পাকুন্দিয়ায় আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্র নিয়ে মহড়া

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের অপসারণকৃত চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রেনুর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা  ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ সশস্ত্র মহড়া দেয়।

রোববার সকাল ১১টার দিকে পৌরসদরের উপজেলা পরিষদ গেইটের সামনে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার সময় শটগান হাতে জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ এবং রামদা হাতে পাকুন্দিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নাজমুল হক দেওয়ান প্রতিপক্ষের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

দুই নেতাই স্থানীয় কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে সংঘটিত উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় গত ৫ই জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ছাড়া সকল ইউপি চেয়ারম্যানের অনাস্থা প্রস্তাবের আলোকে গত ৬ই আগস্ট অপর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে মো. রফিকুল ইসলাম রেনুকে অপসারণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রজ্ঞাপনই হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন।

এর মধ্যে গত ১৭ই আগস্ট রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গত ৬ই আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ প্রদান করে আদেশ দেন।

এর প্রেক্ষিতে গত ৮ই সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করার অর্থাৎ স্থগিতাদেশ ভ্যাকেট করার আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মর্মে জানানো হয়।

ওই পত্রে মাননীয় আদালতের পরবর্তী আদেশ/নির্দেশনা পাওয়ার পর পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সুযোগ চেয়ে দাখিলকৃত তার আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ব্যক্তিগত সহকারী আমজাদ হোসেন লিটন বাদী হয়ে গত ২৪শে মে কটিয়াদী থানায় রফিকুল ইসলাম রেনুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

গত ৯ই সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন লাভ করেন।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম রেনু অপসারণের আদেশ স্থগিতাদেশের হাইকোর্টের কপি নিয়ে রোববার সকালে ঢাকা থেকে পাকুন্দিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে শত শত নেতাকর্মী মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে থানারঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়।

সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাকুন্দিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন রেনু।

সমর্থকসহ রেনু’র পাকুন্দিয়া সদরে আসার আগেই প্রতিপক্ষ সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদর সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের নামে বিভিন্ন স্লোগানও দেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারের থানা মোড়ে পৌঁছলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা রফিকুল ইসলাম রেনুর মিছিল বহরে বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের সময় ইউএনও অফিসের অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এ ঘটনার পর শটগান হাতে জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ এবং রামদা হাতে পাকুন্দিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নাজমুল হক দেওয়ানের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নাজমুল হক দেওয়ান বলেন, রফিকুল ইসলাম রেনুর পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে উপজেলায় প্রবেশ করতে চেয়েছিল। মিছিল থেকে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোয় আমিসহ অন্যরা হামলা প্রতিহত করতে তাদের ধাওয়া দেই।

এ ব্যাপারে জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ বলেন, আমি ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে আমার গাড়িতে ঢিল মারলে আমি গাড়ি থেকে নেমে সামনে যাই। এ সময় আমার হাতে লাইসেন্স করা শটগান ছিল। এই ছবি ফেসবুকে ছেড়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এমপি নূর মোহাম্মদ বলেন, রফিকুল ইসলাম একজন বহিষ্কৃত উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি কী কারণে দলবল নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসছিলেন? এখানে তো তাঁর কোনো কাজ নেই। এরপরও নিজেকে জাহির করার জন্য অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছেন।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি পারতাম বাধা দিতে, কিন্তু দেইনি। তবে হয়তো রফিকুলের লোকজন আসার পথে আমার সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়ায় কিছুটা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।’

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বে কিছুটা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, কোনো অস্ত্র তাঁদের চোখে পড়েনি। তবে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

যানজট নিরসনে: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গোড়াই এলাকায় অস্থায়ী সড়ক

ঢাকা-টাঙ্গাইল ৬ লেনের জাতীয় মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় চলমান উন্নয়ন কাজে বন্যা, করোনা ইত্যাদির কারণে আশানুরুপ অগ্রগতি না হওয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগে থাকে।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের গোড়াই হাটুভাঙ্গা এলাকার বেহাল অবস্থা পরিদর্শনে আসেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি।

মহাসড়কের ওই স্থানের উভয় পাশের হুকুম দখলকৃত জমির মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি। এজন্য মহাসড়কের উভয় পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকগণ তাদের স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বিলম্ব করছেন বলে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন চারলেন প্রকল্পের পরিচালক ইসহাক হোসেন।

পরে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, যানজট নিরসনে অত্র এলাকায় আগামী ২ দিনের মধ্যে অস্থায়ী সড়ক তৈরি করা হবে। এতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই ৬ লেনের কাজ বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণসহ অবৈধ স্থাপনা ইত্যাদি উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ৬ লেনের কাজ শেষ হলে এতে মানুষের ও দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি সাধিত হবে।

এসময় টাঙ্গাইল জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ইসহাক, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক জিকরুল হাসান, সহকারি প্রকল্প ম্যানেজার আব্দুল আহাদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের ৪শ মিটার এলাকায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যদিনের এই যানজটের ঘটনা গত প্রায় তিন মাস ধরে চলে আসছে। এতে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো যাত্রীকে মহাসড়কের ওইস্থানে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোন কোন দিন এই যানজট দিনব্যাপীও স্থায়ী হয় বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

চারলেন প্রকল্পের পরিচালক ইসহাক হোসেন জেলা প্রশাসককে যানজটের কারণ ব্যাখা করে জানান, মহাসড়কের ওইস্থানে ৩৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.২ মিটার প্রস্থ উড়াল সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু মহাসড়কের ওই স্থানের উভয় পাশের হুকুম দখলকৃত জমির মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি। এজন্য মহাসড়কের উভয় পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকগণ তাদের স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বিলম্ব করছেন।

তিনি জানান, সার্ভিস লেন তৈরি না করেই উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে যানচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে নিত্যদিন এই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে যানজটের কারণে উড়াল সেতু নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত কর্মীরাও ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না। এ জন্য কিছু কর্মী ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানান তিনি।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, মহাড়কের ওইস্থানের উভয় পাশের স্থাপনাগুলো যথাসময়ে সরিয়ে নেয়া হলে দ্রুত দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এতে উড়াল সেতুর কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার পাশাপাশি নিত্যদিনের যানজটও সৃষ্টি হবে না বলে তিনি দাবি করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক হুকুম দখলকৃত জমির মালিকগণ যাতে দ্রুত তাদের ক্ষতিপুরণের টাকা পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি যানজট নিরসনে সকলকে আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

(সানোয়ার হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে

স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে এখন করোনা পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

স্কুল-কলেজ খোলা ও পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো এখন করোনার লেটেস্ট যে সার্কুলার তাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। কারণ এখন আর সেন্ট্রালি এত বড় এমবার্গো দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। সেজন্য গত ১০-১২ দিন আগে জার্মানিতে কথা বললাম তারা সব ওপেন করে দিচ্ছে। যদিও ধরা পড়ছে। কিন্তু কী করবে, কতদিন আর বন্ধ রাখা যাবে। এজন্য আমরা এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর দিয়ে দিয়েছি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তারা (শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) আলাদা চিন্তা-ভাবনা (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে) করছে, কীভাবে করা যায়। কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছুটির মেয়াদ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় সংসদ টিভি, বেতার ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে কমছে করোনা সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা, নতুন আক্রান্ত ১

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কমতে শুরু করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রাপ্ত ফলাফলে আরও একজন নতুন করে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট ১৮৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে গত জুলাই মাসে ঘাটাইলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। আগস্ট মাসে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে ৯৪ জন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। চলতি মাস সেপ্টেম্বরে ২৪ জন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হলেন। এতে করে দেখা যাচ্ছে করোনা সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা কমছে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, ঘাটাইলে নতুন করে আরও একজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন উপজেলার ভানিকাত্রা এলাকার ৪৩ বছর বয়সের একজন পুরুষ।

ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, গত শনিবার ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি নমুনা দিলে সোমবার প্রাপ্ত ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ আসে। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট ১৮৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

এদিকে ঘাটাইলে করোনায় মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান এবং ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল ভূঁইয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমনে মারা গেছেন।

(নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে নদীর ওপার কেটে এপার রক্ষা করছে পাউবো!

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শিবপুর পাছ বেথর এলাকায় পুংলী নদীর পাশে শহর রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ভাঙন রোধে কোনো কার্যক্রম নেই। তবে স্থানীয়রা জানান, সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে ভাঙন শুরু হয়েছে, যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করছে। একটু এগোতেই দেখা যায়, নদীর এপারে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। আর নদীর ওই পার কেটে বালুর বস্তা ভরাট করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙন এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

নদীর ওপার কেটে বালু এনে এপারের ভাঙন রোধ করা হচ্ছে কেন, এ প্রশ্নের জবাবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নদী ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলতে ঠিকাদার নদী না আকাশ থেকে বালু আনবে সেটা তার বিষয়, আমি জানি না। তবে নদীর পার কেটে কোনো বালু আনা যাবে না। আপনি সেদিন কোথায় ছিলেন, যেদিন ডিসি, এসপি, উপজেলা চেয়ারম্যান সেখানে গিয়েছিলেন? এ বিষয়ে আপনি স্থানীয় এমপিকে গিয়ে ধরেন। আপনারাই তো তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। আর নদীর ওপার কেটে এপার ভাঙন রোধ করতে সেদিন আপনাদের উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেই বলেছেন। কোথা থেকে বালু আনছে, এত রাতে ফোন দিয়ে আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করছেন। এমপিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন এ কথা। ’

শুক্রবার রাত ১০টা ৪২ মিনিটে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে, আব্দুল মালেক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ‘এপারে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, কিন্তু বালু যেখান থেকে আনা হচ্ছে পরে ওই পারে ভাঙন দেখা দেবে। পরবর্তীকালে ওই পারের মানুষও ভাঙন কবলিত হয়ে পড়বে। ’

আজগর আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা ভাবে কাজ করায় প্রতিবছরই ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। এবার আবার নতুন করে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই পারের মানুষ (যেখান থেকে বালু আনা হচ্ছে) ভাঙনের শিকার হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার যোগসাজস করে এমন কাজ করছে। এতে করে তাদের খরচ কম হচ্ছে। ’

তবে সেসময় টাঙ্গাইল পাউবো নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তাদের এ কাজ কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয়, তারা নিজেরাই করছেন।

গত ২৩ জুলাই সদর উপজেলার শিবপুর পাছ বেথর এলাকায় পুংলী নদীর পাশে শহর রক্ষা এ বাঁধের ২৫০ মিটার ভেঙে যায়। এতে হুমকির মুখে পড়েন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ভাঙন ঠেকাতে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেয় পাউবো।

তাদের দাবি, ২৫০ মিটার ভাঙন এলাকায় সাড়ে ১৩ হাজার বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।

তবে এলাকাবাসী জানান, এ ভাঙন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন থেকে চার হাজার বালুর বস্তা ফেলেছে। এতে বাঁধ রক্ষায় কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছেন তারা।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, ‘নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে নদীর ওপার কেটে এপার বালু ফেলার কথা আলোচনা হয়েছিল। মূলত ভাঙন এলাকায় বালু ফেলার জন্য দূর থেকে বালু আনার কথা। কিন্তু সেটা না করে খরচ কমানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসেই নদীর ওপার থেকে এপারে ভাঙন রোধে বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এমপি সাহেবই ভাল বলতে পারবেন। ’

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীর যত অপকর্ম

মোঃ হায়দর আলী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ২নং ঘাটাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এই জনপ্রতিনিধি জনগণের পাশে থাকার কথা বলে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু কর্মে তিনি ভিন্ন রূপে হাজির হয়েছেন। জনপ্রতিনিধির বদলে তিনি এখন ইউনিয়নবাসীর কাছে আতঙ্ক ত্রাসে পরিণত হয়েছেন।

মোঃ হায়দর আলী চেয়ারম্যান নামের পাশে অপকর্মের তালিকার শেষ নেই। সময়ের সাথে সাথে সেই তালিকা কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। শুধু অপকর্মের তালিকা দীর্ঘই নয়, হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম।

সরকারী চাল আত্মসাৎ, বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ, মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা, সাংবাদিকের উপর হামলা, অবৈধভাবে সরকারী গাছ কর্তন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাস্তা করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা আদায়, ১০ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাৎ, অবৈধভাবে মাটির ব্যবসা, সরকারি খাস পুকুরের বালি বিক্রি করা, পাহাড়-টিলা কাটা, সরকারি অনুদান দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়া, অসহায় নারীদের কাছ থেকে রাস্তায় শ্রমিক নিয়োগ দিবে বলে ঘুষ নেয়া, মসজিদ মাদ্রাসার জন্য অনুদান, গ্রাম্য শালিশের নামে প্রতারণাসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত এই চেয়ারম্যান।

তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করলে, প্রতিবাদকারীর উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

জানা যায়, মোঃ হায়দর আলী চেয়ারম্যান এক সময় জাসদ রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত ছিলেন। জাসদের রাজনীতিতে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা না করতে পেরে চলে যান গার্মেন্টসে চাকরি করতে। পরবর্তীতে তিনি কিছুদিন এনজিওতেও চাকরি করেন। সেখানেও সুবিধা না করতে পেরে ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২নং ঘাটাইল ইউনিয়নে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি ১৭২ ভোট পান এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

পরবর্তীতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মোঃ শহীদুল ইসলাম লেবুর হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং তাকে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি সর্বাত্মক সহযোগীতা করেন।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে থাকেন।

জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য শালিসে বিচারের নামে প্রতারণার নানান অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো বিষয় নিয়ে কোনো ব্যাক্তি ইউনিয়ন পরিষদে বিচার দিলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে শালিসে ভিন্ন খাতে রায় দিয়ে থাকে।

জানা যায়, টিলাবাজার (বাইচাইল) গ্রামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: বাছেদ খান গত কয়েক বছর ধরে অনেক কড়ে কষ্টে একটি ঘর নির্মান করছে। ২নং ঘাটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলী ওই মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলে এবং চেয়ারম্যান বলেন, ১ লক্ষ টাকা না দিলে ঘর নির্মাণ করা যাবে না। এমন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: বাছেদ খান টাকা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করলে, এ সময় চেয়ারম্যান রাগান্বিত হয়ে চড় থাপ্পর মারতে উদ্দত হয়। পরে তাকে মারাত্মকভাবে নাজেহাল করে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আঃ বাছেদ খান বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান আমাকে ঘর নির্মাণে বাঁধা দিয়েছেন। আমার কাছ থেকে তিনি ১ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন, টাকা না দিলে আমাকে ঘর নির্মাণ করতে দিবেন না বলে তিনি জানান। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

জানা গেছে, ঘাটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলীর নেতৃত্বে কাজিপাড়া গ্রামের জনৈক কোরবান আলীর বাড়ির সাথে সরকারি একটি খাসপুকুর থেকে বালি উত্তোলন করা হয়েছে। ওই গ্রামের রায়হান মেম্বারের সঙ্গে যোগ সাজস করে সন্ত্রাসি কায়দায় সরকারি ভূমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি তোলা হয়। এতে কমপক্ষে ৬ লাখ টাকার বালি বিক্রি করা হয় বলে স্থানিয়রা জানিয়েছেন। এতে করে ওই পুকুরে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়ে একদিকে ফসলি জমি ভেঙ্গে পড়ছে অপরদিকে এলাকাটি জনবসতিপুর্ণ হওয়ায় আশপাশের ঘর-বাড়ি গুলো রয়েছে হুমকীর মুখে। ফলে বাড়ি-ঘর ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানিয়রা।

স্থানিয় অধিবাসিদের অভিযোগ একটি রাস্তা নির্মানের কথা বলে চেয়ারম্যান হায়দর আলী সুকৌশলে পুকুরে ড্রেজার বসায়। ৫০ গজের মতো রাস্তায় বালিও ফেলানো হয়। এর পর আর রাস্তায় বালি না ফেলে টানা ৭/৮ দিন বালি তুলে পতিত জমিতে রাখা হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসি প্রতিবাদ করলে তাদেরকে নানা হুমকী দেয়া হয় বলে তারা জানিয়েছে।

বিষয়টি স্থানিয় প্রশাসনকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে বালি তুলতে নিষেধ করলেও কোন ফায়দা হয়নি। বরং এর পর থেকে বিপুল উৎসাহে বালি তুলা হয় বলে এলাকাবাসি জানান।

কাজিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আজগর আলী খা জানান, আমার জমির উপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা করে দিতে আমার পাশের বাড়ির মহর আলীর কাছ থেকে স্থানিয় ওয়ার্ড মেম্বার রায়হান ও চেয়ারম্যান হায়দর আলী মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। একদিন আমি বাড়িতে না থাকায় তারা (ইউপি মেম্বার রায়হান ও চেয়ারম্যান হায়দর আলী) আমার জমির ওপর দিয়া জোড়করে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে আমার স্ত্রী রহিমা বাধা দিলে তাকে মারপিট করে তাকে লাঞ্চিত করা হয়। তার বুকে ছুরা ঠেকিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ ও হুমকী দেয়। এভাবে একদিন আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে তারা। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পাই।

বাইচাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আবু হানিফের মেয়ে সখিনার কাছ থেকে এলজিইডি আরইআরএমপি-২ প্রকল্পের শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার নামে ৭ হাজার টাকা নেয় হায়দর আলী। অনেক কড়েকষ্টে টাকা দিলেও ২ বছরেও তাকে চাকরি দেয়া হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেয়নি তাকে। হুমকীর ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতেও সাহস পাচ্ছেনা অসহায় ওই নারী।

সখিনা জানায় হায়দর আলী ও মিলন মেম্বার এক সাথে এসে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায়।

শুধু সখিনা নয় তার ভাই রশিদের কাছ থেকেও ঘর দেয়ার নামে টাকা নেয় হায়দর আলী।

জানতে চাইলে রশিদ বলেন, সরকারি ঘর আনতে খরচের কথা বলে এক বছর আগে চেয়ারম্যানকে দুইবারে ২৭ হাজার টাকা দেই। প্রথম ২৫ হাজার টাকা দেয়া হলে দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। কিছুদিন পরে আবার আরও ২ হাজার টাকা চায়। আমি তাও দেই। ওই টাকা দেয়ার পর আমারে কিছু খাম এনে দেয়। তার পর আর কিছুই দিচ্ছেনা। এ ভাবে প্রভাব খাটিয়ে বন বিভাগের বটতলি বিটের একাধিক প্লট নেয় হায়দর আলী। তার বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসি।

জানা যায়, গত ১৩/০২/২০ তারিখ বিকাল ২.৪৫ ঘটিকার সময় যুগান্তর সাংবাদিক নির্বাহী অফিসারের সহিত কথা বলতে ছিলেন। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার টেবিলের সামনে বিবাদী মো: হায়দর আলী বসা ছিল। এক পর্যায়ে বাদী পেশাগত দায়িত্বের কারণে তার কাছে প্রশ্ন করেন, সরকারী রাস্তায় রোপনকৃত কোন গাছ চেয়ারম্যান বিক্রয় অথবা কাটতে পারে কিনা।

উত্তরে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান কোন সরকারী রাস্তার গাছ বিক্রয় বা কাটতে পারেননা।

তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষন আগে তিনি সংবাদ পেয়েছেন ‘নিয়ামতপুর- খিলপাড়া রাস্তার গাছ । পরে সেখানে নায়েব পাঠাইয়া গ্ছকাটা বন্ধ করিয়াছেন। ওই সময় টেবিলের সামনে বসে থাকা হায়দর আলী পুর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যার উদ্যেশ্যে তার ওপর হামলা করে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিন বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি স্বামী ইয়াদ আলীকে হারান জহুরা (৬০)। তার স্বামীর নামে দশ টাকা দরের চালের কার্ড ছিল। তিনি বলেন, ’পোলার বাপ মরার পর সুমন মেম্বর আইয়া কার্ড নিয়া যায়। হের পর যহন চাইল দেয়, তহন গিয়া বইয়া থাকি, কত কই আমারে চাইল দেইন, তারা দেয়না। চেয়ারম্যান কয় মরা মাইশের কার্ডে চাইল ওডেনা।’

অথচ সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওই ইউনিয়নের তালিকা ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইয়াদ আলীর নামে নিয়মিত চাল উঠছে। ইয়াদ আলীর মতো মৃতব্যাক্তিসহ অনেক লোকের নাম তালিকায় থাকলেও তারা জানেননা তাদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারের ওই চাল কে তোলেন!

বছরের পর বছর চাল বিতরণে এমন অনিয়ম করে আসছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ২ নং ঘাটাইল ইউনিয়নের এ কাজে সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানকে তালিকা হালনাগাদ করার জন্য বিভিন্ন সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দুইবার এবং ইউএনও তিনবার লিখিত নোটিশ প্রদান করলেও তিনি তা করছেন না।

জানা যায়, এসব ১০ টাকা কেজি দরের চাল মেম্বারের মাধ্যমে তিনি আত্মসাৎ করে থাকেন।

অভিযোগ রয়েছে হায়দার চেয়ারম্যান মৃত ব্যাক্তির নামে বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ করে থাকেন।

ঘাটাইলে রাস্তার সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঘাটাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, নিয়ামতপুর-খিলপাড়া সরকারী রাস্তা। এ রাস্তার দুপাশে শতাধিক ইউকেলিবটাস রোপনকৃত গাছ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। কাঠ ব্যবসায়ি আকবর আলী জানান, আমি রাস্তার গাছগুলো ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীর কাছ থেকে কিনেছি। আমি তার কাছেই টাকা দিয়েছি। সে আমাকে কাটতে বলছে আমি কাটতাছি। সাবেক এক ইউপি মেম্বার বলেন, চেয়ারম্যান হয়ে রাস্তার গাছ কাটার কোন এখতিয়ার নেই। তারপরও কিভাবে কাটছে তা আমাদের জানা নাই।

চেয়ারম্যান হায়দর আলীর কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

হায়দর আলী চেয়ারম্যানের এসব কর্মকান্ডের জন্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি করছেন এলাকাবাসী।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধনুয়া-এলেঙ্গা গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাটা পড়বে ১৮ হাজার গাছ

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় হতে নকলা পর্যন্ত ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার; অর্থাৎ মোট ৬৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫২ কিলোমিটার পাইপলাইনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে ধনুয়া-এলেঙ্গা সেকশনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ।

ওই ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হলে কাটতে হবে প্রায় ১৮ হাজার গাছ। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনায়নের প্রায় এক হাজার গজারি গাছ রয়েছে।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা, কালীদাস, গজারিয়া, প্রতিমা বংকী, ছিলিমপুরসহ সাত থেকে আটটি মৌজার ১৮ হাজার গাছ কাটা হবে। বনের ভেতর দিয়ে না নিয়ে কিংবা গাছ না কেটে বিকল্প উপায়ে গ্যাস সঞ্চালন লাইনটি নেয়ারও উপায় নেই বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে এখন দেন-দরবার চলছে সরকারের বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়/সংস্থার সঙ্গে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়/বন অধিদফতরের। ‘ধনুয়া-এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়– নকলা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন (বিডি-পি ৭৮ : ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এসব গাছ কাটা পড়বে।

প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়/জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

গত জুনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে প্রকল্পে স্থাপিত ভালভ স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভালভ স্টেশনসহ কিছু অবকাঠামো অরক্ষিত থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এছাড়া প্রকল্পের মোট ৬৭ দশমিক ২ কিলোমিটার পাইপলাইনের ৭৫ শতাংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে ৯০ শতাংশ এবং ভূমি রিকুইজিশন হয়েছে ৯০ শতাংশ। বাকি আছে বনের ভেতরের ১৫ কিলোমিটার অংশে পাইপলাইন স্থাপন। এই ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের ‘সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ঝুঁকিতে’ পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় নিবিড় পরিবীক্ষণে। অর্থাৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের ৮২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার সম্পূর্ণ অর্থই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদনটির এমন মতের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন প্রকল্পটির পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুর রহমানও। তার মতে, ২০১৮ সালে যে প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময় মতো অনুমোদন না মেলায় প্রকল্পটি এখনও চলমান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নেয়ার জন্য চলতি বছরের জুলাইয়ে সখীপুরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেয় বন অধিদফতর। তবে এখনও বনের গাছ কাটার অনুমতি মেলেনি। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে গাছ কাটার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব দেবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা/উদ্যোগী মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ১৫ কিলোমিটারের পথস্বত্ব আছে। এখানে বনটা ঠিক নিবিড় নয়। কিছু বন, কিছু পাবলিক এলাকা। সবমিলিয়ে বনের যে জমি, সেখানে পাইপলাইনের জন্য ৫৩ একর জমি ব্যবহার হবে। মূল পাইপলাইন বসবে ৮ একর জমিতে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ৮ একর জমির মধ্যে পুরো গাছ আমরা কাটব। আর ৫৩ একর জমি আমরা ব্যবহার করব।

তারা আমাদের একটা তালিকা দিয়েছে যে, বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছসহ সামাজিক ও প্রাকৃতিক বনায়ন মিলে প্রায় ১৮ হাজার গাছ এখানে আছে। প্রাকৃতিক বনায়নের গাছ কাটা পড়বে এক হাজারের বেশি, আর সামাজিক বনায়নের আওতায় বাকি গাছগুলো কাটা পড়বে। ১৮ হাজারের মধ্যে সাড়ে ১৩ হাজার হলো বুনো গাছ।

মূল উদ্বেগ হলো, প্রাকৃতিক বনায়নের এক হাজার গজারি গাছ। মূলত ওইটার (এক হাজার গজারি গাছ কাটা) জন্যই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমাদের যেতে হবে। গাছগুলো মূলত কাটা হবে যমুনা সেতুর এপাড়ে, টাঙ্গাইলের পাশে।’

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে আমাদের আরেকটা ২৪ ইঞ্চি পাইপলাইন ১৯৮৫ সাল থেকে অপারেশনে আছে। এই লাইন দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপাড়ে এবং রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সীমিত পরিসরে দেয়া হচ্ছে। আমাদের ৩০ ইঞ্চির নির্মাণাধীন পাইপলাইনটা হচ্ছে ওইটারই (বিদ্যমান ২৪ ইঞ্চির) লুপ পাইপলাইন। লুপ পাইপলাইন মানে ওইটারই ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করা। ভবিষ্যতে যদি এলএনজি আসে, খুলনা পর্যন্ত তো আমরা পাইপলাইন করেছি, সংযোগ দিতে পারছি না গ্যাস সঙ্কটের কারণে।

এজন্য যে এলএনজিটা আসবে ভবিষ্যতে, সেই এলএনজিটা ট্রান্সমিট (প্রেরণ করা) করে নিয়ে যাওয়া হবে খুলনা-রাজশাহী পর্যন্ত। সেজন্য ওইটার প্যারালালে (সমান্তরাল) আমাদের এই পাইপলাইন। যেহেতু ওই পাইপলাইনটা আমাদের বন বিভাগের মধ্য দিয়েই গেছে, সেজন্য এটাও বন বিভাগের মধ্য দিয়ে নিতে হচ্ছে। আর টাঙ্গাইল জেলার প্রায় সব দিকেই বন। এজন্য আমরা যে অঞ্চলটা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সেটা বনের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম জায়গা।

আগের একটা পাইপলাইন এদিকে আছে, ওইটার পথ দিয়েই যাচ্ছি। যেহেতু বন পাচ্ছি, বনের কিছু গাছ কাটা পড়বে, এটা সত্য। সেই গাছ কাটার জন্য আমরা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে লিখেছি। এখন তারা আমাদের বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এটার অনুমতি আসে। এখন গাছ কাটার বিষয়টি নতুন সমস্যা। সেজন্য আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আরেকটা সারসংক্ষেপ দেব। গাছ কাটার অনুমোদন নিয়েই আমরা গাছ কাটব।

‘গাছ কাটার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি আছি’ জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক সামছুর রহমান আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে আমরা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে লিখেছিলাম যে, আমরা এদিকে পাইপলাইন করব, অনুমোদিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) আছে, সেই ডিপিপিতে আমাদের অবকাঠামো এবং লাইনের রাইটও এদিকে দেখানো আছে। কিন্তু নানা জটিলতায় আমাদের সেই অনুমোদন পেতে অনেক দেরি হয়েছে। ২০১৮ সালে এই প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

যেহেতু আমি বনের অনুমতি পাইনি, বহুবার এটা নিয়ে বন অধিদফতরের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হয়েছে। তারা ছোট ছোট ইনকুয়ারি (জিজ্ঞাসা) দিয়েছে একাধিকবার। এগুলো কমপ্লাই (সম্মতি জ্ঞাপন) করতে করতে চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি পেলাম। এখন নতুন জটিলতা হচ্ছে গাছ কাটা। তারা (বন অধিদফতর) বলছে, আবার প্রস্তাব দেন গাছ কাটার অনুমোদনের জন্য। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও আবার প্রস্তাব দিতে হবে। ওটা নিয়েই আমরা এখন কাজ করছি।

আমরা বলেছি যে, আমাদের মূল প্রস্তাবেই তো আছে বনভূমি ব্যবহার ও গাছ কর্তন। ১৮ হাজার গাছ কাটা হবে, সেটার জন্য ক্ষতিপূরণের একটা এস্টিমেটও (হিসাব) দিয়েছে। তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। আমরা সেটাও দিচ্ছি। পুনর্বনায়নের পরিকল্পনা আমাদের আছে, একটা গাছের বদলে তিনটা গাছ। তাহলে আপনারা এটা দিতে গড়িমসি করছেন কেন? যেহেতু প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন, সুতরাং গাছ কাটার ব্যাপারে গড়িমসি না করে আমাদের দয়া করে অনুমোদন দেন। না হলে আরও দেরি হয়ে যাবে। ২০১৮ সালে যেটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ২০২০ সালের শেষ প্রান্তে এসেও শেষ করতে পারলাম না।’

বনের ক্ষতি না করে বিকল্প কোনো উপায়ে পাইপলাইন স্থাপনের সুযোগ আছে কি-না, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘না, অন্য কোনো উপায়ে বন অতিক্রমের সুযোগ নাই। এর দুইটা বিশেষ কারণ আছে। এক, আমি যদি অন্যদিকে যাই, তাহলে পাইপের লেন্থ (দৈর্ঘ্য) অনেক বেড়ে যাবে। আমরা একবার হিসাব করেছিলাম, তাতে বন ঠিকই পড়বে, হয়তো কম পড়বে। কিন্তু পাইপলাইন বেড়ে যাবে হয়তো ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার। এটার জন্য অনেক খরচ হয়ে যাবে। আমরা তো সেই মেটেরিয়াল কিনি নাই।

আরেকটা বিষয় হলো, পথস্বত্ব দিয়ে পাইপলাইনটা করব, সেখানে আমাদের ছয়টা নদী আছে। সেই ছয়টা নদীই আমাদের ক্রসিং করা আছে। তাহলে আমি অন্যদিকে যদি যাই, আবার অন্য জায়গায় ছয়টা নদীকে বাইপাস করতে হবে। এতে দ্বিগুণ খরচ হবে। এই দুইটা বিষয় বিবেচনায় সম্ভব হচ্ছে না।’

‘আমি তো ২৪ ইঞ্চির লাইনের সমান্তরালে এটা করব। আমার উদ্দেশ্যই হলো, এই ২৪ ইঞ্চিতে যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমি ৩০ ইঞ্চি দিয়ে লাইন অপারেট করতে পারব বা গ্যাস বেশি নিতে পারব। আমি যদি অন্যদিকে চলে যাই, তাহলে অপারেটিং কস্ট (পরিচালন ব্যয়) বেড়ে যাবে। সিকিউরিটি কস্টও (নিরাপত্তা ব্যয়) বেড়ে যাবে। এসব বিবেচনায় গাছ কাটা ছাড়া কোনো উপায় নেই’— যোগ করেন সামছুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে তো শেষ করা সম্ভব হলো না। এখন আমরা ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। যদি আমরা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে গাছ কাটার অনুমোদন শিগগিরই পেয়ে যায়, যদি এক বা দেড় মাসের মধ্যে মাঠে নেমে যেতে পারি, তা হলেই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করি, খুব একটা দেরি হবে না।’

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় জিটিসিএল। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধন এনে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। খরচ কমিয়ে ধরা হয় ৮২৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকার ৩৯৭ কোটি এক লাখ ছয় হাজার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৪২৪ কোটি ১১ লাখ আট হাজার এবং জিটিসিএলের নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি নয় লাখ ২৪ হাজার টাকা। চলতি বছরের জুন পেরিয়ে সেপ্টেম্বরেও প্রকল্পটি শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণে ধর্ষকের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইলে ১০ বছরের এক শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণের ঘটনায় একমাত্র আসামি মাজেদুর রহমান (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জাবানবন্দি দেয়ার পর মাজেদুরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আসামি কাঠমিস্ত্রি মাজেদুর রহমান জবানবন্দিতে জানান, শিশুটিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যার পর ধর্ষণ করে। শিশুটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ এবং পরিবারের লোকজন বলেন, শিশু শান্তার লাশ বুধবার রাতে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়র চৌধুরী মালঞ্চ মিরপুর মধ্যপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। শান্তা ওই গ্রামের সাদেক আলীর মেয়ে।

বুধবার বিকেল থেকে শান্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত আটটার দিকে তার মরদেহ বাড়ির পাশে একটি কচুখেতে পড়ে থাকতে দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পরদিন বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত শান্তার ভাই সানি আলম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ওই গ্রামের চারজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের ছেলে মাজেদুর রহমান শিশু শান্তাকে হত্যার পর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। জবানবন্দিতে মাজেদুর জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকেলে তার লেবুখেতের কাছে শিশু শান্তা আসে। তখন ধর্ষণের উদ্যেশ্যে মাজেদুর শান্তার গলায় পেঁচানো ওড়না ধরে টান দেন। শান্তা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তিনি ওড়না টান দিয়ে ধরেন। এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে শান্তাকে মাজেদুর ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা টহল বৃদ্ধি, বাংলাদেশের উদ্বেগ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের গতিবিধি গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে এ ধরণের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গত শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি মিয়ানমারের সৈন্যদের টহল স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে বলে দেখা গেছে। সীমান্ত এলাকার অন্তত তিনটি পয়েন্টে সৈন্যদের ‘ব্যাপক সংখ্যক’’ উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

যদিও সেটাকে সৈন্য সমাবেশ বলতে চাননি কর্মকর্তারা।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানোর জন্য রোববার ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ডাকা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সেলের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ কী?

সাধারণত দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় এ ধরণের সেনা টহল যদি বাড়ে, এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব’ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় সেনা টহল বেড়েছে, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়নি, সে কারণে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা খবর পেয়েছেন সেনা টহল দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের একেবারে কাছ ঘেঁষে হচ্ছে না।

কিন্তু তারপরেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরণের টহল বাড়ানোর ঘটনা দেখা যায়নি বলেই প্রাথমিকভাবে উদ্বেগ বা কনসার্ন বোধ করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া যেহেতু সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সেনা টহল লক্ষ করা গেছে, কর্মকর্তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে সেটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এজন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এখানে আরো একটি বিষয় রয়েছে, মিয়ানমারের এই সেনা টহলের একটি অংশ হয়েছে সিভিলিয়ান বাহনে করে, অর্থাৎ মাছ ধরার নৌকায় করে।

আর যে তিনটি পয়েন্টে তাদের দেখা গেছে সেগুলো হল কা নিউন ছুয়া, মিন গালারগি ও গার খুইয়া আর এই জায়গাগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এটাকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

কারণ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরণের সেনা টহল বাড়লে পরে, হয়ত সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার ফলে আরো কিছু লোকজন হয়ত বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে চাইবে, তারও একটা ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে এই সব বিষয় মাথায় রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে মিয়ানমারকে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় মারা গেলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু মারা গেছেন। ঢাকা মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২টা ০৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান। মৃত্যুকালে সাদেক বাচ্চুর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাদেক বাচ্চুকে। হাসপাতালে ভর্তির পর করোনা পরীক্ষা করালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তার করোনা পজিটিভ আসে। তার অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ গুণী অভিনেতা।

ডাকবিভাগের সাবেক কর্মকর্তা সাদেক হোসেন বাচ্চু ১৯৮৫ সাল চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ার তার। শুরুতে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতেন। মতিঝিল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এ দলের সভাপতিও ছিলেন। বেতারে একটা সময়ে অসংখ্য নাটক করেছেন। বেতারের খেলাঘর তার আলোচিত একটি নাটক।

টেলিভিশন নাটকে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৭৪ সালে। নাটকটির নাম ছিল- প্রথম অঙ্গীকার। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন আশির দশকে। সিনেমাটির নাম- রামের সুমতি। পরিচালনা করেন শহিদুল আমিন।

বহুমাত্রিক এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।

১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এ অভিনেতা। অভিনয় ছাড়াও দীর্ঘ দিন তিনি বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করেছেন। ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করে খল অভিনেতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-