টাঙ্গাইল ডিসি কার্যালয়ে বৈদ্যুতিক ডিস্টিবিউশন বোর্ডে অগ্নিকাণ্ড

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি সিড়ি কোঠায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিড়ি কোঠায় একটি বৈদ্যুতিক ডিস্টিবিউশন বোর্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিছু ওয়াস্ট মালামালে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বৈদ্যুতিক ফিটিংস ও কিছু অকেজো মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ৬ উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ীদের কল্যাণ সমিতি

টাঙ্গাইলে ৬ উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ীদের সমষ্টিগতভাবে সামগ্রীক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে ‘উত্তর টাঙ্গাইল মোবাইল ব্যবসায়ী’ নামে নতুন একটি সমিতি আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলার ঘাটাইল পৌরসভার পাঁচতারা হোটেলে টাঙ্গাইল জেলার ৬ উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ঘাটাইল, কালিহাতী, ভুঞাপুর, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মেছবাহুল ইসলাম শোভন ও মোদাচ্ছির ক্বারি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ঘাটাইলের একটি হোটেলে গত শনিবার আয়োজিত সভায় টাঙ্গাইলের ৬ উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ী নেতারা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে আলোচনা করেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য লিখিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উত্তর টাঙ্গাইলের মোবাইল ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, মোবাইল পরিবেশকগণ প্রতি উপজেলা বাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ড শপ চ্যানেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ঘাটাইল, মধুপুর, ও টাঙ্গাইল সদরে অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়া নিয়ে নিজেরা পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে অন্যান্য মোবাইল ব্যবসায়ীরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এমনকি অপেক্ষাকৃত বেশি ভাড়া দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে শো রুম পরিচালনার জন্য অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

পরে সকলের বক্তব্যর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতর জন্য কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের আলোচনায় সভাপতি মেছবাহুল ইসলাম শোভন বলেন, সমিতির সকল সদস্য একে অপরের সহদর ভাবাপন্ন মনভাব নিয়ে কাজ করে এই মোবাইল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিকে আমদের প্রাণের সংগঠনে রুপান্তর করতে হবে। দুর্দিনে সমিতির সকল সদস্য একে অপরের পাশে থাকতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে জেলার ৬ উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সহ সভাপতি ৩ জন, সহ সাধারণ সম্পাদক ৩ জন, কোষাধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ জন, প্রচার সম্পাদক, সহ প্রচার সম্পাদক ৩ জন, শিক্ষা ও সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ শিক্ষা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ২ জন, দপ্তর সম্পাদক, সহ দপ্তর সম্পাদক এবং সাধারণ সদস্য হসেবে ৬ জন মনোনীত হন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা: সরকারি চাকরির আবেদনে ৫ মাস ছাড়

সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় প্রার্থীর বয়সে পাঁচ মাস ছাড় দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ চলতি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে তারা পরবর্তী আরও পাঁচ মাস সরকারি চাকরির আবেদন করতে পারবেন।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘করোনার কারণে বন্ধের মধ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ কিংবা সংস্থা চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেনি। অনেকের চাকরির বয়স এই সময়ের মধ্যে চলে গেছে। সেক্ষেত্রে তারা পাঁচ মাসের বয়সের একটা ছাড় পাবেন। আগস্ট পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তিগুলোতে আবেদন করতে পারবেন তারা।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে যুবদলের কর্মীসভা

টাঙ্গাইলে সখীপুরে যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজু ক্যাডেট একাডেমি এন্ড স্কুল সখীপুর শাখায় আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন নান্নু।

জেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফ পাহেলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তারেক রহমান দেশান্তরী হয়ে আছেন। এ অবস্থায় যুবদল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বৈর সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজপথ দখলের মাধ্যমেই এই অবৈধ সরকার উৎখাত করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন নেতারা।

এতে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুবদল ঢাকা বিভাগের সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সি: যুগ্ম আহবায়ক, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের যুগ্ন আহব্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাসেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

(এস এম জাকির হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

খিচুড়ি বৃত্তান্ত

খিচুড়ি একটি ভাত জাতীয় খাবার যা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অন্যতম জনপ্রিয়।

প্রধানত চাল এবং মসুর ডাল দিয়ে সাধারণ খিচুড়ি ভাত রান্না করা হলে বজরা, মুগডাল সহ অন্যান্য ডালের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়।

অঞ্চলভেদে খিচুড়ির বিভিন্ন আঞ্চলিকরূপ পরিলক্ষিত হয়। যেমন নরম খিচুড়ি, ভুনা খিচুড়ি, মাংস খিচুড়ি, নিরামিষ খিচুড়ি ইত্যাদি।

খিচুড়ি একটি সহজপাচ্য খাবার তাই শিশুকে প্রথম কঠিন খাবার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় খিচুড়ি খাওয়ানো হয়।

হিন্দুদের মধ্যে যারা উপবাসকালে কোনপ্রকার শস্যাদি গ্রহণ করতে চান না তারা এসময়ে সাবুদানা খিচুড়ি খেয়ে থাকেন।

ধারণা করা হয় বাংলা খিচুড়ি শব্দটি সংস্কৃত খিচ্চা থেকে এসেছে। অঞ্চলভেদে শব্দটির তৃতীয় ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ ও ব্যবহারে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

বাঙালি পরিমন্ডলে খিচুড়ি উচ্চারণ করা হলেও কোথাও কোথাও খিচুরি বলতে শোনা যায়।

ইতিহাস

গ্রীক দূত সেলুকাস উল্লেখ করেছেন ভারতীয় উপমহাদেশে চালের সাথে ডাল মেশানো খাবার খুবই জনপ্রিয় ছিলো।

মরোক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা কিশরির কথা উল্লেখ করেছেন যা চাল এবং মুগ ডাল দিয়ে প্রস্তুত করা হতো।

১৫ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে ঘুরতে আসা রাশিয়ান পর্যটক আফনাসিই নিকতিন খিচুড়ির কথা তার লেখায় বর্ণনা করেছেন।

চাণক্যের লেখায় মৌর্যযুগের চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে চাল, ডালের মিশ্রণে তৈরি খিচুড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়।

গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিসের লেখাতেও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের রাজসভার রান্নাঘরে খিচুড়ির কথা পাওয়া যায়।

সপ্তদশ শতকে ফরাসি পরিব্রাজক তাভেরনিয়ের লিখেছেন, সে সময় ভারতের প্রায় সব বাড়িতেই খিচুড়ি খাওয়ার রেওয়াজ ছিল।

আকবরের মন্ত্রী ও ঐতিহাসিক আবুল ফজল রাজকীয় রান্নাঘরে বিভিন্ন ধরনের খিচু়ড়ি রান্নার কথা লিখেছেন।

আইন-ই-আকবরিতে বিভিন্ন প্রকার খিচুড়ির প্রস্তুতপ্রণালী পাওয়া যায়। সেখানে আকবর এবং বীরবলের খিচুরি রান্নার একটি গল্প উল্লেখ করা হয়েছে।

মুঘল রান্নাঘরে জাহাঙ্গীরের প্রিয় বিশেষ ধরনের খিচু়ড়ি তৈরি করা হতো পেস্তা, কিসমিস দিয়ে। সেই খিচুড়িকে জাহাঙ্গীর নাম দিয়েছিলেন ‘লাজিজান’।

সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রিয় ‘আলমগিরি খিচড়ি’র কথাও জানা যায়। এই খিচড়িতে চাল, ডালের সঙ্গে মেশানো হত বিভিন্ন প্রকার মাছ ও ডিম।

রাজকীয় খাবার হিসেবে হায়দরাবাদের নিজামের রান্নাঘরেও খিচুড়ি জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই খিচুড়ির ভাঁজে ভাজে থাকতো সুস্বাদু মাংসের কিমা।

১৯ শতকের ভিক্টোরিয়ান যুগে দেশে ফেরত ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারীদের হাত ধরে তা ইংল্যান্ডে পৌঁছায়। এই খিচুড়ি জনপ্রিয় ইংলিশ ব্রেকফাস্ট ‘কেদেগিরি’ হয়ে ওঠে।

ঊনিশ শতকের মধ্যভাগে নিম্নবিত্ত মিশরীয়দের মধ্যে কুশারি নামে যে রান্নাটি জনপ্রিয় হয় তা খিচুরীরই ভিন্নরূপ বলা যেতে পারে । এটি তৈরী হতো তুলশীমালা চাল, ডাল, চানা, ভিনেগার, টমেটো সস, পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে। পরে এই রান্নাটি তাদের সৈন্যশিবিরেও স্থান পায়।

প্রকারভেদ

বর্ষা, বাঙালি এবং খিচুড়ির মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বৃষ্টিদিনে বাঙালি খিচুড়ি খেতে খুবই পছন্দ করে। এর সংগে যদি ভুনা মাংস কিংবা ইলিশ ভাজা হয় তবে তা ভোজনরসিক বাঙালির কাছে নির্ঘাত অমৃত সমান।

বাঙালির ঘরে খিচুড়ি নিয়ে নিরীক্ষা হয় প্রচুর৷ কখনও মাংস দিয়ে, কখনও মাছ দিয়ে বা কখনও সবজি সহযোগে৷

বাঙালির তালিকায় রয়েছে, মুগ ডালের খিচুড়ি, সবজি খিচুড়ি, মুসুর ডালের খিচুড়ি, গমের খিচুড়ি, সাবুর খিচুড়ি, মাংসের খিচুড়ি, ডিমের খিচুড়ি, মাছের খিচুড়ি, ভুনা খিচুড়ি।

মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলে শিব পার্বতীকে ডাবের পানি দিয়ে মুগডালের খিচুড়ি রান্নার ফরমায়েশ দিচ্ছেন। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘আদা কাসন্দা দিয়া করিবা খিচুড়ি’। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে ডালের ব্যবহার মত প্রাচীন নয়।

নীহাররঞ্জন রায় তার বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন, ‘প্রাচীন বাঙালীর খাদ্য তালিকায় ডালের উল্লেখ কোথাও দেখিতেছি না।’ ডাল না থাকলে ডালেচালে মেশানো খিচুড়ি হবে কী করে?

কোনোকিছু তালগোল পাকিয়ে গেলে বাংলায় তাকে ‘জগাখিচুড়ি’ দশা বলে। বাস্তবে জগাখিচুড়ি বলে এক রকমের খিচুড়ি আছে।

পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের নিত্যদিন খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। ‘জগন্নাথ দেবের খিচুড়ি’ লোকমুখে সংক্ষেপে হয়েছে ‘জগাখিচুড়ি’। আর বাঙালীর কথ্যরীতিতে তা তালগোল পাকানোর প্রতিশব্দ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

পাতলা খিচুড়ি হচ্ছে এক প্রকারের নরম খিচুড়ি যা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় খাবার। সিলেটি রন্ধনশৈলীতে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে স্থান পেয়েছে। ঘরোয়া আয়োজনে পাতলা খিচুড়ি এবং অতিথি আপ্যায়নে আখনী পোলাও সিলেটের একটি ঐতিহ্য। পাতলা খিচুড়ির দুই ধরনের: সাদা পাতলা খিচুড়ি (জাউ) এবং হলুদ পাতলা খিচুড়ি।

উপকারিতা

এক থালা খিচুড়িতে প্রায় ১৭৭ ক্যালরি শক্তি, ৩২.৩ গ্রাম শর্করা, ৮.৪ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ গ্রাম চর্বি থাকে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, আয়রন এবং ফাইবার বা আঁশ রয়েছে।

যেহেতু একেক ধরনের খিচুড়ি তৈরিতে একেক ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয় তাই ভিন্ন ভিন্ন উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ভূমিকা পালন করে।

ওটস খিচুড়িতে উপস্থিত ফাইবার, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট দেহে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়।

সবজি খিচুড়িতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং বেশ কিছু খনিজ থাজে যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়।

মুগ ডালের খিচুড়ি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখায় ওজন কমাতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

কাওনের খিচুড়ি প্লোটিন, ফাইবার, ফসফরাস এবং অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিপূর্ণ।

সাবুদানা খিচুড়িতে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়ামসহ একাধিক খনিজ রয়েছে।

বেশ সহজপাচ্য এবং শক্তিদায়ক বলে অসুস্থ এবং দুর্বল মানুষকে খিচুড়ি খেতে দেওয়া হয়। বাচ্চাদের পেটে সহজে শক্ত খাবার হজম হয় না বলে তাদেরকে খুব নরম খিচুড়ি খেতে দেওয়া হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কচু চাষে ১০ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন ঘাটাইলের ময়েজ

অল্প পরিশ্রম করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এমন একটি ফসল কালো কচু। কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি থাকে। উঁচু জমিতে অল্প পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এছাড়াও বাজারে ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের কচুর চাষ হলেও খাবার উপযোগী এই কালো জাতের কচুতে হাসি ফুটছে অনেক কচু চাষীদের।

এই কালো কচু চাষ করেই লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কচু চাষী ময়েজ উদ্দিন। তিনি উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের আবেদালী গ্রামের মৃত আফাজ আলীর ছেলে।

কচু চাষী ময়েজ উদ্দিন জানান, তেমন একটা খরচ এবং পরিশ্রম ছাড়াই দু-একটা নিড়ানী এবং জৈব সার দিয়ে উৎপাদনে লাভ বেশি হয়। এই সবজি চাষে কৃষকের উৎপাদন খরচও কম লাগে। এতে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা।

নিজের বেশি জায়গা না থাকায় ময়েজ উদ্দিন তার বাড়ির পাশে ১৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কচু চাষ করেছেন। ১৩ বিঘা জমির ভাড়া এবং কচুর বীজ রোপণসহ ময়েজ উদ্দিনের কচুতে মোট খরচ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। কচুর ফলনও অনেক ভালো হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে তার সম্পূর্ণ জমি থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।

ময়েজ উদ্দিন তার কচু বাগানের পাশ দিয়ে হাটতে হাটতে বলেন, খুব অভাব ছিল আমাদের সংসারে। ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে শুধু অভাব দেখেছি। এর মধ্যে বড় ছেলে চানমিয়া বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে করোনা ভাইরাসের জন্য আর বিদেশ যেতে পারেনি। তাই তাকে সাথে নিয়ে কৃষি কাজে সময় দিচ্ছি। ছেলেকে নিয়েই কচুক্ষেতে কাজ করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে কচু চাষ করি। কচু চাষে ভালো অভিজ্ঞাতাও হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি (২০২০-২১) খরিপ-১ মৌসুমে ঘাটাইলে ২৮০ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ করা হয়েছে। গত বছরে আবাদ হয়েছিল ১৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৫ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। যার হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২৫ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিলশাদ জাহান জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি কচু চাষের জন্য উপযোগী। আর কচু চাষ বেশ লাভজনক। আগাম কচু চাষ করলে, বাজার দর ভালো পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সবজি হিসেবে কচুর চাহিদা অনেক বেশি। কচু শাক একটি বিষমুক্ত সবজি।

তিনি আরও বলেন, কচুর শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ বি সি ক্যালসিয়াম ও লৌহ আছে। কচু চাষীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই এবং ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

(আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাইস ট্রন্সপ্লান্টারের মাধ্যমে আমন ধানের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হামিদপুর গ্রামে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে চলতি আমন মৌসুমে বন্যা পরবর্তি ট্রেতে উৎপাদিত আমন ধানের বীজ রোপন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সখীপুর প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আছমা আক্তার, ফারুক হোসেন, আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

(মোস্তফা কামাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু

‘মুজিববর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার’ এ স্লোগান নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শুরু হয়েছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বিট পুলিশিং কার্যক্রম ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় (বিপিএম)।

তিনি বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল ধারণা হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই মানুষের কাছে তৃনমূল পর্যায়ে সেবা নিয়ে যাবেন। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতিসহ সব ধরণের অপরাধমূলক কাজ কমে আসবে। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। পুলিশ ও জনগণের মধ্য সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) লোনা, আমির খসরু, ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম, সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক জাকির হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশসদস্য।

মতবিনিময় শেষে সাগরদিঘী পুলিশতদন্ত কেন্দ্রের নতুন মসজিদ উদ্বোধন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে অনুমোদন শেখ হাসিনার

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই মুক্তির ক্ষেত্রে আগে যেসব শর্ত ছিল সেগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে আসা এই আবেদনে অনুমোদন দেন। তবে এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ও ছয় মাস বাড়ানোর জন্য আইনগত সুপারিশ করেছিল। করোনার কারণে গত ছয় মাস খালেদা জিয়ার পরিবার তাঁর কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই বিবেচনায় তাঁর মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মুক্তির বর্ধিত মেয়াদে খালেদা জিয়া নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। এ সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন এবং আইন ও বিচার বিভাগের আইনগত মতামতের আলোকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’ এর ধারা-৪০১(১) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে দুটি শর্তে (বাসায় থেকে চিকিৎসা ও বিদেশ না যাওয়া) তার (খালেদা জিয়ার) দণ্ডাদেশ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।’

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই দিন প্রথম আলোকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া এই সময়ে বিদেশে যেতে পারবেন না। দেশে থেকে বাসায় চিকিৎসা নেবেন। এই শর্তে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ছয় মাসের জন্য এই মুক্তির মেয়াদ কার্যকর হবে।

এর আগে সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। যার মেয়াদ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। তার আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এখন গুলশানে তাঁর ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। ওই দিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তাঁর সাজার রায় হয়।

ট্রান্সফর্মারে ফেনসিডিল পাঁচারকালে টাঙ্গাইলে আটক ২

টাঙ্গাইলে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারের ভেতরে অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল পাঁচারকালে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২।

আটককৃতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ছাতিনী রায় পাড়া গ্রামের নুর হোসেন কাজীর ছেলে মিজানুর (৩৮) ও নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে শফিক (৪০)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

এসময় ট্রান্সফর্মারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করে র‌্যাব। এছাড়াও  জব্দ করা হয়েছে পিক-আপ ট্রাক।

টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ জানায়, দিনাজপুরের হিলি থেকে পিক আপ ট্রাকে ট্রান্সফর্মারের ভেতর ফেনসিডিল নিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ী মিজান ও শফিক ঢাকা যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল র‌্যাবের একটি দল আজ দুপুর ১২ টার দিকে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় পিক আপটি জব্দ করে ওই দুুই ব্যবসায়ীকে আটক  করা হয়।

র‌্যাব-১২ আরও জানায়, সিরাজগঞ্জ র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার মহি উদ্দিন মিরাজ ও টাঙ্গাইল র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার সহকারি পুলিশ সুপার কিশোর রায়ের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় ট্রান্সফর্মারের ভেতর থেকে ৫২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় পিক আপ।

এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার কিশোর রায়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-