বিক্ষোভে হাটহাজারী মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আরোপিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ‘আল জামিয়াতুল তাহলিমা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসাগুলোর কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দ্রেয়া হয়। কিন্তু আরোপিত শর্তগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ‘আল-জামিয়াতুল তাহলিমা  দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসাটি পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৪শে অগাস্ট কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়া হয়েছিল মূলত কয়েকটি শর্তে- এর মধ্যে দুটি হল, কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা এবং পরীক্ষা গ্রহণ করা। কিন্তু চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম আরোপিত শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করেনি বলে মাদ্রাসাটি পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত  ২৪ আগস্ট বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ মাদ্রাসা খোলার আদেশ জারি করে। তার আগেই সোমবার সকালে চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নিয়ন্ত্রণাধীন দারুল উলুম হাটহাজারীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত।

এছাড়া গত কয়েকদিন যাবত শফিপুত্র আনাস মাদানীর কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে মাদ্রাসায়।

বুধবার থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ ছয়টি দাবিতে গতকাল থেকে মাদ্রাসাটির ছাত্ররা বিক্ষোভ করে আসছে। তাদের আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে পরে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শুরা কমিটি। সেই আন্দোলনের কোন কথা ওই প্রজ্ঞাপনে নেই।

বৃহস্পতিবারও হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষার্থীরাও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যেন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

দুধে পানি মেশানোয় বাসাইলে ৬ জনকে জরিমানা

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাসাইল বাজারস্থ দুধের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুধে পানি মেশানোর অপরাধে ৬ জন বিক্রেতাকে বাংলাদেশ ভোক্তা সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করে তাৎক্ষণিক ভাবে ৪৫০০ টাকা জরিমানা করানো হয়।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামছুন নাহার স্বপ্না ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ সময়ে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ নাজিম উদ্দিন বাজারে বিক্রির জন্য আগত দুধ পরিক্ষা করেন এবং পানি মিশ্রিত প্রায় ৪০ লিটার দুধ জব্দ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বাসাইল উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাইদুল ইসলাম দিপু, পৌর শাখার সভাপতি জুবদিল খান, উপজেলা শাখার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান, সমাজ কল্যান সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও শিশির প্রমুখ।

অভিযুক্ত দুধ বিক্রেতারা হলেন, আদাজান গ্রামের লাল মিয়া, ফুলকি গ্রামের রতন ঘোষ, কাঞ্চনপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, বালিয়া গ্রামের মহাদেব, হালুয়া পাড়া গ্রামের শহিদ মোল্লা এবং কালিশ গ্রামের স্বপন মিয়া।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, বাসাইল শাখার পক্ষ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর বাসাইল বাজারে দুধে পানি মেশানো বন্ধ করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি চিঠি প্রদান করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, বাসাইল শাখার পক্ষ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর বাসাইল বাজারে দুধে পানি মেশানো বন্ধ করার দাবিতে আমরা একটি চিঠি পাই এবং বাজার মনিটরি কার্যক্রমের অংশ হিসাবেও আজ এই অভিযান পরিচালনা করি। যা ভবিষ্যতেও অবহ্যত থাকবে। পরে পানি মেশানো ৪০ লিটার দুধ কর্তপক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে স্থানীয় দুটি এতিমখানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মামলা তুলতে এসে টাঙ্গাইলে আদালতের বারান্দায় বাদীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলে মামলা তুলতে এসে আদালতের বারান্দায় রুনা খাতুন (২৮) নামে এক বাদীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের চতুর্থ তলায় ৪০৬ নং কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রতনবরিশ গ্রামের মৃত শাজাহান আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেনের সাথে ২০১৫ সালে মামলার বাদি রুনা খাতুনের বিয়ে হয়। রুনা খাতুনের বাড়ি মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ি গ্রামে।

ওই বছরই রুনা তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। রায়ের পর্যায়ে থাকা এই মামলাটি আদালতের বাইরে উভয়পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা হয়ে যায়।

বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতে নথি তলব দিয়ে মামলাটি উত্তোলনের দরখাস্ত দেন রুনা খাতুন। বেলা ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন আদালতের বারান্দায় স্বজনদের সাথে অপেক্ষা করছিলেন রুনা খাতুন।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে সেখানেই পড়ে মারা যান তিনি।

এ সময় রুনার স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ইতালীয় যুবককে মুসলিম বানিয়ে বিয়ে করেছেন বাংলাদেশী সুমাইয়া

বর দোমেনিকো’কে মুসলিম বানিয়ে পরে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুসারে বিয়ে করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশী কনে সুমাইয়ারা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানায় নব-বিবাহিতা বাংলাদেশী কনে সুমাইয়ারা।

ইতালির ক্যারিবিয়ান পুলিশ কর্মকর্তা দোমেনিকো’র সাথে বাংলাদেশী মেয়ে সুমাইয়ারার বিয়ের ঘটনা মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশের কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয় এ নবদম্পতিকে ঘিরে।

এসময় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীরা নবদম্পতির সমালোচনা করে বলতে থাকে সুমাইয়ারা কোন ধর্মের রীতি অনুসারে বিয়ে করেছেন।

ফেসবুকের এসব সমালোচনার কথা জানতে পেরে স্থানীয় বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সুমাইয়ারা বলেন, ‘আমি ও আমার বড় ভাই ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ইতালি পাড়ি জমাই পড়াশোনা করার জন্য। আমার ভাই বর্তমানে রোমের তোরবেরগাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন আর আমি আরেক শহর পিয়েমন্তের তোরিনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেখানেই প্রথম আমার সাথে ক্যারাবিয়ান পুলিশ অফিসার দোমেনিকোর সাথে দেখা হয়।

পরে আমাদের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেটা ভালোবাসায় পরিণত হয়।

পরে দোমেনিকো আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাকে জানিয়ে দেই যে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করলে আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। পরে দোমেনিকো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তাকে নিয়ে আমি বাংলাদেশে যাই এবং গত মার্চ মাসের ৭ তারিখে বাংলাদেশে বসে মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। পরে আবার আমরা ইতালি ফিরে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ইতালিতে নতুন করে বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করি’।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কে না জেনে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। কাউকে নিয়ে সমালোচনা করার আগে তার সম্পর্কে ভালো করে জানা প্রয়োজন’।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৪ তারিখ সোমবার ইতালির বন্দর শহর সালেরনোতে দেশটির মিলিটারি পুলিশ ফোর্স ‘ক্যারাবিয়ান পুলিশ’র অফিসার দোমেনিকোর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বাংলাদেশী মেয়ে সুমাইয়ারা। সুমাইয়ারা’র দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলায়। তবে তিনি বড় হয়েছেন ঢাকার মালিবাগে। ঢাকায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে ২০১৫ সালে পড়াশোনা করার জন্য ইতালি পাড়ি জমান।

(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মোটরসাইকেল ধাক্কায়: মধুপুরে নাতনীর লাশ দেখে ফেরার পথে দাদির মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নাতনীর লাশ দেখে ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সালেহা (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে কাকরাইদের কাছে বন বিভাগের চাড়ালজানী বিট অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সালেহা গোবুদিয়া গ্রামের মৃত আনজু মিয়ার স্ত্রী। পাশের গ্রামে অসুখে মৃত্যুবরণ করা নাতনীকে দেখে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পাড় হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহত সালেহার ছেলে আবুল কাসেম জানান, গাছাবাড়ী গ্রামে তার এক চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে রুনা (নিহতের নাতনী) সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার খবর শুনে দাদি সালেহা নাতনীকে শেষ দেখা দেখতে গাছাবাড়ী ভাতিজার বাড়িতে যান।

পরে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পাড় হতে গিয়ে দ্রুতগামী এক মোটরসাইকেলে ধাক্কা খেয়ে তিনি ছিটকে পড়েন।

মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিমা সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলের ইউপি সদস্য সখীপুর পৌর যুবদলের আহবায়ক

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য কামরুল সিকদারকে সখীপুর পৌর যুবদলের আহবায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। বাসাইলের বাসিন্ধা ও ভোটার হয়ে কিভাবে সখীপুর পৌর যুবদলের আহবায়ক হন এ বিষয়টি নিয়ে সখীপুরের চায়ের দোকান ও হোটেলগুলোতে  এখন খোশ গল্প আর হাসির খোরাক হয়ে দাড়িয়েছে।

তারা ভাবছেন তবে কী সখীপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন এখন নেতৃত্বহীন। ভাড়া করা নেতা দিয়ে চলছে সখীপুর যুবদল। এ প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর কামরুল সিকদারকে আহবায়ক এবং কায়সার কাশেমকে যুগ্ম আহবায়ক ঘোষণা করা হয়। সখীপুর রাজু ক্যাডেট স্কুলে আয়োজিত সভায় কেন্দ্রিয় যুবদলের ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কমিটি ঘোষণা করেন।

এ সময় কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ- সম্পাদক জাকির হোসেন নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের আহবায়কক আশরাফ পাহেলী, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেদ আহমেদ, সখীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ছবুর রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নব নির্বাচিত সখীপুর পৌর যুবদলের আহবায়ক কামরুল সিকদার বলেন, বর্তমানে বাসাইল উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য তিনি। পূর্বে সখীপুরের ভোটার থাকলেও বর্তমানে তিনি বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামের ভোটার এবং বাসিন্দা।

কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবুর রহমান চৌধুরী, কামরুল সিকদার তার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত বর্তমান ইউপি সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাসাইলের ইউপি সদস্যকে সখীপুর পৌর যুবদলের আহবায়ক করার বিষয়ে জেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফ পাহেলী বলেন, উপস্থিত ভোটারদের ভোটে কামরুল সিকদার আহবায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এতে আমাদের কিছু করার নাই।

সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাহান সাজু বলেন, কামরুল সিকদার দীর্ঘদিন ধরে সখীপুরে অবস্থান করে সখীপুরের যুবদলের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে কামরুল সিকদার সখীপুরের ভোটার নন বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

উল্লেখ্য: টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনটি গঠিত। যেটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি জাতীয় সংসদের ১৩৭নং আসন।

(এম সাইফুল ইসলাম শাফলু, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে কবিরাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে লেবু মিয়া (৫০) নামের এক ভন্ড কবিরাজের বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননী রোগীকে (৩৫) ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের মাচিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলী আদালত, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভন্ড কবিরাজ লেবু মিয়াকে একমাত্র আসামী করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন ওই রোগী।

জানা যায়, উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের মাচিয়া গ্রামের প্রবাসী হায়দার আলীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননী পায়ের ব্যাথা জনিত রোগে প্রতিবেশী ওমর আলীর ছেলে লেবু কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিতে যান।

চিকিৎসা করার এক পর্যায়ে ভন্ড কবিরাজ ওই গৃহবধূকে কু প্রস্তাব দেন। এতে ওই গৃহবধূ রাজী না হলে ভন্ড কবিরাজ তার সন্তানকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ওই গৃহবধূকে গত তিন মাসে একাধিক ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ আন্তসত্বা হয়ে পড়লে কবিরাজ লেবু মিয়া জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ায়ে গর্ভপাত করায়।

এতে ওই গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এছাক মিয়ার কাছে ঘটনা খুলে বললে  মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলী আদালত, টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কবিরাজ লেবু মিয়াকে একমাত্র আসামী করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই গৃহবধূ ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কবিরাজ লেবু মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এছাক মিয়া বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ ভন্ড কবিরাজ লেবু মিয়াকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

(এম সাইফুল ইসলাম শাফলু, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীলে ভ্রাম্যমাণ আদালত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কুমার সরকার।

আজ বৃহস্প্রতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘাটাইল বাজার এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে এ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এসময় পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য তালিকা না টাঙাগানো ,ক্রয়কৃত পেঁয়াজের চালান দেখাতে না পারার অপরাধে ৪ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার আইনে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এজন্য বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আর বলেন, কোন ব্যবসায়ী অহেতুক পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ঘাটাইলের বিভিন্ন বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভাগবাটোয়ারায় সমন্বয় করতে না পারায়: ঘাটাইলে ফেরত যাচ্ছে ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৪০ দিন কর্মসূচি প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ ফেরত যাচ্ছে। ২৩ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে অর্থ ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

কী পরিমাণ অর্থ ফেরত যাচ্ছে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পিআইও এনামুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ফেরত যাওয়া অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৬ লাখ টাকার মতো হতে পারে।

কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অব্যায়িত অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা।

জানা গেছে, বিগত অর্থবছরগুলোতে পিআইও এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪০ দিন প্রকল্পে শ্রমিক না খাটিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশে ভাগবাটোয়ারা করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে।

আর এ অভিযোগে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ‘ভুয়া প্রকল্পে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ফলে চলতি অর্থবছরে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা ভাগবাটোয়ারায় সমন্বয় করতে না পারায় এ অর্থ ফেরত যাচ্ছে।

তবে অব্যায়িত অর্থ ৪ মাসের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়নি পিআইও অফিস।

৭ ডিসেম্বর থেকে কর্মসূচির কাজ শুরু হয়ে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তা শেষ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪০ দিন কর্মসূচি কাজের প্রথম পর্যায় ঘাটাইলের ১৪ ইউনিয়নে ৬৬টি প্রকল্পের বিপরীতে সরকার বরাদ্দ দেয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ২৩৯ টাকা। কিন্তু পিআইও উপজেলা মসিক সমন্বয় সভায় বরাদ্দের পরিমাণ জানান ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪ হাজার টাকা।

মাসিক সমন্বয় সভায় মোট বরাদ্দ থেকে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৯ টাকা আড়াল করেন পিআইও এনামুল হক।

প্রতিবেদকের কাছে তথ্য প্রমাণ থাকায় তিনি তা স্বীকার করে বলেন, এ টাকা খাতাপত্র কেনায় খরচ হয়েছে। এদিকে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে ব্যক্তির মারফত নগদ ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ২১৭ টাকা জমা দেয়া হয়।

অপরদিকে পিআইও এনামুল হকের বিরুদ্ধে ওই প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সরেজমিনে তদন্তের দাবি করে এলাকাবাসী বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেন।

এলাকাবাসীর আবেদন আর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহর কার্যালয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তকার্য সম্পন্ন হয়।

কিন্তু ওই তদন্ত আলোরমুখ দেখছে কি না, তা জানেন না এলাকাবাসী। ফলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪০ দিন কর্মসূচি কাজের মধ্যে লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ৩০৯ জন এবং ঘাটাইল ইউনিয়নে সবচেয়ে কম ১২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

জানতে চাইলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান বলেন, শ্রমিক সংকট নয়, ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার কারণেইে উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা ফেরত যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ওই সময় জানতে পারি তৎসময়ে উপজেলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে পিআইও কোনো প্রকার সমন্বয় করেন নাই।

যার কারণে তিনি সাংবাদিক দিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে নিউজ করান। ফলে ইউএনও ও পিআইও ভয় পেয়ে চেয়ারম্যানদের শ্রমিক বাবদ সাত দিনের বিল কেটে দেন। আমরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে শ্রমিকের বিল পরিশোধ করি।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের কাজ শুরু হওয়ার আগেই আমি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলি।

তিনি জানান, আগে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলাম, তখন ৪০ দিনের কর্মসূচি থেকে আমাকে একভাগ টাকা দিত, এখন আমি একদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান অপরদিকে দলের আহ্বায়ক হওয়ার ফলে আমাকে দুই ভাগ দিতে হবে।

তাতে কী পরিমাণ দিতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাত যোগ সাত, মানে ১৪ লাখ।

এ ব্যাপারে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় ৪০ দিন কর্মসূচির কাজে লেবারের যে তালিকা আছে সেই লেবারের অর্ধেক দিয়েও কাজ করানো হয় না।

ইতিপূর্বে এই টাকাগুলো তারা লুটপাট করে খেয়েছেন। আমি তার প্রতিবাদ করেছি। এ কাজের সঙ্গে আমার উপজেলা পরিষদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, শ্রমিক উপস্থিতি কম ছিল। দু’শ টাকা মজুরিতে কেউ কাজ করতে চায় না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, আমি উপজেলায় যোগদান করার আগেই ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যতটুকু শুনেছি শ্রমিক সংকটের কারণেই টাকা ফেরত যাচ্ছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-