শফীর সাম্রাজ্য বাবুনগরীর কবজায়

দেশের কওমি মাদরাসার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ এবং হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের আমির শাহ আহমেদ শফীর সঙ্গে মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর দ্বন্দ্ব বেশ অনেক দিন ধরেই।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ‘বড় মাদরাসা’ নামে পরিচিত এই আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার নেতৃত্বের ওপর ভর করেই হেফাজতের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।

কয়েক দশক ধরে মহাপরিচালকের পদে থাকা ‘বড় হুজুর’ আহমেদ শফী বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি পদেও ছিলেন।

মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছেড়ে দেয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আহমেদ শফীর মৃত্যুতে কওমি মাদ্রাসার নেতৃত্ব ও হেফাজতে ইসলামের সর্বোপরি আহমেদ শফীর সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ জুনায়েদ বাবুনগরীর কবজায় চলে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এ তথ্য জানা যায়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রীতম দাশ।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমেদ শফীকে অব্যাহতি এবং তার ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ ৬ দফা দাবিতে গত বুধবার আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের মুখে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাদরাসার শূরা কমিটির বৈঠকে মহাপরিচালকের পদ ছেড়ে দেন আহমেদ শফী। ওই বৈঠকে সহকারী পরিচালক শফীপুত্র আনাস মাদানীকে এবং শফীর অনুসারী আরেক শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পদ ছেড়ে দেয়ার পর গুরুতর অসুস্থ আহমেদ শফীকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নিয়ে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।

জুনায়েদ বাবুনগরীর ইন্ধনেই আন্দোলনের সূত্রপাত:

জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা আহমেদ শফীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইন্ধন জুগিয়েছেন।

সূত্র জানায়,বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং অসুস্থ আহমেদ শফীর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কয়েক মাস আগে বাবুনগরীর সঙ্গে শফী সমর্থকদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে পরিচালকের পদ থেকে বহিষ্কার হন বাবুনগরী। তবে হেফাজতের মহাসচিবের পদে আছেন তিনি।

আর তখন থেকেই তিনি আহমেদ শফীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের খেপিয়ে তোলেন।

এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের সহযোগিতায় বাবুনগরী নেপথ্যে থেকে নিজে এবং তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তোলেন।

এ ক্ষেত্রে বাবুনগরীর অনুসারীরা যুক্তি দেখান, বার্ধক্যজনিত কারণে আহমেদ শফী দীর্ঘদিন ধরেই মাদরাসার প্রশাসনিক তদারকিতে অক্ষম। একাধিকবার তাকে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিজের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় আহমেদ শফী দাপ্তরিক কাজে ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর ওপর নির্ভর করতেন।

এই সুযোগে আনাস মাদানী হাটহাজারী মাদরাসা এবং হেফাজতে ইসলামে নিজস্ব বলয় বাড়াতে তৎপর হন। মহাপরিচালকের ছেলে হিসেবে তিনি প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তার সুপারিশে নিয়ম ভঙ্গ করে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ ও বরখাস্ত করা হয়।

বাবুনগরীর নেপথ্যে জামায়াত:

নিজের হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি ও তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের দিয়ে কৌশলে আন্দোলন গড়ে তোলেন। আর নেপথ্য থেকে বাবুনগরীকে সহযোগিতা করেছে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্র এবং সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের নেতৃত্বে ও হাটহাজারীর মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিরোধ এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের নেপথ্যে জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীদের স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

আহমেদ শফী-জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরোধের কারণ:

এক সময় আহমেদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন গুরু-শিষ্য। শতবর্ষী আহমেদ শফী মাঝেমধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবুনগরী ভেবেছিলেন, শফীর পরে তিনিই হবেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি ঢেলে দিয়ে আহমেদ শফী তার ছেলে আনাস মাদানীকে ক্রমেই ক্ষমতাধর করে তোলেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক ও মাদরাসার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আনাস মাদানীকে। জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরিয়ে দেয়া হয় মাদরাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকেও। এরপর থেকেই আহমেদ শফী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নিজের গ্রুপকে সক্রিয় করেন বাবুনগরী।

হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের আসন ফিরে পেতে এবং মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতেই বাবুনগরী আহমেদ শফীর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

আহমেদ শফীর সমর্থক শিক্ষকরা বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থক শিক্ষকরা বহিরাগত কিছু লোক মাদ্রাসায় এনে একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে মাদ্রাসার দখল নিয়েছিল। তারাই আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করেছে।

অন্যদিকে বাবুনগরীর পক্ষের দাবি, নানা অনিয়মের কারণে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে মাদ্রাসার ছাত্ররাই বিক্ষোভ করেছে। এই দুই পন্থি শিক্ষকরা এখন একে অন্যের নামে ফতোয়া দিচ্ছেন। আহমেদ শফীর অনুসারীরা বাবুনগরীর গ্রুপকে বলছে কাফের-মুরতাদ, বাবুনগরীপন্থিরা আহমেদ শফীর পক্ষের শিক্ষকদের বলছেন ইসলামের শত্রু!

হেফাজতে ইসলাম ও মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই বিরোধ : আহমেদ শফীর সঙ্গে জুনায়েদ বাবুনগরীর ছিল গলায় গলায় খাতির। দুজনে একসঙ্গে ‘নাস্তিক-ব্লগারদের’ ফাঁসি চেয়েছেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া হেফাজতের নেতৃত্বে ছিলেন আহমেদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরী।

এ দেশের মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে এবং অপপ্রচার চালিয়ে তথাকথিত ‘নাস্তিক ব্লগার’দের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তারা। ওই বছরের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে লাখো মানুষের সমাবেশের নামে ভাঙচুর-তাণ্ডব চালিয়ে জানান দিয়েছিল নিজেদের শক্তিমত্তা।

এমনকি সরকার পতনের হুমকিও উচ্চারিত হয়েছে সংগঠনটির নেতাদের মুখে!

সেদিন রাতে র্যাাব-পুলিশের অভিযানের মুখে হেফাজত কর্মীরা ঢাকা ছাড়লেও বিভিন্ন ব্লগের মাধ্যমে এই সংগঠনের কর্মীদের আস্ফালন অব্যাহত ছিল। কেউ তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে ‘নাস্তিক-মুরতাদ’ ফতোয়া দেয়া হতো। একের পর এক ব্লগারদের কুপিয়ে খুন করার পর হেফাজত নেতাদের উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

গত বুধবার আন্দোলন শুরুর পর রাতে মাদরাসার শূরা কমিটি বৈঠক করে আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বিক্ষুব্ধরা শান্ত হলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার গুঞ্জনে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার মাদ্রাসাটি বন্ধের নির্দেশ দেয়।

সরকারি নির্দেশের পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাতে আহমেদ শফীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসে মাদ্রাসার শূরা কমিটি। বৈঠকে ১২ সদস্যের শূরা কমিটির পাঁচ সদস্য এবং মাদ্রাসার প্রবীণ সিনিয়র শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। মাদ্রাসার শূরা কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন নানুপুরী বলেন, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বড় হুজুর। তবে তিনি আমৃত্যু ছদরে মুহতামিম (উপদেষ্টা) হিসেবে থাকবেন। তিনি মাদরাসা পরিচালনা ও নতুন মুহতামিম মনোনয়নের দায়িত্ব শূরা কমিটিকে দিয়েছেন।

(ভোরের কাগজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে ঘাটাইলের সুকুমারসহ প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে দুটি ওয়াকিটকিসহ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ঘাটাইল উপজেলার ঘারট্র গ্রামের মৃত নিতাইয়ের ছেলে সুকুমার সরকার (৪০) ওরফে এসকে সরকার রয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয় হতে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় দুপুরে কালিহাতি থানা পুলিশ দুটি ওয়াকিটকি, চারটি আইডি কার্ড, দুইটি মোটরসাইকেল ও কিছু আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঘারট্র গ্রামের মৃত নিতাইয়ের ছেলে সুকুমার সরকার (৪০), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), যুগনী গ্রামের কুরবানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), বাসাখানপুর গ্রামের আলী আকবরের ছেলে ওসমান গনি (৪২) ও কাগমারা এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোখলেছুর রহমান (৫০)।

প্রতারক চক্রটি ওয়াকিটকি নিয়ে তথাকথিত “সমাজের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা” সংগঠনের নামে তদন্ত কাজে যাবেন বলে থানায় অনুমতি নিতে গেলে, গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ব্যবহৃত ওয়াকিটকির অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা তাহা দেখাতে ব্যর্থ হন।

উল্লেখ্য, এ প্রতারকের প্রধান আলমগীর হোসেন সম্প্রতি র‌্যাব পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ইতিপূর্বেও গ্রেপ্তার হন এবং একই অভিযোগে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন হতে ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাওলানা আবেদ আলী স্বাক্ষরিত একটি পত্রে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

(এম এম হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ২৭ ক্রিকেটার

কাল থেকে জৈব নিরাপদ বলয় গড়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের ৭ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প। ক্যাম্পের জন্য ২৭ সদস্যের দল করেছে বিসিবি। ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কার বিমান ধরার কথা। সফরটি এখনো নিশ্চিত না, তবে সফর হবে ধরেই নিজেদের কার্যক্রম এগিয়ে রাখছে বিসিবি।

গত দুই মাস ধরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে একক অনুশীলন করা ক্রিকেটার নিয়ে দল সাজিয়েছেন নির্বাচকেরা।

জাতীয় দলের আশপাশের অধিকাংশ ক্রিকেটার প্রস্তুতি ক্যাম্পে থাকছেন। চমক হিসেবে আছে শুধু উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসানের নাম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের টেস্ট সিরিজে সর্বশেষ খেলেছিলেন নুরুল। বছরের শুরুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া তরুণ পেসার হাসান মাহমুদকেও রাখা হয়েছে ২৭ সদস্যের প্রস্তুতি ক্যাম্পের দলে।

২৭ ক্রিকেটারের মধ্যে ১৮ ক্রিকেটার এর মধ্যে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পেয়েছেন। বাকি ৯ ক্রিকেটারের করোনা নমুনা নেওয়া হয়েছে আজ। কাল তাদের করোনা পরীক্ষার ফল পেলেই রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে উঠবেন ক্রিকেটাররা। এরপর হোটেল ও মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে যেতে পারবেন না কেউই।

বিসিবি চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ইসিবি ও আইসিসির গাইডলাইনের আলোকে আমরা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের দফায় দফায় পরীক্ষা করার মাধ্যমে এবং তাদের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে আমরা তাদের জৈব নিরাপদ বলয়ে নিয়ে এসেছি। শ্রীলঙ্কা সফরের আগ পর্যন্ত আমরা এই বলয় করার চেষ্টা করছি। হোটেলের কর্মচারী আছেন, মাঠ কর্মী আছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী যাদেরই খেলোয়াড়দের কাছে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাদেরও আমরা পরীক্ষা করে করে নেগেটিভ হলেই বায়োবাবলে চলে আসবে।’

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াড:

মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাদমান ইসলাম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ, নুরুল হাসান, শফিউল ইসলাম, ইয়াসির আলী, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, নাজমুল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, সাইফ হাসান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভয়ভীতি, মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা ও খুনের হুমকি দিয়ে পৈত্রিক বসতভিটা (জমি) অবৈধভাবে বেদখল করার অভিযোগ উঠেছে মো. আলতাফ হোসেন তরফদারের বিরুদ্ধে। জমি বেদখলকারী অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন ভূঞাপুর পৌরসভার বীরহাটি এলাকার মৃত জাহা বক্স তালুকদারের ছেলে। ভুঞাপুর থানায় এমন এক লিখিত অভিযোগ করেছেন একই এলাকার মৃত সঞ্চাব আলীর ছেলে ও ভুক্তভোগী রিপন তালুকদার।

লিখিত অভিযোগ জানা যায়- ভূঞাপুর পৌরসভার বীরহাটি মোজায় ১৫৯ খতিয়ানের ৩৬৪ দাগের ১৮ শতাংশ জমিতে রিপনের বাড়ি। এই ১৮ শতাংশের একাংশ বাড়ি অবৈধভাবে জবরদখলের চেস্টায় আলতাফ হোসেন ও তার সহযোগিরা দীর্ঘদিন যাবৎ রিপনের সাথে শুত্রুতা করে আসছেন। শুধু তাই নয় অবৈধভাবে রিপনের বাড়িতে টিনের বেড়াসহ মিথ্যা মামলাও দিয়ে হয়রানি করেছে।

এরই ধাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় রিপন বাড়িতে না থাকায় পরিকল্পিতভাবে লোহার রড, দা-কুড়াল দিয়ে রিপনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করেন আলতাফ হোসেন ও তার সহযোগিরা।

স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও তার পরিবারের ওপর হামলার খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী রিপন তার স্ত্রী, মেয়ে ও তার বোনকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই দিন দুপুরেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গত মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিপন।

এর আগে রিপনের বাড়িঘর উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে টিনের বেড়া দেয় আলতাফ হোসেন ও তার অন্যান্য সহযোগিরা। পরে রিপন বাধা দিতে যাওয়ায় মারধর ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে জখমও করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবুকে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে অবগত করলে জবরদখলকারী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে খুন ও গুম করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে জানিয়েছে রিপন তরফদার।

এদিকে, গতকাল বৃহস্প‌তিবার সন্ধ্যায় ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ গেটের সামনে বীরহা‌টি গ্রা‌মের লোকজন আলতা‌ফ হোসেনের বিরু‌দ্ধে প্রতিবাদসভা ক‌রেছে। প্রতিবাদ সভায় রিপ‌নের জায়গা বেদখল ও এলাকাবাসীর বিরু‌দ্ধে মিথ্যা মামলা দা‌য়েরর প্রতিবাদ জানা‌নো হয়। এসময় প্রতিবাদসভায় স্থানীয়রা জানান, আলতাফ হোসেন জোরপূর্বক রিপ‌নের জায়গা বেদখল ক‌রে। এটা নি‌য়ে স্থানীয়রা জায়গা বেদখ‌লের প্রতিবাদ ক‌রে। এ‌তে ক্ষিপ্ত হ‌য়ে আলতাফ হোসেন এলাকাবাসীর বিরু‌দ্ধে কো‌র্টে মিথ্যা মামলা দা‌য়ের ক‌রে হয়রা‌নি কর‌ছে। দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রিপনের জমি দখলমুক্ত করার আহবান জানায় তারা।

ভুক্তভোগী রিপন তরফদার বলেন, প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন তরফতার ১৮ শতাংশ জমি অবৈধভাবে বেদখল করার চেস্টায় দীর্ঘদিন যাবৎ শত্রুতা করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। আহত হয়েছে আমার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন। এছাড়াও জমি দখলের পর টিনের বাউন্ডারী দিয়ে উল্টো রিপন ও এক মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় কয়েকজনের নামে কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এসব বিষয়ে উপজেলা পরিষদে অভিযোগ করলে আলতাফ হোসেন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে খুন ও সন্তানদের গুম করে ফেলারও হুমকি দিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

চিকিৎসার জন্য সখীপুরে বাড়ি বিক্রি করলেন বাবা, ৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মেয়ে

চিকিৎসার পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হওয়া মেয়েকে ধরিয়ে দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আর পুরস্কার ঘোষণা করেও সন্ধান পাননি অসুস্থ বাবা আবদুল মান্নান। ফলে বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছেন ভ্যানচালক বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামে।

জানা যায়, সখীপুর উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভ্যানচালক আবদুল মান্নান (৬০)। চার মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের বাবা তিনি। ইতোমধ্যে চার মেয়ে ও এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন।

ভ্যানচালক আবদুল মান্নানের স্ত্রী সেলী বেগম বলেন, বছর খানেক ধরে নানা রোগে আক্রান্ত হন আমার স্বামী। অসুস্থ থাকায় গাড়িও চালাতে পারছেন না। স্বামীর চিকিৎসার জন্য ৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ লাখ টাকায় নিজ বাড়ি বিক্রি করে দেই। ৯ সেপ্টেম্বর ছোট মেয়ে চায়না আক্তারের সঙ্গে উপজেলার নলুয়া বাজারের একটি ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকা জমা রাখতে যান স্বামী। ছিনতাইয়ের ভয়ে টাকাগুলো মেয়ের ব্যাগে রাখা হয়। ব্যাংকে টাকা জমা রাখার জন্য স্বামীকে নেয়া হলেও তাকে বসিয়ে রেখে মেয়ে চায়না আর তার স্বামী হাসান মিয়া টাকাগুলো নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

সেলী বেগম বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ে ও জামাতার খোঁজ পাইনি। অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার আমার স্বামী সখীপুর থানায় মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দেন। এছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকে মেয়ের ছবিসহ একটি বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। চরম অসুস্থ হয়েও টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় ভুগছেন আমার স্বামী। অজ্ঞাত কোন রোগে ভুগছেন তা বলতে পারছি না। বিছানায় শুয়ে ঘনঘন বমি করছেন তিনি।

সেলী বেগম আরও বলেন, গার্মেন্টেসে চাকরি করা অবস্থায় মেয়ে চায়নার সঙ্গে বিয়ে হয় হাসান মিয়ার। এ কারণে জামাতা হাসানের প্রকৃত বাড়ি কোথায় সেটিও জানি না।

সখীপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযুক্ত মেয়ে চায়নাকে আটক আর টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে গরীবের ডাক্তারের প্রাণ গেল করোনায়

করোনাভাইরাস সংক্রমণে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে মারা গেলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গরীবের ডাক্তার খ্যাত মোঃ আব্দুল হাকিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এদিকে ঘাটাইলে করোনা সংক্রমণে মোট সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া দুইটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করছেন।

গরিবের ডাক্তার মোঃ আব্দুল হাকিম উপজেলার ১ নং দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরের সাজনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আয়াত উল্লাহ শেখ।

তার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে দিলে ১১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। পরে তিনি কালবিলম্ব না করে পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজকে দুপুরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন।

পেশায় ডাক্তার আব্দুল হাকিম পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরের সাজনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও চাকুরীর সুবাদে তিনি উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসাবে পাকুটিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ প্রায় ৩২টি বছর সেবা প্রদান করেছেন। এতে দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন তথা ঘাটাইলবাসির হৃদয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে গরীবের ডাক্তার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, তিনি করোনা পজিটিভ হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তার প্রিয় কর্মস্থল পাকুটিয়া বন্ধন ক্লিনিকে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। তিনি অনেক গরীব মানুষকে বিনা ফিতে চিকিৎসা প্রদান করতেন।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মেয়ে ডাক্তার ও ছেলে ফরহাদ হুসাইন অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসি। তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

তার মৃত্যুতে সহকর্মি ডাক্তার, নার্স, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসির মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে ঘাটাইলে করোনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান এবং ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল ভূঁইয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমনে মারা গেছেন।

(আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

শাপলা তুলতে গিয়ে: ঘাটাইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মামার বাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে সোহান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্য হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা ছুনটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের ছয়আনি বকশিয়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, শিশু সোহান ঘাটাইল উপজেলার ছুনটিয়া গ্রামে মামার বাড়ি বেড়াতে এসে স্কুলের পাশে বড়খালে শাপলা তুলতে গিয়ে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সোহানকে না দেখতে পেয়ে খুঁজতে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পার্শ্ববর্তী খাল থেকে তার নিথর দেহ ভেসে উঠে।

সেসময় তাকে পানি থেকে ডাঙায় তুলে এনে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে শরীরে লবণ দিয়ে পরিবার ও গ্রামের লোকজন চিকিৎসা দিতে থাকে।

তারপরও শিশুটির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দ্রুত তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

(আল-আমীন রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ভাইরাস: সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকরা যেভাবে বৈষম্যের শিকার

কয়েক সপ্তাহ হয়ে গেছে জাকির হোসেন খোকন তার ঘরের বাইরে যেতে পারেন নি। এই ঘরটিতে ১১ জনের সঙ্গে থাকেন তিনি। ঘরটিতে লোহার তৈরি ছয়টি বাঙ্ক বেড ছাড়া তেমন কিছুই নেই। প্রত্যেকটি বেডের সামনে কাপড় আর বেমানান তোয়ালে ঝুলিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আড়াল তৈরি করা হয়েছে।

“দিন রাত আমরা এই একটা ঘরের ভেতরেই থাকি। এটা আসলে আমাদের ওপর মানসিক নির্যাতন। এটা জেলখানার মতো,” বলেন তিনি।

“ঘরের ভেতরে জায়গা না থাকার কারণে আমরা সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখতে পারি না।”

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেরে ওঠার পর কাজেও ফিরে গেছেন। জাকির ভেবেছিলেন তার খারাপ দিনগুলো চলে গেছে। তিনি যে ডরমিটরিতে থাকেন সেটাও জুন মাসে ভাইরাসমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

কিন্তু অগাস্ট মাসে সেখানে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিলে হাজারো অভিবাসী শ্রমিকের মতো তাকেও আবার কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গৃহীত ব্যবস্থার জন্য এক সময় সিঙ্গাপুরের প্রশংসা করা হয়েছিল। কিন্তু ভাইরাসটি যখন বিদেশি অভিবাসীদের ডরমিটরিতে গিয়ে পৌঁছায় তখন এবিষয়ে দেশটির সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, সিঙ্গাপুরে যে এধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে সেটা আগে থেকেই বোঝা উচিত ছিল।

কয়েক মাস ধরে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কমিউনিটিতে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা একক সংখ্যার ঘরে। লোকজন কাজে ফিরে যাচ্ছে, সিনেমা খুলে দেওয়া হয়েছে, রেস্তোরাঁগুলো থেকে আবার মানুষের হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু সিঙ্গাপুরে যারা অল্প আয়ের মানুষ তাদেরকে ঘরের ভেতরেই থাকতে হচ্ছে। তারা এখন এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

এই শহর গড়ে তুলেছেন যারা

সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয় জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে। ওই ব্যক্তি দেশের বাইরে থেকে এসেছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়।

সেসময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক কন্টাক্ট ট্রেসিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সারা দেশে চালু করা হয় করোনাভাইরাস-ট্রেসিং অ্যাপ। এবিষয়ে লোকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়ানো হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞরা সিঙ্গাপুরের গৃহীত এই পদ্ধতির প্রশংসা করেন। এই পদ্ধতিকে তারা “সর্বোচ্চ মানের নিখুঁত শনাক্তকরণ” বলে উল্লেখ করেন।

কিন্তু দেশটিতে ইতোমধ্যে একটি সঙ্কট তৈরি হচ্ছিল যা বেশিরভাগ মানুষই দেখতে পায় নি।

সিঙ্গাপুরে তিন লাখেরও বেশি অল্প আয়ের বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। তারা সেখানে গেছেন ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশ থেকে। তাদের বেশিরভাগই কাজ করেন নির্মাণ ও উৎপাদন শিল্পে।

এসব শ্রমিকের সিঙ্গাপুরে থাকার বিষয়টি নির্ভর করে তাদের চাকরির ওপর। চাকরিদাতার পক্ষ থেকে অর্থের বিনিময়ে তাদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। ভিড়ে ঠাসা গাড়িতে করে তারা তাদের ডরমিটরি থেকে কাজের জায়গায় যাতায়াত করেন। অন্যান্য ডরমিটরি থেকে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে তারা একত্রে বিশ্রাম নেন যা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য খুবই উপযোগী এক পরিস্থিতি।

একটি ডরমিটরিতে সর্বোচ্চ কতজন থাকতে পারবেন আইনে তার কোন সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে কোভিড মহামারির আগে সাধারণত ২০ জনেরও বেশি শ্রমিক ডরমিটরির একটি কক্ষে একত্রে থাকতেন।

মার্চ মাসের শেষের দিকে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি গ্রুপ ‘ট্রানসিয়েন্ট ওয়ার্কার্স কাউন্ট টু’ সতর্ক করে দিয়েছিল যে “এসব অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে যে নতুন করে ক্লাস্টার সংক্রমণের ঘটনা ঘটবে না সেটা অস্বীকার করা যায় না।”

সিঙ্গাপুরে আংশিকভাবে জাতীয় লকডাউন জারি করার কয়েক সপ্তাহ পর সাধারণ লোকজনের মধ্যে সংক্রমণ পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর মধ্যে অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের আশঙ্কা সত্যি হয়। প্রতিদিন কয়েক শ’ শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হতে থাকেন।

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে সরকার প্রতিদিন আলাদা আলাদা করে দুই ধরনের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে শুরু করে। এগুলো হচ্ছে স্থানীয় কমিউনিটিতে ও ডরমিটরিতে শনাক্ত হওয়া লোকের সংখ্যা।

এসব পরিসংখ্যানে দেখা যায় কমিউনিটিতে ও ডরমিটরিতে আক্রান্ত লোকের সংখ্যায় কতো তারতম্য- ডরমিটরিতে প্রচুর সংখ্যক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কমিউনিটিতে এই সংক্রমণের হার ছিল খুবই কম।

নিউজিল্যান্ডের ম্যাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ের অধ্যাপক মোহন দত্ত বলেছেন, “অন্য যেকোনো মহামারির মতো কোভিড-১৯ মহামারিও অসাম্যের।”

“সিঙ্গাপুরে ভিন্ন ভিন্ন দুই ধরনের সংখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে এই বৈষম্য আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।”

তালাবদ্ধ ডরমিটরি

এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের ডরমিটরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে কাজ করেন এরকম ১০,০০০ স্বাস্থ্যবান কর্মীকে আলাদা করে ফেলা হয় যাতে দেশটির কাজ কর্ম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।

তবে গণহারে পরীক্ষা চালানোর সময় বেশিরভাগ শ্রমিক ডরমিটরিতে আটকা পড়েন। কাউকে কাউকে তাদের ঘর থেকেও বের হতে দেওয়া হয়নি। আক্রান্ত কর্মীদের ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়, সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

লকডাউনের সময় সারা দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এসব ডরমিটরির চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সারা দেশে দোকানপাট খোলা ছিল, প্রাত্যহিক শরীর চর্চাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সব ধরনের আউটলেট থেকে পণ্য ও সেবা সরবরাহ অব্যাহত ছিল। কিন্তু এই বিদেশি শ্রমিকদের রাখা হয়েছিল লকডাউনে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাবারটুকুও দেওয়া হয়নি।

“যখন লকডাউন জারি করা হলো, আমাদেরকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হলো না। আমরা পাশের ঘরেও যেতে পারতাম না,” বলেন ভাইথ্যানাথান রাজা, দক্ষিণ ভারত থেকে যাওয়া একজন শ্রমিক।

এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই এসব ডরমিটরির ওপর দৃষ্টি পড়ে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নতুন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এগুলোর জন্য দানের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং যারা এসব ডরমিটরি পরিচালনা করেন তারা এগুলোর অবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেন।

মহালিঙ্গম ভেটরিসেলভান ৫১ বছর বয়সী একজন ভারতীয় শ্রমিক। তিনি বলেন, তাদের ডরমিটরিতে যেসব ব্যবস্থা আছে সেগুলো ঠিকই আছে। আগে ঠাসা ঠাসি করে কিছু বাঙ্ক বেড রাখা ছিল। এখন সেগুলো সরিয়ে সিঙ্গেল খাট পাতা হয়েছে। “একটা খাট থেকে দুরত্বও এখন বেশি,” বলেন তিনি।

আরেকজন বিদেশি শ্রমিক তার ঘরের একই ধরনের কিছু ছবি পাঠিয়েছেন যেখানে সব নতুন করে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেছেন বেডের সংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে এখন আটটি করা হয়েছে।

আরেকজন শ্রমিক বিবিসিকে বলেছেন তিনি ভাগ্যবান যে তার চাকরিদাতা তাকে একটি হোটেলে সরিয়ে নিয়েছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যাওয়া জাকিরের বেলায় এমনটা ঘটেনি। নির্মাণ-শিল্পের একটি প্রকল্পে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তাকে একটি অস্থায়ী আবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুস্থ হয়ে ওঠার পর আবার তাকে তার ডরমিটরিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

“আমি ডরমিটরি ছেড়ে যাই ১৭ই এপ্রিল এবং যখন আমি ৯ই জুলাই ফিরে আসি, এর মধ্যে আমি কোন উন্নতি দেখিনি।”

জাকির জানান, ছয় মিটার বাই সাত মিটারের একটি ঘরে তারা ১২ জন থাকেন।

“তারা আমাদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলে, কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয় এটা একটা কৌতুক,” বলেন জাকির।

“ছোট্ট একটি ঘরের ভেতরে আমরা কীভাবে দূরত্ব বজায় রাখবো?”

প্রত্যেক তলায় আছে এধরনের ১৫টি করে ঘর। প্রত্যেকটি ঘর যদি লোকে ভর্তি থাকে তাহলে একেকটি ফ্লোরে ১৮০ জনের মতো থাকার কথা। তারা সবাই একই টয়লেট ব্যবহার করেন যাতে আছে ছয়টি বেসিন, গোসলখানা, পায়খানা এবং প্রস্রাব করার স্থান, জানান জাকির।

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে প্রতি ১৫টি বেডের জন্য একটি করে টয়লেট, গোসলখানা ও সিঙ্কের ব্যবস্থা থাকার কথা।

“তারা আমাদেরকে এগুলো পরিষ্কার রাখতে বলে কিন্তু এজন্য সেখানে কোন সাবান নেই।”

এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিবিসি ডরমিটরি পরিচালনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কিছু শোনা যায় নি।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ‘ইটস রেইনিং রেইনকোটসের’ প্রতিষ্ঠাতা দিপা সোয়ামিনাথান বলেন, অনেক শ্রমিকই এধরনের পরিস্থিতিতে বহু বছর ধরেই বসবাস করছেন।

“এখন আমরা যেসব বিষয়ে কথা বলছি- তাদের থাকার জায়গা, তাদের খাবার- এগুলোর অবস্থা বহু বছর ধরেই এরকম। এতদিন এসব বিষয়ে শোনা যায় নি কারণ তারা কেউ অভিযোগ করেন না। সিঙ্গাপুরে তাদের যা আছে সেসব নিয়েই তারা সন্তুষ্ট। তারা যদি কোন চাপে পড়েন তাহলে তারা সত্যিই একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।”

করোনাভাইরাস মহামারি শ্রমিকদের ওপর যে চাপ তৈরি করেছে তার ফলে অনেক দুঃখজনক ঘটনাও ঘটে গেছে। অনেকে আত্মহত্যা, মৃত্যু কিম্বা নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।

ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন শ্রমিক ডরমিটরির জানালার কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন। তার সঙ্গে যারা থাকেন এক পর্যায়ে তারা তাকে ঘরের ভেতরে টেনে ধরেছেন। বিবিসির পক্ষে অবশ্য এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি।

জাকির বলেন, “আমার ডরমিটরির কেউ কেউ তাদের পরিবারকে ফোন করে বলেন যে তারা আর পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারছেন না। তারা কাঁদে আর বলে যে তারা বাড়িতে ফিরে যেতে চায়।”

বেতনের বিষয়টিও তাদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করে। কারণ দেশের বাড়িতে তাদের পরিবার তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

“বাইরে যেতে পারি না বলে আমরা টাকা পাঠাতে পারি না,” বলেন জাকির। তিনি জানান যে অনেক শ্রমিক তাদের নিয়মিত বেতনও পায়নি।

সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন বিদেশি যেসব শ্রমিক পূর্ণকালীন কাজ করেন তাদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু যারা কাজ করতে পারেন নি তাদেরকে বেতন দিতে বলা অযৌক্তিক হবে।

তিনি বলেন, “চাকরিদাতাদের উচিত হবে তারা যাতে বেতন দিতে পারেন সেজন্য পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি উপযুক্ত ব্যবস্থায় পৌঁছানো।”

একটি পোস্ট মর্টেম

সিঙ্গাপুর সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা আরো উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার বলছে, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ প্রত্যেক বাসিন্দাকে থাকার জন্য অন্তত ছয় বর্গমিটার করে জায়গা দেওয়া হবে।

একেকটি ঘরে থাকবে সর্বোচ্চ ১০টি বেড এবং অন্তত এক মিটার দূরে দূরে বেডগুলো রাখতে হবে।

অধ্যাপক দত্ত বলছেন, ডরমিটরির পরিস্থিতি কেন এতো খারাপ অবস্থায় যেতে দেওয়া হলো এখন সেটাই প্রশ্ন: “মহামারির আগেই অনেক সংস্থার পক্ষ থেকে এসব মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লং এসব ডরমিটরির ঝুঁকির বিষয়ে যে সরকারের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সেকথা স্বীকার করেছেন।

এমাসের শুরুর দিতে পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন,”আমরা আগাম সতর্কতা বাড়িয়েছিলাম। একটা সময় পর্যন্ত সেগুলো পর্যাপ্ত মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে ডরমিটরিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলো যা আমাদের সকলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলো।”

এর অল্প কিছু দিন আগে তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। নির্বাচনে অভিবাসীদের বিষয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে।

ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও শেষে তিনি বলেছেন: “যুদ্ধাবস্থাতে সবসময় তো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না।”

গত মাসে সরকার ঘোষণা করে যে ডরমিটরিতে যারা থাকেন তারা সবাই সুস্থ অথবা করোনাভাইরাসমুক্ত। কিন্তু ঠিক কয়েক সপ্তাহ পর কয়েকটি ডরমিটরিতে আবারও বেশ কিছু সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশি শ্রমিক জাকির হোসেন জানেন না যে তিনি কবে ঘর থেকে বের হতে পারবেন। কিন্তু তার একমাত্র আশা কাজে ফিরে যাওয়া এবং সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হওয়া।

“আমাদের অনেকেই এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছে। আমি আছি ১৭ বছর ধরে। আমরা যেন এই সিঙ্গাপুরেরই একটা অংশ হয়ে গেছি,” বলেন তিনি।

“আমরা বলছি না আমাদের সঙ্গে একজন নাগরিকের মতো আচরণ করো। একটা মানুষের সঙ্গে যেরকম আচরণ করা উচিত শুধু সেটুকুই করো- আমরা তো এই সমাজেরই অংশ। এটুকু করলেই চলবে।”

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অনুশীলনে ফিরেছে খেলোয়াড়রা

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার অনুশীলনে নেমেছে ক্রিকেটাররা। প্রাণ ফিরে পেয়েছে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম।

প্রায় ছয় মাস পর গেল গেলো বুধবার থেকে অনুশীলনে মাঠে নামে ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলোয়াড়রা। তবে করোনার থাবায় অনেক উঠতি খেলোয়াড়কে স্বপ্নের সিঁড়ি পর্যন্ত গিয়ে শেষ মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। স্বপ্নের সিঁড়ি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে তাদের। তবে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়দের অনুশীলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে যেসব নতুন ক্রিকেট খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে ক্রিকেট খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিলো সেই সুযোগও ভেস্তে যায়। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয় তাদের।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায় উঠতি বয়সী খেলোয়াড়দের। অনেকে নিজ বাড়িতে অনুশীলনের চেষ্টা করলেও মাঠে অনুশীলন আর প্রশিক্ষকের অভাবে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে পারেনি তারা। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশক্রমে বুধবার থেকে আবারও মাঠে অনুশীলনের সুযোগ হয়েছে উঠতি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের। নানা সমস্যা কাটিয়ে আবারও অনুশীলনে মন দিয়ে স্বপ্নের সিঁড়িতে উঠতে চায় এসব ক্রিকেট খেলোয়াড়রা।

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিয়োজিত টাঙ্গাইলের ক্রিকেট কোচ আরাফাত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে খেলোয়াড়দের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পূরণ করতে অনেক কষ্ট করতে হবে। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে চারটি গ্রুপে প্রায় তিন শতাধিক ক্রিকেটার অনুশীলন করেন। বেশিরভাগ ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত অনুশীলনে যোগ দেয়নি।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

শুভ জন্মদিন সালমান

মৃত্যুতেও হারিয়ে যাননি। চলে যাওয়ার ২৪ বছর পরও ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে একইরকম প্রাসঙ্গিক প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহ।

৪৯তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উচ্চারিত স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

সালমান শাহ, ঢাকাই সিনেমার অপ্রতিরোধ্য অভিনেতা। কেবল ৩ বছর ৫ মাস ১২ দিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে ছিলো যার পদচারণা। অল্প এ সময়েই রুপালী পর্দায় ২৭টি সিনেমায় জ্বলে উঠেছেন ধুমকেতুর মতো, আর ঝরে পড়েছেন উল্কাপিণ্ডের মতো।

শূন্যস্থান ২৪ বছরের। তবু আজো গলির চায়ের কাপের আড্ডায়, বটতলার জটলা বা তরুণী ভক্তের গুনগুন করা গানে সুখস্মৃতি হয়ে বাজেন সালমান।

ফ্যাশন, স্টাইল আর নিজস্ব অভিনয়শৈলীতে সালমান পরবর্তী হালের নায়কদের কাছেও আবেগের প্রতিশব্দ কেবলই সালমান।

যতদিন রূপালী পর্দা গানে প্রেমে মনে লাইট ক্যামেরার গল্প বুনবে ততদিন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বপ্নের নায়ককে ভালোবেসে আকাশের ঠিকানায় জানাবে ভালো থাকার আকুতি।

বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

রোমান্টিক এই নায়কের ক্যারিয়ারের গল্প কিংবা মৃত্যু রহস্য- সবকিছু নিয়ে এখনও তার ভক্তদের মনে কাজ করে আকর্ষণ।

ছোট পর্দায় সালমান

১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন সালমান শাহ। পরে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে অভিনয় করেন। ‘নয়ন’ নাটকটি শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে।

১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পাথর সময় ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে অভিনয় করেন ইতিকথা ধারাবাহিকেও।

সিনেমায় অভিষেক

১৯৯২ সালে প্রযোজনা সংস্থা আনন্দমেলা ভারত থেকে তিনটি সিনেমার কপিরাইট নিয়ে আসে। সেই তিনটি সিনেমার জন্য তারা নতুন নায়ককে নিতে চান। দায়িত্ব পড়ল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ওপর। তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলেন নতুন নায়ক।

একসময় পেয়ে গেলেন ইমন নামের একটি ছেলেকে। মা নীলা চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে ইমনকে নির্বাচিত করলেন সিনেমার জন্য। নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো সালমান শাহ।

পরিচালক সোহান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি সালমানকে পাই। তারপর তাকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিই নাচ-গান, ফাইট এবং অভিনয়ের ওপর।’

তিনি জানান, ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুভির মহরত হয়। আর প্রথম শ্যুটিং শুরু করি ১৩ সেপ্টেম্বর। সালমান-মৌসুমীকে নিয়ে কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ বুঝতাম তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ।

মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। এদিনই সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জাল বিস্তার হয় সে সময়। স্ত্রী সামিরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তাকে ড্রেসিংরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে চলছে সেই মামলা।

সর্বশেষ চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-