ঘাটাইলে যুবলীগ নেতা রফিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সাগরদিঘী ইউনিয়নে জেলা যুবলীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম রফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত, ঘাটাইলের সাগরদীঘি বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে আয়োজিত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আরিফ হোসেন, সাগরদিঘী আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক শামসউদ্দিন, আরমান আলী, শাহাদত সিকদার, ওয়াজেদ মেম্বার, সাইফুল ইসলাম, আজাহার উদ্দিন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোক উপস্থিত ছিলেন৷

মানববন্ধনে বক্তারা যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন৷

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বিএনপি নেতা সিদ্দিকের রোগ মুক্তিতে দোয়া প্রার্থী তার পরিবার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১ নং দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরকারের ছেলে বিএনপি নেতা আবু বকর সিদ্দিকের আশু রোগ মুক্তি ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার জন্য দেশবাসি তথা ঘাটাইল উপজেলাবাসির কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার সদস্যরা।

ঘাটাইল উপজেলা যুবদলের টানা দুই-দুই বারের সফল সভাপতি, বর্তমান ঘাটাইল উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সন্মানিত সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ অবস্থায় বাসায় সময় কাটাচ্ছিলেন।

পরিবার সদস্য সুত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণ তার পিত্ত থলিতে পাথর ও শারিরীক বেশ কিছু সমস্যার কথা বলে এক মাসের ঔষধ লিখে দেন।

ঔষধ খেয়ে তার শরীরের কোন অগ্রগতি না হওয়ার কারণে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল সোনিয়া নাসিং হোমে নিয়ে গেলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন ভেবে বৃহস্পতিবার (১৭ আগষ্ট) রাতেই তাকে জরুরীভাবে অপারেশন করানো হয়।

বর্তমানে তিনি সোনিয়া নাসিং হোমে ভর্তি হয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত করছেন।

উল্লেখ্য: আবু বকর সিদ্দিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধি আন্দোলন থেকে শুরু করে অদ্যবদি পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে কোন প্রয়োজনে সামনের কাতারে থেকে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপিকে একটি সু- শৃঙ্খল ও সু- সংঘঠিত রাজনৈতিক দল হিসাবে ধরে রাখার কাজে সামনের সাড়িতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে অবিচল ও বিনা স্বার্থে দলকে বুকে আগলে রেখেছেন। আজ তার এই কঠিন সময়ে দেশবাসি তথা ঘাটাইলের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার অসহায় পরিবারের সদস্য বৃন্দ ও দেউলাবাড়ি ইউনিয়নবাসি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু

হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ার একদিন পরই আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু হয়েছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। রাত ১০ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও নানুপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সালাউদ্দিন এ ঘোষণা পাঠ করে শোনান।

ঘোষণায় বলা হয়, মুহতামিম বা মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ায় আল্লামা শফীকে সদরে মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে পদত্যাগ করার পর আল্লামা শাহ আহমদ শফী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পড়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আইসিইউ ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ার পর আজ শুক্রবার বিকালে তাকে ঢাকায় আনার পরই তার মৃত্যু হয়।

হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর স্মৃতিচারণ করে তার সাবেক প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমেদ বলেন, আমি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওনার সঙ্গে ছিলাম। হুজুর অত্যন্ত সহজ, সরল ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে খুবই কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন। ঈমান-আক্বীদার বিষয়ে ছিলেন আপোষহীন। তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি অর্থনৈতিক লেনদেনে খুবই স্বচ্ছ ছিলেন। কখনও বাইরে গেলে মাদ্রাসা আসার পর প্রথমেই হিসাব বিভাগে ঢুকতেন। তিনি সবার আগে হিসাব দেয়ার পর অন্য বিভাগে যেতেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী একজন ইসলামি ব্যক্তিত্ব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির। তিনি একইসঙ্গে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তিনি দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের হাটহাজারীর মহাপরিচালক ছিলেন।

শাহ আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম ও ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় শিক্ষালাভ করেন। শফী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে নেয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে শ্বশুর-শাশুড়ি স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে কোপালেন যুবক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রী, স্ত্রীর বড় বোন ও তার তিন বছরের এক সন্তানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন যৌতুক লোভী যুবক স্বপন মিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মহেড়া ইউপির স্বল্প মহেড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মহেড়া গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া, তার স্ত্রী সূর্যভানু বেগম, মেয়ে শিলা আক্তার, শিলার বড় বোন রাজিয়া বেগম ও রাজিয়ার তিন বছরের শিশুমেয়ে তাইবা। তাদের টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় চার মাস আগে মহেড়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পূর্ব গোড়ান গ্রামের আতোয়ার হোসেনের ছেলে স্বপন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বপন স্ত্রী শিলাকে মারপিট ও নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। শিলা বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকদিন আগে শিলা বাবার বাড়ি মহেড়া গ্রামে চলে আসেন।

শিলা গত বুধবার ঘটনাটি মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়াকে জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বপন চাকু ও দা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। রাত ৮টার দিকে বাড়ির লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বপন ঘরে তালা দিয়ে শ্বশুর সিরাজ মিয়া, শাশুড়ি সূর্যভানু বেগম, স্ত্রী শিলা আক্তার, স্ত্রীর বড় বোন রাজিয়া বেগম ও তার তিন বছরের শিশুমেয়ে তাইবাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী স্বপনকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

স্বপন বিয়ের আগে মরিশাস ও সৌদি আরব থাকতেন। তার বাবা আতোয়ার হোসেনও কোরিয়া ও সৌদি আরব থাকতেন। ছোট ভাই ইমনও সৌদি প্রবাসী। বিদেশ থেকে এসে স্বপন শিলাকে বিয়ে করেন। এর আগেও স্বপন আরেকটি বিয়ে করেছিলেন।

প্রথম স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে চলে যাওয়ার পর তা গোপন রেখে স্বপন শিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।

মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বিক্ষোভে হাটহাজারী মাদরাসার থেকে পদত্যাগ করলেন আহমদ শফী

ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে এবার হাটহাজারী দারুল উলুম মাদরাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন শাহ আহমদ শফী। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসে মাদরাসার মজলিশে শূরা কমিটি। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে পদত্যাগ করেন শাহ আহমদ শফী।

মজলিশে শূরা সদস্য আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি তার দায়িত্ব (মহাপরিচালক) শূরার ওপর অর্পণ করেছেন। শূরা সদস্যরা পরবর্তীকালে মহাপরিচালকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বৈঠকে আরও দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। হুজুর জীবিত থাকা অবস্থায় সবসময় দারুল উলুমের উপদেষ্টা হিসাবে থাকবেন। শিক্ষক নুরুল ইসলাম জাদিদকে আজীবনে জন্য মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীকে হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।  বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়,আর কোনও ছাত্রকে হয়রানি করা হবে না।

সভায় শূরা সদস্যদের মধ্যে মেখল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়েজী, নানুপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী ও মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আহমেদ দিদার, মাওলানা ফোরকান আহমেদ, মাওলানা বশির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে মাদরাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ বেশ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্ররা। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ছাত্রদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। আল্লামা শাহ আহমদ শফী পদত্যাগের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। ছাত্ররা এখন তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছে।

বৈঠক শেষে মাদরাসার মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা নোমান ফরায়েজি মাইকে শূরার সিদ্ধান্ত পাঠ করে শোনান। এসময় তিনি বলেন, মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে বুধবার রাতে তার কক্ষে মজলিশে শূরার এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি মাইকে ঘোষণা দেন। তিনটি সিদ্ধান্ত হলো, মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম থেকে আনাস মাদানিকে অব্যাহতি।  অধ্যয়নরত ছাত্রদের কাউকে কোনও ধরনের হয়রানি করা হবে না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মজলিশে শূরার বৈঠক ডেকে বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন।

ছাত্রদের দাবিগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে; ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে; উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শূরার কাছে পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে; বিগত শূরার হক্কানি আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আরোপিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় মাদরাসাটি বন্ধ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদেশে জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বার্ধক্যজনিত কারণে অনেক দিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন আহমদ শফী। গত কয়েক বছরে তাকে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। মাঝে ভারতেও চিকিৎসা নিয়ে আসেন তিনি।

গত ১১ এপ্রিল হজম এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ায় নগরীর বেসরকারি সিএসসিআর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল আহমদ শফীকে।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিন দিন পর তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সুস্থ হয়ে গত ২৬ এপ্রিল তিনি চট্টগ্রামে ফেরেন।

শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তার বাবার নাম বরকম আলী, মা মোছাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম। আহমদ শফী দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।

তার দুই ছেলের মধ্যে আনাস মাদানি হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক। অন্যজন মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ পাখিয়ারটিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক।

শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদরাসায়। এরপর পটিয়ায়র আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদরাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৫০ এ তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান,সেখানে চার বছর লেখাপড়া করেন।

১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। দেশের আলেমদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র আহমদ শফী বাংলায় ১৩টি এবং উদুর্তে নয়টি বইয়ের রচয়িতা।
তবে নারীবিরোধী নানা বক্তব্যের জন্য বরাবরই সমালোচিত আহমদ শফী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ তে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর তার বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে মাঠে নেমে আলোচনায় উঠে আসেন আহমদ শফী।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল পৌর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি শামছুল, সম্পাদক লতিফ

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর শাখার ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত করা হয়েছে।

এ কমিটিতে শামছুল হুদা চৌধুরীকে সভাপতি ও এশিয়ান টিভির উত্তর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার ঘাটাইল প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল লতিফকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা শাখার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইল জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের কপি ও আইডি কার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ কমিটির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০২২ ইং পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলার শাখার সভাপতি নাসরিন জাহান খান (বিউটি), সাধারণ সম্পাদক কাজী তাজ উদ্দিন রিপনসহ অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীগণ।

কমিটির অন্যসদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি আনছার আলী, বেলায়েত হাসেন, মো. গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এসএম সাহেদ আহম্মেদ, আনোয়ার হোসেন, মো. শামীম আল মামুন, শাহনেওয়াজ তালুকদার সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম আয়নাল, অর্থ সম্পাদক মিন্টু মিয়া, প্রচার ও প্রকাশ সম্পাদক হারুন রশিদ খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন আলী (হলুদ), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মিসেস রওশন আরা রুবী, দপ্তর সম্পাদক মো.মনিরুজ্জামান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো.হারুনুর রশীদ খান, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান ইমরান, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মো. শাহাদত হোসেন শামীম, মো.মনির হোসেন, মো.মশিউর রহমান, মো. আব্বাস আলী তালুকদার, শংকর সেন, মো. মিজানুর রহমান খান, মো. ছিদ্দিক মিয়া, এস এম আবু তাহের, মো. হাসানুজ্জামান, মো.ইয়ামিন।

(আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

আবুবকর খান ভাসানীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কনিষ্ঠ পূত্র আবুবকর খান ভাসানীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল আসামের ধুবড়ী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানা, আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর কণিষ্ঠ পূত্র।

‘শোষণকে নির্মূল করে দাও, দারিদ্র্যকে শেষ করে দাও, তাহলেই আমার সংগ্রাম ফুরাবে’ বলে উপনিবেশপীড়িত উপমহাদেশের মাটিতে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। আমাদের জাতীয় রাজনীতির প্রথম এবং শেষ প্রমিথিউস। তাঁরই কনিষ্ঠ পুত্র আবুবকর খান ভাসানী গত ১৮ সেপ্টেম্বর (২০১২) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিছুটা যেন অভিমান নিয়েই, কাউকে কিছু না বলে নীরবে-নিভৃতে চলে যান।

মেট্রিকুলেশন টাঙ্গাইলের জাহ্নবী স্কুল থেকে। তারপর কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ হয়ে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন ১৯৬৩-৬৪ সালে। এখান থেকেই তিনি বি.এ. পাশ করেন।

কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে। পরে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) এর উত্তরাঞ্চলের কর্ণধার হয়ে ওঠেন তিনি। পাশাপাশি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন শক্তিশালী কৃষক সংগঠন।

১৯৬৫ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ভুরুঙ্গামারীর ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের তিনি সক্রীয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন।

‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ‘৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। স্বপ্ন দেখতে থাকেন কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণ কৃষক-মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার। হয়ে ওঠেন পুরদস্তুর একজন রাজনীতিবিদ।

এই সময়ে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ভাসানী নগর গ্রামে গড়ে তোলেন মাতা হামিদা খানম ভাসানীর নামে জুনিয়র স্কুল। এখানেই তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর পিতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সুফী জীবনযাপনের দিকে ঝুঁকে পরেন। ক্রমে তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্ত, মুরীদান, অনুসারীর একান্ত অবিভাবক হয়ে ওঠেন তিনি। হয়ে ওঠেন আধ্যাত্মিক জগতের বাসিন্দা। বেছে নেন লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর বেতের টুপির অনাড়ম্বর জীবনযাপন। বাকি জীবন তিনি এভাবেই কাটিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে “চোরমারা আন্দোলন” করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে এই চরাঞ্চলেই তিনি গড়ে তোলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী মাদ্রাসা, দরবার শরীফ, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

১৯৭৯ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ঠিকাদার মজদুর সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে টাঙ্গাইলে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ কৃষক মুক্তি আন্দোলন। ২০০২ সালে তিনি মওলানা ভাসানীর পক্ষে মরনোত্তর ২১শে পদক গ্রহণ অনুষ্ঠানে খোদা-ই-খেদমতগার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে রবুবিয়্যাত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেন। এভাবেই তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কৃষক শ্রমিক সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের কর্মী হিসেবে নিজেকে সক্রিয় রেখেছিলেন।

২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

এক

টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার মসজিদ থেকে তখন প্রচারিত হচ্ছিল মাগরিবের আজান। সেই সময় মাজারের পূর্ব প্রান্তে নিজের কুটির থেকে জীবনের সঙ্গে সব লেনদেন চুকিয়ে আবুবকর খান ভাসানী পাখা মেললেন অনন্তের দিকে। যে অনন্ত থেকে কেউ কখনও ফিরে আসে না।

জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক মাত্র ৬৭ বছরের। পিজি হাসপাতালের (এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়) ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণে ২০০৩ থেকে ভুগছিলেন অসুস্থতায়। মৃত্যুর এক মাস আগের থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলা। পরিবারের সবাই জানতো কী ঘটতে যাচ্ছে। জানতো না শুধু বাংলাদেশের মানুষ। কারণ তাদের জানার উপায়ও ছিল না।

কর্ণপটাহ বিদারণকারী রাজনৈতিক ডামাডোল তাদের শ্রবণশক্তিকে করে রেখেছে অস্থির। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করেছে বেঁচে থাকার জন্য উদ্বাহু সংগ্রাম। এর পাশে গুম, খুন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অবিচার, মিথ্যাচার, প্রতিকারহীন শক্তির দম্ভ, জুলুম, নির্যাতন, অন্যায় ও অনৈতিকতা চলার পথকে করে রেখেছে কণ্টকাকীর্ণ। ভরসা শুধু গণমাধ্যম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, এখনকার অপগ ভূঁইফোড় গণমাধ্যম তো আবুবকর খান ভাসানীকে চিনেই না।

তারা তো জানেও না যে আবুবকর ভাসানী শুধু যে মওলানা ভাসানীর ছেলে ছিলেন তা-ই নয়, তিনি ন্যাপ ও কৃষক সমিতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও নেতা হিসেবে ষাটের দশকে কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি থানার প্রতিটি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন শক্তিশালী কৃষক সংগঠন। ঐক্যবদ্ধ কৃষকদের জড়ো করেছিলেন কৃষক সমিতির পতাকাতলে। সমাজতন্ত্রকে পৌঁছে দিয়েছিলেন কৃষকের ঘরে ঘরে। কৃষক নেতা কেতাবউল্লাহ এবং মহিউদ্দীন মাস্টারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পটভূমি নির্মাণ করেছিলেন গণআন্দোলনের। ভুরুঙ্গামারী কিংবা রৌমারী থানার প্রতিজন মানুষ, প্রতিটি পথ সাক্ষী দেবে তার অপরিসীম আত্মত্যাগ ও আদর্শবাদিতার। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।

১৯৭১ সালের পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন লুণ্ঠন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে নির্বিচার হত্যাকা , জাসদের ইনুদের শেখ মুজিব উৎখাত এবং তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে উদীয়মান তরুণ সমাজকে রক্ষীবাহিনীর হৃদয়হীন বুলেটের মুখে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র তাকে হতাশ করেছিল। একই সঙ্গে কাজী জাফর ও মেননদের ভূমিকাকেও তিনি সমর্থন করতে পারেননি। ফলে পর্যায়ক্রমে রাজনীতি থেকে সরে আসতে থাকেন তিনি।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তার মহান পিতার মৃত্যুর পর তিনি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েন ধর্মের দিকে। রাজনীতিক মওলানা ভাসানী নয়, তিনি অভিভাবক হয়ে ওঠেন ধর্মীয় নেতা পীর মওলানা ভাসানীর লাখ লাখ অনুসারীর। তাঁর মুরিদদের। ধর্মপীর মওলানা ভাসানীর মিশনকে সমুন্নত রাখা এবং তাঁর কাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই তিনি ঢেলে দেন মনপ্রাণ। হয়ে ওঠেন আধ্যাত্মিক নেতা এবং মওলানার ধর্মীয় উত্তরাধিকারী।

সেই মানুষটির চলে যাওয়ার খবর আমি প্রথমে পাই মহেশখালী দ্বীপ থেকে আমার ‘বনবাসী’ বন্ধু মাহমুদুল হোসাইনের কাছ থেকে। আর সত্যতা নিশ্চিত করেন ভুরুঙ্গামারী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন শিকদার। দেশের দু’প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত খবরটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে শোকাতুর করে তোলে। এই শোক শুধু এই কারণে নয় যে, তিনি মওলানা ভাসানীর ছেলে। আসলে তার রাজনৈতিক জীবনের একজন সামান্য সঙ্গী হিসেবে, পারিবারিকভাবে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার এই চলে যাওয়া বুকে বেজেছে।

রাতেই চ্যানেলগুলোতে রিমোট টিপে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। পরদিন তন্ন তন্ন খুঁজলাম দেশের প্রধান প্রধান দৈনিকগুলো। আমি অবাক হয়ে দেখলাম কোথাও তার মৃত্যু সংবাদটি ছাপা হয়নি। ব্যতিক্রম শুধু দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’। তারা ১৫ নম্বর পাতায় সংক্ষিপ্ত কলেবরে ছবিসহ ছেপেছে খবরটি। চ্যানেলগুলোর মধ্যে বাংলা ভিশন দেখলাম স্ক্রলে দেখালো কয়েকবার। ব্যস।

গণমাধ্যমকে দোষ দিয়েই বা কী হবে? তারা জানে খবরের মূল লক্ষ্য এখন নেতিবাচকতাকে উপস্থাপন করা। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, কালো টাকার মালিক, ব্যাংক ডাকাত, জালিয়াত, প্রতারক, ভূমিদস্যুরাই এখন ‘হিরো’। আর তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণে যেসব পরিবার অগ্রগণ্য, তাদের কারও মধ্যেই আবুবকর খান ভাসানী পড়েন না।

দুই.

আবুবকর খান ভাসানী সম্পর্কে আরও কিছু জানতে একটু পেছনের দিকে ফিরতে হবে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে জমিদারবিরোধী আন্দোলনের কারণে প্রথমে ময়মনসিংহ থেকে, পরে বাংলা থেকে বহিষ্কার হন মওলানা ভাসানী। মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন কৃষক নেতা, যারা ছিলেন আসলে মওলানার দক্ষিণ হস্ত। এই কৃষক নেতাদের একজন ছিলেন আমার পিতামহ নাজিম উদ্দীন শিকদার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বেগম দুল্লা, নীলজা কিংবা কুচতারা গ্রামের প্রবীণদের হয়তো এখনও মনে আছে এই বিস্মৃত কৃষক নেতার নাম।

এরা মওলানার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় প্রথমে আসামের ভাষানচরে, পরে খাঘমারীতে এবং তিনডুবিতে গড়ে তোলেন আবাস। এদেরই পরিচালনায় আসামের পতিত জমিতে গড়ে উঠতে থাকে বাঙালিদের বসতবাড়ি। এই বাঙালিরা আসামের গোয়ালপাড়া, কাছাড়, নওগাঁ, দরং, শিলচর, ধুবড়ি, কোকরাঝাড়, বঙ্গাইগাঁও, শালমারা প্রভৃতি বিরান অঞ্চলকে শস্য ও সুষমায় ভরে তুলতে থাকেন। এই বাঙালিদের প্রতিরোধে আসাম সরকার ১৯২৪ সলে জারি করে কুখ্যাত ‘লাইন প্রথা’। যে লাইন প্রথার পথ ধরে শুরু হয় ‘বাঙাল খেদাও’ অভিযান।

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মওলানা রুখে দাঁড়ান। দরিদ্র কৃষক প্রজাদের সংগঠিত করে গড়ে তোলেন দুর্বার আন্দোলন। কংগ্রেস এই আন্দোলনে সায় না দিলে ১৯৩০ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। মওলানার নেতৃত্বে আসাম মুসলিম লীগ অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৩৭ সালে স্যার শাদুল্লাহর নেতৃত্বে আসামে গঠিত হয় মুসলিম লীগ সরকার। স্যার শাদুল্লাহ লাইন প্রথা বিলোপ করে বাঙাল খেদাও অভিযান বন্ধ করতে অস্বীকার করলে বিরোধ বাধে সেখানেও।

১৯৪৭ সালের ৩ ও ৪ মার্চ আসাম বেঙ্গল মুজাহিদ ও সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করেন মওলানা। এরপরই কারারুদ্ধ হন তিনি। মওলানা যখন কারান্তরালে, সেই সময় জন্ম নেয় পাকিস্তান।

মওলানা ভাসানী বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকেই আসামের তিনডুবিতে প্রতিষ্ঠা করেন একটি স্কুল। এই স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার পিতা ওয়াজেদ আলী শিকদার। শিক্ষক মাত্র ২ জন। একজন মওলানা ভাসানী, অন্যজন ময়মনসিংহ থেকে আগত এক মাদ্রাসার ছাত্র।

প্রথমদিকে এই স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঘর ছিল না। কারো বাড়িতে কিংবা কারো গোয়ালঘর ঝাড়-পোচ করে কাজ চলতো স্কুলের। রাতে থাকার ব্যবস্থাও হতো গোয়ালঘরের এক কোণে। এমনি এক গোয়ালঘরে মওলানার সঙ্গে রাত্রিবাস করতেন আমার মরহুম পিতাসহ আরও কয়েকজন ছাত্র।

পরবর্তীকালে মওলানা তার দফতর সরিয়ে আনেন ভাসানচরে। ভাসানচর থেকে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে মূল আস্তানা গড়ে তোলেন ঘাঘমারীতে। ঘাঘমারীর ঝাড়-জঙ্গল কেটে মওলানার অনুসারীরা এখানে একে একে প্রতিষ্ঠা করেন স্কুল, কলেজ, দাতব্য চিকিৎ্সালয়, উইভিং কলেজ, মাদ্রাসা, পশু হাসপাতাল।

কয়েক বছরের মধ্যে পাল্টে যায় ঘাঘমারীর চেহারা ও গুরুত্ব। পরে আমার পিতামহসহ অন্যদের প্রচেষ্টায় মওলানার নামে নামকরণ করা হয় জায়গাটির। ঘাঘমারী হয়ে ওঠে হামিদাবাদ। ১৯৭১ সালে ওই হামিদাবাদ দেখার সুযোগ হয়েছিল এই লেখকের।

এসময় মওলানার মাথায় আসে, আসামে তিনি কৃষি বিপ্লব করবেন। এজন্যই বাছাই করা কিছু ছাত্রকে পাঠান জোড়হাট কৃষি কলেজে পড়তে। কৃষি কলেজের এই ছাত্রদের মধ্যে একমাত্র মুসলমান ছাত্র ছিলেন আমার পিতা।

আরও একটা বিষয় উল্লেখ করতে হয়। হিজরতের পর মদিনায় রাসুলে খোদা আনসার ও মুহাজিদদের মধ্যে প্রীতির সম্পর্ক বাড়াতে যা যা করেছিলেন, আসামেও সেই কৌশল প্রয়োগ করেন ভাসানী। এই কৌশলের কারণেই অহমিয়া মুসলমান ও বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের দিকে নজর দেন তিনি। এক্ষেত্রে নিজের সংগঠনের নেতাদেরই প্রথমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এভাবেই আমার পিতামহ ও মাতামহ কাছাকাছি চলে আসেন। এই দুই কৃষক নেতার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে স্থাপিত হয় বৈবাহিক সম্পর্ক। মওলানা ভাসানী নিজে আমার বাবা-মার বিয়ে পড়িয়েছিলেন। তাছাড়া আমার মা হালিমা খাতুন ছিলেন মওলানার অত্যন্ত আদরের। এই বিয়ে পড়ানো নিয়ে আমার মায়ের মধ্যে সবসময়ই একটা গর্ব ও কৃতজ্ঞতা দেখেছি আমি।

আমার পিতামহের মৃত্যুর পর আমাদের পরিবারের হাল ধরেন বড় চাচা হাজী সেফাতউল্লাহ শিকদার। তিনি সে সময় আসাম মুসলিম লীগের বড়সড় নেতা। পৈতৃক সূত্রেই তিনি ছিলেন মওলানার খুবই ঘনিষ্ঠ এবং স্নেহধন্য।

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মওলানার নির্দেশে আমার বড় চাচা হাজী সেফাতউল্লাহ শিকদার মওলানার পরিবার-পরিজনকে নিরাপদে রাখার জন্য তাদের নিয়ে আসেন রংপুর জেলার (এখন কুড়িগ্রাম) ভুরুঙ্গামারীতে।

আলেমা খাতুন ভাসানীসহ অন্যরা টাঙ্গাইল চলে গেলেও মওলানার দ্বিতীয় স্ত্রী হামিদা খানম ভুরুঙ্গামারীতেই থাকার নির্দেশ পান ভাসানীর কাছ থেকে।

ভুরুঙ্গামারীতে আমাদের কারোরই কোন থাকার বাড়ি ছিল না। বড় চাচার উদ্যোগে দ্রুত গড়ে তোলা হয় বাসস্থান। অভিভাবক না থাকা এবং নিরাপত্তার কারণে এ সময় হামিদা খানম ভাসানী (পীর মা হিসেবে ভুরুঙ্গামারীতে খ্যাত) ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে আবুবকর খান ভাসানী, আনোয়ারা খানম এবং মনোয়ারা খানমসহ একই বাড়িতে অবস্থান নেন। এরপর দীর্ঘ সময় এই দুটি পরিবার এক পরিবার হিসেবেই থেকে যায়। মওলানা ভাসানী পাকিস্তানে চলে আসার পর এ ব্যবস্থাকে অনুমোদন করেন। অনেক পরে মুরিদ ও অনুসারীরা ভুরুঙ্গামারীতে ভাসানীর পরিবারের জন্য আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। আমার বড় চাচাসহ আমার পিতা ওয়াজেদ আলী শিকদার, বোরহান উদ্দিন ফকির, আবুল হাশেম মিয়া, আনসার আলী মধু ফকির, বাহার উদ্দিন খান, হাজী ওয়াল উদ্দিন, আবু সাঈদ মাস্টার প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তির চেষ্টায় বেশকিছু জমি-জমারও ব্যবস্থা হয়।

ভাসানীর সেই বাড়িটি আজও মাথা উঁচু করে আছে। এখানে আবুবকর খান ভাসানীর চেষ্টায় পরবর্তীকালে গড়ে উঠে মুসাফিরখানা, মসজিদ, হামিদা খানম হাই স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মওলানা ভাসানী স্মৃতি সেবা সংঘ।

আমার জন্ম হয় ১৯৫৭ সালে। দুধকুমার নদীর কিনারে শাপলা ফোটা বিল শৈলধুবড়ির পাশে আনন্দ ও মমতার রেণু জড়ানো একটি চমৎকার যৌথ পরিবারে। আমার শৈশব কেটেছে আনোয়ারা খানম, মনোয়ারা খানম ও আমার বোনদের কোলে কোলে। আনোয়ারা খানম ভাসানীর অত্যধিক আদরে আমি তার ‘নেওটা’ হয়ে গিয়েছিলাম। রূপকথার গল্প শোনাতে শোনাতে তিনি আমাকে ঘুম পাড়াতেন।

আনোয়ারা খানম ভাসানী ছিলেন আমার ‘আনু ফুপু’। দশ-এগার বছর বয়স পর্যন্ত আমি কোনোদিন বুঝতেই পারিনি যে আনোয়ারা ফুপু, মনোয়ারা ফুপু এবং আবুবকর চাচা আমাদের আপন ফুপু বা চাচা নন। এতটাই নিবিড় আন্তরিক ছিল আমাদের বাড়ির পরিবেশ। আমার চাচাতো ভাই-বোনরাও ছিল একই রকম স্নেহময়। গ্রামবাসীও। দু’এক বছর পর পর যখন মওলানা ভাসানী ভুরুঙ্গামারী আসতেন তখন আদর আপ্যায়নের বান ডাকতো গ্রামে। আমার মা ও রহিমা খালার ছিট রুটি আর গোস্তের ভুনা ছিল ভাসানীর প্রিয় খাবার।

তিন

সেই ষাটের দশকের প্রথমার্ধে ভুরুঙ্গামারীর মতো ছোট্ট একটি প্রান্তিক থানা শহর থেকে জয়নাল আবেদীন ভা ারী নামে সাহিত্য অন্তঃপ্রাণ একজন মানুষ ‘বার্তাবহ’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। তার নিজের হস্তচালিত ‘ভা ারী প্রিন্টিং প্রেস’ থেকে ছাপা হতো এই সাহিত্য পত্রিকা। এই পত্রিকার উদ্যোগে প্রতি মাসে একবার বসতো সাহিত্য আসর। আমার মেজো ভাই আবদুল হাকিম শিকদার ও আবুবকর খান ভাসানী ছিলেন এই পত্রিকার নিয়মিত লেখক ও সাহিত্য অনুষ্ঠানের সদস্য। আমার লেখা-লেখির হাতে খড়ি যদিও আমার পিতার হাতে, তবে আবুবকর ভাসানী ও মেজো ভাই ছিলেন উৎসাহদাতা। এদের উদ্যোগেই ‘বার্তাবহ’ পত্রিকায় প্রথম ছড়া ছাপা হয় আমার। আমি যখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র, সে সময় এই আবুবকর চাচাই আমাকে প্রথমবারের মতো নিয়ে যান বার্তাবহ আয়োজিত সাহিত্য অনুষ্ঠানে। সেখানে আমি একটি গল্প পড়েছিলাম। যথেষ্ট পিঠ চাপড়ানি জুটেছিল আমার। জয়নাল আবেদীন ভা ারী আদর করে আসার কপালে চুমু খেয়েছিলেন।

আমার লেখালেখির জীবনের সেই ঊষালগ্নে ভুরুঙ্গামারীর অন্যান্য মানুষের মতো আমিও জানতাম আবুবকর চাচা এবং মেজো ভাই একদিন অনেক বড় লেখক কবি হবেন। তারাই ছিলেন আমার মডেল। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই দুটি মডেলই পরে রাজনৈতিক কারণে ঝরে যায়। আমি কেমন করে যেন রয়ে গেলাম লেখালেখিতে।

সমাজতন্ত্র, কম্যুনিজম বিশেষ করে মার্কসবাদ, লেনিনবাদ ও মাও সে তুঙের চিন্তাধারার সঙ্গে আমার পরিচয়ও ঘটে আবু বকর খান ভাসানীর মাধ্যমে। আমার মতো অনেক তরুণ সে সময় সমাজ বিপ্লব ঘটানোর জন্য তার হাতে প্রশিক্ষিত হয়েছিল। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি তরুণদের মার্কসবাদ শেখাতেন। জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

চার.

আবুবকর খান ভাসানীর সঙ্গে শেষ চাক্ষুষ সাক্ষাত্ হয় ২০০২ সালে আমার মীরপুরের ঝুপড়িতে। তিনি মওলানা ভাসানীর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার পদক গ্রহণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের বিবর্তনে ততদিনে পুরোদস্তুর পরিণত হয়েছেন ‘পীর’-এ। খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা আপনার এই পরিবর্তনের কারণ কী?

হাসতে হাসতে বললেন, কোনোই পরিবর্তন হয়নি। মওলানা ভাসানীর জীবন দর্শনের মূল কেন্দ্রেই ছিল হক্কুল এবাদ। রবুবিয়াত কায়েম। এই লক্ষ্যেই তিনি চালিয়ে গেছেন তার সংগ্রাম। আমি তার সেই সংগ্রামের একজন সামান্য সৈনিক। তাছাড়া দেশে এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে নৈতিকতার। এই নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতির কারণে অকল্যাণ ও অমঙ্গলে ছেয়ে গেছে আমাদের জীবন। এই দূষিত মেঘ আকাশ থেকে সরানোর জন্যই আমি মানুষকে ভেতর থেকে আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ধর্মকে বাদ দিয়ে এদেশে কিছু হবে না। সে কথা মওলানা ভাসানী বলে গেছেন। আমি তারই নির্দেশিত পথে এগিয়ে চলেছি।

পিতার মতো খুবই সাদামাটা জীবনযাপন করে গেছেন আবুবকর খান ভাসানী। কোন কিছু নিয়েই তার আদেখলেপনা ছিল না। ছিল না প্রদর্শনবাদিতা। শেষের দিকে নামাজ, রোজা, জিকির-আজকার এবং বয়ান নিয়েই পড়ে থাকতেন সবসময়।

তার তিন সন্তানের নামও তার অন্তরের ঐতিহ্যপ্রীতি ও সৌন্দর্যই প্রকাশ করে। মওলানা ভাসানীর আদর্শিক নেতা, উপমহাদেশের তিন মহাপুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মওলানা হাসরত মোহানী এবং মওলানা আজাদ সোবহানীর সঙ্গে মিল রেখে তিনি তিন ছেলের নাম রেখেছেন মনিরুজ্জামান খান ভাসানী, হাসরত খান ভাসানী এবং আজাদ খান ভাসানী।

আবুবকর খান ভাসানীর জীবনকথা ও অবদান হয়তো আমাদের মতলববাজ ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গবেষণার টেবিলে ঠাঁই পাবে না। হয়তো তার নামে কোনো রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে না। আমাদের নেতা-নেত্রীদের সময় কোথায় একটা শোকবাণী পাঠানোর? তাই বলে মিথ্যা হয়ে যাবে না তার সংগ্রাম। তার নাম রয়ে যাবে এদেশের সাধারণ মানুষের ভিড়ে। ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র আর ধলেশ্বরীর তীরে তীরে। সেইখানে তিনি জেগে থাকবেন মানুষের অন্তরে।

আজ এই মুহূর্তে এই নিভৃতচারী আমার প্রিয় মানুষ আবুবকর খান ভাসানীর স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা এবং আমার ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা।

আবুবকর খান ভাসানীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণ, সন্তোষ, টাঙ্গাইলে ‘আবুবকর ভাসানী ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

(আবদুল হাই শিকদার, ঘাটাইল ডট কম)/-