ঘাটাইলে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হরিপুর নামক স্থানে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢাকা অভিমুখী ডিম বহনকারী ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহিন মিয়া (৩০) নিহত ও সাবেক ইউপি সদস্য বাদল (৪০) আহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তি উপজেলার গলগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত ব্যক্তিকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার।

ঘাটাইল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার দুপুর ১টায় সাবেক ইউপি মেম্বার বাদল ও মোঃ শাহিন মিয়া মোটরসাইকেল যোগে উপজেলার ব্রাহ্মনশাসন নামক স্থানে যাওয়ার সময় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের হরিপুর নামক স্থানে ঢাকা গামী ঢাকা মেট্রো ১১-২৭৭৮নং ডিমের ট্রাক অতিক্রম করার সময় ধাক্কায় রাস্তার উপরে দুজন পড়ে যায়। এলাকাবাসী মুমুর্ষ অবস্থায় ২ জনকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন মিয়া (৩০) কে মৃত ঘোষনা করে।

অপরজন সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ বাদল মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিকে তার পরিবার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিটনের উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার মা মমতাজ জামান (৬০)।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া জেলা যুবলীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টায় বেপাড়ীপাড়া বাসার সামনে আমার ছেলে লিটনের উপর হামলা করে কুপিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে লিটন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এ ঘটনায় গত (১০ সেপ্টেম্বর) পাঁচ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরো অজ্ঞাত ১০-১২ জনের নামে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামী মীর ওয়াছেদুুল হক তানজীল বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। অন্যান্য আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে।

এদিকে মামলা তুলে নিতে বিবাদিপক্ষরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে তারা। মামলার স্বাক্ষী শাহানুরকেও বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি এবং হামলা করার হুমকি দিচ্ছে তারা। তাই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ সময় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিটনের ছেলে আলিফ, ছোট ভাই দোলন উপস্থিত ছিলেন।

মমতাজ জামান বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। বিবাধীরা আমাদের উপর যে কোন সময় হামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। আসামীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে ব্রিজ নির্মাণের সময় শেষ হলেও শুরু হয়নি কাজ, দূর্ভোগে জনগণ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌরাস্তায় নাগরপুর-সলিমাবাদ সড়কের ব্রিজের নির্মান কাজ উদ্বোধনের ১০ মাসেও শুরু না হওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার জনসাধারণ। অথচ আগামী ১৫ নভেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা।

এর উপর পূরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে নিয়ে গেলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মানসম্মত ডাইভারশন রোড না করায় দূর্ভোগ যেন আরও বেড়েছে। ডাইভারশনের অভাবে বাঁশের সাকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বেকড়া, সলিমাবাদ ও পার্শ্ববর্তী চৌহালী উপজেলার জনগণ।

চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলাকালীন সময়ের জন্য একটি ৪০ মিটার ইট সোলিং এর ডাইভারশন তৈরী করে কাজটি শুরুর কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে বাঁশের সাকো ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান হয়নি।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের আমঘাট রোডের মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ৭ লাখ ২৭ হাজার ৯ শত ৫৭ টাকা ৯৬ পয়সায় ৫৪ মিঃ চেইনইনএজ ১৫ মিঃ দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রীজটির কার্যাদেশ পায়।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর কাজটি শেষ করার কথা। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত ব্রিজের কোন কাজই শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পেয়েই কোন ডাইভারশন নির্মান না করেই, ঐ স্থানের পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে বিক্রি করে দেয়। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে তারা কিছু মাটি ফেলে পায়ে হাটার রাস্তা করে দেয়। সেটিও বন্যার সময় ভেঙ্গে গেছে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী আবু বকর বলেন, আমরা অসুস্থ রোগী নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকি। বিকল্প রাস্তা না করেই পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলায় আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। এই সমস্যা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই আমরা।

অপর পথচারী জুয়েল মিয়া বলেন, কাজটি আগামী দেড় মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরুই হয়নি। আদৌ ব্রিজের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে কিনা তা নিয়ে আমরা শংকিত।

পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, ব্রিজটির কাজ শেষ না হওয়ায় এবং ডাইভারশন না থাকায় আমরা সরাসরি চলাচল করতে পারি না ফলে আমাদের আয় কমে গেছে, যাত্রীদের খরচ বেড়েছে। মালামাল পরিবহন ও রোগী নিয়ে দূর্ভোগের শেষ নেই। দ্রুত ডাইভারশন করে যথা সময়ে ব্রিজের কাজটি শেষ হলে আমাদের সকলের উপকার হয়।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মনিরুজ্জামান খান মিন্টু এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ব্রিজের পাশের বিদ্যুতের খুঁটি সরাতেই আমাদের ৩ মাস সময় লেগেছে। এছাড়া করোনা মহামারী ও বন্যার কারনে কাজটি শুরু করতে আমাদের বিলম্ব হয়েছে। আমরা ডাইভারশন করার জন্য মাটি ফেলে ছিলাম কিন্তু বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি কমলেই আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করে দিব।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম বলেন, আমরা ঠিকাদারকে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছি। বর্তমানে বন্যার কারনে পাইলিং করা সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়াও বন্যার আগে নির্ধারিত পাথর না পাওয়ায় এবং যথা সময়ে পাইলিং করতে না পারায় কাজটি পিছিয়ে গেছে। তবে আশাকরি দ্রুতই কাজটি শেষ হবে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে কুপিয়ে স্ত্রীর বিষপান

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী সুমনকে (৩৮) কুপিয়ে বিষপান করেছেন স্ত্রী সাবিনা বেগম (৩০)। গুরুতর আহতাবস্থায় সুমনকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (০৪ অক্টোবর) ভোরে মধুপুর পৌরসভা এলাকার দামপাড়ায় স্বামীকে কুপানোর এমন  ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাবাসী স্ত্রী সাবিনাকে আটকে একটি গাছে বেঁধে রাখে।

সুমন দামপাড়ার আবদুল মজিদের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। সুমন ও সাবিনার দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে (৫) ও আট মাস বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে।

সুমনের পারিবারিক সূত্র জানায়, সাবিনা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণ করছেন। সুমনের এক ভগ্নিপতির দিকে বিক্ষুব্ধ হয়ে বটি ছুঁড়ে মারার ঘটনাও ঘটিয়েছেন কয়েকদিন আগে।

স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল আজহার আগে সাবিনার সঙ্গে সুমনের ভগ্নিপতি আপত্তিকর আচরণ করার পর থেকে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে অশান্তি চলছিল। রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠার আগে স্বামীর ওপর বটি নিয়ে চড়াও হন সাবিনা। মাথাসহ দেহের বিভিন্ন স্থানে তিন-চারটি কোপ দেন তিনি।

সে সময় সুমনের চিৎকার শুনে পরিবার ও স্থানীয়রা ছুটে এসে সাবিনাকে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে আর সুমনকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে খবর পেয়ে পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবিনাকে উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল জানান, সুমনের স্ত্রী সাবিনা ঘাস নিধনের বিষপান করেছেন। পুলিশি সহায়তায় সাবিনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বীমা না থাকলে মোটরযান বা তার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না

মোটরযানের বীমা করা না থাকলেও ওই মোটরযান বা তার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা না করতে পুলিশকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিআরটিএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোনো মোটরযানের বীমা করা না থাকলেও ওই মোটরযান বা তার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা না করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশের ১০৯ ধারা অনুযায়ী যানবাহনের জন্য তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা বাধ্যতামূলক ছিল। ওই আইনের ১৫৫ ধারায় এ জন্য দণ্ডেরও বিধান ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ৬০ এর ১, ২ ও ৩ উপধারা অনুযায়ী মোটরযানের জন্য বীমা বাধ্যতামূলক নয়।

উপধারা ১ এ বলা হয়েছে, কোনো মোটরযান মালিক বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে তার মালিকানায় থাকা যে কোনো মোটরযানের জন্য যে সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট করা তাদের জীবন ও সম্পদের বীমা করতে পারবেন।

উপধারা ২ অনুযায়ী, মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের অধীনে পরিচালিত মোটরযানের জন্য নিয়ম অনুযায়ী বীমা করবেন এবং মোটরযানের ক্ষতি বা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বীমার আওতাভুক্ত থাকবে। বীমাকারী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

উপধারা ৩ এ বলা হয়েছে, মোটরযান দুর্ঘটনায় পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা নষ্ট হলে ওই মোটরযানের জন্য ধারা ৫৩ অনুযায়ী গঠিত তহবিলের অধীনে গঠিত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন না।

আইনের বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ধারা অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা বাধ্যতামূলক নয় এবং এই আইনের অধীনে তা লঙ্ঘন হলেও কোনো দণ্ডের বিধান নেই। তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি বীমা না থাকলে মোটরযান বা মোটরযানের মালিকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী কোনো মামলা দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ঘাটাইলের ফয়সাল বাঁচতে চায়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার চান্দশী গ্রামের যুবক ফয়সালের প্রায় এক বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় মেরুদন্ড হাড় ভেঙ্গে যায়। এই সময় ধরে সে চিকিতসার অভাবে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে। এই ছেলেটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করায় সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি আজ মৃত্যুসজ্জায়।

ফয়সালের বাবা আজগর আলী ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমার পোলাডা অসুস্থ। অনেক ডাক্তার দেখাইছি।মানুষের কাছে চাইয়া চিন্তা টেহা ধার নিয়া ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। টেহার অভাবে চিকিৎসা করা হয় নাই। তবে ডাক্তার কইছে অপরেশন করতে হলে অনেক টেহা লাগবো। কিন্তু অপরেশনের এত টেহা আমি কই পাবো।

তিনি আরও বলেন, আরেক বড় ছেলে ফরহাদ সামান্য আয়ে পুুরো সংসারটা চলে।

জানা যায়, ফয়সালের বর্তমান বয়স ১৭ বছর। সে ঘাটাইল জিবিজি কলেজে পড়ালেখা করেতেছিল।

ফয়সাল কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, চোখে আমার অনেক স্বপ্ন ছিলো। সেই সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। আমার এ অবস্থার উন্নতির জন্য পরিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে কিন্তু সুস্থ করে তুলতে পারেনি। পরিবার সদস্যরা এখন অসহায় ও নিরুপায়।

তিনি বলেন, আমার চিকিৎসার অভাবে বুকভরা কষ্ট নিয়ে অসহায় অবস্থায় বিছানায় শুয়ে দিন কাটে আমার, সারা শরীর অবস হয়ে গেছে।

এদিকে পরিবার সদস্যদের দাবী- কোন দরদী মানুষ যদি ফয়সালের চিকিৎরার ভারটুকু নিতো তবে ফয়সাল সুস্থ্য হয়ে উঠতো।

সরকার ও স্থানীয় প্রসাশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে সাহায্যের প্রত্যাশা করছেন তারা। এতে করে হয়তো ছেলেটা নতুন জীবন ফিরে পেতো।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে হেমনগর রাজবাড়ী দেখভালের দায়িত্বে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রাজবাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে অধিদপ্তরের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে রাজবাড়ী পরিদর্শন করেন। পরে এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের এমন তথ্য জানানো হয়।

মহাপরিচালক ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবুর রহমান, উপপরিচালক (প্রত্ন সম্পদ) মো: আমিরুজ্জামান এবং আঞ্চলিক পরিচালক ( ঢাকা ও ময়মনসিংহ) রাখী রায়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, হেমনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক আনিসুর রহমান হীরাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা

জানা যায়, হেমনগর রাজবাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন হেমচন্দ্র চৌধুরী। তিনি ছিলেন মধুপুর উপজেলার আমবাড়ীয়ার জমিদারের উত্তরসূরি। তার দাদা পদ্মলোচন রায় ব্রিটিশদের সূর্যাস্ত আইনের সুযোগে পুকুরিয়া পরগনার আমবাডীয়ায় জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন। পিতা কালীচরণ রায়ের সময়ে জমিদারী আরো বিস্তৃত হয়।

কিন্তু পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ীর মুসলিম জমিদারের সাথে নানা মতবিরোধ দেখা দেয়। শেষাবধি পিতা কালিচরনের মৃত্যুর পর হেমচন্দ্র মধুপুরের আমবাড়ীয়া থেকে জমিদারী সরিয়ে নেন গোপালপুর উপজেলার প্রাচীন নদী বন্দর সুবর্ণখালিতে (বর্তমানে সোনামুই)। ১৮৮০ সালে সুবর্ণখালিতে নির্মাণ করেন এক রাজবাড়ী। কিন্তু দশ বছরের মাথায় এ রাজবাড়ী যমুনা গর্ভে নিমজ্জিত হয়।

এমতাবস্থায় সুবর্ণখালি থেকে তিন কিলো পূর্ব-দক্ষিণে শিমলাপাড়া মৌজায় ১৮৯০ সালে একটি নতুন দ্বিতল রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। অপূর্ব স্থাপত্য রীতির রাজবাড়ীর নাম রাখেন পরীদালান।

ভবনের মূল অংশে উড়ন্ত দুই পরীর ভাস্কর্য ছিল। সামনের অংশে লতাপাতা আর কাব্যিক ডেকোরেশন ছিল । নামিদামি কড়ি আর শ্বেতপাথরে মোড়ানো ছিল রাজবাড়ির মূল অংশ। উঁচু আর পুরু পাচিলে ঘেরা রাজবাড়ির উঠোন চত্বর শেষে ছিল প্রশস্ত দীঘি। এর বিশাল শানবান্দা ঘাট সাদা ও লাল পাথরে মোড়ানো ছিল। রাজবাড়ির সিংহ দরজার সামনে ও ছিল পাকা সিঁড়ির বিশাল দীঘি। ১৮০০ বিঘায় ছিল রাজবাড়ী ও এর পুরো চত্বর। শুধু মাত্র রাজপ্রাসাদে মূল ভবনটা পাঁচ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত।

রাজবাড়ির আশপাশে আত্মীয় স্বজনের জন্য একাধিক দীঘি ও পাঁকাবাড়িঘর নির্মাণ করে দেন তিনি। রাজবাড়িকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ প্রান্তে গড়ে উঠে বিশাল বাজার। কালক্রমে হেমচন্দ্রের নামানুসারে শহরের নামকরণ হয় হেমনগর।

ময়মনসিংহ জেলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, হেমনগর বাজারে ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ বাইজী পল্লী। রসিকরা সেখানে শুধু কামপ্রবৃত্তিই নয়- গুণী বাইজির গান ও নাচের আসর উপভোগের জন্য যেতেন।

পূজাপার্বণে রাজবাড়িসহ হেমনগর আনন্দ উৎসবে জেগে উঠতো। জমিদারবাড়ির দক্ষিণ আঙ্গিনায় (এখন যেখানে কলেজ মাঠ) ছিল দ্বিতল নাট্যশালা।

হেমচন্দ্র চৌধুরী এবং তার বংশধররা সবাই ছিলেন উদার সংস্কৃতির সমঝদার। ওই নাট্যশালায় কোলকাতার নামীদামী শিল্পীরা এসে অভিনয় করতেন। যাত্রা পালা হতো দুর্গাপূজার সময়। রাজবাড়ির সামনের লনে বসতো কীর্তনের আসর।

১৯৭১ সালে হেমনগর পরী দালান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি। এখান থেকেই কাদেরিয়া বাহিনীর যোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার ও বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

হেমনগর জমিদাররা প্রজাবৎসল হলেও তাদের বিরুদ্ধে রায়তদের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। তবে সেসবের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই হয়নি কখনো। শুধু হিন্দু বা শুধু মুসলিম এ ভেদবুদ্ধিতে অভিযোগ বা মূল্যায়ন করা হয়েছিল।

শিমলাপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সালাম মেম্বার জানান, হেমচন্দ্রের চার পুত্র ছিল। এরা হলেন হেরম্ভ চৌধুরী, গঙ্গেশ চৌধুরী, প্রফুল্ল চৌধুরী ও যোগেশ চৌধুরী। সবাই ছিলেন কোলকাতার গ্রাজুয়েট। চার কন্যারা সবাই ছিলেন বিদুষী। এরা হলেন সুরেন্দ্র বালা দেবী, কিরণ বালা দেবী, সুমতি বালা দেবী ও সুনীতি বালা দেবী।

সুমতি বালার স্বামী মুরলী ধর গাঙ্গুলি হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভোটাভুটির জয়পরাজয় নিয়ে কৃষক নেতা হাতেম আলী খানের সাথে জমিদার পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ বাম নেতার সহিংস আন্দোলনে জমিদার পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হন।

হেমচন্দ্রের সুযোগ্য ভগ্নীরা হলেন স্বর্নময়ী দেবী, ক্ষিরোদা সুন্দরী দেবী, বারোদা সুন্দরী দেবী। এদের মধ্যে স্বর্ণময়ী দেবীর পুত্র ছিলেন শ্যামাকান্ত গাঙ্গুলী। শ্যামাকান্ত গাঙ্গুলীর পৌত্র হলেন কমল গাঙ্গুলী।

কমল গাঙ্গুলীর সুযোগ্য কন্যা হলেন পশ্চিম বঙ্গের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী পৌলমী গাঙ্গুলী। হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৯২৫ সালে কাশীতে মারা যান। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় হেমনগর জমিদারের উত্তরসূরিরা পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমান।

আজ হেমনগর জমিদারের উত্তরসূরিরা নেই। তবে তাদের যশ, খ্যাতি, সুনাম-বদনাম মিলেমিশে জাগরুক রয়েছে। হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন শিক্ষানুরাগী। ১৯০০ সালে হেমনগরে বিমাতার নামে ২০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ইংলিশ মিডিয়াম শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। গোপালপুর সূতী ভি এম পাইলট হাই স্কুল, পিংনা হাইস্কুল এবং আনন্দমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান রয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির ও টাঙ্গাইল ফৌজদারি উকিলবার প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা করেন।

হেমনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক জোয়াহেরুল ইসলাম বিএসসি জানান, হেমচন্দ্র চৌধুরী যদি কোন প্রজাকল্যাণকর কাজ নাও করতেন তবু শশীমুখি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি প্রজাদের হৃদয়ে জাগরুক থাকতেন। সে যুগে শুধু হিন্দুরা নয় দরিদ্র মুসলিম পরিবারের সন্তানরাও এখান থেকে ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

পাকিস্তানী শাসনের তেইশ বছর এদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বহাল থাকায় হেমচন্দ্র চৌধুরী ও তার বংশধরদের কৃতিত্ব ছাইচাপা দেয়া হয়। নতুন প্রজন্ম এদের প্রজা কল্যাণমূলক কাজের ফিরিস্তি জানেন না।

হেমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ রাজবাড়ীর দায়িত্ব নিচ্ছেন জেনে এলাকাবাসীরা খুবই আনন্দিত। অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকা সুদর্শন ভবনটি ধ্বংসের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে বলে তারা আশাবাদী।

এলাকার শিক্ষাবিদ আনিসুর রহমান হীরা জানান, এ রাজবাড়ীর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সামন্ত যুগের ইতিহাসের অন্যতম উৎস। অবহেলা অযত্নে বাড়ীটা জীর্ণদশায় উপনীত। ছাঁদে ফাটল ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনটির জরুরী সংস্কার প্রয়োজন। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ভবনটির দেখভালের দায়িত্ব নেয়ায় এটি এখন পর্যটনের অন্যতম উৎস হতে পারে।

হেমচন্দ্রের উত্তরসূরি, ভারতের বোম্বে বসবাসরত বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী পৌলমী গাঙ্গুলী এক ম্যাসেঞ্জার বার্তায়, এ সুখবরে বাংলাদেশ সরকার এবং হেমনগরবাসীকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ দিনের অবহেলিত পুরাকীর্তিটি কালের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: হান্নান মিয়া জানান, প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো হলেও ভবনটি এখনো বেশ মজবুত রয়েছে। এটিকে সংস্কার ও অলঙ্করণ করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য বেশকিছু সুযোগ সুবিধা তৈরি করা হবে। যাতে এখানে এসে পর্যটকরা কিছু নির্মল বিনোদন লাভ করতে পারেন। এজন্য প্রাথমিক অবস্থায় রাজবাড়ী ও তৎসংলগ্ন কিছু ভূমি নিয়মমাফিক অধিগ্রহণ করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। ধাপে ধাপে এসব উন্নয়নমূলক কাজ হবে বলে জানান তিনি।

(জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

কাবা শরিফের ইমাম উদ্বোধন করবেন গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ

টাঙ্গাইল সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে গোপালপুর থানা সদর অবস্থিত। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি অবস্থিত। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মা রিজিয়া বেগম। নির্মাণাধীন মসজিদটিতে ২০১৮ সাল থেকে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের কার্যক্রমও চলে। মসজিদের বাম পাশে মাজারের মতো একটি স্থাপনা রয়েছে। সেখানে একজনের কবর দেওয়ার মতো জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। এখানে সমাহিত হবেন এই মসজিদের নির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম।

মসজিদসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৪৫১ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল বড় মিনার তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৫৭তলা উঁচু ভবনের সমান এই মিনারের ৫০তলা পর্যন্ত থাকবে লিফট সুবিধা। নাম হবে রফিকুল ইসলাম টাওয়ার। নির্মাণ শেষ হলে দিল্লির কুতুব মিনারকে পেছনে ফেলে দিবে রফিকুল টাওয়ার। কুতুব মিনার ২৪০ ফুট উঁচু।

মসজিদটির পশ্চিমাংশে উত্তর-দক্ষিণে বয়ে গেছে যমুনার শাখা ঝিনাই নদী। এটি মসজিদের সৌন্দর্যকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। মসজিদের উত্তর দিকে অবস্থিত অজুখানা। বিশাল বড় অজুখানায় বসে অজু করার জন্য ছোট ছোট চেয়ারের মতো ১১৬টি আসন রয়েছে।

অজুখানার ছাদ ছাইরঙা ক্ষুদ্রকায় পাথরের মতো মোজাইক করা। তাতে মধ্যম গভীর পানির আঁধার। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অজুখানাটি সামান্য বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়তলায় প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল। এখানে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের টাইলস, যা মিশর থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালের চারদিকে একসারি টাইলস লাগানো হয়েছে, যাতে খণ্ড খণ্ড করে পুরো পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ। মিহরাবের পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হয়েছে। এখানে থাকবে জানাজার ব্যবস্থা।

প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন এই মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও এতে সহস্রাধিক বৈদ্যুতিক পাখা যুক্ত করা হবে।

মসজিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। মানে ১৪৪ ফুট করে। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির ছাদের মূল গম্বুজের উচ্চতা ৮১ ফুট। এই গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ১৭ ফুট উচ্চতার আরও ২০০ গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ১০১ ফুট উঁচু চারটি মিনার। এছাড়া ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে।

গম্বুজ আর মিনারগুলোতে দৃষ্টিনন্দন উন্নতমানের টাইলস বসানো। ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ ভ্রমণ পিপাসু অসংখ্য মানুষ এটি দেখার জন্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন ছুটে আসেন এখানে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কিছুদিন মসজিদটি বন্ধ ছিল। আবার তা চালু হয়েছে এবং যথারীতি নামাজও আদায় হচ্ছে। মুখরিত হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের ভিড়ে।

মসজিদটির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ছয়তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে বিনামূল্যে হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এই বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠলে মসজিদ ও নদীর সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।

মসজিদের পাশেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা গাড়ি রাখার স্থান। মসজিদের সামনে রয়েছে কয়েকটি দোকান। খাবার হোটেলসহ আরও আছে শোপিস, আচার, খেলনাসহ বেশ কিছু পণ্যের দোকান। ছোটদের জন্য আছে ট্রেন, নাগরদোলা, নৌকা দোলনি ইত্যাদি খেলার ব্যবস্থা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা নির্মাণ শেষ হলে গিনেস রেকর্ড বুকে স্থান করে নেবে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।

এই মসজিদ ঘিরে আশপাশে তৈরি হচ্ছে ফাইভস্টার হোটেল, আবাসিক হোটেল, মার্কেট, হেলিপ্যাডসহ অত্যাধুনিক সব বিল্ডিং।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। বিশ্বের সকল মসজিদের চেয়ে এর কারুকাজ অন্যরকম। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হলে কাবা শরিফের ইমাম এসে নামাজের ইমামতি করে এর উদ্বোধন করবেন।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-