পীরজাদা মনির’কে জাতীয় পার্টির সকল পদ থেকে অব্যাহতি

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনিরকে পার্টির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে তাকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এক সাংগঠনিক আদেশে পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১(১)-এর ক ধারা মোতাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির (টাঙ্গাইল)-কে পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ, পদবি এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টাঙ্গাইলের পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরেই জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলে যোগদানের পরপর এরশাদের উপদেষ্টা পদ ভাগিয়ে নেন তিনি।

আলোচনা সমালোচনার মধ্যে অল্পদিনেই তিনি হয়ে যান জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য। পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির দেখাশোনার দায়িত্ব পান তিনি। বর্তমানে তিনি চেক জালিয়াতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘুষ কেলেংকারী এখন “টক অব দ্যা রাণীনগর”

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার ঘুষ কেলেংকারীর ভিডিও ফাঁসের ঘটনা এখন “টক অব দ্যা রাণীনগর” এ পরিনত হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের ঘুষ নেয়ার এই ভিডিও এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঘটনাটি নওগাঁর রানীনগরে ফাঁস হয়ে পড়ার পর থেকে ব্যাপকভাবে আলোচনা সমালোচনা চলছে এলাকায়। জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনের আগ মুর্হুতে এই স্পর্শকাতর ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার বিভিন্ন মোড়ের চা-স্টল, ক্লাব, সভা-সমিতিসহ জনসমাগম স্থলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার পদে মোট ১৬৫০ জন লোক নিয়োগের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার যোগীভিটা গ্রামের রফিকুল আলম আকন্দের ছেলে নাছিমুজ্জামান আবেদন করেন।

নাছিমুজ্জামান জানান, চাকরি দেওয়ার কথা বলে ফাঁদে ফেলে মৌখিক পরীক্ষার আগে ও পরে কয়েক দফায় নগদ ও চেকের মাধ্যমে ৯ লাখ ১৫হাজার টাকা ঘুষ নেন রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। কিন্তু চাকুরী না হলে ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে আনোয়ার বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে ছটকে পরার চেষ্টা করে।

বাধ্য হয়ে গত ১৭ আগষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি বলে তিনি জানান।

ইতিমধ্যে ঘুষ লেনদেনের সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত অডিও, ভিডিও, ব্যাংক চেকের ছায়ালিপি, ঘুষের টাকা এক ব্যাংকের হিসাব নম্বর থেকে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের ব্যাংকিং চ্যানেলের স্লিপ ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, তদন্ত কমিটির তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

৩ সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাউছার হোসেন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

আংশিক তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ছামছুল ওয়াদুদ বলেন, পুরো কাগজপত্র হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(রাজেকুল ইসলাম, রাণীনগর, নওগাঁ/ ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু: আসছে শীতে বিয়ে না করার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এ বছর শীতে বিয়ে ও পিকনিকসহ জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান আয়োজন না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, শীতকালে বিয়ে ও পিকনিকসহ নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। জনসমাগম বেশি হওয়ায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আধুনিকায়ন, উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ (দ্বিতীয় ঢেউ) শুরু হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় চিকিৎসক- নার্সসহ স্বাস্থ্যবিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

এ সময় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাষ ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাহিদ মালেক।

এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা চালানো হবে। স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। বিমানবন্দরে মানুষের ঢোকা ও বের হওয়ার বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানো হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে পুনরায় লকডাউনের কথা ভাবছে না সরকার। এছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজস্ব পরিকল্পনা সাতদিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমান বন্দরগুলোতে আগমন ও বহির্গমনে নজরদারির দায়িত্বে থাকবে সেনাবাহিনী।

উল্লেখ্য, অক্টোবর-নভেম্বরে করোনা পরিস্থিতি আবারও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকেও প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়কে মহামারি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘কম’ করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বিজ্ঞানীদের বিস্ময়

কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘ধারণার চেয়ে কম’ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবির নিয়ে তারা দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তরের চেয়ে তাদের মডেল এখন বেশি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চিন্তা কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প নিয়ে। পাঁচ বর্গমাইল এলাকার এই ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা আশ্রিত। এই এলাকাটি এই গ্রহের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইটে বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। গত মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরই জন্স হপকিন্স সেন্টারের বিজ্ঞানীরা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য গেল মার্চ থেকে গবেষণা করছেন ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের বিজ্ঞানী পল স্পিগেল এবং ইন্টারন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড এপিডেমিওলজির শন ট্রুইলোভ।

ট্রুইলোভ তার একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডিপথেরিয়া এবং অন্য ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ৬০ শতাংশ বেশি। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেকোনো সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

তবে এখনও ঠিক কী কারণে ক্যাম্পে এত ‘কম’ মানুষ আক্রান্ত হলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিজ্ঞানীরা আরও গবেষণা করতে চান।

পৃথিবীর অন্য কোনো অঞ্চলে (এত কম আক্রান্ত হয়েছে) এমন আর কোনও জায়গা রয়েছে কি-না, সেটি জানতেও তারা নতুন মডেল তৈরির কথা জানিয়েছেন।

তবে স্পিগেল প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণদের সংখ্যা বেশি। তাই হয়তো তাদের সমস্যাও কম।

জন্স হপকিন্সের প্রতিবেদনে ট্রুইলোভকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন যে আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য ছাড়া ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের বাঁচানো অসম্ভব।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে ক্যাম্পের ডেমোগ্রাফিক্স অনুসারে বিজ্ঞানীদের তৈরি করা সংক্রমণের একটা মডেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘অনেকাংশে নিশ্চয়তা’ দেয়া হয়। বলা হয়, স্থানীয় চিকিৎসা পদ্ধতির সহায়তা না পেলে ক্যাম্পের পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টকর হবে।

হপকিন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানী পল স্পিগেল এই ফলাফল জাতিসংঘে দেয়ার পর সংস্থাটি নড়েচড়ে বসে। আর বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেন।

পল স্পিগেল বলেন, ‘বাংলাদেশ আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে। কিছু পিসিআর মেশিন আনে। একইসঙ্গে আইসিইউ বেডও বাড়ানো হয়। তবে বাজে অবস্থা এখনো আসেনি। যদি সেটি আসে, তাহলে আমি বলব, ভালোই বিপদ বাড়বে।’

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল থানার এসআই আলতাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ওই গৃহবধূর ব্যক্তিগত ছবি এখন ফেসবুকে নেই বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবকের বিরুদ্ধে রোববার ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে বাসাইল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া (২৫) ও একই এলাকার মৃত নাছির খানের ছেলে সম্রাট খান (২৬)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই গৃহবধূর মোবাইল নষ্ট হওয়ায় তিনি সম্প্রতি পাশের বাড়ির হাসান নামের এক যুবকের কাছে মোবাইলফোনটি ঠিক করতে দেন। এরপর হাসান মোবাইলটি বাসাইল বাজারে নিয়ে গিয়ে ঠিক করেন। এসময় ওই গৃহবধূর মোবাইল ফোনে থাকা প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ছবিগুলো তাকে না জানিয়ে কৌশলে অন্য মোবাইল ফোনে নেয়।

এর কিছুদিন পর হাসান ও একই এলাকার সম্রাট মিলে ওই গৃহবধূকে তার আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় হাসান ও সম্রাট ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে মিশ্র ফসল চাষে সফল ফরহাদ

আনারস, কলা, পেঁপে, মাছ ও বাড়ির আঙ্গিনায় সামান্য ড্রাগন চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন ফরহাদ আলী (৪০)। নিয়মিত পরিশ্রম ও ফসলের যত্ন করে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি লটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ফরহাদ আলী।

অন্যের জমি লিজ নিয়ে কলা আনারস পেঁপে চাষের মধ্য দিয়ে তিনি সাফল্য পেয়েছেন তিনি। দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ে। ধরা দিয়েছে সুখের ঠিকানা। হয়েছেন স্বাবলম্বী।

জানা যায়, ফরহাদ আলী ১৯৯৭ সালে এসএসসি ও ১৯৯৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন। বাবা ছিলেন কৃষক। কৃষি কাজে চলত তাদের সংসার। সংসারে ৪ ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার বড় থাকার কারণে বাবার সাথে কৃষিতে সহযোগীতা করতেন। এভাবে ধীরে ধীরে বাবার সাথে কাজের এক পর্যায়ে সে নিজেও কৃষি কাজে মনযোগ দেওয়ার ফলে আর পড়াশোনা হয়নি। সে থেকেই কৃষি কাজে নিজেকে মানিয়ে নেন।

তিনি জানান, বিগত ২০০০ সালে সংসারের কাজের পাশাপাশি নিজে আলাদা করে বাড়ির পাশে পাঁচ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেন। অতি যত্নে গড়ে তোলা কলার বাগান ভাল হয়। ফলন আসে ভাল। খরচ বাদে লাভ আসে হাতে। ফলে ফরহাদের উৎসাহ আরোও বেড়ে যায়। পরের বছরে ৫ বিঘাসহ আরোও কয়েক বিঘা জমি বাড়িয়ে কলা চাষ করে। এতে আসে সফলতা।

এভাবে ২০ বছরের ব্যবধানে সে এখন অভিজ্ঞ একজন কৃষক। এখন শুধু কলায় নয়। আনারস, মাছ, পেঁপে, আদা, হলুদ, কচু চাষ করেন। তার বাড়ির আঙ্গিনায় পরীক্ষামূলক ভাবে নিজেদের খাবারের জন্য সামান্য জমিতে ড্রাগনও চাষ করেছেন। বন এলাকায় গাছের পাশাপাশি একসাথে একই জমিতে আনারস, কলা, কচুর মিশ্র চাষ করেছেন।

তিনি আরও জানান, জয়নাগাছা গ্রামে জমি লিজ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে কলার বাগান ও নিজ গ্রামে ৩০ বিঘাসহ মোট ৪০ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। চুনিয়া গ্রামে ১৬ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেছেন জলডুবি আনারস ও একই সাথে একই জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। সাথী ফসল হিসেবে মাথা খাটিয়ে এক সাথে একই জমিতে দুই ফসল করেছেন। পেঁপে এক বছর থাকবে আসবে বাড়তি ফসল আসবে অর্থ। আনারস যথারীতি সময় মতো আসবে। এ জমি প্রতি বিঘা ১০ হাজার টাকা প্রতি বছর হারে ৪ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। এখন গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে। আনারস গাছের অবস্থাও ভাল। ১ লক্ষ ২০ হাজার জলডুবি জাতের আনারস ও ৫ হাজার ৪শ পেঁপে চারা লাগিয়েছেন এ জমিতে। সময়মতো সার বিষ, কীটনাশক, জৈব সার দেওয়ার কারণে ফসলের অবস্থা ভাল হয়েছে।

ফরহাড আলী জানান, জয়নাগাছা গ্রামে পুকুর লিজ নিয়ে স্থানীয় জাতে রুই, কাতলা ও ব্রিগেড জাতীয় মাছ চাষ করেছেন। এখন সে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার কৃষি ফসল বিক্রি করে। সংসার জীবনেও ২ সন্তানের জনক। সব মিলিয়ে এখন সে সফল একজন কৃষক।

ফরহাদ আলী আরও জানান, এইচএসসি পাশ করে বাবার সাথে কাজের পাশাপাশি নিজেই কৃষি কাজে ঢুকে পড়ে। চাকরীর পিছনে না ঘুরে নিজের পায়ে দাড়ানোর জন্য অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষি ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছে। অন্যের মুখোপেক্ষি না হয়ে নিজেই কৃষি কাজের মধ্য দিয়ে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। আনারস কলা পেঁপে, আদা, কচু ও মাছ চাষ করছে। ভবিষ্যতে আরোও জমি বাড়িয়ে বড় আকারে কৃষিক্ষেত্র তৈরী করার ইচ্ছা তার। ছেলেদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার প্রত্যয় জানান তিনি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

জামিন পেলেন সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকর মাহবুব হোসেন ও মোহাম্মদ শিশির মনির।

পরে শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে আদালত রুলসহ এক বছরের জামিন দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর পত্রিকাটির কার্যালয় ভাঙচুর করে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের একদল নেতাকর্মী।

মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি আল মামুনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিকাল ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ভাঙচুর চালায়। তারা কার্যালয়ে ঢুকে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায়।

ওইদিন রাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদকসহ সাত-আটজনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মোবাইলে কার্টুন বানিয়ে আয় করছেন কালিহাতীর আতিক

মহামারি করোনাভাইরাসের সময়ে ঘরবন্দি অনেকেই মোবাইলে টিকটক, ফ্রি ফায়ার, পাবজি আর ফেসবুক নিয়ে সময় পার করছেন। ঠিক এই সময়ে অফুরন্ত অবসরকে কাজে লাগিয়ে আতিকুর রহমান রানা মোবাইলে তৈরি করছেন কার্টুন।

আতিকুর কুষ্টিয়ার মেডিকেল সহকারী ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। শখের বশে তৈরি করা শুরু করলেও এতে বেশ আয়ও হচ্ছে এই তরুণের। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরে।

তার বাবা ইয়াসিন আলীর তিন সন্তানের সবচেয়ে ছোট তিনি। অভাবের সংসারে স্বাদ থাকলেও কখনো স্মার্টফোন কেনার সাধ্য হয়ে ওঠছিল না। পড়াশোনায় মেধাবী বলেই হাইস্কুলে ওঠেই শুরু করেন ছোটদের প্রাইভেট পড়ানো। নিজের পড়াশোনার খরচ অনেকটা নিজেই চালিয়েছেন। নিজে কখনো প্রাইভেট না পড়ে পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে ভালো ফলাফল করে বৃত্তি পেয়েছেন। আর অষ্টম শ্রেণির বৃত্তির টাকায় কিনেছেন স্মার্টফোন।

ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির দারুণ নেশা ছিল। প্রাকৃতিক দৃশ্য থেকে শুরু করে মানুষের চেহারাও ফুটিয়ে তুলতে পারেন রঙ-তুলিতে, আর তাই নিজের আঁকা ছবিকে কথা বলানোর চিন্তা এলো মাথায়। কাজে লাগালেন নিজের হাতের স্মার্টফোন। এরপর আস্তে আস্তে মোবাইল দিয়ে রপ্ত করে নিলেন কার্টুন তৈরি।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, মোবাইল দিয়ে নিজের প্রচেষ্টায় নতুন নতুন চরিত্র বানিয়ে তাতে ভয়েস থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড, অ্যানিমেশনের সব কাজ করেছেন তিনি। তাছাড়া কার্টুন তৈরি করে দেওয়ার টুক টাক অর্ডারও পাচ্ছেন। এতে বেশ আয়ও করছেন এই তরুণ কার্টুনিস্ট।

আতিকুর রহমান রানা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতাম। গ্রামের দৃশ্য ও বন্ধুদের ছবিও এঁকেছি, আর সেগুলো বন্ধুরা ও ম্যাডাম, স্যাররা খুব পছন্দ করত। একদিন মামা আমার আঁকা ছবি দেখে অনেকগুলো রঙ-পেন্সিল দেয়। আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তবে কখনো পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে ছবি আঁকিনি। কারণ বাবা চান আমি বড় হয়ে ভালো চাকরি করি। আর তাই পড়াশোনা করে অবসর সময় বাইরে আড্ডা না দিয়ে ছবি আঁকাতে বসে যেতাম। এরপর অষ্টম শ্রেণিতে আমি বৃত্তি পাই, আর সেটা দিয়ে একটা স্মার্টফোন কিনি।’

আতিক আরও বলেন, ‘আমার ইচ্ছে হলো আঁকা ছবিগুলোকে কথা বলাব, আর তাই দীর্ঘ দিন ধরে মোবাইলের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছিলাম। এরপর আস্তে আস্তে পাঁচটি মোবাইল অ্যাপস দিয়ে শিখে ফেলাম কীভাবে কার্টুন তৈরি করতে হয়।’

‘একটা কন্টেন্ট বানাতে দুই-তিন দিন লেগে যায়। আমার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নেই। মোবাইলে কাজ করতে গিয়ে ইদানিং অনেক ঝামেলায়ও পড়তে হয়। ভালো মোবাইল প্রয়োজন, তবুও এটা দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। আর কাজের অনেক প্রশংসাও পাচ্ছি। অনেকে টুকটাক কার্টুন তৈরির অর্ডার দেয়, আর সেটা থেকে আমার হাত খরচের টাকা হয়ে যায়’, বলেন তিনি৷

আতিকের ইউটিউবে ‘এ আর আতিক’ নামে একটি চ্যানেল রয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করাসহ বেশকিছু কন্টেন্ট তৈরি করে চ্যানেলটিতে আপলোড দিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখেন একজন কার্টুনিস্ট হওয়ার।

(শেখ নাসির উদ্দিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাস্তা ভেঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ

টাঙ্গাইল শহর থেকে চরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের প্রধান রাস্তার চারাবাড়ি এলাকায় দ্বিতীয় বারের মতো ভাঙ্গনের কবলে পরেছে। টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের চারাবাড়ী ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার অর্ধেকের বেশি ধসে পড়েছে। এতে গত তিন দিন যাবৎ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে শহরের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদ নগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নদীতে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন এবং সেই বালু নেওয়ার জন্য নদীর পার দিয়েই ট্রাক আসা যাওয়ার কারণে ওই স্থানটি বার বার ধসে পড়ছে। তাই অবৈধ ড্রেজার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে রাস্তা সচল করার জন্য এলজিইডির পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্ষার শুরু থেকে ব্রিজের ৫০০ গজ দক্ষিণে কয়েকটি অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হয়। সেই বালু নেওয়ার জন্য ট্রাক ব্রিজের পশ্চিম পাশের লিংক রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়ার সময় ভাঙনের স্থানে প্রচুর চাপ পড়ে।

ফলে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ওই রাস্তার মাটি ধসে গিয়ে টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজিং এর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা ধসে যাওয়ার ফলে ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা উভয় পাড়ে যানবাহন পার্কিং করে রেখেছেন।

অটোরিকশাচালক আব্দুল মজিদ জানান, তিন দিন ধরে রাস্তাটি ধসে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রিজের নিচের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। যেকোনো সময় ব্রিজটিই ভেঙে যেতে পারে। এখন ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার তা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কাতুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নায়েব আলী জানান, নদী থেকে অবৈধ ড্রেজিং এবং ভারি ট্রাক চলাচল করায় একই স্থানে বার বার ধসে যাচ্ছে। তাই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধের দাবি জানান তারা।

কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল আলী জানান, ট্রাক মোড় নেওয়ার সময় অধিক চাপে বার বার রাস্তাটি ধসে পড়ছে। ফলে পশ্চিম টাঙ্গাইলের মানুষ খুব কষ্টে শহরে যাতায়াত করছে। অবৈধ ড্রেজিং এর বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও অবৈধ ড্রেজার বন্ধ হয়নি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনছারী জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক হাজার জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা শেষ হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম আজম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

যে খাদ্যপণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে যেসব দেশ থেকে

সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর, হঠাৎ করে দেশে পেঁয়াজের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে।

সেজন্যই ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বাজারে দাম বাড়ে।

একই ঘটনা ঘটে চিনি, গম, ভুট্টা, মসুর ডাল কিংবা মসলা যেসব দেশ থেকে আসে, তারা রপ্তানি বন্ধ করলেও।

যদিও, বাংলাদেশে বছরের খাদ্যশস্য ও মসলার যে চাহিদা তার প্রায় সবই দেশে উৎপাদন হয়। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় অংশের খাদ্যশস্য ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেল, চিনিসহ নানারকম নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রয়েছে।

আমদানিতে শীর্ষে দেশসমূহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

আমদানি পণ্যের মধ্যে এক পঞ্চমাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি হয় চীন থেকে, মোট আমদানির ২৬ শতাংশের বেশি। তালিকায় এরপরেই রয়েছে ভারত, যে দেশটি থেকে মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ আমদানি হয়।

এরপর ক্রমে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুলাই মাসে যে খাদ্য সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে, তার শীর্ষ দশটি পণ্যের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে অপরিশোধিত চিনি, পাম তেল, সয়াবিন তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, আদা, মরিচ, গম, চাল, মসুর ডাল এবং পেঁয়াজ।

এছাড়া রসুন, চা, তেলবীজ এবং হলুদ রয়েছে শীর্ষ খাদ্য সামগ্রী আমদানির মধ্যে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, ভোজ্য তেল আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার, গম ৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার, চাল এক হাজার ৪৪ কোটি টাকার, তেলবীজ ৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার, চিনি ৫ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার, এবং তিন হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ডাল জাতীয় খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে।

বাংলাদেশে এছাড়াও ভুট্টা, শুকনো সবজি, আপেল ও সিট্রাসজাতীয় ফল এবং জাফরান ও হলুদসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করা হয়।

কোন্ দেশ থেকে কী আসে?

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র আওতায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করা হয়।

এর বাইরে চাল, গম এবং ভুট্টার মত খাদ্যশস্য আমদানি হয় জিটুজি মানে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশের সরকারের চুক্তির মাধ্যমে, এবং ব্যক্তি উদ্যোগে।

চীন

বাংলাদেশ তার আমদানির সবচেয়ে বড় অংশটি করে চীন থেকে। প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল, এবং গম।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী এ বছরের জুলাইতে চীন থেকে ৮ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

ভারত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পণ্য আমদানি হয়।

দেশটি থেকে যেসব খাদ্য-পণ্য আমদানি হয় দেশে তার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলসহ ভোজ্য-তেল, চিনি, মধু, কোমল পানীয়, চিপস, বিস্কুট, চকলেট ও ক্যান্ডি জাতীয় খাবার।

বাংলাদেশে বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদার ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে।

ব্রাজিল

বিশ্বের নবম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে খাদ্য সমাগ্রীর মধ্যে গম, চিনি, মাংস এবং নানা ধরণের শুকনো ফল ও মসলা আমদানি হয়।

ইন্দোনেশিয়া

বাংলাদেশের পামতেল আমদানিতে বড় উৎস ইন্দোনেশিয়া, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ পামতেল আসে এই দেশটি থেকে। এছাড়া সুগন্ধি চাল এবং মসলা আনা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে।

আমদানি নির্ভরতা কেন কমানো যায় না?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক মনে করেন, সরকারের দেশীয় চাহিদা অনুযায়ী বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় না।

ফলে প্রতিবছরই দেশে উৎপাদনের পরেও চালের মত আবশ্যিক খাদ্যশস্যের একটি অংশ আমদানি করতে হয়।

“এক্ষেত্রে সরকারকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রতিটি খাদ্যশস্যের চাহিদা হিসাব করে গবেষণা এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।”

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনও আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমকে মেনে নিয়েই সামনে এগুতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি চীনের উদাহরণ দেন।

“চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন বাংলাদেশের সাথে চীনের শিগগির বাণিজ্যে সমতা আনা সম্ভব হবে না। কিন্তু যদি আমরা চীনের প্রয়োজন মাথায় রেখে রপ্তানি বাড়াতে পারি, তাহলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।”

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-