ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদ ২০ শতাংশ

এবার ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। আর ক্রেডিট কার্ডে সুদ আরোপ শুরু হবে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের পর।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়। আর ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নতুন এসব নির্দেশনা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে নির্দেশনা দিয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ফলে ব্যাংকগুলো ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে পারত।

তবে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ শতাংশ সুদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

ক্রেডিট কার্ড থাকলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে না। আর ক্রেডিট কার্ডের সুদহার কেবল অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে।

গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডরে মাধ্যমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ উত্তোলন করতে পারেন, এর বেশি নগদ উত্তোলনের সুযোগ নেই।

কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো কোনো ব্যাংক বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকাশ নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা প্রদান করছে, যা ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

আবার এ ধরনের ঋণের ওপর অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আদায় করছে, যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। আবার কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বকেয়া বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ করছে এবং অপরিশোধিত বিলের বিপরীতে বিলম্ব মাশুল আদায় করছে।

এ জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুদহার হবে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। সুদ আরোপ করা যাবে ঋণ পরিশোধের তারিখ শেষ হওয়ার পর। বিলম্ব পরিশোধিত ঋণের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে।

জানা গেছে, ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষে রয়েছে দি সিটি, ব্র্যাক, ইস্টার্ন ও স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার ২৭ শতাংশ। এর বাইরে কিছু ব্যাংক কম সুদও নেয়। এর ফলে বেশির ভাগ গ্রাহকের সুদ কমে আসবে।

(প্রথমআলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

কবুতরের খামারে মধুপুরের শামছুদ্দিন স্বাবলম্বী

টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলার কাজী শামছুদ্দিন। বয়স ৩৮ বছর। বাবা মৃত আব্দুল করিম। তিনি বিরল জাতের কবুতরের খামার করে সাড়া ফেলেছেন দেশে।

কাজী শামছুদ্দিনের খামার দেখতে দেশের নানা জেলার লোকজন ভীড় করেন। গরুর খামার, হাঁসের খামার, দেশি কবুতরের খামার করেছেন এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে দেশ জুড়ে। তবে দেশি বিদেশী বিরল জাতের কবুতরের খামার গড়েছেন এমন লোকের সংখ্যা কম। অসাধ্যকে সাধ্য করে শখের বশে খামার করে শামছুদ্দিন এখন স্বাবলম্বী।

ফেসবুক ও অনলাইনের মাধ্যমে কবুতর ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন তিনি। তার খামারের প্রতিটি কবুতরের দাম ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। খামারটি তার টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার মালাউড়ি গ্রামে।

মালাউড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে পাকা ঘরে শুরু করেছেন তিনি কবুতরের খামার। বিশাল ঘরের মধ্যে খামার করেছেন। সহজে বৃষ্টির পানি উঠে না। সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন খামার। সারিবদ্ধভাবে বক্সগুলো রেখেছেন ঘরের মধ্যে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটান।

২০১৪ সালের কথা। কাজী শামছুদ্দিন তার চাচা আমজাদ আলীর হাতে কবুতর দেখে তার সাধ জাগে কবুতর পালনের। প্রথমে মধুপুর হাট থেকে ১ জোড়া গিরিবাজ কবুতর ৩০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। বাড়িতে বক্স বানিয়ে শুরু করেন কবুতর পালন। এভাবে হাট বাজারে ঘুরতে ঘুরতে দেখেশুনে কবুতর কিনে এনে বাড়িতে পালন করেন।

ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ আশ পাশের জেলা থেকে প্রতিজোড়া কবুতর ৫ হাজার, ১০ হাজার টাকা দামেও ক্রয় করেছেন বলে তিনি জানান। এভাবে শখ থেকে গড়ে তোলেছেন বিরল জাতের কবুতরের খামার। তার খামারে এখন ১১০টি কবুতরের বক্স রয়েছে। একসাথে ১১০ জোড়া কবুতর পালন করতে পারেন।

শামছুদ্দিনের খামারে বর্তমানে ৩০ জাতের বিদেশী দুর্লভ জাতের কবতুর রয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকান ইংলিশ টামোপিটার, লাহুর সিরাজী, হাউজ পিজন, সুন্ডিয়ান, কিং পিটার, আর্জএনজেল, আমোরিকানজেইড, মোড়হেন্ড, এস পেনিস করলা, শ্যালো, ডেনিস স্টামলার, বুখারা, মং, মরেশ পিটার, এলমন পিটার, মেঘ পাই, মডেনা, রাশিয়ান টামলার, পরমনা, আমেরিকান, নানা আমেরিকান, হোমা, গিরিবাজ, বিদেশী গিরিবাজ আরও অনেক জাত।

এসব কবুতরকে নানা জাতের খাদ্য দিতে হয়। পালন করা হয় সৌখিনভাবে। কবুতরের যত্নের জন্য সে নিজে ও তার একজন শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন দিতে হয় খাদ্য। খাদ্যের মধ্যে গম, ভূট্টা, মশুর ডাল, খেসারি ডাল, পাকনা, বাজরা, সরিষা, ঘাসের বীজ, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, কুসুম ফুলের বীজ, রেজা, কালো মটর, সবুজ মটর ভাবরী।

কবুতরের খামারে মধ্যে বক্সের সামনে খাদ্যের বক্স দেওয়া আছে। এখানে পানি ও খাদ্য দিয়ে দেন শামছুদ্দিন।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, বাজারে নিয়ে এই কবুতর বিক্রি করতে হয় না। বাড়ী থেকে কিনে নেয় সৌখিন মানুষরা। অনলাইন ও ফেসবুকের মাধ্যমে ও বিক্রি করা হয়। দেশের বাহিরেও এ কবুতর বিক্রি করা হয়।

তার খামারে এখন ১৫-২০ লক্ষ টাকা পুঁজি রয়েছে। তার প্রতিমাসে আয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ব্যয় ২০-৩০ হাজার টাকা বলে কাজী শামছুদ্দিন জানান।

(উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী সাত্তার আটক

টাঙ্গাইলে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মো. আ. সাত্তার (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

মাদক ব্যবসায়ী শহরের কাজীপুর দক্ষিনপাড়া গ্রামের মো. শুকুর মাহমুদের ছেলে। এ ঘটনায় আরো দুই আসামী পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে এসআই প্রতিমা রানী তরফদার ও এএসআই মো. মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আ. সাত্তারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আ. সাত্তারসহ আরো অজ্ঞাত দুইজন আসামী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন আসামী আ. সাত্তারকে গ্রেফতার করা হলেও বাকি দুই আসামী পালিয়ে যায়।

পরে আ. সাত্তারের ঘরের খাটের নিচে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক বিক্রির ৪৫ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। আ. সাত্তারের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে চিহ্নিত আসামী আ. সাত্তারে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করা হয়। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকসহ যে কোন তথ্য দিয়ে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে ৮ জুয়াড়ি আটক

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় জুয়া খেলা অবস্থায় আট জুয়াড়িকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভাতশালা গ্রামের মিয়ার চাঁনের বসত ঘরের ভেতর থেকে জুয়াড়িদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

জুয়ার আসর থেকে নগদ ২৪৬৩০ টাকা ও ১ প্যাকেট তাস জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার ভাতশালা গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দিনের ছেলে মো.ফরহাদ হোসেন (৩২), একই গ্রামের মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো.মনতাজ আলী (৫৫), মৃত খাদিম বেপারীর ছেলে মো.সামছুল মিয়া (৪৫), শুনসী গ্রামের মো.লালচাঁন মিয়ার ছেলে মো.জামাল মিয়া (৪৫), একই গ্রামের মৃত জিন্নত আলীর ছেলে মো.আঃ রাজ্জাক (৩৫), মৃত বাকু মিয়ার ছেলে মো.আরান মিয়া (৪৫), মির্জাপুর গ্রামের মো.হুমায়ুন মিয়ার ছেলে মো.হাসান মিয়া (২২) ও কোলকোষ্টিয়া গ্রামের মো.সালাম মিয়ার ছেলে মো.মাসুদ মিয়া (২৫)।

এ ঘটনায় টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে জুয়া আইন ১৮৬৭ ধারায় থানায় মামলা রুজু করা হয়।

নাগরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলম চাঁদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

একজন আল্লামার প্রয়াণ ও …

শতবর্ষী কোনো ব্যক্তির পক্ষে এতটা মনযোগের কেন্দ্রে থাকার ঘটনা বেশ বিরল। কিন্তু আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

১৯১৬ সালে জন্ম নেয়া শফী তার অনুসারী ও সমর্থকদের কাছে যেমন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ধর্মীয় নেতার স্থানে ছিলেন, ঠিক তেমনই তার সমালোচকদের কাছে ছিলেন সমানভাবে নিন্দিত।

শফী দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন যখন তার বয়স ইতোমধ্যেই নব্বইয়ের কোঠা পার হয়েছে, যে বয়সে কিনা বেশিরভাগ মানুষই সামর্থ্যহীন হয়ে যান বা জনজীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন।

২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত, নিজের হাজার হাজার ছাত্র, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় কিছু অনুসারী বাদে বাংলাদেশের খুব বেশি মানুষ আহমদ শফীর নামও হয়তো শোনেননি।

আল্লামা শফীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ঘটনারই রূপ দিয়েছে তার শিক্ষার্থীরা।

প্রথমটি ঘটে ৫ই মে, ২০১৩ সালে। সেদিন তিনি ও তার সহযোগীরা হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। পুরো রাজধানী তারা অবরুদ্ধ করে রাখেন। শেষ পর্যন্ত সরকারের নৃশংস বলপ্রয়োগের শিকার হয় তাদের ওই কর্মসূচি।

সেবার পিছু হটলেও, ওই ঘটনা আল্লামা শফীকে তথাকথিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজত-ই-ইসলামের ছায়ায় এক রাজনৈতিক শক্তিস্থলে পরিণত করে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি হলো দেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদ্রাসাতে সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভ। ওই বিক্ষোভের ফলে তিনি ওই মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অথচ, তিনি চার দশক ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে এসেছেন। এর কিছু সময় পরই তিনি মারা যান। কিন্তু তার আগে তাকে হাসপাতালে পাঠাতে বেশ বিলম্ব হয়ে যায়, কেননা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা ছিল তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে বের হতে দিলেই বাইরে মোতায়েন থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করবে।

তার মাদ্রাসা আল-জামিয়াতুল আলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম, যেটি হাটহাজারী মাদ্রাসা নাম বেশি পরিচিত, দেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বা “বেফাকুল মাদারিস”-এর চেয়ারম্যানও ছিলেন। তার সংগঠন হেফাজতের প্রতিষ্ঠা ২০০৯ সালে। প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মাদ্রাসা ছাত্রের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা।

২০১৩ সালে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন ও ঢাকা অবরোধের মাধ্যমে রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠে হেফাজত। তাদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল সংবিধান সংশোধন করে “মহান আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন” বাক্যটি পুনর্বহাল করা; কোরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোন আইন হবেনা বলে ঘোষণা দেয়া; ব্ল্যাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) আইন পাশ করে তাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা; নারী ও শিক্ষা বিষয়ক জাতীয় নীতির পরিবর্তন; আহমেদিয়া গোষ্ঠীকে অমুসলিম ঘোষণা করা; ও, “ব্লগারদের” বিচার করা।

হেফাজতের ঢাকা অবরোধ ও শাহবাগ আন্দোলন প্রায় একই সময়ে ঘটে। আওয়ামী লীগ ও দলটির মিত্রদের সমর্থনপুষ্ট সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক শাহবাগ আন্দোলনের মূল দাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি ছিল এক জটিল সন্ধিক্ষণ। সাত মাস পরেই দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে অসম আচরণের অভিযোগ তোলে। ওই বিচারে অভিযুক্তদের বেশিরভাগই ছিলেন বিরোধী জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক জামায়াতে ইসলামির নেতারা।

হেফাজতের জনশক্তি ও জমায়েত হবার শক্তি দেখে বিএনপি তাদের অবরোধে সমর্থন দেয়। আর এই কারণেই হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুল করতে সরকার আরও বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে। সরকারি অভিযানের ফলে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

আল্লামা শফী ও তার বেশিরভাগ সহযোগীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। অনেকে গ্রেফতার হন। তবে নেতা হিসেবে শফীকে রেহাই দেওয়া হয়। আর সেখান থেকেই ক্ষমতাবান এক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে শফীর উত্থানের সূত্রপাত।

শফীর রাজনৈতিক উত্থান কত দ্রুত ছিল তার একটি উদাহরণ হলো, ওই ঘটনার ৫ বছর পর ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর — অর্থাৎ, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ সপ্তাহ আগে — শফীর সংগঠন বেফাকুল মাদারিস সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি গণসংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানায়।

আল্লামা শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গণসংবর্ধনায় অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একজন কর্তব্যরত সেনা জেনারেল জয়নুল আবেদীন, যিনি পরে মারা যান। মেজর জেনারেল আবেদীন ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন সামরিক সচিব। সরকার ও শফীর মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি তিনিই দেখভাল করতেন বলে অনেকে বর্ণনা দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা চলার সময়ই ওই সমাবেশে একজন জেনারেলের প্রকাশ্য বক্তৃতা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। ওই সমাবেশেই কওমি ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রির সমমর্যাদা দেওয়ায় শেখ হাসিনাকে “কওমি জননী” উপাধি দেওয়া হয়।

রাজনীতিতে আসলেই শেষ কথা বলে কিছু নেই। যেই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা একসময় শফীকে নারীদের বিরুদ্ধে তার তির্যক মন্তব্যের জন্য তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, সেই হাসিনাই অত্যন্ত আগ্রহভরে শফীর সংগঠনের দেওয়া উপাধী গ্রহণ করলেন।

২০১৩ সালের কওমি সমাবেশের উপর আক্রমণ আর পরবর্তীতে কওমি ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়টাতে, দেশের জাতীয় পাঠ্যসূচিতে নীরবে বড় কিছু পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল। অনেক অমুসলিম লেখকদের লেখা বিদ্যালয়ের পাঠ্য বইগুলো থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। ইসলামবাদী রাজনীতিকদের পছন্দসই লেখা ঢুকে পড়ে।

বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কঠোরতর শাস্তির বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।

আল্লামা শফী তার বিভিন্ন দাবি আদায় করেছেন, তবে তেমন প্রচারণা ছাড়াই। এতে করে ক্ষমতাসীন দল ও তার সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী, যারা নিজেদের প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করে, তাদের সম্ভাব্য প্রতিরোধ বা আপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়।

তার কটূক্তিমূলক মন্তব্য — যেমন, তিনি বলেছিলেন রাস্তায় নারীরা বের হলে পুরুষদের মুখে লালা বের হয় — নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। আর এ কারণে তিনি “তেঁতুল হুজুর” উপাধীও পান।

নারী শিক্ষার বিপক্ষে তার প্রকাশ্য অবস্থান ছিল রক্ষণশীল ইসলামের এমন এক সংস্করণ, যা তালেবান শাসনাধীন আফগানিস্তানের সাথেই তুলনীয়। এ কারণেই পশ্চিমা অনেক দেশ শফীর সাথে সরকারের জোট নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। এ নিয়ে নিজেদের অস্বস্তিও গোপন করেননি তারা।

কিন্তু কিছু সুবিধা পেলেও, গোপনে সরকারের সাথে লেনদেন তার জন্য কিছু সমস্যাও সৃষ্টি করেছে। মাদ্রাসা ও হেফাজতের ভেতর পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অভ্যন্তরীন অন্তর্কোন্দল শুরু হয়। ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর প্রতি তার বিশেষ আবেগ হয়তো তার সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

আর এর ফলেই মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে বহিষ্কার হতে হয়, যিনি হয়ে উঠেন তার প্রতিপক্ষ। আরো কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সাথে আনাস মাদানীর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ছাত্র বিদ্রোহে।

শফীর ছেলে মাদানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সরকার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা আদায় করে কওমি আন্দোলনের মুরুব্বী ঘরানার ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাপিয়ে রাখা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্রদের লেখা থেকে দেখা যায়, সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে হেফাজতের নিরবতাও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিলো।

শফীর অনুপস্থিতিতে সবার মনেই প্রশ্ন যে কওমি আন্দোলন ও হেফাজত এখন কোনদিকে ধাবিত হবে। শফী-পরবর্তী হাটহাজারী মাদ্রাসা ও হেফাজতের নেতৃত্ব কেমন হবে, তা অনুমান করার সময় এখনও আসেনি।

আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল, শফী জীবিত থাকা অবস্থায়ই সরকার হস্তক্ষেপ করে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি অর্থাৎ শূরা কমিটির পুনর্গঠন এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে আনাস-পন্থী দলের অনেকেই ছাত্র আন্দোলনে মদদ দেওয়া ও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা করার অভিযোগ তুলেছেন বাবুনগরির বিরুদ্ধে।

আল্লামা শফী জীবনের শেষপ্রান্তে যে বিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে সংগঠনের ভেতর তিক্ত অন্তর্কোন্দল ও ক্ষমতা দখলের লড়াই রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সহসাই এ বিরোধ মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলস্বরূপ, সংগঠনটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সত্যিকার ঝুঁকির সম্মুখীন।

আর সেক্ষেত্রে সংগঠনে যারা সরকারবিরোধী বলে পরিচিত, তারা সংগঠন থেকে রূঢ়ভাবে বহিষ্কৃত বা সম্ভাব্য পরিণাম ভোগ করার ঝুঁকিতে থাকবেন। তবে যা-ই ঘটুক না কেন, শিক্ষার ইসলামীকরণ, নারীদের বৃহত্তর সামাজিক স্বাধীনতা নিশ্চিতে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, তা বাধাগ্রস্থ করাসহ সমাজে যেসব গভীর পরিবর্তন এনেছে হেফাজত, তা আরও বেশ কিছুকাল দীর্ঘস্থায়ী রয়ে যাবে।●

(কামাল আহমেদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিবিআইয়ের তদন্ত: সীমান্তে গরু পাচারে জড়িত ভারতীয় বিএসএফ!

গরু পাচার নিয়ে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাচারকারী, এই অভিযোগে বহু বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে মেরেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেল ভূত রয়েছে সর্ষেতেই। বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বিএসএফ এবং শুল্ক বিভাগ গরু পাচারে সাহায্য করে।

কিছুদিন আগেই বিএসএফ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশ অবশ্য সেই অভিযোগ নাকচ করে পাল্টা ভারতের উপর দোষ চাপিয়েছিল।

সম্প্রতি সিবিআইয়ের এক তদন্তে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এলো। বলা হচ্ছে, সীমান্তে বিএসএফ এবং শুল্ক বা কাস্টমস বিভাগের বহু অফিসার সরাসরি গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত।

বুধবার বিএসএফের এক অফিসারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। বস্তুত, এর আগেও বিএসএফের অফিসারদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে এবং তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষীরা কি ট্রিগার হ্যাপি’?

সিবিআই জানিয়েছে, অভিনব কায়দায় এই গরু পাচার চালানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিএসএফকে সীমান্তে গরু ধরতেই হয়। খাতায় কলমে দেখাতে হয়, মাসে কতজন পাচারকারীকে তারা গ্রেফতার করেছে এবং কত সংখ্যক গরু উদ্ধার হয়েছে। বিএসএফ তা নিয়মিত করেও। খেলা শুরু হয় তার পরে।

মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ বাজেয়াপ্ত গরুকে খাতায় কলমে বাছুর বানিয়ে দেয়। খাতায় বাছুর অথচ বাস্তবে পূর্ণ বয়স্ক গরুকে নিয়ে এরপর বাজারে যাওয়া হয়। সেখানে সেই গরুর বাছুর হিসেবে নিলাম হয়।

অর্থাৎ, খুব কম টাকায় তা বিক্রি করা হয়। যারা সেই গরু কিনছে, তারা পাচারকারী।

নিলাম এমন ভাবে করা হয়, যাতে পাচারে বাজেয়াপ্ত গরু ফের পাচারকারীর হাতেই পৌঁছায়।

প্রতিটি নিলামে বিএসএফের অভিযুক্ত অফিসারদের দেওয়া হয় গরু পিছু দুই হাজার টাকা। শুল্ক বিভাগের অফিসারদের দেওয়া হয় ৫০০ টাকা। পাচারকারীরা ফের সেই গরু সীমান্তের অন্য পারে পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয়বার তাদের গরু আর ধরা হয় না।

ভারতের সিদ্ধান্তে সমস্যায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের নতুন দায়িত্ব

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেয়ায় নিয়োজিত প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় সৈন্যকে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে৷ সেটা হলো, ভারতীয় গরু যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশে পৌঁছতে না পারে৷

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএসএফ সদস্যদের এই নির্দেশ দেন যেন ‘বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়’৷

দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়ায় মালদা-মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তে পাচার চলছে বলে জানিয়েছে সিবিআই সূত্র।

বস্তুত দিনকয়েক আগে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় সিবিআই অফিসাররা রেড চালিয়েছে। ভিন রাজ্যেও কয়েকটি জায়গায় রেড করা হয়েছে। এফাইআর করা হয়েছে বিএসএফ এর এক অফিসার এবং বেশ কিছু গরু পাচারকারীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত বিএসএফ অফিসারের নাম সতীশ কুমার। তিনি বিএসএফ এর ৩৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডান্ট ছিলেন। তাঁর সল্টেলেকের বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ভিন রাজ্যে তাঁর আরও বাড়ি আছে।

সূত্র জানাচ্ছে, মালদায় পোস্টেড হলেও মালদা মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের দীর্ঘ সীমান্তে কাজ করেছেন সতীশ। এবং সেই সময়েই গরু পাচারের ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। তাঁর ছেলেও একই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

সতীশের সঙ্গে বেশ কয়েকজন গরু পাচারকারীর বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সিবিআই সূত্র জানাচ্ছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ মাস সীমান্তে কাজ করেছিলেন সতীশ। সে সময় প্রায় ২০ হাজার গরু পাচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করেছেন তিনি।

এর আগেও বিএসএফ এর এক অফিসারকে একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখন তিনি জামিনে মুক্ত। তাঁর কাছ থেকেই সতীশের নাম পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফ এবং শুল্ক বিভাগের এমন আরও অফিসার সিবিআইয়ের নজরে আছে বলে শোনা যাচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি এনআইএ এবং সিবিআইয়ের সূত্রের থেকে জানা গিয়েছে, গরু পাচারের সঙ্গে আরও ভয়াবহ লেনদেনের ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগ, গরুপাচারকারীরা অস্ত্রের পাচারের সঙ্গেও যুক্ত। পাচারের বিভিন্ন পদ্ধতির বিষয়ে জানতে পেরেছে এনআইএ।

পাচারকারীরা জেএমবি এর সঙ্গে জড়িত বলেও কোনও কোনও মহলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বিশদে এখনও কিছু জানাতে রাজি হননি অফিসাররা।

দীর্ঘ দিন ধরেই গরু পাচার নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিতর্ক হয়। কিছু দিন আগেও গরু পাচারকারী, এই অভিযোগে আসামে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সীমান্তে গরু পাচারের সঙ্গে বিএসএফ যে যুক্ত এতদিন তা ওপেন সিক্রেট সিবিআই সেই সত্যেই শিলমোহর দিয়েছে।

(ডয়েচে ভেলে, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে লাহা ফার্মাকে এক লাখ টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারটিয়াস্থ বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত লাহা ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনানী) কে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ৬৭৩৪ পিচ রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ও মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ মজুদ রাখায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাধমে এ জরিমানা করেন।

এ সময় র‌্যাব-১২, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রওশন আলী এবং সহকারী পুলিশ সুপার কিশোর রায় এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলাম জানান, লাহা ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনানী)’র মালিক মো. শফিউর রহমান (৭০) দীর্ঘদিন যাবৎ মেয়াদ উত্তীর্ণ ও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ওই ঔষধ বাজারজাত করে আসছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ড্রাগস এ্যাক্ট ১৯৪০ এর ১৮(ক) ধারার এর (অ) (আ) (ই) উপধারায় অভিযুক্ত করে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয় এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন ঔষধগুলি জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

(আরমান কবির, ঘাটাইল ডট কম)/-

চাঁদাবাজি মামলায় সখীপুর শ্রমিক লীগের সভাপতি সহ ৫ জন কারাগারে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২০১৯ সালের দায়ের করা চাঁদাবাজী মামলায় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিকদারসহ ৫ জনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সখীপুর এ ৭ আসামীর ৬ জন আত্মসমর্পণ করেন।

দুই পক্ষের আইনজীবির শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন আক্তার তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতরা হচ্ছেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকরের ছেলে বাচ্চু সিকদার (৫৫), একই ওয়ার্ডের মৃত হুরমুজ আলীর ছেলে শামসুল হক (৫৪), তার ভাই রউফ সিকদার (৫০), আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম (৪৫) এবং মৃত ইসমাইল সিকদারের ছেলে জেলহক সিকদার (৪৪) ।

জানা যায়, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মৃত পাঞ্জু সিকদারের ছেলে সামাদ সিকদার ২০১৯ সালে সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তার ক্রয়কৃত জমিতে পাঁচতারা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নির্মাণকাজ শুরু করেন।

এ সময় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিকদার ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক দখল ও চাঁদাদাবি করেন।

পরে সামাদ সিকদার বাচ্চু সিকদারসহ ৭জনকে আসামি করে ৪৪৭,৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬/ ৩৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সখীপুর এ মামলা করেন।

এ মামলায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ মামলার ৭ আসামীর মধ্যে ৬ জন আত্মসমর্পণ করলে ৫ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবি আনোয়ার হোসেন সখীপুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মগ জাতি ও মগের মুল্লুকের গল্প

স্বেচ্ছাচারিতা বা অরাজক অবস্থা বোঝাতে বাঙালী জাতি ‘মগের মুল্লুক’ কথাটি প্রায়ই ব্যবহার করে।  ….তারে কি ‘মগের মুল্লুক’ পাইছো নাকি, ইত্যাদি। তো এই কথাটি কোথা থেকে কিভাবে আসলো?

উইকিপিডিয়া বলছে, “মগ জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি উপজাতি। এরা বর্মার আরাকান জাতির মানুষ বা তাদের বংশধর যারা ১৫০০- ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ জলদস্যু হিসেবে বা আরাকান রাজ্যবিস্তারের উদ্যেশ্যে বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং তার আশেপাশের উপকূলবর্তী কিছু অংশে আক্রমণ চালায় ও স্থানীয় মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে বাটাভিয়াতে (ওলন্দাজ ইস্ট ইণ্ডিয়া কম্পানী অধিকৃত জাকার্তা) ক্রীতদাস হিসাবে চালান করে।”

বিস্তারিততে গেলে দেখা যায়, ‘মগ’-এর মুল্লুকই কেন হল, গ্লাস বা জগের মুল্লুক কেন হলো না। তাহলে এই মগ কী। এটা চা-পানি খাওয়া বা গোসল করার মগ থেকে আসেনি। এই ‘মগ’ হচ্ছে মিয়ানমারের আরাকান জলদস্যু।

বার্মা বা মায়ানমার নামে প্রাচীনকালে সে দেশের নামই ছিল আরাকান।

মগ ও জাতি

মগ শব্দটির আরেকটি বিকল্প ব্যুৎপত্তি হচ্ছে, শব্দটিমঙ্গোল থেকে এসেছে। আরাকান ইতিহাসে আরাকান রাজাদের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান হিসেবে “মগ” এর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যারা বুদ্ধের আত্মীয় ছিল।

১৬২৫ সালের দিকে বঙ্গভূমি যখন খুব সমৃদ্ধশালী ছিল তখন, ‘পর্তুগিজ আর মগ’ জলদস্যুরা পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ এখন যেটা বাংলাদেশ তার দক্ষিণ অংশ বা নিম্নাঞ্চলে এসে লুটপাট চালায়। তখন এ ভূখণ্ড শাসন করত মুঘল সুবেদাররা।

এরা এসেছিল আফগান ভূমি থেকে, আর শাসনের কেন্দ্র ছিল দিল্লি।

মুঘল সুবেদাররা কখনওই মগদের সঙ্গে পেরে উঠেনি।

ইতিহাস ও লুণ্ঠন

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তার স্মৃতিকথাগুলোতে একদল মগের বর্ণনা দেন যারা ইসলাম খানের পুত্র হুশাং সহ তাঁর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। তার মতে ভ্রমণের তারিখ ছিল ১লা এপ্রিল, ১৬১৩ (ইরানী ক্যালেন্ডারে ১৪শ ফারওয়ারদিন)। তিনি এই দলটিকে পেগু (মন রাজ্যের রাজধানী) এবং আরাকানের কাছে একটি মগ নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আগত বলে বর্ণনা করেছেন।

জাহাঙ্গীর মনে করতেন মগরা তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং বৈবাহিক অভ্যাসের ব্যাপারে অনিয়ন্ত্রিত (“তারা স্থলে বা সমুদ্রে যা কিছু আছে সবই খায়, এবং তাদের ধর্ম দ্বারা কোন কিছুই নিষিদ্ধ নয়” এবং “তারা অন্য মা এর দ্বারা জাত বোনদেরকে বিয়ে করে”)। তিনি তাদের ভাষাকে “তিব্বতীয়” এবং তাদের ধর্মকে “মুসলিম বা হিন্দু কোনটাই নয়” বলে বর্ণনা করেন।

ঢাকার সুবেদার তখন খান-ই-দুরান। কথিত আছে, তিনি তো মগদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দূরে থাকুক কোনো প্রতিবাদও করেননি (যেমন বর্তমানের বাংলাদেশ)। মগদের ভয়ে উল্টা রাজমহল থেকে পালিয়ে যান।

এই সুযোগে মগরা এই ভূমিতে একদম যা ইচ্ছে তাই রকমের লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতন চালায়।

মানুষদের ওরা ধরে ধরে নিয়ে যেত, তাঁদের অন্যান্য দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিত। নিপাট, নিরীহ, নির্বিবাদ একজন গৃহস্থ মানুষের সব কেড়ে নিয়ে রাতারাতি অন্যের কৃতদাস করে দিত।

মুঘল আমলের শেষে, সুলতানি আমলেও মগদের এই অত্যাচার অব্যাহত ছিল।

১৭৮৪ সালে বার্মিজরা আরাকান রাজ্যটি দখল করে হাজার হাজার আরাকানিকে হত্যা করে। পুরো বাংলা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, তারা আসামেও অনেক অত্যাচার করে।

কথায় বলে রতনে রতন চেনে। কথাটা পর্তুগিজ জলদস্যু আর মগদের বেলায় ষোল আনা খাটে। পর্তুগিজ জলদস্যুরা যখন চট্টগ্রাম পেরিয়ে আরাকানে পৌঁছাল, মগদের সঙ্গে দ্রুতই গলায় গলায় ভাব হয়ে গেল তাদের। এই উভয় জাতিই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকা বা জাহাজে যাযাবর জীবন যাপন করত এবং লুটপাট, ডাকাতি, অপহরণ—ইত্যাদিই ছিল তাদের মূল পেশা। ফলে এই দুই ত্রাস একত্র হতে পেরে বাংলার বুকে অপকর্মের বন্যা বইয়ে দিল।

যামিনীমোহন ঘোষের ‘মগ রেইডার্স ইন বেঙ্গল’ এবং বার্নিয়েরের ভ্রমণকাহিনীতে মগদের অত্যাচারের কাহিনী পড়লে আজো গা শিউরে ওঠে।

শিহাবউদ্দিন মোহম্মদ তালিশ নামে মীর জুমলার এক রাজকর্মচারীর লেখাতেও বাঙ্গালিদের ওপর মগদের নির্মম অত্যাচারের বিবরণ আছে। বারোভূঁইয়ারা এসব মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যু দমনে যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন বটে তবে তাদের পক্ষে পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি।

বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠালগ্নে বারোভূঁইয়ারা দুর্বল হয়ে পড়লে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের অত্যাচার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মোগল আমলেই মগরা তিন তিনবার ঢাকা লুণ্ঠন করে।

যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকার ইতিহাসে লেখা হয়েছে, ‘নবাব খানজাদ খাঁ এরূপ ভীরু স্বভারের লোক ছিলেন যে, তিনি মগের ভয়ে ঢাকা নগরীতে অবস্থান করিতেন না। মোল্লা মুরশিদ ও হাকিম হায়দারকে ঢাকায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করিয়া তিনি রাজমহলে অবস্থান করিতেন।’

মগরা ঢাকা আক্রমণ করলে এই দুই প্রতিনিধি নগরী রক্ষায় যথাসাধ্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

যতীন্দ্রমোহন লিখেছেন, ‘মগী সৈন্যের তাণ্ডব নৃত্যে ঢাকা শহর টলটলায়মান হইয়াছিল। উহারা নগর ভস্মসাত্ করিয়া প্রচুর ধনরাশি লুণ্ঠন ও আবালবৃদ্ধনির্বিশেষে বহুলোক বন্দী করিয়া চট্টগ্রাম প্রদেশে লইয়া যায়।’

ইতিহাসে তিনবার ঢাকা লুণ্ঠনের উল্লেখ থাকলেও কেবল ১৬২০ সালে হামলার বিবরণ পাওয়া যায়।

বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র অন্যতম মহত্ কীর্তি হল এই মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের কবল থেকে এদেশের বাসিন্দাদের রক্ষা করা। ১৬৬৪ সালে বাংলার শাসনভার হাতে নিয়েই তিনি প্রথম নজর দেন এসব ইতর জলদস্যু দমনে। ১৬৬৫ সালে তিনি এদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন এবং ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জয়ের মাধ্যমে তিনি এদের সমূলে বিনাশ করেন। বাংলায় অর্ধশতাব্দী জুড়ে চলে আসা ‘মগের মুল্লুকের’ অবসান ঘটে তার এই অভিযানেই। এজন্য শায়েস্তা খাঁ এদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ঢাকা নগরীতে মগবাজার নামের সঙ্গে মিশে আছে এই মগদেরই স্মৃতি। তবে তারা এই জায়গাটি দখল করে বসেছিল, তা নয়। এই নামের উত্পত্তি কিভাবে, তা নিয়ে একাধিক মত থাকলেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হল, ইংরেজ আমলে আরাকান থেকে কিছু মগ ব্রিটিশ রাজের আশ্রয় কামনা করেছিল।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তত্কালীন ঢাকা শহর থেকে তিন মাইল উত্তরে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করেন। সেই মগরা যেখানে বসবাস করত, সেই এলাকাটিই এখন সবার কাছে মগবাজার নামে পরিচিত।

বস্তুত সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাংলার উপকূলীয় এলাকায় মগ-ফিরিঙ্গিদের অব্যাহত দৌরাত্ম্য সমাজ জীবনে এক অভিশাপরূপে আবির্ভূত হয়। বিশেষ করে হিন্দু সমাজে নারীদের অবস্থা করুণ পর্যায়ে উপনীত হয়। যেসব স্ত্রীলোক কোনো না কোনোভাবে মগ-ফিরিঙ্গির সংস্পর্শে আসত তারা সমাজে চরম লাঞ্ছনা ভোগ করত।’ (মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ‘চট্টগ্রামে মগ-ফিরিঙ্গি দৌরাত্ম্য, ‘ইতিহাস অনুসন্ধান-১৫’)

ফিরিঙ্গিরা তাহার চালক এবং তাহাদের যথেষ্ট নৌকা ছিল বলিয়া, আরাকানের রাজা ইদানীং নিজের নৌকা বাংলায় পাঠাইতেন না; কেবল ফিরিঙ্গিদের দিয়া লুট করাইয়া তাহার অর্ধেক ভাগ লইতেন।’ (শিহাব উদ্দিন তালিশ ‘ফাতিয়া ই ইবরিয়া’, অনু : স্যার যদুনাথ সরকার)

‘বঙ্গের সীমান্ত আরাকান রাজ্যে (চট্টগ্রামে) পর্তুগীজ ও অন্যান্য ফিরিঙ্গি জলদস্যুরা উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিল। … এমন কোনো অপকর্ম ছিল না যা তারা করতে পারত না। … হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ইত্যাদি বিষয়ে তাদের সমকক্ষ কেউ ছিল না। মুঘলদের ভয়ে ভীত আরাকানের রাজা যুদ্ধাদির প্রয়োজনে এসব ফিরিঙ্গি দস্যুদের নিজ রাজ্যের সীমান্তদেশে, চাটগাঁও বন্দরে পর্তুগীজ দস্যুদিগকে জমি দিয়া বাস করিতে অনুমতি দিয়াছিলেন। ছোট বড় নৌকার সাহায্যে উহারা প্রায়ই গঙ্গার শাখা-প্রশাখা দিয়া ৬০-৭০ ক্রোশ পর্যন্ত দেশের ভেতরে প্রবেশ করিয়া লুটপাট করিত।’ (বিনয় ঘোষ, ‘বাদশাহী আমল’ ফ্রাঁসোয়া বর্নিয়া’র ভারত ভ্রমণ বৃত্তান্তের অনুবাদ)

‘আরাকান শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় উপরোল্লিখিত ফিরিঙ্গিরা মগ জলদস্যুদের সঙ্গে এক হয়ে চট্টগ্রাম ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দস্যুবৃত্তি, খুন, অপহরণ ইত্যাদি মাধ্যমে বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ১৬২১ খৃ. থেকে ১৬২৪ খৃ. সময়কালে তারা ৪২ হাজার বন্দী বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে।…মূলতঃ মগ-ফিরিঙ্গিদের অত্যাচারে বঙ্গের উপকূলীয় এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। … তাদের লুণ্ঠন ও অপহরণের ভয়ে এসকল এলাকার লোকে রাতে বাতি পর্যন্ত জ্বালাত না।’ (মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, চট্টগ্রামে মগ-ফিরিঙ্গি দৌরাত্ম্য : ‘ইতিহাস অনুসন্ধান-১৫’)

‘ইসলাম খাঁ তাহার রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করিলেন। এই মগ ও পর্তুগীজদিগকে দমন করাই তাহার এই রাজধানী পরিবর্তনের প্রধান কারণ ছিল। তৎপূর্বে প্রতাপাদিত্য মগ ও পর্তুগীজদের দৌরাত্ম্য অনেক পরিমাণে দূর করিয়াছিলেন। এমনকি ছলনাপূর্বক সন্দ্বীপের শাসনকর্তা কার্ভালোকে ধূমঘাটে (সাতক্ষীরা) আনিয়া অবিচারে নিহত করিয়াছিলেন। এই ঘটনায় পর্তুগীজদের মধ্যে মহা আতঙ্ক উপস্থিত হয়। … শায়েস্তা খাঁ (১৬৬৬ খ্রি.) মগদিগের হস্ত হইতে চট্টগ্রাম উদ্ধার করিয়া উহাকে ইসলামাবাদ নামে পরিচিত করেন।

দীনেশ চন্দ্র সেন, ‘বৃহৎবঙ্গ’ সেই মগেরা আজও বাঙালির নিকট বর্বর, অসভ্য, জলদস্যু বলিয়া পরিচিত। সেই মগ রাজাদের রাজসভায় সে সময় বঙ্গ-ভারতী অভিনন্দিত হইয়াছিলেন। কেননা সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা ভাষা যেরূপ নানা দিক দিয়া পরিপুষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল ইহার আপন ভূমিতে তেমনটি হয় নাই।’ (ড. এনামুল হক, ‘আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য’)

মগদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ

১৮২৪ সালের দিকে এই অত্যাচার চরম আকার ধারণ করে। তারপর তাদের সঙ্গে শাসক এবং সাধারণ মানুষের অনেকগুলো যুদ্ধ হয়। ১৮২৪, ১৮৫২ এবং ১৮৮৫ সালের যুদ্ধের পরে মগদের শক্তি কমে আসে। এক সময় মগদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পায় এই ভূখণ্ডের মানুষ।

১৯৮৯ সালে আরাকানের নাম বৌদ্ধ জাতীয়তাভিত্তিক ‘রাখাইন’ রাখা হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে ১৫০০ বা ১৬২৫ থেকে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ একটা সময় এই অঞ্চলে মগ জাতি গোষ্ঠীরা যার পর নাই অত্যাচার, নির্যাতন লুটপাট চালিয়েছে। দস্যুতার মাধ্যমে সব কিছু দখল করে নিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল পুরোপুরি দখল করে নিয়েছিল।

আরাকানী রাজ্যের স্বর্ণযুগে মগ নামে পরিচিত অনেক আরাকানী গোষ্ঠী বাংলার চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাস করত। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত চট্টগ্রাম অতীতে একসময়ে আরাকানের অংশ ছিল, আরাকানী মগ গভর্নররা বাংলার একটা অংশকে আরাকানের উপনিবেশ হিসেবে শাসন করতেন, চট্টগ্রাম ছিল তাদের রাজধানী।

আরাকানের রাজা পার্বত্য চট্টগ্রামের বোহমং হতাউং-এ (বোমান সার্কেল) পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন করার জন্য বোহমং গোষ্ঠী-প্রধানদের নিযুক্ত করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা (থাইক জনগণ) অঞ্চল এবং ত্রিপুরা রাজ্যও সে সময় আরাকানের অংশ ছিল।

আরাকানের শাসনের সময় থেকে এখনও পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী, বিশেষ করে বান্দরবানবাসীগণ বোহমং প্রধান দ্বারা শাসিত হয়।

ষোড়শ শতাব্দীতে আরাকানী সাম্রাজ্যের উত্থানের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী আরাকানীরা মারমা জনগণ নামেও পরিচিত ছিল। আরাকানী বংশধর হওয়ায় এই মারমারা বাংলার মানুষের কাছে মগ নামে পরিচিত।

আরাকানীরা সেই প্রাচীনকাল থেকে ভারতের পার্বত্য ত্রিপুরা রাজ্যে বসবাস করে, এছাড়াও ত্রিপুরা রাজ্যের স্থানীয় জনগণ তাদেরকে মগ বা মাঘ বলে ডাকে।

বাঙলা সাহিত্যে মগদের পৃষ্ঠপোষকতা

সুলতানি আমলের গোড়ার দিকে এবং মুঘল শাসনের প্রথমার্ধে চট্টগ্রামে আরাকান সাম্রাজ্য তথা মগদের আধিপত্য ছিল।

স্থাপত্যকলা ও শিল্প সাহিত্যে মুঘলদের কদর সারা ভারত বিখ্যাত হলেও বাঙলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা কিন্তু মুঘলরা করেনি। করেছিল আরাকান রাজসভা।

মধ্যযুগের কবি আলাওল, শাহ্ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার সভাকবি ছিলেন।

সংস্কৃত, আরবি, ফার্সির মতো ‘আশরাফ’ ভাষায় রচিত সাহিত্যের কাছে বাঙলা ভাষা আদৃত হয়নি মুঘলদের দৃষ্টিতে।

সেই সময় মধ্যযুগের চট্টগ্রামের কবিরা আরাকান রাজসভাতে বসেই তাদের বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেছিলেন।

রাখাইনের সঙ্গে মগের সম্পর্ক

রাখাইনরা সুদীর্ঘকাল ধরে তাদের আবাসভূমিকে ‘রাখাইন প্রে’ নামে ডাকত। পরে ইংরেজরা দখল করে এ রাষ্ট্রকে ‘রাকান’ নামে সম্বোধন শুরু করে। এভাবে ‘রাকান’ শব্দের আগে ‘আ’ যুক্ত হয়ে তা হয়ে যায় ‘আরাকান’। রাখাইন দেশের জনগণ ‘আরাকানিজ’ নামে অভিহিত হয়। আরাকানই বর্তমান মায়ানমার।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রমতে, খ্রিস্টপূর্ব ৫ থেকে ৬ হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে নিগ্রিতা ও দ্রাবিড়িয়ান জনগোষ্ঠী বাস করত। পরে আর্য ও মঙ্গোলীয়রা এখানে বসবাস শুরু করে। এক সময় দ্রাবিড়িয়ানরা নিগ্রিতাদের এ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করে। দ্রাবিড়িয়ানরা আবার সভ্য আর্য ও মঙ্গোলীয়দের দ্বারা বিতাড়িত হয়।

ফলে এ অঞ্চলে টিকে থাকা সভ্য আর্য জনগোষ্ঠী ও মঙ্গোলীয়দের সংমিশ্রণে এক সময় সৃষ্টি হয় রাখাইন জাতির।

সময়টি অষ্টাদশ শতাব্দীর চতুর্থ থেকে শেষ দশক পর্যন্ত। সে সময় আরাকান অঞ্চলটি ছিল ব্যাপক বিদ্রোহ, হত্যা ও ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্বমুখর এক বিপর্যস্ত রাজ্য।

অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে নিজ আমলাদের চক্রান্তে আরাকানের তৎকালীন স্বাধীন রাজা বার্মার রাজা বোদোফায়ার কাছে যুদ্ধে পরাজিত হন। ফলে বর্মীরা আরাকান দখলে নেয়। বর্মী সেনারা সে সময় অসংখ্য আরাকানি নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার করে স্ত্রীলোকদের বার্মায় পাঠিয়ে দেয় এবং পুরুষদের হত্যা করতে থাকে।

বর্মীরা আরাকানের মহামুনি বুদ্ধমূর্তি তাদের রাজধানী মান্দালয়ে নিয়ে যায়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে আরাকানবাসী। তারা বর্মী দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহ দমনে বর্মী বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালায়। ফলে জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়ে রাখাইনরা।

১৭৮৪ সালের শীতের হিম হাওয়ায় মগ্ন এক রাত। আরাকানের মেঘবতী থেকে ১৫০টি রাখাইন পরিবার ৫০টি নৌকা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে নৌকা ভাসায়। সাগর পাড়ি দিয়ে তিনদিন তিনরাত পর তারা আশ্রয় নেয় পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী দ্বীপে। সে সময় ওই দ্বীপে ছিল না কোনো জনমানব। ছিল শুধু হিংস্র জন্তু-জানোয়ার।

রাখাইনরা সঙ্গে নিয়ে আসা শস্যবীজ দিয়ে ফসল রোপণ শুরু করে। তারা হিংস্র জন্তু-জানোয়ারদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তখন বাসগৃহের চারপাশে সুন্দরী কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ঘিরে রাখত। বড় ছেনি আর বল্লম ছাড়া তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তা দিয়েই তারা কৌশলে জন্তু শিকার করে তার মাংস খেত।

এক সময় এক ইউরোপিয়ান নাবিক রাখাইনদের অবস্থান খুঁজে পান। তার মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গেও রাখাইনদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অফিসাররা তাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, কাপড়-চোপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়।

এ অঞ্চলে তখন ইংরেজ শাসন চলছে। ইংরেজরা স্বপ্ন দেখত বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা এবং আরাকান রাজ্য দখলের। তাই তারা আদিবাসী জাতিগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখত। রাখাইনরা তখন ইংরেজদের সহযোগিতায় আরাকান থেকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে আসতে থাকে।

এভাবে এদেশের মাটিতে রাখাইনদের বসতির বিস্তৃতি ঘটে। ধীরে ধীরে রাখাইনরা ছড়িয়ে পড়ে গলাচিপা, কলাপাড়া, আমতলী, বরগুনা, বানিয়াহাতী, টিয়াখালী, কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে।

রাখাইনদের অনেকেই ‘মগ’ বলে থাকে। কিন্তু রাখাইনরা নিজেদের ‘মগ’ বলতে রাজি নয়। ফারসি শব্দ ‘মুগ’ থেকে ‘মগ’ নামের উৎপত্তি।

মুগ অর্থ অগ্নি উপাসক। ধারণা করা হয় আরাকানের আদিবাসীরা জড় উপাসক ছিল।

এ বিষয়ে গবেষক সতেন্দ্রনাথ ঘোষাল মনে করেন সংস্কৃত শব্দ ‘মগদু’ থেকে ‘মগ’ শব্দের উৎপত্তি। মগদু অর্থ জলদস্যু। তার মতে, আরাকানে কতিপয় লোক পর্তুগিজদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পূর্ব বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে লুটতরাজ চালাত। তাই তাদের ডাকা হতো ‘মগদু’ নামে। কালক্রমে এই মগদু বিকৃত হয়ে ‘মগ’ রূপ ধারণ করে।

এ বিষয়ে ভিন্ন মতামত দেন প্রফেসর ডি জি ই হল। তার মতে ‘মগ’ শব্দটি ‘মাঙ্গাল’ বা মঙ্গোলীয় শব্দ থেকে আসা। তিনি মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আরাকানের অধিবাসীদের চেহারাগত মিল খুঁজে পান। ডা. গ্রিয়ারসন তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে মগরা ইন্দোচীন জনগোষ্ঠীর একটি শাখা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ বিষয়ে রতন লাল চক্রবর্তী তার ‘বাংলাদেশ-বার্মা সম্পর্ক’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘মগ’ শব্দটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তার মতে, আরাকানের মগরা পর্তুগিজ জলদস্যুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত। মগরা আরাকানের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও আরাকানের সমস্ত অধিবাসী জলদস্যু ছিল না এবং তারা সবাই মগও নন। তার রচনায় আক্রমণকারীদের মগ এবং পরে চট্টগ্রামে আগত আরাকানিদের ‘আরাকানি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরাকানিদের মধ্যে রাখাইনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সে সময় আরও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা আরাকানে বাস করত। তথাকথিত যারা মগ বা জলদস্যু ছিল তারা রাখাইন নয় বরং অন্য কোনো ক্ষুদ্র জাতি বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া মিয়ানমার রাজ্যে ৭টি প্রদেশের মধ্যে একটি প্রদেশের নাম রাখাইন স্টেট। এটি পূর্বে আরাকান নামে পরিচিত ছিল। সে আরাকানে তথা পুরো মিয়ানমারে মগ নামে কোনো জনগোষ্ঠী এখনো নেই এবং আগেও ছিল না। কিন্তু তবুও রাখাইন আদিবাসীদের ভাগ্য থেকে বিতাড়িত হয়নি ‘মগ’ নামক অমর্যাদাকর শব্দটি।

বর্তমান অবস্থা

১৮৮৫ থেকে ২০২০ সালের আজকের এই ১৩৫ বছর পরেও মগদের সেই অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত আছে। মগ উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী বা জলদস্যুদের শিকার হয়ে বাংলাদেশ এখন আজকে শরণার্থী আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে তৃতীয়।

গত ৫০ বছর ধরে আরাকানে এই হত্যাযজ্ঞ নির্দ্বিধায় চলমান রেখেছে মগরা। শত শত লাশ ভেসে ভেসে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চলে আসছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন ১২ লাখের বেশী রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠীর মানুষ।

বাঙালী জাতি গোষ্ঠী রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে, আর মগ জাতি গোষ্ঠী এই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে পৃথিবীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে।

পত্রিকা বলছে, “রাখাইনের গ্রামগুলো একের পর এক পুড়িয়েছে সেনাবাহিনী ও মগ নৃ-গোষ্ঠীরা। রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিয়ে গ্রামের নিয়ন্ত্রণ এখন মগদের কাছে দিয়েছে মিয়ানমারের বিজিপি। সুযোগ লুফে নিয়েছে মগরা। তাদের চ্যালেঞ্জ এখন রোহিঙ্গাদের দেশে ঢুকতে না দেওয়া, দেশে ফেরা ঠেকাতে গ্রামগুলো পাহারা দিচ্ছে মগরা। এগুলো এখন মগের মুল্লুক হয়ে গেছে। মগদের সহায়তা করতে তাদের হাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম তুলে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সীমান্তে (বাংলাদেশ সীমান্তে) মাইন পুঁতে রাখার কাজেও সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছে মগরা।”

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে আরও ৫ জন করোনা আক্রান্ত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কমতে শুরু করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রাপ্ত ফলাফলে আরও পাঁচজন নতুন করে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট ১৮৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে গত জুলাই মাসে ঘাটাইলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। আগস্ট মাসে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে ৯৪ জন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। চলতি মাস সেপ্টেম্বরে ৩০ জন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হলেন। চিত্রে দেখা যাচ্ছে করোনা সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা কমছে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, ঘাটাইলে নতুন করে আরও পাঁচজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ঘাটাইল পৌরসভার মেইন রোড এলাকার ৭৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ, পৌরসভার খরাবর এলাকার ৫৫ বছর বয়সী একজন নারী, পৌরসভার চান্দশি এলাকার ৮২ বছর বয়সী একজন পুরুষ ও ৪৯ বছর বয়সী একজন নারী এবং উপজেলার শোলাকুড়া এলাকার ৪৫ বছর বয়সী একজন নারী নতুন করে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।

ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, গত শনিবার ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন তাদের নমুনা দিলে মঙ্গলবার প্রাপ্ত ফলাফলে ৫ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট ১৮৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

এদিকে ঘাটাইলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান, পৌর এলাকার এক যুবলীগ নেতার বাবা, ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল ভূঁইয়া, পাকুটিয়া এলাকার একজন গরীবের ডাক্তার করোনা ভাইরাস সংক্রমনে মারা গেছেন।

(নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-