কালিহাতীর কোনাবাড়ী বিলে নৌকাবাইচ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ল্যাব জোন এন্ড হরমোন সেন্টারের উদ্যোগে উপজেলার কোনাবাড়ী বিলে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ঢল নামে ওই এলাকায়। করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে আশপাশের অন্যান্য এলাকা থেকে বৃদ্ধ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে আসেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সুসজ্জিত নৌকা আর বিভিন্ন রংয়ের বাহারি পোশাক পড়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আর বৈঠা ফেলার ছপ ছপ শব্দ যেন একাকার হয়ে গিয়েছিল ওই বিলে। কেউ কেউ ছোট নৌকা ভাড়া করে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে ওই স্থানের চারপাশে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন দোকানের পসরা বসে। সন্ধ্যার দিকে শেষ হয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ল্যাব জোন এন্ড হরমোন সেন্টারের চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী সরকার।

সাবেক ব্যাংকার আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন মোল্লা ও সৈয়দ নুরুজ্জামান মিন্টু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হায়দার আলী মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং ল্যাব জোন এন্ড হরমোন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস ছবুর প্রমুখ। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

এ ব্যাপারে ল্যাব জোন এন্ড হরমোন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস ছবুর বলেন, এই প্রথমবারের মতো এখানে নোকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ দেখতে আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ আসেন। আগামীতে বড় পরিসরে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শফীপুত্রকে বহিষ্কারের দাবীতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা

হেফাজত আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীকে অক্ষম উল্লেখ করে তার ছেলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ কর্মক্ষম নতুন মুহতামিম নিয়োগসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর থেকে মাদ্রাসার মাঠে ছাত্ররা এ বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

মাদ্রাসার ফটক বন্ধ করে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মাদ্রাসায় একটি লিফলেট আকারে এসব দাবি পেশ করা হয়।

দাবিগুলো হলো, মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।

শিক্ষকদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার কাছে পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে। বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

হাটহাজারী মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদরাসা বোর্ড নিয়ে (বেফাক) দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা চলছিল। এ নিয়ে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সফর করে। সেদিন ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর উপস্থিতিতে আহমদ শফীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মামুনুল হক। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার হাটহাজারী থেকে যেসব ছাত্র বাবুনগর গিয়েছিল, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছিল।

পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নূরিয়া মাদ্রাসায় একই বিষয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

এতে জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাফেজ আতাউল্লাহ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীর অপসারণসহ ৫ দফা দাবিতে মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা সকল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা আশংকায় আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সদস্যরা মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেয়। কিন্তু তারা মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় ভিততে প্রবেশ করতে পারেনি।

বিক্ষোভের কারণে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গাড়ি চলাচলের কোন সমস্যা হয়নি। তবে চারাদিকে মাদ্রাসায় গোলযোগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করেন। কিন্তু মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থানকারী উৎসুক জনতাকে শান্ত থাকার জন্য আহবান জানান।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি প্রচার পত্র বিতরণ করা হলেও সেখানে কারা বা কাদের পক্ষ থেকে এ প্রচার পত্র বিতরণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ৫ দফা দাবির মধ্যে ১. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে করা। ২.ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়েন সকল প্রকার হয়রানি মূলক কার্যক্রম বন্ধ করা। ৩.আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব মাযূর এবং অক্ষম হওয়ার কারণে পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানানো। ৪.ওস্তাদদের মাদ্রাসা থেকে বিয়োগ নিয়োগ পরিপূর্ণভাবে সূরার নিকট হস্তান্তর করা। ৫.বিগত শূরার হক্কানী আলেমদের পুনরায় নিয়োগ এবং সূরার মধ্যে দালালদের বহিষ্কার করা।

তাদের এসব দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসাবে মাদ্রাসার সমস্ত একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে অবস্থান করায় দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে গাব গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু

টাঙ্গাইলের বাসাইলে গাছ থেকে পড়ে আব্দুর রশিদ (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রশিদ ওই গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ভাই গাছে ওঠে গাব পারছিলেন। এসময় হঠাৎ করে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুন নাহার বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে ইসিজি করে দেখা যায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় বিএসএফের ডিজি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হচ্ছে।

বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও বিএসএফের মহাপরিচালক রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেবেন।

মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) রাকেশ আস্তানা।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) রাকেশ আস্তানাকে স্বাগত জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। তাকে স্বাগত জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও বিএসএফের মহাপরিচালক রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেবেন। সম্মেলন শেষে আগামী শনিবার ভারতে ফিরে যাবেন বিএসএফের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৩ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নয়াদিল্লি ও কলকাতা থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় নিজস্ব এয়ারক্রাফটে ঢাকায় আসার কথা ছিল বিএসএফ প্রতিনিধি দলের। তবে এয়ারক্রাফটে কারিগরি ক্রটির কারণে প্রতিনিধি দলটি নির্ধারিত সময়ে আসতে না পারায় সম্মেলন পেছানো হয়।

আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে বিএসএফের ডিজি সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুরস্থ বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরে যান। সেখানে পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় রওনা হন বিএসএফের ডিজি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

রোহিঙ্গা নেতার ছেলেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে দোয়া

আরাকানের মজলুম রোহিঙ্গাদের বিপ্লবী নেতা কাশেম রাজার ছেলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম চৌধুরী ওরফে রাজা শাহ আলমকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিষ্ঠিত করতে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়ায় আরজ জানিয়েছেন কুতুপালং ক্যাম্পের শরণার্থীরা।

রাজা শাহ আলম উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদে মসজিদে খতমে কোরআন শেষে দোয়া মাহফিলে এ আরজ জানানো হয়।

এমন একটি ভিডিও সোমবার রাতে প্রচার পাওয়ার পর কক্সবাজারজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

অনেকে বলছেন, মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাগিয়ে নেয়া রোহিঙ্গাদের সামনে রেখে এদেশে স্থায়ী হতে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারই বহিঃপ্রকাশ এ দোয়ার উচ্চারণ। কৌশলে বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব কব্জা করা রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক দল এবং ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে অভিমত বোদ্ধা মহলের।

সূত্রমতে, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হোটেল ব্যবসায়ী শাহ আলম চৌধুরী ওরফে রাজা শাহ আলম সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৩৩ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছেন তিনি।

রাজা শাহ আলম রোহিঙ্গাদের বিপ্লবী নেতা কাশেম রাজার ছেলে। ষাটের দশকে মিয়ানমার সরকারের চাপের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন কাশেম রাজা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাহাড়ি এলাকায় সপরিবারে আশ্রয় নেন তিনি। পরে ওই এলাকায়ই বসতি গড়ে থিতু হন নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বিপ্লবী এই নেতা। সেখানে জন্ম হয় কাশেম রাজার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের। কাশেম রাজার প্রথম সন্তান শাহ আলম চৌধুরী ওরফে রাজা শাহ আলম।

সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে মিয়ানমারের গুপ্তচররা উখিয়ার ইনানীর পাহাড়ি এলাকায় কাশেম রাজাকে হত্যা করে। এরপর পরিবারের হাল ধরেন রোহিঙ্গা নেতার বড় ছেলে রাজা শাহ আলম। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য বাবার মতো সক্রিয় লড়াই করার পরিবর্তে পরিবার গোছানোর কাজে মনোনিবেশ করেন। শুরু করেন মাছের ব্যবসা। ধীরে ধীরে ব্যবসায় সফলতার হাত ধরে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে হোটেল মিডিয়া নামের একটি পর্যটনসেবী আবাসন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন।

এভাবে বিত্তবৈভবের মালিক হলেও পিতার আদর্শ ভুলে যাননি তিনি। খবর রাখেন জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের। জনশ্রুতি আছে, যেকোনো সমস্যায় তার কাছে গেলে তিনি বিমুখ করেন না। বিপন্নরা রোহিঙ্গা হলে খাতির পান একটু বেশি। কাশেম রাজা সম্পর্কে অবগত রোহিঙ্গারা রাজা শাহ আলমকে নিজেদের ‘আশ্রয়স্থল’ বলে মনে করেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, পর্যটন ব্যবসায় সম্পৃক্ততার সূত্রে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতাদের সংস্পর্শে চলে আসেন রাজা শাহ আলম। যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে সে দলের ক্ষমতাধরদের আস্থাভাজন হিসেবে থেকেছেন। কোনো দলে তার এককভাবে সম্পৃক্ততার কথা শোনা যেত না।

কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজা শাহ আলম কক্সবাজার সার্কিট হাউস এলাকায় সড়ক লাগোয়া একটি বহুতল ভবন গড়েন। সেই ভবনেই উখিয়া-টেকনাফের সাবেক বিতর্কিত সাংসদ এবং রোহিঙ্গাদের কাছেরজন হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান বদি ও তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে নামমাত্র মূল্যে একেকটি ফ্ল্যাট উপহার দেন। তখন থেকেই আওয়ামী রাজনীতিতে নাম যুক্ত হয় রাজা শাহ আলমের।

সেবার জেলা কমিটিতে অর্থ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পান তিনি। বাড়তে থাকে তার প্রতিপত্তি। বাবার সুবাদে তার বড় ছেলেও জেলা যুবলীগের প্রস্তাবিত কমিটির অর্থ সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হন।

এদিকে নানাভাবে জেলা নেতাদের সুনজরে থাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান শাহ আলম চৌধুরী ওরফে রাজা শাহ আলম।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরীসহ ত্যাগী অনেক নেতাকে নিয়ে ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও ঘোষণা করা হয় সম্প্রতি। এ নিয়ে উখিয়ায় সরকারদলীয় রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। এ খবর চাউর হয় রোহিঙ্গা শিবিরেও। সচেতন রোহিঙ্গারা খবরটি সবার মাঝে ছড়িয়ে শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা বলেন, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক আমাদের ওপর চালানো জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাশেম রাজা প্রতিবাদ করতেন বলে জেনেছি। তারই সন্তান রাজা শাহ আলম। কওম হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ তিনিও বোঝেন বলে আমাদের বিশ্বাস। আমাদেরই একজন বাংলাদেশের সরকারি দলের বড় পদে এসেছে এটা আমাদের জন্য শোকরিয়ার। আমরা মসজিদে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল করেছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কাশেম রাজার ছেলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাজা শাহ আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হওয়ায় শোকরিয়া জানানো হয়। পরে তাকে বড় পদে নেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দিতে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়ায় আরজ জানিয়েছেন কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের মাওলানারা।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে আনন্দ প্রকাশ হলেও চরম অসন্তোষ চলছে উপজেলার আওয়ামী লীগসহ জেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী ওরফে রাজা শাহ আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, নিয়মমতে পরিচ্ছন্ন যে কেউ দলে সম্পৃক্ত হতে পারেন। শাহ আলম চৌধুরীও আমাদের মাঝে তেমনই একজন। কেউ কারো জন্য শুভকামনা বা কোনো বড় কিছু প্রত্যাশা করে দোয়া করলে সেটার দায় দোয়াকারীদের ওপর বর্তায়। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের কামনা একটু বেশি হয়ে গেছে বলে মনে হলো।

(সায়ীদ আলমগীর, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে পেঁয়াজ বাজারে প্রশাসন

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবরে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নাগরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদর হাটে উপজেলা প্রশাসনের টিম পৌছলে সকাল থেকে বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় চলে আসে। এ ঘটনায় সাধারন ক্রেতারা প্রশাসনকে ধন্যবাদ দেন।

পরে ব্যবসায়ীরা মূল্য তালিকা না টানানো, ক্রয়কৃত দ্রব্যের চালান দেখাতে না পারা ও মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৯ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ হাজার ৩ শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। নাগরপুর উপজেলার বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। এখন থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

এসময় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা মূল্য তালিকা না টানানো এবং ক্রয়কৃত পেঁয়াজের চালান দেখাতে না পারা, মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৯ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে ৪৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই সাথে অহেতুক বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করতে সকল ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে। অযথা কোন ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও হুশিয়ারী দিয়েছেন তিনি।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে আনারস ও কলা বাগান উচ্ছেদের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আনারস ও কলা বাগান উচ্ছেদ করে বনায়নের প্রতিবাদে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা বনবিভাগের উচ্ছেদ বন্ধ এবং ফল বাগান ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

দোখলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, টাঙ্গাইল বনবিভাগ এবার মধুপুরে বনাঞ্চলে অংশীদারের ভিত্তিতে ১০০ হেক্টর জমিতে উডলট মডেলের বনায়ন করছে। এ জন্য জবরদখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার চলছে।

দোখলা, জাতীয় সদর উদ্যান ও চাড়ালজানি রেঞ্জে প্রায় ৪০ একর জবরদখলী বনভূমির কলা ও আনারস বাগান কেটে বনজ চারা লাগানো হয়েছে।

আমলিতলা এলাকার কথিত ভূমিদস্যু লকশর আলী মেম্বারের বেদখলে রাখা ৭০ একরের মধ্যে ৫ একর পুনরুদ্ধার করে কাজু বাদামের বাগান করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছেন।

গত সোমবার দোখলা সদর বিটের পেগামারি এলাকায় বাসন্তি রেমা নামক এক গারো রমণীর দখলে থাকা ৪০ শতাংশ জমির কলা গাছ কেটে বনায়নের উদ্যোগ নিলে গারো সম্প্রদায়ের সাথে সংঘাত শুরু হয়।

বন বিভাগের অফিস ঘেরাও, হামলা, স্টাফকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাসন্তি রেমার অভিযোগ, উত্তরাধিকার সূত্রে কয়েক দশক ধরে আবাদ করা ফলবাগানে বিনা নোটিশে অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ কয়েক হাজার কলা গাছ কচুকাটা করে। ফলে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি গারো পল্লীতে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ফল বাগান ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন জানান, মধুপুর বনাঞ্চল জবরদখল প্রবণ এলাকা। ৪৫ হাজার একর বনভূমির প্রায় ২৫ হাজার একর জবরদখলে চলে গেছে। এসব বনভূমি পুনরুদ্ধার করে উডলট মডেলের বনায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার কথা। কিন্তু বন প্রশাসন সেটি না করে কোটি কোটি টাকার ফলবান বাগান কচুকাটা করছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

মধুপুর ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি উইলিয়াম দাজেল জানান, বন বিভাগ প্রভাবশালী জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ না করে বনায়নের নামে দরিদ্র গারোদের আবাদি জমি ও ফল বাগান সাবাড় করছে। এতে গারোদের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, সরকার জবরদখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং তাতে পুনঃবনায়নের তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু মাঠ লেভেলে কাজ করতে গেলে এলাকাবাসীরা জোটবদ্ধ হয়ে বাধা দিচ্ছেন।

মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট ইয়াকুব আলী জানান, ফল বাগান কর্তন এবং উচ্ছেদের প্রতিবাদে আজ বুধবার গারো ও বাঙালিরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে মধুপুর-শোলাকুড়ি সড়কের দোখলা চৌরাস্তা অবরোধ করেন। টানা দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতা অজয় এ মৃ, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি উইলিয়াম দাজেল, সম্পাদক হেলেন জেত্রা, গারো ছাত্র সংগঠনের সভাপতি জনজেত্রা ও ইউপি চেয়ারম্যান আখতার হোসেন প্রমুখ।

(জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে হোটেল থেকে পেঁয়াজ চুরি

চোর চুরি করবে এবং চুরির উপকরণ টাকা পয়সা, সোনাদানা হবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টাঙ্গাইলের বাসাইলে ব্যতিক্রমী চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে এক চোর।

বাসাইল পৌরসভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাথের এক খাবার হোটেল থেকে এক বস্তা পিয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে চোর।

সোমবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) দিনশেষের রাতে আকাশ চন্দ্র সাহা নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীর দোকানে পিয়াজ চুরির এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চাটাইয়ের বেড়া এবং প্লাস্টিক কাগজের ছাউনি দিয়ে ঘর করে স্থানীয় নিম্নআয়ের মানুষের কাছে কম দামে খাবার বিক্রি করে আসছে ওই হোটেল ব্যবসায়ী।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সাংবাদিকতায় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঢুকে পড়েছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিকতা পেশার মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঢুকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে এখানে আসছে। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই। হুট করে একটা লিখে দিলেই মনে হয় হয়ে গেল! আমরা এলাকায় দেখেছি সমস্ত বিএনপির, ছাত্রদলের, যুবদলের ছেলেরা এখন সাংবাদিকতা করে, ভ্রান্ত রিপোর্ট করে। সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় গেল না গেল না গেল এরা তা দেখে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেশকিছু দিন আগে মিডডে মিল নীতিটা পাস হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এরইমধ্যে নিউজটি (খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর) একদিকে মন্ত্রণালয় এবং অন্যদিকে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের মতো মনে হয়।

তিনি বলেন, মিডডে মিল কার্যক্রমটি আমরা ১৬ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছি। আমরা বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়াব। তিন দিন বিস্কুট খাওয়াব, তিন দিন রান্না করা খাবার খাওয়াব। ডিম, কলা ইত্যাদি ইত্যাদি আমরা চিন্তাভাবনা করছি, যাতে আমরা বাচ্চাদের কিছুটা হলেও পুষ্টি দিতে পারি। সুন্দর স্বাস্থ্যবান শিশু না হলে পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য মানুষের কল্যাণে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন। আমরা আমাদের সন্বন্ধে নানা ধরনের কথা বলে মানুষকে নানাভাবে উস্কে দিচ্ছে বিএনপি। এটা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে, আর মানুষকে জানাতে হবে শেখ হাসিনা সরকার কখনও জনকল্যাণ ব্যতীত কোনো কাজ করে না।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের আত্মহত্যা, পরিবারের দাবি হত্যা

টাঙ্গাইলের বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে মো. তোফাজ্জল হোসেন (৩২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি গোপালপুর উপজেলার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেলটিয়াবাড়ি বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের পরিবারের দাবি, তোফাজ্জলকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবি, মানসিক সমস্যার কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তোফাজ্জল।

তোফাজ্জলের ছোট ভাই মো. উজ্জ্বল বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর আমার ভাইকে বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তোফাজ্জলকে কেন্দ্রের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন না করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মোবাইলে খবর আসে তোফাজ্জলের অবস্থা ভালো নয়। এসে দেখি তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার মজিবুর রহমান তপন বলেন, তোফাজ্জল বাথরুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-