মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সকল সুবিধা ভোগকারী হিরুকে তলব

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ভাতাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগকারী সেই আলমগীর হোসেন হিরুর বিরুদ্ধে তার আপন ভাইদের করা অভিযোগ তদন্ত করবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কার্যালয়ে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে জামুকার চেয়ারম্যান। এজন্য জামুকার সহকারী পরিচালক প্রশাসন-২ স্বাক্ষরিত একটি পত্র দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত হাকিম উদ্দিনের চার ছেলের মধ্যে আলমগীর হোসেন হিরু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্র সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে তিনি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো কিনা তা জানেন না তার বড় তিন সহোদর ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া তিনি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা তা জানেন না উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসসহ গ্রামবাসীও।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আলমগীর হোসেন হিরু জানান, ‌মির্জাপুর পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একই কোম্পানিতে যুদ্ধ করেছেন তিনি। তবে তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও গ্রামের লোকজন জানেন না বলেও তিনি স্বীকার করেন।

অথচ কমান্ডার মোহাম্মদ আলী জানান, ওই নামের কেউ তার সঙ্গে বা তার কোম্পানিতে যুদ্ধ করেননি। এত কিছুর পরও আলমগীর হোসেন হিরু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে গোপনে তালিকাভুক্ত করেছেন নিজের নাম। গত কয়েক বছর ধরে ভাতাও উত্তোলন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ইতোমধ্যে এক ছেলে পুলিশে এবং এক মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিও পেয়েছেন। অপর ছেলেরও পুলিশে চাকরি হওয়ার পথে বলে জানা গেছে।

এদিকে, নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গোপণে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দিনের পর দিন সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন হিরু। এমন অভিযোগ তুলে গত বছর ডিসেম্বরে তার আপন বড় দুই ভাই আবদুল বাছেদ মুন্সী ও বাবুল হোসেন বাবু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও জামুকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

পরে জামুকা কাউন্সিল অভিযোগটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষকে কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছে। ওইদিন উপযুক্ত স্বাক্ষী ও দালিলিক প্রমাণাদিসহ উভয়পক্ষকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত হিরুর বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে আবদুল বাছেদ মুন্সী গত কয়েক মাস আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।

অপর ভাই বাবুল হোসেন বলেন, ‘ছোট ভাই যুদ্ধ না করেও প্রতারনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখানোতে সমাজে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের কথা শুনতে হয়। এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেউ প্রতারণা করুক তা আমরাও চাই না। তাই বড় ভাইয়ের ইচ্ছে ছিল এই অপবাদ থেকে মুক্তির। আমিও তাই চাই।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দুর্লভ বিশ্বাস বলেন, ‘আলমগীর হোসেন হিরু যে মুক্তিযোদ্ধা, ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা ভোটার তালিকায় তার নাম দেখে আমি জানতে পেরেছি।’ একই কথা বলেন, গ্রামের বাসিন্দা যুদ্ধকালীন সময়ের স্বেচ্ছাসেবক জোয়াহের আলী।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আরোহী নিহত

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সিদ্দিক হোসেন (৫৮) নামে এক আরোহী নিহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিদ্দিক গোলাবাড়ী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি ধান-চালের চাটাইয়ের মালিক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে সিদ্দিক তার মোটারসাইকেল নিয়ে এক মিল থেকে আরেক মিলে যাচ্ছিলেন। পথে গোলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন সিদ্দিক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

কিন্তু, আহতের অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর সিদ্দিককে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

নিহতের ছোট ভাই রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীতে ডুবে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মো. আকাশ মিয়া (১৯) এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামের মোঃ মনজুর মিয়ার ছেলে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আকাশ বাবা-মা সহ ঢাকায় থাকে। সে দুই দিন আগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রবিবার দুপুরে বন্ধুদের সাথে সলিমাবাদ ছোট যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের এক পর্যায়ে নদীতে ফেলে রাখা ধর্ম জালের বাশেঁর উপর থেকে পানিতে লাফ দেয় সে।

কিছুক্ষণ পরে আকাশকে হাত নাড়াতে দেখে নদীর পানি থেকে পাড়ে তুলে তার বন্ধুরা। পরে দ্রুত তাকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাহেদ আল ইমরান আকাশকে মৃত ঘোষনা করেন।

ডাক্তার বলেন, আকাশকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে আঁখ ক্ষেতে অজ্ঞাত নারীর লাশ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আঁখ ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত এক মহিলার (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের পাঁচ আরড়া গ্রামের চান্দু বেপারীর আঁখ ক্ষেত থেকে সেলোয়ার কামিজ পরিহিত অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি ঘাটাইল ডট কমকে নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ।

পুলিশ জানায়, পাঁচ আরড়া গ্রামের আঁখ চাষী চান্দু বেপারী তার আঁখ ক্ষেতের আঁখ কাটতে গিয়ে আঁখ দিয়ে মাথা ও মুখ পেঁচানো লাশ দেখতে পেয়ে দৌড়ে বাড়িতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

পরে পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত নাগরপুর থানায় বিষয়টি জানালে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনা স্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে।

লাশ আনুমানিক তিন-চার দিনের আগের হওয়ায় চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। নিহতের পরনে ছিল লাল রংয়ের প্রিন্টের সেলোয়ার কামিজ।

লাশের সুরত হাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মহিলার মৃত্যুর সঠিক কারন জানতে নাগরপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরনের প্রস্তুতি চলছে।

নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিতে কাজ চলছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে নিত্য দিনের যানজট, দুর্ভোগে পৌরবাসী

বণিক সমিতি ও পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় মির্জাপুর পৌরসভায় অবৈধ যানবাহনের চাপে নিত্য দিনের যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রোডে চলাচলকারী যাত্রীসহ পৌরবাসিদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার পৌরসভার বিভিন্ন রোডে গিয়ে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট।

জানা গেছে, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠিত হলেও পৌরবাসি নানা সমস্যায় জর্জরিত। পৌরবাসির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটপাত ও রাস্তাঘাট দখল করে ব্যবসা, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও তীব্র যানজট। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতি এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্ময়হীনতার অভাবে উপজেলা শহর ও পৌরসভার প্রতিটি রাস্তায় অবৈধ যানবহানের চাপে তীব্র যানজট হচ্ছে।

কলেজ রোড, কুমুদিনী হাসপাতাল রোড, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোড, কালিবাড়ি রোড, থানা রোড, বাওয়ার কুমারজানি রোড, কাঁচা বাজার রোড, বংশাই রোডসহ প্রতিটি রাস্তায় ঘন্টার ঘন্টার যানজটে অতিষ্ট যাত্রীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব রোডে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা, সাধারন রিকশা, সিএনজি, ভ্যান গাড়ি, পিকআপ, লোড আনলোড ভারী ট্রাক অবৈধ ভাবে চলাচল করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মো. আলী আযম সিদ্দিকী বলেন, বণিক সমিতির পক্ষ থেকে দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অটো রিকশার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে বলেন, পৌরসভায় প্রায় ৫ শতাধিক অটো রিকশায় অনুমোদন রয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে সহস্রাধিক রিকশা চালকরা শহরে এসে যানজটের সৃষ্টি করছে। বণিক সমিতি ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে শহরের যানজট নিরসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, কিছু অসাধু চক্র সদরের অধিকাংশ রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ ভাবেস দখল করে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। ফলে পৌরসভা ও উপজেলা শহরবাসির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট। সকলের সহযোগিতায় যানজনট নিরসন করা হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন

তরুন ও আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রাঙ্গনে অবস্থিত স্বাধীনতা ভবনকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি টিটু বলেন, দেশে ৭৫ পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস একটি গোষ্ঠি বিকৃত করে ফেলেছিল। সেই গোষ্ঠীই আবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু এখন যুগ পাল্টিয়েছে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরতে বর্তমান সরকারের পাশাপাশি প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তার আলোকে নাগরপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় আজ থেকে নাগরপুরে যাত্রা শুরু করা এ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর।

তিনি বলেন, আমাদের এই উদ্যোগ উপজেলার তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সুজায়েত হোসেন বলেন, আমরা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন যাবৎ চিন্তা করছিলাম কিভাবে আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারি। আজ এখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব হয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি এ জাদুঘরের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে ও বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, মো. ফজলুল হক, এডভোকেট দাউদুল ইসলাম দাউদ, শম্ভু সাহা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের উপদেষ্টা খন্দকার আছাব মাহমুদ প্রমূখ।

আটটি গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্থিরচিত্র নিয়ে আজ থেকে যাত্রা শুরু করল নাগরপুরের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরটি।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে সাগরদিঘী রাস্তার বেহাল দশা, সংস্কারের দাবী

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘীর চাররাস্তা মোড় থেকে দুইশত গজ পশ্চিমে সাগরদিঘী টু ঘাটাইল রাস্তা, চাররাস্তার মোড়ের দক্ষিনে সাগরদিঘী টু সখীপুর রাস্তা ও চাররাস্তা মোড়ের উত্তরে সাগরদিঘী টু মধুপুর রাস্তায়সহ স্থানীয় বাজারের চারদিকে গর্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার উপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসি।

ঘাটাইলের সাগরদিঘী পুর্ব পাহাড় হিসাবে পরিচিত। যে পাড়ারে শতকরা ৮০ জন কৃষক লেবু, কলা, বেগুন, পেপে, মুলা, লাউ, কাচা মরিচ সহ বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করেন। যেসব ফল ও সবজি প্রতিদিন বিক্রি করতে হয়। সেই সব সবজি বা ফল বিক্রি করা কষ্ট হচ্ছে রাস্তা ভেঙ্গে গর্ত ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির হওয়ার কারনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোন যানবাহন বাজারে ঢুকতে পারে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে আরও জানা যায়, সাগরদিঘী চার রাস্তার মোড় থেকে দুইশ গজ পশ্চিমে ঘাটাইলে যাওয়ার রাস্তা ২ফুটের মত গর্ত হয়ে রাস্তার চার দিকে গর্ত হয়ে হাটু পানি জমে আছে। যে কোন সময় সেখানে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। একই অবস্থা সাগরদিঘী থেকে সখীপুর ও মধুপুর যাওয়ার রাস্তা।

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইল-ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা আমাদের এখানে আসতো নানা সবজি কিনতে। রাস্তা ভাঙ্গা থাকায় কারনে কোন গাড়ী বাজারে ঢুকতে পারে না। সে কারনে ব্যবসায়ীরা এখন এখানে তুলনামুলক কম আসছেন।

সাগরদিঘীর কৃষক আমের আলী জানান, রাস্তা ভাঙ্গা থাকার কারনে বাজারে কোন যানবাহন ঢুকতে পারে না। সে কারনে ব্যবসায়ীরাও আমাদের কোন সবজি বা ফল কিনতে আসে না। আমার একটা ২বিঘা জায়গা সবজি বাগান আছে। ফলন অনেক ভালো হইছে, কিন্তু সঠিক দামে বিক্রি করতে পারমু বলে মনে হয় না। এটি নিয়ে চিন্তায় আছি।

স্থানীয় পিকআপ চালক আমির হামজা জানান, বাজারে গাড়ী ঢুকানো কোনভাবেই সম্ভব না। চারদিকে রাস্তা গর্ত ও হাটু পানি। এতেকরে আমরা সহ এলাকার কৃষকগণ নানামুখী ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এখানে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ রাস্তা খুব তাড়াতাড়ি মেরামত করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

(জাহাঙ্গির আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে সেতুর নিচে চা বিক্রেতার লাশ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সেতুর নিচ থেকে ইসমাইল হোসেন (৩৬) নামে এক চা বিক্রেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঝাওয়াইল বাজার এলাকায় একটি ছোট সেতুর নিচ থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইসমাইল হোসেন ঝাওয়াইল গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে। তিনি ওই বাজারে ছোট্র একটি দোকান দিয়ে চা বিক্রি করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সারাদিন চা বিক্রি করেছেন তিনি। সন্ধ্যা রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফিরেননি। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোন সন্ধান পাননি। রবিবার সকালে ওই সেতুর নিচে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখতে পাওয়া যায়। লাশের পা ভাঙ্গা ও মাথায় ক্ষতের চিহৃ রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তারা দাবী করছেন, রাতে তাকে খুন করে সেতুর নিচে লাশ ফেলা হয়েছে। তবে, নিহত ইসমাইল নেশার সাথে জড়িত ছিলো বলেও নিশ্চিত করেছেন তারা।

ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল দেখে সড়কে বড় কোনো গাড়ীর সাথে ধাক্কা লেগে বা চাপা পড়ে মারাত্বক আঘাত পেয়ে সেতুর নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোপালপুর থানার ওসি (তদন্ত) কাইয়ুম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের বাম পা ভাঙ্গা, শরীরে থেতলানোর চিহৃ ও মাথায় জগম আছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যাবে।

(সেলিম হসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

আশ্বিনে আসা যমুনার জোয়ারে ভুঞাপুরে কৃষকের স্বপ্ন চুরমার

গেল কয়েক দফা বন্যার রেশ না কাটতেই উজানের ঢলে টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি আবারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গেলো ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরীর নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং যমুনা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চল। ইতিমধ্যে নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এছাড়াও পঞ্চম দফার এ বন্যায় ভেস্তে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। হাজার হাজার একর জমির রোপা আমন, বীজতলা ও সবজি বাগান পানির নিচে চলে গেছে।

বুকভরা আশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে চরা দামে চারা ক্রয় করে যে রোপা আমন কৃষক লাগিয়েছিলেন তা এখন পানির নিচে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। নতুন করে বন্যা দেখা দেয়ায় যমুনা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

সম্প্রতি বন্যার পানিতে জেলার ১১টি উপজেলার  প্রায় পাঁচশ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এখনও অনেক এলাকায় বন্যার পানি রয়েই গেছ। তার মধ্যে আবারও পানি বৃদ্ধি। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে এসব এলাকার লোকজনের মাঝে। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার পূর্ব পাড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় আছে। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। নেয়া হচ্ছে না ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা। প্রতিবছর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড লোক দেখানো কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও তা কোনও কাজেই আসছে না। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

ভালকুটিয়া গ্রামের আজাহার বলেন, দীর্ঘ বন্যার পর যমুনার পানি কমতে শুরু করায় একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলাম। হঠাৎ আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আতঙ্কে অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।

গাবসারা গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, একদিকে করোনা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা। দুই মিলিয়ে আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তার মধ্যে আবারও নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মহীন হয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আরও দুয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।  আর যে সমস্ত এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়ে সে সমস্ত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে বিদ্যুতের তারে আটকে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে ফারুক হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার সময় মধুপুর উপজেলার চাকন্ড তকিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, ওই যুবককে একই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী সামান আলী তার ঘরের মিটারের অবৈধ সংযোগ দেয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। তারপর তাকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য খুঁটির উপরে তুলে দেন। আর সেখানে সংযোগ দেয়ার সময় বিদ্যুতের ২৩০ ভোল্টের তারের সাথে আটকা পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান।

বিদ্যুতের তারে আটকে পড়া নিহত ফারুকের নিথর দেহ স্থানীয়রা বাঁশের লাঠি দিয়ে নিচে নামিয়ে ফেলেন।

সালমান আলীর নামে ওই সংযোগ মিটারে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সময় ফারুকের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।

মধুপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বিপ্লব কুমার জানান, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে অবৈধভাবে চোরাই সংযোগ দেয়া যা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘটনা। এ ঘটনায় সঠিক বিচার হওয়া দরকার।

উল্লেখ্য, নিহত ফারুকের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আর এ ব্যাপারে নিহতের বাবা কিতাব আলী এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-