায় নিজ নিজ জনপদের নাম লিখুন, কুমিল্লার তনু, বগুড়া ও খুলনার মা-মেয়েকে ভাবুন, বসান বেগমগঞ্জ কি খাগড়াছড়ি কি সিলেটের নাম। দেখবেন, একদম মিলে যাচ্ছে। একদম মিলে যাচ্ছে জন্মভূমির ছবি, দেশমাতৃকার মুখ, আমাদের সময়ের মর্মান্তিক সংবাদগুলো।

যখন জনগণ শাসন বদলাতে পারে না, তখন শাসকেরাই জনগণকে বদলে দেয়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্ততন্ত্র আমাদের তরুণদের বদলে দিচ্ছে। টাকা, মাদক, নারী আর ক্ষমতার বিকৃত ভোগের হাতছানিতে তাদের ভেতরকার মনুষ্যত্বকে মেরে পুনর্জন্ম দিচ্ছে একাত্তরের ধর্ষক ও নির্যাতকদের। ক্ষমতাদণ্ডই এখন ধর্ষণদণ্ডে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার দণ্ডধারীরা জনপদকে উপদ্রুত ও আতঙ্কিত করে রেখেছে। সেই ক্ষমতার প্রশমন যদি না ঘটে, নারী নির্যাতনের নিরসন ঘটবে না। এটুকু বুঝতে সমাজবিজ্ঞানী বা অপরাধবিজ্ঞানী হতে হয় না। নির্বিচার ক্ষমতাকে চাপে রাখার মেকানিজম যদি রাষ্ট্রে না থাকে, সমাজ যদি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাতরাতে থাকে, তাহলে ক্ষমতার অজস্র ছানাপোনা সারা দেশকে ত্রাসিত ও নির্যাতিত করেই যাবে। মানুষের গর্ভেই তখন হায়েনাদের জন্ম হবে, সেই হায়েনারা অগম্য গমন করবে, যা করলে মানুষকে আর মানুষ বলা যায় না, তা করেও তাদের কোনো বিকার ঘটবে না।

বেগমগঞ্জের ঘটনায় সেটাই দেখা যায়। ৩২ দিন আগের ঘটনা তারা ভিডিও করে রেখেছিল এই উদ্দেশ্যে, ওই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ওই নারীকে দাসী বানিয়ে রাখবে, চাহিবামাত্রই তাকে নির্যাতনের মওকা মেলাবে। ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে চার নির্যাতক গ্রেপ্তার হয়েছে। সিলেটের ঘটনায় নির্যাতিতা নারী সাহস করে থানায় গেছেন বলে পুলিশ নড়তে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ক্যামেরার চোখের বাইরে, লোকচক্ষুর অন্তরালে, আরও বড় বড় লোকের দ্বারা যেসব অনাচার ঘটে, সেসবের কী হবে? দেখছি না বলে সেগুলো ঘটছে না?

এই সমস্যার সমাধান কী আদৌ সম্ভব, কীভাবে সম্ভব? প্রথম আলোর পাতায় এর উত্তর দিয়েছিলেন লেখক ও নৃবিজ্ঞানী হেলাল মহিউদ্দীন। তাঁর প্রস্তাব: এক. ধর্ষকদের গায়ের রাজনীতির পোশাকটি (পরিচিতি) সরিয়ে ফেলুন বা পরতে দেবেন না। তাতেই ধর্ষণের সংখ্যা ৯০ ভাগ কমে যাবে। দুই. ইম্পিউনিটি, ‘আমি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকব, ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে আমার সংযোগ আছে’ এ রকম ভাবার সুযোগ বন্ধ করে দিন। আরও ৫টি ধর্ষণ বন্ধ হবে। তিন. ক্ষমতার রাজনীতিতে স্থান করে নেওয়া নারীরা রাজনীতির সুবিধাভোগী হয়ে এই দুই শ্রেণির দুষ্কর্মে নীরব থাকবে না, তা নিশ্চিত করুন, আরও ৪টি ধর্ষণ বন্ধ হবে। চার. বাকি যে এক ভাগ ধর্ষক, ধরা যাক, হ্যাবিচুয়াল রেইপিস্ট বা স্বভাবগত যৌন অপরাধী, তারা দুষ্কর্মের সঙ্গে সঙ্গেই ধরা পড়বে। এমনকি আক্রান্ত নারীরাই তাদের কাবু করে ফেলতে পারবে। সেটা তখনই সম্ভব হবে, যদি তাদের আস্থা জন্মায় যে দেশের মানুষ রাজনীতিকে ব্যবহারকারী গুন্ডাদের আর ভয় পাচ্ছে না।

এক মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানিরা যখন শুধু লুটপাট চালাচ্ছিল, তখনো আমি কিছু করার কথা ভাবিনি। কিন্তু যখন তারা আমাদের ঘর থেকে মেয়েদের টেনে নিয়ে যেতে লাগল, তখন আমি যুদ্ধে গেলাম।’ অপরাধ চক্র আর ধর্ষক চক্র একযোগে একটা সামাজিক মানবিক যুদ্ধের সামনে আমাদের ঠেলে দিয়েছে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে আমাদের আর পালাবার কোনো রাস্তা নেই। আপন ঘর আর আশ্রয় নয়। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। হায়, সেই ঘরেই আমাদের সবকিছু ধর্ষিত হচ্ছে আজ। আকাশও আর মুক্ত নয় যে আকাশে তাকিয়ে থাকব। সেখানেও নারীকণ্ঠের আর্তনাদের অফুরান প্রতিধ্বনি। শুনতে কি পান?

(ফারুক ওয়াসিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৫ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান খান।

এতে সুফল প্রকল্পের আওতায় বাগান সৃজন, জবরদখলকৃত বনভুমি ও অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, ধলাপাড়া রেজ্ঞ কর্মকর্তা এসএম হাবিবুল্লাহ, জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীম খান, আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন প্রমূখ।

সভায় আগামী সভার আগে বনের ভিতর স্থাপিত অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পাহাড়কাটা জবরদখলকৃত বনভূমি দ্রুত উদ্ধারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি অফিস কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাসান আলী, সহ সভাপতি মো. বাবর হোসেন চৌধুরী, শিক্ষা ও গবেষনা সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি যুগ্ম সম্পাদক মো. জহুরুল হক শামীম।

আলোচনা সভায় বক্তারা মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে জোর দাবি জানান।

(আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-