বাসাইলে কালভার্ট ধসে ৩০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

টাঙ্গাইলে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে বাসাইল উপজেলার একটি কালভার্ট ধসে পাশের তিন উপজেলার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার দক্ষিণপাড়ার গ্যাড়ামাড়া বিল সংলগ্ন বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কে অবস্থিত কালভার্ট ধসে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বাসাইল উপজেলায় গত দুইদিন ধরে বন্যার পানি পুনঃরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক ডুবে গেছে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গ্যাড়ামাড়া বিলে পানি বৃদ্ধির কারণে বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কে ওই কালভার্টের নিচ দিয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। স্রোতের কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কালভার্টটি হঠাৎ ধসে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল-নাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বাসাইল উপজেলার আদাজান, কাঞ্চনপুর, বিলপাড়া, বালিনা, ভোরপাড়া, হাবলা, মির্জাপুর উপজেলার কূর্নী, ফতেপুর, পাটখাগুড়ী, মহেড়া, ভাতকুড়া, আদাবাড়ি এবং দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া, বর্নীসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকে। কালভার্টটি ধসে যাওয়ায় উল্লেখিত এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রোজদিদ আহমেদ জানান, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার মিটার কালভার্টটি নির্মাণ করেছিল।

আগেই ওই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নতুন করে পানি বৃদ্ধির ফলে প্রবল স্রোতে কালভার্টটি ধসে যায়। শুকনো মৌসুমে পুনরায় কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ করা হবে।

বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, ইতোপূর্বেই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

বাসাইল উপজেলায় নতুন করে বন্যার পানি প্রবেশ করায় কালভার্টটি ধসে গেছে। স্থানটি পরিদর্শন শেষে ২০ মিটার সেতু নির্মানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

পানিতে ডুবে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে দেলদুয়ারে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বান্দাবাড়ী গ্রামে পানিতে ডুবে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আবুশামা নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

তিনি পাথরাইল ইউনিয়নের পাইজাদপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে আবুশামা(৩৫) মাছ ধরতে বান্দাবাড়ী গ্রামের জলাশয়ে যান। এ সময় ওই গ্রামের মাইনুল হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম জরুর সেচ মেশিনের পাশে গেলে তিনি পানিতে ডুবে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন।

মাছ ধরতে যাওয়া অন্যরা আবুশামাকে জলাশয়ের ঘাসের সাথে ভেসে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে দেলদুয়ার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

নিহত আবুশামার স্ত্রী বন্যা বেগম স্বামীর অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেনা। তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ৩৫দিন বয়সী শিশুপুত্র ও ১২ বছরের কন্যাকে নিয়ে তিনি কীভাবে দিন কাটাবেন তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

এদিকে, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আবুশামার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

পাথরাইল ইউপি চেয়ারম্যান হানিফুজ্জামান লিটন জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতিতে তার পানিতে ডুবে রয়েছে। ওই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আবুশামার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইতোপূর্বে একাধিকবার মোবাইল ফোনে জানালেও বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি।

দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম সায়েদুল হক ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল বিউবো’র (বিক্রয় ও বিতরণ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদ জানান, সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে গ্রাহক নিজ উদ্যোগে পুনঃসংযোগ নেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি জানান, আড়াই হাজার গ্রাহকের সবার খোঁজখবর রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সেজন্য গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন আছে কী না তা তিনি জানাতে পারছেন না।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে নিশো’র বাবা মুক্তিযোদ্ধা ভোলা মিয়ার দাফন সম্পন্ন

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা আফরান নিশো’র বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ভোলা মিয়া। তিনি টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ভারই দ্বীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায়  ভূঞাপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

তারআগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর উপস্থিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান প্রদর্শন করা হয়।

পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার মরদেহে পুষ্পঅর্পন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এরআগে ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়িতে আব্দুল হামিদ ভোলা মিয়ার মরদেহ বিকাল ৩ টার দিকে উপজেলার ভারই গ্রামের নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। এরসময় চারদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়-স্বজনসহ অন্যান্যরা। নেমে আসে শোকের ছায়া।

বীরমুক্তিযোদ্ধার জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সাংসদ ছোট মনির, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম হোসাইন, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ভোলা মিয়ার ছেলে ও নাট্য অভিনেতা আফরান নিশো প্রমুখসহ অন্যান্যরা।

প্রসঙ্গত: বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ভোলা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এ  আক্রান্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৭টায় সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। পরে জানাযা শেষে সন্ধ্যায় পৌরসভার ছব্বিশাস্থ ভূঞাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডিদের পুনঃনিয়োগ দিলো সরকার

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য পুন:নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী একেএম ফয়জুল্লাহর মেয়াদও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ এর ২৮(২) ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তার বর্তমান চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে তিন বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে পুন:নিয়োগ দেয়া হলো।

একেএম ফয়জুল্লাহর পুন:নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও একই কথা বলা হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ায় ষষ্ঠবারের মতো এই পদে বসতে যাচ্ছেন বিতর্কিত তাকসিম এ খান।

২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথম নিয়োগ পান তাকসিম এ খান। এরপর চার দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর তার পঞ্চমবারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক নোটিশে ১৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ বোর্ড সভার আয়োজন করা হয়।

সভার একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল তাকসিম এ খানকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার এই পুন:নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। রিটে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সচিব, ঢাকা ওয়াসার এমডি সহ চার জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের মতোই নানা অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী ফয়জুল্লাহর বিরুদ্ধেও; এ নিয়ে আদালতে মামলাও গড়িয়েছে। তাকসিমের মতো ফয়জুল্লাহ নয় বছর ধরে ওয়াসার এমডির পদে রয়েছেন। এতো সব অভিযোগের পরও ৭৮ বছর বয়সী ফয়জুল্লাহকে ফের নিয়োগ দিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর ওয়াসার বোর্ড সভায় সুপারিশ করা হয়।

বোর্ডের সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ফয়জুল্লাহকে নিয়োগের কথা বলা হয়।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ পুনঃনিয়োগ কার্যকর হবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ফয়জুল্লাহর বর্তমান নিয়োগের মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর শেষ হচ্ছে। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই তাকে এক বছরের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড গঠন হলে তিনি প্রথম দফায় তিন মাসের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পেলেও পরে পাঁচ দফায় পুন:নিয়োগ পেয়ে গত ৯ বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে টাকার বিনিময়ে মিলছে বন বিভাগের জমি!

বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোনো কিছুই করার বিধান নেই। তবুও টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিলছে জমি। আর সেই জমিতে আধা-পাকা ঘর বা দালান কিংবা টয়লেট করতে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাকে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ কারণে ওই উপজেলায় দিন দিন বন বিভাগের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বনের গাছ কেটে জমি দখল নিয়ে গড়ে তুলছেন ঘর-বাড়ি।

সরেজমিন সখীপুর উপজেলার হতেয়া ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। চারিদিকে সারি সারি গাছ আর ভেতরে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি। শতশত নতুন নতুন টিনের ঘর আর দালানে ভরে গেছে পুরো বন। দেখলেই মনে হয় এ যেন নতুন একটি গ্রাম। না এটি কোন গ্রাম নয়। এটি বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন প্রকল্প।

কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে জমিগুলো সামাজিক বনায়নের নামে দখলে নিয়ে সেখানে নির্মাণ করছেন বড়বড় দালান ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। এতে করে সামাজিক বনায়নের নাম করে দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ভূমি।

বনের ভেতর চোখ যেতেই দেখা যায় নতুন টিনের তৈরি ঘর। সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকার ঘর ছাড়াও আধা-পাকা করে নির্মাণ করা হয়েছে গরুর খামার। বাড়িতে অপরিচিত লোক এসেছেন দেখে এগিয়ে আসেন এক নারী। বাড়িটি কার জিজ্ঞেস করলেই উত্তরে তিনি জানান, বাড়িটি তার স্বামীর। নাম আব্দুল লতিফ।

বন বিভাগের জায়গায় ঘর তুলেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, থাকার জায়গা নেই। তাই এই জমিটি বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে। আবার টয়লেট, রান্নাঘর, থাকার ঘর ও গরু রাখার ঘরের জন্য আলাদা আলাদা টাকা দিতে হয়েছে। তা না হলেতো ঘর তুলতে দেয় না।

একই অবস্থা আব্দুল কাদের মোল্লা, জুলহাস মিয়া, আব্দুল জয়নাল মিয়ার বাড়ি। তারা বাড়ি করেছেন ৬-৭ মাস আগে। তাদের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় তারা বন বিভাগের জমিতে নতুন টিনের ঘর তৈরি করেছেন।

এছাড়া পাশেই সমির সিকদারের বাড়ি। তার দখলে থাকা জমিতে রয়েছে তিনটি ঘর। কিন্তু তিনি নতুন করে আধা-পাকা ঘর নির্মাণের জন্য বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।

১০০ গজ দূরেই চোখে পড়লো টিন সেড ভবন। সেখানে গিয়ে খোঁজ করা হয় ভবনের মালিকের। একটু পরেই এসে হাজির এক নারী। তিনি জানান, এই ভবনের মালিক হান্নান মিয়া। তিনি তার স্বামী।

কিভাবে বন বিভাগের জমিতে ভবন করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি জমি নেওয়া থেকে ভবন নির্মাণের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বিট কর্মকর্তাকে। আরো টাকা চেয়েছেন কিন্তু তা দেওয়া হয়েছে কি না আমি জানি না। তবে টাকা দেওয়ার পরই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে এভাবেই সরকারি জমি প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। আবার সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মাণও করছেন। এভাবে চলতে থাকলে পুরো বন উজাড় হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলার বাজাইল বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, গত এক মাস আগে এখানে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। টাকার বিনিময়ে ঘর নির্মাণের বিষয়টি জানা নেই।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে উপবৃত্তির নামে ‘বিকাশ প্রতারণা’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা নিশ্চিত করার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কলেজশিক্ষক পরিচয় দিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানান প্রতারণার শিকার শিক্ষাথী ও অভিভাবকরা।

জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্টহারে সরকারি উপবৃত্তি পেয়ে আসছে। সম্প্রতি কলেজ পর্যায়ে উপবৃত্তি প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে কলেজে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তালিকা আসার পর থেকেই শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা ও কলেজশিক্ষক পরিচয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফোন করছে প্রতারক চক্র।

শিক্ষার্থীদের কাছে উপবৃত্তির টাকা পেতে নিদিষ্ট অঙ্কের টাকা বিকাশে শর্ত দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টাকা পাঠানোর পরেই সেই নম্বরটি বন্ধ করে দিচ্ছি প্রতারক চক্র। এভাবে তারা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

প্রতারণার শিকার উপজেলার সাগরদিঘী এলাকার বেইলা গ্রামের জব্বার হোসেন বলেন, গত মঙ্গলবার ফোন আসে কলেজছাত্রী আকলিমার কাছে। ফোনে বলা হয় ‘তোমার দুই বছরের উপবৃত্তির টাকা জমা হয়েছে। তুমি কি টাকা তুলবে না তুলবে না। টাকা তুলতে চাইলে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে ০১৮৭৩০০৮১৮৯ বিকাশ নম্বরে ২৭ হাজার ৭০০ টাকা পাঠাও।’

এই কথার ওপর ভিত্তি করে টাকা পাঠায় আকলিমা। টাকা পাঠানোর পর থেকে ওই নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

একইভাবে সানবান্ধা গ্রামের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারাক চক্র।

সাগরদিঘী কলেজের অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন জানান, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। কলেজের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, উপবৃত্তির বিষয়ে টাকা চাওয়া বা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর্থিক প্রলোভনে প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে টাকা লেনদেন না করতে সর্তক থাকতে বলেন তিনি। প্রয়োজনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, কলেজ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে বজ্রপাতে ট্রাক চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ( ৩০ স্বেপ্টেম্বর ) সন্ধ্যায় উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলিতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাক চালক তোফাজ্জল হোসেন তপু (৩৯) পৌলি গ্রামের মৃত রবি মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, বিকেলে তপু বাড়ির পাশে পৌলি নদীতে শিবজাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। সন্ধ্যায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তোফাজ্জল্ল আহত হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিসৎক তোফাজ্জলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলেঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শুকুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবক নিহত

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস ফেরত মহর আলী তাঁর স্ত্রী ও এক ছেলে-মেয়েকে নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বানাইল ইউনিয়নের ভররা গ্রামে শ্বশুরালয়ে বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে তিনি প্রতিদিনের ন্যায় আজও মাছ শিকারে বের হন। কিন্তু সকাল থেকেই মির্জাপুরের বিভিন্ন স্থানে আকাশে মেঘের গর্জনসহ বজ্রপাত দেখা যায়।

এক পর্যায়ে সকালের ওই সময়ে বাড়ির পাশে ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বানাইল ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্বোধন

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার রাস্তা হবে সংস্কার’-এই শ্লোগানের ধারাবাহিকতায় মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার অনুযায়ি গ্রামীন রাস্তা জি.ও. বি রক্ষনাবেক্ষনের আওতায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলাধীন মোগলপাড়া-সিংগুরিয়া ভায়া দিঘলকান্দি, আনেহলা ইউপি রাস্তার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ঘাটাইলের মোগলপাড়া নামক স্থানে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিয়ার রহমান এ কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাব এসি: ইঞ্জিনিয়ার এসএম শাহাদত হোসেন, সিও ইফসুফ আলী ও কার্য সহকারি প্রমুখ।

লেবার কন্ট্রাক্ট সোসাইটি ( এলসিএস) বা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দলের মাধ্যমে অফ পেমেন্টের ভিত্তিতে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। দারিদ্র বিমোচন প্রক্রিয়ার এ কাজে ৭ জন দু:স্থ্য নারী প্রতিদিন ৩০০ টাকা বেতনে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় বাবা হারালেন আফরান নিশো

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাট্য অভিনেতা আফরান নিশোর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হামিদ ভোলা মিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকা শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

জানা যায়, আব্দুল হামিদ মিয়া ভোলা দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এ আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

পরিবার সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর ভূঞাপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে পৌরসভার ছব্বিশাস্থ ভূঞাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হামিদ মিয়া ভোলার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

Scroll Up