ঘাটাইল পৌর মেয়রের চার বছর পূর্তি: সফলতা ও সম্ভাবনা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসন (১৩২)। এটি ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক শহীদুজ্জামান খান শহীদ। তিনি বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। আজ ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) তার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার বছর পূর্তি।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭২ সালে গোপালপুর থানার অধীন ঘাটাইলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৪ সালে ঘাটাইল থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ১৯৯৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঘাটাইল শহরের ১১.০২ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করে।

ঘাটাইল পৌরসভাটি ১১টি গ্রাম ও ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে পুুরুষ ১৯ হাজার ৫৯০ ও নারী ১৫ হাজার ৬৫৫ জন।

২০১৬ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শহীদুজ্জামান শহীদ আট হাজার ৮৯৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ফারুক হোসেন ধলা পেয়েছিলেন চার হাজার ৬২১ ভোট। পরে ওই বছরেরই ২২ সেপ্টেম্বর জনাব শহীদ মেয়র হিসেবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মেয়র হিসেবে চার বছর পূর্তিতে ঘাটাইল ডট কমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বিবিধ সম্ভাবনা ও প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত চার বছরে পৌর এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে পৌরসভাটি ‘খ’ থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কথা উল্লেখ করে তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এরপরও রয়ে গেছে অনেক নাগরিক সমস্যা। আমরা তা সমাধানের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ঘাটাইল পৌরসভার সাধারণ নাগরিকরা মনে করেন, পৌরকর বৃদ্ধি করা হলেও পৌরবাসীর সুযোগ-সুবিধা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। জলাবদ্ধতা পৌরবাসীর জন্য অন্যতম উদ্বেগের কারণ। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা ঢলে পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার অপ্রতুলতার কারণে এমনটি ঘটছে বলে তারা বলছেন।

পৌর নাগরিকরা আরও বলছেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পৌরবাসীর যে সকল পরিষেবা প্রাপ্য তার বেশ কিছু অনুপস্থিত। আদর্শ পৌরসভা গড়ে তোলার জন্য দরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা। পৌরসভায় অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি গড়ে উঠছে, পর্যাপ্ত ও প্রশস্ত রাস্তা নেই, নিয়ম মেনে ভবন নির্মিত হচ্ছে না। অপ্রতুল ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, প্রধান সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ে সমস্যা, ফুটপাত দখল, অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা, সন্ত্রাস ও মাদক ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকার বিষয়টি নিয়েও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনোদন কেন্দ্র ও পার্ক না থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।

এসব বিষয়ে ঘাটাইল ডট কমকে পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান বলেন, নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ছিল মডেল পৌরসভা করব। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করছি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কর্মচারীদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করেছি। নিজেও নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পৌরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরেজমিনে কাজ করছি। ঠিকমতো অফিস করার কারণে সবাই সঠিকভাবে তার নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।

মেয়র বলেন, গত চার বছরে সড়ক সংস্কার, নতুুুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক আলোকিতকরণ, শহরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন সহ নানামুুুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে ঘাটাইল পৌরসভার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। এর সুফল জনগণ পাচ্ছেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকলের উন্নয়নে কাজ করছি। আমার কাছে যারা আসছেন সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পানি নিষ্কাশনের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, পৌরসভার কলেজ পাড়া, খরাবর, পশ্চিম পাড়ার ৩-৪টি মহল্লায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। আমরা এই দুরবস্থার স্থায়ী নিরসনের জন্য কাজ করছি। এসব এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ বলেন, বর্তমানে ঘাটাইল পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে আরও প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছি। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আছে, সেগুলো দিয়েও উন্নয়ন কাজ করা হবে। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বিনোদন পার্ক নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মেয়র হিসেবে চারবছর পূর্তিতে আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার পৌর কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখতে তিনি সে সময় দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে নির্বাচিত করার বিষয়ে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে ভূমি দখলমুক্তের দাবিতে নৃ-গোষ্ঠীর মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মধুপুরের পিরোজপুর বাজারে গারো সম্প্রদায়ের স্বর্গীয় বিশ্বনাথ গারোর ৩.৮১ একর বেদখলকৃত জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে নৃ-গোষ্ঠীরা মানবন্ধন করেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পঁচিশমাইল নামক স্থানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ ও সর্বস্তরের আদিবাসী ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনচলাকালে বক্তব্য রাখেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাধারণ সম্পাদক হেরিদ সাংমা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবীণ চিসিম, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশরে সভাপতি লিয়াং রিছিল, বাগাছাস এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শ্যামল মানখিন, ক্ষতিগস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রভাতি সাংমা।

সমাবেশে বক্তারা জানান, মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর বাজারে স্বর্গীয় বিশ্বনাথ চাম্বুগংয়ের তিন একর একাশি শতাংশ জমি জোরপূর্বক একটি মহল দখল করে নিয়েছে।

দখলকৃত জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যরাও দোকানপাট তুলে দখল করেছে। এসকল দখলদারদের হাত থেকে তাদের জমি দখলমুক্তের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।

বিশ্বনাথ চাম্বুগংয়ের নাতনি প্রভাতি সাংমা জানান, গারো আইন অনুযায়ী তার নানার সমস্ত সম্পদের মালিক তার মা(বিশ্বনাথের নকমা ঘরকন্যা) এবং মায়ের উত্তরাধিকার তিনি।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাকা ফেরত চাওয়ায় টাঙ্গাইলে জঙ্গি বানিয়ে পত্রিকায় সংবাদ

টাঙ্গাইলে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে বিপাকে পড়েছেন এক ব্যবসায়ী। পাওনা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে জঙ্গিদের সংগঠিত করার অভিযোগে স্থানীয় দৈনিক কালের স্রোত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ব্যবসায়ী ও জেলা পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক লোকবল নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের স্রোত পত্রিকার সম্পাদক রেফাজুর রহমান লোকবল নিয়োগের কাজ পেয়েছেন বলে রফিকুল ইসলামকে জানান। নার্স, আয়া ও দাড়োয়ানসহ বিভিন্ন পদে ১০ জনকে নিয়োগ দেয় রেফাজুর রহমান।

জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে তিনি নিয়োগপত্রও দেন। ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে এবং নগদ সহ চার লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম।

এরপর নিয়োগপত্র নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে সকল নিয়োগপত্র ভুয়া বলে জানানো হয়। এ অবস্থায় টাকার জন্যে চাপ দেওয়া হলে নানা তালবাহানা করতে থাকেন রেফাজুর রহমান।

কোন উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী মো. রাসেল অপর এক ব্যবাসায়ী ২০১৯ সালের ২৬ মে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম এক নন্বর সাক্ষী হন।

আদালত ওই মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর কালের স্রোত পত্রিকার সম্পাদক রেফাজুর রহমানের বিরুদ্ধে গেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরের দিন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে রেফাজুর রহমান তার পত্রিকা অফিসে ডেকে নেন।

নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। রফিকুল ইসলাম তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে টাকা ফেরত চান।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে জঙ্গিদের সংগঠিত করার অভিযুক্ত বানিয়ে ‘কালের স্রোত’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধনে ছাত্রলীগের হামলা

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির মানববন্ধনে হামলা হয়েছে। এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্তত পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন চলাকালে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরুল ইসলাম হিমেল এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিনুজ্জামান সুখনের নেতৃত্বে ৭/৮ জন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের লাঠি দিয়ে পেটায়। মুহূর্তেই মানববন্ধন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। পরে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় হতভম্ব স্থানীয়রা।

ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন সুজন মিয়াকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এছাড়া মাইটিভির উত্তর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আনিসুর রহমানের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়ক মো. আলিফের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই সরকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিট কর্মসূচি চলার পর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তানভীরুল হাসান হিমেলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সংগঠনের অন্তত ৫ জন আহত হয়। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ছাত্রলীগ নেতা হিমেল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন মানববন্ধনে ভিপি নুরের সমর্থকরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বক্তব্য দিচ্ছিল। তাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ভিপি নূরের সমর্থকরা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দেয়। এজন্য তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কোনো মারপিট করা হয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুখনের দাবি, ঘটনার সময় রিকশায় চড়ে তিনি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানববন্ধনকারীরা প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করছিল। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সমন্বয়ক কাওসার আহম্মেদসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীরা অংশ নেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ‘মায়ের ঘর’ নামক সাহিত্য বিষয়ক সমসাময়িক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাটির মা ক্লাব গোপালপুর উপজেলা শাখা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে গোপালপুর সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে মতিয়ারা মুক্তার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাহিত্যাঙ্গণের সিংহপুরুষ অধ্যাপক বাণীতোষ চক্রর্বতী।

অটল শরিয়ত উল্লার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, এড. মাহমুদ হাসান, আনোয়ার অনিল সরকার, অধ্যাপক ফারুক হোসেন, এনামুল হক চৌধুরী হিমেল, মাহবুব রেজা সরকার, শাহনূর আহমেদ সোহাগ, মুক্তার হোসেন ও আব্দুল জলিল প্রমূখ।

শেষে মাটির মা ক্লাবের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও মানবিক পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়।

(সেলিম হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভারতের সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে প্রতীকী লাশ নিয়ে ‘হানিফ বাংলাদেশি’

সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত অভিমুখে একক পদযাত্রায় বের হওয়া মোহাম্মদ হানিফ ওরফে ‘হানিফ বাংলাদেশি’ (৩৯) বগুড়ায় পৌঁছেছেন। আজ সোমবার দুপুরে তিনি বগুড়ায় পৌঁছান।

গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে প্রতীকী লাশ নিয়ে তিনি এ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে গিয়ে এ পদযাত্রা শেষ হবে বলে জানিয়েছেন হানিফ বাংলাদেশি।

হানিফ বাংলাদেশি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। ভারতের কাছে মানবিক আচরণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। কিন্তু ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রতিনিয়ত নিরীহ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। কেউ চোরাকারবারি হলে আইনের আওতায় বিচার করা যেতে পারে, কিন্তু সীমান্তে গুলি করে হত্যা মানবতার চরম লঙ্ঘন। বর্তমান সরকার সীমান্তে হত্যা বন্ধে দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

হানিফ বাংলাদেশি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য তিনি শাসক দলগুলোর দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেন।

তিনি মনে করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।

কুড়িগ্রামের অনন্তপুরে অভিমুখে পদযাত্রা প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে কুড়িগ্রামের ফেলানী হত্যা বিশ্ববিবেককে স্তব্ধ করে দিলেও ভারত এখনো সীমান্তে হত্যা থেকে সরে আসেনি। এ কারণে প্রতীকী লাশ নিয়ে অনন্তপুর সীমান্ত অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ পর্যন্ত ১ হাজার ৪ কিলোমিটার একক পদযাত্রা করেন মোহাম্মদ হানিফ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ‌‘জাগাও বিবেক, জাগ্রত করো মানবতা’ স্লোগান নিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিবাদে ৫৬ হাজার বর্গমাইল প্রদক্ষিণ এবং ৬৪ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ছাড়াও ঘুষ-দুর্নীতিবিরোধী প্রচারাভিযান চালান।

ঢাকায় গণশৌচাগার স্থাপন আন্দোলন ছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত মানবভ্রূণ হত্যা বন্ধের দাবিতে মানুষকে সচেতন করে আলোচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

হানিফ জানান, তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে। নোয়াখালী বুলুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ড্রাইভার মালেকের শতকোটি টাকার সম্পদ থাকলে মালিকের কতো?

আব্দুল মালেক। সম্প্রতি গণমাধ্যমের শিরোনামে তার ছবি জায়গা করে নিয়েছে। দুদিন আগেও তার এতোটা পরিচিতি ছিল না। এখন আব্দুল মালেক একজন পরিচিত মুখ। তার সম্পর্কে গণমাধ্যমে উঠে আসা যতোটা তথ্য জানছি ততোটাই আশ্চর্য হচ্ছি। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক। বর্তমানে পত্রিকায় পাতায় বিশেষণ যোগ হয়ে প্রচার হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাপুটে গাড়িচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মচারী ১৯৮২ সালে মাস্টার রোলে চাকরি শুরু করেন। অষ্টম শ্রেণি পাস এই গাড়িচালক ৮৬ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পদোন্নতি পান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার বা ভালো সম্পর্ক রাখার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আব্দুল মালেক। রোববার ভোরে র‌্যাব-১ এর একটি দল তুরাগ থানাধীন কামারপাড়ার বামনেরটেক এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় আব্দুল মালেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জালনোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল জব্দ করা হয়।

নিস্পাপ চেহারা। মুখে লম্ভা দাঁড়ি। দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি কোন অন্যায় কাজ করতে পারেন। কিন্তু র‌্যাব গণমাধ্যমকে জানিয়েছে তিনি কমপক্ষে শতকোটি টাকার মালিক।

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন কত হতে পারে এটা সবারই জানা। নির্ধারিত বেতনে শহরে থাকার পর কতো টাকা সঞ্চয় করা যায় এটাও সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু গণমাধ্যমে আমরা দেখছি তিনি এখন কমপক্ষে শতকোটি টাকার মালিক। ধানমন্ডি-উত্তরায় তার বিলাসবহুল তিনটি বাড়ি। সব কটি সাততলা। একাধিক স্ত্রী ও সন্তানের নামে রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাট।

ঢাকার তুরাগে ছেলের নামে গড়ে তুলেছেন ‘ডেইরি ফার্ম’। সেখানে পালন করেন কোটি টাকার গবাধি পশু। নিজের এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে সঙ্গে রাখতেন অস্ত্রসহ ‘গানম্যান’।

অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের সাবেক ও বর্তমান মহাপরিচালকের (ডিজি) এই গাড়িচালক অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন শতকোটি টাকা। অধিদপ্তরে বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য, তদবির, টেন্ডারসহ সব ক্ষেত্রেই বিচরণ ছিল তার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অল্প কিছুদিনেই হয়ে যান অঢেল সম্পদের মালিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্রাইভারদের মামিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভারের রাতারাতি এত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারী ব্যবহার করতেন পাজেরো। অধিদফতরের মহাপরিচালকের জন্য বরাদ্দকৃত পাজেরো গাড়ি ব্যক্তিগত গাড়িতে পরিণত করেছেন তিনি। রাজধানীর তুরাগে গাড়িচালক আবদুল মালেকের রয়েছে ২৪টি ছাড়াও ১২ কাঠার প্লট। এছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ক্ষমতা দেখিয়ে অধিদফতরের বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়েছেন ডজনখানেক নিজের আত্মীয়-স্বজনকে।

মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলিকে অধিদপ্তরের অফিস সহকারী, ভাই আব্দুল খালেককে অফিস সহাকারী, ভাতিজা আব্দুল হাকিমকে অফিস সহকারী, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার, ভাগ্নে সোহেল ও ভায়রা মাহবুবকে ড্রাইভার, নিকটাত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহকারী পদে চাকরি দিয়েছেন।

আবদুল মালেক মহাপরিচালকের জন্য বরাদ্দকৃত একটি সাদা পাজেরো জিপ (ঢাকা মেট্রো গ- ১৩-২৯৭৯) নিয়মিত ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবেই ব্যবহার করতেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও দুটি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন তিনি। যার একটি পিকআপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঠ-১৩-৭০০১) তার ডেইরি ফার্মের দুধ বিক্রি এবং তার মেয়ে জামাই পরিচালিত অধিদফতরের ক্যান্টিনের মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। অপর একটি মাইক্রো (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৬৭৪১) স্বাস্থ্য অধিদফতরে কর্মরত মালেকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ব্যবহার করেন।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, দেশের দশভাগ সম্পদ নব্বই ভাগ মানুষের কাছে। আর নব্বই ভাগ সম্পদ দশভাগ মানুষের কাছে। এভাবে দেশে সম্পদেও অসম বন্টন হচ্ছে। আব্দুল মালেকের সম্পদের পরিমান দেখে মনে হচ্ছে দেশের একভাগ সম্পদ নিরানব্বই ভাগ মানুষের কাছে।

আলোচনার বিষয় হচ্ছে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (ড্রাইভার) যদি শতকোটি টাকার মালিক হয়ে থাকেন তাহলে তার মালিকের সম্পদ কত টাকার হতে পারে। আরও সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় একজন ড্রাইভার কোন কাজ নিজে করতে পারেনি। অন্যকে তদবির করে কাজ করিয়েছেন। সেক্ষেত্রে উপরের ধাপগুলোর উপার্জন কত হতে পারে? তাদের সম্পদের পরিমান কতো হতে পারে ? দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারে রাষ্ট্রের কার্যাদি জিম্মি হয়ে পড়বে। এমন মালেক শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের না অন্যান্য দপ্তরেও থাকতে পারে। আব্দুল মালেকের মতো প্রতিটি দপ্তরে-দপ্তরে আব্দুল মালেকদেরও খুঁজতে হবে।

রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ রাখতে এসব মালেকদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মালেকদের মাধ্যমে শিকড়ে পৌছাতে হবে। তবেই দেশ হবে একটি দুর্নীতিমুক্ত আদর্শ বাংলাদেশ।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

মীর কাসিম: ইতিহাসের বাঁকে হারানো এক বীরের উপাখ্যান

পলাশীর যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনিই একমাত্র শাসক যিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধাচারণ করার সাহস দেখিয়েছিলেন, তিনি হলেন নবাব মীর কাসিম। বিলাসিতার পথে না গিয়ে নিজের সবটুকু দেশের স্বাধীনতার জন্য বাজি রেখে স্বাধীনতাকামীদের জন্য স্মরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন তিনি। চলুন জানা যাক, তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কিছু কথা।

১৭৫৭ সালে পলাশীর ঐতিহাসিক যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত ও হত্যা করার পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাংলার নবাবীর মসনদে বসেন। তার বিলাসিতা ও ভোগসর্বস্ব প্রকৃতির কারণে অল্প দিনের মধ্যে বাংলায় অরাজকতা ও অসন্তুষ্টি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই ভোগের খেলায় তার সাথে যোগ হয় তার পুত্র মিরন।

দেশের প্রতি কোনো নজর না থাকা এই দুই পিতা-পুত্রকে নিয়ে মহাবিপাকে পড়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকার প্রথমে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিরনকে হত্যা করে। আর তারপর দেশের বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে মীর জাফরকে অপসারণ করে তার স্থানে তার জামাতা মীর কাসিমকে ক্ষমতায় বসায়। সময়টি ১৭৬০ সাল।

ইরাকের নাজাফের অভিজাত বংশীয় মীর রাযী খানের পুত্র মীর কাসিম। পুরো নাম মীর মুহাম্মদ কাসিম আলি খান। মীর জাফরের কন্যা ফাতিমা বেগমকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নবাব হিসেবে তার যোগ্যতার কোনো অভাব ছিলো না। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক। শ্বশুরের মতো কাপুরুষ ও মেরুদন্ডহীন ছিলেন না। দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে তার কোনো দৈন্য তো ছিলোই না, বরং এই গুণটির যথেষ্ট আধিক্য ছিলো।

মীর জাফর আর তার দুর্বৃত্ত পুত্র মিরনের দুঃশাসন ও দুর্নীতির ফলে শাসনব্যবস্থায় অরাজকতা ও অর্থনীতিতে দেউলিয়াপনা দেশকে পেয়ে বসেছিলো। কৃষকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে সেনাবাহিনীর মধ্যে একের পর এক বিপ্লব ঘটতে থাকে। এই অবস্থায় দেশটাকে দেখতে পেয়ে শিউরে ওঠেন নবনিযুক্ত নবাব মীর কাসিম। অবিলম্বে তিনি এমন সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাতে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। তার গৃহীত নীতি ছিলো বেশ কঠোর। ফলে বেশ কিছু লোক, বিশেষ করে সুবিধাবাদী কিছু লোক বেশ অসুবিধায় পড়েন।

মীর কাসিম দেশের অর্থনীতিকে মোটামুটি সুষ্ঠু ভিত্তির উপর স্থাপন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সৈনিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন এবং নিয়মিত বেতন পাবার ব্যবস্থা করে তাদের সঠিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।

নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলোর মধ্যে একটি বড় কারণ ছিলো ইংরেজদের দেয়া শুল্ক নিয়ে। ১৭১৭ সালে ফররুখশিয়ারের আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বছরে মাত্র তিন হাজার রুপি প্রদানের শর্তে সমগ্র বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার তৈরি করে নেয়। শর্তমতে শুধু ইংরেজরা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য করবে, বাঁকি সব স্থানীয় বণিককে আয়ের ৪০% হারে শুল্ক দিতে হবে। এই ব্যবস্থাকে রাজকীয় ‘দস্তক’ ব্যবস্থা বলা হতো।

সিরাজ তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নবাব মুর্শিদকুলী খান ইংরেজদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, সেসব মেনেই তাদের এ দেশে বাণিজ্য করতে হবে। নইলে এ দেশে বাণিজ্যের আশা তাদের ছাড়তে হবে। ইংরেজরা তা মানতে রাজি ছিলো না। উৎকোচ, উপহার, পেশকশ ইত্যাদি দিয়ে নবাবকে হাতে রাখার পাঁয়তারা করে আর অল্প শুল্ক প্রদান করে তারা এই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের হানি করে। এই বিরোধের জের ধরেই নবাব সিরাজ শুধু রাজ্য নয়, প্রাণও হারান।

নবাব মীর কাসিম সিংহাসনে বসে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে গিয়ে দেখেন, ইংরেজরা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিনা শুল্কে অথবা অতি সামান্য শুল্ক প্রদানের মাধ্যমে এদেশে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ব্যাপারটার শুধু সেখানেই শেষ নয়। নবাব লক্ষ্য করেন , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তো শুল্কের সব ফায়দা লুটছেই, সেই সাথে ইংল্যান্ড থেকে আসা সাধারণ ব্যবসায়ীরাও শুধু ইংরেজ বলে কোম্পানীর ভোগকৃত সুবিধাসমূহ ভোগ করে যাচ্ছে।

নবাব মীর কাসিম এই দস্তক প্রথার পূর্ণ বিরোধিতা করেন। এ ব্যাপারে কোম্পানীর সাথে আলোচনায় বসে বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসার সাথে যেসব সুবিধা ভোগ করছে, তা তিনি মেনে নেবেন। কিন্তু কোম্পানীর সদস্য ব্যাতিরেকে ইংল্যান্ডের অন্য ব্যবসায়ীদের নিয়মমতো শুল্ক দিয়েই ব্যবসা করতে হবে।

কিন্তু ইংরেজদের দাবি ছিলো, সকল ইংরেজ বণিককে একই রকম সুবিধা দিতে হবে।

সঙ্গত কারনেই নবাব তাতে সম্মত হতে পারলেন না। ব্যবসায় একচেটিয়া অধিকার লাভের আশাতেই ইংরেজরা পুরো একটা সাম্রাজ্যের মূলোৎপাটন করে বসেছিলো। এমন স্বাধীনচেতা মনোভাব তারা কখনোই আশা করেনি। তারা সকল ইংরেজ বণিকের জন্যই শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ধারা বজায় রাখতে চায়। ইংরেজদের সাথে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে মীর কাসিম রেগে গিয়ে দেশে সকল প্রকার বণিকের শুল্ক প্রদানের ব্যবস্থা রহিত করেন। শুধু নিরীহ বণিকেরাই শুল্ক দেবে, আর ইংরেজরা সব বিনা শুল্কে এদেশে বাণিজ্য করবে, এমনটা তিনি মেনে নিতে চাননি।

ক্ষমতায় বসার অনতিকাল পরেই নবাব মীর কাসিম রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র সেনাবাহিনীও গড়ে তোলেন। ইংরেজদের প্রভাবমুক্ত হবার বাসনা তার গোড়া থেকেই ছিলো। ইংরেজদের সাথে শুল্ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে মীর কাসিমের জন্য একাধিক সশস্ত্র সংগ্রাম অবধারিত হয়ে পড়ে। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরও ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে নিজ জামাতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেন।

যুদ্ধটা শুরু করে প্রথমে ইংরেজরাই। যুদ্ধ শুরু হয় আজিমাবাদ-পাটনায়। ইংরেজরা অতর্কিত আক্রমণ করে পাটনা দখল করে নেয়। এরপরের যুদ্ধ হয় কাটোয়ায়। নবাব মীর কাসিম প্রতিটি যুদ্ধেই তার বিভিন্ন সেনাপতির অধীনে সৈন্য প্রেরণ করতেন। সেনাপতিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এবং ব্যক্তিগত অহংকার ও হিংসার কারণে যে যুদ্ধে মীর কাসিমের জয় নিশ্চিত ছিলো, তাতে তিনি পরাজয় বরণ করেন। সেই যুদ্ধেই তার সর্বনাশের সুচনা হয়।

এরপরের যুদ্ধ হয় সুতি নামক স্থানে। এই যুদ্ধেও মীর কাসিম নিজে না গিয়ে সেনাপতিদের পাঠান এবং সেনাপতিদের মতানৈক্যের কারণে নবাবের বিশাল বাহিনী ইংরেজদের ক্ষুদ্র সেনাদলের কাছে পরাজিত হয়। সুতির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাসিম তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপত্তার জন্য দুর্ভেদ্য রোটাস দুর্গে পাঠান।

তিনি রাজমহলের কাছে উদয়নালা নামক একটি অতি সুরক্ষিত স্থানে তার বিরাট সৈন্যদল নিয়ে ঘাঁটি স্থাপন করেন। স্থানটি খুবই দুর্ভেদ্য বলে বিবেচিত হওয়ায় তার সৈন্যরা ঘাঁটি প্রহরার কোনো ব্যবস্থাই করলো না।

এই ঘাঁটি সংলগ্ন এক বিশাল জলাভূমির অপর তীরেই মীর জাফরকে সাথে নিয়ে ইংরেজরা শিবির স্থাপন করেছিলো। জলাভূমি অতিক্রম করার একটি গোপন পথের সন্ধান পেয়ে ইংরেজদল একরাতে আক্রমণ করে মির কাসিমের অপ্রস্তুত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। অধিকাংশ সৈন্য বিনা যুদ্ধে নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ইংরেজদের হস্তগত হয়। মীর কাসিম কী করে রক্ষা পেয়েছিলেন, তার সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায় না, তবে তিনি পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন।

একের পর এক যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় মীর কাসিম বেশ নিরাশ হয়ে পড়েন। উদয়নালার যুদ্ধে পরাজয়ের পর মীর কাসিম পাটনার দিকে অগ্রসর হন। পথে খবর পান ইংরেজরা তার মুঙ্গের দুর্গ দখল করে নিয়েছে।

পরিস্থিতি সহ্যসীমার বাইরে গেলে মীর কাসিম তার কাছে বন্দী থাকা সব ইংরেজকে হত্যা করেন। একমাত্র ইংরেজ ডাক্তার ফুলারটন পালিয়ে ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।

এরপর নবাব অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলার কাছে সাহায্য চান। সুজা-উদ-দৌলা আর মুঘল সম্রাট ২য় শাহ আলম এর মিলিত বাহিনী নিয়ে মীর কাসিম ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

প্রথমে পাটনায়, পরবর্তীতে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। শাহ আলম ও সুজা-উদ-দৌলার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দের কারণে এই জোট ভেঙে পড়ে। শাহ আলম যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইংরেজদের সাথে যোগ দেন। তিনজন মরিয়া হয়ে ওঠা মিত্রের মধ্যে মৌলিক সমন্বয়ের অভাবেই এই জোট ব্যর্থ হয়।

বিভিন্ন সূত্রমতে, ঐতিহাসিক বক্সারের যুদ্ধে এই তিন শাসকের মিলিত বাহিনীর ৪০,০০০ সেনা ইংরেজদের মাত্র ১০,০০০ সেনার কাছে পরাজিত হয়।

মীর কাসিমকে কোণঠাসা করে ইংরেজরা পুনরায় মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসায়। পরাজিত মীর কাসিমের ধন-সম্পদ সব সুজা-উদ-দৌলা লুটে নেন এবং তাকে একটি খোঁড়া হাতির পিঠে চাপিয়ে নির্বাসিত করেন।

দুর্দশাগ্রস্ত নবাব প্রথমে রোহিলাখন্ড, তারপর এলাহাবাদ, গোহাদ, যোধপুর হয়ে দিল্লীর নিকটে আবাস গাড়েন। একেবারে অজ্ঞাতসারে এবং অতি দারিদ্রের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে ছিলো শুধু দুটো শাল, যেগুলো বিক্রি করে তার সৎকারের খরচ যোগাড় করা হয়।

এই দেশপ্রেমিকের জীবনপ্রদীপ নেভার সাথে সাথে উপমহাদেশ থেকে ইংরেজবিরোধী শেষ শিখাটিও নিভে যায়।

বক্সারের যুদ্ধের সাফল্য ইংরেজদের জন্য পলাশীর যুদ্ধের সাফল্যের চেয়েও বড় ছিলো। তারা আরও বেশি শক্তপোক্ত হয়ে উপমহাদেশে ক্ষমতার পরিধি বিস্তার করতে থাকে। স্পৃহা, সামর্থ্য বা দূরদর্শিতা কোনোটারই অভাব ছিলো না নবাব মীর কাসিমের। হয়তো তার বিধিই বাম ছিলো।

দেশকে বিদেশী শোষণ থেকে মুক্ত করার স্বপ্নদ্রষ্টা তাই নিজেই একদিন আড়ালে, পথশয্যায় হারিয়ে গেলেন। তবে ইতিহাসে তিনি আজও স্বাধীনতার এক অনন্য স্বপ্নদ্রষ্টা।

(রুবায়েত আমিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

Scroll Up