কালিহাতীতে সাবেক বিচারপতি সাঈদ চৌধুরীর বাড়িতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়িতে সাবেক রাষ্ট্রপতি-বিচারপতি মরহুম আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শনে গেছেন ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে হাইকমিশনার নাগবাড়ি গ্রামে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কালিহাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান।

এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি মরহুম আবু সাঈদ চৌধুরীর মেয়ে শিরিন হাসান ও জামাতা ব্যারিস্টার মনজুর হাসান উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনার প্রথমে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি মরহুম আবু সাঈদ চৌধুরীর মেয়ে শিরিন হাসানের বাড়িতে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে তিনি বিচারপতি মরহুম আবু সাঈদ চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি ও স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত হাই কমিশনার সেখানে অবস্থান করেন।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মিন্নির আলোচিত সেই জবানবন্দী

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিলের পর তার কপি বাইরে প্রকাশিত হয়ে যায়। গত বছরের ২৬ জুন হত্যাকাণ্ডের ৬৬ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির।

তবে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও মামলার আসামিপক্ষ অথবা মিডিয়াকর্মীরা চার্জশিটের কপি ততদিন হাতে পায়নি। ১৮ সেপ্টেম্বর চার্জশিট আদালত গ্রহণ করার পর এই কপি বাইরে প্রকাশ হয়।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মো. মাহাবুবুল বারী আসলামের কাছ থেকে চার্জশিটের কপি পাওয়া যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিহত রিফাত শরীফ বরগুনা থানা এলাকায় ডিস লাইনের ব্যবসা করতেন। রিফাত শরীফ ও মামলার এক নম্বর আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ড অনেক আগে বরগুনা জিলা স্কুলে একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। সে সুবাদে তাদের উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক সেই জবানবন্দি তুলে ধরা হলো:

‘আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি। ২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করাকালীন রিফাত শরীফের সঙ্গে ২০১৭ সালে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় রিফাত শরীফ বামনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিল।

রিফাত শরীফ আমাকে তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। কলেজে যাওয়া আসার পথে নয়ন বন্ড আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জ্বালাতন করত। আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে আমার বাবা ও ছোটভাইকে ক্ষতি করার ভয় দেখাত। বিষয়টি আমি রিফাত শরীফকে জানাইনি।

আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ্য করি। এ কারণে রিফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আমি নয়নের মোবাইল ফোন নম্বরে আমার মায়ের মোবাইল ফোন এবং নয়নের দেয়া নম্বর শেষে ৬১১৩ ও একটি নম্বর শেষে ৪৫ দিয়ে নয়নকে কল, মেসেজ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিতাম।

বরগুনা সরকারি কলেজে পড়াকালীন ধীরে ধীরে রিফাত ফরাজী, রিফাত হাওলাদার ও রাব্বি আকনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

প্রেমের সম্পর্কের কারণে নয়ন বন্ডের বাসায় আমার যাতায়াত ছিল। নয়নের বাসায় দুজনের শারীরিক সম্পর্কের কিছু ছবি ও ভিডিও নয়ন গোপনে ধারণ করে, যা আমি প্রথমে জানতাম না। নয়নের বাসায় আমি প্রায়ই যেতাম এবং আমাদের শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে।

এরপর গত ১৫.১০.১৮ আমি রোজী আন্টির বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল বেলা ব্যাংক কলোনি থেকে নয়ন বন্ড রিকশাযোগে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।

নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রিফাত ফরাজী এবং আরো ৭-৮ জনকে দেখি। শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে এবং নয়নের বাসায় আমার ও নয়নের বিয়ে হয়।

তারপর আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি।

তখন নয়ন বলে, ওইটা বালামে ওঠে নাই। বালামে না উঠলে বিয়ে হয় না। এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখি।

নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস আমি মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে কুয়াকাটা যাই এবং নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি।

আমি নয়নের বাসায় আসা যাওয়ার সময় জানতে পারি নয়ন মাদকসেবী, ছিনতাই করে এবং তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। এ কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয় এবং রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার পূর্বের ভালোবাসার সম্পর্ক আবার শুরু হয়।

গত ২৬ এপ্রিল পারিবারিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ শারীরিক সম্পর্ক, মোবাইলে কথা-বার্তা,  মেসেজ এবং ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ-সবই চলত।

বিয়ের পর জানতে পারি রিফাত শরীফও মাদকসেবী। সে মাদকসহ পুলিশের কাছে ধরা খায়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আমি রিফাতসহ আমার বাবার বাসায় থাকতাম। মাঝে মাঝে তাদের বাসায় যেতাম।

নয়ন বন্ডের বিষয় নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে কথাকাটাকাটি হতো এবং রিফাত শরীফ আমার গায়ে হাত তুলতো।

গত ২৪শে এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোর স্বামী, হেলালের ফোন ছিনাইয়া নিয়েছে। পরে রিফাত ফরাজীও আমাকে ফোন দিয়ে বলে, হেলালের মোবাইলটি রিফাতের কাছ থেকে নিয়ে হেলালকে ফেরত দিতে।

আমি রিফাত শরীফকে হেলালের ফোন ফেরত দিতে বললে রিফাত শরীফ আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে এবং তলপেটে লাথি মারে। রাতে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নয়নকে জানাই এবং কান্না করি।

পর দিন ২৫ এপ্রিল আমি কলেজে গিয়ে নয়নের বাসায় যাই। রিফাত শরীফকে একটা শিক্ষা দিতে হবে এ কথা নয়নকে বললে নয়ন বলে, হেলালের ফোন নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে রিফাত ফরাজী তাকে মারবে।

তারপর আমি বাসায় চলে আসি এবং এ বিষয়ে কয়েক বার নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার স্বামী রিফাত শরীফকে মাইর দিয়া শিক্ষা দিতে হবে, এ পরিকল্পনা করি।

গত ২৬ এপ্রিল আমি কলেজে যাই এবং সায়েন্স বিল্ডিংয়ের পাশের বেঞ্চের উপর রিফাত ফরাজী, রাব্বি, আকনকে বসা পাই। রিফাত হাওলাদার পাশে দাঁড়ানো ছিল। তখন আমি রিফাত ফরাজীর পাশে বসি এবং রিফাত ফরাজীকে বলি, ওকি ভাইটু খালি হাতে আসছ কেন?

এ কথার জবাবে রিফাত হাওলাদার বলে, ওকে মারার জন্য খালি হাত যথেষ্ট।

এরপর রিফাত ফরাজীকে জিজ্ঞাসা করি, নয়ন বন্ড ও রিফাত শরীফ কলেজে এসেছে কিনা?

তখন নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দেয়। সে কোথায় জানতে চাইলে নতুন ভবনের দিকে যেতে বলে এবং ওই সময় নয়ন নতুন ভবনের পাশের দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে আসে। আমি হেঁটে নতুন ভবনের দিকে যাই এবং নয়নের সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারপিটের বিষয়ে কথা বলি।

এরপর রিফাত শরীফ কলেজের ভেতরে আসে এবং আমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য কলেজ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলের কাছে নিয়ে আসে। কিন্তু আমি মোটরসাইকেলে না উঠে সময় ক্ষেপণ করার জন্য পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসি।

রিফাত শরীফ আমার পেছন পেছন ফিরে আসে। তখন রিফাত ফরাজী কিছু পোলাপানসহ আসে। রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে জিজ্ঞাসা করে, তুমি আমার বাবা-মাকে গালি দিয়েছ কেন? রিফাত শরীফ বলে, আমি গালি দেই নাই। ওই সময় রিফাত ফরাজী রিফাতের জামার কলার ধরে এবং রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে।

রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়, রিফাত হাওলাদার এবং আরো অনেকে রিফাত শরীফকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মারধর করতে করতে এবং টেনে হেঁচড়ে ক্যালিক্সের দিকে নিয়ে যায়।

ক্যালিক্সের সামনে তারা রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আমি তখন সবার পেছনে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওই সময় নয়ন বন্ড ক্যালিক্সের সামনে এসে রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। মারপিটের মধ্যেই রিফাত ফরাজী টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার দৌড়ে যায় এবং রিফাত ফরাজী দু’টি দা ও টিকটক হৃদয় এবং রিফাত হাওলাদার লাঠি নিয়ে আসে।

একটি দা দিয়ে নয়ন বন্ড ও অন্য দা দিয়ে রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে কোপাচ্ছিল। রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রাখে যাতে রিফাত শরীফ পালাতে না পারে।

রিফাত শরীফকে কোপাইতে দেখে আমি নয়ন বন্ডকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। দায়ের কোপের আঘাতে রিফাত শরীফ রক্তাক্ত হয়। সে রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্ব দিকে হেঁটে যায় এবং আমি রাস্তায় পড়ে থাকা জুতা পরি।

উপস্থিত একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দিলে আমি রিকশা করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এরপর আমার বাবাকে ফোন করি। আমার বাবা ও চাচা হাসপাতালে আসে।

এরপর রিফাত শরীফকে বরিশাল পাঠানো হয়। আমার কাপড়-চোপড়ে রক্ত লেগে থাকায় আমি বাসায় চলে যাই। পরে আমি জানতে পারি রিফাতের অবস্থা খারাপ।

এরপর নয়নকে ফোনে বলি তোমরা ওকে যেভাবে কোপাইছো তাতে তো ও মারা যাবে এবং তুমি আসামি হবা। তারপর ওর অবস্থান জানতে চাই এবং পালাতে বলি। দুপুরের পর খবর পাই রিফাত শরীফ মারা গেছে।’

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাঠ করে শোনানোর পর এ প্রসঙ্গে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নিকে সাক্ষী থেকে আসামি করা এবং রিমান্ড ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় সবকিছুই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেয়ার একটি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ মাত্র। একটি বিশেষ মহলের ফোনে পুলিশের যেমন দরকার তেমনটাই লিখে মিন্নির স্বাক্ষর নিয়েছে। আমরা বরগুনা জেল সুপারের মাধ্যমে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। যা শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।

এই হত্যার দায় আমার মেয়ের ওপর চাপিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে বাসা থেকে ডেকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নেয়া হয়। পরবর্তীতে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

আদালতের কাছে দেওয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রসঙ্গে মিন্নির পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন, এ মামলার এজাহারের বিবরণ, চার্জশিট, মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। মিন্নি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে, যা এখনো নথি সামিলে রয়েছে। আমরা এসব অসঙ্গতিগুলো পর্যালোচনা করে আদালতে উপস্থাপন করব।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে জিজ্ঞাসবাদ করা হয়। সে সময় মিন্নি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় যে জবানবন্দি দিয়েছে, পুলিশ তাই এখানে উল্লেখ করেছে। আমরা রিফাত হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় আন্তরিক ছিলাম।

বাংলাদেশের বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে৷ বেকসুর খালাস পেয়েছেন চার আসামি৷ এছাড়া নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে মারা গেছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে সরকারি ৭০ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করে রাখা সরকারি ৭০ বস্তা চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এই চাল মজুত করার অভিযোগে দোকান মালিক তুলু মিয়া (৪০) নামে এক একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া তুলু মিয়া মহেড়া ইউনিয়নের মহেড়া গ্রামের বান্দু মিয়ার ছেলে। সে মহেড়া বাজারে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে লাকড়ি ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে বারোটার দিকে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের মহেড়া পিটিসি বাজারের ওই দোকানঘর থেকে চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়।

জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ৪,৫,৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫২০ জন দুস্থ অসহায়দের নিকট সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ৩০ কেজি করে বিক্রি করেন স্থানীয় ডিলার আলমগীর হোসেন।

চাল উত্তোলনের পর অনেক কার্ডধারী তাদের চাল স্থানীয ব্যবসায়ী তুলু, মফিজ, মোয়াজ্জেম, সুইটি, কাশেম, করিম ও হবির নিকট বিক্রি করেছেন বলে ডিলারের আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন। সেই চাল বিক্রির জন্য তুলুর গুডাউনে জমা করে রাখেন তারা।

এদিকে দুস্থদের জন্য দেয়া সরকারি চাল মজুদ রাখার খবর পেয়ে রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ৭০ বস্তা চালসহ তুলু মিয়াকে আটক করেন তারা।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালসহ একজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, সরকারি চাল মজুদ রাখার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ট্রাম্প সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) টুইটে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে তাদের নিকটতম সহযোগী একজন করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প কোয়ারেন্টিনে চলে যান।

ট্রাম্প টুইটে জানিয়েছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই কোয়ারেন্টিনে চলে গেছি। সংক্রমণ সেরে উঠতে শিগগিরই আমরা চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করব। এবং আশা করি আমরা শিগগিরই একসঙ্গে করোনা জয় করব। ’

এর আগের টুইটে তিনি জানান, ৩১ বছর বয়সী হোপ হিক্সের করোনা ভাইরাস পজিটিভ আসার পর তারা উভয়ই কোয়ারেন্টিনে চলে যান।

হোপ হিক্স ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা। ট্রাম্পের সঙ্গে তার সংস্পর্শ ছিল। অর্থাৎ ট্রাম্পের নিকটতম সহায়ক তিনি। এছাড়া হোপ হিক্স এখনও করোনা ভাইরাস পজিটিভ বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

বিবিসি জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতে ওহিওতে একটি টিভি বিতর্কের জন্য এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন হোপ হিক্স। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের সঙ্গে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্লেন থেকে নামার সময় হিক্সকে মাস্ক পরা ছাড়াও দেখা গেছে ছবিতে।

এছাড়া বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্টের আরও সংস্পর্শে যেতে হয়েছিল হোপ হিক্সকে। সেদিন মিনেসোতাতে সমাবেশ করতে যাওয়ার সময় মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাতে ট্রাম্প টুইটে বলেন, কঠোর পরিশ্রম করতে সক্ষম হোপ হিক্সের করোনা ভাইরাস পজিটিভ এসেছে। ভয়ানক!

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে ট্রেন কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর হাতিয়া এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও চারজন। আর এঘটনায় ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে এক ঘন্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্রেনের একটি বগি।

পুলিশ জানায়, সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে কালিহাতীর হাতিয়া এলাকায় পৌঁছালে উত্তরবঙ্গগামী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ডভ্যানের চালক নিহত হয়। আহত হয় আরও চারজন।

আর এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ঘন্টাব্যাপী রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধার করে লাইন থেকে সরিয়ে নেয়া হলে রেল যোগাযোগ আবার সচল হয়।
(ফরকাম শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা খরকু মুক্তারের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ-

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নূরুল ইসলাম খান (খরকু মুক্তার)এর ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সন্ধ্যানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত নুরুল ইসলাম খানের সভাপত্বিতে শাহাদত বার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান রানা।

সভায় বক্তব্য রাখেন, সংগ্রামপুর ইউনিয়নের যুগ্ম সচিব আঃ করিম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকার, দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিরুল হক, ঘাটাইল পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক খলিলুর রহমান তালুকদার প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী নবীন লীগ, কৃষকলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ সহ এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-