সখীপুর চত্বরে অটোরিকশায় কন্যাসন্তানের জন্ম

সকালে প্রসবব্যথা উঠলে স্ত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে রওনা হন সুমন মিয়া। সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন নারী। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অটোরিকশাতে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই নারী।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মোখতার ফোয়ারা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

সুমন উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক। এই দম্পতির তিন বছর বয়সী আরেকটি মেয়ে রয়েছে।

সুমন মিয়ার এলাকার বড় ভাই রুবেল মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকে সুমনের স্ত্রীর প্রসবব্যথা হলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সঙ্গে দুজন নারীকে নিয়ে সুমন নিজেই সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা ১১টার দিকে মোখতার ফোয়ারা এলাকায় পৌঁছালে প্রসবব্যথা তীব্র হতে থাকে।

একপর্যায়ে ফোয়ারা চত্বরের একপাশে অটোরিকশাটি থামানো হয়। আরও ৩০০ গজ সামনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আর ৪০ গজ পেছনে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল থেকে একজন নার্সকে নিয়ে আসার আগেই অটোরিকশাতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই মা।

পরে বেসরকারি ওই হাসপাতালের নিচ থেকেই নবজাতককে তুলা দিয়ে মুছেই বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন।

দুপুরের দিকে হারুন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির মুঠোফোন থেকে মোখতার ফোয়ারা চত্বরে কন্যাসন্তান প্রসব লিখে একটি ভিডিও প্রচার হয়। অনেকেই ওই ভিডিওটি দেখে নবজাতকের নাম রাখেন ফোয়ারা।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, ‘শুনেছি হাসপাতালে আনার আগেই ফোয়ারা চত্বরেই এক মা সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তবে ওই প্রসূতি সুস্থ থাকায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি না করে রাস্তা থেকেই বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।’

হারুন মাহমুদ বলেন, ওই সময় পাশের দোকানদারেরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন। অটোরিকশাটিকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। কেউ কেউ ক্লিনিক থেকে নার্স ডেকে নিয়ে এসেছেন।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওয়াহিদুজ্জামান চাকরিচ্যুত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন ও আপত্তিজনক মন্তব্যের অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া দায়িত্ব অবহেলা, অসদাচরণ, পলায়ন ও প্রতারণার অভিযোগে আরও দুজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা হলেন- মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াস ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়াহিদুজ্জামানের চাকরিচ্যুতির ব্যাপারে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন ও আপত্তিজনক মন্তব্য করায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন।

পরে ওয়াহিদুজ্জামান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে সোর্পদ করেন। তাকে কারাগারে সোপর্দ করার দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই শিক্ষকের এ ধরনের অশালীন ও আপত্তিজনক মন্তব্যের জন্য এবং তার নিরুদ্দেশ থাকার বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধি অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২০৯তম সভায় ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা সংক্রমণে মারা গেলেন ঢাকা ওয়াসা চেয়ারম্যান

ঢাকা ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ রশিদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশলের সাবেক অধ্যাপক রশিদের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

প্রায় দেড় মাস আগে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান জানিয়েছেন।

তাকসিম এ খান বলেন, কোভিড-১৯ শনাক্ত হ‌ওয়ার পর গত ১৬ জুলাই থেকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ছিলেন অধ্যাপক এম এ রশিদ। অবস্থা কিছুটা ভালো হলে ১ সেপ্টেম্বর তাকে কেবিনে নেয়া হয়।

সবশেষ নমুনা পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর তার অবস্থা আবার খারাপ হয়।

এরপর আবারও তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিন-চার দিন ধরেই তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন ছিল।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কোভিডের কারণে তার কিছু অর্গান কর্মক্ষমতা হারায়।

অধ্যাপক এম এ রশিদ ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকার তাকে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে মসজিদের সামনে মুনমুনের নাচ, তওবা করে ক্ষমা প্রার্থনা

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় মসজিদের সামনে চিত্রনায়িকা মুনমুনকে নিয়ে নাচের আয়োজন করায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে মসজিদের সামনে এসে তওবা করে আল্লাহ ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই মসজিদের সামনে এসে তওবা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আয়োজকরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. খালেক মাস্টার, এনায়েত করিম পীর সাহেব, মফিজ উদ্দিন মাস্টার, পলাশতলী কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ, ডা. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সামাদ ও রফিকুল ইসলাম। তওবা শেষে মসজিদটি সংস্কারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন আয়োজকরা।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মাইক্রোবাস মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে গঠিত আল মদিনা সমবায় সমিতি চিত্রনায়িকা মুনমুনকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পলাশতলীতে নৌকা ভ্রমণে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসে। ভ্রমণ শেষে স্থানীয় বাজারে একটি মসজিদের সামনে সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে নায়িকা মুনমুনকে নিয়ে নাচের আসর বসানো হয়। পরে সেই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে আল মদিনা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. স্বপন বলেন, আমরা মুসলমানের সন্তান। ওটি মসজিদ বিষয়টি জানা থাকলে এ রকম আয়োজন করতাম না। আমরা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। ভবিষ্যতে আর মানুষ যেন মসজিদটি চিনতে আমাদের মতো ভুল না করে সেজন্য মসজিদ সংস্কারে সহযোগিতা করা হবে।

সখীপুর উপজেলা কওমি উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাইফুল্লাহ বেলালী বলেন, আয়োজকরা ভুল স্বীকার করে তওবা করেছেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর না করার অঙ্গীকার করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ পাক আয়োজকদের তওবা কবুল করুন। সবাইকে ক্ষমা করে দেক।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

বিএনপি’র সাত মহাসচিব

বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে আবারও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, এটা গুঞ্জনই। সত্য নয়। দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্যই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

করোনার কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তাই এ গুঞ্জন নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের কেউই বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জানা গেছে, গুঞ্জনের ডালপালা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। নতুন মহাসচিব হিসেবে কে আসতে পারেন, এমন নামও উচ্চারিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

১৬ মার্চ ২০১১ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সৌদি আরব সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে মির্জা ফখরুলকে দলের মহাসচিবের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যান।

দলের গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলতে কোনো পদ না থাকলেও মির্জা ফখরুল প্রায় ৫ বছর সেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েই ঝুলে ছিলেন বিএনপিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল হওয়ার ১১ দিন পর ৩০ মার্চ ২০১৬ পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের পদে আসেন দলটির সবচেয়ে নীতি আদর্শবাদী রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও বিএনপিতে মহাসচিব হওয়ার মতো এবং মির্জা ফখরুলের চেয়ে সিনিয়র কয়েক ডজন নেতা তখন ছিলেন।

তারপরও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন ভদ্র-মার্জিত নেতাকে মহাসচিব করায় খালেদা জিয়া বিরোধী পক্ষের কাছ থেকেও ধন্যবাদ পেয়েছিলেন। সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও হাল ধরে আছেন দলটির। এর মধ্যে কেটে গেছে আরও সাড়ে চার বছর। দলের কাউন্সিল করার সময়ও চলে গেছে দেড় বছর হলো।

২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে আছেন মির্জা ফখরুল। এর মধ্যে ২০১৮ সালে চেয়ারপারসন কারাগারে যান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগে থেকেই লন্ডনে নির্বাসনে। এমন অবস্থায় একমাত্র মহাসচিবই ছিলেন দলটির কাণ্ডারি। যদিও দশ বছরে নিজেও কয়েকবার তিনি জেলে গেছেন।

বর্তমানে দলের চেয়ারপারসন কারামুক্ত হলেও রয়েছেন রাজনীতির অন্তরালে। শারীরিক অসুস্থতা, করোনা পরিস্থিতি ও সরকারের শর্ত, সবমিলিয়ে খালেদা জিয়ার শিগগিরই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্কাইপির মাধ্যমে দল চালাচ্ছেন। আর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে মির্জা ফখরুলকে। এরই মধ্যে দলের ভেতরে ও বাইরে বহুবার মহাসচিব বদলের গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু সেসব গুঞ্জন বাস্তব হয়নি।

সূত্র জানায়, দল এবং দলের বাইরে এবারও সেরকমই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিএনপিতে আসছেন নতুন মহাসচিব। যেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সেহেতু তার অনুসারী কেউ একজন এই দায়িত্ব পাবেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে সিনিয়র নেতারাও।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মির্জা ফখরুল কী তারেক রহমানের অনুগত নন? তৃণমূল নেতারা বলছেন, অবশ্যই মির্জা ফখরুলও তারেক রহমানের অনুগত। না হলে এতদিন কিভাবে মহাসচিব পদে থাকলেন। তবে যেহেতু তার এই পদে আসার বয়স প্রায় দশ বছর সেহেতু অন্য কেউ এই পদে এলে সেটা বিচিত্র কিছু নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসচিব পদে এবার তালিকায় নাম উঠেছে অন্তত তিনজন নেতার। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যার নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে অনেক সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামও শোনা যাচ্ছে। তিনিও তারেক রহমানের খুব কাছের অনুসারী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারেক বলয়ে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাশালী এই নেতা বর্তমানে দলের দুটি কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতির পর দলের জাতীয় করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহবায়ক, পরবর্তী সময়ে বন্যা পরিস্থিতিতে দলের গঠিত ত্রাণ কমিটিরও আহবায়ক করা হয়েছে তাকে।

অপরদিকে মহাসচিব পদটি পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিবিদ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এক-এগারো সরকারের সময় থেকে লাইম লাইটে আসা সাবেক এই ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কখনই থেমে থাকেননি। চলছেন তো চলছেনই। মামলা, গ্রেফতার কিংবা করোনা, কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি রিজভীকে। দৈনিক মিডিয়ায় কথা বলে সংবাদ সম্মেলনের রেকর্ডটিও তার দখলে। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদকের পদটি খালি থাকায় সেটিও সামলাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী। সেদিক থেকে তাকে যদি তারেক রহমান মহাসচিব ঘোষণা দেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ৭ জন নেতা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তারা হলেন- প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (১৯৭৮-৮৬), দ্বিতীয় মহাসচিব কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান (১৯৮৬-১৯৮৭), তৃতীয় মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান (১৯৮৭-১৯৮৮), চতুর্থ মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার (১৯৮৮-১৯৯৬), পঞ্চম মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া  (১৯৯৬-২০০৭), ষষ্ঠ মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন (২০০৭-২০১১), সপ্তম ও বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২০১১- ২৯ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এবং ৩০ মার্চ ২০১৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত)।

দলটির অষ্টম মহাসচিবের দায়িত্ব কে পাবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সেটি সময়ের  ব্যাপার বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই, পুরোটাই রাবিশ।”

অপরদিকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “এটা উদ্ভট চিন্তা। দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার জন্য এসব খবর প্রচার করা হয়। এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।”

তিনি বলেন, “আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত আছে। তারপর যদি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে। ”

ইকবাল হাসান বলেন, “আমি ত্রাণ কমিটির আহবায়ক, করোনা কমিটির আহবায়ক। এসব নিয়ে প্রশ্ন করলে কথা বলতে পারি। মহাসচিবের পদ নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”

(মহসিন হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাবি থেকে জিনিয়াকে অপহরণ ও বহুরূপি লুপা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে নয় বছরের শিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নূর নাজমা আক্তার ওরফে লুপা তালুকদার (৪২) দাবি করতেন, তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন।

তার ফেসবুক প্রোফাইল বলছে, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, উদীয়মান কবি এবং একটি এনজিওতে চাকরি করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তোলা তার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।

অপহরণ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি জিনিয়াকে অপহরণ করেছিলেন টাকার লোভ দেখিয়ে। কোনো পাচারকারী চক্রের সঙ্গে লুপার যোগাযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে জিনিয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ এবং নগরীর ফতুল্লার আমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লুপাকে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলায় লুপা এখন দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

পুলিশের রমনা ডিভিশনের এডিসি মিশু বিশ্বাস বলেন, লুপার ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে। ‘একবার তাকে ট্রিপল মার্ডার কেসে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও ছিল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত জিনিয়া। তাকে গত ১ সেপ্টেম্বর অপহরণ করা হয়। জিনিয়া তার মা এবং দুই ভাই-বোনের সঙ্গে টিএসসি এলাকায় থাকে।

জিনিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা সেনুরা বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি সর্বশেষ তার মেয়েকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাছে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখেছিলেন।

লুপার ফেসবুক প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে, তিনি অগ্নি টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ আওয়ামী পেশাজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক।

দাবি করতেন যে তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল এবং টিভি চ্যানেলে সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এবং ঢাকা ইউনিয়নের সদস্য বলেও পরিচয় দিতেন।

তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সাইক্লোন প্রস্তুতি প্রোগ্রাম (সিপিপি) পুরষ্কার ২০১৯ গ্রহণ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষমতাসীন দল এবং সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে তার সংযোগের সমালোচনা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে যে লুপা এখনও তার পেশা সম্পর্কে যা বলেছেন তার সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

এডিসি মিশু বিশ্বাস বলেন, ‘তিনি দাবি করেছেন যে তিনি প্রেসক্লাবের সদস্য, কিন্তু কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি শুধুমাত্র মোহনা টিভির একটি বিজনেস কার্ড দিয়েছেন। তার দাবি, মোহনা টিভিতে তিনি একবার কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আর কিছুই দেখাতে পারেননি।’

তিনি আরও জানান, লুপা তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে পেশাজীবী লীগে আছেন।

অপহরণ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের লুপা বলেছেন, জিনিয়ার প্রতি সহানুভূতি তৈরি হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে গেছিলেন তিনি। তবে পুলিশের ধারণা, তার আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন কিছু হতে পারে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, তার সঙ্গে শিশু পাচারকারীদের যোগসূত্র আছে কিনা তা কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন।

লুপা যে ফেসবুক পেজে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী এবং তার কবিতার সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন, সেখানে তার অনুসারী রয়েছে ১০ হাজার।

(ডেইলি স্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে যুবলীগ নেতা লিটনকে কুপিয়ে জখম

টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিটনের উপর বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১.০০ টার দিকে বাসায় ফিরার পথে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।

জানা যায়, মনিরুজ্জামান লিটন রাতে তার নিজ বাসা টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়া যাবার পথে হঠাৎ করে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি মটর সাইকেল নিয়ে এসে দা, রামদা দিয়ে এলোপাথারী কুপাতে থাকে। পরে গুরুতর আহত হলে তাকে রাস্তার উপর ফেলে রেখে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।

এই অবস্থা দেখে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হসপিটালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, যারা এই নির্মম হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে অবশ্যই বিচার করতে হবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নিবন্ধ লিখে চাকরি হারালেন ঢাবি অধ্যাপক

পত্রিকায় লেখা একটি নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে করা মন্তব্যকে তার প্রতি অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি হিসেবে সাব্যস্ত করে এক অধ্যাপককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ওই শিক্ষকের নাম ড. মোর্শেদ হাসান খান। তিনি মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘চাকরি থেকে অব্যাহতি’- কথার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি বলতে তিনি (মোর্শেদ হাসান) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে থাকতে পারবেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শেষে শিক্ষক হিসেবে যে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তিনি পাবেন।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে নিবন্ধ লেখেন তিনি। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেন অধ্যাপক মোর্শেদ।

ওই নিবন্ধে তিনি লিখেন, ‘ওই সময় (মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে) আওয়ামী লীগের নেতারা অধিকাংশই পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান, এমনকি বঙ্গবন্ধুও।’

পরে ওই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লেখাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বঙ্গবন্ধু-সংশ্লিষ্ট অংশটুকু প্রত্যাহার করে নেন অধ্যাপক মোর্শেদ।

লেখাটি প্রকাশের পর বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সে সময় অধ্যাপক মোর্শেদকে বরখাস্ত করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও ওই লেখার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

পরে ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর মোর্শেদ হাসান খানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়- তা নিয়ে আইনি সুপারিশ করতে গত বছর ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে দায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাপক মোর্শেদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে অব্যাহতি দেওয়ায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণে ৩১ মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মো. নজরুল (৫০) ও শেখ ফরিদ (২১)। তারা দুজনই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল এসব তথ্য জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহত নজরুলের শরীরের ৯৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার পিতার নাম মো. আব্দুর রাজ্জাক। বরিশালের রাঙ্গাবালী তাদের বাড়ি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকায় থাকতেন। তিনি শ্রমিক ছিলেন। দুই ছেলে এক মেয়ের জনক তিনি।

এদিকে, নিহত শেখ ফরিদের শরীরের ৯৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চড়ালদী গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে তিনি। মায়ের নাম খদেজা খাতুন। তিনি গফরগাঁও সরকারি ডিগ্রি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ডিসি অফিসে মাস্টার রোলে চাকরি করতেন। বাবা কৃষি কাজ করেন। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

তার বাবা জানান, এ মাসের ১৩ তারিখে তার চাকরি স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল।

লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগে দগ্ধ ফরিদ তার বাবাকে বলেছিলেন, বাবা আমি তো আর বাঁচবো না। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই মারা যান তিনি। শুরুর দিন থেকে বাবাকে সাহস দিয়ে আসছিলেন ছেলে। এতদিন বারবারই বাবাকে বলেছেন, বাবা আমার কিছু হবে না। চিন্তা করো না।

বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আজ লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগে আমার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন বলে কিনা বাবা আর বাঁচবো না।’

মৃতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন, মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও তার ছেলে জুনায়েদ (১৭), দুই ভাই জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১), মুন্সীগঞ্জের কুদ্দুস বেপারি (৭২), চাঁদপুরের মোস্তফা কামাল (৩৪), পটুয়াখালীর গার্মেন্টস কর্মী রাশেদ (৩০), হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জামাল আবেদিন (৪০), গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুরের মাইনউদ্দিন (১২), ফতুল্লার জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের গার্মেন্টস কর্মী নয়ন (২৭), নিজাম (৩৪), নারায়ণগঞ্জের রাসেল (৩৪), শরীয়তপুরের নড়িয়ার ইমরান (৩৭), খুলনার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শিশু জুয়েল (৭), বাহার উদ্দিন (৫৫), নাদিম (৪৫), জুলহাস (৩৫), শামীম (৪৫), হান্নান (৫০), আব্দুস সাত্তার (৪০)। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা তল্লা এলাকার বাসিন্দা।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলে ১০ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শান্তার পরিবারের অভিযোগ তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌধুরী মাল মিরপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু শান্তা ওই গ্রামের সাদেক আলীর মেয়ে।

শান্তার চাচাতো ভাই রফিক মিয়া বলেন, বুধবার দুপুরের পর থেকে শান্তাকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সন্ধ্যার আগে বাড়ির কাছে কচু ক্ষেতে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার অভিযোগ, তার বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

নিহতের ভগ্নিপতি আজিজুল হক বাবু বলেন, শান্তাকে কোথাও খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে বাড়ির পাশের কচু ক্ষেত থেকে শান্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাৎক্ষণিক চারজনকে থানায় নিয়ে যায়।

শান্তার বাবা সাদেক আলী বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর এটি ধর্ষণের পর হত্যা নাকি অন্য কিছু তা জানা যাবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-